পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

পরীক্ষাBJS & BARতারিখ৯ নভেম্বর, ২০২৩সময়50 minutes৯৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১০০
সিলেবাস
বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা-২০১৫
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

BJS & BAR · ৯ নভেম্বর, ২০২৩ · ১০০ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি মামলায় কোনটি রক্ষনীয়?
  1. বিবাদী বাদীর দত্তক নয় মর্মে ঘোষণা
  2. বাদী বিবাদীর দত্তক পুত্র মর্মে ঘোষণা
  3. বাদী বিবাদীর পালক পিতা মর্মে ঘোষণা
  4. উপরের সবগুলো ঘোষণা
ব্যাখ্যা
♦সব গুলা অপশন এর মূলত বিষয়টি হলো আইনগত পরিচয়ের ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের। এই কারণে প্রশ্নে উল্লেখিত সকল ঘোষণামূলক মামলাটি রক্ষণীয়।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

♦ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

♦ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে । অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree )বলে।

♦আইনানুগ পরিচয় অথবা কোন সম্পত্তির স্বত্ত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি এমন যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে যে, তেমন মর্যাদা বা অধিকারের ব্যাপারে তার স্বত্ব অস্বীকৃতি জ্ঞাপণ করেছে বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে ঘোষণা করতে পারেন যে, তার তেমন অধিকার রয়েছে এবং তেমন মামলায় আরও কোন প্রতিকার দাবি করা বাদীর জন্য আবশ্যক নয়।
.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৯ ধারানুযায়ী চুক্তির সুনির্দিষ্ট প্রতিপালনের মামলা খারিজ হলে বাদী অবশ্যই বারিত হবে -
  1. ঘোষণামূলক মামলা করতে
  2. ক্ষতিপূরণের মামলা করতে
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দলিল সংশোধন
  4. আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞার মামলা করতে
ব্যাখ্যা
♦“খারিজের পর চুক্তি ভঙ্গের মোকদ্দমা দায়েরে প্রতিবন্ধকতা' শিরোনামে The Specific Relief Act, 1877 -এর ২৯ ধারায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট প্রতিপালনের/বলবৎকরণের মোকদ্দমা খারিজ হয়ে গেলে, সে চুক্তির বিষয়ে ক্ষতিপূরণের জন্য পুনরায় মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে না তা স্পষ্ট করে বলা আছে।

♦এ ধারার সারমর্ম হলো: যখন বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদনের মোকদ্দমা [ধারা ১৯ অনুযায়ী] দায়ের করেছিল, তখন ক্ষতিপূরণের আবেদন না করে থাকলে সে ক্ষেত্রে/তার অংশের সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মোকদ্দমা খারিজ হয়ে গেলে উক্ত চুক্তি/চুক্তির অংশবিশেষ ভঙ্গ করার জন্য পরবর্তী সময়ে পুনরায় ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের/রুজু করতে পারবে না। [২৯ ধারা] অর্থাৎ- চুক্তির সুনির্দিষ্ট প্রতিপালনের মামলা খারিজ হলে বাদী ঘোষণামূলক মামলা করতে পারবে না।

♦ধারা-২৯ এর বিধান খারিজের পর চুক্তিভঙ্গের মামলা দায়েরে প্রতিবন্ধকতাঃ—একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।
.
নিম্নের কোন আইন অনুযায়ী বলবৎযোগ্য?
  1. এ, বি-কে ব্যক্তিগত সেবা দেবার চুক্তি করে
  2. এ, বি-এর সাথে সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি করে
  3. এ, বি-কে বিবাহ করার চুক্তি করে
  4. লেখক এ প্রকাশক বি এর সাথে একটি উপন্যাস রচনার চুক্তি করে
ব্যাখ্যা
♦আলোচ্য প্রশ্নের “A, B -এর সাথে সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি করে” অপশন ছাড়া অন্যান্য সব অপশন ২১ ধারার ‘ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সংকল্পের উপর নির্ভরশীল' -এর উপাদান; যা বলবৎযোগ্য নয়।
♦কোন কোন ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর/বলবৎ করা যায় তা বলা আছে- ১২ ধারায়, সাথে ১৩ ও ১৪ ধারা অনুযায়ী আরও ২টা ক্ষেত্র আছে। অন্যদিকে, ২১ ধারায় ৮টি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বলবৎ করা যায় না।

♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তি ভঙ্গের প্রতিকার পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া যায়। যেমন স্থাবর সম্পত্তি (জমি) বিক্রয়ের কোন চুক্তি করা হলে এবং উক্ত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা না হলে তার ফলে যে ক্ষতি হবে তা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না।অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণই হলো পর্যাপ্ত প্রতিকার। সুতরাং A এবং B এর সাথে সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি বলবৎযোগ্য। ২১ ধারা অনুযায়ী বিবাহ করার চুক্তি বা ব্যক্তিগত সেবা সম্পর্কিত চুক্তি এবং যে সকল চুক্তি ব্যক্তিগত দক্ষতার উপর নির্ভর করে, সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য না।
.
পেনাল কোড এ বর্ণিত দ্বীপান্তর এর শক্তি স্থলাভিষিক্ত করা হয় যে প্রকারের কারাদন্ড দিয়ে তা হলো-
  1. ১৪ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. যাবজ্জীবন
ব্যাখ্যা
♦ধারা ৫৩ক মতে কারাবাস উল্লেখের ব্যাখ্যা:- (১) (২) উপধারার শর্তাবলী সাপেক্ষে, সাময়িকভাবে প্রচলিত অপর যেকোন আইনে যেখানে যাবজ্জীবন ‘দ্বীপান্তর'-এর উল্লেখ রয়েছে, সেখানে উহা যাবজ্জীবন কারাবাস' ধরতে হবে।
(২) বর্তমানে প্রচলিত যেকোন আইনে কোন মেয়াদের বা স্বল্প মেয়াদের জন্য যেকোনভাবে হোক না কেন, দ্বীপান্তরের উল্লেখ থাকলে উহা রদ বলে পরিগণিত হবে।
(৩) বর্তমানে প্রচলিত অপর যেকোন আইনে, যেখানে দ্বীপান্তর উলেখ রয়েছে:
(ক) সেখানে উহা যদি যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর বুঝায়, তবে উহাকে যাবজ্জীবন কারাবাস ধরতে
(খ) সেখানে উহা যদি স্বল্পতর মেয়াদের দ্বীপান্তর বুঝায়, তবে উহা রদ হিসেবে গণ্য হবে।

♦অর্থাৎ পেনাল কোড এর ৫৩ক ধারায় বলা হয়েছে যাবজ্জীবন দীপান্তর (Transportation for Life) কে যাবজ্জীবন কারাবাস (Imprisonment for Life ) বলে গণ্য করতে হবে।
.
পেনাল কোডের যে ধারায় ‘ডাকাতি' সংজ্ঞায়িত হয়েছে তা হলো-
  1. ৩৯০
  2. ৩৯১
  3. ৩৯২
  4. ৩৭৮
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারার বিধান ডাকাতি:- যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাঁচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।

দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন থাকতে হবে।
♦ ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
.
প্রতারণার সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. অর্থদন্ডসহ ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
  2. অর্থদন্ডসহ ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড
  3. অর্থদন্ডসহ ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
  4. অর্থদন্ডসহ ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ধারা ৪১৭ অনুযায়ী প্রতারণার সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
♦ যেহেতু সশ্রম কারাদণ্ড বিনাশ্রম কারাদণ্ড থেকে কঠিন এজন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হিসেবে অপশন 'ক' (অর্থদন্ডসহ ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড)  নির্বাচন করা হয়েছে।
.
শান্তির মেয়াদের ভগ্নাংশ নিরুপণের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদন্ডকে যে মেয়াদের সশ্রম কারাদন্ড হিসেবে গণনা করা হয় তা হলো-
  1. ১৪ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোড এর ৫৭ ধারার বিধান দন্ড মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহঃ সাজার মেয়াদের ভগ্নাংশ হিসাবের ক্ষেত্রে, যাবজ্জীবন কারদন্ড ত্রিশ বৎসর মেয়াদের কারাদন্ডের সমান বলে গণনা করা হবে।
.
পেনাল কোড এর কোন ধারায় ইভটিজিং এর শাস্তির বিধান আছে?
  1. ৫০৬ ধারা
  2. ৫০৭ ধারা
  3. ৫০৮ ধারা
  4. ৫০৯ ধারা
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোড এর ৫০৯ ধারার বিধান কোন নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোন কার্যঃ কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শীলতাহানির উদ্দেশ্যে সে নারী যাতে শুনতে পায় এমন কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে নারী যাতে দেখতে পায় এমন ভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে অথবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তা অনধিকার লঙ্ঘন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
অর্থাৎ পেনাল কোড এর ৫০৯ ধারায় ইভটিজিং এর শাস্তির বিধান আছে।

♦ Eve Teasing এর শাব্দিক অর্থ : Eve অর্থ প্রাক্কাল, প্রাথমিক অবস্থা আর Teas অর্থ উক্ত্যক্ত করা, ক্ষেপানো।
♦ সুতরাং Eve Teasing অর্থ পরিচিত, অপিরিত, কোন মেয়ে কোন ছেলেকে/কোন ছেলে কোন মেয়েকে প্রাথমিকভাবে উক্ত্যক্ত করাকেই Eve Teasing বলে।
♦ ইভটিজিং এর সংজ্ঞাঃ- কোন ছেলে রাস্তায়, স্কুলে, কলেজে বা যে কোন অলিতে গলিতে কোন মেয়েকে দেখার পর মুখ দিয়ে শিষ দেয়া, এমন কোন বাজে মন্তব্য করা যা শুনলে মেয়েটির খুব খারাপ লাগবে, হাসি ঠাট্টা করা অর্থ্যাৎ তাকে উক্ত্যক্ত করার নামই হল ইভটিজিং।
.
ব্যাভিচারের জন্য কাকে অভিযুক্ত করা যায়?
  1. পুরুষ আসামী
  2. মহিলা আসামী
  3. স্বামী
  4. তাদের সকলকে
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোড এর ৪৯৭ ধারার বিধান ব্যভিচারঃ কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না। 

♦অর্থাৎ ব্যাভিচারের জন্য শুধু পুরুষ ব্যক্তিটিকে অভিযুক্ত করা যায়।
১০.
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ‘X’একজন বাংলাদেশী নাগরিক সে উগান্ডার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। বাংলাদেশের যোগ্যতাসম্পন্ন কোন আদালত ‘X’ এর বিচার করতে পারে, যদি তাকে পাওয়া যায়-
  1. বাংলাদেশে
  2. উগান্ডায়
  3. যুক্তরাজ্যে
  4. যেকোন দেশে
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোড অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক দেশে-বিদেশে যেখানেই পেনাল কোডের অপরাধ করুক তাঁকে বাংলাদেশে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে বিচার করা যাবে। বিদেশী নাগরিক যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে কোনো অপরাধ করলে এবং তা পেনাল কোডে দণ্ডনীয় হলে তার বিচার বাংলাদেশে করা যাবে। কিন্তু বিদেশী কোনো নাগরিক বিদেশে অপরাধ করলে সেটি বাংলাদেশে বিচার্য হবে না।
♦দণ্ডবিধির ২ থেকে ৪ ধারায় দণ্ডবিধির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যে ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রয়াগ হবে-
(i)  বাংলাদেশের সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে: দেশে-বিদেশে যেখানেই অপরাধ সংঘটন করুক না কেন।
(ii) বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে: যদি সে বাংলাদেশে অথবা বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংঘটন করে।
(iii) বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংগঠন করার ক্ষেত্রে: উক্ত বাংলাদেশি জাহাজ বা বিমান বাংলাদেশ বা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন।
১১.
বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটলে যে অপরাধ হয় তা-
  1. জামিনযোগ্য
  2. অ-জামিনযোগ্য
  3. তফসিলভুক্ত
  4. তফসিল বহির্ভূত
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২য় তফসিল অনুযায়ী  দণ্ডবিধির ৩০৪খ ধারায়, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধটি জামিনযোগ্য এবং আমলযোগ্য। মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার্য  এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী  শাস্তি তিন বৎসর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়ই।
১২.
আত্মহত্যা প্রচেষ্টার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড
  2. অর্থদন্ডসহ ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড
  3. ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড
  4. অর্থদন্ডসহ ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারার বিধান আত্মহত্যা করার চেষ্টা:- কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে এবং অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কার্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
১৩.
অর্থদন্ড কত বছরের মধ্যে যেকোন সময় আদায় করা যায়-
  1. ৬ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান অর্থদণ্ড ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য: মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:- অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশবলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনত দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।

♦অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী, দণ্ডাজ্ঞা প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে অর্থদণ্ড আদায়যোগ্য । যদি অপরাধী ৬ বৎসরের বেশি সময়ের জন্য দণ্ডিত হয়, তাহলে উক্ত দণ্ডের মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে যেকোন সময়ে অর্থদণ্ড আদায়যোগ্য হবে।
১৪.
A অজ্ঞাত মালিকের একটি সোনার আংটি পায়। মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা না করেই A তা বিক্রি করে। A যে অপরাধে দোষী হবে তা
  1. চুরি
  2. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  3. দস্যুতা
  4. অসাধুভাবে আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৪০৩ ধারার বিধান অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ :- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা উহা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

♦ব্যাখ্যা ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাত্ত এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে পরিগণিত হবে।

♦ব্যাখ্যা ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নাই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি উহার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে উহা নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে উহা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে পরিগণিত হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না; কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও উহা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে উহা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে।

♦অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে উহার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে উহার মালিক তা জানার আবশ্যক নাই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় উহা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বাহির করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে ।

♦এখানে ‘A’আংটি ঘটনাক্রমে পেয়েছে। ‘A’সেটার মালিককে আবিস্কার না করে আংটি বিক্রয় করেছে অর্থাৎ সে অসাধুভাবে আংটিটি নিজ ব্যবহারে পরিণত করেছে। তাই ‘A’ অসাধুভাবে আংটিটি আত্মসাৎ করেছে বলে গণ্য হবে।
১৫.
পেনাল কোড এ কত প্রকারের শাস্তি আছে?
  1. চার
  2. পাঁচ
  3. ছয়
  4. সাত
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে। ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
      (i)  মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
      (ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
      (iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:

           ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং

           খ) বিনাশ্রম (Simple)

      (iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
      (v) অর্থদণ্ড (fine)

♦দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও  বিনাশ্রম। 
♦ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
১৬.
নিম্নবর্ণিত কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. যাবজ্জীবন কারাদন্ড বিনাশ্রম হতে পারে
  2. যাবজ্জীবন কারাদন্ড সশ্রম হতে পারে
  3. যাবজ্জীবন কারাদন্ড সর্বদাই সশ্রম
  4. যাবজ্জীবন কারাদন্ড সর্বদাই বিনাশ্রম
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে। ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
      (i)  মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
      (ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
      (iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:

           ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং

           খ) বিনাশ্রম (Simple)

      (iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
      (v) অর্থদণ্ড (fine)

♦দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও  বিনাশ্রম। 
♦ ব্যাখ্যাঃ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
১৭.
আদালত অর্থদন্ড অনাদায়ে কারাদন্ড দিলে, তা ১/৪ অংশের বেশি হবে না-
  1. অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির
  2. অপরাধের সর্বনিম্ন শাস্তির
  3. আদালত প্রদত্ত শাস্তির
  4. যাবজ্জীবন কারাদন্ড সর্বদাই বিনাশ্রম
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৬৫ ধারার বিধান কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সীমা:- আদালত অপরাধীকে অর্থদণ্ড অনাদায়ে যে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার আদেশ করবেন, উহার মেয়াদ অপরাধটির জন্য নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ মেয়াদের এক-চতুর্থাংশের বেশি হবে না, যদি অপরাধটি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডনীয় হয়।

♦দণ্ডবিধির ৬৬ ধারার বিধান অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ডের ধরন:- অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ডের ধরন, অপরাধটির জন্য অপরাধীকে যে ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যেত সেরূপ হবে।

♦দণ্ডবিধির ৬৭ ধারার বিধান অপরাধটি শুধু অর্থদণ্ড কর্তৃক দণ্ডনীয় হলে অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড:- অপরাধটি যদি শুধু অর্থদণ্ড কর্তৃক দণ্ডনীয় হয়, তবে অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত যে কারাদণ্ডের আদেশ দিবেন, তা বিনাশ্রম হবে এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত অপরাধীকে যে মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দিবেন, তা নিম্নে নির্দেশিত বিভিন্ন পরিমাণের অধিক হবে না, যথা: অর্থদণ্ডের পরিমাণ পঞ্চাশ টাকার বেশি না হলে, অনূর্ধ্ব দুই মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ; অর্থদণ্ডের পরিমাণ একশত টাকার অধিক না হলে, অনতিরিক্ত চার মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ; এবং এতদ্ব্যতীত অপর যে কোন ক্ষেত্রে অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ । 

♦দণ্ডবিধির ৬৮ ধারার বিধান অর্থদণ্ড আদায়ে কারামুক্তি:- যে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে অর্থদণ্ড প্রদত্ত হলে অথবা আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে আদায়ীকৃত হলে আসামীর কারামুক্তি হবে।

♦দণ্ডবিধির ৬৯ ধারার বিধান অর্থদণ্ডের আনুপাতিক অংশ আদায়ের কারামুক্তি:- যদি অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য প্রদত্ত কারাদণ্ডের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে অর্থদণ্ডেও এমন একটি আনুপাতিক অংশ প্রদত্ত অথবা আদায়ীকৃত হয় যে, অর্থদণ্ডে ও অনাদায়ের জন্য প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের যে অংশ উত্তীর্ণ হয়েছে, তা অর্থদণ্ডে ও এখনও অপ্রদত্ত বা অনাদায়ীকৃত অংশের সাথে আনুপাতিক হার অপেক্ষা কম নয়, তবে আসামীর কারামুক্তি হবে।
১৮.
Z এর সম্মতি ছাড়া তার দখল থেকে অসাধুভাবে নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে Z এর জমিতে A একটি গাছ কাটে। এক্ষেত্রে A সংঘটন করে-
  1. চুরি
  2. দস্যুতা
  3. স্যুতার প্রচেষ্টা
  4. চুরির প্রচেষ্টা
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরিঃ কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্ৰহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

♦ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহুর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মহুর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।

♦ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।

♦ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বস্তু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।

♦ব্যাখ্যা (Explanation) ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।

♦ব্যাখ্যা (Explanation) ৫:- সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
১৯.
যে অপরাধের একমাত্র শাস্তি জরিমানা, সেক্ষেত্রে জরিমানা অনাদায়ে কারাদন্ড হবে-
  1. বিনাশ্রম
  2. সশ্রম
  3. নির্জন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৬৭ ধারার বিধান অপরাধটি শুধু অর্থদণ্ড কর্তৃক দণ্ডনীয় হলে অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড:- অপরাধটি যদি শুধু অর্থদণ্ড কর্তৃক দণ্ডনীয় হয়, তবে অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত যে কারাদণ্ডের আদেশ দিবেন, তা বিনাশ্রম হবে এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত অপরাধীকে যে মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দিবেন, তা নিম্নে নির্দেশিত বিভিন্ন পরিমাণের অধিক হবে না, যথা: অর্থদণ্ডের পরিমাণ পঞ্চাশ টাকার বেশি না হলে, অনূর্ধ্ব দুই মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ; অর্থদণ্ডের পরিমাণ একশত টাকার অধিক না হলে, অনতিরিক্ত চার মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ; এবং এতদ্ব্যতীত অপর যে কোন ক্ষেত্রে অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ।

♦দণ্ডবিধির ৬৮ ধারার বিধান অর্থদণ্ড আদায়ে কারামুক্তি:- যে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে অর্থদণ্ড প্রদত্ত হলে অথবা আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে আদায়ীকৃত হলে আসামীর কারামুক্তি হবে।

♦দণ্ডবিধির ৬৯ ধারার বিধান অর্থদণ্ডের আনুপাতিক অংশ আদায়ের কারামুক্তি:- যদি অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য প্রদত্ত কারাদণ্ডের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে অর্থদণ্ডেও এমন একটি আনুপাতিক অংশ প্রদত্ত অথবা আদায়ীকৃত হয় যে, অর্থদণ্ডে ও অনাদায়ের জন্য প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের যে অংশ উত্তীর্ণ হয়েছে, তা অর্থদণ্ডে ও এখনও অপ্রদত্ত বা অনাদায়ীকৃত অংশের সাথে আনুপাতিক হার অপেক্ষা কম নয়, তবে আসামীর কারামুক্তি হবে।
২০.
A, Z কে হুমকি দেয় যে, তাকে টাকা না দিলে Z সম্পর্কে সে মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করবে। A যে অপরাধ করেছে তা -
  1. মানহানি
  2. অনিষ্টসাধন
  3. বলপূর্বক আদায়
  4. বিশ্বাসভঙ্গ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারার বিধান বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:- কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে ‘সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

♦দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারার বিধান বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়ের সাজা (Punishment for extortion):- কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
২১.
অন্যের দখলীয় সম্পত্তির কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য যে কেউ প্রবেশ করে যে অপরাধটি করে তা হলো-
  1. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ
  2. গন-উৎপাত
  3. অনিষ্টসাধন
  4. অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারার বিধান অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ :- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা অনুরূপ সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ প্রবেশ করে, অথবা, আইনানুগভাবে অনুরূপ সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশের পর বেআইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অনুরূপ বে-আইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি “অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
২২.
প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ ফৌজদারি আদালতের বিচারক হন
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. জেলা জজ
  3. দায়রা জজ
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭ ধারার বিধানঃ নির্বাহী, জুডিশিয়াল এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের অধীনস্থকরণঃ (১) ১০ ধারায় ও ১২(১) ধারা অনুযায়ী নিযুক্ত সকল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনস্থ হবেন; এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই কোডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সময়ে সময়ে বিশেষ আদেশ কর্তৃক তাঁর অধীন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মধ্যে কাজকর্ম বন্টন করতে পারবেন ।

(২) ১১ ধারা ও ১২(৩) ধারা অনুযায়ী, নিযুক্ত সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৫ ধারা অনুসারে গঠিত সমস্ত বেঞ্চ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-এর অধীন হবেন; তাঁদের মধ্যে কার্যভার বন্টনের জন্য তিনি সময়ে সময়ে উক্ত কোড এবং সরকার কর্তৃক ১৬ ধারা অনুসারে প্রণীত বিধিসমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিশেষ আদেশ জারি করতে পারবেন।

(৩) অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশেষ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১২(৫) ধারা অনুযায়ী নিযুক্ত সকল মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৯ ধারা অনুসারে গঠিত বেঞ্চসমূহ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন হবেন; অনুরূপ ম্যাজিস্ট্রেটগণের ও বেঞ্চসমূহের মধ্যে কার্যভার বন্টনের জন্য তিনি সময়ে সময়ে উক্ত কোড এবং সরকার কর্তৃক ১৬ ধারা অনুযায়ী প্রণীত বিধিসমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিশেষ আদেশ জারি করতে পারবেন ।

(৪) চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-সহ সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ দায়রা জজ-এর অধীন হবেন এবং চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ মহানগর দায়রা জজ-এর অধীন হবেন

♦ অর্থাৎ প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ ফৌজদারী আদালত হলো দায়রা আদালত এবং দায়রা আদালতের বিচারক হলো দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ। অন্যদিকে মহানগর এলাকায় মহানগর দায়রা আদালত হলো সর্বোচ্চ ফৌজদারী আদালত এবং মহানগর দায়রা জজ হলো বিচারক।
২৩.
সংক্ষিপ্ত বিচারে অনধিক ২০০/- টাকা অর্থদন্ড হলে, ঐ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার হলো-
  1. রিভিশন
  2. আপিল
  3. রেফারেন্স
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪১৪ ধারায় বলা হয়েছে, ২৬০ ধারার অধীনে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক দুইশত টাকা জরিমানা করলে ঐ আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না। ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন যে সকল ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না, সে সব ক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা যায়। এজন্য ঐ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে হবে
২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৯সি ধারা বলে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট সাজা দিতে পারে অনধিক -
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ৯ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণ ক্ষমতাবলে সর্বোচ্চ ৫ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে। তবে ২৯গ  ধারায় বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ৩৩ক ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৭ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে।

♦ ৩৩ক ধারায় বলা হয়েছে যে ২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। অতএব, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
২৫.
মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে একজন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালাসের আদেশ প্রদানের সময় নালিশকারীর বিরুদ্ধে এরুপ ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন। যা হবে অনধিক -
  1. ১,০০০ টাকা
  2. ২,০০০ টাকা
  3. ৫,০০০ টাকা
  4. ১০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০(২) ধারার বিধান অভিযোক্তা (ফরিয়াদী) বা সংবাদবাহক যে কারণ প্রদর্শন করবে, ম্যাজিস্ট্রেট তা নথিবদ্ধ ও বিবেচনা করবেন এবং তিনি যদি এমর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আনীত অভিযোগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিজনক ছিল, সেক্ষেত্রে কারণ নথিবদ্ধ করে নির্দেশ প্রদান করবেন যে, অভিযোক্তা বা সংবাদবাহক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বা তাদের প্রত্যেককে বা যে কোন একজনকে ১০০০ (এক হাজার) এর অনধিক অথবা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হলে ৫০০ (পাঁচশত) টাকার অনধিক, যত টাকা ধার্য্য করবেন, ক্ষতিপূরণ দিবে।

♦অর্থাৎ ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন যে, আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা, তাহলে তিনি অভিযুক্ত পক্ষকে অনধিক ১০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদানের জন্য ফরিয়াদী বা সংবাদদাতাকে নির্দেশ দিতে পারে এবং তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হলে অনধিক ৫০০ টাকা প্রদানের আদেশ দিতে পাথা।
২৬.
বিচারিক আদালত একজন দন্ডিতকে জামিন দিতে পারে যদি তার কারাদন্ডের মেয়াদ হয় অনধিক-
  1. ৩ বছর
  2. ২ বছর
  3. ১ বছর
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারার বিধান আপিল পেন্ডিং থাকলে দণ্ড স্থগিতঃ দণ্ডিত ব্যক্তির আপিল সাপেক্ষে আপিল আদালত আপিলকৃত দণ্ড বা আদেশ কার্যকর স্থগিত রাখবে এবং আসামি আটক থাকলে মুক্তি দিবে। [৪২৬(১)]

♦ এই ধারায় প্রদত্ত আপিল আদালতের ক্ষমতা হাইকোর্টও প্রয়োগ করতে পারবেন। [৪২৬(২)]

♦ কোন ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ১ বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং উক্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলে, আপিল পেশ ও আপিল আদালতের আদেশ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত সময়ের জন্য আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে যতদিন সে জামিনে মুক্ত থাকবে ততদিন পর্যন্ত কারাদণ্ড স্থগিত রয়েছে বলে গণ্য হবে। [ ৪২৬(২)]

♦ আপীলকারী যখন শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তখন যে সময়ের জন্য সে মুক্ত ছিল দণ্ডের মেয়াদ হিসাবের সময় তা বাদ দিতে হবে। [৪২৬(৩)]

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৬(২ক) মতে কোন ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ১ বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং উক্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলে, আপিল পেশ ও আপিল আদালতের আদেশ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত সময়ের জন্য আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে যতদিন সে জামিনে মুক্ত থাকবে ততদিন পর্যন্ত কারাদণ্ড স্থগিত রয়েছে বলে গণ্য হবে।
২৭.
অর্থদন্ডের বিরুদ্ধে আনীত আপিল চলাকালে আসামী মারা গেলে আপিলটি-
  1. এবেট হবে
  2. এবেট হবে না
  3. খারিজ হবে
  4. খারিজ হবে না
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩১ ধারার বিধান আপীল পণ্ড হওয়াঃ ধারা-৪১৭ ও ধারা-৪১৭ক এর অধীন প্রত্যেকটি আপীল আসামীর মৃত্যু হলে চুড়ান্তভাবে পণ্ড হয়ে যাবে এবং এই অধ্যায়ের অধীন অন্যান্য প্রত্যেকটি আপীল (জরিমানার বিরুদ্ধে আপীল ব্যতীত) আপীলকারীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড হয়ে যাবে।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩১ ধারায় আপীল বাতিল সম্পর্কে বিধান আছে। খালাসের এবং অপর্যাপ্ত দন্ডের বিরুদ্ধে আপীল চলাকালীন অবস্থায় আসামীর মৃত্যু হলে আপীলটি চূড়ান্তভাবে পন্ড বা বাতিল বা এবেট হয়ে যাবে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে আপীলকারী মারা গেলে আপীলটি পন্ড হবে। যেমন দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামী আপীল করলো অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে আসামী হলো আপীলকারী এবং সে মারা গেলে উক্ত আপীল বাতিল বা এবেট হবে। কিন্তু জরিমানার বা অর্থদন্ডের বিরুদ্ধে আপিল হলে আপিলকারী বা আসামী মারা গেলেও, আপীলটি পন্ড হবেনা এবং আপীলকারীর আইনগত প্রতিনিধিরা স্থলাভিষিক্ত হবে।

♦দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনত দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে জরিমানা বা অর্থদন্ড আদায়যোগ্য হবে।
২৮.
কোন ফৌজদারি আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে?
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. অতিরিক্ত দায়রা জজ
  4. জেলা জজ
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশনের ক্ষমতা বা নিন্ম আদালতের নথি তলবের ক্ষমতা আছে হাইকোর্ট বিভাগের ও দায়রা জজ আদালতের (অতিরিক্ত দায়রা জজ)।
♦ রিভিশনের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজ সকলের রয়েছে ।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ক(৩) ধারায় অতিরিক্তি দায়রা জজের রিভিশন ক্ষমতা রয়েছে। দায়রা জজ সাধারন বা বিশেষ আদেশ বলে তার নিকট দায়েরকৃত কোন রিভিশন অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করতে পারে; এক্ষেত্রে অতিরিক্ত দায়রা জজ, দায়রা জজের সকল রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।  রিভিশনে প্রদত্ত দায়রা জজের আদেশই চূড়ান্ত কেননা, ফৌজদারি কার্যবিধিতে ২য় ব্রিভিশনের বিধান নাই।
২৯.
দায়রা আদালতের রায় ও দন্ডাদেশের অনুলিপি অগ্রবর্তী করতে হবে-
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর
  2. জেলা জজ বরাবর
  3. জেলা সুপার বরাবর
  4. পুলিশ সুপার বরাবর
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৩৭৩ ধারা অনুযায়ী দায়রা কোন মামলার বিচারে প্রদত্ত রায়ের ও দন্ডাদেশের কপি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে প্রেরণ করবেন।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭৩ ধারার বিধান দায়রা আদালত সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের নকল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্রেরণ করবেনঃ দায়রা আদালত কর্তৃক বিচারের ক্ষেত্রে উক্ত আদালত তার সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাজ্ঞার (যদি থাকে) একটি নকল যে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা, ক্ষেত্রমত, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে তাঁর বরাবর প্রেরণ করবেন।
৩০.
নালিশী দরখাস্ত গ্রহণকালে নালিশকারীকে পরীক্ষা করা একজন ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য
  1. বাধ্যতামূলক
  2. স্বেচ্ছাধীন
  3. নির্দেশমূলক
  4. বৈষম্যমূলক
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারার বিধান বাদীর জবানবন্দিঃ নালিশের প্রেক্ষিতে অপরাধ আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট যত দ্রুত সম্ভব বাদীর এবং উপস্থিত যদি থাকে, সাক্ষীবৃন্দের মধ্যে যে কয়জনকে সঠিকরূপে গণ্য করেন তাহাদের শপথ গ্রহণ করে জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারবস্তু নথিবদ্ধ করবেন এবং বাদী বা যেসব সাক্ষীর জবানবন্দি গৃহীত হয়েছে, তারা ও ম্যাজিস্ট্রেট তাতে সই করবেনঃ

(ক) লিখিত নালিশ দায়ের করা হলে ধারা-১৯২ এর বিধানমতে মামলাটি হস্তান্তরের পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্তভাবে জবানবন্দি গ্রহণের দরকার নেই;

(কক) যখন লিখিত নালিশ দায়ের করা হয় এবং আদালত বা সরকারি কর্মচারী তাঁদের সরকারি কাজে কর্তব্যরত অবস্থায় বা সরকারি হিসাবে কথিত কর্তব্য সম্পাদনের সময় এই নালিশ দায়ের করেন, সেক্ষেত্রে বাদীর জবানবন্দি গ্রহনের দরকার নেই।

(গ) যখন ধারা-১৯২ এর বিধান মতে মামলা হস্তান্তর করা হয় এবং হস্তান্তরকারী ম্যাজিস্ট্রেট আগেই বাদীর ও সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে যে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলা হস্তান্ত রিত হয়, তিনি পুনরায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন না।

200. Examination of complainant: A Magistrate taking cognizance of an offence on complaint shall at once examine upon oath the complainant and such of the witnesses present, if any, as he may consider necessary, and the substance of the examination shall be reduced to writing and shall be signed by the complainant or witness so examined, and also by the Magistrate:

♦ অর্থাৎ  নালিশী দরখাস্ত গ্রহণ করে অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ২০০ ধারার অধীন ফরিয়াদী বা অভিযোগকারী বা নালিশী দরখাস্তকারীকে এবং উপস্থিত সাক্ষীদের (যদি থাকে) শপথপূর্বক পরীক্ষা করবে বা তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করবে এবং তারা অভিযোগ মৌখিকভাবে দিলে, তা লিখিত আকারে রেকর্ড করবে। এই ধারায় নালিশকারীকে পরীক্ষা করা ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য বাধ্যতামূলক।
৩১.
কোন আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটন সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় প্রদত্ত লিখিত এজাহার স্বাক্ষর করবে
  1. ম্যাজিস্ট্রেট
  2. অভিযুক্ত আসামী
  3. সংবাদ দাতা
  4. নালিশকারী
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান আমলযোগ্য মামলার সংবাদঃ আমলযোগ্য অপরাধ সম্বন্ধীয় কোনও সংবাদ যদি কোন পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তকে মৌখিকভাবে দেয়া হলে তিনি বা তাঁর নির্দেশানুসারে অন্য কেউ তা লিপিবদ্ধ করবেন, এবং সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে তা পড়ে শুনাবেন, এবং এরূপ প্রতিটি সংবাদ, তা লিখিতভাবে প্রদত্ত হোক বা পরে লিপিবদ্ধ করা হোক, সংবাদ জ্ঞাপনকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে, এবং উহার সারাংশ ঐরূপ অফিসার কর্তৃক সরকার কর্তৃক এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট নিদর্শে রক্ষিত বহিতে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে।

 ♦154. Information in cognizable cases: Every information relating to the commission of a cognizable offence if given orally to an officer in charge of a police-station, shall be reduced to writing by him or under his direction, and be read over to the informant; and every such information, whether given in writing or reduced to writing as aforesaid, shall be signed by the person giving it and the substance thereof shall be entered in a book to be kept by such officer in such form as the Government may prescribe in this behalf.
৩২.
বিচার চলাকালে ১ বছর হাজতে থাকা একজন আসামীর ৫ বছরের কারাদন্ডের আদেশ হয়। দন্ডিত আসামীকে কত দিন কারাগারে সাজা ভোগ করতে হবে?
  1. ৬ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বিচার চলাকালে আসামীর জেল হাজতে থাকা সময় কিভাবে দন্ড থেকে বাদ যাবে তা বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ:
♦ ধারা-৩৫ক(১): ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার পর দন্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসামি যে কয়দিন জেলহাজতে ছিল, তা কারাদন্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। তবে এই বিধানটি আসামী মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হলে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ ৩৫ক ধারাটি মৃত্যুদন্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

♦ ধারা-৩৫ক(২): যদি বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদন্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয় তাহলে আসামি পুরো কারাদন্ড ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে এবং জেল থেকে মুক্তি পাবে; পাশাপাশি কোন অর্থদন্ড থাকলে সেই অর্থদন্ডও মওকুফ হয়ে যাবে।
♦ অর্থাৎ বিচার চলাকালীন সময়ে আসামি যে মেয়াদের কারাবাস ভোগ করেছে তা যদি সে যে দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে তার মেয়াদ অপেক্ষা বেশী হয়, তাহলে আসামিকে কারাবাস থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং অর্থদণ্ড যদি থাকে মওকুফ হবে।
♦ এখানে ধারা-৩৫ক(১) অনুযায়ী বিচার চলাকালে ১ বছর হাজতে থাকার কারনে দন্ডিত আসামীকে আর ৪ বছর কারাগারে সাজা ভোগ করতে হবে।
৩৩.
তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয়-
  1. চিফ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  2. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. দায়রা জজ আদালতে
  4. জেলা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪০৭ মতে- দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর কোনো ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডাদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল ধরণের ম্যাজিস্ট্রেটের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে দায়রা জজের নিকট।

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০৭ ধারার বিধান দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলঃ দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারে শাস্তিপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আপীল দায়ের করতে পারবেন, যিনি স্বয়ং উক্ত আপীলের শুনানী গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন বা কোন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আপীলটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠাতে পারেন, এবং ঐভাবে প্রেরিত আপীল প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।
৩৪.
প্রতিটি জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সর্বোচ্চ পদ হচ্ছে
  1. জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. ডেপুটি কমিশনার
  4. মুখ্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭ ধারার বিধানঃ নির্বাহী, জুডিশিয়াল এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের অধীনস্থকরণঃ (১) ১০ ধারায় ও ১২(১) ধারা অনুযায়ী নিযুক্ত সকল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনস্থ হবেন; এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই কোডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সময়ে সময়ে বিশেষ আদেশ কর্তৃক তাঁর অধীন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মধ্যে কাজকর্ম বন্টন করতে পারবেন।
(২) ১১ ধারা ও ১২(৩) ধারা অনুযায়ী, নিযুক্ত সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৫ ধারা অনুসারে গঠিত সমস্ত বেঞ্চ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-এর অধীন হবেন; তাঁদের মধ্যে কার্যভার বন্টনের জন্য তিনি সময়ে সময়ে উক্ত কোড এবং সরকার কর্তৃক ১৬ ধারা অনুসারে প্রণীত বিধিসমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিশেষ আদেশ জারি করতে পারবেন।
(৩) অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশেষ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১২(৫) ধারা অনুযায়ী নিযুক্ত সকল মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৯ ধারা অনুসারে গঠিত বেঞ্চসমূহ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন হবেন; অনুরূপ ম্যাজিস্ট্রেটগণের ও বেঞ্চসমূহের মধ্যে কার্যভার বন্টনের জন্য তিনি সময়ে সময়ে উক্ত কোড এবং সরকার কর্তৃক ১৬ ধারা অনুযায়ী প্রণীত বিধিসমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিশেষ আদেশ জারি করতে পারবেন।
(৪) চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-সহ সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ দায়রা জজ-এর অধীন হবেন এবং চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ মহানগর দায়রা জজ-এর অধীন হবেন।

♦ অর্থাৎ প্রতিটি জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সর্বোচ্চ পদ হচ্ছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
৩৫.
কোন পাবলিক প্রসিকিউটর কোন আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার করতে পারে-
  1. আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিতে
  2. সরকারের সম্মতিতে
  3. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতিতে
  4. আদালতের সম্মতিতে
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারামতে পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের অনুমতি নিয়ে রায় ঘোষনার পূর্বে মামলা প্রত্যাহার করতে পারে।
♦অভিযোগ বা চার্জ গঠনের পূর্বে পাবলিক প্রসিকিউটর মামলা প্রত্যাহার করলে আসামি অব্যাহতি পাবে, তবে অভিযোগ বা চার্জ গঠনের পর পাবলিক প্রসিকিউটর মামলা প্রত্যাহার করলে আসামি খালাস পাবে।
♦অর্থাৎ রায় ঘোষণার পূর্বে যে কোন সময় পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলা প্রত্যাহার করতে পারে।
৩৬.
পেনাল কোড এর ৩২৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ আপোষ করতে পারে-
  1. পাবলিক প্রসিকিউটর
  2. আসামী
  3. ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ভিকটিম
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪৫ ধারা অনুযায়ী পেনাল কোডের ৩২৪ ধারার মারাত্মক অস্ত্র দ্বারা বা বিপজ্জনক উপায়ে ইচ্চাকৃত ভাবে আঘাত করা অপরাধের আপোষ মীমাংসা করতে পারেন যাকে আঘাত করা হয়েছে সে।
♦অর্থাৎ পেনাল কোড এর ৩২৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ আপোষ করতে পারে ভিকটিম বা যাকে আঘাত করা হয়েছে সে।
৩৭.
চুরি করতে গিয়ে আসামী যদি স্বেচ্ছাক্রমে আঘাত দেয়, তার অপরাধটি-
  1. বলপূর্বক আদায়
  2. দস্যুতা
  3. ডাকাতি
  4. চুরি
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
♦দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
♦দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখিয়েছিল;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করেছিল; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
♦দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
৩৮.
অপরাধীর সংখ্যা ছাড়া নিম্নবর্ণিত কোন দুটি অপরাধের উপাদানসমূহ অভিন্ন?
  1. চুরি ও বলপূর্বক আদায়
  2. বলপূর্বক আদায় ও ডাকাতি
  3. বলপূর্বক আদায় ও দস্যুতা
  4. ডাকাতি ও দস্যুতা
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
♦দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
♦দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখিয়েছিল;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করেছিল; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
♦দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।

♦ প্রত্যেক ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা ( চুরি অথবা বলপূর্বক গ্রহণ) থাকে। কিন্তু দস্যুতা এবং ডাকাতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সংখ্যাগত। দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন থাকতে হবে।
♦ ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
৩৯.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব নিযুক্ত হয়
  1. প্রেসিডেন্ট কর্তৃক
  2. চেয়ারম্যান কর্তৃক
  3. সরকার কর্তৃক
  4. প্রধান বিচারপতি কর্তৃক
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 রাষ্ট্রপতির ৪৬ নং আদেশ এর অনুচ্ছেদ ৬ক  এর বিধান মতেঃ
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের একজন সচিব থাকবে। সরকার জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজদের মধ্য হতে বার কাউন্সিলের সচিব [Secretary] নিয়োগ করবে।
♦বার কাউন্সিলের সচিবের পদের মেয়াদ হবে সরকার যেমন মেয়াদ নির্ধারণ করে।
♦৬ক অনুচ্ছেদটি ২০১২ সালে সংযুক্ত করা হয়।
♦বার কাউন্সিলের সচিবই হবে বার কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা [Chief Executive Officer বিধি ৫৫।
৪০.
সরকারি চাকরি হতে নৈতিক স্খলনের দায়ে বরখাস্তকৃত একজন ব্যক্তি এ্যাডভোকেট হবার জন্য অযোগ্য হবে, যদি না সে অতিবাহিত করে
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
♦ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ২৭ (৩) অনুচ্ছে অনুযায়ী কোন ব্যক্তি সরকারী চাকরী হতে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে অপসারিত হলে এবং ২ বছর অতিক্রম না হলে এবং নৈতিক অবক্ষয় জনিত কোন অপরাধে দণ্ডিত হলে এবং ৫ বছর অতিক্রম না হলে অ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্য হবেনা।
৪১.
বার কাউন্সিলের মেয়াদ উত্তীর্ণের বছরে বার কাউন্সিল নির্বাচন যে তারিখে বা তারিখের পূর্বে সম্পন্ন করতে হবে তা হলো-
  1. ৩১ জানুয়ারী
  2. ১ ডিসেম্বর
  3. ৩১ মে
  4. ৩১ জুলাই
ব্যাখ্যা
♦ নির্বাচিত কমিটির মেয়াদকাল হবে ৩ বছর। মেয়াদ শেষ হবার বছরে ৩১ শে মে অথবা তার পূর্বেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরবর্তী ১লা জুলাই থেকে পরবর্তী ৩ বছরের জন্য বার কাউন্সিল গঠিত হবে।

♦ অর্থাৎ বার কাউন্সিলের মেয়াদ উত্তীর্ণের বছরে বার কাউন্সিল নির্বাচন ৩১ শে মে বা তার পূর্বে সম্পন্ন করতে হবে।
৪২.
বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রাপ্ত এ্যাডভোকেট হবার সকল আবেদনপত্র এর যে কমিটিতে উপস্থাপন করতে হয় তা হলো-
  1. Executive Committee
  2. Admission Committee
  3. Enforcement Committee
  4. Enrolment Committee
ব্যাখ্যা
♦ অনুচ্ছেদ-৩০: ১) বার কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত অ্যাডভোকেট হিসাবে, অন্তর্ভুক্তিকরণের সকল আবেদনপত্র তালিকা এনরোলমেন্ট কমিটিতে প্রেরিত হবে।
২) এনরোলমেন্ট কমিটি উক্ত দরখাস্ত গ্রহণ করতে পারে বা দরখাস্ত না গ্রহণের কারণসহ তা বার কাউন্সিলে ফেরত দিতে পারে।
৩) যেক্ষেত্রে কোন দরখাস্ত ফেরত আসবে, এনরোলমেন্ট কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত কারণসমূহ বার কাউন্সিল বিবেচনা করে উক্ত দরখাস্ত গ্রহণ করতে পারে বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

♦ নিবন্ধন কমিটির কাজঃ
১১খ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনজীবীদের নিবন্ধন এবং নিবন্ধন কমিটির কাজ আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে। বার কাউন্সিলের রুলস এর ৬০ক বিধি অনুযায়ী আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রত্যেক আবেদনকারী বার কাউন্সিল কর্তৃক নির্দেশিত এবং তদারকিকৃত পরীক্ষা ( এম.সি.কিউ, লিখিত এবং মৌখিক ) সম্পন্ন করবে। ৬০খ বিধিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক আবেদনকারী যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সে নিবন্ধন কমিটি কর্তৃক নির্দেশিত এবং তদারকিকৃত মৌখিক পরীক্ষার সম্মুখীন হবে।
♦ বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রাপ্ত অ্যাডভোকেট হওয়ার সকল আবেদনপত্র নিবন্ধন কমিটিতে উপস্থাপন করতে হয় [অনুচ্ছেদ-৩০]। উক্ত কমিটি এমন আবেদন মঞ্জুর বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। সুতরাং ইনরোলমেন্ট বা নিবন্ধন কমিটির প্রধান কাজ হলো প্রত্যেক আবেদনকারী যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে তার মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা এবং এনরোলমেন্ট প্রার্থীগণের দরখাস্ত মঞ্জুর করা।
♦ There shall be an enrollment committee for the enrollment of the advocates. Enrollment committee consisting of five members: a Chairman to be nominated by the Chief Justice from amongst the Judges of the Appellate Division, two members to be nominated by the Chief Justice from amongst the Judges of the High Court Division, Attorney-General for Bangladesh and one member elected by the Bar Council from amongst its members.
৪৩.
কোন এ্যাডভোকেট বার কাউন্সিলের সদস্য পদে থাকবে না উপর্যুপরি
  1. ২ বারের বেশি
  2. ৩ বারের বেশি
  3. ৪ বারের বেশি
  4. ৫ বারের বেশি
ব্যাখ্যা
♦The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর অনুচ্ছেদ- ৫ক: কোন অ্যাডভোকেট পরপর বা ধারাবাহিকভাবে ২ বারের বেশি সদস্য পদে থাকবেন না।
৪৪.
একজন প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট কারাদন্ড দিতে পারে অনধিক-
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণ ক্ষমতাবলে সর্বোচ্চ ৫ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারার বিধানঃ (১) ম্যাজিষ্ট্রেটের নিম্নবর্ণিত আদালতসমূহ নিম্নলিখিত দণ্ড দিতে পারবেন যথাঃ

(ক) মেট্রোপলিটন এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ পাচ বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, দশ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত।

(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ তিন বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, পাচ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত৷

(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের দুই বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড দুই হাজার আদালত টাকার অর্থদণ্ড।

২) যেকোন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত আইনের দ্বারা যেসব দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা অর্জন করেছেন, সেসব দণ্ডের মধ্যে একটির সহিত আরেকটির যুক্ত করে যেকোন আইনসঙ্গত দণ্ড প্রদান করতে পারেন।

♦ ৩৩ক ধারায় বলা হয়েছে যে ২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। অতএব, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারানুসারে একজন আসামীর দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার ক্ষমতা কার?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের
  2. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  3. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. মেট্রোপলিটন জজ
ব্যাখ্যা
♦ ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষীর বিবৃতি এবং আসামীর স্বীকারোক্তি উভয়ই রেকর্ড করতে পারেন। তবে, এরূপ দোষ স্বীকারোক্তি ৩৬৪ ধারার নিয়ম অনুযায়ী লিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষরিত হতে হবে এবং বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরিত হবে।
৪৬.
তদন্তকালে ম্যাজিস্ট্রেট কোন আসামীকে পুলিশ হেফাজতে রাখার জন্য তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্ষমতা দিতে পারেন অনধিক-
  1. ০৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারার বিধানঃ
(১) যখন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হেফাজতে আটক রাখা হয় এবং ইহা প্রতীয়মান হয় যে, ৬১ ধারায় নির্ধারিত ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত করা যাবে না এবং এরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে, অভিযোগ বা সংবাদ দৃঢ় ভিত্তিক, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা তিনি যদি সাব-ইনসপেকটর পদের নিম্ন পর্যায়ের না হন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে অতঃপর নির্ধারিত ডায়েরীতে লিখিত ঘটনা সম্পর্কিত নকল নিকটবতী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন, এবং একই সময়ে আসামীকে উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

(২) এই ধারার অধীন আসামীকে যে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হয়, সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার এখতিয়ার থাকুক বা না থাকুক, তিনি উপযুক্ত মনে করলে আসামীকে হেফাজতে আটক রাখার জন্য সময়ে সময়ে ক্ষমতা প্রদান করবেন, তবে এরূপ আইনের মেয়াদ সর্বসাকুল্যে পনেরো দিনের অধিক হবে না। তার যদি মামলাটি বিচার করার বা বিচারের জন্য পাঠাবার এখতিয়ার না থাকে এবং তিনি যদি আরও আটক রাখা অপ্রয়োজনীয় মনে করেন তাহলে তিনি আসামীকে এরূপ এখতিয়ারবান ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণের আদেশ দিতে পারবেন, তবে শর্ত এই যে, তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত নহেন এরূপ কোন দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আসামীকে পুলিশ হেফাজতে আটক রাখার আদেশ দিবেন না ।

(৩) এই ধারার অধীন আসামীকে পুলিশহেফাজতে আটক রাখার ক্ষমতাদানকারী ম্যাজিষ্ট্রেট তার এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।

(৪) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যতিত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এরূপ আদেশ দিলে তিনি আদেশ দিবার কারণসহ আদেশের একটি নকল ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন, তিনি যার অব্যবহিত অধস্তন।

(৫) অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ অথবা এরূপ তদন্তের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে একশত বিশ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত সমাপ্ত না হয় তাহলে,

ক) অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন বা তদন্তের আদেশদানকারী ম্যাজিষ্ট্রেট, তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে যাবজীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন; এবং

খ) তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিকা মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে দায়রা আদালত ইহার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন,
তবে শর্ত এই যে, আসামীকে যদি এই উপধারার অধীন জামিনে মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা ক্ষেত্র বিশেষে দায়রা আদালত ইহার কারণ লিপিবদ্ধ করবেনঃ

আরও শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে অনুমোদন গ্রহণ করতে যে সময় লাগিবে এই উপধারায় নির্ধারিত সময় হতে তা বাদ দিতে হবে।

ব্যাখ্যাঃ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ মামলাটি যে দিন তার নিকট পেশ করা হবে, অনুমোদন গ্রহণের সময় সেই দিন হতে গণণনা শুরু হবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আদেশ পাবার তারিখে উহা সমাপ্ত বলে গণ্য হবে।
৪৭.
মৃত্যুদন্ডে দন্ডনীয় কোন অপরাধের তদন্ত যদি ১২০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত না হয়, তবে আসামী
  1. অব্যাহতি পেতে পারে
  2. শাস্তি ভোগ করতে পারে
  3. দন্ডিত হতে পারে
  4. জামিনে মুক্ত হতে পারে
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারার বিধানঃ
(১) যখন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হেফাজতে আটক রাখা হয় এবং ইহা প্রতীয়মান হয় যে, ৬১ ধারায় নির্ধারিত ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত করা যাবে না এবং এরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে, অভিযোগ বা সংবাদ দৃঢ় ভিত্তিক, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা তিনি যদি সাব-ইনসপেকটর পদের নিম্ন পর্যায়ের না হন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে অতঃপর নির্ধারিত ডায়েরীতে লিখিত ঘটনা সম্পর্কিত নকল নিকটবতী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন, এবং একই সময়ে আসামীকে উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

(২) এই ধারার অধীন আসামীকে যে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হয়, সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার এখতিয়ার থাকুক বা না থাকুক, তিনি উপযুক্ত মনে করলে আসামীকে হেফাজতে আটক রাখার জন্য সময়ে সময়ে ক্ষমতা প্রদান করবেন, তবে এরূপ আইনের মেয়াদ সর্বসাকুল্যে পনেরো দিনের অধিক হবে না। তার যদি মামলাটি বিচার করার বা বিচারের জন্য পাঠাবার এখতিয়ার না থাকে এবং তিনি যদি আরও আটক রাখা অপ্রয়োজনীয় মনে করেন তাহলে তিনি আসামীকে এরূপ এখতিয়ারবান ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণের আদেশ দিতে পারবেন, তবে শর্ত এই যে, তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত নহেন এরূপ কোন দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আসামীকে পুলিশ হেফাজতে আটক রাখার আদেশ দিবেন না।

(৩) এই ধারার অধীন আসামীকে পুলিশহেফাজতে আটক রাখার ক্ষমতাদানকারী ম্যাজিষ্ট্রেট তার এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।

(৪) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যতিত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এরূপ আদেশ দিলে তিনি আদেশ দিবার কারণসহ আদেশের একটি নকল ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন, তিনি যার অব্যবহিত অধস্তন।

(৫) অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ অথবা এরূপ তদন্তের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে একশত বিশ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত সমাপ্ত না হয় তাহলে,

ক) অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন বা তদন্তের আদেশদানকারী ম্যাজিষ্ট্রেট, তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে যাবজীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন; এবং
খ) তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিকা মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে দায়রা আদালত ইহার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন,

তবে শর্ত এই যে, আসামীকে যদি এই উপধারার অধীন জামিনে মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা ক্ষেত্র বিশেষে দায়রা আদালত ইহার কারণ লিপিবদ্ধ করবেনঃ

আরও শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে অনুমোদন গ্রহণ করতে যে সময় লাগিবে এই উপধারায় নির্ধারিত সময় হতে তা বাদ দিতে হবে।

ব্যাখ্যাঃ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ মামলাটি যে দিন তার নিকট পেশ করা হবে, অনুমোদন গ্রহণের সময় সেই দিন হতে গণণনা শুরু হবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আদেশ পাবার তারিখে উহা সমাপ্ত বলে গণ্য হবে।
৪৮.
যুগ্ম দায়রা জজ প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হয়-
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. স্পেশাল জজের নিকট
  3. জেলা জজের নিকট
  4. দায়রা জজের নিকট
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১৭ আনুযায় ফরিয়াদী কর্তৃক দায়রা আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে এবং ফরিয়াদী কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।

♦ খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন ১৯০৮ এর আনুচ্ছেদ ১৫৭ আনুযায় পাবলিক প্রসিকিউটর আপিল দায়ের করতে পারে ৬ মাসের মধ্যে।

♦ অভিযোগকারি বা ফরিয়াদি শুধুমাত্র মূল মামলায় প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারে, কিন্তু আপিলে প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করতে পারেনা অর্থাৎ ২য় আপিলের সুযোগ নেই।

♦ তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ (৪) ধারা অনুযায়ী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিল নাকচ বা প্রত্যাখান হলে, উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ২য় আপিল চলবেনা; তবে রিভিশন দায়ের করা যাবে।
৪৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেয়া যেতে পারে
  1. এ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে
  2. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে
  3. অগ্রক্রয় আদেশের মাধ্যমে
  4. বাটোয়ারা ডিক্রি প্রদানের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ)রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫ ধারায় মতে রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেয়া যেতে পারে।
৫০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা যায় না
  1. কোন পক্ষকে কোন বে-আইনী কাজ করা থেকে বারিত করার জন্য
  2. আংশিক চুক্তি পালনের জন্য
  3. শুধুমাত্র দন্ড সংক্রান্ত আইন বলবৎ করার জন্য
  4. সম্পত্তির দখল উদ্ধারের জন্য
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে কোনো দন্ড বা Penal  কার্যকর করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যাবে না।
৫১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার অধীনে কোন মামলা দায়ের করা যাবে না-
  1. সরকারের বিরুদ্ধে
  2. বিবাদীর বিরুদ্ধে
  3. ব্যক্তি সংস্থার বিরুদ্ধে
  4. বে-সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারায় বলা আছেঃ যথাযথ আইগত পন্থা ব্যতিরেকে যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।

♦এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না ।

♦এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।


♦এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল করা যাবে না, অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রী পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।
৫২.
কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে বলবৎ করা যাবে না, যদি না চুক্তিটি হয়
  1. লিখিত
  2. প্রত্যায়িত ও সত্যায়িত
  3. সত্যায়িত
  4. লিখিত ও নিবন্ধিত
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, এর ধারা ২১ক হচ্ছে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্যঃএই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিষ্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা উহার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
৫৩.
একটি দলিল সংশোধিত হতে পারে শুধুমাত্র
  1. পক্ষগণ দ্বারা
  2. সম্পাদনকারীগণ দ্বারা
  3. সত্যায়নকারী স্বাক্ষী দ্বারা
  4. আদালত দ্বারা
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877,ধারা ৩১ অনুযায়ী যখন দলিল সংশোধন করা যেতেপারে।-যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষসমূহের পারস্পরিক ভুলের দরুণ কোন চুক্তি বা অপর কোন লিখিত দলিল সত্যিকারভাবে তাদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে না, যে কোন পক্ষ কিংবা তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিল সংশোধিত করে নেবার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে। যদি আদালত ইহা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের বেলায় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকরী করার ব্যাপারে পক্ষসমূহের সত্যিকার উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে অক্ষম হয়, সেখানে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুসারে যতদূর পর্যন্ত তা তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন, যাতে তা সে উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।
♦অর্থাৎ আদালত দলিল সংশোধনের আদেশ মঞ্জুর করে থাকেন তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুসারে।
৫৪.
আদালতের ডিক্রির কপি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করতে হয় একটি
  1. লিখিত দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে
  2. লিখিত দলিল বাতিলের ক্ষেত্রে
  3. চুক্তি রদের ক্ষেত্রে
  4. সম্পত্তি স্বত্ব ঘোষনার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877, ধারা 39 অনুযায়ী দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় আদালত দলিলটি বাতিল মর্মে রায়ের সাথে সাথে দলিলটি আদালতে অর্পণেরও আদেশ দিয়ে থাকেন। দলিলটি The Registration Act, 1908 এর অধীনে রেজিস্ট্রি হয়ে থাকলে যে অফিসে এটি রেজিস্ট্রি হয়েছে সে অফিসে (রেজিস্ট্রি অফিসে) রায়ের একটি কপি প্রেরণ করবেন যেন সংশ্লিষ্ট অফিসার উক্ত দলিলের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

♦The Specific Relief Act, 1877, ৩৯  ধারাটি হলঃ যখন বিলুপ্তির আদেশ প্রদান করাযেতে পারেঃ যে কোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়, তবে তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসেবে ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
♦যদি দলিল রেজিষ্ট্রেশন আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সেই অফিসারের নিকট প্রেরণ করবেন, যার অফিসে উক্ত দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং তেমন অফিসার তার বইতে দলিলের নকলে উহার বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন।
৫৫.
বাতিলযোগ্য দলিল বাতিলের ডিক্রি প্রদানের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা
  1. নির্দেশমূলক
  2. অবশ্য করনীয়
  3. স্বেচ্ছাধীন
  4. বাধ্যতামূলক
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877, ৩৯  ধারাটি হলঃ যখন বিলুপ্তির আদেশ প্রদান করাযেতে পারেঃ যে কোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়, তবে তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসেবে ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
♦যদি দলিল রেজিষ্ট্রেশন আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সেই অফিসারের নিকট প্রেরণ করবেন, যার অফিসে উক্ত দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং তেমন অফিসার তার বইতে দলিলের নকলে উহার বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন।
৫৬.
সাধারনত একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের ধরন হয়
  1. হ্যাঁ বোধক
  2. প্রশ্ন বোধক
  3. প্রশ্ন ও উত্তর
  4. বর্ণনামূলক
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য (Evidence): 'সাক্ষ্য' শব্দের অর্থে অন্তর্ভুক্ত হবে- (১) বিচার্য বিষয়ের অনুসন্ধানের সাথে সম্পর্কিত যে সকল বিবৃতি দেওয়ার জন্য আদালত অনুমতি দেন বা সাক্ষীর যে সকল বিবৃতি আদালতের প্রয়োজন হয়; এ ধরনের বিবৃতিকে মৌখিক সাক্ষ্য বলে।
(২) যে সকল দলিল আদালতের পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপিত করা হয়, এ ধরণের দলিলপত্রকে দালিলিক সাক্ষ্য বলে।
♦অর্থাৎ সাধারনত একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের ধরন হয় বর্ণনামূলক।
৫৭.
একজন স্বাক্ষীর আচরণ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রাসঙ্গিক হলে তা লিপিবদ্ধ করাবে-
  1. পুলিশ কর্মকর্তা
  2. বিচারক
  3. তদন্তকারী কর্মকর্তা
  4. আইনজীবী
ব্যাখ্যা
♦ একজন স্বাক্ষীর আচরণ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রাসঙ্গিক হলে তা লিপিবদ্ধ করাবে-বিচারক।

♦ যদিও প্রশ্নটি সাক্ষ্য আইনের কিন্তু এই বিষয়ে সাক্ষ্য আইনে সরাসরি কোথায়ও উল্লেখ নাই। 

♦ তবে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৬৩ ধারা মতে সাক্ষীর আচরণ সম্পর্কিত বিষয়ে মন্তব্য:
- যেক্ষেত্রে কোন দায়রা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে যদি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, সাক্ষীর জবানবন্দীর সময়ের তার আচরণ সম্পর্কিত বিষয়ে কোন মন্তব্য (যদি থাকে) লিপিবদ্ধ করবেন।

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি-১২ মতে সাক্ষীর আচরণ (Demeanour of witnesses):
- গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে আদালত সাক্ষীর আচরণ মন্তব্য আকারে লিখে রাখবেন।

Sections 363 of Code of Criminal Procedure, 1898:
Remarks respecting demeanor of witness:
- When a Sessions Judge or Magistrate has recorded the evidence of a witness, he shall also record such remarks (if any) as he thinks material respecting the demeanour of such witness whilst under examination.

Order 18 Rule 12-Code of Civil Procedure, 1908.
Remarks on demeanour of witnesses.
- The court may record such remarks as it thinks material respecting the demeanour of any witness while under examination.
৫৮.
সাক্ষ্য আইনে একজন স্বাক্ষীকে পুন: জেরা করা যায়
  1. ১৩৫ ধারায়
  2. ১৩৬ ধারায়
  3. ১৩৭ ধারায়
  4. ১৩৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৮ মতে- প্রথমে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হবে। তারপর (বিরুদ্ধপক্ষ ইচ্ছা করলে) সাক্ষীকে জেরা করবে, তারপর (সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ ইচ্ছা করলে) পুনঃজবানবন্দী গ্রহণ করাতে পারবে। সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ ও জেরা প্রাসঙ্গিক সম্পর্কে হতে হবে। কিন্তু সাক্ষী তার জবানবন্দীতে যে সকল বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন, কেবল সেই সকল বিষয়েই জেরা করা চলবে, এমন নয়। জেরা প্রসঙ্গে সাক্ষী যে সকল বিষয়ের উল্লেখ করেন, পুনঃজবানবন্দীতে সেইগুলির ব্যাখ্যা চাইতে হবে, পুনঃজবানবন্দী গ্রহণের সময় যদি আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন নতুন বিষয়ের অবতারণা করা হয়, তবে বিরুদ্ধপক্ষ সেই সকল বিষয়ে স্বাক্ষীকে আরও জেরা করতে বা পুন: জেরা করতে পারবে। 
♦অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায়  একজন স্বাক্ষীকে পুন: জেরা করা যায়।
৫৯.
একজন স্বাক্ষীকে আইনগতভাবে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যেতে পারে-
  1. জবানবন্দির সময়
  2. জেরার সময়
  3. পুনঃজবানবন্দির সময়
  4. প্রাথমিক সাক্ষ্য দানের সময়
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্নঃ প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তাহার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাহাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয় ৷

♦ সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাইবে নাঃ বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা চলিবে না।

যেসকল বিষয় ভুমিকামূলক অথবা অবিসংবাদিত অথবা পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হইয়াছে বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই সকল বিষয় সম্পর্কে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করিবার অনুমতি আদালত অবশ্যই দিবেন।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন যখন করা যাইতে পারেঃ জেরার ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা চলিবে।

♦ অর্থাৎ জেরার সময় একজন স্বাক্ষীকে আইনগতভাবে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যেতে পারে।
৬০.
৩০ বছরের পুরাতন দলিলের সম্পাদন সঠিক ধরে নেওয়া যেতে পারে যদি তা উপস্থিত হয়
  1. একজন আইনজীবীর নিকট হতে
  2. যে কোন হেফাজত হতে
  3. উপযুক্ত হেফাজত হতে
  4. একজন বিচারকের নিকট হতে
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয় বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার বিধান ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমানঃ
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।

ব্যাখ্যাঃ দলিল যেস্থানে ও যে ব্যক্তির হেফাজতে থাকা স্বাভাবিক, যদি উহা সেই স্থানে এবং সেই ব্যক্তির হেফাজতে থাকে, তবে উহা উপযুক্ত হেফাজতে আছে বলিয়া বুঝাইবে। কিন্তু দলিলটি যে হেফাজতে আছে, সেখানে থাকিবার আইন সঙ্গত কারণ আছে বলিয়া যদি প্রমাণিত হয় অথবা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে অনুরূপ কারণ থাকা সম্ভব বলিয়া যদি বিবেচিত হয়, তবে সেই হেফাজত অনুপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে না।
এই ব্যাখ্যা ৮১ ধারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

♦অর্থাৎ ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।
৬১.
সকল দেওয়ানি কার্যক্রম কোন পক্ষের স্বামী বা স্ত্রী গণ্য হবে
  1. যোগ্য স্বাক্ষী
  2. অযোগ্য স্বাক্ষী
  3. সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষী
  4. নিশ্চিত স্বাক্ষী
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১২০ ধারার বিধান দেওয়ানী মামলার পক্ষগণ এবং তাদের স্ত্রী বা স্বামী ফৌজদারী মামলার বিচারাধীন ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীঃ সকল দেওয়ানী মামলায় মামলাল পক্ষগণ এবং কোন পক্ষের স্বামী বা স্ত্রী অবশ্যই যোগ্য সাক্ষ্য হইবেন। কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় সেই ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী যোগ্য সাক্ষী হইবেন।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

♦ Section 120 of Evidence Act: Parties to civil suit, and their wives or husbands Husband or wife of person under criminal trail:
 In all civil proceedings the parties to the suit, and the husband or wife of any party to the suit, shall be competent witnesses. In criminal proceedings against any person, the husband or wife of such person, respectively, shall be a competent witness.
৬২.
একজন ব্যক্তি জীবিত মর্মে যে দাবী করে তা তাকেই প্রমান করতে হবে, যদি ঐ ব্যক্তির কোন সংবাদ পাওয়া না যায়
  1. ০৭ বছর যাবৎ
  2. ১০ বছর যাবৎ
  3. ১৫ বছর যাবৎ
  4. ৩০ বছর যাবৎ
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ১০৭ ধারায় বিগত ৩০ বৎসর যাবৎ জীবিত ব্যক্তিকে আদালত জীবিত বলে অনুমান করতে বাধ্য; এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মৃত বলে দাবী করে তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ব্যক্তি মৃত।
♦অন্যদিকে ১০৮ ধারা অনুযায়ী ৭ বৎসর যাবৎ খবর পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তিকে আদালত মৃত অনুমান করতে বাধ্য; এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি দাবী করে যে উক্ত ব্যক্তি জীবিত আছে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ব্যক্তি জীবিত আছে।
৬৩.
নিম্নের কোনটি পাবলিক ডকুমেন্ট?
  1. বিক্রয় চুক্তি
  2. বিক্রয় দলিল
  3. দানপত্ৰ
  4. ডিক্রি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং ২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document)।

♦ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

♦সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারা মতে নিম্নলিখিত দলিল গুলি সরকারী দলিলঃ
(১) যে সমস্ত দলিল (ক) কোন সাবভৌম কর্তৃপক্ষের, (খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং (গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোন অংশের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যাক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

♦সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারায় সরকারি দলিলের কোনো তালিকা না দিয়ে এর বৈশিষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে। আদালতের ডিক্রি, আদেশ, আরজি তা যখন আদালতে দাখিল করা হয় এবং সমনের আসল এগুলো সবই আদালতের কার্যক্রমের অংশ। সুতরাং এগুলো সবই সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

♦ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল । কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
৬৪.
নিম্নের কোন দলিলটি মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়?
  1. মূল বিক্রয় দলিল
  2. মূল বন্ধকী দলিল
  3. মূল বিক্রয় দলিলের ফটোগ্রাফ
  4. মূল বিক্রয় দলিলের খসড়া
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মূল দলিল আদালতে হাজির না করে মূল দলিলের প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করাকে মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা Secondary Evidence বলে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারার বিধান মাধ্যমিক সাক্ষ্যঃ- মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তাহার অন্তর্ভূক্ত হয়ঃ
(১) বর্ণিত বিধানবলী অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল;
(২) মূল দলিল হইতে এইরুপ যান্ত্রিক উপায়ে প্ৰস্তুত নকল, যাহাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এইরুপ নকলের সহিত মিলাইয়া লওয়া অন্য নকল;
(৩) মূল দলিল হইতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সহিত মিলাইয়া লওয়া নকল;
(৪) কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তাহার বিরুদ্ধে উহা ব্যবহারের ক্ষেত্রে;
(৫) যে ব্যক্তি নিজের কোন দলিল দেখিয়াছে, তাহার দেওয়া উক্ত দলিলের বিসয় বস্তু সম্পর্কে মৌক্ষিক বিবরণ।

উদাহরণঃ
(ক) একটি মূল দলিলের সহিত উহার ফটোগ্রাফ মিলাইয়া দেখা না হইয়া থাকিলেও যদি প্রমাণ করা হয় যে, ফটোগ্রাফটি যে দলিলের ফটোগ্রাফ, তাহাই মূল দলিল; তবে উক্ত ফটোগ্রাফ উক্ত মূল দলিলের মাধ্যমিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

♦ অর্থাৎ মূল বিক্রয় দলিলের ফটোগ্রাফ মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়।
৬৫.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারাবলে একজন স্বাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা যেতে পারে?
  1. ১৫৪ ধারা
  2. ১৫৫ ধারা
  3. ১৫৬ ধারা
  4. ১৬০ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বৈরী সাক্ষী বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বৈরী সাক্ষী হলো এমন একজন সাক্ষী যে, সে যে উপায়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় যে, সে আদালতের নিকট সত্য বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। বৈরী সাক্ষী বলতে মিথ্যুক সাক্ষী বোঝায় না। সাক্ষী যে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে সাক্ষীর বৈরীতা বুঝতে হবে। বিষয়টি হলো যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ যখন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে, তখন সাক্ষীর নিকট যে প্রশ্ন করা হয় তখন সে উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে বা বৈরী হতে পারে। সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ এমন ধরণের সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে।

♦The Evidence Act, 1872 এর ১৫৪ ধারা অনুযায়ী বৈরী বা প্রতিকূল সাক্ষী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সাক্ষী আহবানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে এ রকম সাক্ষীকে সে সকল প্রশ্ন করতে পারবে যে সকল প্রশ্ন বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় করতে পারে।

♦ যেমনঃ মামলার অভিযোগকারী পক্ষ A -কে সাক্ষী হিসাবে তলব করলো। সাধারণত A অভিযোগকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। কিন্তু A ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করলো। এই ক্ষেত্রে A -কে বৈরী সাক্ষ্য হিসাবে ঘোষণা করা যেতে পারে।

♦ অর্থাৎ The Evidence Act, 1872 এর ১৫৪ ধারা বৈরী সাক্ষী সম্পর্কিত বিধান আছে।
৬৬.
একজন দুষ্কর্মের সহযোগী যোগ্য স্বাক্ষী হবে-
  1. খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে
  2. পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে
  3. ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বিরুদ্ধে
  4. সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান দুষ্কর্মে সহযোগীঃ দুস্কর্মের সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলিয়া গন্য হইবেন। দুস্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামীকে সাজা দেওয়া হইলে কেবলমাত্র সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনী হইবে না।
৬৭.
বি এর হত্যার জন্য এ অভিযুক্ত। বিচার কালে নিম্নের কোন ঘটনাটি বিচার্য বিষয় হবে না?
  1. এ, বি এর মৃত্যু ঘটিয়েছিল
  2. এ, বি এর মৃত্যু ঘটানোর অভিপ্রায় করেছিল
  3. এ, বি এর নিকট থেকে আকস্মিক প্ররোচনা পেয়েছিল
  4. এ-এর বড় ভাই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিল
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারা মতে বিচার্য বিষয়ঃ
'বিচার্য বিষয়' শব্দগুলির অর্থ হইবে এবং ইহার মধ্যে অর্ন্তভুক্ত হইবেঃ এমন কোন বিষয় যাহা হইতে স্বতঃই অথবা অন্য কোন বিষয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট হইয়া কোন একটি মামলায় দাবিকৃত বা অস্বীকৃত কোন অধিকার দায় অথবা অক্ষমতার অস্তিত্ব, অস্তিত্বহীনতা, প্ৰকৃতি বা পরিণতি অবশ্যম্ভাবীরূপেই প্রতীয়মান হয়।

ব্যাখ্যাঃ দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে বর্তমানে প্রচলিত কোন আইনের বিধান অনুসারে যখনই কোন আদালত কোন বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্ন লিপিবদ্ধ করেন, তখন অনুরূপ প্রশ্নের উত্তরে যে বিষয় সমর্থন বা অস্বীকার করা হয়, তাহাই বিচার্য বিষয়।

♦ উদাহরণঃ
খ-কে হত্যা করার অপরাধে ক অভিযুক্ত হইল। বিচারকালে নিম্নলিখিত ঘটনাগুলি বিচার্য বিষয়ভূক্ত হইতে পারেঃ
ক খ- এর মৃত্যু ঘটাইয়াছে,
ক খ-এর মৃত্যু ঘটাইবার ইচ্ছা করিয়াছে,
ক খ- এর নিকট হইতে গুরুতরও আকস্মিক উস্কানি পাইয়াছিল,
ক যে কার্যের দ্বারা খ- এর মৃত্যু ঘটাইয়াছে তাহা করিবার সময় মানসিক বিকারের দরুণ ক উহার প্রকৃতি উপলব্ধি করিতে সক্ষম ছিল।

♦ অর্থাৎ বিচার্য বিষয়: যে বিষয়ের উপর কোনো মামলার, দাবিকৃত বা অস্বীকৃত অধিকারের অস্তিত্ব,অস্তিত্বহীনতা, প্রকৃতি বা পরিণতি নির্ভর করে।

 ♦প্রশ্নে; "A -এর বড় ভাই তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিল' ।" এই বিষয়টি ‘B’ -কে হত্যার জন্য 'A' -এর বিচারের সংশ্লিষ্ট নয়; তাই এ বিষয়টি বিচার্য বিষয় হবে না।
৬৮.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী একজন শিশু স্বাক্ষীর যোগ্যতা নির্ভর করে তার-
  1. বোধশক্তির উপর
  2. লিঙ্গের উপর
  3. ধর্মের উপর
  4. জাতীয়তার উপর
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষীর যোগ্যতা: সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা আছে ১১৮- ১৩১ ও ১৩৩ ধারায়। ১১৮ ধারা অনুযায়ী- প্রশ্ন বুঝে উত্তর দিতে সক্ষম সকল ব্যক্তি যোগ্য সাক্ষী। যেমন- বোধশক্তিসম্পন্ন শিশু, অল্পবয়স্ক বুদ্ধিমান বালক, প্রশ্ন বুঝে উত্তরদানে সক্ষম বিকৃতমস্তিস্কের ব্যক্তি; বোবা, জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝে উত্তরদানে সক্ষম ব্যক্তি। এমন বিকৃত মস্তিষ্ক ব্যক্তি, যিনি প্রশ্ন বুঝতে ও উত্তরদানে সক্ষম।
♦সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারার বিধান যে সাক্ষ্য দিতে পারেঃ সকল ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্য, যদি আদালত মনে না করেন যে, তাহার অল্প বয়স, অতি বৃদ্ধ বয়স, দৈহিক বা মানসিক ব্যাধি বা অনুরূপ অন্য কোন কারণে তাহাদিগকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝিতে বা সেই প্রশ্নে যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে তাঁহারা অক্ষম।

♦ব্যাখ্যাঃ কোন বিকৃত মস্তিক ব্যক্তি যদি তাহার মস্তিষ্ক বিকৃতির জন্য তাহাকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝিতে বা উহার যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে অক্ষম না হয়, তবে সেই ব্যক্তি সাক্ষ্যদানে অযোগ্য হইবে না।

Md. Abdul Haque Vs. The State মামলায় আপিল বিভাগ বলেছে যে, প্রশ্ন বুঝতে পারে এবং প্রাসঙ্গিক ও যৌক্তিক উত্তর দিতে পারে এমন শিশুর সাক্ষ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য। আদালত উক্ত শিশুর সাক্ষ্য সতর্কতার সাথে বিবেচনা করবে।
৬৯.
একটি দেওয়ানি মামলায় কোন ঘটনা প্রমানের জন্য সর্বনিম্ন যে কয়জন সাক্ষীর প্রয়োজন হয় তা-
  1. ১ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. নির্দিষ্ট সংখ্যক নহে
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের  ১৩৪ ধারার বিধান সাক্ষীর সংখ্যাঃ মামলায় কোন বিষয় প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন হইবে না।

♦Evidence Act Section 134. Number of witness: No particular number of witnesses shall in any case be required for the proof of any fact.
৭০.
‘এ’ বলে যে ‘বি’ একটি অপরাধ করেছে। এখন ‘এ' বলে আদালতের রায়ে ‘বি’ এর সাজা হোক। কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. ‘বি’ কে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, সে অপরাধটি করেনি
  2. আদালতকে অবশ্যই প্রমান করতে হবে যে ‘বি’ অপরাধটি করেছে
  3. ‘এ' কে অবশ্যই প্রমান করতে হবে যে, ‘বি’ অপরাধটি করেছে
  4. ‘এ’ কে অবশ্যই প্রমান করতে হবে যে, ‘বি’ অপরাধটি করেনি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ‘Burden of Proof” শিরোনামে ১০১ ধারার মূল বিধান হলোঃ যিনি কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব দাবি করবেন তিনিই তা প্রমাণ করবেন; যদি দাবিটি সঠিক, যৌক্তিক ও আইনানুগ হয় । সংক্ষেপে বললে: ‘যে যা দাবি করবে সে তা প্রমাণ করবে”।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা মতে প্রমাণের দায়িত্বঃ
যিনি কোন বিষয়ের অস্তিত্বের দাবি করিয়া তদুপরি নির্ভরশীল কোন আইনগত অধিকার বা দায় সম্পর্কে আদালতের রায় কামনা করেন, তিনি সেই বিষয়ের অস্তিত্ব অবশ্যই প্রমাণ করিবেন।
কোন ব্যক্তি যখন কোন বিষয়ের অস্তিত্ব প্ৰমাণ করিতে বাধ্য থাকেন, তখন বলা হয় যে, বিষয়টি প্রমাণ করিবার দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর ন্যস্ত।
৭১.
দেওয়ানি আপিলের মেমোতে কোন একটি হেতু উল্লেখ না করলে, শুনানীকালে তাহা উত্থাপন করা যাবে শুধুমাত্র-
  1. বিচারিক আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে
  2. আপিল আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে
  3. হাইকোর্টের আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে
  4. সরকারি কৌসুলির অনুমতি সাপেক্ষে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি-২ এর বিধান  আপীলে যে সকল সঙ্গত কারণ গ্রহণ করা যাবে (Grounds which may be taken in appeal): আপিলের স্মারকলিপিতে প্রকাশ করা হয়নি এমন কোন বিষয় আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে উত্থাপন করা যাবে।

♦আদেশ ৪১ বিধি-২ হল আপীলে যে সকল সঙ্গত কারণ গ্রহণ করা যাবেঃ আপীলের স্মারকলিপিতে প্রকাশ করা হয়নি, আপত্তির এরূপ কারণের সমর্থনে আদালতের অনুমতি ব্যতিত আপীলকারীর বক্তব্য পেশ করতে পারবে না বা তাকে শ্রবণ করা যাবে না; কিন্তু আপীল আদালত আপীল নিষ্পত্তিকালে আপীলের স্মারকলিপিতে প্রকাশিত আপত্তির সঙ্গত কারণসমূহ বা অত্র বিধির অধীনে আদালতের অনুমতি ক্রমে গৃহীত কারণসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কোন কারণের উপর ইহার সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন না, যদি না, যে পক্ষ উহা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে সেই পক্ষ উক্ত কারণের উপর মামলায় প্রতিদ্বন্দিতা করার যথেষ্ট সুযোগ পেয়ে থাকে।

♦আপীলের স্মারকলিপিতে বা মেমোতে উল্লেখ করা হয়নি, এরুপ কোন কারণ বা হেতু সম্পর্কে আপীলকারী তার বক্তব্য আদালতের অনুমতি ব্যতীত পেশ করবেনা। অর্থাৎ একমাত্র আপীল আদালতের অনুমতি নিয়ে আপীলকারী এমন হেতুসমূহ [grounds] শুনানীকালে উত্থাপন করা যেতে পারে।
৭২.
একজন সহকারী জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যাবে
  1. জেলা জজ আদালতে
  2. আপিল বিভাগে
  3. দায়রা জজ আদালতে
  4. হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
♦রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
♦১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
♦দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে।
♦অর্থাৎ ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
♦অর্থাৎ দেওয়ানি মামলার সহকারী জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যাবে - হাইকোর্ট বিভাগে।
৭৩.
আপোষমূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া যায়
  1. আপিলে
  2. রিভিউ-এ
  3. রিভিশনে
  4. রেফারেন্সে
ব্যাখ্যা
♦Order 23, Rule 3 -তে আপোষমূলক ডিক্রি (Compromise of Suit) বা সোলে ডিক্রি (Compromise of Decree)-এর বিধান আছে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬(৩) ধারা অনুযায়ী- আপোষমূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় বলা আছে- যেসব ডিক্রি বা অর্ডারের বিরুদ্ধে আপিল চলে না (no appeal lies), সেসব ডিক্রি বা অর্ডারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন করা যায়। অর্থাৎ, আপোষমূলক ডিক্রি যেহেতু আপিল-অযোগ্য, তাই এর বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে।
৭৪.
রিভিউ এ সিদ্ধান্ত দেবার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে যে আদালত যে
  1. ঐ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনে
  2. ঐ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন শুনে
  3. রিভিউ এর জন্য বিবেচনাধীন ডিক্রিটি প্রদান করে
  4. রিভিউ এর জন্য বিবেচনাধীন রেফার করে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৪ ধারায় এবং ৪৭ আদেশে রিভিউ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ধারা ১১৪ এবং ৪৭ আদেশের ১ বিধির অধীন রিভিউ আবেদন করা যায় যে সকল ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের বিধান নেই বা যে সকল ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের বিধান আছে কিন্তু আপীল করে নাই।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১১৪ ধারায় বলা হয়েছে “….may apply for a review of judgment  to the court which passed the decree or order”. অর্থাৎ যে আদালত রায় বা আদেশ দিয়েছে রিভিউ-এর আবেদন সেই আদালতেই করতে হবে।

♦যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ দেয়, সেই আদালতে ডিক্রি বা আদেশটি রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ রিভিউযোগ্য কোন ডিক্রি যে আদালত উক্ত ডিক্রিটি প্রদান করে সে আদালতে রিভিউ এর জন্য দায়ের করতে হবে এবং সেই ক্ষেত্রে উক্ত আদালত (ডিক্রি প্রদানকারী আদালত যার নিকট ডিক্রিটি রিভিউ এর জন্য বিবেচনা করার জন্য দাখিল করা হয়েছে) সেই আদালত উক্ত রিভিউ এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
৭৫.
সরকারের বিপক্ষে বিরুদ্ধে দখল জনিত স্বত্বের দাবি প্রতিষ্ঠায় বাদীকে প্রমাণ করতে হবে তার নিরবিচ্ছিন্ন দখল-
  1. ১২ বছরের
  2. ২০ বছরের
  3. ৩০ বছরের
  4. ৬০ বছরের
ব্যাখ্যা
♦ Easement Right মানে হল সুখাধিকার। সুখাধিকার বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সম্পত্তি অন্য ব্যক্তি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
♦ সুখাধিকারের ক্ষেত্রে ২০ বছর বলতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে সমাপ্ত ২০ বছরকে বুঝায় । তবে সরকারী সম্পত্তির উপর সুখাধিকার অর্জন করতে হলে ৬০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করতে হবে। ২৬ ধারায় সুখাধিকার বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরণের সুখাধিকারকে বোঝায়।

♦ তামাদি আইনের ২৬ ধারার বিধান সুখাধিকারসমূহ অর্জনঃ
উপধারাঃ (১) যেইক্ষেত্রে কোনো দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছে এবং যেইক্ষেত্রে কোনো পথ বা জলস্রোত অথবা কোনো পানির ব্যবহার অথবা অন্য যেই কোনো সুখাধিকার (ইতিবাচক, নেতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোনো ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোনো সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।

যদি কোনো মামলায় উক্তরূপ কোনো অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্ত উভয় ক্ষেত্রেই বিশ বৎসর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহতি পূর্ববর্তী দুই বৎসরের মধ্যে সমাপ্ত বিশ বৎসর বুঝাইবে।

উপধারাঃ (২) যেই সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদি সরকারের সম্পত্তি হয়, তবে উক্ত উপধারায় 'বিশ বৎসর' কথাগুলির স্থলে 'ষাট বৎসর' কথাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
♦ব্যাখ্যা: এই ধারার অর্থানুসারে কোনো কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্যকোনো লোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগ প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া না লওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভুত হইবার পর এক বৎসর অতিবাহিত হয়।
৭৬.
কোন মামলা দায়েরের সময়সীমা বিষয়ে তামাদি আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকলে তামাদির মেয়াদ হলো-
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ৯ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
৭৭.
বিবাহ বিচ্ছেদের পর বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য একজন মুসলিম স্ত্রী কর্তৃক মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদি সময়কাল হলো-
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
♦ বিবাহ বিচ্ছেদের পর বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য [deferred dower] একজন মুসলিম মহিলা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির ৩ বৎসর যা তামাদি আইনের ১০৪ অনুছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭৮.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের কোন মামলায় যেক্ষেত্রে কোন সময়কাল নির্ধারিত নেই সেক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে-
  1. অস্বীকৃতির বিষয় জানায় তারিখ হতে
  2. আইন জানার তারিখ থেকে
  3. চুক্তির বিষয়ে জানার তারিখ হতে
  4. চুক্তি নিবন্ধনের তারিখ হতে
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায় চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের মামলা দায়েরর তামাদির মেয়াদ ১ বছর।
♦তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে চুক্তি পালনের জন্য নির্ধারিত তারিখ হতে অথবা যখন অনুরুপ কোন তারিখ নির্দিষ্ট না থাকে, তখন বাদী যখন অবগত হয় যে চুক্তি পালন অস্বীকৃত হয়েছে তখন হতে। 
৭৯.
তামাদি আইনের ৫ ধারা প্রযোজ্য হয় যেখানে কোন-
  1. দেওয়ানি কার্যক্রম আছে
  2. ফৌজদারি কার্যক্রম আছে
  3. বিভাগীয় কার্যক্রম আছে
  4. সুনির্দিষ্ট আইন আছে
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যক্রম এবং ফৌজদারী কার্যক্রম উভয় ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা প্রযোজ্য। যেমন দেওয়ানী আপীল এবং ফৌজদারী আপীল উভয় ক্ষেত্রে ৫ ধারা প্রযোজ্য । এই দিক থেকে ক এবং খ সঠিক। মূলত প্রশ্নটি অস্পষ্ট। এই জন্য উত্তর তুলে দেওয়া হয়ছে।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

♦তামাদি আইনের-৫ ধারার বিধান তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি বা বিলম্ব মওকুফ (Condonation of Delay)- তামাদি আইনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কোন মামলা, আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা অন্য কোন দরখাস্ত আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করা না হলে আদালত সরাসরি ৩ ধারানুযায়ী মামলাটি খারিজ করে দিবে; তবে মূল মামলা ব্যতীত আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা অন্য যে কোন দরখাস্ত নির্ধারিত সময়ের পর করা হলেও দরখাস্তকারী ৫ ধারার বিধান মতে বিজ্ঞ আদালতকে সন্তুষ্ট করার মতো যথাযথ কারণ (sufficient cause) উল্লেখ পূর্বক তামাদির মেয়াদ মওকুফের (Condonation of Delay) জন্য আবেদন করতে পারবেন। আদালত ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তামাদির মেয়াদ মওকুফ করতে পারেন। সুতরাং তামাদি আইন কঠোর হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই কঠোর বিধি লংঘনের স্বাধীনতা রয়েছে। যেটিকে আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বা Condonation of Delay বলা হয়।
৮০.
তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে তামাদির মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান নেই-
  1. আপিলের জন্য
  2. রিভিশনের জন্য
  3. রিভিউ এর জন্য
  4. এবেটমেন্ট রদের জন্য
ব্যাখ্যা
রিভিশনের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই। আদালতে একটি প্রথা চালু আছে যে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে প্র্যাক্টিক্যালি ব্যবহার করা হয়।
৮১.
Z নাবালক থাকাবস্থায় তার মামলা করার অধিকার জন্মে। তামাদির সময় গণনা শুরু হবে যখন -
  1. Z এর সাবালকত্বের অবসান হবে
  2. Z সাবালক থাকলে
  3. Z এর নাবালকত্বের অবসান হবে
  4. উপরের কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৬ অনুযায় কোন ব্যক্তি যত দিন নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে। নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা হবে।
 ♦অর্থাৎ Z এর নাবালকত্বের অবসান হওয়ার পর তামাদির সময় গণনা শুরু হবে।

♦The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতাঃ

উপধারাঃ(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেইসময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারাঃ (২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবারপর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারাঃ (৩) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যাইতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারাঃ (৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
৮২.
দেওয়ানি আদালতের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ-
  1. ০১ বছর
  2. ০৩ বছর
  3. ০৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
♦ ডিক্রি জারির জন্য প্রথম দরখাস্ত/আবেদন ৩ বছরের মধ্যে করতে হয়।

♦তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদমতে যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি সংশোধন করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে উক্ত সংশোধিত ডিক্রি জারির দরখাস্ত সংশোধনের তারিখ হতে ৩ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
♦তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রেজিস্ট্রিকৃত/নিবন্ধিত ডিক্রি বা আদেশের ক্ষেত্রে জারি বা কার্যকর করার জন্য আবেদনের সময়সীমা ৬ বছর।

♦সাধারনত নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্যান্য ডিক্রির ক্ষেত্রে জারির জন্য আবেদনের সময়সীমা সর্বোচ্চ ১২ বছর। তবে প্রতারণা, প্রবঞ্চনা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে ১২ বছরের পরও ডিক্রি জারির আবেদন করা যায়।

♦তামাদি আইনের ১৮৩ অনুচ্ছেদমতে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক সাধারণ আদি দেওয়ানী এখতিয়ার বলে প্রদত্ত রায়, ডিক্রি বা আদেশ অথবা সুপ্রীম কোর্টের কোন আদেশ কার্যকর করার জন্য ১২ বছরের মধ্যে দরখাস্ত/আবেদন দাখিল করতে হবে।
♦তামাদি আইনের ১৮৩ অনুচ্ছেদে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারায় কোন বিধান না থাকলে সে সকল ডিক্রি জারির জন্য আবেদনের সময়সীমা ৩ বছর।
৮৩.
প্রাথমিক ডিক্রি প্রাপ্তির পর কোন পক্ষ চূড়ান্ত ডিক্রির জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে-
  1. ০৩ বছরের মধ্যে
  2. ০৬ বছরের মধ্যে
  3. ১২ বছরের মধ্যে
  4. যে কোন সময়
ব্যাখ্যা
♦প্রাথমিক ডিক্রি প্রাপ্তির পর কোন পক্ষ চূড়ান্ত ডিক্রির জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে- যে কোন সময়।
৮৪.
আদি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন আদেশকে সাধারণত আইনের প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ করা যায়
  1. রিভিশনে
  2. আপিলে
  3. রিভিউ-এ
  4. রেফারেন্স
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যাবে যদি আদেশ বা ডিক্রিটি আপীলঅযোগ্য হয় বা ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের বিধান না থাকে এবং নিম্ন আদালত আইনগত ভুল করার কারণে ডিক্রি বা আদেশে ভুল হয়েছে এবং উক্ত ভুলের কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হলে [Occasioning failure of Justice]। শুধুমাত্র আইনত ভুলের ক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করবে না। যদি আইনগত ভুলটি ন্যায় বিচার বিঘ্ন করে, শুধুমাত্র আদালত তখনই রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
৮৫.
ডিক্রিদারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি কার্যক্রম শুরু হতে পারে যদি ডিক্রিটি হয়-
  1. অগ্রক্রয়ের;
  2. অর্থের;
  3. বন্ধকের;
  4. বন্টনের;
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১১ এর বিধান মৌখিক আবেদন (Oral application): অর্থ পরিশোধের ডিক্রি হলে ডিক্রি প্রদানের সময়েই ডিক্রিদারের মৌখিক আবেদনক্রমে ডিক্রি দায়িক আদালত প্রাঙ্গনে উপস্থিত আদালত তাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে তৎক্ষনাৎ ডিক্রি জারির আদেশ দিতে পারবেন। ডিক্রি জারির জন্য প্রত্যেকটি আবেদনপত্র লিখিত হতে হবে এবং আবেদনকারী বা মোকদ্দমার ঘটনাবলীর সাথে পরিচিত অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিত এবং সত্যতা প্রতিপাদনকৃত হতে হবে।
৮৬.
জারির জন্য নতুন দরখাস্ত দাখিল করা যায় না-
  1. ০৩ বছর পর
  2. ০৬ বছর পর
  3. ০৯ বছর পর
  4. ১২ বছর পর
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারী বারিতঃ 

(১) নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতিত অন্য কোন ডিক্রি জারীর জন্য আবেদন না করা হয়ে থাকলে সেই একংই ডিক্রি জারীর জন্য—

ক) যে ডিক্রি জারীর আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ, অথবা
খ) যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশ দ্বারা কোন নির্ধারিত তারিখে বা আবর্তক মেয়াদে টাকা পরিশোধ বা কোন সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এরূপ পরিশোধ বা প্রদানের তারিখ হতে যে ডিক্রি জারীর প্রার্থনা করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ১২ বৎসর অতিবাহিত হয়ে গেলে কোন নতুন আবেদনের উপর জারীর আদেশ প্রদান করা যাবে না।
অর্থাৎ
দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় ডিক্রি জারির নতুন আবেদন [fresh application] দায়েরের তামাদির সর্বোচ্চ মেয়াদ ১২ বৎসর উল্লেখ করা হয়েছে।
৮৭.
একটি আদালত খরচার উপর সুদ প্রদান করতে পারে বার্ষিক অনধিক-
  1. ৬%
  2. ১০%
  3. ১২%
  4. ১৩%
ব্যাখ্যা
 ♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান মোকদ্দমার খরচ (Cost ); মোকদ্দমার খরচ ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি আদালতের সুবিবেচনার উপর নির্ভর করবে। মোকদ্দমার খরচ কে দিবে, কিভাবে এবং কার থেকে নেওয়া হবে এগুলো আদালত বলে দিবে। খরচ এবং খরচের উপর সর্বোচ্চ ৬% হারে বার্ষিক সুদ প্রদানের আদেশ দিতে পারবেন। এই সুদ খরচের সাথে যোগ হবে।
৮৮.
ডিক্রির অন্তর্ভূক্ত মর্মে গণ্য হবে
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ
  2. আরজি ফেরতের আদেশ
  3. আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ
  4. আরজি গ্রহণের আদেশ
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারার বিধান: ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। আরজি প্রত্যাখ্যান এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও এর অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-

ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

♦ব্যাখ্যাঃ ডিক্রি তখনই প্রাথমিক হয়, যখন মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আরও ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার থাকে; মোকদ্দমা যখন চূড়ান্তরূপে নিষ্পত্তি হয়, তখনই ডিক্রি চূড়ান্ত হয়ে থাকে। কোন ডিক্রি আংশিকভাবে প্রাথমিক এবং আংশিকভাবে চূড়ান্ত হতে পারে।

♦অর্থাৎ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত হলো আপীলযোগ্য আদেশ। কিন্তু ২(২) ধারা অনুযায়ী আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ হলো একটি ডিক্রি।
৮৯.
অনধিক ৫০ টাকার ডিক্রি জারিতে একজন ব্যক্তিকে আটক রাখা যাবে-
  1. ২ সপ্তাহ
  2. ৩ সপ্তাহ
  3. ৫ সপ্তাহ
  4. ৬ সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারার বিধান আটক ও মুক্তি (Detention and release);

♦৫০ টাকার বেশি পরিশোধের ডিক্রির ক্ষেত্রে ৬ মাসের বেশি দেওয়ানি জেলে আটক রাখা যাবে না; এবং ৫০ টাকার কম হলে সে ক্ষেত্রে ৬ সপ্তাহের বেশি আটক রাখা যাবে না।

♦যে ডিক্রি জারিতে ডিক্রি দায়িক আটক থেকে মুক্তি পেয়েছেন, সেই বিষয়ে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা যাবে না।
৯০.
প্রতিটি মামলা দাখিল করতে হবে-
  1. সর্বনিম্ন স্তরের আদালতে
  2. সর্বোচ্চ স্তরের আদালতে
  3. সমমান স্তরের আদালতে
  4. আদি স্তরের আদালতে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ ধারার বিধান যে আদালতে মামলা দায়ের করতে হবেঃ

প্রত্যেকটি মামলা উহা বিচার করার যোগ্যতাসম্পন্ন সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করতে হবে।
৯১.
কোন মামলায় আদালত চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে যে কোন এক পক্ষের প্রার্থনায় খরচসহ সময় প্রদান করতে পারে অনধিক
  1. ৩ বার
  2. ৬ বার
  3. ৯ বার
  4. ১২ বার
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে দেওয়ানী মোকদ্দমায় মূলতবির আবেদন করতে হয়। আদালতে সময়ের প্রার্থনা (Time petition) করাই হলো মূলতবীর আবেদন । আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মূলতবি রাখতে পারে। চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে। 
♦ অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে ( At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে; তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মূলতবি মঞ্জুর করেনা।
♦ মূলতবি খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে। মূলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
৯২.
কোন মামলায় আদালত রায়ের গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারে?
  1. বাটোয়ারার মামলায়
  2. নিষেধাজ্ঞার মামলায়
  3. ফোরক্লোজারের মামলায়
  4. অর্থ মামলায়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ আদেশ অনুযায়ী বিবাদীকে রায়ের পূর্বে আটকের আদেশ কোন স্থাবর সম্পত্তি বা ভূমি সংক্রান্ত মোকদ্দমায় যেমন বাটোয়ারা, নিষেধাজ্ঞার মামলা, ফোরক্লোজার বা বন্ধকী সম্পত্তির জামানত ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে মঞ্জুর করা যায় না। কিন্তু অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদীকে রায়ের পূর্বে আটকের আদেশ আদালত মঞ্জুর করতে পারে।
৯৩.
আদালত প্রদত্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাদেশ অমান্যের ক্ষেত্রে অমান্যকারী পক্ষকে দেওয়ানি কয়েদে আটক রাখা যায় অনুর্ধ্ব-
  1. ২ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ৩৯ বিধি ২ মতে চুক্তিভঙ্গ বা অন্য কোন প্রকার ক্ষতি করা থেকে বিবাদীকে বিরত রাখার জন্য মোকদ্দমা শুরুর পর যেকোন সময়, রায়ের পূর্বে বা পরে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।

♦যদি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়, অথবা কোন শর্ত ভঙ্গ করা হয় তবে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারেন, এবং উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৬ মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখারও নির্দেশ দিতে পারেন।

♦এরূপ কোন ক্রোক ১ বছরের অধিক বলবৎ থাকবে না, উক্ত সময়ের পরও যদি অবাধ্যতা বা চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহলে সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারেন।
৯৪.
কোন আদালত দৈনিক কার্য তালিকায় কয়টি মামলা চূড়ান্ত শুনানীর জন্য ধার্য করতে পারে?
  1. ০৩টি
  2. ০৫টি
  3. ০৭টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908, Order XVIII, Rule 20 দোতরফা শুনানীর মামলাসহ চূড়ান্ত শুনানীর জন্য আদালত দৈনন্দিন কার্যতালিকায় ৫ টির অধিক মোকদ্দমা রাখবে না।
♦অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ১৮ বিধি ২০ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানীর জন্য আদালত দৈনিক কার্যতালিকায় ৫টির বেশি মোকদ্দমা ধার্য্য করবেন না।
♦তবে আদালত দৈনিক কার্য তালিকায় মোকদ্দমার চূড়ান্ত পর্যায়ে ১০০ টির অধিক মোকদ্দমা ধার্য্য করবে না।
♦যদি চূড়ান্ত পর্যায়ে মোকদ্দমার সংখ্যা ৭০ টির নীচে আসে তাহলে আবার চূড়ান্ত পর্যায়ে আরো মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করবেন।
৯৫.
কোন আদালত এক তরফা অন্তবর্তীকালীন আদেশ প্রদান করবে না-
  1. যে-সরকারি পক্ষের বিরুদ্ধে
  2. সরকারের বিরুদ্ধে
  3. বে-সরকারী বিবাদীর বিরুদ্ধে
  4. কারও বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৫ক বিধান অপর পক্ষের শুনানি ছাড়া অন্তবর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না (No order of ad interim or temporary injunction without hearing the opposite party):

কোন আদালত সরকারি আইনজীবীর উপর বিজ্ঞপ্তি (নোটিশ) জারি না করে এবং তাকে শুনানির সুযোগ প্রদান না করে বেসরকারি পক্ষের অনুরোধে সরকার বা বিধিবদ্ধ সংস্থার বিরুদ্ধে কোন একতরফা অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করবে না, যদি অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা কোন উন্নয়ন কর্মসূচী বা কর্ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিষ্ট বা হস্তক্ষেপ করার আশু সম্ভাবনা থাকে বা অন্যভাবে জনস্বার্থে অনিষ্টকর হয়।
৯৬.
বাদী প্রশ্নোত্তর প্রদানের আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে তার মামলা-
  1. ডিক্রি হবে
  2. প্রত্যাখ্যাত হবে
  3. খারিজ হবে
  4. ফেরত দেয়া হবে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি-২১ এর বিধান আদেশ পালন না করা (Inspection of documents referred to in pleadings or affidavits): যদি মোকদ্দমার কোন পক্ষ মোকদ্দমা সম্পর্কিত প্রশ্নমালার উত্তর প্রদানে ব্যর্থ হয়, বা দলিল প্রকাশে ব্যর্থ হয়, বা দলিল পরিদর্শনে ব্যর্থ হয়, তখন আদালত বাদীর মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিতে পারে বা বিবাদীর ক্ষেত্রে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের বাতিলের আদেশ দিতে পারে।
৯৭.
নাবালকের পক্ষে কোন মামলা আসন্ন বন্ধু ছাড়া দায়ের করা হলে বিবাদী দরখাস্ত করতে পারে আরজিটি খরচসহ
  1. খারিজের জন্য
  2. নথি থেকে অপসারনের জন্য
  3. ফেরৎ প্রদানের জন্য
  4. প্রত্যাখানের জন্য
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩২ বিধি-১ এর বিধান আসন্ন বন্ধু দ্বারা নাবালককে মোকদ্দমা করতে হয় (Minor to sue by next friend): নাবালক বাদী কর্তৃক প্রত্যেকটি মোকদ্দমা তার 'আসন্ন বন্ধু' দ্বারা দায়ের করতে হবে।
বিধি-২। আসন্ন বন্ধু ছাড়া মোকদ্দমা দায়ের করা হলে আরজি নথি হতে অপসারণ করার জন্য বিবাদী আবেদন করতে পারে।
৯৮.
কোন মামলার এবেটের আদেশ রদের জন্য মৃত বাদীর বৈধ প্রতিনিধি সরাসরি দরখাস্ত করতে পারে-
  1. ১৫ দিনের মধ্যে
  2. ৩০ দিনের মধ্যে
  3. ৬০ দিনের মধ্যে
  4. ৯০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২২ বিধি-৯ক এর বিধান সরাসরি খারিজ বা বাতিল আদেশ রহিতকরণ (Directly setting aside abatement or dismissal): বাতিল বা খারিজের ৬০ দিনের মধ্যে যদি মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি বাতিল বা খারিজের আদেশকে রহিতকরণের জন্য আবেদন করে তাহলে আদালত বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করে বাতিল বা খারিজ আদেশ সরাসরি রহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে আদালত বাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদানের আদেশ দিবেন।
৯৯.
কোন মামলায় একাধিক বাদী থাকলে কোন একজনকে আদালত মামলাটির দাবী প্রত্যাহারের অনুমতি দিতে পারে?
  1. অন্য বিবাদীদের সম্মতি
  2. অন্যবাদীদের সম্মতিতে
  3. সরকারি কৌশুলির সম্মতিতে
  4. আইনজীবীর সম্মতিতে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি-১ এর বিধান মোকদ্দমা প্রত্যাহার বা দাবির আংশিক পরিত্যাগঃ মোকদ্দমা দায়ের হওয়ার পর যে কোন সময় বাদী মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে অথবা তার দাবির আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে একাধিক বাদী থাকলে, আদালত অন্যান্য বাদীদের অনুমতি ছাড়া কোন একজন বাদীকে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিবেন না।
১০০.
একজন বে-সরকারি ব্যক্তি কর্তৃক বর্তস্বত্ব (easement) অধিকার অর্জনের ন্যুনতম সময় কাল হলো-
  1. ১২ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
♦ Easement Right মানে হল সুখাধিকার। সুখাধিকার বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সম্পত্তি অন্য ব্যক্তি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
♦ তামাদি আইনের ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জনের বিধান রয়েছে। ২৬ ধারা অনুযায়ী কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অথবা যে কোন সুখাধিকার অব্যাহতভাবে ২০ বছর (সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর) ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে উক্ত সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্গনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

♦ অর্থাৎ ২৬ ধারামতে কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অব্যাহতভাবে ২০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে সুখাধিকার অর্জন করা যায়।

♦ সুখাধিকারের ক্ষেত্রে ২০ বছর বলতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে সমাপ্ত ২০ বছরকে বুঝায় । তবে সরকারী সম্পত্তির উপর সুখাধিকার অর্জন করতে হলে ৬০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করতে হবে। ২৬ ধারায় সুখাধিকার বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরণের সুখাধিকারকে বোঝায়।

♦অর্থাৎ একজন বে-সরকারি ব্যক্তি কর্তৃক বর্তস্বত্ব (easement) অধিকার অর্জনের ন্যুনতম সময় কাল হলো ২০ বছর।