পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়25 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৯ বাংলাদেশ বিষয়াবলি - ৬ সাবজেক্ট ফাইনাল (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী, দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ১৬.৭%
  2. ১৭.২%
  3. ১৮.৭%
  4. ১৯.৪%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কোন শাসনের অবসান ঘটান?
  1. হাবশি
  2. তুর্কি
  3. মুঘল
  4. সেন
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'পলকূত' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শস্য কাটার উৎসব?
  1. হাজং
  2. মারমা
  3. লুসাই
  4. বম
ব্যাখ্যা

লুসাই:
- লুসাই  নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

.
বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল কোনটি?
  1. সুপ্রীম কোর্ট
  2. জজ কোর্ট
  3. আপিল বিভাগ
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা

আপিল বিভাগ:
- বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হল আপিল বিভাগ।
- হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতেই কেবল এখানে আপিল করা যায়।
- এ বিভাগের বিচারকের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই তবে এখানে হাইকোর্ট বিভাগের চেয়ে স্বল্প সংখ্যক বিচারক থাকে।

আপিল বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- হাইকোট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির ও তা নিস্পত্তির এখতিয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে।
- এ বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
- রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন মোতাবেক আপিল বিভাগ আইন বিষয়ে মতামত জ্ঞাপন করতে পারে।
- সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা ও কাগজপত্র পেশ করার আদেশ দিতে পারে। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) এর প্রধান কার্যালয় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. পাবনা
  3. কুষ্টিয়া
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

BWMRI:
- পূর্ণরূপ Bangladesh Wheat and Maize Research Institute বা বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- ২০১৭ সালে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটিই বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ।
- এর প্রধান কার্যালয় দিনাজপুরের নশিপুরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য:
- এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণা করত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭২
  2. অনুচ্ছেদ ৭৫
  3. অনুচ্ছেদ ৭৭
  4. অনুচ্ছেদ ৭৯
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭০ - রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া।
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

.
কোন মুঘল সম্রাট চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন?
  1. আকবর
  2. জাহাঙ্গীর
  3. বাবর
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ'। উক্তিটি কার?
  1. অ্যালান বল
  2. অ্যালেন পটার
  3. এইচ জিগলার
  4. অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা:
⇒ অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' (Organized group) শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।

⇒ অ্যালান বলের মতে, 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ'।

⇒ এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।

⇒ অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, 'স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কত?
  1. ১,৩৭,০৩,০০০ হেক্টর
  2. ১,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর
  3. ১,৭৩,০৩,০০০ হেক্টর
  4. ১,৮৭,০৩,০০০ হেক্টর
ব্যাখ্যা

আবাদী ও অনাবাদী জমি:
- আবাদযোগ্য নয় এমন জমির পরিমাণ ৮৩,৫৮,০০০ একর।
- মোট আবাদযোগ্য জমি ৩,৯২,৯৬,০০০ একর বা ১,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর।
- এক ফসলি জমি ৫০,৪৯,০০০ একর বা ২০,৪৪,০০০ হেক্টর।
- দুই ফসলি জমি ১,০১,৪০,০০০ একর বা ৪১,০৫,০০০ হেক্টর।
- তিন ফসলি জমি ৪৫,৯৩,০০০ একর বা ১৮,৫৯,০০০ হেক্টর।
- চার ফসলি জমি ৪৭,০০০ একর বা ১৯,০০০ হেক্টর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১০.
সংবিধানের ৯৫ তম অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা
  2. বিচারক-নিয়োগ
  3. বিচারকদের পদের মেয়াদ
  4. অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৮ - সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ।
- অনুচ্ছেদ ৯৯ - অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১০০ - সুপ্রীম কোর্টের আসন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১১.
বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী
  2. খাগড়াছড়ি
  3. চট্টগ্রাম
  4. হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

• কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র: এটি সিলেট জেলায় অবস্থিত; বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র। পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি ১৯৬২ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। এর মোট অনুমিত মজুত ৩.৬৫ টিসিএফ যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুত ২.৫২ টিসিএফ গ্যাস। কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কনডেনসেটও উৎপাদিত হয়ে থাকে। ১৯৮৩ সাল থেকে এই গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

• হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র: এটি ১৯৬৩ সালে আবিষ্কৃত দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র। এটি ১১ কিমি দীর্ঘ এবং ৪.৫ কিমি প্রশস্ত। প্রায় ৩০ শতাংশ সচ্ছিদ্রতাবিশিষ্ট হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র একটি উন্নতমানের গ্যাসাধার হিসেবে খ্যাত। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম একটি গ্যাস উৎপাদনক্ষেত্র। আজ পর্যন্ত এই গ্যাসক্ষেত্রে ১০টি কূপ খনন করা হয়েছে।

• বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র: এটি কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত। ১৯৬৯ সালে শেল অয়েল কোম্পানি এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। ১৯৮৪ সালে এখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৯৩ সালে এর উৎপাদন সর্বোচ্চে পৌঁছে (দৈনিক ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস)। তখন থেকে এই গ্যাসক্ষেত্রের চাপ ও উৎপাদনে দ্রুত পতন ঘটে। ২০০০ সালের শেষদিকে এখান থেকে প্রতিদিন মাত্র ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রটি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাবে।

• সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র: এটি খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় তেল কোম্পানি ও.জি.ডি.সি এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। খননকৃত ৪টি কূপের মধ্যে ৩নং ও ৪নং কূপে কোন গ্যাস পাওয়া যায় নি। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে কোন গ্যাস উত্তোলিত হয় নি।

• কুতুবদিয়া গ্যাসক্ষেত্র: এটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৯২ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিয়ন অয়েল কোম্পানি ১৯৭৬ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। যদিও গ্যাসক্ষেত্রটি ছোট আকৃতির, তবুও এর উন্নয়নে এখন পর্যন্ত কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় নি।

• বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র: এটি নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত। পেট্রোবাংলা ১৯৭৭ সালে এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রটি একটি ছোট আকৃতির গ্যাসক্ষেত্র এবং এর উন্নয়নে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। এখানে খননকৃত দুটি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে একটি শুষ্ক পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১২.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. আবদুল লতিফ
  4. আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে। 
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।

১৩.
শিল্পী কামরুল হাসানের চিত্রকর্ম কোনটি?
  1. চর দখল
  2. তিনকন্যা
  3. দুর্ভিক্ষ
  4. ধান কাটা
ব্যাখ্যা

শিল্পী কামরুল হাসান:
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
- ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর পিতার কর্মস্থল কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার নারেঙ্গা গ্রামে।
- কামরুল হাসানের শিক্ষাজীবন কাটে কলকাতায়।
- তিনি কলকাতার মডেল এম ই স্কুল (১৯৩০-৩৫) এবং কলকাতা মাদ্রাসায় (১৯৩৬-৩৭) প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস-এ ভর্তি হন এবং ১৯৪৭ সালে চিত্রকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- ‘তিনকন্যা’ ও ‘নাইওর’ তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১৪.
গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল উয়ারী-বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. চট্টগ্রাম
  3. বগুড়া
  4. নরসিংদী
ব্যাখ্যা

উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৫.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. নাটোর
  2. যশোর
  3. পাবনা
  4. ঝিনাইদহ
ব্যাখ্যা

কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী:
শীর্ষ জেলা:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১৬.
সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কত দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়?
  1. ৭ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭.
বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ পরিচালনা করেন কে?
  1. ফতেহ লোহানী
  2. খান আতাউর রহমান
  3. আবদুল জব্বার খান
  4. গোলাম মুস্তাফা
ব্যাখ্যা

‘মুখ ও মুখোশ’:
- বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’।
- দিনটি ছিল ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট। চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় রূপমহল প্রেক্ষাগৃহে।
- এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আবদুল জব্বার খান।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩১ মে, ২০২৩।

১৮.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, আউশ ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা -
  1. বরিশাল
  2. কুমিল্লা
  3. দিনাজপুর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

ধান উৎপাদন:
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়।
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪ অনুসারে ময়মনসিংহ জেলায় সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়।
- বিভাগ অনুসারে রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়।
- আউশ ধান উৎপাদনে শীর্ষে কুমিল্লা জেলা।
- আমন ধান উৎপাদনে শীর্ষে দিনাজপুর জেলা।
- বোরো ধান উৎপাদনে শীর্ষে ময়মনসিংহ জেলা।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১৯.
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  4. জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।

২০.
নিচের কোন শাসক 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষণ সেন
  4. মল্লিক সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল কোন দেশ?
  1. জার্মানি
  2. ভারত
  3. চীন
  4. পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব:
- ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই সরগরম হয়ে ওঠে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
- যুদ্ধ থামানো বা বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঠেকাতে পাকিস্তানের সঙ্গে জোর তৎপরতা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
- ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল পোল্যান্ড।
- নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটির খসড়া তুলে ধরেন পোলিশ কূটনীতিক আইভান কুলাগা।
- প্রস্তাবে দুপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলা হয়।

⇒ পোল্যান্ডের উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ:
• ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে আইনত নির্বাচিত জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
• ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই, সমস্ত এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ৭২ ঘন্টার জন্য প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।
• যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার সাথে সাথে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ব সংঘাতের স্থান থেকে সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করবে।
• একইভাবে, পশ্চিম পাকিস্তানের সকল বেসামরিক কর্মী এবং অন্যান্য ব্যক্তি যারা পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যেতে ইচ্ছুক, সেইসাথে পূর্ব পাকিস্তানের সকল বেসামরিক কর্মী এবং পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য ব্যক্তি যারা দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তাদের জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তা করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া হবে যে, কেউ নির্যাতনের শিকার হবে না।
• ৭২ ঘন্টার মধ্যে পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রত্যাহার শুরু হওয়ার সাথে সাথেই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়ে যাবে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। জনগণের বৈধভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ফলে সংগঠিত নবপ্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে এই ধরনের সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হবে।
• শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভূখণ্ড অধিগ্রহণ সংঘাতের কোনও পক্ষের দ্বারা ধরে রাখা হবে না এই নীতিটি স্বীকৃতি দিয়ে, ভারত ও পাকিস্তান সরকার অবিলম্বে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর উপযুক্ত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করবে।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট ও পত্রিকার রিপোর্ট।

২২.
সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক কোন উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. রাজাধিরাজ
  2. মহামতি
  3. দেবনম পিয়
  4. ধর্মচক্রবতী
ব্যাখ্যা

অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন। 
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
উচ্চ ফলনশীল গমের জাত কোনটি?
  1. গৌরব
  2. কাবুলী
  3. চমক
  4. ময়না
ব্যাখ্যা

উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব

উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
- সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার জাত:
- বর্ণালি, শুভ্রা, খই, মোহর।

তথসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস।

২৪.
মন্ত্রণালয়ের মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক - 
  1. মন্ত্রী
  2. সচিব
  3. অতিরিক্ত সচিব
  4. যুগ্ম-সচিব
ব্যাখ্যা

মন্ত্রনালয়গুলোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়গুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলা হয়।
১. মন্ত্রী - মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে
থাকে।
২. সচিব - মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক।
৩. অতিরিক্ত সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৪. যুগ্ম-সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৫. উপসচিব - একাধিক শাখার প্রধান।
৬. সিনিয়র বা জেষ্ঠ সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।
৭. সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।

২৫.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. যশোর
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন: ১৯৩৫ সালে।
- তাঁর জন্মস্থান: বাঘচাপড়া, নোয়াখালী।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়ার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
- সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এ বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে সকল সেক্টর থেকে প্রাক্তন নৌসেনাদের আগরতলায় সংগঠিত করে নৌ বাহিনীর প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হয়।
- ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দুইটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে কোলকাতার গার্ডেনরীচ নৌ ওয়ার্কসপে দুইটি বাফার গান ও মাইন পড লাগিয়ে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়।
- গানবোট দুটির নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'।
- রুহুল আমিন নিয়োগ পান 'পলাশের' ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।
- ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি নিহত হন।
- খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

২৬.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা ছিলেন -
  1. শিকদার
  2. ফৌজদার
  3. সুবাহদার
  4. ওয়াজির
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।