পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৭ টপিক: (খ) দার্শনিক কাব্য (গীতা) শ্রীকৃষ্ণের গুরুত্বপূর্ণ বানী/উপদেশ; গীতায় উল্লিখিত চরিত্রসমূহ এবং অন্যান্য। উৎস: ৩য় ক্লাস ও সংশ্লিষ্ট পাঠ্যবই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন

.
"কর্মণ্যে‌বাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন" – শ্রীকৃষ্ণ এ বাণী দ্বারা কী শিক্ষা দিয়েছেন?
  1. ফলের প্রতি আসক্ত হতে হবে
  2. কর্মই কর, ফলের অধিকার নয়
  3. কর্ম ও ফল উভয়ই অধিকার
  4. কর্ম এড়িয়ে চলাই শ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
কর্মই কর, ফলের অধিকার নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মই কর, ফলের অধিকার নয়
ব্যাখ্যা

গীতার (২.৪৭) এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ কর্মযোগের মূল শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষের অধিকার শুধু কর্ম করার মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ফলভোগের অধিকার নেই। ফল ঈশ্বরের হাতে, তাই ফলের প্রতি আসক্তি না রেখে নিঃস্বার্থভাবে কর্ম করতে হবে। এভাবে কর্ম করলে মন শান্ত থাকে এবং মোক্ষের পথ সুগম হয়।

.
শ্রীকৃষ্ণ গীতায় জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তির মধ্যে কোনটিকে সর্বোচ্চ বলেছেন?
  1. জ্ঞান
  2. কর্ম
  3. ভক্তি
  4. তপস্যা
সঠিক উত্তর:
ভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভক্তি
ব্যাখ্যা

ভগবান গীতায় বলেছেন, জ্ঞান ও কর্ম উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ, তবে নিঃস্বার্থ ভক্তি তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। ভক্তি মানুষকে সরাসরি ঈশ্বরের সাথে যুক্ত করে। শুধু জ্ঞানী বা কর্মঠ নয়, প্রকৃত ভক্তই ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করে। এজন্য ভক্তিই মোক্ষের সর্বোচ্চ পথ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

.
"যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত" – এই শ্লোকটি গীতার কোন অধ্যায় থেকে নেওয়া?
  1. ২য় অধ্যায়
  2. ৪র্থ অধ্যায়
  3. ৬ষ্ঠ অধ্যায়
  4. ৯ম অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
৪র্থ অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থ অধ্যায়
ব্যাখ্যা

গীতার ৪র্থ অধ্যায় (জ্ঞানযোগ) এ শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ধর্মের অবক্ষয় ও অধর্মের বৃদ্ধি হলে তিনি যুগে যুগে অবতার গ্রহণ করেন। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধুদের রক্ষা, দুষ্টদের দমন এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠা। এই শ্লোক গীতার অন্যতম প্রসিদ্ধ বাণী, যা অবতারের কারণ ব্যাখ্যা করে।

.
শ্রীকৃষ্ণ ‘সমত্ব’-কে কেন গুণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন?
  1. কারণ সমবৃত্তিই প্রকৃত যোগ
  2. কারণ তা শক্তি দেয়
  3. কারণ তা ভক্তির বিকল্প
  4. কারণ তা মোক্ষ নয়
সঠিক উত্তর:
কারণ সমবৃত্তিই প্রকৃত যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারণ সমবৃত্তিই প্রকৃত যোগ
ব্যাখ্যা

গীতায় সমত্বকে যোগের সর্বোচ্চ অবস্থান বলা হয়েছে। সুখ-দুঃখ, জয়-পরাজয়, লাভ-ক্ষতি—সব অবস্থায় সমভাব বজায় রাখা সত্যিকারের যোগীর লক্ষণ। এতে মানসিক শান্তি ও স্থিরতা আসে। আসক্তি বা বিরক্তি থেকে মুক্ত থেকে কর্ম করলে তা যোগরূপে গণ্য হয়।

.
"আত্মানং বিদ্ধি" – গীতায় শ্রীকৃষ্ণ কী বোঝাতে চেয়েছেন?
  1. পরের উপর নির্ভর কর
  2. আত্মাকে জ্ঞান কর
  3. ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ কর
  4. ভোগে লিপ্ত হও
সঠিক উত্তর:
আত্মাকে জ্ঞান কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মাকে জ্ঞান কর
ব্যাখ্যা

গীতায় আত্মজ্ঞানকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। শরীর ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আত্মা নিত্য, অক্ষয় ও অবিনশ্বর। তাই আত্মাকে চেনা মানে প্রকৃত সত্যকে জানা। আত্মজ্ঞান অর্জন করলে মোহ, শোক ও ভয়ের অবসান ঘটে। এ জ্ঞান মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে।

.
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ কী বলেছেন ভক্তির চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে?
  1. অর্থলাভ
  2. শক্তিলাভ
  3. মোক্ষ
  4. সাফল্য
সঠিক উত্তর:
মোক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোক্ষ
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যিনি তাঁর প্রতি পূর্ণ ভক্তি স্থাপন করেন, তিনি জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি পান। ভক্তির মাধ্যমে আত্মা ঈশ্বরের সাথে মিলিত হয়। মোক্ষ মানে শুধু দুঃখ থেকে মুক্তি নয়, বরং চিরন্তন আনন্দের অভিজ্ঞতা। তাই ভক্তিই মোক্ষের প্রধান পথ।

.
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যোগী কাকে অতিক্রম করে?
  1. ধ্যানীকে
  2. জ্ঞানীকে
  3. তপস্বীকে
  4. উপরিউক্ত সবাইকে
সঠিক উত্তর:
উপরিউক্ত সবাইকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরিউক্ত সবাইকে
ব্যাখ্যা

গীতায় বলা হয়েছে, যোগী তপস্বী, জ্ঞানী ও কর্মঠ—সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কারণ যোগী ঈশ্বরের সাথে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করে। তিনি জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তি সবকিছুকে সঙ্গতভাবে মিলিয়ে চলেন। যোগী একান্তে ধ্যান করে এবং সমত্ব অর্জন করেন।

.
"অহং ত্বা সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ" – এই বাণীতে কী বার্তা রয়েছে?
  1. পাপী কখনো মুক্তি পাবে না
  2. ভক্তকে মুক্তি দেবেন শ্রীকৃষ্ণ
  3. পাপক্ষয় কেবল তপস্যায়
  4. মোক্ষ কেবল জ্ঞানে
সঠিক উত্তর:
ভক্তকে মুক্তি দেবেন শ্রীকৃষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভক্তকে মুক্তি দেবেন শ্রীকৃষ্ণ
ব্যাখ্যা

গীতার ১৮.৬৬ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, সব ধর্ম ত্যাগ করে কেবল তাঁর শরণাগত হও। তিনি সকল পাপ থেকে মুক্তি দিয়ে মোক্ষ দান করবেন। এ বাণী গীতার সারমর্ম—শরণাগতি ও ভক্তি। তাই ভক্তকে দুঃখ বা ভয় করা উচিত নয়।

.
গীতায় ‘নিঃস্বার্থ কর্ম’কে কী নামে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. যোগ
  2. জ্ঞান
  3. ভোগ
  4. সংসার
সঠিক উত্তর:
যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ
ব্যাখ্যা

গীতার মতে, ফলের আসক্তি ছাড়া যে কর্ম করা হয়, তাকেই যোগ বলা হয়। যোগ মানে ঈশ্বরের সাথে সংযোগ। নিঃস্বার্থ কর্ম করলে মন শুদ্ধ হয় এবং ঈশ্বরপ্রেম বৃদ্ধি পায়। তাই কর্মযোগ মুক্তির অন্যতম পথ।

১০.
গীতায় ‘ক্ষত্রিয়ের শ্রেষ্ঠ ধর্ম’ কী বলা হয়েছে?
  1. কৃষিকাজ
  2. বাণিজ্য
  3. যুদ্ধ
  4. সেবা
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে উপদেশ দেন যে ক্ষত্রিয়ের প্রধান ধর্ম হলো ধর্মযুদ্ধ করা। অন্যায় ও অধর্ম দমন করা ক্ষত্রিয়ের দায়িত্ব। ভীত হয়ে যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসা ক্ষত্রিয়ের জন্য লজ্জাজনক। তাই শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যুদ্ধ করতে উৎসাহিত করেছেন।

১১.
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— "যথা প্রদীপং জ্বলিতং ন এব" – এই বাণী কিসের প্রতীক?
  1. জ্ঞানের আলো
  2. ভক্তির প্রকাশ
  3. কর্মের ফল
  4. ধ্যানের লক্ষ্য
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানের আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানের আলো
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ প্রদীপের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, যেমন প্রদীপ অন্ধকার দূর করে, তেমনি জ্ঞানের আলো অজ্ঞান দূর করে। অজ্ঞানই দুঃখ ও বন্ধনের মূল কারণ। জ্ঞানই মুক্তির পথ দেখায়। তাই জ্ঞানকে প্রদীপের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

১২.
"জ্ঞানেন তু তদজ্ঞানং নাশ্যতিইশ পরন্তপ" – এখানে ‘জ্ঞান’ কিসের প্রতীক?
  1. অর্থ
  2. অন্ধকার
  3. আলোক
  4. ভোগ
সঠিক উত্তর:
আলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোক
ব্যাখ্যা

গীতায় জ্ঞানকে আলোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। জ্ঞান অর্জন করলে অজ্ঞান-অন্ধকার দূর হয়। অজ্ঞান মানুষকে ভ্রান্ত পথে নিয়ে যায়, কিন্তু জ্ঞান তাকে সত্যের পথে পরিচালিত করে। এ জ্ঞানই মুক্তি লাভের মূল অস্ত্র।

১৩.
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— "মত্পরমো ভব" – এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
  1. সংসারভোগ
  2. আত্মসমর্পণ
  3. ধনসম্পদ
  4. ত্যাগ
সঠিক উত্তর:
আত্মসমর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মসমর্পণ
ব্যাখ্যা

এ বাণীতে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাঁকেই গ্রহণ করতে হবে। ভক্ত যদি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করে, তবে তিনি মুক্তি পান। আত্মসমর্পণ মানে নিজের অহংকার ও আসক্তি ত্যাগ করা। এটিই ভক্তির মূল সারমর্ম।

১৪.
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ভক্তের কাছে কী চান?
  1. ধন
  2. ফুল, পত্র, ফল, জল
  3. যজ্ঞ
  4. স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ফুল, পত্র, ফল, জল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল, পত্র, ফল, জল
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন— ভক্ত যদি আন্তরিক ভক্তিভরে একটি ফুল, পাতা, ফল বা জলও প্রদান করে, তিনি তা গ্রহণ করেন। ভক্তির আন্তরিকতাই আসল, বস্তু নয়। এর দ্বারা বোঝানো হয়— ঈশ্বর ভোগ্য দ্রব্য নয়, ভক্তির হৃদয় খোঁজেন।

১৫.
গীতার মতে জীবের প্রকৃত স্বরূপ কী?
  1. দেহ
  2. আত্মা
  3. ইন্দ্রিয়
  4. মন
সঠিক উত্তর:
আত্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মা
ব্যাখ্যা

গীতায় বারবার বলা হয়েছে দেহ নশ্বর, কিন্তু আত্মা অবিনশ্বর। মানুষ দেহ নয়, বরং আত্মা। দেহ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আত্মা জন্ম-মৃত্যুর ঊর্ধ্বে। আত্মার জ্ঞানই প্রকৃত মুক্তির পথ।

১৬.
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— "যোগঃ কর্মসূ কৌশলম্"। এর অর্থ কী?
  1. ভোগের কৌশল
  2. কর্মে দক্ষতা
  3. জ্ঞানের কৌশল
  4. যুদ্ধের কৌশল
সঠিক উত্তর:
কর্মে দক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে দক্ষতা
ব্যাখ্যা

 গীতায় কর্মযোগকে বলা হয়েছে কর্মে কৌশল। ফলের আসক্তি ছাড়া কর্ম করাই প্রকৃত যোগ। যে কর্ম ঈশ্বরকে উৎসর্গ করা হয় তা পবিত্র হয়। যোগ মানুষকে সংসার থেকে মুক্ত করে।

১৭.
গীতায় "ক্ষেত্র" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. দেহ
  2. জমি
  3. ইন্দ্রিয়
  4. মন
সঠিক উত্তর:
দেহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহ
ব্যাখ্যা

১৩তম অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, দেহই ক্ষেত্র এবং আত্মা হলো ক্ষেত্রজ্ঞ। দেহে জন্ম-মৃত্যু ঘটে, কিন্তু আত্মা নিত্য। দেহকে জানলে মানুষ প্রকৃত আত্মাকে চিনতে পারে।

১৮.
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— "সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং বৃজ" – এখানে মূল উপদেশ কী?
  1. যুদ্ধ ত্যাগ
  2. জ্ঞান অর্জন
  3. ভগবানের শরণাগতি
  4. ধনসংগ্রহ
সঠিক উত্তর:
ভগবানের শরণাগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগবানের শরণাগতি
ব্যাখ্যা

গীতার শেষ উপদেশ হলো শরণাগতি। সব ধর্ম, আচার, কৃত্য ত্যাগ করে কেবল ঈশ্বরের শরণ নাও। শ্রীকৃষ্ণ ভক্তকে মুক্তি দেবেন। এটাই গীতার সারকথা।

১৯.
গীতার মতে আসক্তি কিসের কারণ?
  1. সুখ
  2. দুঃখ
  3. জ্ঞান
  4. মুক্তি
সঠিক উত্তর:
দুঃখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃখ
ব্যাখ্যা

আসক্তি থেকে কাম জন্মায়, কাম থেকে ক্রোধ, ক্রোধ থেকে মোহ, আর মোহ থেকে অজ্ঞান। এই চক্র দুঃখের মূল। তাই আসক্তি ত্যাগ করলে শান্তি পাওয়া যায়।

২০.
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ভক্তির জন্য কোন গুণকে প্রধান বলেছেন?
  1. ধন
  2. ভোগ
  3. সমদর্শিতা
  4. শক্তি
সঠিক উত্তর:
সমদর্শিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমদর্শিতা
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ভক্ত যদি বন্ধু-শত্রু, সুখ-দুঃখ, সোনা-মাটিকে সমভাবে দেখে তবে সে প্রকৃত ভক্ত। সমদর্শিতা ভক্তিকে পবিত্র করে। এ গুণই ভক্তির আসল পরিচয়।

২১.
গীতার মতে প্রকৃত জ্ঞানীর লক্ষণ কী?
  1. ভোগলিপ্সা
  2. যুদ্ধবিমুখতা
  3. ধনসংগ্রহ
  4. অহংকার ত্যাগ
সঠিক উত্তর:
অহংকার ত্যাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহংকার ত্যাগ
ব্যাখ্যা

প্রকৃত জ্ঞানী অহংকারমুক্ত, শান্ত ও সংযমী। তিনি ইন্দ্রিয়নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত এবং সকল প্রাণীকে সমভাবে দেখেন। জ্ঞানী ব্যক্তি কখনো আসক্ত হন না। তাঁর জ্ঞান আলো দেয়।

২২.
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— "অবিদ্যায়ামন্তরবর্তমানঃ" – এখানে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. জ্ঞানের আলো
  2. ভক্তির ফল
  3. কর্মের ফল
  4. অজ্ঞানের অন্ধকার
সঠিক উত্তর:
অজ্ঞানের অন্ধকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজ্ঞানের অন্ধকার
ব্যাখ্যা

মানুষ অজ্ঞানতার অন্ধকারে আবদ্ধ। অজ্ঞানে মানুষ দেহকে আত্মা মনে করে। এ ভ্রান্তিই সংসারের বন্ধন। জ্ঞান অর্জন করলে অজ্ঞান দূর হয়।

২৩.
গীতার মতে প্রকৃত ত্যাগী কে?
  1. যিনি ফলের আসক্তি ত্যাগ করেন
  2. যিনি সব কাজ ছেড়ে দেন
  3. যিনি গৃহত্যাগ করেন
  4. যিনি যুদ্ধ থেকে পালান
সঠিক উত্তর:
যিনি ফলের আসক্তি ত্যাগ করেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যিনি ফলের আসক্তি ত্যাগ করেন
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, সব কাজ না করাই ত্যাগ নয়। বরং ফলের প্রতি আসক্তি ত্যাগ করাই প্রকৃত ত্যাগ। তাই নিঃস্বার্থ কর্মই সর্বোত্তম।

২৪.
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ "অক্ষর" বলতে কী বোঝিয়েছেন?
  1. দেহ
  2. প্রকৃতি
  3. আত্মা
  4. ইন্দ্রিয়
সঠিক উত্তর:
আত্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মা
ব্যাখ্যা

অক্ষর মানে অবিনশ্বর। গীতায় আত্মাকেই অক্ষর বলা হয়েছে। আত্মা জন্ম নেয় না, মরে না, ক্ষয় হয় না। এই আত্মাজ্ঞান মানুষকে মুক্ত করে।

২৫.
গীতার মতে ইন্দ্রিয় জয় না করলে কী হয়?
  1. মুক্তি
  2. ভোগে আসক্তি
  3. জ্ঞানলাভ
  4. শান্তি
সঠিক উত্তর:
ভোগে আসক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোগে আসক্তি
ব্যাখ্যা

ইন্দ্রিয় মানুষকে ভোগে টানে। ইন্দ্রিয় জয় না করলে মন অস্থির হয়। অস্থির মন ঈশ্বরস্মরণে অক্ষম। তাই যোগীর প্রথম কাজ ইন্দ্রিয় জয়।

২৬.
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— "উদাসীনবদাসীনো…" – এর দ্বারা যোগীর কোন গুণ বোঝানো হয়েছে?
  1. যুদ্ধবিমুখতা
  2. নির্লিপ্ততা
  3. ভোগলিপ্সা
  4. ধনলিপ্সা
সঠিক উত্তর:
নির্লিপ্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্লিপ্ততা
ব্যাখ্যা

যোগী সংসারে থেকেও নির্লিপ্ত থাকে। তিনি কাজ করেন, কিন্তু আসক্ত হন না। আনন্দ-বেদনা, লাভ-ক্ষতি তাঁর মনকে প্রভাবিত করে না। নির্লিপ্ততাই যোগীর বিশেষ লক্ষণ।

২৭.
গীতার মতে প্রকৃত ভক্ত ভগবানের কাছে কীভাবে প্রিয়?
  1. ধন এনে
  2. শক্তি প্রদর্শন করে
  3. হৃদয়ের সমর্পণে
  4. যজ্ঞ করে
সঠিক উত্তর:
হৃদয়ের সমর্পণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃদয়ের সমর্পণে
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ভক্ত যদি আন্তরিকতা নিয়ে সামান্য কিছু অর্পণও করে, তিনি তা গ্রহণ করেন। বস্তু নয়, ভক্তির আন্তরিকতাই আসল। তাই ভক্ত হৃদয়ের সমর্পণে ভগবানের কাছে প্রিয় হয়।

২৮.
গীতা কোন প্রেক্ষাপটে শ্রীকৃষ্ণ উপদেশ দিয়েছিলেন?
  1. অরণ্যে
  2. যজ্ঞ মণ্ডপে
  3. রাজসভায়
  4. কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুনকে উপদেশ দেন। যুদ্ধের আগে অর্জুন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে অস্ত্র ত্যাগ করেছিলেন। তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে ধর্ম, কর্ম, যোগ ও ভক্তির শিক্ষা দেন। এ কারণেই গীতাকে “যুদ্ধক্ষেত্রের উপনিষদ” বলা হয়।

২৯.
গীতার প্রথম শ্লোকে কার নাম উল্লেখ আছে?
  1. ধৃতরাষ্ট্র
  2. অর্জুন
  3. সঞ্জয়
  4. শ্রীকৃষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ধৃতরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধৃতরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

গীতার প্রথম শ্লোক ধৃতরাষ্ট্রের মুখ থেকে বলা। তিনি সঞ্জয়কে জিজ্ঞেস করেছিলেন— “ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেত যোদ্ধারা কী করল?” এখান থেকে গীতার উপদেশ শুরু হয়। ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন অন্ধ রাজা, যিনি পুত্রস্নেহে কৌরবদের পক্ষ নিয়েছিলেন।

৩০.
গীতার কাহিনী কে ধৃতরাষ্ট্রকে শোনাচ্ছিলেন?
  1. কৃষ্ণ
  2. ভীষ্ম
  3. সঞ্জয়
  4. বিদুর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয়
ব্যাখ্যা

ঋষি ব্যাস সঞ্জয়কে দিব্যদৃষ্টি দিয়েছিলেন। তাই তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে না থেকেও সব দেখতে ও বলতে পারতেন। তিনি ধৃতরাষ্ট্রকে যুদ্ধের সমস্ত ঘটনা শোনাতেন। গীতার সংলাপও সঞ্জয়ের বর্ণনার মাধ্যমে এসেছে।

৩১.
শ্রীকৃষ্ণ কাকে গীতা উপদেশ দিয়েছিলেন?
  1. ভীষ্মকে
  2. অর্জুনকে
  3. কর্ণকে
  4. দ্রোণকে
সঠিক উত্তর:
অর্জুনকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্জুনকে
ব্যাখ্যা

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুন আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করতে দ্বিধায় পড়ে যান। তখন তিনি অস্ত্র নামিয়ে শ্রীকৃষ্ণের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। কৃষ্ণ তখন তাঁকে গীতার উপদেশ দেন— কর্তব্যকর্ম করো, ভক্ত হও, আত্মাকে জানো।

৩২.
অর্জুন কেন যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেছিলেন?
  1. ভীরু ছিলেন
  2. অস্ত্রের অভাব
  3. কৃষ্ণকে ভয়
  4. আত্মীয়স্বজন হত্যার ভয়
সঠিক উত্তর:
আত্মীয়স্বজন হত্যার ভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মীয়স্বজন হত্যার ভয়
ব্যাখ্যা

অর্জুন যুদ্ধক্ষেত্রে দেখে ফেলেন তাঁর গুরু দ্রোণ, পিতামহ ভীষ্ম ও আত্মীয়স্বজন সবাই বিপরীত শিবিরে দাঁড়িয়ে। তিনি মনে করেন এদের হত্যা করা পাপ হবে। তাই তিনি যুদ্ধ থেকে সরে আসতে চান।

৩৩.
অর্জুন কৃষ্ণকে কী নামে সম্বোধন করেছিলেন যখন তিনি শিষ্যরূপে আত্মসমর্পণ করেন?
  1. বন্ধু
  2. সখা
  3. গুরু
  4. দাস
সঠিক উত্তর:
গুরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরু
ব্যাখ্যা

প্রথমে অর্জুন কৃষ্ণকে বন্ধু হিসেবে কথা বলছিলেন। কিন্তু যখন বিভ্রান্তি কাটাতে পারলেন না, তখন তিনি বললেন— “আমি তোমার শিষ্য, তুমি আমার গুরু।” তখন থেকেই কৃষ্ণ গুরু রূপে গীতার শিক্ষা দেন।

৩৪.
কোন চরিত্র অর্জুনকে “ক্লৈব্য” বা দুর্বলতার জন্য ভর্ৎসনা করেছিলেন?
  1. ভীষ্ম
  2. দ্রোণ
  3. কৃষ্ণ
  4. সঞ্জয়
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণ প্রথমে অর্জুনকে বন্ধুর মতো ভর্ৎসনা করেন। তিনি বলেন— “ক্লৈব্যমা স্ম গমঃ পার্থ” অর্থাৎ কাপুরুষতা ধরো না। এই দুর্বলতা ক্ষত্রিয়ের ধর্মবিরুদ্ধ। কৃষ্ণ এভাবেই অর্জুনকে জাগ্রত করেছিলেন।

৩৫.
কোন চরিত্রের প্রতি অর্জুন বিশেষভাবে মমতায় কাতর হয়েছিলেন?
  1. দুর্যোধন
  2. কর্ণ
  3. যুধিষ্ঠির
  4. ভীষ্ম
সঠিক উত্তর:
ভীষ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভীষ্ম
ব্যাখ্যা

অর্জুন তাঁর পিতামহ ভীষ্মের প্রতি বিশেষ মমতায় কাতর হন। তিনি ভেবেছিলেন, ভীষ্মকে হত্যা করা গুরুতর পাপ হবে। এজন্যই তিনি যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েন। কৃষ্ণই তাঁকে ধর্মের শিক্ষা দিয়ে দৃঢ় করেছিলেন।

৩৬.
গীতার সংলাপ কত অধ্যায়ে বিভক্ত?
  1. ১২
  2. ১৬
  3. ১৮
  4. ২০
সঠিক উত্তর:
১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮
ব্যাখ্যা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা মোট ১৮টি অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রতিটি অধ্যায় ভিন্ন ভিন্ন যোগ, দর্শন ও শিক্ষার উপর ভিত্তি করে। অর্জুন- কৃষ্ণ সংলাপই এর মূল কাঠামো।

৩৭.
কোন চরিত্র গীতার শেষে অর্জুনের মানসিক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছিলেন?
  1. ভীষ্ম
  2. সঞ্জয়
  3. দ্রোণ
  4. ধৃতরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয়
ব্যাখ্যা

সঞ্জয় দিব্যদৃষ্টির মাধ্যমে দেখেছিলেন অর্জুনের মানসিক পরিবর্তন। গীতার শেষে অর্জুন দৃঢ়চিত্তে বলেন— “নষ্টো মোহঃ স্মৃতির্লব্ধা।” অর্থাৎ তাঁর ভ্রান্তি দূর হয়েছে। সঞ্জয়ই এই কথা ধৃতরাষ্ট্রকে শোনান।

৩৮.
অর্জুনের দ্বিধা দেখে কৃষ্ণ তাঁকে কিসের উপমা দিয়েছিলেন?
  1. অসার দুর্বলতা
  2. অগ্নি
  3. ভগবান
  4. ধনুক
সঠিক উত্তর:
অসার দুর্বলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসার দুর্বলতা
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণ বলেন, এই দুর্বলতা ক্ষত্রিয়ের ধর্মের বিপরীত। শত্রুর সামনে কাপুরুষ হওয়া অসার। তাই তিনি অর্জুনকে দুর্বলতা ত্যাগ করে কর্তব্যকর্মে মনোযোগ দিতে বলেন।

৩৯.
কোন চরিত্র ভগবান কৃষ্ণকে “পরম ব্রহ্ম” বলে ঘোষণা করেছিলেন?
  1. যুধিষ্ঠির
  2. অর্জুন
  3. ভীষ্ম
  4. সঞ্জয়
সঠিক উত্তর:
অর্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্জুন
ব্যাখ্যা

গীতার ১০ম অধ্যায়ে কৃষ্ণ তাঁর বিশ্বরূপ বর্ণনা করলে অর্জুন তাঁকে “পরম ব্রহ্ম, পরম ধাম” বলে ঘোষণা করেন। অর্জুন স্বীকার করেন যে কৃষ্ণই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর।

৪০.
গীতায় কৃষ্ণ বিশ্বরূপ প্রদর্শন করলে কে প্রথম ভীত হয়ে পড়েন?
  1. যুধিষ্ঠির
  2. ভীম
  3. ধৃতরাষ্ট্র
  4. অর্জুন
সঠিক উত্তর:
অর্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্জুন
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণ যখন বিশ্বরূপ ধারণ করেন, তখন অসংখ্য মুখ, দন্ত ও মহাশক্তির রূপ দেখে অর্জুন ভীত হয়ে পড়েন। তিনি অনুরোধ করেন কৃষ্ণকে আবার সৌম্য রূপে ফিরে আসতে। এই ঘটনা গীতার ১১তম অধ্যায়ে আছে।

৪১.
ধৃতরাষ্ট্র কেন কৌরবদের অন্যায় সত্ত্বেও যুদ্ধ থামাননি?
  1. পুত্রস্নেহে অন্ধ ছিলেন
  2. তিনি সাহসী ছিলেন
  3. ধর্মমতে ছিলেন
  4. অর্জুনকে ভয় পেতেন
সঠিক উত্তর:
পুত্রস্নেহে অন্ধ ছিলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুত্রস্নেহে অন্ধ ছিলেন
ব্যাখ্যা

ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন অন্ধ রাজা। তিনি জানতেন দুর্যোধন অন্যায় করছে, তবুও পুত্রস্নেহে মুগ্ধ হয়ে কিছুই করেননি। এই অন্ধ পুত্রস্নেহই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রধান কারণ।

৪২.
গীতার শেষে সঞ্জয় কী উপসংহার টেনেছিলেন?
  1. কৌরবরা জয়ী হবেন
  2. যুধিষ্ঠির জয়ী হবেন
  3. ধৃতরাষ্ট্র জিতবেন
  4. ভীষ্ম জিতবেন
সঠিক উত্তর:
যুধিষ্ঠির জয়ী হবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুধিষ্ঠির জয়ী হবেন
ব্যাখ্যা

গীতার শেষে সঞ্জয় বলেন— “যত্র যোগেশ্বরঃ কৃষ্ণো যত্র পার্থো ধনুর্ধরঃ… তত্র শ্রীর্বিজয়ো ভূতি।” অর্থাৎ যেখানে কৃষ্ণ আছেন আর অর্জুন আছেন, সেখানেই জয় নিশ্চিত। এতে পাণ্ডবদের বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়।

৪৩.
গীতার প্রারম্ভে ধৃতরাষ্ট্র কোন প্রশ্ন করেছিলেন?
  1. কুরুক্ষেত্রে সমবেত হয়ে কৌরব-পাণ্ডবরা কী করল
  2. কৌরবরা জয়লাভ করবে কি না
  3. অর্জুন কি যুদ্ধ করবে
  4. পাণ্ডবরা জয়লাভ করবে কি না
সঠিক উত্তর:
কুরুক্ষেত্রে সমবেত হয়ে কৌরব-পাণ্ডবরা কী করল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরুক্ষেত্রে সমবেত হয়ে কৌরব-পাণ্ডবরা কী করল
ব্যাখ্যা

গীতার প্রথম শ্লোকেই ধৃতরাষ্ট্র প্রশ্ন করেন— "ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুত্সবঃ, মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়?" অর্থাৎ ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধের ইচ্ছায় সমবেত কৌরব ও পাণ্ডবরা কী করল? এখান থেকেই সঞ্জয়ের বর্ণনা শুরু হয়।

৪৪.
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ কাকে সর্বোত্তম ভক্ত বলেছেন?
  1. যিনি ধ্যান করেন
  2. যিনি তপস্যা করেন
  3. যিনি ফলহীন কর্ম করেন
  4. যিনি সর্বস্ব আত্মসমর্পণ করেন
সঠিক উত্তর:
যিনি সর্বস্ব আত্মসমর্পণ করেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যিনি সর্বস্ব আত্মসমর্পণ করেন
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— "মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্যাজি মাং নমস্কুরু।" অর্থাৎ যে ভক্ত সমস্ত মনোভাব, কর্ম ও আত্মা আমার উদ্দেশ্যে নিবেদন করে, তিনিই শ্রেষ্ঠ ভক্ত। শুধু ধ্যান বা তপস্যা নয়, সর্বস্ব আত্মসমর্পণই প্রকৃত ভক্তির পরিচয়।

৪৫.
গীতায় "ক্ষেত্র" ও "ক্ষেত্রজ্ঞ" শব্দ দুটি কোন অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে?
  1. ১২তম অধ্যায়
  2. ১৩তম অধ্যায়
  3. ১৫তম অধ্যায়
  4. ১৮তম অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
১৩তম অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩তম অধ্যায়
ব্যাখ্যা

১৩তম অধ্যায় "ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ বিভাগ যোগ"-এ শ্রীকৃষ্ণ মানবদেহকে "ক্ষেত্র" বা ক্ষেত্ররূপে বর্ণনা করেছেন। আর আত্মা বা জীবাত্মাকে বলেছেন "ক্ষেত্রজ্ঞ"। অর্থাৎ শরীর নশ্বর হলেও আত্মা শাশ্বত—এই দার্শনিক শিক্ষা এখানেই দেওয়া হয়েছে।

৪৬.
"ত্রিগুণ" শিক্ষা কোন অধ্যায়ে পাওয়া যায়?
  1. ২য় অধ্যায়
  2. ৩য় অধ্যায়
  3. ১৪তম অধ্যায়
  4. ১৮তম অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
১৪তম অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪তম অধ্যায়
ব্যাখ্যা

গীতার ১৪তম অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ তিনটি গুণ বা শক্তির কথা বলেছেন— সত্ত্ব, রজ, তম। মানুষের প্রকৃতি ও চরিত্র এই তিন গুণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। মুক্তি লাভ করতে হলে এই ত্রিগুণাতীত অবস্থায় পৌঁছাতে হয়। তাই এই অধ্যায় দর্শনগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪৭.
গীতায় কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তি— এই তিন পথের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোনটিকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে?
  1. কর্ম
  2. জ্ঞান
  3. ভক্তি
  4. তপস্যা
সঠিক উত্তর:
ভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভক্তি
ব্যাখ্যা

যদিও শ্রীকৃষ্ণ কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ—তিনটিরই গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন, তবু শেষ পর্যন্ত তিনি ভক্তিযোগকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন। কারণ ভক্তি মানুষের হৃদয়কে সরাসরি ঈশ্বরের সাথে যুক্ত করে। ফলশ্রুতিতে মুক্তি ও ঈশ্বরপ্রাপ্তি সম্ভব হয়।