পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪ সাধারণ জ্ঞান - বাংলাদেশ বিষয়াবলী টপিক: বাংলাদেশের ইতিহাস (জনপদ ও সভ্যতা, প্রাচীন রাজবংশ, সুলতানি শাসন, মোগল আমল, নবাবী শাসন)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
শশাঙ্ক কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) ৬১০ সালে
  2. খ) ৬২২ সালে
  3. গ) ৬৩৭ সালে
  4. ঘ) ৬৪৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:

- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- সপ্তম শতকের ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসেও শশাঙ্ক ছিলেন একজন নামকরা রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- শশাঙ্ক ৬৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় ।
- গোটা বাংলায় নেমে আসে অন্ধকারের যুগ। প্রায় একশ বছর বাংলার ইতিহাসে যে অরাজকতা, নেতৃত্বের শূন্যতার সৃষ্টি হয় তাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলা শাসন করেন-
  1. ক) ১২২ বছর
  2. খ) ১৫০ বছর
  3. গ) ২০০ বছর
  4. ঘ) ২২০ বছর
সঠিক উত্তর:
ক) ১২২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১২২ বছর
ব্যাখ্যা
সুলতানি শাসন:


- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলা প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। 
- এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ ‘বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় ‘বাঙালি' নামে।
- তাঁরা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে শাসনকার্যে ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেন।
- ইলিয়াসশাহী সুলতানগণ আরবদেশ, চীন ও পারস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- ইলিয়াসশাহী আমলে বাংলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।
- ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ ১৬৩৮ সালে পূর্ব বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এর রাজধানী হয় সোনারগাও।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন নদীর তীরে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ক) ভাগীরথী নদী
  2. খ) করোতোয়া নদী
  3. গ) গোমতী নদী
  4. ঘ) যমুনা নদী
সঠিক উত্তর:
ক) ভাগীরথী নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাগীরথী নদী
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:

- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- পলাশী যুদ্ধের সুদূর প্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোন জনপদটি মুসলিম যুগে লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল?
  1. ক) রাঢ় জনপদ
  2. খ) হরিকেল জনপদ
  3. গ) বঙ্গ জনপদ
  4. ঘ) গৌড় জনপদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৌড় জনপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৌড় জনপদ
ব্যাখ্যা
গৌড় জনপদ:

- গৌড় জনপদ  প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল। 
- মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমান নিয়ে ছিল প্রাচীন গৌড় রাজ্য। 
- গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়’ আবার কখনো লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল।
- আদি অভিলেখর মধ্যে খ্রিস্টীয় ৫৫৪ অব্দে উৎকীর্ণ মৌখরি বংশীয় রাজা ঈশান বর্মণের হরাহ লিপিতে গৌড়বাসীর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- কোনো একসময় গৌড়ের অবস্থান উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- সাত শতকের প্রথম দিকে গৌড়ের অত্যন্ত শক্তিশালী রাজা শশাঙ্কের উত্থান গৌড়ের রাজ্যসীমার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ছিরুটি অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। আর একারণেই মুর্শিদাবাদ গৌড়ের কেন্দ্রবিন্দু বলে পরিগণিত হয়।
- তেরো শতকে বাংলার মুসলমান সুলতানদের শাসনাধীন সমগ্র অঞ্চলই গৌড় নামে পরিচিত ছিল। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কাদের হাতে দিল্লী সালতানাতের পতন হয়?
  1. ক) মোগলদের হাতে
  2. খ) ইংরেজদের হাতে
  3. গ) আফগানদের হাতে
  4. ঘ) মোঙ্গলদের হাতে
সঠিক উত্তর:
ক) মোগলদের হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোগলদের হাতে
ব্যাখ্যা
দিল্লী সালতানাত:

- মোগলদের হাতে দিল্লী সালতানাতের পতন হয়।
- ইব্রাহিম লোদীর উদ্ব্যত আচরণ ও কঠোর দমন নীতির ফলে অসন্তুষ্ট আফগান অভিজাত শ্রেণি, পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদী এবং ইব্রাহীম লোদীর পিতৃব্য আলম খান এবং রাজপুতনার মেবারের রানা সংগ্রাম সিংহ কাবুলের অধিপতি জহিরুদ্দীন মুহম্মদ বাবরকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান।
- উচ্চাভিলাষী এবং সাম্রাজ্যবাদী বাবর এই আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত আক্রমণ করেন।
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘোষণা করেন।
- ভারতর্ষে মুঘল শাসনের গোড়াপত্তন করেন।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বিজয় সেনের রাজত্বকাল-
  1. ক) ১০৯৮ থেকে ১১৬০ সাল
  2. খ) ১১০০ থেকে ১১৮০ সাল
  3. গ) ১১৬০ থেকে ১২০০ সাল
  4. ঘ) ১১২০ থেকে ১১৭৮ সাল
সঠিক উত্তর:
ক) ১০৯৮ থেকে ১১৬০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০৯৮ থেকে ১১৬০ সাল
ব্যাখ্যা
বিজয় সেন:

- বিজয় সেন বাংলাদেশে বিজয় সেনের সময়ই সেনবংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন।
- বিজয়সেন প্রায় সমগ্র বাংলা জয় করে সেনদের ক্ষুদ্র রাজ্যটিকে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন।
- বিজয় সেন তাঁর সুদীর্ঘ ৬২ বছরের রাজত্বকালে বহু যুদ্ধে জয়লাভ করে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে একক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- বিজয় সেন শৈব ছিলেন এবং বৈদিক ধর্মের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধাবান ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোন জেলাটি প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) নোয়াখালী
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) সিলেট
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
বঙ্গ জনপদ:

- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাই বঙ্গদের অঞ্চল।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলার কোন স্থানে প্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) নদীয়া
  2. খ) মুর্শিদাবাদ
  3. গ) মেদিনীপুর
  4. ঘ) বাকুড়া
সঠিক উত্তর:
ক) নদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নদীয়া
ব্যাখ্যা
বখতিয়ার খলজি:

- ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি তের শতকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের একাংশে (প্রধানত নদীয়ায়) মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ইসলাম ধর্মের মোড়কে বাংলায় মুসলিম সভ্যতার আগমন এ দেশের ঐতিহ্যবাহী সমাজ, সংস্কৃতি তথা সামগ্রিক জীবনধারায় গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই- মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- প্রথমে তিনি গজনিতে উপস্থিত হয়ে শিহাবউদ্দীন ঘুরীর অধীনে সৈন্য বিভাগে চাকুরি প্রার্থী হন কিন্তু সেখানে বিফল হয়ে তিনি দিল্লিতে চলে যান এবং সেখানকার শাসনকর্তা কুতবউদ্দীন আইবেকের কাছে চাকুরি প্রার্থী হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন সুবেদার ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন?
  1. ক) ইসলাম খান চিশতি
  2. খ) শায়েস্তা খান
  3. গ) মুহাম্মদ আজম শাহ
  4. ঘ) শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
ক) ইসলাম খান চিশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইসলাম খান চিশতি
ব্যাখ্যা
জাহাঙ্গীরনগর:

- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে  ইসলাম খান চিশতি বাংলার সুবাহ্দার নিযুক্ত করেন।
- তাঁর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশল বাংলার জন্য যথার্থভাবে কার্যকর হয় এবং সুবাহ্ বাংলার সীমানা বৃদ্ধি পায়।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং  ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এর নাম করেন  জাহাঙ্গীরনগর। 
- এ শহরে ছিল প্রশাসনিক সদর দফতর এবং  সুবাহদার ও অন্যান্য কর্মচারীদের বাসস্থান।
- মুর্শিদকুলী খান কর্তৃক ত্রিপুরা, বিহারের ভাগলপুর এবং পূর্ণিয়ার কিছু অংশ সুবাহ্ বাংলার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং আঠারো শতকে মেদেনীপুর বাংলার সঙ্গে সংযুক্ত হলে মুগল সুবাহ্ বাংলার সীমানা পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।
- যেমন, উত্তরে পর্বতমালা, উত্তর-পূর্বে আসামের হাজো, পূর্বে ত্রিপুরা, দক্ষিণে সমুদ্র, দক্ষিণ-পূর্বে  আরাকান, দক্ষিণ-পশ্চিমে উড়িষ্যা এবং পশ্চিমে বিহার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০.
প্রথম জীবনে মির্জা মুহম্মদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. ক) আলিবর্দী খাঁ
  2. খ) শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  3. গ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
  4. ঘ) মুর্শিদকুলী খান
সঠিক উত্তর:
ক) আলিবর্দী খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলিবর্দী খাঁ
ব্যাখ্যা
আলীবর্দী খান:

- আলিবর্দী খাঁ(১৬৭৬-১৭৫৬) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নওয়াব (১৭৪০-১৭৫৬)।
- তিনি প্রথম জীবনে মির্জা মুহম্মদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ছিলেন আরব বংশোদ্ভূত মির্জা মুহম্মদের পুত্র।
- মির্জা মুহম্মদ ছিলেন আওরঙ্গজেব-এর দ্বিতীয় পুত্র মির্জা আজম শাহের দরবারের একজন কর্মচারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১.
বাংলার সর্বশেষ সুলতান কে?
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  2. খ) ইলিয়াস শাহ
  3. গ) শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ
সঠিক উত্তর:
ক) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলার সর্বশেষ সুলতান:

- বাংলার সর্বশেষ সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ।
- ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওয়ের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।
- যা প্রায় দুইশ বছর স্থায়ী ছিলো।
- ১৫৩৮ সালে হুসেন শাহী বংশের শেষ শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহকে (১৫৩৩-১৫৩৮ খ্রি.) পরাজিত করে শের শাহ শূর বাংলায় আফগানি শাসনের সূচনা করেন।
- শের শাহ কর্তৃক আফগান শাসন প্রতিষ্ঠার ফলে বাংলার দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
বাংলায় স্বাধীন নবাবী আমল-
  1. ক) ১৭০৭-১৭৫৭ সাল
  2. খ) ১৭১৭-১৭৬৭ সাল
  3. গ) ১৭১৯-১৭৬০ সাল
  4. ঘ) ১৭২১-১৭৫৪ সাল
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭০৭-১৭৫৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭০৭-১৭৫৭ সাল
ব্যাখ্যা
নবাবী আমল:

- বাংলায় স্বাধীন নবাবী আমল ১৭০৭-১৭৫৭ সাল।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় স্বাধীন নবাবী আমল।
- ১৭৬০ - ৬৩ সাল পর্যন্ত মীর কাসিম নবাব ছিলেন।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলা সহ অন্যান্য অঞ্চলে নবাবী শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
কত সালে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৭৫৩ সাল
  2. খ) ১৭৬৪ সাল
  3. গ) ১৭৭৫ সাল
  4. ঘ) ১৭৮৬ সাল
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৬৪ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৬৪ সাল
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:

- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। 
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৪.
কে সর্বপ্রথম স্বাধীন সুলতানী আমলের সূচনা করেছিলেন?
  1. ক) আলাউদ্দিন খলজি
  2. খ) মুহম্মদ ঘোরি
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  4. ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
সুলতানী শাসন:

- ১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগীয় ভারতে পাঁচটি রাজবংশ শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করে।
- এই পাঁচটি রাজবংশের অন্যতম হলো দিল্লির তথাকথিত দাস বংশ। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ খ্রি.) জয়লাভকারী মুইজউদ্দিন মুহম্মদ বিন সাম ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র, তৎকালীন ঘুর রাজ্যের শাসনকর্তা এবং উত্তরাধিকারী গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ তরাইনের যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং মুহাম্মদ ঘোরির আস্থাভাজন কুতুবউদ্দিন আইবেককে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে সনদ ও 'সুলতান' উপাধি প্রদান করেন। - ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের নেতৃত্বে ভারতে স্বাধীন সুলতানদের শাসনের সূচনা হয়।
- কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে তথাকথিত ‘দাস বংশ' নামে সমধিক পরিচিত।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।