ব্যাখ্যা
প্রশ্ন:
সমাধান:
৪৯তম বিসিএস ⎯ সমাজবিজ্ঞান [৩৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১০১ প্রশ্ন
প্রশ্ন:
সমাধান:
প্রশ্ন: প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?
সমাধান:
(২য় কলাম × ৩য় কলাম) - ১ম কলাম = ৪র্থ কলাম
(6 × 10) - 2 = 60 - 2 = 58
(7 × 11) - 3 = 77 - 3 = 74
(8 × 12) - 4 = 96 - 4 = 92
সুতরাং, প্রশ্নবোধক স্থানে 92 সংখ্যাটি বসবে।
ব্যাখ্যা: সিনথেটিক স্কুল সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু নির্ধারণে ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ইত্যাদি বিভিন্ন শাস্ত্রকে সংযুক্ত করার পক্ষপাতী।
সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞানকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত ও ব্যাপক তত্ত্ব তৈরি করা”
বিভিন্ন সমাজতাত্ত্বিক ধারা ও তত্ত্বকে মিলিয়ে দেখা
যেমন: ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনৈতিক বিজ্ঞান ও নৃতত্ত্বের ধারণাগুলোকে সংযুক্ত করা।
সমাজের জটিলতা বোঝা
সমাজকে বিভিন্ন উপাদান (পরিবার, ধর্ম, অর্থনীতি, রাজনীতি) সমন্বয়ে বিশ্লেষণ করা।
তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা
ব্যাখ্যা: সমাজবিজ্ঞান Auguste Comte-এর মতে "positive science" — যা বাস্তব ও পর্যবেক্ষণযোগ্য উপাদানের ওপর ভিত্তি করে।
বৈজ্ঞানিক দিক (Scientific Aspect):
সমাজবিজ্ঞান পদ্ধতিগতভাবে তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও সাধারণীকরণ করে।
সমাজে সংঘটিত ঘটনা, আচরণ, সম্পর্ক ও পরিবর্তনের নিয়ম খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।
মানবিক/মানবিকতাবাদী দিক (Humanistic Aspect):
সমাজবিজ্ঞান শুধুমাত্র সংখ্যাত্মক তথ্য বা তত্ত্বের উপর নির্ভর করে না।
মানুষের অনুভূতি, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে বোঝার চেষ্টা করে।
সারসংক্ষেপ:
সমাজবিজ্ঞান “সমাজবিজ্ঞানের বিশ্লেষণাত্মক ও মানবিক অধ্যয়ন”, যা মানুষের আচরণ ও সামাজিক কাঠামোকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বোঝে।
ব্যাখ্যা: Comte সমাজকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করতে চাইতেন, অনুমান বা অনুমানভিত্তিক ধারণার ওপর নয়।
সমাজবিজ্ঞানকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেওয়া
Comte চেয়েছিলেন সমাজবিজ্ঞানকে প্রকৃতপক্ষে একটি বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।
অর্থাৎ সমাজকে নিয়ম ও সূত্রের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা যায়।
পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ
মানুষ ও সমাজের আচরণ, পরিবর্তন, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিকে সাধারণ নিয়ম অনুসারে বোঝা ও ব্যাখ্যা করা।
Spekulative বা metaphysical ব্যাখ্যার পরিবর্তে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি
আগের সময়ের ধর্মীয় বা দার্শনিক ব্যাখ্যার চেয়ে বাস্তব, পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্যের উপর ভিত্তি স্থাপন করা।
n: Sociology সমাজের প্যাটার্ন ও সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে, যেখানে Psychology ব্যক্তির মানসিক প্রক্রিয়া ও আচরণ বিশ্লেষণ করে।
Explanation: Community মূলত নিবিড় সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল। অন্যান্য বিকল্পগুলো Society বা রাষ্ট্রের দিকের।
স্থান (Territory/Place):
একটি কমিউনিটি সাধারণত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস করে।
যেমন: গ্রাম, শহর, মহল্লা।
সামাজিক সংযোগ (Social Interaction):
সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক থাকে।
বন্ধুত্ব, পারিবারিক, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয় সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত।
সাধারণ সংস্কৃতি (Shared Culture):
ভাষা, ধর্ম, রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সদস্যদের মধ্যে সাধারণভাবে মান্য হয়।
পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা (Interdependence):
সদস্যরা একে অপরের সাথে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে নির্ভরশীল।
Explanation: Association গ্রুপে সম্পর্কের নিবিড়তা প্রয়োজনীয় নয়; এটি goal-oriented এবং structured।
ssociation গ্রুপের গঠন প্রক্রিয়া:
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ (Identification of Purpose):
গ্রুপের গঠন শুরু হয় একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নির্ধারণের মাধ্যমে।
উদাহরণ: শিক্ষা, ব্যবসা, ধর্ম, রাজনৈতিক বা সামাজিক কার্যক্রম।
সদস্য সংগ্রহ (Recruitment of Members):
লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সদস্য নির্বাচন বা অন্তর্ভুক্তি।
সাধারণত স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ থাকা ব্যক্তি গ্রুপে যোগ দেয়।
সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি (Organizational Structure):
নেতা, সম্পাদক, কমিটি ইত্যাদির মাধ্যমে সুসংগঠিত ব্যবস্থা স্থাপন।
দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করা হয়।
Explanation: Cultural diffusion হলো এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে সাংস্কৃতিক উপাদান ছড়িয়ে পড়া।
Cultural Diffusion (সংস্কৃতির বিস্তার/প্রসারণ) হলো একটি সামাজিক ও নৃতত্ত্বগত ধারণা, যা বোঝায় কিভাবে এক সমাজের সংস্কৃতি, ধারা, বিশ্বাস, প্রযুক্তি বা মূল্যবোধ অন্য সমাজে ছড়ায়।
সংস্কৃতির উপাদান যেমন ধর্ম, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, প্রযুক্তি, শিল্পকলার ধারা ইত্যাদি এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে স্থানান্তরিত হওয়া।
Explanation: Civilization মূলত সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দিকে জোর দেয়।
১. শহরকেন্দ্রিকতা (Urbanization):
সভ্য সমাজ সাধারণত নগরভিত্তিক হয় যেখানে শাসনব্যবস্থা, বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির কেন্দ্র গড়ে উঠে।
২. লিখন পদ্ধতি ও ভাষার ব্যবহার:
সভ্য সমাজে লেখার প্রচলন থাকে। এটি ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রশাসন এবং জ্ঞান চর্চার জন্য অপরিহার্য।
৩. প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থা:
সভ্যতায় একটি সংগঠিত শাসনব্যবস্থা থাকে – রাজা, আইন, আদালত, সেনাবাহিনী ইত্যাদি।
Explanation: ব্যক্তিগত পছন্দ Social Structure-এর উপাদান নয়; এটি সামাজিক কাঠামোর দ্বারা প্রভাবিত হয়।
Social Structure এর প্রধান উপাদানসমূহ:
১. Institution (প্রতিষ্ঠান):
সমাজের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য গঠিত স্থায়ী ও সংগঠিত সামাজিক ব্যবস্থা।
উদাহরণ: পরিবার, ধর্ম, শিক্ষা, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ইত্যাদি।
২. Status (সমাজিক মর্যাদা বা অবস্থান):
একজন ব্যক্তি সমাজে যে অবস্থানে থাকে তা হলো তার স্ট্যাটাস।
দুই ধরনের:
Ascribed Status (জন্মসূত্রে পাওয়া) – যেমন লিঙ্গ, জাত, ধর্ম।
Achieved Status (অর্জিত মর্যাদা) – যেমন শিক্ষক, ডাক্তার, নেতা।
৩. Role (ভূমিকা):
স্ট্যাটাস অনুযায়ী প্রত্যাশিত আচরণ।
যেমন: একজন শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করা, একজন চিকিৎসক রোগী দেখা।
Explanation: William F. Ogburn নতুন প্রযুক্তি বা material culture এবং সামাজিক নীতি/মূল্যবোধের মধ্যে lag বা delay ব্যাখ্যা করেছেন।
Cultural Lag (সাংস্কৃতিক বিলম্ব) — একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাজবিজ্ঞানী ধারণা, যা প্রথম প্রবর্তন করেন William Fielding Ogburn ১৯২২ সালে তার বই "Social Change with Respect to Culture and Original Nature"–এ।
Cultural Lag এর সংজ্ঞা:
"Cultural Lag" বলতে বোঝায়, সমাজে বস্তুগত (material) সংস্কৃতির তুলনায় অবস্তুগত (non-material) সংস্কৃতির পরিবর্তন ধীরগতিতে ঘটে। এর ফলে সমাজে সাময়িকভাবে একটি অসামঞ্জস্য বা 'বিলম্ব' দেখা দেয়।
Explanation: Public Property সমাজ বা রাষ্ট্রের, ব্যবহার নিয়মিত এবং everyone-কে সীমিতভাবে উন্মুক্ত।
Public Property যেমন — রাস্তা, পার্ক, নদী, সরকারি হাসপাতাল, ইত্যাদি — এগুলো সকল নাগরিকের জন্য, কিন্তু:
কেউ এককভাবে দখল করতে পারে না
ইচ্ছামতো ব্যবহার, পরিবর্তন, বা নষ্ট করার অধিকার নেই
নিয়মের মধ্যে থেকে ব্যবহার করতে হয়
ব্যবহার সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত, কিন্তু দায়িত্বশীলতা জরুরি
এই দিকগুলোকে বোঝায় subtle বৈশিষ্ট্য — কারণ এগুলো খুব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে না, তবে বাস্তবে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
Explanation: Morgan family evolution-এর ধাপ: Consanguine (blood-based) → Matrilineal/Matrifocal → Patriarchal → Nuclear family।
১. Promiscuous Family (যৌন বিশৃঙ্খল পরিবার)
➡️ কোনও নিয়ন্ত্রিত বৈবাহিক সম্পর্ক নেই; যৌন সম্পর্ক এলোমেলোভাবে বিদ্যমান।
➡️ পরিবার বলতে কিছু ছিল না, বংশ বা পিতৃত্ব নির্ধারণও সম্ভব ছিল না।
২. Consanguine Family (রক্ত সম্পর্কভিত্তিক পরিবার)
➡️ ভাইবোনদের মধ্যে বিবাহ অনুমোদিত ছিল।
➡️ একটি গোত্র বা কুলের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হতো।
➡️ রক্তসম্পর্কের সীমাবদ্ধতা তেমন ছিল না।
৩. Punaluan Family (পুনালুয়ান পরিবার)
➡️ ভাইবোনদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ হয়।
➡️ একগোষ্ঠীর পুরুষরা অন্য গোষ্ঠীর নারীদের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করতে পারত।
➡️ মাতৃত্বের ভিত্তিতে বংশ নির্ধারিত হতো (matrilineal)।
৪. Syndyasmian or Pairing Family (জোড়ায় জোড়ায় সম্পর্ক বা যুগল পরিবার)
➡️ এক পুরুষ ও এক নারীর মধ্যে স্বল্পকালীন যুগল সম্পর্ক তৈরি হয়।
➡️ সহবাসের সময়কাল কিছুটা দীর্ঘ হলেও একনিষ্ঠ ছিল না।
➡️ সন্তানদের স্বীকৃতি দিতে শুরু হয়।
৫. Patriarchal Family (পিতৃতান্ত্রিক পরিবার)
➡️ পরিবারে পুরুষের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
➡️ একাধিক স্ত্রী নিয়ে এক পুরুষের পরিবার গঠিত হতো (polygyny)।
➡️ সম্পত্তি ও বংশ পিতার মাধ্যমে নির্ধারিত হতো।
৬. Monogamous Family (একবিবাহভিত্তিক পরিবার)
➡️ এক পুরুষ ও এক নারীর স্থায়ী বৈবাহিক সম্পর্ক।
➡️ এটি আধুনিক পরিবারের রূপ।
➡️ পরিবারের ভিতর পিতৃত্ব, উত্তরাধিকার, সামাজিক নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা পায়।
? Subtle Chronological Order (সূক্ষ্ম ক্রম) এক নজরে:
Promiscuous → Consanguine → Punaluan → Syndyasmian → Patriarchal → Monogamous
Explanation: Marx অনুযায়ী রাষ্ট্র হলো ruling class-এর instrument।
রাষ্ট্র শ্রেণি শোষণের একটি উপকরণ হিসেবে কাজ করে।
(The state functions as an instrument of class oppression.)
Marx-এর রাষ্ট্রতত্ত্বের মূল ধারণা:
কার্ল মার্কস (Karl Marx) রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ বা জনগণের নয়, বরং শাসক শ্রেণির নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র হিসেবে দেখেছেন।
রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে তখন, যখন সমাজ শ্রেণিভিত্তিক হয়ে পড়ে — এবং এটি মূলত বুর্জোয়া শ্রেণির (ধনী, মালিক শ্রেণি) আধিপত্য টিকিয়ে রাখার মাধ্যম।
Explanation: Aristotle-politics focuses on virtue and citizen development।Aristotle-এর রাষ্ট্রতত্ত্বের মূল ধারণা:
অ্যারিস্টটল (Aristotle) রাষ্ট্রকে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান মনে করেননি।বরং তিনি রাষ্ট্রকে একটি নৈতিক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখেছেন, যার লক্ষ্য হলো:
➤ মানব জীবনের উৎকর্ষ সাধন
➤ নৈতিকতা, সুবিচার ও গুণাবলি চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করা
➤ নাগরিকদের মধ্যে পূর্ণ বিকাশের সুযোগ দেওয়া
Explanation: Pastoral societies kinship & clan system-এর মাধ্যমে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
পশুপালন সমাজে মানুষ প্রধানত গবাদি পশু নির্ভর জীবিকা পরিচালনা করত, ফলে:
বসবাস ছিল ভ্রাম্যমাণ (nomadic) বা আধা-ভ্রাম্যমাণ।
সামাজিক কাঠামো ছিল গোষ্ঠী বা রক্তসম্পর্কের ভিত্তিতে গঠিত (kinship-based)।
কেন্দ্রীয় শাসন বা আইনকানুনের আনুষ্ঠানিকতা খুব কম ছিল।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিবাদ নিষ্পত্তি ইত্যাদি হতো গোষ্ঠীপ্রধান বা প্রবীণদের মাধ্যমে।
এখানে subtle বৈশিষ্ট্য হলো— একদিকে ব্যক্তিদের চলাচলে স্বাধীনতা ও সামাজিক গতিশীলতা ছিল, অন্যদিকে সমাজ কাঠামো ছিল গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল এবং অনানুষ্ঠানিক।
Hegel-এর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী:
জার্মান দার্শনিক Georg Wilhelm Friedrich Hegel মনে করতেন, মালিকানা কেবল বস্তুগত অধিকার নয়, এটি একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীন সত্তার প্রকাশ।
ব্যক্তি যখন কোনো কিছু নিজের বলে ঘোষণা করে বা ব্যবহার করে, তখন সে নিজের অভ্যন্তরীণ চিন্তা, স্বাধীনতা ও আত্মসত্তাকে বহিঃপ্রকাশ করে।
মালিকানা (Property/Ownership) কেবল কোনো বস্তু বা সম্পদের উপর আইনগত অধিকার নয়।
এটি সামাজিক প্রক্রিয়া ও সম্পর্কের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।মালিকানা ধারণায় অন্তর্ভুক্ত থাকে:
নিয়ন্ত্রণ (Control) – সম্পদ ব্যবহারের ক্ষমতা
সামাজিক স্বীকৃতি (Social Recognition) – সমাজ মালিকানা স্বীকার করে
দায়িত্ব ও কর্তব্য (Duties & Obligations) – সমাজ বা অন্যদের প্রতি দায়বদ্ধতা
ব্যাখ্যা: ওয়েবার ব্যাখ্যা করেছেন যে প্রোটেস্ট্যান্টদের কাজের নৈতিকতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ মূলত ক্যাপিটালিস্ট মেন্টালিটি গঠনে ভূমিকা রেখেছে।
Protestant Ethic (প্রোটেস্ট্যান্ট নৈতিকতা):কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সঞ্চয় এবং পেশাগত দায়বদ্ধতা।Calvinist belief অনুযায়ী, ব্যক্তির “election” বা নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে সাফল্য ও পরিশ্রমের প্রতি গুরুত্ব।পৃথিবীতে ধনী হওয়াকে অপরাধ নয়, বরং ঈশ্বরের অনুগ্রহের চিহ্ন মনে করা হতো।Spirit of Capitalism (পুঁজিবাদী মনোভাব):অর্থ উপার্জন ও সঞ্চয় কেবল ব্যক্তিগত সুখের জন্য নয়, বরং কার্যকর ও নিয়মিত ব্যবসা ও উৎপাদন বৃদ্ধি করার মনোভাব।ব্যবসার প্রতি দায়িত্ব, নিয়মিত আয়, লাভের পুনঃবিনিয়োগ ইত্যাদি পুঁজিবাদী মানসিকতার অংশ।
ব্যাখ্যা: অতিরিক্ত উৎপাদন মূলত ক্যাপিটালিস্ট ব্যবস্থার সমস্যা। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিকল্পনার মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
সমাজতন্ত্রে অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো সাম্য ও সমবণ্টন। এজন্য:প্রধান শিল্প ও উৎপাদন উপকরণ (যেমন: জমি, খনি, কারখানা) ব্যক্তিগত মালিকের নয়, বরং সমষ্টি বা রাষ্ট্রের অধীনে থাকে।ব্যক্তির লাভের লক্ষ্য কমে আসে, বরং সামষ্টিক কল্যাণ ও জনগণের প্রয়োজন পূরণ মুখ্য।মূল উদ্দেশ্য: অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, সমবণ্টন নিশ্চিত করা।
PPP হলো মিশ্র অর্থনীতির বাস্তব প্রয়োগ যেখানে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র একত্রে কাজ করে।
PPP হল এমন একটি ব্যবস্থাপনা, যেখানে সরকার এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।
Public Sector (সরকার): নীতিগত, অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রক ভূমিকা পালন করে।
Private Sector (বেসরকারি প্রতিষ্ঠান): দক্ষতা, প্রযুক্তি, পুঁজি ও কার্যকারিতা প্রদান করে।
লক্ষ্য: সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন — সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রকল্প।
ব্যাখ্যা: শিকারী-সংগ্রাহক সমাজে ব্যক্তিগত মালিকানা মূলত অস্ত্র, যন্ত্রপাতি ও খাদ্য নিয়ে সীমিত ছিল।
প্রাচীন সমাজ সাধারণত শিকারি, চাষাবাদী বা পশুপালনভিত্তিক ছিল।
জমি, গবাদি পশু বা অন্যান্য সম্পদ গোষ্ঠী বা পরিবারভিত্তিকভাবে ব্যবহার হতো।
স্বাধীন ব্যক্তিগত অধিকার সীমিত:সম্পদ বা বস্তু মূলত গোষ্ঠী বা গোত্রের মালিকানাধীন ছিল।
ব্যক্তি শুধুমাত্র গোষ্ঠীর স্বীকৃত অংশ ব্যবহার করতে পারত, এককভাবে দখল বা বিক্রি করতে পারত না।
শৃঙ্খলা ও আইন ছিল সীমিত:রাষ্ট্র বা আইন-শৃঙ্খলা প্রায়শই প্রাথমিক ছিল।
তাই ব্যক্তিগত মালিকানার আইনি সুরক্ষা বা স্বীকৃতি কম ছিল।
সামাজ ও জীবনধারার উপর প্রভাব:
ব্যাখ্যা: ম্যাকিয়াভেলি রাজনৈতিক বাস্তববাদ ও কূটনীতির প্রবক্তা, তিনি চুক্তিভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রবক্তা নন। রাষ্ট্রকে একদম শক্তিশালী কর্তৃত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
রাষ্ট্রের উৎপত্তি নিয়ে সামাজিক চুক্তি (Social Contract) মতবাদের প্রবক্তা Thomas Hobbes, John Locke, Jean-Jacques Rousseau
Thomas Hobbes-মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় “নরকে বিপজ্জনক” (State of Nature = War of All Against All)। শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সবাই রাষ্ট্রের অধীনে আসবে।-
John Locke- মানুষ স্বাভাবিকভাবে স্বাধীন, অধিকারশীল। রাষ্ট্র গঠনের মূল লক্ষ্য হলো জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি রক্ষা।
Jean-Jacques Rousseau- মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় নির্দোষ ও স্বাধীন। রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সামষ্টিক স্বার্থ ও সাধারণ ইচ্ছা (General Will) প্রতিষ্ঠিত হয়।
ব্যাখ্যা: এটি legal-rational legitimacy এর অংশ, traditional নয়।
Traditional Authority (প্রথাগত ক্ষমতা)-ক্ষমতা আসে ঐতিহ্য ও সামাজিক রীতির ভিত্তিতে।
সমাজের মানুষ শাসককে সদাচার ও প্রথার কারণে স্বীকৃতি দেয়।
নতুন আইন বা যুক্তি নয়, বরং ঐতিহ্য ও কুসংস্কারের গ্রহণযোগ্যতা।
Charismatic Authority (কারিশ্ম্যাটিক ক্ষমতা)-নেতা বা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, সাহসিকতা ও প্রভাবের কারণে স্বীকৃত।
Legal-Rational Authority (আইনগত-যুক্তিসঙ্গত ক্ষমতা)-ক্ষমতা আইন ও সংবিধান দ্বারা বৈধ।
: Marx-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী সমাজ যখন শ্রেণিমুক্ত হবে, রাষ্ট্র ধীরে ধীরে বিলীন হবে।
বর্তমান রাষ্ট্র
পুঁজিবাদী সমাজে রাষ্ট্র মূলত শোষক শ্রেণির হাতিয়ার।
এটি শ্রমিক বা গরীব জনগণের স্বার্থে নয়, বরং বুর্জোয়ার স্বার্থ রক্ষা করে।
ভবিষ্যতের রাষ্ট্র-প্রোলেতারিয়েত বিপ্লব (Proletarian Revolution) ঘটার পর রাষ্ট্র হবে শ্রমিক শ্রেণির নিয়ন্ত্রিত।
শ্রেণিভিত্তিক শোষণ বন্ধ হলে, রাষ্ট্রের প্রয়োজন অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে।
Marx-এর মতে:“The state is not abolished; it withers away.”
(রাষ্ট্র ধ্বংস হয় না, বরং বিলুপ্ত হয়ে যায়।)
উদ্দেশ্য:সমাজে শ্রেণিহীন অবস্থা ও সমবণ্টন নিশ্চিত করা।
Explanation: সামাজিক স্তরবিন্যাসে ব্যক্তিগত বৈচিত্র্য নয়, বরং সামাজিক গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে ধ্রুবক বৈষম্য লক্ষ্য করা হয়।
সদৃঢ় ও স্থায়ী (Structured & Stable): সমাজে লোকদের অবস্থান একটি নির্দিষ্ট নিয়মে নির্ধারিত।
সামাজিক স্তরবিন্যাস সহজে পরিবর্তন হয় না।
উপাধি বা মর্যাদাভিত্তিক (Hierarchical): উচ্চ ও নিম্ন স্তর অনুযায়ী সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত।
প্রতিটি স্তরের অধিবাসীর ক্ষমতা ও সুযোগ ভিন্ন।
সমাজবদ্ধ ও সকলকে প্রভাবিত (Universal & Social): সমাজের সব মানুষ এই স্তরবিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত।
সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলে।
ব্যাখ্যা: দাসত্ব সাধারণত জন্মগত বা জেনারেল বংশানুক্রমিকভাবে নির্ধারিত হতো। আয় বা দক্ষতা প্রভাবিত করতো না।
জন্মভিত্তিক শ্রেণি (Ascribed Status): দাসত্ব সমাজে একজন ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা জন্মের সাথে নির্ধারিত।
দাসের সন্তানও স্বাভাবিকভাবেই দাস জন্মায়।
সম্পূর্ণ অধিকারহীনতা: দাসদের নিজস্ব সম্পত্তি, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা ভোটাধিকার ছিল না।
তারা গৃহস্থ, মালিক বা সমাজের অন্যান্য উচ্চশ্রেণীর মানুষের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হত।
ব্যাখ্যা: Nobility মূলত ভূমি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার মালিক ছিল। Clergy ধর্মীয় কর্তৃত্ব রাখত, শ্রমিক ব্যবস্থাপনা বা বাণিজ্য ছিল আংশিক।
Nobility (শাসক বা অভিজাত শ্রেণি)রাজনৈতিক ক্ষমতা: রাষ্ট্র বা অঞ্চল শাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন।
জমি মালিকানা: বড় জমির মালিক, যা থেকে কৃষক ও সাধারণ জনগণ কর/ভাড়া দেয়।
সামাজিক মর্যাদা ও বিশেষাধিকার:আদালতে বিশেষ ক্ষমতা
সেনা ও যুদ্ধে নেতৃত্ব
ঐতিহ্যগত সম্মান ও বিশেষ পোশাক বা প্রতীক
ঐতিহ্যবাহী ক্ষমতা: অধিকাংশ ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে এই শ্রেণিতে স্থান পাওয়া।
Clergy (ধর্মগুরু শ্রেণি)ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নিয়ন্ত্রণ।
Commoners / Peasants (সাধারণ জনগণ)কৃষক, শ্রমিক, নগর ব্যবসায়ী
Nobility-এর অধীনে কর প্রদান ও শোষণভোগ।
ব্যাখ্যা: নিম্নবর্ণকে সব দিকেই সীমাবদ্ধ করা হতো: বিবাহ, শিক্ষা, ধর্মীয় কাজ ও সামাজিক স্থান।
পেশা ও কাজের সীমাবদ্ধতা:নিম্নবর্ণের মানুষ নির্দিষ্ট কাজ/পেশা (যেমন: শ্রমজীবী, পরিষ্কারক, চামড়াজাত শিল্প) করতে বাধ্য।
উচ্চবর্ণের কাজ বা ব্যবসা করতে পারত না।
শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন:অনেক ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণের মানুষকে ধর্মীয় শিক্ষা বা পবিত্র গ্রন্থ পড়া নিষিদ্ধ।
সামাজিক সংযোগ ও বিবাহ:উচ্চবর্ণের সঙ্গে সামাজিক মেলামেশা বা বিবাহ করতে পারত না।
নিম্নবর্ণের মানুষকে আলাদা বসবাস বা জল, ভোজন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের মধ্যে রাখা হতো।
ধর্মীয় আচরণ ও পূজা:মন্দিরে প্রবেশ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ প্রায়শই সীমিত।
উচ্চবর্ণের দ্বারা রীতিমতো ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে গণ্য করা হতো।
ব্যাখ্যা: Louis Dumont caste system-কে মূলত occupational hierarchy হিসেবে দেখেছেন, অর্থাৎ ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে পেশার সম্পর্ক।
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: Marx class কে উৎপাদন সম্পর্কের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন: Bourgeoisie ও Proletariat।
Karl Marx সমাজকে শ্রেণিভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, Class কেবল সামাজিক মর্যাদা নয়, বরং অর্থনৈতিক ভিত্তিতে নির্ধারিত।মৌলিক ধারণা: মানুষ যখন উৎপাদন কার্যক্রমে অংশ নেয়, তখন সে উৎপাদন উপকরণের মালিক না মালিক হিসেবে শ্রেণিতে বিভক্ত হয়।
ব্যাখ্যা: ফাংশনালিস্টরা মনে করেন, প্রতিটি ব্যক্তি তার দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সামাজিক স্তরে অবস্থান করে।
অন্য অপশনগুলো মূলত Conflict বা Deterministic view নির্দেশ করে।
Explanation: Dahredrof মনে করেন সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন রাষ্ট্র ও আইন) নিম্নবর্গকে দমন করে রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত রাখে।
Explanation: Lenski বলেন, সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যে প্রযুক্তি মূল চালিকা শক্তি এবং এটি বৈষম্য বাড়ায়।
Gerhard Lenski-এর Sociocultural Evolution তত্ত্ব অনুযায়ী:
প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা:সমাজের প্রযুক্তিগত স্তর (টুলস, প্রযুক্তি, উৎপাদন ব্যবস্থা) সামাজিক পরিবর্তনের মূল চালক।
প্রযুক্তি উন্নত হলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, নতুন ধরণের শ্রম ও দক্ষতা প্রয়োজন হয়।
সম্পদ ও শ্রেণি:নতুন উৎপাদনশীলতা সম্পদ বণ্টনকে প্রভাবিত করে।
অধিক সম্পদ বা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার কাছে তা নির্ধারণ করে নতুন শ্রেণি বৈষম্য।
Explanation: গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পূর্ণ হয়।
Kingsley Davis (Functionalist perspective) ও Wilbert Moore-এর Functional Theory of Social Stratification অনুযায়ী:
সামাজিক অবস্থান ও ফাংশন:সমাজে কিছু অবস্থান অন্যদের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন: ডাক্তার, বিচারক, রাষ্ট্রপতি।
মূল ধারণা:গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা অবস্থান কঠিন ও দক্ষতার প্রয়োজন, তাই তা সহজে পূর্ণ করা যায় না।
সমাজ সেই অবস্থানগুলো উচ্চ বেতন, মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা প্রদান করে।
Explanation: Vertical mobility হল সামাজিক স্তর উপরে বা নিচে যাওয়া।
সামাজিক গতিশীলতার ধরন:Vertical Mobility হলো উর্ধ্বগতি (upward) বা অবনতি (downward)।
উদাহরণ: একজন শ্রমিক becoming a manager → upward vertical mobility
একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চাকরি হারালে → downward vertical mobility
Merton বলেন, সমাজের প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত সক্ষমতার মধ্যে ফাঁক অপরাধের কারণ।
মূল ধারণা:প্রতিটি সমাজ কিছু সংস্কৃতিগত লক্ষ্য (cultural goals) নির্ধারণ করে।
উদাহরণ: ধনী হওয়া, সামাজিক মর্যাদা অর্জন।
কিন্তু সমাজের সবাই আইনসম্মত বা বৈধ উপায়ে (legitimate means) সেই লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম নয়।
Strain বা চাপ:যাদের বৈধ উপায়ে লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ নেই, তারা চাপের মুখোমুখি হয়।
এই চাপ থেকেই অপরাধ বা ডিভিয়েন্স (deviance) উদ্ভব হয়।
Explanation: Behavioral psychologists মনে করেন, অপরাধ শেখা যায় সামাজিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।Learning Approach হলো এমন মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, যা ডিভিয়েন্ট বা অপরাধী আচরণকে শেখা বা অভ্যাস হিসেবে দেখে।
মূল ধারণা:মানুষ পরিবেশ, সামাজিক সংযোগ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আচরণ শেখে।
অপরাধী বা ডিভিয়েন্ট আচরণও শেখা যায়, জন্মগত নয়।
Explanation: Deviance সামাজিক সীমা নির্ধারণ এবং সামাজিক একতা বাড়াতে সাহায্য করে।
Deviance সমাজে সামাজিক নিয়ম ও মূল্যবোধকে স্থির ও শক্তিশালী করে এবং সামাজিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:Emile Durkheim-এর Functionalist Theory অনুযায়ী:Norms ও Boundaries প্রতিষ্ঠা:Deviance সমাজকে দেখায় কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি গ্রহণযোগ্য নয়।
উদাহরণ: অপরাধীদের শাস্তি → অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা।
সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি:deviance-র বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিক্রিয়া মানুষের মধ্যে সামাজিক সংহতি বাড়ায়।
Explanation: Formal control সরকার বা আইন দ্বারা এবং Informal সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব দ্বারা
Explanation: TFR এক মহিলার জীবনকালে জন্মানো সন্তানদের গড় সংখ্যা নির্ধারণ করে। CFR এবং GFR population-level পরিমাপ, কিন্তু গড় সন্তানসংখ্যা দেয় না।
Total Fertility Rate (TFR) -এটি একটি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সূচক যা একজন মহিলার জীবদ্দশায় জন্ম দেয়া সন্তানের গড় সংখ্যা নির্দেশ করে।হিসাব করা হয় প্রতিটি প্রজননযোগ্য বয়সে (১৫–৪৯ বছর) মহিলাদের জন্ম হার ব্যবহার করে।
ব্যবহার:জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধরণ বোঝার জন্য।
পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যনীতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য।
Explanation: ASFR নির্দিষ্ট বয়সের মহিলাদের fertility পরিমাপ করে, যা কার্যকর উর্বরতা নির্ধারণে সহায়ক।ASFR হলো একটি নির্দিষ্ট বয়সের মহিলাদের প্রতি ১,০০০ জনের ওপর জন্মের হার।জনসংখ্যাতত্ত্বে ASFR ব্যবহার করা হয় প্রজননযোগ্য বয়সের মহিলাদের মধ্যে জন্মের বণ্টন নির্ণয় করতে।
সাধারণত ১৫–৪৯ বছরের মহিলাদের বয়সভিত্তিক গ্রুপে (যেমন 15–19, 20–24, …) গণনা করা হয়।
উদ্দেশ্য:কোন বয়সের মহিলারা বেশি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন তা বোঝার জন্য।
জনসংখ্যা নীতি, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হিসাবের সূত্র:
Explanation: ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশন তত্ত্বে population growth primarily মৃত্যু হারের হ্রাসের পরে জন্মহারের হ্রাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
Explanation: Overpopulation পরিবেশগত চাপ তৈরি করে কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন পরিবেশগত consequence নয়।
প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ
পানি, বন, খনিজ ও ভূমির অপচয় বৃদ্ধি।
দূষণ বৃদ্ধি
বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ; গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন বৃদ্ধি।
জৈববৈচিত্র্য হ্রাস
বন ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজাতি কমে যায়।
Population bonus বা demographic dividend তখন আসে যখন শ্রমক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত বেশি হয়।জনসংখ্যার বোনাস যুগ (Demographic Dividend / Population Bonus) বলতে বোঝায় এমন একটি সময়কাল যখন কোনো দেশের জনসংখ্যা গঠন এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেখানে কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠী (১৫–৬৪ বছর) সন্তানের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। অর্থাৎ, শিশুর সংখ্যা কমে আসে এবং যুব ও মধ্যবয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ।
Explanation: শ্রমক্ষম জনগোষ্ঠীর শহরে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়াতে সহায়ক।
ural-to-Urban Migration (গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন)
কী ঘটে: গ্রাম থেকে শহরে যুবক/কর্মক্ষম জনগণ চলে আসে।
প্রভাব:শহরে কর্মক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় → অর্থনৈতিক উৎপাদন ও বাণিজ্যে সহায়তা।
শহরের ওপর চাপ বাড়তে পারে → স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বেসরকারি সেবায় চাপ।
গ্রামে শ্রম শক্তি কমে যেতে পারে → কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সম্ভাবনা:যদি শহরে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো থাকে, তাহলে বোনাস যুগের সুফল কাজে লাগতে পারে।
Explanation: মালথাস বলেছিলেন যে জনসংখ্যা জ্যামিতিক ধারে (২, ৪, ৮, ১৬…) বৃদ্ধি পায়, যেখানে খাদ্যের যোগান শুধুমাত্র রৈখিক (Arithmetic) বৃদ্ধি পায়। অন্যান্য অপশনগুলো বিভ্রান্তিকর কারণ তারা খাদ্যের বৃদ্ধি বা সাধারণ বৃদ্ধি হিসেবে ভুলভাবে দেখানো হয়েছে।
Explanation: প্রাথমিক তত্ত্ব অনুযায়ী, পজিটিভ চেকই সবচেয়ে কার্যকর। Preventive check ভবিষ্যতে উল্লেখিত হলেও মালথাস প্রাথমিকভাবে প্রকৃতিক চেক গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিস্তারিত: চতুর্থ পর্যায়ে জনসংখ্যা স্থিতিশীল হয় কারণ জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই নিম্ন।
জনসংখ্যার পরিবর্তনের Demographic Transition Theory (DTT) অনুযায়ী, চতুর্থ পর্যায় (Stage 4) হলো “Post-Industrial Stage” বা “Post-Transition Stage”। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
Stage 4 এর প্রধান বৈশিষ্ট্য:উচ্চ জন্মহার ও উচ্চ মৃত্যু হার নেই, উভয়ই নিম্নস্তরে থাকে (Low Birth Rate & Low Death Rate)অর্থাৎ, জন্ম ও মৃত্যু প্রায় সমান → জনসংখ্যা স্থিতিশীল থাকে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খুব কম বা শূন্য (Population Stabilization)
দেশের জনসংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল হয়।
বিস্তারিত: Optimum Population তত্ত্বের মূল লক্ষ্য হলো এমন জনসংখ্যা যার জন্য উৎপাদন এবং সম্পদের ব্যবহার সর্বাধিক কার্যকর হয়। অন্যান্য বিকল্প বিভ্রান্তিকর কারণ তারা সম্পূর্ণ লক্ষ্য প্রকাশ করে না।
মূল লক্ষ্য:দেশের সম্পদ ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য রাখা।
জনসংখ্যা খুব বেশি বা খুব কম হলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তা এড়ানো।
Overpopulation → কর্মসংস্থান, খাদ্য, বাসস্থানের চাপ।
Underpopulation → সম্পদের অপর্যাপ্ত ব্যবহার, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কমে যাওয়া।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জীবনমানের উন্নতি নিশ্চিত করা।
Explanation: মারক্সের তত্ত্ব অনুযায়ী, সমাজ ইতিহাসের প্রগতির ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করে। অন্যান্য অপশন ক্রম পরিবর্তন করে বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে।Feudalism → Capitalism → Socialism → Communism
স্পেংলার-এর মতে, নগরায়ণ বা শহুরে সভ্যতার পর্যায় হল সেই সময় যখন সৃজনশীল শক্তি হ্রাস পায় এবং সভ্যতা ধীরে ধীরে তার মৌলিক শক্তি হারায়। অন্যান্য অপশনগুলো প্রাথমিক বা মধ্যবর্তী ধাপ নির্দেশ করে, যা “মৃত্যু” নয়।
.কালচার হল প্রাথমিক, সিভিলাইজেশন হল পরবর্তী ধাপ (Culture is the initial phase, Civilization is the later stage)
স্পেংলার দেখান যে কালচার হলো সৃজনশীল ও প্রাথমিক ধাপ, যখন সিভিলাইজেশন হলো ধীরে ধীরে জড় ও যান্ত্রিক ধাপ।
Explanation: প্যারেটো মতে, সমাজে ক্ষমতার মূল পরিবর্তন ঘটে অভিজাতদের আবির্ভাব ও বিদায়ের মাধ্যমে।
সমাজে সবসময়ই একটি ছোট অভিজাত শ্রেণি (Elite Class) শাসন করে।
সময়ের সাথে সাথে এই অভিজাতরা পুরনো হয়ে যায় বা ক্ষমতা হারায়, এবং নতুন অভিজাতরা ক্ষমতা লাভ করে।
এই প্রক্রিয়াকেই “Circulation of Elites” বলা হয়।
Sorokin-এর তত্ত্বে Ideational culture হলো যা আধ্যাত্মিক, ভাবগত ও দার্শনিক চিন্তাকে গুরুত্ব দেয়। Sensate culture মূলত জাগ্রত ইন্দ্রিয় ও ভৌতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে।পিটার সরোকিন-এর সামাজিক পরিবর্তন ও সংস্কৃতি তত্ত্ব অনুযায়ী, “Idealistic / Mixed / Integrated Culture” এবং “Sensate Culture” বা “Ideational Culture” এর মধ্যে পার্থক্য আছে।
Ideational Culture (ভাবগত / মননশীল সংস্কৃতি):
সত্য, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা, এবং আধ্যাত্মিক বা ভাবগত চিন্তাধারাকে প্রধান্য দেয়।
বস্তুগত সুবিধা বা ভৌত সুখের তুলনায় মনন ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ বেশি গুরুত্ব পায়।
Toynbee দেখিয়েছেন যে সভ্যতার উদ্ভব হয় যখন সমাজ কোনো চ্যালেঞ্জের সাথে সাফল্যের সাথে প্রতিক্রিয়া দেখায়। অন্য অপশনগুলো আংশিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু প্রধান কারণ নয়।
আর্নল্ড টয়নবির “Challenge and Response” তত্ত্ব অনুযায়ী, সভ্যতার উত্থানের প্রাথমিক কারণ হলো সমাজের প্রতি চ্যালেঞ্জ (Challenge) মোকাবেলার ক্ষমতা।সভ্যতা বিকাশের প্রক্রিয়াকে টয়নবি দেখেছেন “Challenge and Response” মডেলে।
সমাজের উত্থান তখনই ঘটে যখন জনগণ সৃজনশীলভাবে এবং সক্ষমতার সঙ্গে সমস্যার সমাধান (Response) করতে পারে।
উদাহরণ:প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ → বন্যা, খরা, ভূমিকম্প ইত্যাদি।
Explanation: Cicero সমাজে রাজনৈতিক ও নৈতিক ভারসাম্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। Plato বা Aristotle পরিবর্তনকে প্রাকৃতিক বা নৈতিক মূলের সাথে যুক্ত করেছেন।সিসেরো মনে করতেন রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো ন্যায় ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।
আইন ও ন্যায় সমাজের স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।
তিনি মৌলিক নৈতিকতা (Natural Law) ও সামাজিক দায়িত্বকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন।
কাঙ্ক্ষিত সামাজিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংযোজিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা
পরিকল্পিত সামাজিক পরিবর্তনের (Planned Social Change) মূল লক্ষ্য হলো সমাজকে একটি নির্দিষ্ট কাঙ্ক্ষিত অবস্থা বা উন্নত অবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়া, যেখানে মানুষের জীবনমান, সামাজিক কাঠামো ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।পরিকল্পিত সামাজিক পরিবর্তন মানে সমাজে সচেতনভাবে এবং সংবিধিবদ্ধভাবে পরিবর্তন আনা, যা সরকারের নীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।
বাংলাদেশের মানুষ মধ্যগোলাকার দেহ ও ধূসর-সোনালি ত্বকযুক্ত।বাঙালি মূলত ইন্দো-আর্য এবং অস্ট্রিক/দ্রাবিড়ীয় রেসের সংমিশ্রণ।
পূর্ব ভারত ও বঙ্গোপসাগরীয় উপত্যকার আদিবাসী জনগণ (Austroasiatic/Dravidian) এবং পরবর্তীতে আর্য জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ঘটেছে।শারীরিক বৈশিষ্ট্য:গায়ের রঙ: হালকা বা মধ্যম বাদামী।
চুল: সাধারণত কালো, সরল বা ঢেউখেলানো।
চোখ: বাদামী।উচ্চতা: মধ্যম মাত্রার, কোনো অতিরিক্ত উচ্চতা বা স্বল্প উচ্চতা নয়।
ব্যাখ্যা: পাহাড়ি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী মূলত চট্টগ্রাম পাহাড়ে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠী বলতে মূলত পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বোঝানো হয়, যারা চট্টগ্রাম পাহাড়, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি অঞ্চলে বসবাস করে।
জাতিগোষ্ঠী (Minor Mongoloid Groups)
প্রধান বসবাসের এলাকা
চাকমা (Chakma)রাঙ্গামাটি, বান্দরবান
মারমা (Marma)কক্সবাজার, বান্দরবান
ত্রিপুরা (Tripura)খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার
জাভা মানব (Java Man) হলো প্রাগৈতিহাসিক মানবের এক প্রজাতি, যা হোমো ইরেক্টাস (Homo erectus) এর অন্তর্ভুক্ত।জাভা দ্বীপ, বর্তমান ইন্দোনেশিয়া-তে পাওয়া গেছে।
প্রথম আবিষ্কার:আবিষ্কারক: ইন্দোনেশিয়ার হোলজার ও ডারউইনীয় গবেষক ইউজিন ডুবোয় (Eugene Dubois), ১৮৯১ সালে।
অবস্থান: Trinil, জাভা দ্বীপের کنار নদীর তীরে।
প্রত্নতত্ত্ব (Archaeology) হলো সেই শাস্ত্র বা বিজ্ঞান যা অতীতের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, সামাজিক সংগঠন ও ইতিহাসের নিদর্শনসমূহ খোঁজা, সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে।প্রত্নতত্ত্ব হলো মানব ইতিহাস ও সভ্যতার চিহ্নসমূহের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন, যা প্রাচীন বসতি, স্থাপত্য, পাথর, হাড়, ধাতব ও পাথরের সরঞ্জাম, মৃৎপাত্র ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে।
নগরপরিকল্পনা ও স্থাপত্য
শহরগুলো ছিল পরিকল্পিত, জালিকৃত সড়ক এবং ব্লক আকারে গঠন।
গৃহস্থালি ও জনসাধারণের স্থাপনা (সাধারণ বাড়ি, বাজার, বাথরুম, ঝিল) উন্নত প্রযুক্তিতে নির্মিত।
নর্দমা ব্যবস্থা ছিল খুবই উন্নত এবং শহরের আভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য
এছাড়াও ওজন পরিমাপক বাটখারাি এ সভ্যতারই আবিষ্কার।
বাংলা ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫২ সালের ফাল্গুন)-এ মূলত ছাত্র সমাজ ও সাধারণ জনগণ আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি ছিল। বিস্তারিতভাবে:চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রধান অংশগ্রহণকারীরা:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাপার্থক্যহীন নেতৃত্ব: সোহরাওয়ার্দী হল, রোকেয়া হলের ছাত্ররা প্রধানভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছিল।
স্মরণীয় ঘটনা: ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২-এ বধ্যভূমিতে নেমে শান্তিপূর্ণ র্যালি।
ছাত্র ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক সংগঠনঅল-ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্টস ফেডারেশন (APSF)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন → আন্দোলনের নীতি নির্ধারণ ও সমন্বয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে “৬ দফা” (Six-Point Program, ১৯৬৬)-কে “বাংলার ম্যাগনা কার্টা” বলা হয়।৬ দফা মূলত পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দাবি।
ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্রের সরকারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সীমিত ও স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।
তুলনার কারণ:ইংল্যান্ডের ম্যাগনা কার্টা (1215) রাজা ও জনগণের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করেছিল।
ঠিক একইভাবে, ৬ দফা দাবী পূর্ব পাকিস্তানকে (বাংলা) কেন্দ্রের অত্যাচার ও শোষণ থেকে রক্ষা করে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
নগরায়নের ফলে বসতি সমস্যা বাড়ে
অতিরিক্ত জনসংখ্যা চাপ:গ্রাম থেকে শহরে মানুষ ছুটে আসে চাকরি, শিক্ষা, চিকিৎসার আশায়।
এই প্রবাহের ফলে শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেড়ে যায়।
সাশ্রয়ী বসতির অভাব:নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য উপযুক্ত বাড়ি/ঘর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে চর, বস্তি, ঝুপড়ি, ফুটপাত — এসব হয়ে ওঠে আশ্রয়স্থল।
বেকার হলো ― যে ব্যক্তি কাজ করতে সক্ষম ও ইচ্ছুক, কিন্তু উপযুক্ত কাজ পাচ্ছে না।প্রচলিত বেতনে কাজ করছে ইচ্ছুক তবুও যোগ্য ও প্রাপ্ত বয়স্ক লোক কাজ পাচ্ছে না তাকে বেকার বলে।
W. H. R. Rivers বলেছেন:"Kinship is the social recognition of biological relationships."
অর্থাৎ,"রক্তসম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতি বা গ্রহণযোগ্যতা হল আত্মীয়তা।"
মানুষের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক বা বৈবাহিক সম্পর্ককে সমাজ যখন স্বীকৃতি দেয় এবং সামাজিক ভূমিকার অংশ বানায়, তখন সেটিকে Kinship (আত্মীয়তা) বলে।
নৃগোষ্ঠী (Ethnic group)-কে পরস্পর থেকে পৃথক করাশারীরিক বৈশিষ্ট্য (Racial Traits)
কিছু নৃগোষ্ঠীর মধ্যে মঙ্গোলয়েড বা দ্রাবিড়ীয় বৈশিষ্ট্য থাকে। যায় কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো সাধারণত সাংস্কৃতিক, ভাষাগত, ধর্মীয়, শারীরিক ও ঐতিহাসিক।
খাজা নাজিমউদ্দিন ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, ১৯৫১ সালে লিয়াকত আলি খানের মৃত্যুর পর।
আর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নূরুল আমিন (Nurul Amin)।
ব্যাখা: প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষে বা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার রাজবন বিহারে ‘কঠিন চীবর দান’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের মূল কাজ হলো গেরুয়া রঙয়ের বন্ত্র (চীবর) তৈরির করে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে দান করা।
প্রশম - চাকমা
2য় - মারমা
৩য়- সাঁওতাল
বাংলাদেশের মোট উপজাতির প্রায় 1% ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি
ব্যাখা : সাঁওতালী ভাষায় দেবতাদেরকে বোঙ্গা বলে। তারা যে কোন মঙ্গল –অমঙ্গলের জন্য সিং বোঙ্গাকে বিশ্বাস করে। তাদের মতে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা হল ঠাকুর জিংরা। আর জাগ্রত দেবতা হল মারাং বুরু।
ব্যাখা : গারোদের ভাষার স্থানীয় নাম মান্দি। এ ভাষা দুই ভাগে বিভক্ত। তা হলো- আচিক কুসিক ও মান্দি কুসিক। গারোদের ভাষা সিনো-টিবেটান ভাষা গোষ্ঠির যা টিবেটো-বার্মান উপপরিবারের পর্যায়ভূক্ত। গারোদের ভাষার কোন লিপি নেই। গারোদের 3 টি উপভাষা আছে তা হলো- আবেং, আত্তং ও মেগাম। বাংলাদেশের অধিকাংশ গারো আবেং ভাষায় কথা বলে।
ব্যাখা : চাকমা , মারমা ও গারো উভয়ই টিবেটি- বার্মানিক ভাষা থেকে উৎপত্তি। এরা সবাই নৃগোষ্ঠিগতভাবে মঙ্গোলয়েড। অপরপক্ষে সাঁওতালদের ভাষায় দুটি উপভাষা আছে তা হল- কারমেলি ও মাহলেস। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে সাঁওতাল ভাষা মুণ্ডারী ভাষার উপভাষা। বিজ্ঞানী হাডসনের মতে কোল ভাষার উপভাষা হচ্ছে সাঁওতালি ভাষা।
পাহারপুর বৌদ্ধ বিহার বৌদ্ধ ধর্মের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান তিব্বতবাসীর কাছে এটা ছিল তীর্থস্থান। তিব্বতি সাহিত্যে এ বিহারের বিখ্যাত পন্ডিত অতীশ দীপংকর ও রত্নাকর এর নাম উল্লেখ আছে।
মুনির ঘোন ছিল মূলত দূর্গপ্রাচীর। এটা শীলাদেবীর ঘাট সংলগ্ন। নদীপথের ওপর নজরদারী রাখার জন্য প্রহরীদের পাহাড়া দেওয়ার জন্য এটা নির্মাণ করা হয়েছিল। মহাস্থানগড় (Mahasthangarh) হলো বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শহর, যা বাংলার প্রাচীনতম নগর হিসেবে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের বগুড়া জেলায় অবস্থিত।
এটি বাংলাদেশের 2য় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। দেব বংশীয় প্রভাবশালী রাজা আনন্দদেব এটা নির্মাণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে ব্রিটিশ সৈন্যরা অবস্থান করেছিল।
ব্যাখা : ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থিত এবং তিনটি স্তুপ রয়েছে তা হল- বুদ্ধ (জ্ঞান), ধর্ম (ন্যায়), সংঘ (শৃঙ্খলার) প্রতিক। ্এ ছাড়াও
ময়নামতিতে দেব-দেবীর মূর্তি ছাড়াও কিছু মূর্তি পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অসি ও বর্ম হাতে সৈনিক, ব্যাঘ্র শিকারীর মূর্তি উল্লেখযোগ্য। এখানে প্রাপ্ত তাম্রশাসনে রাজার জমি দানের বিষয়টি লিপিবদ্ধ আছে, অর্থাৎ ভূমির মালিকানা বিদ্যমান ছিল। সোনা ও রুপার মিলে মোট 350 টির বেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এখানে মুদ্রা অর্থনীতি চালু ছিল।
প্রাক-ব্রিটিশ বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিল। ধান, গম, যব এবং অন্যান্য ফসলই জীবিকা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রধান উৎস ছিল।
অর্থনীতির প্রধান উপাদান ছিল কৃষিকাজ।ধান, গম, যব, তুলা, আখ, তিল, পাট ইত্যাদি ফসল উৎপাদিত হতো।
কৃষির উপরই নির্ভর করত গ্রামীণ জীবনের খাদ্য, পোশাক, বিনিময় ও রাজস্ব।
স্বনির্ভর গ্রাম ব্যবস্থা (Self-sufficient village economy)
গ্রামে প্রায় সব ধরনের পেশা ছিল — লৌহকার, কুমার, তাঁতি, তেলি, নাপিত, ইত্যাদি।
অর্থাৎ, প্রতিটি গ্রাম ছিল একটি ছোট "অর্থনৈতিক ইউনিট", যেখানে বাইরে থেকে খুব কম কিছু আনতে হতো।
এই ধরনের গ্রামে খাদ্য, হস্তশিল্প, বস্ত্র ও অন্যান্য দৈনন্দিন চাহিদা গ্রামে উৎপন্ন হতো। গ্রামের লোকেরা বাহ্যিক বাজারে খুব কম নির্ভর করত।স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম (Self-sufficient village) প্রাক-ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য ছিল। এই ধরণের গ্রামগুলো কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে চিহ্নিত হতো, যা গ্রামকে বাইরের সাহায্য ছাড়াই টিকে থাকার যোগ্য করে তুলত।
পরিবারের সদস্যরা সামাজিক নিয়ম ও আচরণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কূল বা গোত্রের মধ্য দিয়ে নৈতিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হত।এছাড়াও
পঞ্চায়েত (Village council):গ্রামের প্রধান (মোড়ল বা প্রভাবশালী ব্যক্তি) ও পঞ্চদের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার করা হতো।
সিদ্ধান্তগুলো গ্রামবাসীকে মেনে চলতে বাধ্য করা হতো।
সামাজিক নিয়ম ও প্রথা (Customs & Traditions):গ্রামে ঐতিহ্য, উৎসব, ধর্মীয় আচার সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করত।
যে ব্যক্তি নিয়ম ভাঙত, তাকে সমাজ অপমান, বর্জন বা জরিমানা দিতে পারত।
১৭৫৭ সালের প্লাসি যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতাকে প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল।ভারতে ব্রিটিশ শাসনের প্রথম স্থায়ী ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল কলকাতায় (Calcutta, বর্তমান কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)।১৭০০-এর দশকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাত।
১৭৫৭ সালের প্ল্যাসি যুদ্ধ (Battle of Plassey)-এর পর ব্রিটিশদের রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
প্রথম স্থায়ী শাসন:কলকাতায় কোম্পানির সদর দপ্তর তৈরি করা হয়।
১৭৬৫ সালে ডক্টরিন অফ লাইকস (Diwani rights) অনুযায়ী বাংলার রাজস্ব অধিকার ব্রিটিশদের হাতে আসে।
ব্রিটিশ পণ্য আমদানি এবং নীতি গ্রামীণ ও নগর উভয় বাজারে স্থানীয় শিল্পের স্থান কমিয়ে দেয়।ব্রিটিশ শাসনের ফলে ভারত ও বাংলার বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। মূলত এটি স্বাধীন স্থানীয় বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উপনিবেশিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা।স্থানীয় শিল্প ও বাণিজ্যের পতন বস্ত্রশিল্প, ধাতু কারিগরি ও হস্তশিল্পকে বিদেশি বস্ত্র ও জিনিসপত্রের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়নি → স্থানীয় শিল্প লুপ্তির পথে।
মূল লক্ষ্য ছিল জমিদারদের মাধ্যমে স্থায়ী কর সংগ্রহ নিশ্চিত করা।
রাজস্ব স্থায়ী করা (Revenue Fixation):ব্রিটিশরা কৃষিজমি থেকে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে চেয়েছিল।
জমিদারদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর ধার্য করা হলো, যা প্রতি বছর পরিবর্তন হতো না।
জমিদার শ্রেণীর স্থায়ী প্রতিষ্ঠা:ব্রিটিশদের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট জমিদারদের স্বার্থ নিশ্চিত করে রাজস্ব সংগ্রহকে সহজ করা।
ফলে জমিদাররা নিজেদের অধিকার ও জমির মালিকানা ধরে রাখতে পারবে।
কৃষকের উপর নিয়ন্ত্রণ:কৃষকের উপর জমিদারের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
কৃষককে রাজস্ব দিতে হবে, আর জমিদারই উপ-জমিদারদের নিয়ন্ত্রণ করতেন।
Presidency College, Calcutta (1817) ছিল ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিভ্রান্তিকর কারণ সেগুলো পরে স্থাপিত।ইংরেজি শিক্ষা ভারতের মধ্যে প্রথম চালু হয়েছিল — **কলকাতার (Calcutta) “হিন্দু কলেজ” (Hindu College) বা সমসাময়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।১৮২৯ খ্রিস্টাব্দ (প্রাথমিকভাবে হিন্দু কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, পরে প্রসিডেন্সি কলেজে উন্নীত)
হিন্দু কলেজ, কলকাতা
প্রতিষ্ঠিত: ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দ
প্রতিষ্ঠাতা: দেশীয় শিক্ষানুরাগী এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তারা।
শিল্পায়ন সীমিত ছিল এবং প্রধানত জুট ও তেল শিল্পে কেন্দ্রিত ছিল। পাকিস্তানি শাসনের সময় (১৯৪৭–১৯৭১) পূর্ববাংলার শিল্পায়ন ছিল মূলত “কৃষি-উদ্ভাবিত ও নিম্নস্তরের শিল্পায়ন”।
প্রধান শিল্প ছিল পাট, কটন, চামড়া, মিঠা ও তেলজাতীয় পণ্য।
কৃষি উপকরণ থেকে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি হতো।
শহুরে ও ভারী শিল্প সীমিত:ভারী শিল্প (যেমন: ইস্পাত, যান্ত্রিক কারখানা) ছিল অল্পসংখ্যক এবং সীমিত।
প্রধান শিল্পাঞ্চল: ঢাকা (বস্ত্র), চট্টগ্রাম (পোর্ট ও হালকা শিল্প)।
শিল্প বিনিয়োগ প্রধানত পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রিত ছিল, পূর্বে খুব সীমিত ছিল।পূর্ব বাংলায় পাকিস্তানি শাসনের সময় শিল্পে বিনিয়োগের ধরণ ছিল মূলত “কেন্দ্রিক ও সীমিত” (Centralized & Limited Investment)।
শিল্পায়নের মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ।
অর্থাৎ পূর্ববঙ্গকে কাঁচামাল উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে দেখা হতো, স্থানীয় শিল্প বা বাজারের উন্নয়নে নয়।
সীমিত শিল্পায়ন (Limited Industrialization):
ভারী শিল্প, যান্ত্রিক কারখানা বা উচ্চ প্রযুক্তির শিল্পায়ন খুব কম।
প্রধান শিল্প ছিল পাট, তুলা, হালকা বস্ত্র ও কৃষি ভিত্তিক।
লাহোর প্রস্তাব ২৩ মার্চ ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে গৃহীত হয়।প্রস্তাবের লক্ষ্য ছিল ভারতের মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবি।েউত্থাপন করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
গৃহীত স্থান:লাহোর শহর, পাকিস্তান (সেই সময়ে ব্রিটিশ ভারতের অংশ)।
গুরুত্ব:এই প্রস্তাব পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
মুসলিমদের জন্য স্বায়ত্তশাসন ও পৃথক রাষ্ট্রের আইনি/রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপ
: মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবি আগ্রহী ছিল, এবং কংগ্রেস অংশগ্রহণ করে ভারতীয় স্বাধীনতার জন্য।ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালে ভারতকে স্বাধীন করার সময় কংগ্রেসের নেতৃত্বকে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা প্রদান করে।
পাকিস্তান গঠনের ক্ষেত্রে মুসলিম লীগের নেতৃত্ব প্রধান ছিল।
Classificatory system-এ সম্পর্ককে একাধিক ব্যাক্তিকে একই শ্রেণিতে রাখা হয়, যেমন সব চাচাতো ভাই এক শ্রেণিতে।
শ্রেণিমূলক (Classificatory) Kinship হল আত্মীয়তার এমন একটি ধরণ যেখানে দূরবর্তী এবং কাছের আত্মীয়দের একই শ্রেণিতে রাখা হয়। এটি বিশেষত প্রাথমিক বা উপজাতীয় সমাজে দেখা যায়।
শ্রেণিমূলক Kinship-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য: দূরবর্তী ও কাছের আত্মীয় একত্রে গণ্য হয় যেমন: চাচা, মামা, খালু সবকে একই শ্রেণির “পিতৃ-সদৃশ” (Father’s brother) হিসেবে ধরা হয়।
: বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে নগরায়ন ও শহুরে জীবনধারার দ্রুত প্রসার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
বর্তমান বাংলাদেশে সামাজিক পরিবর্তনের যে বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় তা হলো – “দ্রুত নগরায়ন ও আধুনিকায়ন (Rapid Urbanization & Modernization)”।
নগরায়ন বৃদ্ধিগ্রাম থেকে শহরে মানুষদের অভ্যন্তরীণ অভিবাসন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে শহর সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসারডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, ইন্টারনেট, মোবাইল প্রযুক্তি।
উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।
পেশাগত ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনকৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শহুরে ও সেবা-ভিত্তিক অর্থনীতিতে স্থানান্তর।
নতুন পেশা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগের বৃদ্ধি।
শ্রেণি ভেদ বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক বৈষম্য বর্তমান সামাজিক কাঠামোর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
বর্তমান বাংলাদেশে সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান সামাজিক কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য হলো – “পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন ও নিউক্লিয়ার পরিবার বৃদ্ধির প্রবণতা”।গ্রামীণ সমাজে প্রচলিত সংযুক্ত (joint) পরিবার ধীরে ধীরে নিউক্লিয়ার (nuclear) পরিবার বা স্বাধীন পরিবারে রূপান্তরিত হচ্ছে।প্রধান কারণ: নগরায়ন, চাকরি, শিক্ষা ও আধুনিক জীবনধারা।
বাংলাদেশে বিশেষ করে যুব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেকারত্ব খুব বেশি লক্ষ্য করা যায়।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় – “অর্থনৈতিক বা আয়ভিত্তিক বেকারত্ব (Disguised / Underemployment)” এবং যুব বেকারত্ব (Youth Unemployment)।
যুব বেকারত্ব (Youth Unemployment)বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শেষ করা বহু তরুণ কর্মসংস্থানের জন্য শহরে আসে।দক্ষ জনশক্তি থাকলেও পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ নেই, ফলে তরুণ বেকার থাকে।
দারিদ্র্য মানুষের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা কমায়, যা অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে।দারিদ্র্যের অর্থনৈতিক প্রভাব হলো – ব্যক্তির বা পরিবারের উৎপাদন ও আয়ের সীমাবদ্ধতা, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও প্রভাব ফেলে।
উৎপাদনশীলতা হ্রাসদারিদ্র্য ব্যক্তি বা পরিবারকে সঠিক পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে, ফলে শ্রমশক্তির কার্যকারিতা কমে।শ্রমবাজারে প্রভাব- স্বল্পদক্ষ বা অসংগঠিত শ্রমশক্তি → উচ্চ মানের শ্রমিক কম → শিল্প ও সেবাখাতের উৎপাদন কমে।
পরিবারে সম্পদের অমিমাংসিত বণ্টন ও উত্তরাধিকার বৈষম্য যৌতুককে দৃঢ় করে।
যৌতুক প্রথা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রধান অর্থনৈতিক কারণ হলো – মেয়েদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সম্পদ অধিকার সীমিত থাকা।মেয়েদের অর্থনৈতিক নির্ভরতাপ্রথাগত সমাজে মেয়েরা জমি বা সম্পত্তির মালিক হতে পারেন না বা সীমিত অধিকার রাখেন।
ফলে পরিবার মেয়েকে “অর্থনৈতিক বোঝা” হিসেবে দেখে।
পাত্রপক্ষকে সুবিধা দান-দাম্পত্য বা পরিবারিক সম্পর্কের মাধ্যমে সম্পদ বা অর্থ স্থানান্তর যৌতুকের মাধ্যমে হয়।
পাত্রপক্ষকে পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক শক্তি বৃদ্ধি করার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ (Expansion of female education)
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর সামাজিক সমাধান হলো – নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়ন (Female Education & Empowerment)।
নারী শিক্ষার প্রভাব -শিক্ষিত নারী পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।
শিশুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসে, শিশুমৃত্যু হ্রাস পায়।
নারীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা → পরিবারের সন্তানসংখ্যা কমানোর প্রতি মনোভাব পরিবর্তন।
পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতি ব্যবহার সহজ।
The Prince হলো ম্যাকিয়াভেলির প্রধান রাজনৈতিক রচনা।
ম্যাকিয়াভেলির (Niccolò Machiavelli) প্রধান গ্রন্থ হলো – The Prince (ইতালি: Il Principe)।
প্রকাশকাল: ১৫১৩ খ্রিস্টাব্দে লেখা, পরে ১৫৩২ সালে প্রকাশিত।
মূল বিষয়:রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল।
ক্ষমতা অর্জন, সংরক্ষণ ও প্রয়োগের নীতি।
বিশেষত্ব:নৈতিকতা বা ধর্মের তুলনায় কার্যকারিতা (Pragmatism) ও বাস্তববাদকে গুরুত্ব দেওয়া।
“উদ্দেশ্য সফল হলে মাধ্যমের নৈতিকতা বিবেচনা করা যায়” – এটি তার প্রখ্যাত দর্শন।
: স্পেন্সার সমাজকে জীবনের মতো জীবন্ত ও বিবর্তনশীল হিসেবে দেখেছেন।
স্পেন্সারের (Herbert Spencer) সমাজবিজ্ঞানের মূল কেন্দ্র হলো – “সমাজকে একটি জৈবিক জীবের মতো দেখা (Society as an Organismic Analogy)”।
জীববিজ্ঞানের অনুপ্রেরণা (Biological Analogy)স্পেন্সার সমাজকে একটি জীবের মতো সংস্থা হিসেবে দেখেন।
যেমন: মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একসাথে কাজ করে → সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (Family, Education, Religion, Economy, Government) একসাথে কাজ করে।
স্পেন্সার সামাজিক বিবর্তনের মাধ্যমে Survival of the fittest ধারণা ব্যাখ্যা করেছেন।হের্বার্ট স্পেন্সারের (Herbert Spencer) সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হলো –“Survival of the Fittest”
বাংলা অনুবাদ: “যে সবচেয়ে উপযুক্ত, সে বাঁচে।”
এটি মূলত জীববিজ্ঞান থেকে অনুপ্রাণিত সমাজবিজ্ঞানের ধারণা।
স্পেন্সার সমাজকে একটি জৈবিক সত্তার মতো দেখেছেন, যেখানে শক্তিশালী ও অভিযোজিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি সমাজে টিকে থাকে।