পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৭৮
সিলেবাস
Exam - 12 • Full Model Test - 06 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৭৮ প্রশ্ন

.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫, বিধি ৯(৩) অনুযায়ী, আদালত কোন প্রযুক্তিগত মাধ্যম ব্যবহার করে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. ভিডিও কল
  2. হোয়াটসঅ্যাপ
  3. ফ্যাক্স ও ইমেইল
  4. দৈনিক সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
 সঠিক উত্তর: গ) ফ্যাক্স ও ইমেইল। 
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫, বিধি ৯(৩)-এ বলা হয়েছে:
"The Court may, in addition to the service of summons under sub-rule (1), on the application of the plaintiff for the issue of a summons for the appearance of the defendant, also direct the summons to be served by means of transmission of documents through fax message or electronic mail service by the plaintiff at his own cost."
- অর্থাৎ, বাদীর আবেদনের ভিত্তিতে এবং তার খরচে, আদালত ফ্যাক্স বা ইলেকট্রনিক মেইল সার্ভিসের মাধ্যমে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিতে পারেন।

- এখানে “ফ্যাক্স” ও “ইমেইল” — এই দুটোই আইনস্বীকৃত প্রযুক্তিগত মাধ্যম, যেগুলো আদেশ ৫ এর অধীনে সমনের অতিরিক্ত পরিবেশন পদ্ধতি হিসেবে অনুমোদিত।

অন্যান্য অপশন গুলো :
- ভিডিও কল (ক): সমন প্রেরণের কোনো আইনগত স্বীকৃত মাধ্যম নয়।
- হোয়াটসঅ্যাপ (খ): যদিও প্রযুক্তিগতভাবে ফাইল পাঠানো সম্ভব, আইন এই মাধ্যমকে স্বীকৃতি দেয়নি।
- দৈনিক সংবাদপত্র (ঘ): এটি “সমনের প্রাকাশ্য জারি” সংক্রান্ত বিধানে ব্যবহার হতে পারে (যেমন আদেশ ৫, বিধি ২০), কিন্তু এটি ৯(৩)-এর অন্তর্ভুক্ত প্রযুক্তিগত মাধ্যম নয়।
.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৭ কোন বিষয়ের উপর প্রযোজ্য?
  1. সাধারণ মামলার কার্যপ্রণালী
  2. সম্পত্তি হস্তান্তরের কার্যপ্রণালী
  3. পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত মামলার কার্যপ্রণালী
  4. হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৭ (Order XXXVII of the Code of Civil Procedure, 1908) একটি সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি (summary procedure) যা শুধু নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক দলিল সম্পর্কিত মামলার জন্য প্রযোজ্য। এটি মূলত— বিল অব এক্সচেঞ্জ (Bill of Exchange), হুন্ডি (Hundi), প্রমিসরি নোট (Promissory Note) —এই ধরণের হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instruments)-এর ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রবর্তিত হয়েছে।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাদী (Plaintiff) চাইলে একটি নির্ধারিত ফরমে মামলা করতে পারেন এবং বিবাদীকে আদালতের অনুমতি ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয় না। যদি বিবাদী সেই অনুমতি না পান, তাহলে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত ধরে ডিক্রি প্রদান করা হয়।
অর্থাৎ, আদেশ ৩৭ সাধারণ দেওয়ানি মামলা নয়, বরং বিশেষ ধরনের আর্থিক মামলার জন্য সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭: হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি।
বিধি-১: আদেশের প্রয়োগ। এই আদেশ শুধুমাত্র হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ORDER-37:-SUMMARY PROCEDURE ON NEGOTIABLE INSTRUMENTS
Rule-1: Application of Order. This Order shall apply only to the High Court Division and to the District Court.
.
আদেশ-৬ বিধি-১৬ অনুযায়ী আদালতে প্লিডিংস কেটে দেওয়া বা সংশোধন করা হয় কোন ক্ষমতাবলে?
  1. সরকারি আদেশবলে
  2. সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে
  3. আইন কমিশনের সুপারিশক্রমে
  4. আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৬, বিধি ১৬ অনুযায়ী, আদালত যদি মনে করে যে: কোনো প্লিডিংসে (যেমন: বাদীর আরজি বা বিবাদীর জবাব)
- অপ্রয়োজনীয় বিষয় রয়েছে, অথবা
- কুৎসাজনক (scandalous) বক্তব্য রয়েছে, অথবা
- যা সুষ্ঠু বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত, বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত করতে পারে—
তাহলে আদালত তার নিজস্ব বিচারবুদ্ধি বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে সেই প্লিডিংস কেটে দেওয়ার (strike out) বা সংশোধন (amend) করার আদেশ দিতে পারে।

→ এটি আদালতের বিচারিক স্বার্থে দেওয়া একধরনের discretionary power, যা মামলার মেরিট ঠিক রাখতে এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।


→ দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ ৬, বিধি ১৬ ইংরেজিতে বলা হয়েছে:
- "The Court may at any stage of the proceedings order to be struck out or amended any matter..."
→ এখানে "may" শব্দটি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বোঝায়।

.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান অনুযায়ী যাকে অনুচিতভাবে বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে তাকে আদালত বাদ দিতে পারে?
  1. আদেশ-১, বিধি-৩
  2. আদেশ-১, বিধি-৮
  3. আদেশ-১, বিধি-১০
  4. আদেশ-১, বিধি-১২
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১, বিধি ১০ অনুযায়ী—
- মামলার যেকোন পর্যায়ে আদালত, পক্ষসমূহের আবেদনে বা স্বপ্রণোদিতভাবে, এমন কোন পক্ষকে বাদ দিতে পারেন যাকে অনুচিতভাবে বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
- একইসাথে, যদি আদালত মনে করে যে, কোন ব্যক্তির উপস্থিতি মামলার কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজন, তাহলে তাকেও যুক্ত করতে পারেন।

বিধি ১০(২) স্পষ্টভাবে বলে:
"...the Court may at any stage of the proceedings, either upon or without the application of either party, and on such terms as may appear to the Court to be just, order that the name of any party improperly joined, whether as plaintiff or defendant, be struck out..."

→ যাকে অনুচিতভাবে বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, তাকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে আদেশ ১, বিধি ১০ অনুযায়ী।
.
যদি বাদী অনুপস্থিত থাকে এবং মামলাটি আদেশ ৯, বিধি ৮ অনুসারে খারিজ হয়ে যায়, তবে বাদী খারিজ আদেশ বাতিলের জন্য কোন বিধির অধীনে আবেদন করতে পারে?
  1. আদেশ-৯, বিধি-৯
  2. আদেশ-৯, বিধি-১০
  3. আদেশ-৯, বিধি-১১
  4. আদেশ-৯, বিধি-১২
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯, বিধি ৮ অনুসারে, যদি বাদী শুনানির দিনে অনুপস্থিত থাকে এবং আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়, তাহলে বাদী নিম্নলিখিত প্রতিকার নিতে পারে—
→ বিধি ৯ অনুসারে প্রতিকার:
- বাদী আদেশ ৯, বিধি ৯-এর অধীনে মামলা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন করতে পারে।
- বাদীকে প্রমাণ করতে হবে যে তার অনুপস্থিতির যথেষ্ট কারণ ছিল, যা আদালত গ্রহণযোগ্য মনে করলে মামলাটি পুনরায় চালু করতে পারে।
- এই বিধির অধীনে আবেদন করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত আছে, যা সাধারণত ৩০ দিন।

এছাড়াও, 
বিধি ৯(ক)-এর অধীনে বাদী সরাসরি মামলা খারিজ আদেশ বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারে।
- একবার মামলা খারিজ হয়ে গেলে বাদী একই কারণে নতুন করে মামলা দায়ের করতে পারে না, তবে বিধি ৯ বা ৯(ক) অনুসারে পুনরুজ্জীবনের জন্য আবেদন করতে পারে।

- সুতরাং, বাদী মামলাটি পুনরায় চালু করতে চাইলে, তাকে আদেশ ৯, বিধি ৯-এর অধীনে আদালতে আবেদন করতে হবে।
.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-১৩, বিধি-৮ অনুসারে, যদি আদালত একটি দলিল আটক করার নির্দেশ দেয়, সেই দলিল কার হেফাজতে রাখা হবে?
  1. স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে
  2. মামলার বিবাদীর হেফাজতে
  3. মামলার বাদীর হেফাজতে
  4. আদালতের অফিসারের হেফাজতে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৩, বিধি ৮ অনুযায়ী, আদালত যদি কোনো দলিল আটক (Impound) করার নির্দেশ দেয়, তাহলে সেই দলিল আদালতের কোনো অফিসারের হেফাজতে রাখা হবে। এই বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে:
"the Court may... direct any document... to be impounded and kept in the custody of an officer of the Court."
অর্থাৎ, দলিলটি পুলিশ, বাদী বা বিবাদীর কাছে নয়, বরং আদালতের নিজস্ব অফিসারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এটি দলিলের সুরক্ষা ও অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৩, বিধি ৮ অনুযায়ী, আদালত যদি কোনো দলিল বা বই আটক করার নির্দেশ দেয়, তবে সেই দলিল বা বই আদালতের অফিসারের হেফাজতে রাখা হবে। আদালত এ বিষয়ে সময় ও শর্ত নির্ধারণ করতে পারে, এবং যদি কোনো দলিল বা বই আদালতে উপস্থাপিত হয় এবং তা আটক করার প্রয়োজন হয়, তবে তা আদালতের অফিসারের হেফাজতে রাখা হবে।
.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় বিদেশে বসবাসরত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য অনুরোধপত্র (Letter of Request) পাঠানোর বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৭৫
  2. ধারা ৭৬
  3. ধারা ৭৭
  4. ধারা ৭৮
ব্যাখ্যা
→ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৭৭ অনুযায়ী, যদি কোনো সাক্ষী বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করেন, তাহলে কমিশন জারি করার পরিবর্তে আদালত ওই সাক্ষীকে পরীক্ষা করার জন্য অনুরোধপত্র (Letter of Request) পাঠাতে পারে সংশ্লিষ্ট বিদেশি দেশের আদালত বা প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৭৭ ধারা- অনুরোধপত্র:
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়, এরূপ যে কোন দেশে বসবাসকারী সাক্ষীর পরীক্ষা করার নিমিত্তে আদালত কমিশন প্রেরণ করার বিপরীতে অনুরোধ পত্র প্রেরণ করতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 77: Letter of request:
- In lieu of issuing a commission the Court may issue a letter of request to examine a witness residing at any place not within Bangladesh.
.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৮৯ক অনুযায়ী ধ্যস্থতার আদেশ পাওয়ার পর পক্ষগণ কত দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের তথ্য আদালতকে জানাবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮৯ক(৪) অনুযায়ী:
Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator...”
বাংলায় অর্থ: ধারা ৮৯ক(১) এর অধীনে আদালত যখন মধ্যস্থতার আদেশ দেন বা রেফার করেন, তখন সেই তারিখ থেকে গণনা করে ১০ (দশ) দিনের মধ্যে পক্ষগণ আদালতকে লিখিতভাবে জানাবে যে, তারা কাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে।
- যদি তারা ১০ দিনের মধ্যে কাউকে নিযুক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত নিজে ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবেন।

- তাই সঠিক উত্তর: খ) ১০ দিন। 
.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ১৫৩ অনুসারে আদালত কখন মামলার কার্যধারায় ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারে?
  1. মামলা শুরুর সময়
  2. যে কোনো সময়
  3. আপিল চলাকালীন
  4. মামলার রায় ঘোষণার পর
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১৫৩ অনুযায়ী:
- “The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit…”
- অর্থাৎ, আদালত যেকোনো সময়, অর্থাৎ মামলার যেকোনো পর্যায়ে—প্রারম্ভ, মধ্যবর্তী বা রায় ঘোষণার পূর্বে—যদি প্রয়োজন মনে করে, মামলার কার্যধারায় ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারে।
- এতে করে মামলার প্রকৃত বিষয়বস্তু নির্ধারণে সহায়তা হয় এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর: খ) যে কোনো সময়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারা-সংশোধন করার সাধারণ ক্ষমতা:
আদালত যে কোনো সময়, এবং তার উপযুক্ত মনে হলে খরচ বা অন্য কোনো শর্ত আরোপ সাপেক্ষে, কোনো মামলার কার্যধারায় যে কোনো ত্রুটি বা ভুল সংশোধন করতে পারে; এবং মামলার কার্যধারার উপর নির্ভরশীল বা উত্থাপিত প্রকৃত প্রশ্ন বা বিষয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে সকল প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 153. General power to amend:
The Court may at any time, and on such terms as to costs or otherwise as it thinks fit, amend any defect or error in any proceeding in a suit; and all necessary amendments shall be made for the purpose of determining the real question or issue raised by or depending on such proceeding.

১০.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৫, বিধি-১ অনুযায়ী, ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার আরজিতে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের বক্তব্য
  2. বিবাদীদের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক
  3. বাদীর সম্পত্তিতে পূর্ণ মালিকানা দাবি
  4. বাদীর খরচের দাবি ছাড়া অন্য কোনো স্বার্থ নেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৫, বিধি-১ অনুযায়ী, ইন্টারপ্লিডার (স্বার্থবিহীন) মোকদ্দমা তখনই দায়ের করা যায়, যখন একাধিক ব্যক্তি (বিবাদী) একটি সম্পত্তি বা অধিকার দাবী করে, অথচ বাদীর নিজে ঐ সম্পত্তিতে কোনো স্বত্ব বা অধিকার নেই, শুধুমাত্র তিনি মামলার খরচের জন্য কিছু দাবি করতে পারেন।
বিধি-১ অনুযায়ী, আরজিতে যা যা থাকতে হবে:
→ বাদী মামলার খরচ ছাড়া অন্য কোনো স্বার্থ দাবি করেন না।
→ বিবাদীদের দাবিসমূহ পৃথকভাবে এবং পরস্পরবিরোধী।
→ বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র বা যোগসাজশ নেই।

- এখানে অপশন “ঘ) বাদীর খরচের দাবি ছাড়া অন্য কোনো স্বার্থ নেই” — একমাত্র সঠিক উত্তর, কারণ এটি আদেশ ৩৫, বিধি ১-এর প্রথম এবং প্রধান শর্ত।

→ ইন্টারপ্লিডার মামলা বাদীকে দায়মুক্তি দিয়ে আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত দাবিদার নির্ধারণের সুযোগ দেয়, যেখানে বাদী শুধু সম্পত্তি আদালতে জমা দেয় ও নিজেকে বিরত রাখে।
১১.
যে আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেই আদালতে আবেদন করার বিধানটি দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ৪৪, বিধি ১
  2. আদেশ ৪৫, বিধি ২
  3. আদেশ ৪৬, বিধি ৩
  4. আদেশ ৪৩, বিধি ৪
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির (Code of Civil Procedure, 1908) আদেশ ৪৫ (Order XLV) মূলত "Appeals to the Appellate Division" অর্থাৎ আপিল বিভাগে আপিল সংক্রান্ত বিধান প্রদান করে।
আদেশ ৪৫, বিধি ২-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
“Whoever desires to appeal to the Appellate Division shall apply by petition to the Court whose decree is complained of.”
অর্থাৎ, যে কেউ আপিল বিভাগে আপিল করার ইচ্ছা পোষণ করলে, তাকে সেই আদালতে আবেদন করতে হবে যার ডিক্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

- আপিল বিভাগে আপিল করার জন্য প্রথমেই যে আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেই আদালতে আবেদন করতে হয়—এটি দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৫, বিধি ২-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

১২.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৪১, বিধি-২২ অনুযায়ী, পাল্টা আপত্তি দাখিল করতে হলে কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে?
  1. ১০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৪১, বিধি-২২ অনুযায়ী, যদি কোন এক পক্ষ (যেমন: বিবাদী) আপীলের মাধ্যমে ডিক্রি বা রায়ের কিছু অংশের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে চায়, তবে তাকে নিম্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রীর কোনো অংশকে সমর্থন না করেও, সেই ডিক্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা আপত্তি দাখিল করার সুযোগ দেওয়া হয়।
- এই পাল্টা আপত্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাখিল করতে হবে, যা নোটিশ জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে।

- যদি আপীল আদালত তার পক্ষের নোটিশ জারি করে, তবে পাল্টা আপত্তি দাখিল করার জন্য আবেদনকারীকে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪১ বিধি-২২ এর বিধান: শুনানিকালে উত্তরদায়ক তৎকর্তৃক ডিক্রীতে আপত্তি দিতে পারে, যেন সে স্বাতন্ত্র্য আপিল দায়ের কয়েছে।
১) কোন উত্তরদায়ক যদিও কোন ডিক্রীর অংশ হতে আপিল করেনি, তথাপি সে শুধুমাত্র নিম্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তকৃত ডিক্রীর কোন সঙ্গত কারণ শুধু সমর্থন করেনি, বরং সে আপিলক্রমে যেভাবে পারত ঠিক সেভাবে উক্ত ডিক্রীর পাল্টা আপত্তি উত্থাপন করতে পারবে এ শর্তে যে, আপিল শুনানির জন্য নির্ধারিত দিন সম্পর্কে তার উপর বা তার উকিলের উপর নোটিশ জারির তারিখ হতে সে আপিল আদালতে এক মাসের মধ্যে কিংবা আপিল আদালত মঞ্জুর করতে উপযুক্ত মনে করে এরূপ মঞ্জুরীকৃত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে অনুরূপ পাল্টা আপত্তি দাখিল করেছে।
২) আপত্তির ফরম এবং তাতে প্রযোজ্য বিধানসমূহ:
অনুরূপ পাল্টা আপত্তি স্মারকের আকারে হতে হবে এবং আপিলের স্মারকের ফরম এবং বিষয়বস্তু সঙ্গে যতদূর সম্পর্কিত হয়, ততদূর ১ বিধির বিধানাবলী তাতে প্রযোজ্য হবে।
৩) আপত্তির নকল গ্রহণ সম্পর্কে ঐ আপত্তি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের বা তার উকিল কর্তৃক এটির নকল গ্রহণের লিখিত স্বীকৃতিপত্র উত্তরদায়ক আপত্তির সঙ্গে দাখিল না করলে আপিল আদালত এটির একটি নকল আপত্তি দাখিল হওয়ার পর যথা সম্ভব শীঘ্র উত্তরদায়কের খরচে উক্ত পক্ষের বা তার উকিলের প্রতি এটির নকল প্রদান করাবে।
৪) যে কোন ক্ষেত্রে এই বিধির অধীনে উত্তরদায়ক আপত্তির স্মারক দাখিল করে থাকলে যেক্ষেত্রে মূল আপিলটি প্রত্যাহৃত বা তদ্বিরের অভাবে খারিজ হলেও উপরোক্ত মতে দাখিলকৃত আপত্তির, অন্য পক্ষকে উপযুক্ত নোটিশ দেয়ার পর শুনানি এবং সিদ্ধান্ত করা যাবে।
৫) নিঃস্ব আপিল সম্পর্কিত বিধানসমূহ যতদূর সম্ভব এ বিধির অধীনে আপত্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

১৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির প্রথম তফসিলে মোট কতটি আদেশ (Order) রয়েছে?
  1. ৪৫টি
  2. ৫০টি
  3. ৫১টি
  4. ৫৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলে মোট ৫১টি আদেশ (Order I থেকে Order LI পর্যন্ত) রয়েছে।
- এই আদেশগুলো দেওয়ানি মামলার বিভিন্ন প্রক্রিয়া যেমন— সমন জারি, প্লিডিং, ডিক্রি পাস, আপিল ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।
- প্রথম তফসিল হলো প্রক্রিয়াগত (procedural) দিক নির্দেশনার অংশ, এবং এর প্রতিটি আদেশ আবার এক বা একাধিক বিধি (Rules)-তে বিভক্ত।
- দেওয়ানী কার্যবিধির ধারাসমূহ (Sections) শুধুমাত্র জাতীয় সংসদ সংশোধন করতে পারে।
- কিন্তু প্রথম তফসিলের আদেশ ও বিধিসমূহ সংসদ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট (High Court Division) নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করতে পারে (ধারা ১২২ অনুসারে)।

অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির প্রথম তফসিলে মোট ৫১টি আদেশ বিদ্যমান, যা আদালতের দেওয়ানি কার্যধারার একটি বিস্তৃত কাঠামো নির্ধারণ করে।
- তাই সঠিক উত্তর: গ) ৫১টি।
১৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৫, বিধি ৩(১) অনুযায়ী, আদালত কখন সরাসরি রায় দিতে পারেন?
  1. প্রমাণের অভাবে হলে
  2. যুক্তি-প্রমাণ যথেষ্ট হলে
  3. পক্ষগণ অনুপস্থিত হলে
  4. আপিল করা হলে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৫, বিধি ৩(১) অনুযায়ী, যদি মামলার পক্ষগণ কোনো প্রশ্নে (আইনি বা প্রকৃত ঘটনা সংক্রান্ত) মতবিরোধে থাকেন এবং সেই বিষয়ে ইস্যু নির্ধারিত হয়ে থাকে, তখন আদালত নিচের দুটি শর্ত পূরণ হলে সরাসরি রায় দিতে পারেন:
১. মামলার নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় যে প্রমাণ বা যুক্তি আছে, তা পক্ষগণ সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থাপন করতে সক্ষম এবং তার বাইরে আর কিছু দরকার নেই।
২. এভাবে তাৎক্ষণিকভাবে রায় দিলে কোনো পক্ষের প্রতি অবিচার হবে না।

এই দুই শর্ত পূরণ হলে আদালত তৎক্ষণাৎ রায় প্রদান করতে পারেন, এমনকি যদি মামলার জন্য সমন শুধু "ইস্যু নির্ধারণের" জন্যই জারি হয়ে থাকে, তবুও—যদি পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবী উপস্থিত থাকে এবং কেউ আপত্তি না করে।
-অতএব, “যুক্তি-প্রমাণ যথেষ্ট হলে” আদালত রায় দিতে পারেন — এটিই সঠিক উত্তর।

Order XV, Rule 3 — Parties at Issue:
(1) Where the parties are at issue on some question of law or of fact, and issues have been framed by the Court as hereinbefore provided, if the Court is satisfied that no further argument or evidence than the parties can at once adduce is required upon such of the issues as may be sufficient for the decision of the suit, and that no injustice will result from proceeding with the suit forthwith, the Court may proceed to determine such issues, and, if the finding thereon is sufficient for the decision, may pronounce judgment accordingly, whether the summons has been issued for the settlement of issues only or for the final disposal of the suit:
Provided that, where the summons has been issued for the settlement of issues only, the parties or their pleaders are present and none of them objects.
(2) Where the finding is not sufficient for the decision, the Court shall postpone the further hearing of the suit, and shall fix a day for the production of such further evidence, or for such further argument as the case requires.
১৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য কোথায় জমা দিতে হবে?
  1. আদালতে
  2. সরকারি ব্যাংকে
  3. ক্রেতার কাছে
  4. বিক্রেতার কাছে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ক (Section 21A) স্পষ্টভাবে বলে:
“...no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless—
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908,
and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.”
অর্থাৎ, যদি কেউ কোনো স্থাবর সম্পত্তি (যেমন জমি, ঘর ইত্যাদি) বিক্রয়ের চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করতে চান, তাহলে:
- চুক্তিটি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে, এবং
- চুক্তির যেটুকু মূল্য বাকি আছে, মামলা দায়েরের সময় তা আদালতে জমা দিতে হবে।
 অতএব, চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য আদালতে জমা না দিলে এই ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাওয়া যাবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless–
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.
১৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা কোন ধরণের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. সাময়িক আদেশ
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  3. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  4. অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৪ ধারা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) সংক্রান্ত।
- এই ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তির একটি আইনি অধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের হুমকি দেওয়া হয় এবং সেই লঙ্ঘনের ফলে এমন ক্ষতি হতে পারে, যার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার নয়; অথবা যার ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায় না; অথবা যেখানে বিচারিক কার্যধারার জটিলতা রোধ করতে হয়, তখন আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন। এটি সাধারণত চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময় কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে অধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ করে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারার বিধান চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়। এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 54 Perpetual injunctions when granted: Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication.
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act.
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):-
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff;
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion;
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief;
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion;
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings.
Explanation - For the purpose of this section a trademark is property.

১৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী আদালত ক্ষতিপূরণ কোন অংশের জন্য নির্দেশ দিতে পারে?
  1. বৃহত্তর অংশ
  2. ক্ষুদ্রতর অংশ
  3. সম্পূর্ণ চুক্তি
  4. কোনো অংশ নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও চুক্তির একটি অংশ অপর পক্ষ সম্পাদন করতে না পারে, এবং সেই অসম্পাদিত অংশটি মোট চুক্তির তুলনায় অনুপাতিকভাবে ছোট (ক্ষুদ্রতর) হয় এবং তা অর্থমূল্যে প্রতিকারযোগ্য হয়, তাহলে—
→ আদালত ওই চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে, এবং
→ চুক্তির ক্ষুদ্রতর, অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।

 সুতরাং, ধারা ১৪ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ চুক্তির ক্ষুদ্রতর অংশের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার আওতায়, বাদী যদি সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মামলা করে এবং তা কার্যকর না হয়, তবে বিকল্পভাবে কী প্রার্থনা করতে পারেন?
  1. নিষেধাজ্ঞা
  2. ক্ষতিপূরণ
  3. চুক্তি রদ
  4. চুক্তি সংশোধন
ব্যাখ্যা

→ সঠিক উত্তর: গ) চুক্তি রদ।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান অনুযায়ী, যদি কেউ লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য মামলা করেন, তাহলে তিনি বিকল্পভাবে আদালতের কাছে প্রার্থনা করতে পারেন যে:
"যদি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা সম্ভব না হয়, তবে সেটিকে রদ (rescission) করে দেওয়া হোক এবং বিলুপ্ত হিসেবে গণ্য করা হোক।"
-এই ধারার উদ্দেশ্য হলো বাদী যাতে বিকল্প প্রতিকার হিসেবে চুক্তি বাতিল বা রদ করতে পারেন—যাতে ভবিষ্যতে সেই চুক্তি নিয়ে আর কোনো দাব বা সমস্যা না থাকে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.

১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী, আদালত যদি কোনো দলিল বাতিল ঘোষণা করে এবং সেটি নিবন্ধিত হয়, তাহলে আদালতের কী করা উচিত?
  1. শুধুমাত্র পক্ষগুলিকে নোটিশ দেওয়া
  2. দলিলটি ধ্বংস করার আদেশ দেওয়া
  3. দলিলটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া
  4. রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে ডিক্রির একটি কপি পাঠানো
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৯ অনুসারে, যদি কোনো লিখিত দলিল অবৈধ (void) বা বাতিলযোগ্য (voidable) হয় এবং এমন আশঙ্কা থাকে যে তা নিষ্পন্ন (outstanding) অবস্থায় থাকলে কারও গুরুতর ক্ষতি হতে পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে মামলা করে সেই দলিলটি বাতিল ঘোষণা করাতে পারেন।
- যদি ঐ দলিলটি নিবন্ধনকৃত হয় (i.e., registered under the Registration Act, 1908), তবে আইন স্পষ্টভাবে বলে—
“The Court shall also send a copy of its decree to the officer in whose office the instrument has been so registered; and such officer shall note on the copy of the instrument contained in his books the fact of its cancellation.”
- অর্থাৎ দলিল বাতিল ঘোষণা করা হলে, আদালত বাধ্যতামূলকভাবে ডিক্রির একটি কপি রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে পাঠাবে, যাতে রেজিস্ট্রার অফিসে রাখা দলিলের কপিতে "বাতিল" বলে নথিভুক্ত করা হয়।
২০.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, “bailable offence” বলতে কী বোঝায়?
  1. যে অপরাধে শুধু আদালত জামিন দেয়
  2. যে অপরাধে জামিন পাওয়া যায়
  3. যে অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছর সাজা হয়
  4. যে অপরাধে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করা যায়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) যে অপরাধে জামিন পাওয়া যায়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪(১)(b) অনুযায়ী—
“bailable offence” বলতে বোঝায় সেইসব অপরাধ যা:
- দ্বিতীয় তফসিলে (Second Schedule) “bailable” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে,
- অথবা অন্য কোনো প্রচলিত আইনের মাধ্যমে “bailable” হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
- (b) "bailable offence" means an offence shown as bailable in the second schedule, or which is made bailable by any other law for the time being in force; and "non-bailable offence" means any other offence:

- অর্থাৎ, bailable offence এমন অপরাধ, যেখানে আসামি আইনগতভাবে জামিন পাওয়ার অধিকার রাখে এবং পুলিশ বা আদালত জামিন দিতে বাধ্য থাকে।
২১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯(৩ক) অনুসারে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয় কোন অনুচ্ছেদের অধীনে?
  1. সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ
  2. সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ
  3. সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ
  4. সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৯(৩ক) এ বলা হয়েছে:
“...সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের শর্তানুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি মোতাবেক বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যগণ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজ নিযুক্ত হইবেন।”
 অর্থাৎ, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের নিয়োগ ও তাদের কর্মস্থল নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিধি তৈরি করেন, এবং সেই বিধির আলোকে তাদের দায়রা আদালতে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (The Code of Criminal Procedure), ১৮৯৮–এর ধারা ৯(৩ক) (Subsection 3A) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে:
“The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the Constitution...”
অর্থাৎ, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন রাষ্ট্রপতির দ্বারা প্রণীত বিধি অনুসরণ করতে হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারার বিধান দায়রা আদালত:
(১) সরকার প্রত্যেকটি দায়রা বিভাগের জন্য একটি করে দায়রা আদালত স্থাপন করবেন এবং এই আদালতে একজন জজ নিয়োগ করবেন; এবং মহানগরীর জন্য সৃষ্ট দায়রা আদালত মহানগরী দায়রা আদালত নামে অভিহিত হবে।
(২) সরকার সরকারি গেজেটে সাধারণ অথবা বিশেষ আদেশ জারী করে নির্দেশ দিতে পারেন যে কোন স্থানে বা স্থানসমূহে দায়রা আদালত বসবে; কিন্তু এরূপ আদেশ না দেয়া পর্যন্ত দায়রা আদালতসমূহ পূর্বের ন্যায় বসবে।
(৩) এরূপ এক বা একাধিক আদালতে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করার জন্য অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং সহকারী দায়রা জজ ও নিয়োগ করতে পারবেন।

(৩ক) - অনুরূপ এক বা একাধিক এলাকার দায়িত্ব পালনের জন্য সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের শর্তানুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি মোতাবেক বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যগণ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজ নিযুক্ত হইবেন।
(৪) সরকার এক দায়রা বিবাগের দায়রা জজকে অপর একটি বিভাগের অতিরিক্ত দায়রা জজ নিয়োগ করতে পারেন, এবং এরূপ ক্ষেত্রে তিনি সরকারের নির্দেশানুসারে দুইটি বিভাগের যে কোন একটির এক বা একাধিক স্থানে মামলা নিস্পত্তির জন্য বসতে পারবেন।
(৫) এই আইন বলবৎ হবার সময় যে সকল দায়রা আদালত বিদ্যমান ছিল তার সমস্ত গুলিই এই আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরতে হবে।
------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 9. Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court; and the Court of Session for a Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.
(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore.
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts.
(3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.
(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct.
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.
২২.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য প্রদত্ত consecutive sentences-এর সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. অনধিক ১৪ বছর
  2. কেবল একটি অপরাধের সাজা
  3. তার স্বাভাবিক ক্ষমতার সমান
  4. তার স্বাভাবিক ক্ষমতার দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫(২)(খ) অনুসারে, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য প্রদত্ত consecutive sentences (ধারাবাহিক কারাদণ্ড)-এর সর্বোচ্চ সীমা হবে তার স্বাভাবিক ক্ষমতার দ্বিগুণ।
- ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাভাবিক ক্ষমতা বলতে ধারা ৩২-এ বর্ণিত দণ্ডের সীমা বোঝায় (যেমন: প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড)।
- একাধিক অপরাধের ক্ষেত্রে সমষ্টিগত সাজার এই দ্বিগুণ সীমা প্রযোজ্য হয় (ধারা ৩৫(২)(খ))।
- তবে সর্বোচ্চ ১৪ বছর সীমাটি (ধারা ৩৫(২)(ক)) দায়রা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ম্যাজিস্ট্রেটের নয়।

উদাহরণ:
প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাভাবিক ক্ষমতা ৫ বছর কারাদণ্ড। একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৫ × ২ = ১০ বছর কারাদণ্ড দিতে পারবেন (১৪ বছর নয়)।

অতএব, সঠিক উত্তর ঘ) তার স্বাভাবিক ক্ষমতার দ্বিগুণ।

- Section 35(2) In the case of consecutive sentences, it shall not be necessary for the Court, by reason only of the aggregate punishment for the several offences being in excess of the punishment which it is competent to inflict on conviction of a single offence, to send the offender for trial before a higher Court:
Provided as follows:-
(a) in no case shall such person be sentenced to imprisonment for a longer period than fourteen years;
(b) if the case is tried by a Magistrate , the aggregate punishment shall not exceed twice the amount of punishment which he is, in the exercise of his ordinary jurisdiction, competent to inflict.
২৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২ অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতিতে কত মেয়াদের কারাদণ্ডের বেশি শাস্তি দেওয়া যাবে না?
  1. এক বছর
  2. দুই বছর
  3. তিন বছর
  4. পাঁচ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২ অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতিতে যে কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডাদেশ দেওয়া হলে, তার মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর হতে পারে। অর্থাৎ, সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় আসা অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের মেয়াদ দুই বছরের বেশি দেওয়া যাবে না।
- এটি মূলত লঘু শাস্তির অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে গুরুতর অপরাধ যেমন হত্যা বা ধর্ষণ অন্তর্ভুক্ত হয় না, কারণ সেগুলোর জন্য বিস্তারিত বিচারের প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৬২(২) অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trial) মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না।
ধারা ২৬২(২)-এর বিধান:
"No sentence of imprisonment for a term exceeding two years shall be passed in the case of any conviction under this Chapter."
অর্থাৎ,  ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২-এ স্পষ্ট বলা আছে যে, সংক্ষিপ্ত বিচারে ২ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যায় না।
- তাই সঠিক উত্তর খ) দুই বছর।
২৪.
অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারাগুলোর বিধান পালন করতে হয়?
  1. ধারা ৮৫ এবং ৮৬
  2. ধারা ৮৭ এবং ৮৮
  3. ধারা ৮৯ এবং ৯০
  4. ধারা ৯১ এবং ৯২
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯খ অনুযায়ী "অনুপস্থিতিতে বিচার" (Trial in absentia) শুরু করার আগে কিছু পূর্বশর্ত মানতে হয়। এই ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, বিচার শুরুর আগে ধারা ৮৭ ও ৮৮ এর আবশ্যিক বিধান অবশ্যই পালন করতে হবে।

→ ধারা ৮৭ – Proclamation for person absconding:
- যখন আদালত বিশ্বাস করে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপন করেছে অথবা তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না, তখন আদালত প্রকাশ্য আদেশ (proclamation) জারি করে তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজির হতে নির্দেশ দেয়।
→  ধারা ৮৮ – Attachment of property of person absconding:
- যদি অভিযুক্ত ধারা ৮৭ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হয়, তবে আদালত তার সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিতে পারে।

এরপর: যদি অভিযুক্তকে এখনো গ্রেপ্তার করা না যায় এবং তার অনুপস্থিতির যথেষ্ট ভিত্তি থাকে, এবং দুইটি জাতীয় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে হাজিরার আদেশ প্রকাশ করা হয়, তবেই ৩৩৯খ ধারার অধীনে অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করা যায়।

⇒ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর যদি কোন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না যায় বা সে স্বেচ্ছায় হাজির না হয়, তবে তার বিচারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারায় উল্লিখিত বিচার সংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করতে হবে। উক্ত ধারায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে অনুপস্থিতিতে বিচার করা যায়-
- ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ এবং ৮৮ ধারার আবশ্যিক বিধানসমূহ প্রতিপালন করা হয়েছে;
- আদালতের বিশ্বাস করার কারণ আছে যে, অভিযুক্ত পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে যেন তাকে গ্রেফতার না করা যায় এবং বিচারের জন্য হাজির না করা যায় এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের তাৎক্ষণিক কোন সম্ভাবনা নেই।
- অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর পূর্ববর্তী শর্ত হলো-
অনুপস্থিত অভিযুক্তকে হাজিরার জন্য ব্যাপক প্রচার আছে এমন ২টি জাতীয় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় হাজিরার আদেশ প্রকাশ করতে হবে। উক্ত প্রকাশিত আদেশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে হাজির হতে ব্যর্থ হলে, উক্ত অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করা যাবে। একে বলা হয় ''Trial in absentia'' বা অনুপস্থিতিতে বিচার।
------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure-Section 339B: Trial in absentia-
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.
(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.

২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুসারে, সরকার দায়রা বিভাগ বা জেলার সংখ্যা বা সীমা পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে কোন ধারার অধীনে?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৭
  3. ধারা ৮
  4. ধারা ৯
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (The Code of Criminal Procedure) এর ধারা ৭ অনুযায়ী, সরকার দায়রা বিভাগ (Sessions Division) এবং জেলার (District) সংখ্যা বা সীমানা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।
 - ধারা ৭(২) স্পষ্টভাবে বলে:
"The Government may alter the limits or the number of such divisions and districts."
অর্থাৎ, সরকার দায়রা বিভাগ ও জেলার সংখ্যা বা সীমানা ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৭ ধারা: দায়রা বিভাগ এবং জেলা-
(১) বাংলাদেশ দায়রা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
বাংলাদেশ বিভিন্ন দায়রা বিভাগে বিভক্ত থাকবে এবং এই কার্যবিধির উদ্দেশ্যে প্রতিটি দায়রা বিভাগ একটি জেলা হিসেবে গণ্য হবে বা একাধিক জেলা নিয়ে গঠিত হবে।
(২) বিভাগ এবং জেলার সীমানা পরিবর্তনের ক্ষমতা:
সরকার এই দায়রা বিভাগ এবং জেলার সংখ্যা বা সীমানা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।
(৩) বিদ্যমান বিভাগ এবং জেলা বহাল থাকবে:
এই কার্যবিধি কার্যকর হওয়ার সময় যে দায়রা বিভাগ এবং জেলা বিদ্যমান থাকবে, সেগুলো দায়রা বিভাগ এবং জেলা হিসেবে বহাল থাকবে, যতক্ষণ না সেগুলো পরিবর্তন করা হয়।
(৪) মেট্রোপলিটন এলাকা:
মেট্রোপলিটন এলাকা এই কার্যবিধির উদ্দেশ্যে একটি দায়রা বিভাগ হিসেবে গণ্য হবে।

২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা অনুযায়ী আদালত অবমাননার শাস্তি হিসেবে কী প্রদান করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র তিরস্কার
  2. সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানা
  4. সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা অনুযায়ী: যদি দণ্ডবিধির ধারা ১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ বর্ণিত কোনো অপরাধ আদালতের সম্মুখে বা উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তবে: সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি, ফৌজদারি বা রাজস্ব আদালত অপরাধীকে দ্রুত বিচার করে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানা দিতে পারে, এবং জরিমানা না দিলে সর্বোচ্চ ১ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিতে পারে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারার বিধান:- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি:
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারি বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লিখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হওয়ার পূর্বে যেকোনো সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section - 480: Procedure in certain cases of contempt:
-When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.
২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী পুলিশ অফিসার আমলযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) প্রতিরোধ করতে পারে?
  1. ধারা ১৪৯
  2. ধারা ১৫১
  3. ধারা ১৫২
  4. ধারা ১৫০
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৪৯ অনুযায়ী, প্রতিটি পুলিশ অফিসার আমলযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) প্রতিরোধ করার জন্য হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং তার সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী তা বন্ধ করতে বাধ্য।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 149. Police to prevent cognizable offences:
- Every police-officer may interpose for the purpose of preventing, and shall, to the best of his ability, prevent, the commission of any cognizable offence.
২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে দায়রা আদালতে বিচার সংক্রান্ত বিধান কোন ধারাগুলোতে আলোচিত হয়েছে?
  1. ধারা ২৪১ থেকে ২৫০
  2. ধারা ২৩১ থেকে ২৪০
  3. ধারা ২৫১ থেকে ২৬০
  4. ধারা ২৬৫ক থেকে ২৬৫জ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898) অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলার বিচারিক কার্যক্রম আলাদা আলাদা আদালতের জন্য আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে:
১. ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সংক্রান্ত বিধান:
→ ধারা ২৪১ থেকে ২৫০ পর্যন্ত
- এই ধারাগুলো ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সংক্রান্ত নিয়মাবলি নির্ধারণ করে (যেমন: অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, সাক্ষী হাজিরের আদেশ, রায় ঘোষণা ইত্যাদি)।
২. দায়রা আদালতে বিচার সংক্রান্ত বিধান:
→ ধারা ২৬৫ক (265A) থেকে ২৬৫জ (265J) পর্যন্ত
- এই ধারাগুলোর মাধ্যমে দায়রা আদালতে মামলা শুরু থেকে রায় ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়াটি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ক থেকে ২৬৫জ পর্যন্ত দায়রা আদালতে বিচারসংক্রান্ত সকল বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) ধারা ২৬৫ক থেকে ২৬৫জ ।
২৯.
দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোন ধারার অধীনে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন?
  1. ৩৭১ ধারা
  2. ৩৭২ ধারা
  3. ৩৭৪ ধারা
  4. ৩৭৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure, 1898) এর ধারা ৩৭৪ অনুযায়ী: যখন দায়রা আদালত মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে, তখন: সেই কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগের নিকট উপস্থাপন করতে হয়, এবং হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন (confirmation) না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না।

অর্থাৎ দায়রা আদালতের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টের অনুমোদন ব্যতীত কার্যকর করা যায় না, এবং এই আইনি বাধ্যবাধকতা নির্ধারিত হয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারায়।
তাই সঠিক উত্তর: গ) ৩৭৪ ধারা ।
-------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 374. Sentence of death to be submitted by Court of Session:
 When the Court of Session passes sentence of death, the proceedings shall be submitted to the High Court Division and the sentence shall not be executed unless it is confirmed by the High Court Division.
৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(২) অনুযায়ী, যদি কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে খালাসের আদেশ প্রদান করা হয় এবং সেই আদেশে আইনগত ভুল থাকে, তাহলে কোন পক্ষ আপিল করতে পারবে?
  1. আসামীর পক্ষ
  2. অভিযোগকারী
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. কোনো পক্ষই পারবে না
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(২) (Section 417(2)) অনুযায়ী, যদি কোনো আদালত খালাসের আদেশ দেয় এবং সেই আদেশে আইনগত ভুল থাকে, তবে অভিযোগকারী আপিল করতে পারবেন।
এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য যখন খালাসের আদেশ অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া হয় এবং সেই আদেশে কোনো আইনগত ভুল রয়েছে, ফলে অভিযোগকারী (যিনি মামলাটি দায়ের করেছেন) আইনগত ভুলের কারণে আপিল করার অধিকারী হন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ ধারায় খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়-১- হাইকোর্ট বিভাগে ২- দায়রা জজের নিকট।
খালাস আদেশটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দিলে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা আদালত দিলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে-
১. পাবলিক প্রসিকিউটর
২. অভিযোগকারী
৪১৭ (১) ধারায় পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ৪১৭ (২) ধারায় অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
- পাবলিক প্রসিকিউটর যেকোনো মামলায় (G.R এবং C.R উভয় মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকরতে পারে।
- অভিযোগকারী শুধুমাত্র নালিশী মামলায় (C.R মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭(৩) ধারা অনুসারে, খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৭ ধারা অনুচ্ছেদ অনুসারে পাবলিক প্রসিকিউটর খালাসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 417- Appeal in case of acquittal:
(1) Subject to the provisions of sub-section (4), the Government may, in any case, direct the Public Prosecutor to present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original or appellate Order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original or appellate Order of acquittal passed by any Magistrate.
(2) Notwithstanding anything contained in section 418, if such an order is passed in any case instituted upon complaint, and if the order involves an error of law occasioning failure of justice, the complainant may present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original order of acquittal passed by any Magistrate.
(3) No appeal by the complaint from an order of acquittal shall be entertained by the High Court Division or a Court of Session] after the expiry of sixty days from the date of the order of acquittal.
(4) If, in any case, the admission of an appeal from an order of acquittal is refused, no appeal from that order of acquittal shall lie under sub-section (1).
৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারাগুলোতে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার (Arrest Without Warrant) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৪৬-৫৩
  2. ধারা ৫৪-৬৭
  3. ধারা ৭০-৮০
  4. ধারা ১৫৪-১৬০
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ থেকে ৬৭ পর্যন্ত বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার (Arrest Without Warrant) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
- এই ধারাগুলিতে পুলিশ কিভাবে, কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে গ্রেফতার করতে পারবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

এই ধারাগুলোতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত:
- ধারা ৫৪: পুলিশের বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের সাধারণ ক্ষমতা।
- ধারা ৫৫-৫৭: গ্রেফতার ও আটকের প্রক্রিয়া।
- ধারা ৬২-৬৩: গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়ার শর্ত (জামিন, মুচলেকা বা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ)।

অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ থেকে ৬৭ পর্যন্ত বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার (Arrest Without Warrant) সংক্রান্ত বিধান বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং, বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের জন্য প্রযোজ্য ধারাগুলো হলো ৫৪-৬৭।
৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫০ ধারা অনুসারে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অধীনস্থ পুলিশ কর্মকর্তা সম্পত্তি জব্দ করলে কী করতে হবে?
  1. আদালতে রিপোর্ট দিতে হবে
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে
  3. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট দিতে হবে
  4. কোনো রিপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট দিতে হবে। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫০ ধারা অনুযায়ী,
- Any police-officer may seize any property which may be alleged or suspected to have been stolen, or which may be found under circumstances which create suspicion of the commission of any offence.
- Such police-officer, if subordinate to the officer in charge of a police-station, shall forthwith report the seizure to that officer.

অর্থাৎ, যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা (যিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অধীনস্থ) কোনো চুরি যাওয়া বা অপরাধ সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন সম্পত্তি জব্দ করেন, তাহলে তাকে "তাৎক্ষণিকভাবে" (forthwith) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সেই জব্দের রিপোর্ট দিতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 550. Powers to police to seize property suspected to be stolen:
 Any police-officer may seize any property which may be alleged or suspected to have been stolen, or which may be found under circumstances which create suspicion of the commission of any offence. Such police-officer, if subordinate to the officer in charge of a police-station, shall forthwith report the seizure to that officer.

৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫ক কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. অর্থদণ্ডযোগ্য অপরাধ
  2. কিশোর অপরাধ
  3. মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫ক(১)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এই ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
অর্থাৎ: প্রযোজ্য ক্ষেত্র:
- সাধারণ কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ
- অর্থদণ্ডযোগ্য অপরাধ
- কিশোর অপরাধ (জুভেনাইল কেস)

এই ধারা অনুযায়ী, আদালত অভিযুক্তের হেফাজতে কাটানো সময় কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে কর্তন করবে।
যদি হেফাজতের মেয়াদ প্রদত্ত সাজা থেকে বেশি হয়, তবে অভিযুক্তকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে (অন্যান্য অপরাধে আটক না থাকলে)।
অতএব, সঠিক উত্তর গ) মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 35A. Deduction of imprisonment in cases where convicts may have been in custody:
(1) Except in the case of an offence punishable only with death, when any court finds an accused guilty of an offence and, upon conviction, sentences such accused to any term of imprisonment, simple or rigorous, it shall deduct from the sentence of imprisonment, the total period the accused may have been in custody in the meantime, in connection with that offence. 
(2) If the total period of custody prior to conviction referred to in sub-section (1) is longer than the period of imprisonment to which the accused is sentenced, the accused shall be deemed to have served out the sentence of imprisonment and shall be released at once, if in custody, unless required to be detained in connection with any other offence; and if the accused is also sentenced to pay any fine in addition to such sentence, the fine shall stand remitted.
৩৪.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি কী?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৯৩ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় বা এমন মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে যাতে তা ওই কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
 দণ্ডবিধির ধারা ১৯৩ অনুযায়ী,
-যদি কোনো ব্যক্তি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় বা মিথ্যা প্রমাণ তৈরি করে, তাহলে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপ করা যেতে পারে।
- অন্যদিকে, বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যায়।

এখানে প্রশ্নে "বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের পর্যায়ে" মিথ্যা সাক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর ঘ) ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
৩৫.
দণ্ডবিধির ধারা ১১ অনুযায়ী নিচের কোনটি “Person” শব্দের মধ্যে পড়ে না?
  1. একটি সমিতি
  2. একটি কোম্পানি
  3. সমবায় প্রতিষ্ঠান
  4. একটি প্রাকৃতিক নদী
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১১ (Section 11) অনুযায়ী:
“The word ‘person’ includes any Company or Association, or body of persons, whether incorporated or not.”
- “Person” শব্দটি দ্বারা কোনো কোম্পানি, সংঘ বা ব্যক্তি-সমষ্টি বোঝানো হয়—তা নিবন্ধিত (incorporated) হোক বা না হোক।

তবে, “প্রাকৃতিক নদী”:
- একটি প্রাকৃতিক সত্তা, যার আইনি ব্যক্তিত্ব নেই।
- (যদিও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষা আইন অনুযায়ী 'legal person' হিসেবে গণ্য হতে পারে, কিন্তু সেটা দণ্ডবিধির সাধারণ সংজ্ঞায় নয়)।
- এটি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংঘ নয়, সুতরাং দণ্ডবিধির ধারা ১১ অনুযায়ী "Person" এর মধ্যে পড়ে না।
৩৬.
দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা অনুসারে "বেআইনি সমাবেশ" গঠনের জন্য ন্যূনতম কতজন ব্যক্তির উপস্থিতি প্রয়োজন?
  1. ৩ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. ১০ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারার মতে, বেআইনি সমাবেশ গঠনের জন্য ন্যূনতম পাঁচজন ব্যক্তির উপস্থিতি প্রয়োজন।
যে কোনো সমাবেশ, যেখানে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে সমবেত হয়, তাকে বেআইনি সমাবেশ হিসেবে গণ্য করা হবে।
- ধারা ১৪১:
"পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী যে কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনি সমাবেশ বলে।"
- এর মানে হল যে, পাঁচজন বা তার অধিক ব্যক্তির সমাবেশ, যদি কোনও বেআইনি কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে হয় (যেমন: সরকারের বিরুদ্ধে হুমকি, আইনের কার্যকরীকরণে বাধা ইত্যাদি), তবে সেটি বেআইনি সমাবেশ হিসেবে গণ্য হবে।
৩৭.
কোন ধরনের স্থানে মারামারি করলে তা দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. প্রকাশ্য স্থানে
  2. নির্জন এলাকায়
  3. কোনো বন্ধ ঘরে
  4. ব্যক্তিগত বাড়ির ভিতরে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ প্রকাশ্য স্থানে মারামারি করে, তবে তা একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
- এটি প্রকাশ্য স্থানে শান্তি ভঙ্গ এবং জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়।
ধারা ১৫৯:
"যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে মারামারি করে বা অন্যভাবে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।"
- অর্থাৎ, প্রকাশ্য স্থানে মারামারি করা হলে তা দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং শাস্তি আরোপ করা যাবে।
৩৮.
দণ্ডবিধির ধারা ২৯৫ অনুযায়ী ধর্মীয় স্থান বা পবিত্র বস্তু ক্ষতিগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ধারা ২৯৫ অনুযায়ী—
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ধর্মীয় শ্রেণীর উপাসনার স্থান (place of worship) বা তাদের জন্য পবিত্র বলে বিবেচিত কোনো বস্তুকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস, ক্ষতিসাধন বা অপবিত্র করে, এবং এর ফলে সেই শ্রেণীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে কিংবা তারা তা ধর্মের অবমাননা হিসেবে বিবেচনা করে তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে।
- এই অপরাধের শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ (দুই) বছর মেয়াদের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

- The Penal Code, Section 295:
“Whoever destroys, damages or defiles any place of worship, or any object held sacred by any class of persons with the intention of thereby insulting the religion... shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.”

 সুতরাং, ধারা ২৯৫ অনুসারে ধর্মীয় স্থান বা পবিত্র বস্তু ক্ষতিগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ২ বছর কারাদণ্ড, তাই সঠিক উত্তর (গ)।
৩৯.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুসারে, মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়?
  1. ধারা ২৯৮
  2. ধারা ২৯৯
  3. ধারা ৩০০
  4. ধারা ৩০১
ব্যাখ্যা

⇒  দণ্ডবিধির ধারা ২৯৯ অনুসারে, মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যু নরহত্যা হিসেবে গণ্য হয় না। তবে, যদি শিশুর কোনো অংশ পৃথিবীতে বের হয়ে আসে এবং পরবর্তীতে মারা যায়, তা নরহত্যা হিসেবে শাস্তিযোগ্য হবে। 

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা:- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

ব্যাখ্যা ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগছে, তার দৈহিক, জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
ব্যাখ্যা ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভূমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 299: Culpable homicide:
- Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide.

Explanation-1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death.
Explanation-2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented. 
Explanation-3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.

৪০.
দণ্ডবিধির ৩১২ ধারা অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত ঘটালে এবং তা মায়ের জীবন বাঁচানোর জন্য না হলে, সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ২ বছর কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩১২ অনুযায়ী বলা হয়েছে:
“যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এমন কোনো কার্য করেন, যার ফলে গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়, এবং যদি তা মায়ের জীবন রক্ষার জন্য “সৎ বিশ্বাসে” (good faith) করা না হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।”
এছাড়াও, যদি ঐ নারী “quick with child” অর্থাৎ গর্ভধারণের পর নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে থাকেন (সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় ত্রৈমাসিক বোঝানো হয়), তাহলে শাস্তি আরও বেশি হয় – সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
তবে প্রশ্নে গর্ভপাতের সাধারণ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই: সঠিক উত্তর: ৩ বছর কারাদণ্ড — ধারা ৩১২ অনুসারে, যদি গর্ভপাত মায়ের জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে না করা হয়।

ধারা ৩১২: গর্ভপাত ঘটানো (Causing miscarriage)
"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত ঘটায়, এবং যদি তা মায়ের জীবন রক্ষার জন্য সৎ বিশ্বাসে (good faith) করা না হয়, তবে সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকার কারাদণ্ডে (simple বা rigorous imprisonment) দণ্ডিত হবেন, অথবা জরিমানা দিতে হবে, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আর যদি নারী “quick with child” অবস্থায় থাকেন, তবে সেই ব্যক্তির সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকার কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান থাকবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারার অধীনে এমনকি যদি কোনো নারী নিজেই নিজের গর্ভপাত ঘটান, তাহলে তিনিও অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 312. Causing miscarriage:
Whoever voluntarily causes a woman with child to miscarry, shall, if such miscarriage be not caused in good faith for the purpose of saving the life of the woman, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both; and,
if the woman be quick with child, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine. 
Explanation.-A woman who causes herself to miscarry, is within the meaning of this section.

৪১.
দণ্ডবিধির ২৮৩ ধারা অনুসারে, কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের পথে বা নৌপথে কোন বিপদ সৃষ্টি করে, তাকে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা করা হতে পারে?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২৮৩ অনুযায়ী:
“যে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কাজ করে বা তার দায়িত্বে থাকা কোনো সম্পত্তি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে জনসাধারণের চলাচলের পথ বা নৌপথে বিপদ, প্রতিবন্ধকতা বা ক্ষতি সৃষ্টি করে, তবে তাকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানা করা যেতে পারে।”

অর্থাৎ দণ্ডবিধির ২৮৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি জনসাধারণের পথে বা নৌপথে কোন বিপদ, প্রতিবন্ধকতা বা ক্ষতির সৃষ্টি করেন, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানা করা হতে পারে।
সঠিক উত্তর: খ) ২০০ টাকা। 

⇒ The Penal Code, 1860- Section 283. Danger or obstruction in public way or line of navigation:
 Whoever, by doing any act, or by omitting to take order with any property in his possession or under his charge, causes danger, obstruction or injury to any person in any public way or public line of navigation, shall be punished with fine which may extend to two hundred taka.
৪২.
সড়ক দুর্ঘটনায় অসাবধানতাবশত কারও মৃত্যু ঘটালে দণ্ডবিধির কোন ধারা প্রযোজ্য?
  1. ধারা ৩০২
  2. ধারা ৩০৪ক
  3. ধারা ৩০৪খ
  4. ধারা ৩০৬
ব্যাখ্যা
⇒ যদি সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ অসাবধানতাবশত (negligently) কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়, এবং তা ইচ্ছাকৃত খুন নয়, তাহলে দণ্ডবিধির ৩০৪খ ধারা প্রযোজ্য হয়।
- দণ্ডবিধির ধারা ৩০৪খ বিশেষভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় অসাবধানতাবশত (rash or negligent driving) কারও মৃত্যু ঘটালে প্রযোজ্য।
- এই ধারায় শাস্তি হিসেবে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে।

→ ধারা ৩০৪খ – বেপরোয়া বা অসতর্ক ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটানো “যে ব্যক্তি জনসাধারণের পথে বেপরোয়া বা অসতর্কভাবে কোনো যানবাহন চালানোর ফলে কারো মৃত্যু ঘটায়,
অথচ তা culpable homicide নয়, সে ব্যক্তি দণ্ডিত হবেন, সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে।”

⇒ The Penal Code, 1860- Section 304B. Causing death by rash driving or riding on a public way:
Whoever causes the death of any person by rash or negligent driving of any vehicle or riding on any public way not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
৪৩.
দণ্ডবিধির ২৩২ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ coin জাল করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৭ বছর কারাদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. শুধু জরিমানা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৩২ ধারা বলছে:
"যে ব্যক্তি বাংলাদেশ coin জাল করে, বা জাল করার প্রক্রিয়ার কোনো অংশ জেনে-বুঝে সম্পাদন করে, তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা দেওয়া যেতে পারে।"
- অর্থাৎ এই অপরাধটি অত্যন্ত গুরুতর বলে বিবেচিত হয়, কারণ এটি রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে "যাবজ্জীবন কারাদণ্ড" নির্ধারিত আছে। 
------ 
⇒The Penal Code, 1860-Section- 232. Counterfeiting Bangladesh coin:
Whoever counterfeits, or knowingly performs any part of the process of counterfeiting Bangladesh coin, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
৪৪.
দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, কোন মহিলার শালীনতায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কোন মহিলার শালীনতায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে তার ওপর আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

- দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি: কোনো নারীর উপর আক্রমণ (assault) বা অপরাধমূলক বল (criminal force) প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বা জ্ঞানসহকারে যে এতে তার শালীনতায় আঘাত (outrage modesty) পড়বে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি একসাথে প্রযোজ্য।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 354. Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty:
Whoever assaults or uses criminal force to any woman, intending to outrage or knowing it to be likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৪৫.
দণ্ডবিধির ১২০ক ধারা অনুযায়ী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র গঠনের জন্য ন্যূনতম কতজন ব্যক্তির প্রয়োজন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১২০ক ধারা অনুযায়ী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy) গঠনের জন্য ন্যূনতম দুইজন ব্যক্তির প্রয়োজন। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন অবৈধ কাজ করতে বা বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করতে সম্মত হন, তখন তাদের সম্মতিকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হবে।
অর্থাৎ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা কমপক্ষে দুইজন হতে হবে, এবং তারা একসাথে ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে যদি কোনও অবৈধ কাজ সংঘটিত করার জন্য সম্মত হন, তবে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section, 120A. Definition of criminal conspiracy.
When two or more persons agree to do, or cause to be done,- 
(1) an illegal act, or 
(2) an act which is not illegal by illegal means, such an agreement is designated a criminal conspiracy: 
Provided that no agreement except an agreement to commit an offence shall amount to a criminal conspiracy unless some act besides the agreement is done by one or more parties to such agreement in pursuance thereof. 
Explanation.-It is immaterial whether the illegal act is the ultimate object of such agreement, or is merely incidental to that object.

৪৬.
দণ্ডবিধির ১৪৭ ধারা অনুসারে, "Rioting" এর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. এক বছরের কারাদণ্ড
  2. দুই বছরের কারাদণ্ড
  3. পাঁচ বছর কারাদণ্ড
  4. সাত বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১৪৭ অনুযায়ী: "যে কেউ দাঙ্গার (Rioting) জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে, তাকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।"
→ দাঙ্গা (Rioting) হলো একটি বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly) যেটি বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা করে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section,147. Punishment for rioting:
- Whoever is guilty of rioting, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৪৭.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপহরণ (Abduction) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৩৬০
  2. ধারা ৩৬২
  3. ধারা ৩৬৫
  4. ধারা ৩৭০
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৬২-এ অপহরণের (Abduction) সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে বলপ্রয়োগ বা প্রতারণামূলকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে বাধ্য করে, তাকে অপহরণ বলা হয়।
- অর্থাৎ, অপহরণ (Abduction) হল এমন একটি অপরাধ যেখানে কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা প্রতারণার মাধ্যমে বা শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়।
⇒ The Penal Code, 1860- Section, 362. Abduction:
 - Whoever by force compels, or by any deceitful means induces, any person to go from any place, is said to abduct that person.

৪৮.
Section 55A of the Penal Code preserves the President’s power to:
  1. Impose new punishments
  2. Increase punishments
  3. Overrule court judgments
  4. Grant pardons, reprieves, or remissions
ব্যাখ্যা

Answer: c) Grant pardons, reprieves, or remissions.
⇒ The Penal Code, 1860- Section, 55A. Saving for President’s prerogative:
 - Nothing in section fifty-four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment.

ধারা ৫৫ক: রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংরক্ষণ (Saving for President’s prerogative)
"Nothing in section fifty-four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment."

- এই ধারাটি নির্দেশ করে যে, ধারা ৫৪ এবং ধারা ৫৫-এ যেসব বিধান রয়েছে, তা রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতা, যেমন মুক্তি, দয়া, দণ্ড মওকুফ, বা দণ্ডে ছাড় দেওয়ার অধিকারকে প্রভাবিত বা খর্ব করতে পারবে না।
 
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি দেশের শীর্ষনেতা হিসেবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমার (pardon) বা দণ্ড মওকুফ (reprieve) করার অধিকার রাখেন। এই ক্ষমতা তার নিজস্ব প্রিভিলেজ বা prerogative হিসেবে পরিচিত।
- ধারা ৫৪ এবং ৫৫-এ, বিশেষত, দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি, দণ্ডের পর্যালোচনা বা দণ্ডের মওকুফ সম্পর্কিত কিছু বিধান রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা এই সকল বিধান থেকে স্বাধীন, এবং তার ক্ষমতা কোনোভাবেই কমানো যাবে না।

৪৯.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা এর Explanation-1 অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে কাউকে অপরাধ করতে উৎসাহিত করলে তাকে কী বলে?
  1. সহায়তা (Aid)
  2. ষড়যন্ত্র (Conspiracy)
  3. প্ররোচনা (Instigation)
  4. উদ্বুদ্ধকরণ (Incitement)
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার Explanation-1 এ স্পষ্ট বলা হয়েছে:
"ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রদান (wilful misrepresentation) অথবা গোপন করা বাধ্যতামূলক কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (wilful concealment) দ্বারা কাউকে অপরাধ করতে প্ররোচিত করলে তা Instigation বা প্ররোচনা হিসেবে গণ্য হবে।"
এখানে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা হয়েছে, যা প্ররোচনার (Instigation) সংজ্ঞার সাথে মিলে যায়।

Explanation-1 অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, যা ফলে অপরাধ সংঘটিত হয়, সেটিকে প্ররোচনা (Instigation) বলা হবে। এখানে, কোনো ব্যক্তি অন্যকে অপরাধ করতে প্ররোচিত করার উদ্দেশ্যে ভুল তথ্য প্রদান বা গোপন তথ্য প্রকাশ না করা—এটি প্ররোচনার অংশ হিসেবে ধরা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার বিধান: কোন ব্যাপারে সহায়তা প্রদান:
কোন ব্যক্তি কোন ব্যাপারে সহায়তা দান করেছে বলে পরিগণিত হয়, যদি সে ব্যক্তি-
প্রথমত :- কোন ব্যক্তিকে উক্ত ব্যাপারে প্ররোচনা দেয়;
দ্বিতীয়ত :- উক্ত কাজটি করার জন্য কোন ব্যক্তির বা ব্যক্তিদের সাথে কোন চক্রান্তে লিপ্ত হয়, যার ফলে চক্রান্ত অনুযায়ী কোন কাজ করা হয় অথবা কোন কাজ করা হতে বেআইনিভাবে বিরত থাকা হয় এবং উক্ত কাজ করার জন্য তা করা হয়;
তৃতীয়ত :- কোন কাজ করে অথবা বেআইনিভাবে কোন কাজ করা হতে বিরত থেকে উপযুক্ত কার্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করে।

ব্যাখ্যা ১:- কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাপূর্বক কোন বাস্তব গুরুত্বসম্পন্ন ঘটনার, যা প্রকাশ করতে সে বাধ্য-ভ্রান্ত বিবরণ প্রকাশ করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক উহা গোপন করে কোন কাজ করে বা করায় অথবা কোন কাজ করার বা করানোর চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি উক্ত কাজ সংঘটনে প্ররোচনা দেয় বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা ২:- যে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদনের সময় বা তার পূর্বে উক্ত কাজ সম্পাদন সুগমকল্পে কোন কিছু করে, এবং তদ্বারা উহার সম্পাদন সুগম করে, সে ব্যক্তি উক্ত কাজ সম্পাদনের সহায়তা করে বলে অভিহিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 107: Abetment of a thing: A person abets the doing of a thing, who
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1: A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.

Explanation 2.-Whoever, either prior to or at the time of the commission of an act, does anything in order to facilitate the commission of that act, and thereby facilitates the commission thereof, is said to aid the doing of that act.

৫০.
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরি সংঘটিত হওয়ার জন্য কোন বিষয়টি আবশ্যক?
  1. মালিকের সম্মতি থাকতে হবে
  2. অস্থাবর সম্পত্তি হতে হবে
  3. সম্পত্তি মাটির সাথে যুক্ত থাকতে হবে
  4. শুধুমাত্র দখলের অধিকার থাকতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লিখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 378: Theft:
- Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.- A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.- A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.- A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.- A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.- The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.
৫১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৬ অনুযায়ী, যদি বিপক্ষীয় পক্ষ মূল দলিলটি জালিয়াতি বা জোর করে দখল করে, তবে কী হবে?
  1. নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক
  2. মূল দলিল উপস্থাপন করতে হবে
  3. নোটিশ ছাড়াই গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য
  4. কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ধারা ৬৬ অনুযায়ী:
যদি বিপক্ষীয় পক্ষ মূল দলিলটি জালিয়াতি বা জোর করে দখল করে থাকে, তবে সেই ক্ষেত্রে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এর মানে, গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যতটুকু প্রয়োজন মূল দলিলের অস্তিত্ব বা বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৬ অনুযায়ী, দলিলের গৌণ সাক্ষ্য দেওয়ার আগে সাধারণত যে পক্ষের দখলে বা নিয়ন্ত্রণে মূল দলিলটি আছে, তাকে নোটিশ দিতে হয়। তবে, প্রোভাইসোতে ছয়টি ব্যতিক্রম উল্লেখ আছে, যেখানে নোটিশের প্রয়োজন হয় না। এর মধ্যে তৃতীয় ব্যতিক্রমটি হলো:
"When it appears or is proved that the adverse party has obtained possession of the original by fraud or force."
অর্থাৎ, যদি দেখা যায় বা প্রমাণিত হয় যে বিপক্ষীয় পক্ষ (adverse party) মূল দলিলটি জালিয়াতি বা জোর করে দখল করেছে, তবে গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
৫২.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩-এ 'আদালত' বলতে কাকে বোঝায়?
  1. বিচারক
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) উল্লিখিত সবগুলো।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩-এ 'আদালত' শব্দের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, "আদালত" বলতে বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য ব্যক্তি যারা আইনত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন, তাদেরকে বোঝায়। এর মধ্যে বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি সকলেই অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া, সালিস (Arbitrator) আদালতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই, সঠিক উত্তর হচ্ছে ঘ) উল্লিখিত সবগুলো, কারণ আদালত বলতে শুধু বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটই নয়, সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য যে কেউ, তারাও আদালতের অন্তর্ভুক্ত।

- Section 3, Interpretation clause- "Court" includes all Judges and Magistrates and all persons, except arbitrators, legally authorized to take evidence.

৫৩.
যে ব্যক্তি বারবার একই ধরনের কার্যক্রম করছে, তার মধ্যে সেই কাজটি দুর্ঘটনাক্রমে ঘটেছে কি না, তা প্রমাণের জন্য কোন ধারাটি প্রযোজ্য?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১৩
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ১২
ব্যাখ্যা
⇒  সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৫ বিশেষভাবে প্রযোজ্য যখন প্রশ্ন উঠে যে কোনো কাজ দুর্ঘটনাক্রমে নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদিত হয়েছে।
এই ধারা অনুসারে:
যদি কোনো ব্যক্তি বারবার একই ধরনের কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে, যেখানে প্রতিটি ঘটনায় ঐ ব্যক্তি জড়িত ছিল,
তাহলে এই পুনরাবৃত্তিমূলক ঘটনাগুলো প্রমাণ করতে সাহায্য করে যে কাজটি দুর্ঘটনাজনিত নয়, বরং ইচ্ছাকৃত বা একটি নির্দিষ্ট অভিপ্রায়ে করা হয়েছে।

- ধারা ১৫ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি বারবার একই ধরনের কাজ করে থাকে এবং সেই কাজটি দুর্ঘটনাক্রমে ঘটেছে কিনা, তা প্রমাণের জন্য তার পূর্বের ঘটনার ধারাবাহিকতা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ,
- যদি একজন ব্যক্তি বারবার তার বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে এবং প্রতিবারই ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকে, তবে এই ঘটনা তার পূর্বের আগুন লাগানো ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যা প্রমাণ করতে সাহায্য করবে যে, আগুনগুলি দুর্ঘটনাক্রমে হয়নি, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।
৫৪.
সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ডের সংজ্ঞায় কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. ড্রোন ডেটা
  2. হস্তলিখিত দলিল
  3. কাঠের তৈরি ফলক
  4. পাথরে খোদাই করা লেখা
ব্যাখ্যা
⇒ The Evidence (Amendment) Act, 2022 দ্বারা সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩-এ "ডিজিটাল রেকর্ড" বা "ইলেকট্রিক রেকর্ড"-এর নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে।
এই সংশোধন অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ড বলতে বোঝায়—
 ডিজিটাল, ইলেকট্রনিক, বা কম্পিউটার-ভিত্তিক যে কোনো মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রেরণ বা গ্রহণ করা হয়েছে এমন তথ্য বা রেকর্ড।
এতে অন্তর্ভুক্ত:
- ম্যাগনেটিক/ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক/অপটিক্যাল/কম্পিউটার মেমরি
- অডিও, ভিডিও, সিডি/ডিভিডি, মাইক্রোফিল্ম
- সিসিটিভি, মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ছবি বা ভিডিও
- ড্রোন ডেটা
- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুসারে সংজ্ঞায়িত ডিভাইস থেকে সংগৃহীত তথ্য
- ওয়েবসাইট প্রকাশিত গেজেট ইত্যাদি।

⇒ সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২ এর ধারা ৩ অনুযায়ী ডিজিটাল রেকর্ডের সংজ্ঞায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত: ড্রোন ডেটা, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন/কম্পিউটারে সংরক্ষিত ডাটা, ডিজিটাল ডিভাইস (ডিভিডি, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি)

অন্যদিকে, খ) হস্তলিখিত দলিল, গ) কাঠের তৈরি ফলক,  ঘ) পাথরে খোদাই করা লেখা →  এগুলো ডিজিটাল রেকর্ডের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫৫.
সাক্ষ্য আইনকে কী ধরনের আইন বলা হয়?
  1. Civil Law
  2. Criminal Law
  3. Substantive Law
  4. Procedural Law
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law), যাকে Adjective Law বলেও উল্লেখ করা হয়।
- Procedural Law হলো সেই আইন যা আদালতে মামলা পরিচালনার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।
- এটি বলে দেয় কোন তথ্য, কিভাবে ও কখন আদালতে উপস্থাপন করা যাবে, এবং কীভাবে বিচারক বা আদালত সেই তথ্য গ্রহণ ও বিচার করবেন।

→ সাক্ষ্য আইন কোন অধিকার সৃষ্টি করে না, বরং
- আদালতে সত্য প্রমাণ করার নিয়ম ও পদ্ধতি নির্ধারণ করে।
- এটি বলে দেয় প্রমাণ কীভাবে উপস্থাপন করতে হবে, কোন সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য, এবং কোনটি অগ্রহণযোগ্য।
- তাই, এটি মূল অধিকারের (Substantive Rights) প্রয়োগে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
→ Substantive Law (সাবস্ট্যানটিভ আইন) হলো সেই আইন যা ব্যক্তির অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে, যেমন—দণ্ডবিধি (Penal Code), চুক্তি আইন ইত্যাদি।
- কিন্তু সাক্ষ্য আইন কোনো অধিকার সৃষ্টি করে না, শুধু সত্য উদঘাটনের পথ দেখায়।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইন = Procedural Law, কারণ এটি কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণের নিয়ম নির্ধারণ করে, নতুন কোনো অধিকার সৃষ্টি করে না।
৫৬.
কোন ধরণের দলিল সম্পর্কে আদালত অনুমান করে যে তাতে থাকা তথ্য সঠিক, যদি তা ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট হিসেবে গৃহীত হয়?
  1. ব্যক্তিগত তথ্য
  2. যাচাইকৃত তথ্য
  3. যাচাইবিহীন তথ্য
  4. তৃতীয় পক্ষের তথ্য
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ৮৫গ (85C) অনুযায়ী, আদালত ধরে নেবে যে ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেটে থাকা যাচাইকৃত তথ্য সঠিক, যদি তা স্বাক্ষরকারী গ্রহণ করে থাকে।
⇒ অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারা অনুযায়ী আদালত ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেটের "যাচাই করা হয়েছে এমন তথ্য" সঠিক বলে অনুমান করে।
- গ্রাহকের তথ্য হিসেবে নির্ধারিত তথ্য যাচাই করা না হলে তা সঠিক বলে আদালত অনুমান করবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারা- ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান:
বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, গ্রাহকের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়নি তা ব্যতীত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের উল্লেখিত তথ্য সঠিক, যদি সনদটি গ্রাহক দ্বারা গৃহিত হয়।
------------
⇒ The Evidence Act, Section 85C- Presumption as to Digital Signature Certificates.-
The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the subscriber accepted the certificate.
৫৭.
সাক্ষ্য আইনের Res Gestae সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হয় কেন?
  1. এটি শুধুমাত্র অপরাধীর স্বীকারোক্তি
  2. এটি আদালতের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ
  3. এটি সবসময় লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়
  4. এটি ঘটনার সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত ও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) এটি ঘটনার সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত ও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

⇒ Res Gestae শব্দটি লাতিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ — "ঘটনার অংশ"।
⇒ সাক্ষ্য আইনে (বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ ও ১৪ ধারায়) Res Gestae সাক্ষ্য সেই ধরনের তথ্য বা বক্তব্যকে বোঝায়, যা কোনো অপরাধ বা ঘটনার সময় বা অব্যবহিত পূর্বে বা পরে এমনভাবে বলা বা করা হয়েছে যে, তা ঘটনার স্বাভাবিক, আকস্মিক ও অপরিকল্পিত অংশ হয়ে পড়ে।
- এই বক্তব্য বা আচরণগুলো এমন সময় ঘটে, যখন ঘটনার কারণে মানসিক উত্তেজনা বা অবস্থা এতটাই প্রবল থাকে যে, ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলার মতো অবকাশ পায় না।
- এর ফলে, আদালত ধরে নেয় — এই ধরণের বক্তব্যে মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাই তা গ্রহণযোগ্য।

 উদাহরণ:
- একজন ব্যক্তি আঘাত পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলে — “X আমাকে আঘাত করেছে” — এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও ঘটনাসংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া, এবং তাই Res Gestae সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

⇒ তাই, 'Res Gestae' সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হয় কারণ— "এটি ঘটনার সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত ও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।"

৫৮.
সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা কোন প্রকার বিবৃতিকে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য করে?
  1. সব ধরনের নকল দলিল
  2. সাক্ষ্যদানে অনিচ্ছুক ব্যক্তির বিবৃতি
  3. কেবলমাত্র জীবিত ব্যক্তির মৌখিক বক্তব্য
  4. মৃত, নিখোঁজ, বা সাক্ষ্যদানে অযোগ্য ব্যক্তির বিবৃতি
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: ঘ) মৃত, নিখোঁজ, বা সাক্ষ্যদানে অযোগ্য ব্যক্তির বিবৃতি।
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২–এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, এমন ব্যক্তির বিবৃতি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হয়— যিনি: মারা গেছেন (dead), নিখোঁজ (cannot be found), সাক্ষ্যদানে অযোগ্য (incapable of giving evidence) বা যাঁর উপস্থিতি আদালতের জন্য অত্যন্ত সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ (attendance cannot be procured without unreasonable delay or expense)
এই ধরনের পরিস্থিতিতে, তাদের পূর্বে দেওয়া মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি (যেমন: মৃত্যুকালীন ঘোষণা, ব্যবসায়িক দলিল, স্বার্থবিরোধী বক্তব্য ইত্যাদি) ৮টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ও সাক্ষ্যযোগ্য হিসেবে ধারা ৩২-এ স্বীকৃত।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

Illustrations:
(a) The question is, whether A was murdered by B; or
A dies of injuries received in a transaction in the course of which she was ravished. The question is whether she was ravished by B; or
The question is whether A was killed by B under such circumstances that a suit would lie against B by A's widow.
Statements made by A as to the cause of his or her death, referring respectively to the murder, the rape and the actionable wrong under consideration are relevant facts.
৫৯.
সাক্ষ্য আইনের বিধান অনুসারে কার দ্বারা প্রদত্ত বিবৃতিকে ‘Admission’ হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. শুধুমাত্র বিচারক
  2. পুলিশ অফিসার
  3. মামলার পক্ষ বা তার এজেন্ট
  4. তৃতীয় পক্ষ যারা মামলার সাথে সম্পর্কিত নয়
ব্যাখ্যা
⇒ Evidence Act, 1872-এর Section 17 ও 18 অনুযায়ী, Admission বলতে বোঝানো হয় মামলার পক্ষ বা তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুমোদিত এজেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্য, যা মামলার প্রাসঙ্গিক তথ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।
- শুধুমাত্র মামলার পক্ষ বা তার অনুমোদিত এজেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্যই আইনিভাবে "Admission" হিসেবে গণ্য হয়।

সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৮ অনুসারে, নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের বিবৃতিকে Admission হিসেবে গণ্য করা হয়:
- মামলার কোনো পক্ষ (Plaintiff বা Defendant), পক্ষের এজেন্ট (Agent), যদি আদালত মনে করে যে এজেন্ট ঐ পক্ষের পক্ষে বিবৃতি দিতে স্পষ্ট বা অন্তর্নিহিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
- Admission মৌখিক, লিখিত বা ডিজিটাল হতে পারে (ধারা ১৭)।
- প্রতিনিধিত্বমূলক ক্ষমতায় দেওয়া বিবৃতিও Admission হয়, যদি তা সেই চরিত্রে দেওয়া হয় (ধারা ১৮-এর দ্বিতীয় অংশ)।
সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) মামলার পক্ষ বা তার এজেন্ট।
-----------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৮ ধারামতে, নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণের স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হবে। যথা-
ⅰ)) মোকদ্দমার পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধির স্বীকৃতি;
ii) প্রতিনিধিত্বমূলক মামলার ক্ষেত্রে মামলার বাদী বা বিবাদীর প্রতিনিধি হিসেবে প্রদত্ত স্বীকৃতি;
iii) মামলার বিষয় বস্তুতে মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থের অধিকারী ব্যক্তিদের বক্তব্য অথবা তাদের নিকট থেকে স্বার্থ প্রাপ্ত ব্যক্তিতে বক্তব্য অর্থাৎ মামলার বিষয়বস্তুতে কোনভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বীকৃতি; অথবা
iv) মামলার কোন পক্ষের বিরুদ্ধে যার অবস্থান বা দায় রয়েছে তেমন ব্যক্তির স্বীকৃতি বা বক্তব্য।

⇒The Evidence Act, 1872, Section-18:
- Admission -by party to proceeding or his agent-
Statements made by a party to the proceeding, or by an agent to any such party, whom the Court regards, under the circumstances of the case, as expressly or impliedly authorized by him to make them, are admissions.
- by suit or in representative character-
Statements made by parties to suits suing or sued in a representative character, are not admissions, unless they were made while the party making them held that character.
- by party interested in subject-matter;Statements made by–
(1) persons who have any proprietary or pecuniary interest in the subject-matter of the proceeding, and who make the statement in their character of persons so interested, or
- by person from whom interest derived-
(2) persons from whom the parties to the suit have derived their interest in the subject-matter of the suit, are admissions, if they are made during the continuance of the interest of the persons making the statements.
৬০.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় Estoppel সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ধারা ২৭
  2. ধারা ৫৪
  3. ধারা ৯০
  4. ধারা ১১৫
ব্যাখ্যা

⇒ Estoppel সম্পর্কিত আলোচনা সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৫-এ করা হয়েছে।

⇒ আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে:
"যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে কোনো বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করান এবং সেই বিশ্বাসে সেই ব্যক্তি কিছু কাজ করেন, তখন প্রথম ব্যক্তি (বা তার প্রতিনিধি) সেই বিষয়ের সত্যতা অস্বীকার করতে পারবেন না।"
- এটা মূলত ন্যায়ের নীতি। কোনো ব্যক্তি যদি অন্যকে কোনো ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করেন এবং সেই ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তবে পরবর্তীতে সেই প্রথম ব্যক্তি সেই তথ্য অস্বীকার করতে পারবেন না।

উদাহরণ:
ব্যক্তি A ইচ্ছাকৃতভাবে B-কে বিশ্বাস করান যে একটি জমি A-র, এবং B সেই জমি কিনে নেন। পরে যদি A বলেন যে তখন জমি তাঁর ছিল না, তবে তিনি সেটা অস্বীকার করতে পারবেন না।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 115. Estoppel:
When one person has, by his declaration, act or omission, intentionally caused or permitted another person to believe a thing to be true and to act upon such belief, neither he nor his representative shall be allowed, in any suit or proceeding between himself and such person or his representative, to deny the truth of that thing.

Illustration 
A intentionally and falsely leads B to believe that certain land belongs to A, and thereby induces B to buy and pay for it.
The land afterwards becomes the property of A, and A seeks to set aside the sale on the ground that, at the time of the sale, he had no title. He must not be allowed to prove his want of title.

৬১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৫ অনুযায়ী, যখন দলিলের ভাষা স্পষ্ট হলেও তা বাস্তব পরিস্থিতির সাথে মানানসই না হয়, তখন–
  1. দলিল অবৈধ
  2. মৌখিক সাক্ষ্য অগ্রহণযোগ্য
  3. দলিল বাতিল বলে গণ্য হবে
  4. সাক্ষ্য দ্বারা বিশেষ অর্থে ব্যবহার প্রমাণ করা যাবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৫ অনুসারে, ভাষা স্পষ্ট হলেও যদি বাস্তবতার সাথে মিল না খায়, তখন ভাষাটি কোনো "বিশেষ অর্থে" ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা প্রমাণ করা যেতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৫ – বিদ্যমান বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দলিলের ভাষা অর্থহীন হলে প্রমাণ:
যখন কোনো দলিলে ব্যবহৃত ভাষা আপাতদৃষ্টিতে পরিষ্কার ও নির্ভুল হলেও বিদ্যমান বাস্তবতার সাথে তা অর্থবোধক না হয়, তখন এটি প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য প্রদান করা যেতে পারে যে ভাষাটি বিশেষ কোনো অর্থে ব্যবহার করা হয়েছিল।
উদাহরণ:
- ক ‘খ’-কে একটি দলিলের মাধ্যমে বলে “আমার ঢাকা শহরের বাড়ি খ’-কে বিক্রি করলাম”।
- কিন্তু ক-এর ঢাকায় কোনো বাড়ি নেই, তবে দেখা যায় যে তার নারায়ণগঞ্জে একটি বাড়ি ছিল, এবং খ দলিল সম্পাদনের পর থেকে সেই বাড়ির দখলে ছিল।
- এসব বিষয় প্রমাণ করা যেতে পারে, যেন বোঝা যায় দলিলটি মূলত নারায়ণগঞ্জের বাড়ির জন্য প্রযোজ্য।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 95. Evidence as to document unmeaning in reference to existing facts:
When language used in a document is plain in itself, but is unmeaning in reference to existing facts, evidence may be given to show that it was used in a peculiar sense.

Illustrations:
- A sells to B, by deed "my house in [Dhaka]".
- A had no house in [Dhaka], but it appears that he had a house at [Narayanganj], of which B had been in possession since the execution of the deed.
- These facts may be proved to show that the deed related to the house at [Narayanganj].
৬২.
সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারা অনুসারে, একজন উকিল কোন বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখতে বাধ্য নন?
  1. বেআইনি উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বার্তা
  2. মক্কেলের দেওয়া ব্যক্তিগত পরামর্শ
  3. মক্কেলের দেওয়া আইনি পরামর্শ
  4. পেশাগত কার্যকালে পরিচিত দলিলের বিষয়বস্তু
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১২৬ অনুযায়ী,
একজন ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল তাঁর মক্কেলের পক্ষ থেকে বা মক্কেলের উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত পেশাগত যোগাযোগের তথ্য গোপন রাখতে বাধ্য, তবে এর দুইটি ব্যতিক্রম রয়েছে:
১. যদি মক্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ বেআইনি উদ্দেশ্যে করা হয়।
২. যদি আইনজীবী তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এমন কিছু লক্ষ করেন, যা প্রমাণ করে যে নিযুক্তির পরে কোনো অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না।
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 126 Professional communications:
- No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:

Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.

Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.

৬৩.
সরকারি দলিলের প্রত্যয়িত কপি কে সরবরাহ করতে পারেন?
  1. যে কোনো ব্যক্তি
  2. শুধুমাত্র আদালতের বিচারক
  3. কোনো বেসরকারি সংস্থা
  4. সরকারি দলিলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৬ অনুসারে —
যে সরকারি কর্মকর্তা কোনো সরকারি দলিলের হেফাজতে আছেন এবং যিনি আইন অনুযায়ী জনগণের অনুরোধে ঐ দলিল প্রদর্শনের অধিকার রাখেন, তিনি ঐ দলিলের প্রত্যয়িত কপি (certified copy) সরবরাহ করতে পারেন।
এই কপি দিতে হলে:
- নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিতে হয়।
- প্রত্যয়িত কপির নিচে লেখা থাকে এটি মূল কাগজের সঠিক অনুলিপি।
- তাতে কর্মকর্তার নাম, পদবি, তারিখ এবং প্রয়োজনে সরকারি সীলমোহর থাকে।
Explanation-এ আরও বলা হয়েছে, যিনি তার দাপ্তরিক দায়িত্বে এসব কপি সরবরাহের ক্ষমতা রাখেন, তাকেই দলিলের হেফাজতকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

- অর্থাৎ প্রত্যয়িত কপি কেবলমাত্র সেই সরকারি কর্মকর্তা দিতে পারেন, যিনি ঐ সরকারি দলিলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন এবং আইনের অধীনে কপি সরবরাহে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

⇒The Evidence Act, 1872, Section-76. Certified copies of public documents: 
 Every public officer having the custody of a public document, which any person has a right to inspect, shall give that person on demand a copy of it on payment of the legal fees therefor, together with a certificate written at the foot of such copy that it is a true copy of such document or part thereof, as the case may be, and such certificate shall be dated and subscribed by such officer with his name and his official title, and shall be sealed, whenever such officer is authorized by law to make use of a seal, and such copies so certified shall be called certified copies. 
 
Explanation.-Any officer who, by the ordinary course of official duty, is authorized to deliver such copies, shall be deemed to have the custody of such documents within the meaning of this section.

৬৪.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬০ অনুযায়ী, কোন ধরনের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. সাক্ষী নিজে যা দেখেছে তার বিবরণ
  2. সাক্ষী নিজে যা শুনেছে তার বিবরণ
  3. সাক্ষী নিজে যা অনুভব করেছে তার বিবরণ
  4. অন্য কারো কাছ থেকে শোনা ঘটনার বিবরণ
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৬০-এ বলা হয়েছে,
"Oral evidence must, in all cases whatever, be direct."
অর্থাৎ, মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে। যদি সাক্ষ্য এমন বিষয়ে হয় যা—
→ দেখা যায়: সাক্ষীকে বলতে হবে "সে নিজে দেখেছে"
→ শোনা যায়: সাক্ষীকে বলতে হবে "সে নিজে শুনেছে"
→ অন্য কোনো ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করা যায়: সাক্ষীকে বলতে হবে "সে নিজে অনুভব করেছে"

কিন্তু, যদি কেউ এমন কিছু বলেন যা তিনি অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছেন – সেটি শুনাশোনা সাক্ষ্য (Hearsay evidence), এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ সেটি প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৬০ মতে- মৌখিক সাক্ষ্যকে সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে ( oral evidence must be direct)।
- অর্থাৎ এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয়, যা দেখা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলবে যে, সে এটি দেখেছে তার সাক্ষ্যই দিতে হবে;
- এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয় যা শোনা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলে যে, সে এটি শুনেছে, তার সাক্ষ্যই দিতে হবে।
- অর্থাৎ অন্যের কাছ থেকে শোনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
---------
⇒ The Evidence Act,1872: Section-60: Oral evidence must be direct:
- Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say-
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it;
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
if it refers to a fact which could be perceived by any other sense or in any other manner, it must be the evidence of a witness who says he perceived it by that sense or in that manner;
if it refers to an opinion or to the grounds on which that opinion is held, it must be the evidence of the person who holds that opinion on those grounds:
Provided that the opinions of experts expressed in any treatise commonly offered for sale, and the grounds on which such opinions are held, may be proved by the production of such treatises if the author is dead or cannot be found, or has become incapable of giving evidence, or cannot be called as a witness without an amount of delay or expense which the Court regards as unreasonable:
Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection.
৬৫.
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তুর সম্পর্কে মৌখিক স্বীকারোক্তি কখন সাক্ষ্য আইনে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য হয়?
  1. যখন আদালত তা লিখিত আকারে চায়
  2. যখন উক্ত ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা বিতর্কিত হয়
  3. যখন স্বীকারোক্তি প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে আসে
  4. যখন মৌখিক স্বীকারোক্তি কোনো পুলিশ অফিসার গ্রহণ করেন
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২২ক(Section 22A) অনুযায়ী বলা হয়েছে:
"Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question."
অর্থাৎ, সাধারণভাবে ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, যদি সেই ডিজিটাল রেকর্ডের সত্যতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে বা তা বিতর্কিত হয়, তখন সেই মৌখিক স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক বা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ২২ক অনুযায়ী,

"Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question."
অর্থাৎ, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু নিয়ে মৌখিক স্বীকারোক্তি সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়, যতক্ষণ না সেই রেকর্ডের সত্যতা বা প্রামাণ্যতা চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে।
৬৬.
তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর আদালত যদি সন্তুষ্ট হয় যে দেরির জন্য যৌক্তিক কারণ ছিল, তাহলে আদালত সময় বাড়াতে পারে—এই বিষয়টি তামাদি আইনের কোন ধারার বিধান?
  1. ৩ ধারা
  2. ৯ ধারা
  3. ৫ ধারা
  4. ৮ ধারা
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ নম্বর ধারা (Section 5) অনুযায়ী—
যদি কোন আপিল, রিভিশন, রিভিউ বা অন্যান্য প্রযোজ্য আবেদন নির্ধারিত সময়সীমার পরে দায়ের করা হয়, এবং আবেদনকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে বিলম্বের জন্য যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছিল, তাহলে আদালত সেই বিলম্ব মওকুফ করতে পারে এবং আবেদনটি গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করতে পারে।

- তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫ এর বিধান, “যদি কোনো আপীল বা আবেদন তামাদির মেয়াদ শেষে দাখিল করা হয়, তবে আদালত সেই দাখিল গ্রহণ করতে পারে যদি আপীলকারী বা আবেদনকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, দেরি হওয়ার জন্য যুক্তিসংগত কারণ ছিল।”


- এই ধারা প্রযোজ্য হয়:
১. Appeal (আপিল)
২. Application for leave to appeal (আপিলের অনুমতির আবেদন)
৩. Review of judgment (রায়ের পুনর্বিবেচনা/রিভিউ)
৪. Revision (রিভিশন আবেদন)
৫. Any other application to which this section may apply

এই ধারা প্রযোজ্য নয়:
এই ধারা মৌলিক স্যুট বা মূল মামলা (Suit)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যেমন:
- ঘোষণামূলক মামলা
- সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা
- স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা
 এই ধরনের মামলার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করলে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফ চাওয়া যায় না।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 5. Extension of period in certain cases:
 Any appeal or application for a revision or a review of judgment or for leave to appeal or any other application to which this section may be made applicable by or under any enactment for the time being in force may be admitted after the period of limitation prescribed therefor, when the appellant or applicant satisfies the Court that he had sufficient cause for not preferring the appeal or making the application within such period. 
 
Explanation - The fact that the appellant or applicant was misled by any order, practice or judgment of the High Court Division in ascertaining or computing the prescribed period of limitation may be sufficient cause within the meaning of this section.
৬৭.
তামাদি আইনের ধারা ২০ অনুসারে নিচের কোনটি স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য?
  1. মৌখিক প্রতিশ্রুতি
  2. ঋণের সুদ পরিশোধ
  3. ভবিষ্যতে পরিশোধের আশ্বাস
  4. ঋণ আছে তা আস্বীকার
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২০(১) অনুযায়ী:
- ঋণ বা লিগ্যাসির সুদের অর্থপ্রদান যদি তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে করা হয়, তাহলে তা একটি বৈধ স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে।
- এই অর্থপ্রদানের ফলে তামাদি মেয়াদ পুনরায় গণনা শুরু হবে (Payment refreshes the limitation period)।

- ধারা ২০ তে বলা হয়েছে, যদি কোনো ঋণগ্রহীতা তার ঋণের সুদ পরিশোধ করে, তবে এটি ঋণ সম্পর্কিত দায় স্বীকার করার সমতুল্য এবং এর ফলে তামাদি মেয়াদ পুনরায় শুরু হতে পারে। অর্থাৎ, ঋণের সুদ পরিশোধে ঋণগ্রহীতা তার দায় স্বীকার করেছে এবং তামাদি আইনের অধীনে এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়।

অর্থাৎ, ঋণের সুদ পরিশোধ হলো তামাদি আইনের ধারা ২০ এর অধীনে সঠিক স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হওয়া পদক্ষেপ।

COMPUTATION OF PERIOD OF LIMITATION 
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made: 
 
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
৬৮.
বাংলাদেশে বিদেশে সম্পাদিত কোনো চুক্তির ভিত্তিতে মামলা হলে, সাধারণত কোন তামাদি আইন প্রযোজ্য হয়?
  1. শুধুমাত্র বিদেশি তামাদি আইন
  2. শুধুমাত্র বাংলাদেশের তামাদি আইন
  3. দুই দেশের তামাদি আইন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ (Suits on foreign contracts) অনুযায়ী, যদি বাংলাদেশে কোনো বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে মামলা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের তামাদি আইনের বিধানাবলীই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, বিদেশি তামাদি আইন সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়।

ধারা ১১(১) বলছে:
- “Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act.”
এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দায়ের করা মামলা যদি বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ওপর ভিত্তি করে হয়, তবুও তা বাংলাদেশের তামাদি আইনের অধীনেই বিচার হবে।

তবে, একটি ব্যতিক্রম রয়েছে:
ধারা ১১(২) অনুযায়ী, বিদেশি তামাদি আইন তখনই defence হিসেবে গণ্য হতে পারে, যদি—
- বিদেশি তামাদি আইনের অধীনে চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত (extinguished) হয়ে যায়, এবং
- চুক্তির পক্ষদ্বয় উক্ত বিদেশি দেশে তামাদি সময়সীমার পুরো সময়জুড়ে বসবাস (domiciled) করছিল।
৬৯.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩৮ অনুযায়ী, জলপ্রবাহের পথ পরিবর্তনের মামলায় তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় কখন থেকে?
  1. ক্ষতি দেখা দেওয়ার তারিখ থেকে
  2. পরিবর্তন সম্পূর্ণ হওয়ার তারিখ থেকে
  3. পরিবর্তনের কাজ শুরু করার তারিখ থেকে
  4. পরিবর্তনের পরিকল্পনা করার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) পরিবর্তন সম্পূর্ণ হওয়ার তারিখ থেকে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৩৮-এ বলা হয়েছে:
- "For compensation for diverting a water-course"
- Limitation: 3 years
- When: The date of the diversion

- অর্থাৎ, যদি কেউ কোনো জলপ্রবাহের পথ পরিবর্তন করে এবং এর ফলে অন্য কারো ক্ষতি হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জলপ্রবাহ পরিবর্তনের তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে পারবেন।
- এখানে "the date of the diversion" বলতে বোঝানো হয়েছে— যখন পানি প্রবাহের পথ বাস্তবিকভাবে পরিবর্তন সম্পন্ন হয়, অর্থাৎ পরিবর্তন সম্পূর্ণ হয়।

 অতএব, তামাদি মেয়াদ শুরু হয় সেই তারিখ থেকে যেদিন জলপ্রবাহের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয় বা সম্পূর্ণ হয়, শুধুমাত্র পরিকল্পনা বা কাজ শুরুর তারিখ থেকে নয়।
৭০.
নিম্নলিখিত কোন সময় তামাদির গণনা থেকে বাদ যাবে যদি মামলার দায়ের বা ডিক্রি কার্যকরকরণে আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ (injunction) থাকে?
  1. নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিন
  2. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দিন
  3. নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার পুরো সময়
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৫(১) অনুযায়ী:
"In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order,
- the time of the continuance of the injunction or order,
- the day on which it was issued or made, and
- the day on which it was withdrawn, shall be excluded."

 অর্থাৎ, যেসব ক্ষেত্রে কোনো মামলার দায়ের বা ডিক্রির কার্যকরকরণে আদালতের আদেশ বা injunction এর কারণে প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে, সে ক্ষেত্রে—
 ১. নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিন,
 ২. নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার সময়কাল,
৩. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দিন —
এই সবগুলোই তামাদির সময় গণনা থেকে বাদ যাবে।

অর্থাৎ ধারা ১৫(১) অনুযায়ী, injunction বা আদেশের প্রারম্ভিক দিন, বলবৎ থাকার সময়কাল, এবং প্রত্যাহারের দিন — সবই বাদ যাবে।


⇒ তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হবে:
(১) যেই মামলা বা ডিক্রী জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হয়, তার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন তা নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বলবৎ ছিল, যেই দিন তা প্রদত্ত হয়েছিল এবং যেই দিন তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা বাদ দিতে হবে।
(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হবে।
--------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-15: Exclusion of time during which proceedings are suspended:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order, the time of the continuance of the injunction or order, the day on which it was issued or made, and the day on which it was withdrawn, shall be excluded.
(2) In computing the period of limitation prescribed for any suit of which notice has been given in accordance with the requirements of any enactment for the time being in force, the period of such notice shall be excluded.

৭১.
তামাদি আইন অনুযায়ী, লিখিত কুৎসা (Libel) দ্বারা মানহানির মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৬ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ২৪ অনুযায়ী, লিখিত কুৎসা (Libel) দ্বারা মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে হলে, কুৎসামূলক বিষয় প্রকাশিত হওয়ার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
- এর অর্থ, যখন কুৎসামূলক লিখিত বিষয়টি প্রকাশিত হবে, তখন সেই তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৭২.
একটি ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে রায়ের নকল গ্রহণে যে সময় লাগে, তা তামাদি আইনের —
  1. ধারা ১২(১) অনুযায়ী বাদ যাবে।
  2. ধারা ১২(২) অনুযায়ী বাদ যাবে।
  3. ধারা ১২(৩) অনুযায়ী বাদ যাবে।
  4. ধারা ১৩ অনুযায়ী বাদ যাবে।
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ধারা ১২(৩)-এ বলা হয়েছে:
"যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।"
অর্থাৎ, যখন কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করা হয়, তখন সেই ডিক্রী যে রায়ের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, সে রায়ের কপি সংগ্রহে যে সময় ব্যয় হয়, তা তামাদির সময় গণনায় ধারা ১২(৩) অনুযায়ী বাদ যাবে।

অন্যান্য অপশনের ব্যাখ্যা:
ধারা ১২(১): এটি শুধু বলে যে "যেই দিন থেকে তামাদির সময় গণনা শুরু হয়, সেই দিন বাদ যাবে।" তাই এটি রায়ের কপি সংগ্রহের বিষয়ে নয়।
ধারা ১২(২): এটি বলে রায় ঘোষণার দিন এবং ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের কপি সংগ্রহের সময় বাদ যাবে। এটি রায়ের কপি নয়, বরং ডিক্রির কপি সংগ্রহের কথা বলে।
ধারা ১৩: এটি বিবাদীর বিদেশে অবস্থানের কারণে সময় বাদ দেওয়ার কথা বলে, সুতরাং এটি প্রাসঙ্গিক নয়।

তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
৭৩.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বলবৎ কোন আইন অনুসারে কথিত কোন কাজ করা বা করা থেকে বিরত থাকার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের সময়সীমা কত দিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ২ অনুসারে বলা হয়েছে:
- "For compensation for doing or for omitting to do an act alleged to be in pursuance of any enactment in force for the time being in Bangladesh —
- Limitation Period: 90 days
- Time starts from: When the act or omission takes place."
অর্থাৎ, যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অধীনে কোনো কাজ করেন বা করতে ব্যর্থ হন এবং এর ফলে ক্ষতির অভিযোগ আসে, তাহলে ঐ কাজ বা অবহেলা সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে।

অর্থাৎ, যদি দেশের কোনো প্রচলিত আইনের অধীনে করা কোনো কাজ (act) বা না করা (omission) কাজের ফলে কারো ক্ষতি হয়, এবং কেউ ক্ষতিপূরণের দাবি করে—তাহলে মামলা করার জন্য সময়সীমা মাত্র ৯০ দিন।

৭৪.
তামাদি আইনের ধারা ৬ অনুসারে "বৈধ অপারগতা"-র বিধান প্রযোজ্য কার জন্য?
  1. কেবল বাদীর জন্য
  2. কেবল বিবাদীর জন্য
  3. উভয় পক্ষের জন্য
  4. আদালতের জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ মূলত যেসব ব্যক্তি আইনগত কারণে (যেমন: নাবালকত্ব, উন্মাদতা বা চরম বুদ্ধিহীনতা) অপারগ— তাদের পক্ষে মামলা দায়ের বা কার্যক্রম গ্রহণ বিলম্বিত হলেও, সেই বিলম্ব তামাদি হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এই সুবিধাটি শুধুমাত্র বাদীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অর্থাৎ:
- যিনি মামলা দায়ের, ডিক্রি জারি, বা আবেদন করার অধিকার রাখেন—
যদি তিনি তামাদি সময় শুরু হওয়ার সময় নাবালক, উন্মাদ বা বুদ্ধিহীন হন, তাহলে তার জন্য তামাদি সময় অপারগতা অবসানের পর থেকে গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ৬,৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অপারগতা (Legal disability) নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে।
যেখানে বলা আছে, যে ক্ষেত্রে মামলা কিংবা কার্যব্যবস্থা কিংবা ডিক্রি জারির জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই সময় উক্ত ব্যক্তি যদি নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতার রোগে ভুগে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
- যখন উক্ত ব্যক্তির জীবন হতে অপারগতা অবসান হবে তখন তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। যদি একটি অপারগতা অবসান হবার আগেই আরেকটি অপারগতায় উক্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হন তবে দুটি শেষ হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এর মাঝে যদি উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার আইনগত প্রতিনিধির উপর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। তার আইনগত প্রতিনিধি যদি বৈধ অপারগতায় আক্রান্ত থাকেন তবে প্রতিনিধির আইনগত অপারগতা অবসান হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।
- তামাদি আইনের ৬ ধারার এই বিধান আপীল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বৈধ অপারগতার বিধান শুধুমাত্র বাদী’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিবাদী’র জন্য তামাদি আইনে বৈধ অপারগতার বিধান গ্রহণযোগ্য না।
---------
⇒ The Limitation Act:- Section 6. Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908.
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections (1) and (2) shall apply.

Illustrations:
(a) The right to sue for the hire of a boat accrues to A during his minority. He attains majority four years after such accruer. He may institute his suit at any time within the years from the date of his attaining majority.
(b) A right to sue accrues to Z during his minority. After the accruer, but while Z is still a minor, he becomes insane. Time runs against Z from the date when his insainity and minority cease.
(c) A right to sue accrues to X during his minority. X dies before attaining majority, and is succeeded by Y, his minor son. Time runs against Y from the date of his attaining majority.
৭৫.
Canons of Professional Conduct and Etiquette অনুসারে, অ্যাডভোকেটরা পেশাগত কাজ পাওয়ার জন্য কোনটি করতে পারে না?
  1. পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া
  2. ডিরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্ত করা
  3. অফিসের সামনে নামপ্লেট লাগানো
  4. সাধারণ ব্যবহৃত বিজনেস কার্ড ব্যবহার
ব্যাখ্যা
→ অ্যাডভোকেটরা পেশাগত কাজ পাওয়ার জন্য আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন না, তবে তথ্যভিত্তিক সীমিত পরিচিতি প্রকাশ করা (যেমন: কার্ড, নামপ্লেট) বৈধ।

⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette এর Chapter 1 – Conduct with regard to other Advocates এর Rule 2 অনুযায়ী বলা হয়েছে:
“An Advocate shall not solicit professional employment by advertisement or by any other means...”
অর্থাৎ, অ্যাডভোকেটরা পেশাগত কাজ পাওয়ার জন্য বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে নিজেকে প্রচার করতে পারবেন না। এটি পেশার মর্যাদার পরিপন্থী।

তবে এই নিয়মটি ব্যতিক্রমও দিয়েছে:
“…This clause shall not be construed as prohibiting the publication or use of ordinary professional cards, name plates or conventional listings in directories…”
- অর্থাৎ, নিচের বিষয়গুলো নিষিদ্ধ নয় যদি সেগুলো শুধুমাত্র তথ্যগত হয় (যেমন নাম, ডিগ্রি, বর্তমান পদবি):
- সাধারণ বিজনেস কার্ড
- অফিসের সামনে নামপ্লেট
- ডিরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্ত করা
তবে, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া – সেটা সরাসরি পেশাগত কাজ আহ্বানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তাই তা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
৭৬.
Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 8 অনুযায়ী, Ad-hoc Bar Council কিভাবে গঠিত হবে?
  1. নির্বাচনের মাধ্যমে
  2. সরকারী গেজেটের মাধ্যমে
  3. সবার সম্মতির মাধ্যমে
  4. প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

⇒Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর সংশোধিত Article 8(2) অনুযায়ী বলা হয়েছে:
"...the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members for a term not exceeding one year..."
এর অর্থ, যখন নির্ধারিত সময়ে বার কাউন্সিলের নির্বাচন মহামারি, অতিমারি, দৈব দুর্বিপাক বা অন্য অনিবার্য কারণবশত সম্ভব না হয়, তখন সরকার সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে একটি Ad-hoc Bar Council গঠন করতে পারে।
এই Ad-hoc Bar Council: সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদে কার্যকর থাকবে, এবং মেয়াদ বর্ধিতযোগ্য নয়, এতে Attorney-General সদস্য হিসেবে থাকবেন এবং তিনিই হবেন Chairman।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: খ) সরকারী গেজেটের মাধ্যমে। 

Article- 8. (1) Elections to the Bar Council shall be held so as to conclude on or before the thirty first day of May in the year in which the term of the Bar Council expires.
(2) If the elections to the Bar Council cannot be held within the time specified in clause (1) due to pandemic, epidemic, act of God or for any other unavoidable circumstances as may be determined by the Government from time to time, the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members for a term not exceeding one year and this term shall not be further extended.
The Attorney-General for Bangladesh shall be one of the members of the Ad-hoc Bar Council and shall also be its Chairman.
(4) Notwithstanding anything contained in any other provision of this Order, the Ad-hoc Bar Council shall exercise such powers and functions of the Bar Council as specified in this Order and the rules made thereunder.

৭৭.
Canons of Professional Conduct and Etiquette অনুসারে, একজন অ্যাডভোকেট নিচের কোন উদ্দেশ্যে মামলা গ্রহণ বা আপিল করতে পারবে না?
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য
  2. ক্লায়েন্টের আইনি অধিকার রক্ষার জন্য
  3. আদালতের রায়ের সমালোচনা করার জন্য
  4. বিপক্ষ পক্ষকে হয়রানি বা সময়ক্ষেপণের জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর Chapter IV: Conduct with Regard to the Public Generally অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেটের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব হলো সমাজ ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তার কার্যক্রম পরিচালনা করা।

এই অধ্যায়ের Rule 1-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
"An Advocate shall not accept employment to prosecute or defend a case out of spite or for the purpose of harassing anyone or delaying any matter nor shall he take or prosecute an appeal willfully motivated to harass any one or delay any matter."
অর্থাৎ, যদি কোনো মামলা গ্রহণ বা আপিল করার উদ্দেশ্য হয়: হিংসা, প্রতিহিংসা, হয়রানি করা, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করা, তাহলে সে কাজটি অ্যাডভোকেটের পেশাগত নৈতিকতা পরিপন্থী এবং এটি করা অনুচিত।

সুতরাং, অ্যাডভোকেটের পক্ষে “বিপক্ষ পক্ষকে হয়রানি বা সময়ক্ষেপণের জন্য” মামলা গ্রহণ বা আপিল করা নিষিদ্ধ ও নৈতিকতাবিরুদ্ধ।
৭৮.
Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 8 এর নতুন সংশোধন অনুযায়ী Bar Council নির্বাচনের তারিখ কেমন হবে?
  1. নির্বাচন নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে
  2. নির্বাচন সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে
  3. নির্বাচন মে মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে শেষ হবে
  4. নির্বাচন জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে শেষ হবে
ব্যাখ্যা
⇒ Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর সংশোধিত Article 8(1) এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
"Elections to the Bar Council shall be held so as to conclude on or before the thirty first day of May in the year in which the term of the Bar Council expires."
অর্থাৎ, বার কাউন্সিলের যেই বছরে মেয়াদ শেষ হবে, সেই বছরের ৩১ মে বা তার আগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: গ) নির্বাচন মে মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে শেষ হবে।

Article- 8. (1) Elections to the Bar Council shall be held so as to conclude on or before the thirty first day of May in the year in which the term of the Bar Council expires.
(2) If the elections to the Bar Council cannot be held within the time specified in clause (1) due to pandemic, epidemic, act of God or for any other unavoidable circumstances as may be determined by the Government from time to time, the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members for a term not exceeding one year and this term shall not be further extended.
The Attorney-General for Bangladesh shall be one of the members of the Ad-hoc Bar Council and shall also be its Chairman.
(4) Notwithstanding anything contained in any other provision of this Order, the Ad-hoc Bar Council shall exercise such powers and functions of the Bar Council as specified in this Order and the rules made thereunder.