পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes২৭ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
[For iPad Mania] --------------------------- বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. ধ্বনিতত্ত্ব [ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি] ২. শব্দপ্রকরণ [লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ; সংখ্যাবাচক শব্দ; দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব; বচন; পদাশ্রিত নির্দেশক।] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি -
  1. ক) সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
  2. খ) গো + অক্ষ = গবাক্ষ।
  3. গ) উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
  4. ঘ) বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- কতগুলাে সন্ধি কোনাে নিয়মে সাধিত হয় না বা সূত্র অনুসরণ করে না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
কুল + অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
গো + অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবাক্ষ হওয়ার কথা)।
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

অন্যদিকে,
সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
উপরের তিনটি অপশনই ব্যঞ্জনধবনি + ব্যঞ্জনধ্বনি হিসেবে গঠিত হয়েছে।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
সাধারণত কোন শব্দে ণ-ত্ব বিধান খাটে না?
    অনির্ধারিত
    ব্যাখ্যা
    - সাধারণত সমাসবদ্ধ শব্দে ণ-ত্ব বিধান খাটে না।

    • ণ-ত্ব বিধান:
    • তৎসম শব্দের বানানে 'ণ'- এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।
    - বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
    - তাছাড়া সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়।
    যেমন:
    - ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
    .
    'ইনি' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নারীবাচক শব্দ কোনটি?
    1. ক) পুণ্যবতী
    2. খ) কাঙালিনি
    3. গ) তেজস্বিনী
    4. ঘ) যােগিনী
    ব্যাখ্যা
    - 'ইনি' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নারীবাচক শব্দ হচ্ছে কাঙালিনি

    - নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যােগ করতে হয়।
    - এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়ােগ দেখানাে হলাে:
    - আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
    - ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।
    - ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
    - ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যােগী-যােগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী
    - ঈ প্রত্যয়: কিশাের-কিশােরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
    - নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধােপ-ধােপানি।
    - বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
    - মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।
    এছাড়া ‘-অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে অক’-এর জায়গায় ‘ইকা হয়। যেমন - পাঠক-পাঠিকা, লেখক-লেখিকা, গায়ক-গায়িকা।
     
    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    .
    কোনটি ধ্বনাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
    1. ক) ব্যাপার-স্যাপার
    2. খ) ফুসুর ফুসুর
    3. গ) কবি কবি
    4. ঘ) জ্বর জ্বর
    ব্যাখ্যা
    • শব্দ দ্বিত্ব তিন প্রকার। যথা: 

    • অনুকার দ্বিত্ব:
    - পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
    - এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়।
    - এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
    - তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
    যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, ঝাল-টাল, মোটা-সোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্প-সল্প, বুদ্ধি-শুদ্ধি, গুটি-শুটি, আম-টাম।

    • ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
    - কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
    যেমন: টুং টুং, ঠুক ঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম, হিস হিস, ফুসুর ফুসুর

    • পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
    - পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
    যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    .
    কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
    1. ক) একাদশ
    2. খ) বৃহস্পতি
    3. গ) তপোবন
    4. ঘ) গোষ্পদ
    ব্যাখ্যা
    তপঃ + বন = তপোবন, বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

    অন্যদিকে,
    'বৃহস্পতি' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = বৃহৎ + পতি। 
    'একাদশ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = এক + দশ।
    'গোষ্পদ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = গো + পদ।

    • বিসর্গসন্ধি:
    বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
    বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
    বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন
    বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
    বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার
    কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    .
    ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে মূর্ধন্য- ষ এর ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে?
    1. ক) কাষ্ঠ
    2. খ) স্পষ্ট
    3. গ) নস্ট
    4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
    ব্যাখ্যা
    - কাষ্ঠ ও স্পষ্ট উভয়ই ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে মূর্ধন্য- ষ এর ব্যবহার হয়েছে।

    • ষ-ত্ব বিধান:
    - বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
    - তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
    - কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
    - তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

    • ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে, ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
    .
    'ই' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নারীবাচক শব্দ -
    1. ক) কিশােরী
    2. খ) পাগলি
    3. গ) সুন্দরী
    4. ঘ) প্রিয়
    ব্যাখ্যা
    - 'ই' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নারীবাচক শব্দ হচ্ছে 'পাগলি'

    - নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যােগ করতে হয়।
    - এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়ােগ দেখানাে হলাে:
    - আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
    - ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি
    - ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
    - ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যােগী-যােগিনী, তেজস্বী-তেজদ্বিনী।
    - ঈ প্রত্যয়: কিশাের-কিশােরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
    - নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধােপ-ধােপানি।
    - বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
    - মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।
    এছাড়া ‘-অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে অক’-এর জায়গায় ‘ইকা হয়। যেমন - পাঠক-পাঠিকা, লেখক-লেখিকা, গায়ক-গায়িকা।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    .
    নিচের কোনটি বহুবচন?
    1. ক) বইটা
    2. খ) মাঝিরা
    3. গ) শিক্ষক
    4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
    ব্যাখ্যা
    - মাঝিরা- বহুবচনের উদাহরণ।
    - 'বচন' অর্থ হচ্ছে সংখ্যার ধারণা।
    - বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
     
    • বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন ।
    • একবচন:
    - যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
    যেমন: শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন। বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

    • বহুবচন:
    - যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
    যেমন: মাঝিরা নৌকা চালায়। কলমগুলোর দাম অনেক।
     
    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    .
    ণ-ত্ব বিধান এর ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
    1. ক) ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।
    2. খ) ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' হয়।
    3. গ) ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না।
    4. ঘ) ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' কখনো 'ণ' হয় না।
    ব্যাখ্যা
    - ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

    • ণ-ত্ব বিধান:
    - তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
    - বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
    - বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

    • ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
    - ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
    - ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
    - কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
    ১০.
    ‘আগড়ম-বাগড়ম’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
    1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
    2. খ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
    3. গ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
    4. ঘ) কোনটিই নয়।
    ব্যাখ্যা
    অনুকার দ্বিত্ব:
    - পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
    - এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়।
    - এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
    - তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
    যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, ঝাল-টাল, মোটা-সোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্প-সল্প, বুদ্ধি-শুদ্ধি, গুটি-শুটি, আম-টাম, আগড়ম-বাগড়ম

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    ১১.
    কোন শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ' লেখার প্রয়োজন হয় না?
    1. ক) দেশি
    2. খ) তদ্ভব
    3. গ) বিদেশি
    4. ঘ) উপরের সবগুলো
    ব্যাখ্যা
    • ষ-ত্ব বিধান:
    - বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
    - তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
    - কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

    • ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
    ১। অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
    ২। ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
    ২। 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
    ৩। ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
    ৪। তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
    ৫। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
    ১২.
    কোন বানানটি অশুদ্ধ?
    1. ক) পুরস্কার
    2. খ) মুমূর্ষু
    3. গ) পরিস্কার
    4. ঘ) স্পষ্ট
    ব্যাখ্যা
    - অশুদ্ধ বানান হচ্ছে পরিস্কার। এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে পরিষ্কার

    • ষ-ত্ব বিধান:
    - বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
    - তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
    - কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

    • 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
    ১। অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
    ২। ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
    ২। 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
    ৩। ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
    ৪। তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
    ৫। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।
    ৬। র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
    ১৩.
    প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
    1. ক) মালা
    2. খ) আবলি
    3. গ) সব
    4. ঘ) উপরের সবগুলো
    ব্যাখ্যা
    • প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
    যেমন: 
    সব - ভাইসব, পাখিসব।
    সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
    আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
    মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    ১৪.
    কোন শব্দটিতে স্বভাবতই 'ণ' বসেছে?
    1. ক) ভীষণ
    2. খ) ব্যাকরণ
    3. গ) অণু
    4. ঘ) বর্ণ
    ব্যাখ্যা
    - 'অণু' শব্দটিতে স্বভাবতই 'ণ' বসেছে।

    • ণ-ত্ব বিধান:

    - তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
    - বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
    - বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

    • ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
    - ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
    - ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
    - কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।


    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
    ১৫.
    পিতৃ + আলয় =পিত্রালয় - কোন সূত্রে সিদ্ধ?
    1. ক) ই/ঈ + ই/ঈ =ঈ
    2. খ) অ/আ + ই/ঈ =এ
    3. গ) ঋ+অন্য স্বর = র্‌ + স্বর
    4. ঘ) উ/ঊ + অন্য স্বর =ব্‌ + স্বর
    ব্যাখ্যা
    • সূত্র: ঋ+অন্য স্বর = র্‌ + স্বর।
    যেমন- পিতৃ+আলয় = পিত্রালয়

    স্বরসন্ধি:
    - স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
    - স্বরসন্ধি গঠনের সুত্র সমূহ:

    • অ/আ+অ/আ = আ। যেমন- উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত।
    • ই/ঈ + ই/ঈ = ঈ। যেমন- অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা।
    • উ/উ + উ/ঊ = উ। যেমন- মরু+উদ্যান = মরূদ্যান।
    • উ/ঊ + অন্য স্বর =ব্‌ + স্বর। যেমন- সু+অল্প = স্বল্প।
    • অ/আ + ই/ঈ = এ। যেমন- শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
    • অ/আ+ঋ = অর্। যেমন- মহা+ঋষি = মহর্ষি।
    • ঐ+ অন্য স্বর = আয়্‌+স্বর। যেমন- নৈ+অক = নায়ক।
    • ও + অন্য স্বর = অব্‌+স্বর। যেমন- গাে+আদি = গবাদি
    • ঔ + অন্য স্বর = আব্‌+স্বর। যেমন- নৌ+ইক = নাবিক

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    ১৬.
    কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব এর উদাহরণ?
    1. ক) ঝাল-টাল
    2. খ) হাতে হাতে
    3. গ) শোঁ শোঁ
    4. ঘ) বুঝে-সুঝে
    ব্যাখ্যা
    • পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
    - পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
    যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, হাতে হাতে

    অন্যদিকে,
    ঝাল-টাল, বুঝে-সুঝে - অনুকার দ্বিত্ব এর উদাহরণ।
    শোঁ শোঁ - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব এর উদাহরণ।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    ১৭.
    কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি ভুল?
    1. ক) নৈ + য়ক = নায়ক
    2. খ) গো + আদি = গবাদি
    3. গ) নৌ + ইক = নাবিক
    4. ঘ) প্রতি + এক = প্রত্যেক
    ব্যাখ্যা
    -নৈ + য়ক = নায়ক, সন্ধি বিচ্ছেদটি ভুল। এর সঠিক বিচ্ছেদ হচ্ছে: নৈ + অক = নায়ক।  
    বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, √ নী + অক= নায়ক।  

    • স্বরসন্ধি:
    - স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
    যেমন-
    শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
    সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়।
    মহা+ঋষি = মহর্ষি।
    শীত+ঋত = শীতার্ত।
    জন+এক = জনৈক।
    বন+ওষধি = বনৌষধি।
    প্রতি+এক = প্ৰত্যেক।
    নৈ + অক = নায়ক।
    প্রতি + এক = প্রত্যেক।
    গো + আদি = গবাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
    ১৮.
    কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
    1. ক) ঋষি
    2. খ) মানুষ
    3. গ) পরিষ্কার
    4. ঘ) বর্ষণ
    ব্যাখ্যা
    - 'মানুষ' শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে।

    • ষ-ত্ব বিধান:
    - বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
    - তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
    - কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
    - তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

    • ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
    ১। অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
    ২। ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
    ২। 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
    ৩। ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
    ৪। তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
    ৫। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
    ১৯.
    বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব কোনটি?
    1. ক) জ্বর জ্বর
    2. খ) ঝাঁকে ঝাঁকে
    3. গ) হায় হায়
    4. ঘ) পর পর
    ব্যাখ্যা
    • শব্দদ্বিত্ব:
    - অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে দুইবার ব্যবহৃত হওয়া শব্দকে শব্দদ্বিত্ব বলে।

    • শব্দ দ্বিত্ব তিন প্রকার। যথা: 

    • অনুকার দ্বিত্ব:
    - পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
    - এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়।
    - এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
    - তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

    যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, ঝাল-টাল, মোটা-সোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্প-সল্প, বুদ্ধি-শুদ্ধি, গুটি-শুটি, আম-টাম।

    • ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
    - কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
    যেমন: টুং টুং, ঠুক ঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম, হিস হিস, শোঁ শোঁ, ফুসুর ফুসুর।

    • পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
    - পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
    যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, জোরে জোরে।

    • বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    ২০.
    কোন বানানটি শুদ্ধ নিয়মে গঠিত?
    1. ক) বর্ন
    2. খ) ভীষন
    3. গ) বর্ননা
    4. ঘ) ভাষণ
    ব্যাখ্যা
    -  ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। তাই 'ভাষণ' বানানটি শুদ্ধ নিয়মে গঠিত।
    - অন্যান্য অপশনের বানানে নিয়ম অনুযায়ী 'ণ' বসলে শুদ্ধ হতো।

    • ণ-ত্ব বিধান:
    - তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
    - বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
    - বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

    • ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
    - ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
    - ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
    ২১.
    কোনটি ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ নয়?
    1. ক) তেরো
    2. খ) তেইশে
    3. গ) সতেরো
    4. ঘ) বিশ
    ব্যাখ্যা
    - ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ নয় 'তেইশে'

    • ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
    - একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
    যেমন- ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট) ইত্যাদি।
    - ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
    - ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে।

    • তেইশে (২৩শে)- তারিখ পূরণবাচক শব্দ।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    ২২.
    'সম্মান' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
    1. ক) ব্যঞ্জন + স্বর
    2. খ) স্বর + ব্যঞ্জন
    3. গ) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
    4. ঘ) স্বর + বিসর্গ
    ব্যাখ্যা
    • ব্যঞ্জনসন্ধি:
    - স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
    - ব্যঞ্জনসন্ধি সাধারণত চার নিয়মে হয়, স্বর+ব্যঞ্জন, ব্যঞ্জন + স্বর, ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন, নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।

    • ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন:
    সম্‌ + মান = সম্মান (এখানে ওষ্ঠ্যধ্বনি ম-এর প্রভাবে ম অপরিবর্তিত হয়েছে)।

    এছাড়াও 'ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন' ধ্বনির কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে -
    বাক্‌ + দান = বাগ্‌দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
    শম্‌ + কা = শঙ্কা (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)।
    ষষ্‌ + থ = ষষ্ঠ (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    ২৩.
    স্বরসন্ধির উদাহরণ হলো -
    1. ক) দিক্‌ + অন্ত
    2. খ) বাক্‌ + দান
    3. গ) ততঃ + অধিক
    4. ঘ) শুভ + ইচ্ছা
    ব্যাখ্যা
    • শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা - হচ্ছে স্বরসন্ধির উদাহরণ।

    • স্বরসন্ধি:
    - স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
    - পালি ও প্রাকৃত ভাষায় এই সন্ধি অধিক দেখা যায়।
    - প্রাকৃত থেকে এই রীতি বাংলায় এসেছে।
    যেমন-
    শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
    অতি + ইত = অতীত।
    সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়।
    মহা+ঋষি = মহর্ষি।
    শীত+ঋত = শীতার্ত।
    জন+এক = জনৈক।
    বন+ওষধি = বনৌষধি।
    প্রতি+এক = প্ৰত্যেক।
    নৈ + অক = নায়ক।
    প্রতি + এক = প্রত্যেক।
    গো + আদি = গবাদি।

    উৎস:
    ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
    ২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ২৪.
    নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি হলো -
    1. ক) দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।
    2. খ) মনস্‌ + ঈষা = মনীষা।
    3. গ) সম্‌ + গত = সংগত।
    4. ঘ) রত্ন + আকর = রত্নাকর।
    ব্যাখ্যা
    • নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
    - কতগুলাে সন্ধি কোনাে নিয়মে সাধিত হয় না বা সূত্র অনুসরণ করে না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
    যেমন-
    কুল + অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
    গো + অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবাক্ষ হওয়ার কথা)।
    মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
    শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।
    মনস্‌ + ঈষা = মনীষা।

    অন্যদিকে,
    রত্ন + আকর = রত্নাকর- হচ্ছে স্বরসন্ধির উদাহরণ।
    সম্‌ + গত = সংগত - হচ্ছে ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
    দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা - হচ্ছে বিসর্গসন্ধির উদাহরণ।

    উৎস:
    ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
    ২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    ৩। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ২৫.
    'ফুল' এর সাথে কোন লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়?
    1. ক) গুলো
    2. খ) সমূহ
    3. গ) গুলি
    4. ঘ) মালা
    ব্যাখ্যা
    - 'ফুল' এর সাথে 'গুলো' লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।

    • '-রা', '-এরা', 'গুলো', 'গুলি' 'দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়। যেমন:
    রা - ছাত্ররা, ধনীরা।
    এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
    গুলো - ফুলগুলো, গরুগুলো।
    গুলি - বইগুলি, ঘরগুলি।
    দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

    অন্যদিকে,
    সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
    গুলি - বইগুলি, ঘরগুলি।
    মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
    ২৬.
    'মানুষ'-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক লগ্নক কোনটি?
    1. ক) জন
    2. খ) খানা
    3. গ) টুকু
    4. ঘ) টি
    ব্যাখ্যা
    • নির্দেশক:
    - যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
    যেমন-টা, টি, খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

    নিচে কয়েকটি নির্দেশকের প্রয়োগ দেখানো হলো ।

    • -টা, -টি
    - বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে।
    - যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

    • -খানা, -খানি
    - বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে খানা, খানি নির্দেশক বসে। যেমন -
    - ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।
    যেসব ক্ষেত্রে -টা বা -টি বসে, সেসব ক্ষেত্রে -খানা বা -খানি বসতে পারে। যেমন, বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।

    • -জন
    - শুধু মানুষের বেলায় -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়
    যেমন- বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।
    - সংখ্যার সঙ্গেও -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন - একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।
    - অধিক সংখ্যার বেলায় ‘জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে। যেমন - পাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

    • -টুকু
    - টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়।
    - বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ -টু বা -টুক।
    যেমন: সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
    ২৭.
    'ঠাকুর' এর স্ত্রীলিঙ্গ -
    1. ঠাকুরন
    2. ঠাকুরে
    3. ঠাকুরী
    4. ঠাকুর
    ব্যাখ্যা
    - 'ঠাকুর' এর স্ত্রীলিঙ্গ হচ্ছে ঠাকুরন

    • কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্গান্তর:
    ঠাকুর - ঠাকুরন/ ঠাকরুন/ ঠাকুরানী।
    হুজুর - হুজুরাইন।
    মৎস্য - মৎসী।
    মনুষ্য - মনুষী।
    মানুষ - মানুষী।
    গো - গবী।
    বিধাতা - বিধাত্রী।
    মদ্দা ঘোড়া - মাদি ঘোড়া।
    শুক - শারি।
    দুলহা - দুলাইন।

    উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
    ২৮.
    ষ-ত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?
    1. ক) পোষাক
    2. খ) পোষ্ট
    3. গ) মাষ্টার
    4. ঘ) জিনিস
    ব্যাখ্যা
    - ষ-ত্ব বিধান অনুসারে 'জিনিস' বানানটি শুদ্ধ।
    - অন্য অপশনগুলো বিদেশি শব্দ হওয়া সত্ত্বেও 'ষ' এর ব্যবহারের কারণে বানানগুলো অশুদ্ধ।
    - কারণ ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শব্দে ষ এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয়।

    • ষ-ত্ব বিধান:

    - বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
    - তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
    - কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
    - তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে। 

    এছাড়া-
    - আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
    - সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

    উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।