পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

পরীক্ষাপ্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৬ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বিজ্ঞান) টপিক: প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান (পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট) পদার্থ বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ টপিক: বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র, বলবিদ্যা, ধাতু ও অধাতু, চৌম্বক, তরঙ্গ ও শব্দ, কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি, তাপ, আলো, মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ, ইত্যাদি, রসায়ন বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ টপিক: পদার্থের অবস্থা, পরমাণুর গঠন, পর্যায় সারণি, রাসায়নিক বিক্রিয়া, এসিড, ক্ষার, লবণ, জৈব রসায়ন। উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫ · তারিখ অনির্ধারিত · ২৪ প্রশ্ন

.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয় কোনটি? 
  1. হিলিয়াম 
  2. ডিউটেরিয়াম 
  3. প্রোটিয়াম 
  4. ট্রিটিয়াম 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয়- হিলিয়াম। এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি মৌল এবং নোবেল গ্যাস, যার পারমাণবিক সংখ্যা ২ । 

আইসোটোপ: 
- 1912 সালে সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয় পদার্থে আইসোটোপ থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। 
- 1916 সালে জে.জে. থমসন (J.J.Thomson) নিয়নের একটি নমুনায় 22 amu ভরের অতি সামান্য পরিমাণে এবং 20 amu ভরের অধিকাংশ নিয়ন অণু শনাক্ত করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা করেন, নিয়ন নমুনায় 22 amu (atomic mass unit) ভরের কোনো নতুন মৌল থাকতে পারে। 
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে। 
- যেহেতু আইসোটোপগুলোর প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা একই তাই এরা একই মৌলের পরমাণু। 
- হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ: প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম। 
- আইসোটোপসমূহের (গ্রিক শব্দ iso = একই, top = স্থান) প্রোটন সংখ্যা একই হওয়ায় পর্যায় সারণিতে এদের স্থান একই জায়গায় নির্ধারিত। 

আইসোবার: 
- প্রকৃতিতে এমন কিছু পরমাণু রয়েছে যাদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু ভর সংখ্যা অভিন্ন। এ ধরনের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোবার বলে। 
- আইসোবারসমূহের প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় পর্যায় সারণিতে এদের অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। 
- এদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মও ভিন্ন ভিন্ন। 

আইসোটোন: 
- প্রকৃতিতে এমন কতিপয় পরমাণু রয়েছে যাদের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা এবং ভর সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন, এসব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 
- আইসোটোনসমূহের প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এরা ভিন্ন ভিন্ন পরমাণুর হয়ে থাকে। 
- পর্যায় সারণিতে এদের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। 
- এদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
চুম্বকত্বের উপর সাধারণত কোন বাহ্যিক প্রভাব থাকতে পারে? 
  1. আয়তন 
  2. তাপমাত্রা 
  3. ভর 
  4. ঘনত্ব 
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এসকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম, কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয়? 
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন 
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন উভয়ই
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

ভৌত পরিবর্তন: 
- ভৌত পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না।
অর্থাৎ, এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে। যেমন- চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ, লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া এবং উত্তপ্ত করলে পুনরায় লবণ পাওয়া, কিংবা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের উত্তাপে বাষ্পীভূত হয়ে পুনরায় কঠিন হয়ে জমাট বাঁধা—এসবই ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণুসমূহের মধ্যবর্তী বন্ধন ভেঙ্গে নতুন বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- অণুস্থিত পরমাণুসূহের বন্ধন ভাঙ্গা ও নতুন বন্ধন সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে, এটি একটি স্থায়ী পরিবর্তন। 
- কোনো একটি মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে মূল পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক উভয় প্রকার ধর্মই পরিবর্তিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি দহন, খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ, এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন গ্যাস বা কঠিন পদার্থের উৎপত্তি সবই রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এ পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয় এবং শক্তির রূপান্তর ঘটে। 
 
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বাধিক? 
  1. 0° C
  2. 4° K
  3. 4° C
  4. 100° C
ব্যাখ্যা

ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব 4° C তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি হয়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবলমাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
Renewable energy source নিচের কোনটি? 
  1. কয়লা 
  2. খনিজ তেল 
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  4. বায়োগ্যাস 
ব্যাখ্যা

- বায়োগ্যাস একটি Renewable energy source অর্থাৎ নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। এই শক্তি পরিবেশ বান্ধব তাই এই শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়। 

শক্তি: 

- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না, শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধান করে চলছে। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable energy): 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable energy): 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- শক্তির চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
জারণ বিক্রিয়ায় কী ঘটে? 
  1. ইলেকট্রনের দান
  2. ইলেকট্রনের গ্রহণ 
  3. প্রোটন গ্রহণ 
  4. নিউট্রন দান
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের স্থানান্তর: 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তর এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া, এটি মূলত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া এমন একটি শ্রেণি যেখানে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) একই সাথে সংঘটিত হয়। 
- প্রচুর সংখ্যক রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈবিক বিক্রিয়া এ শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত। 
- জ্বালানিকে দহন করে শক্তি উৎপাদন, তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে কস্টিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদন, ব্যাটারীতে তড়িৎ উৎপাদন, লোহায় মরিচা পড়া, ধাতুর ক্ষয়, তড়িৎ প্রলেপন-এ সবই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার উদাহরণ। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে, এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
1 হর্সপাওয়ার (H.P) কত ওয়াটের সমান? 
  1. 464 W 
  2. 746 W 
  3. 764 W 
  4. 1000 W 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
সুতরাং, ক্ষমতা, P = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
1 H.P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা হলো ML2T-3 । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিউট্রনের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. ঋণাত্মক আধানযুক্ত 
  2. ধনাত্মক আধানযুক্ত 
  3. আধানহীন 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।  
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎপ্রবাহমাত্রা সরাসরি পরিমাপ করা হয় তাকে কী বলে? 
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্টমিটার
  3. তড়িৎ প্রবাহ মিটার 
  4. ব্যারোমিটার 
ব্যাখ্যা

অ্যামিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
হাট বাজারে শব্দের তীব্রতার স্তর কত ডেসিবল? 
  1. ৩০ ডেসিবল 
  2. ৫০ ডেসিবল 
  3. ৪০ ডেসিবল 
  4. ৭০ ডেসিবল 
ব্যাখ্যা

- হাট বাজারে শব্দের তীব্রতার স্তর বা শব্দের তীব্রতা লেভেল হচ্ছে ৭০ ডেসিবল। 

শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- শব্দের তীব্রতার মূল একক Wm-2  । 
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্বনিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা যার মান 10-12 Wm-2 কে বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা (threshold of audibility) হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
কৃষিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে কোন লবণ ব্যবহার করা হয়? 
  1. NaCl
  2. KNO3
  3. CuSO4
  4. NH4NO3
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
কর্মদক্ষতা কী নির্দেশ করে? 
  1. যন্ত্রের শক্তি সব সময় বৃদ্ধি পায় 
  2. যন্ত্রের শক্তি কোনো কাজে ব্যবহার না হওয়া  
  3. যন্ত্রে প্রদত্ত শক্তির সবই অপচয় হয় 
  4. যন্ত্রে কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত 
ব্যাখ্যা

কর্মদক্ষতা: 
- শক্তির সংরক্ষণশীলতার সূত্রানুসারে একটি যন্ত্রের কার্যকর শক্তি (output energy) যন্ত্রে প্রদত্ত মোট শক্তির (input energy) সমান হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে কার্যকর শক্তি সকল সময় মোট শক্তির চেয়ে কম হয়। 
- নানা কারণে যন্ত্রে শক্তির অপচয় ঘটে এবং এ কারণে যন্ত্রের ইনপুট ও আউটপুটে শক্তির এই তারতম্যের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- জেনারেটরের ক্ষেত্রে ঘর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে শক্তির অপচয় হয় যা তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে শক্তির সংরক্ষণশীলতার সূত্রানুসারে শক্তির মোট স্থানান্তর স্থির থাকে। 
- যন্ত্রেও কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়। 
কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= (E1 - E2)/E1 × 100%  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
নীল লিটমাস কাগজ কোন অবস্থায় লালবর্ণ ধারণ করে? 
  1. pH > 7 
  2. pH < 7
  3. pH = 7
  4. সব ক্ষেত্রেই 
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন।
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = -log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে; আবার দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। 
- এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
ইথিলিনের পলিমার কী? 
  1. পলিইথিলিন 
  2. পলিস্টার 
  3. নাইলন 
  4. পলিপ্রোপিন 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। এক কথায় বহু সংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পর পর যুক্ত হয়ে পলিমার অণু গঠন করে থাকে।
- পলিমারের প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র অংশকে মনোমার বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিনের পলিমার পলিইথিলিন; প্রোপিনের পলিমার পলি প্রোপিন। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
কোন ক্ষেত্রে কাজের পরিমাণ 1 জুল হবে? 
  1. 2 N বল প্রয়োগ করে 2 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  2. 1 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  3. 1 N বল প্রয়োগ করে 2 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  4. 2 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে
ব্যাখ্যা

কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে বল এবং সরণ এই দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T-2 । 

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে (m)। 
অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J) বলা হয়। এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-2'তে অবস্থিত মৌলগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. ক্ষার ধাতু 
  2. স্বাভাবিক ধাতু 
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
মানুষের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান কত? 
  1. 3.5
  2. 4.0
  3. 5.5
  4. 7.0
ব্যাখ্যা

প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মানুষের মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের চাপ ও আয়তন-এর গুণফল কী? 
  1. ধ্রুবক 
  2. শূন্য 
  3. পরিবর্তনশীল
  4. অসীম 
ব্যাখ্যা

আদর্শ গ্যাস (Ideal Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে তাদেরকে আদর্শ গ্যাস বলে।
- প্রকৃতপক্ষে কোনো গ্যাসই সম্পূর্ণরূপে গ্যাস সূত্রসমূহ তথা PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে না।
- আদর্শ গ্যাস হলো একটি কাল্পনিক গ্যাস।
- স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভর করে না। 

আদর্শ গ্যাসের বৈশিষ্ট্য: 
- আদর্শ গ্যাসে নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে- 
১. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ ও আয়তনের গুণফল একটি ধ্রুবক
অর্থাৎ, PV = K. তাই এক্ষেত্রে যদি স্থির তাপমাত্রায় চাপ বনাম PV এর লেখ অঙ্কন করা যায় তবে তা একটি সরলরেখা হবে। 
২. আদর্শ গ্যাস সকল তাপমাত্রা ও চাপে PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে। 
৩. স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এর আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের আয়তনের পরিবর্তন হলেও এদের অভ্যন্তরীণ শক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
৪. চাপ অপরিবর্তিত রেখে গ্যাসের তাপমাত্রা 0°C হতে -273.15°C কমালে গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
স্বর্ণের সাথে কোন ধাতু মিশিয়ে গয়না টেকসই করা হয়? 
  1. আয়রন
  2. রূপা 
  3. কার্বন 
  4. ক্রোমিয়াম 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন-
বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না, স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
• আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা 
  2. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি 
  3.  বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২১.
গ্লাস ক্লিনারে কোন ক্ষার থাকে?
  1. NH4OH
  2. Fe(OH)2
  3. CaO
  4. KOH
ব্যাখ্যা

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে- 
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক। 
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 
• টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি? 
  1. সেলসিয়াস 
  2. ফারেনহাইট 
  3. ক্যালরি 
  4. কেলভিন 
ব্যাখ্যা

তাপমাত্রা (Temperature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের S.I বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
ইউরিয়ার কার্যকারিতায় কোন এনজাইম ভূমিকা রাখে? 
  1. ল্যাকটেজ 
  2. অ্যামিলেজ
  3. ইউরিয়েজ 
  4. প্রোটিনেজ 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: 
- উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। 
- ইউরিয়ার রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [(NH2)2C=O] । 
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত করে
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয় ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাকে কী বলা হয়? 
  1. যান্ত্রিক তরঙ্গ 
  2. তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ
  3. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  4. পানির তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

তরঙ্গের প্রকারভেদ: 
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় তাকে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে। 
- আবার, যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না সেই তরঙ্গকে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয় তা দুই ধরণের। 
যথা- (১) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ও (২) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ (Transverse wave): 
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। 
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। 
যেমন- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ (Longitudinal wave): 
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ হলো এমন এক ধরনের তরঙ্গ, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলো কম্পনের দিকের সমান্তরালে আন্দোলিত হয়, কিন্তু নিজ অবস্থান পরিবর্তন করে না। 
- নমনীয় স্প্রিংয়ে মৃদু আঘাত করলে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি পরিবহন করে। 
- এ তরঙ্গে তরঙ্গ শীর্ষ বা তরঙ্গ পাদ থাকে না, বরং সংকোচন ও প্রসারণের পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।