পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived]

পরীক্ষা৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়25 minutes
মোট প্রশ্ন৫৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৪ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived]

৪৮তম বিশেষ বিসিএস [স্বাস্থ্য] ⎯ সাধারণ অংশ [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৭ প্রশ্ন

.
'সমতল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সানুদেশ
  2. অধিত্যকা
  3. বন্ধুর
  4. উপত্যকা
সঠিক উত্তর:
বন্ধুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্ধুর
ব্যাখ্যা
• 'সমতল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- অসমতল/বন্ধুর ।

• 'সমতল' শব্দের অর্থ- উঁচুনিচু নয় এমন, পৃষ্ঠদেশ সমান এমন।
• 'অসমতল' শব্দের অর্থ- বন্ধুর, উঁচুনিচু, এবড়োখেবড়ো, অসমান।

অন্যদিকে, 
• 'অধিত্যকা' শব্দের অর্থ- পর্বতের সমতল উপরিভাগ বা সানুদেশ।
• 'উপত্যকা' শব্দের অর্থ- দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সমতল বা নিম্নভূমি।

উৎস: বাংলা একাডেমি,  আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'স্মৃতি' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √সৃৎ +তি
  2. √স্মৃ + তি
  3. √শ্রী +তি
  4. √স্মৃৎ + তি
সঠিক উত্তর:
√স্মৃ + তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√স্মৃ + তি
ব্যাখ্যা
• স্মৃতি (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (√স্মৃ+তি),
অর্থ:
- অতীত বিষয় স্মরণ।
- মনে রাখার ক্ষমতা

• কৃৎ প্রত্যয় এর নিয়ম:
বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে বিশেষ নিয়ম সাধিত কৃৎ- তি প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- √বৃষ + তি = বৃষ্টি;
- √স্মৃ + তি = স্মৃতি;
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি;
-√বাড় + তি = বাড়তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'Declaration' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রজ্ঞাপন
  2. বিজ্ঞপ্তি
  3. বিঘোষণ
  4. ঐশ্বিক আদেশ
সঠিক উত্তর:
বিঘোষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিঘোষণ
ব্যাখ্যা
• 'Declaration' অর্থ - ঘোষণা; বিঘোষণ; প্রখ্যাপন।

অন্যদিকে, 
'Notification' অর্থ - প্রজ্ঞাপন।
'Notice' অর্থ - বিজ্ঞপ্তি।
'Commandment' অর্থ - ঐশ্বিক আদেশ।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অদ্যবধি
  2. অধ্যবসায়
  3. অনুসঙ্গ
  4. অনুর্ধ্ব
সঠিক উত্তর:
অধ্যবসায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যবসায়
ব্যাখ্যা
অধ্যবসায় (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অবিরাম সাধনা।
- নিবিড় প্রযত্ন।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ-
অদ্যবধি - অদ্যাবধি। 
অনুসঙ্গ - অনুষঙ্গ। 
অনুর্ধ্ব - অনূর্ধ্ব। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কোন সাহিত্যকর্মে 'আলো-আঁধারি' ভাষার প্রয়োগ আছে?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. সেক শুভোদয়া
  4. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে কোন পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম?
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. মোসলেম ভারত
  3. সবুজপত্র
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
  2. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  3. দুই সৈনিক
  4. অনিল বাগচীর একদিন
সঠিক উত্তর:
প্রদোষে প্রাকৃতজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রদোষে প্রাকৃতজন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়- প্রদোষে প্রাকৃতজন। 

'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাস:
- প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪) উপন্যাস এর লেখক শওকত আলী।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনী রচিত।

অন্যদিকে, 
--------------
'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির। এটি তাঁর রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- সোনায় মোড়ানো হাতের কথাশিল্পী শহীদুল জহিরের এই উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অভিনব সংযোজন। বাংলা আখ্যানগদ্যের এমন অপূর্ব রূপ ও ভঙ্গি এর আগে তো ছিলই না, এখনও বিরল।

'দুই সৈনিক' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান। উপন্যাসটি প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
-  হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'অনিল বাগচীর একদিন'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস।
.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. ধীরবুদ্ধি
  2. মহাত্মা
  3. নীলবসনা
  4. ঘরজামাই
সঠিক উত্তর:
ঘরজামাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরজামাই
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন;
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার;
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি;
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা;
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই;
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
---------------
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যথা: আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী), মহান আত্মা যার = মহাত্মা, স্বচ্ছ সলিল যার = নীলবসনা, স্থির প্রতিজ্ঞা যার = স্থিরপ্রতিজ্ঞ, ধীর বুদ্ধি যার = ধীরবুদ্ধি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কর্তা সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বলে-
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. উদ্দেশ্য
  3. বিধেয়
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
বিধেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধেয়
ব্যাখ্যা
একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।]

বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
'স্থাবর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ঢালু
  2. সমান
  3. স্থির
  4. জঙ্গম
সঠিক উত্তর:
জঙ্গম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জঙ্গম
ব্যাখ্যা
• 'স্থাবর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - জঙ্গম। 

• 'স্থাবর' অর্থ-  স্থানান্তরিত করা যায় না এমন (স্থাবর সম্পত্তি), নিশ্চল, স্থির।

অন্যদিকে, 
• ঢালু - সমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১.
আলাওল রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. তোহফা
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মধুমালতী
  4. গুলে বকাওলী
সঠিক উত্তর:
তোহফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোহফা
ব্যাখ্যা
'তোহফা' আলাওল রচিত নীতিকাব্য। গ্রন্থটি ১৬৬৪ সালে প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'চন্দ্রাবতী' কোরেশী মাগন ঠাকুরের অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ।
• হিন্দি কবি মনঝনের 'মধুমালত' বা সাধনের 'মৈনাসত' কাব্যের অনুসরণে মুহম্মদ কবীর বাংলায় রচনা করেন 'মধুমালতী'। 
• 'গুলে বকাওলী' রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য। সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে গুলে বকাওলী কাব্য রচনা করেন। এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী, উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

--------------
• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
'বচনে কুশল' এক কথায় কী বলে?
  1. বিবাদমান
  2. বাচাল
  3. বাগ্মী
  4. বিদ্বান
সঠিক উত্তর:
বাগ্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগ্মী
ব্যাখ্যা
• 'বচনে কুশল' এক কথায় বলে - বাগ্মী।

অন্যদিকে, 
• বিবাদ করে যে - বিবাদমান।
• বিদ্যা আছে যার - বিদ্বান।
• বেশি কথা বলে যে - বাচাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'লঘু পাপে গুরু দণ্ড' প্রচলিত এমন শব্দগুচ্ছকে কী বলে?
  1. এক কথায় প্রকাশ
  2. প্রবাদ-প্রবচন
  3. ভাবসম্প্রসারণ
  4. সারাংশ
সঠিক উত্তর:
প্রবাদ-প্রবচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাদ-প্রবচন
ব্যাখ্যা
প্রবাদ-প্রবচন:
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা-লব্ধ কোনো গভীর জীবনসত্য লোকপ্রিয় কোন সংক্ষিপ্ত উক্তির মধ্যে সংহত হয়ে প্রকাশিত হলে তাকে প্রবাদ-প্রবচন বলে।
যেমন:
• 'অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ' অর্থ-বেশি অনুগত্য দেখানো সন্দেহজনক।
• 'উলুবনে মুক্তা ছড়ানো' অর্থ - অযোগ্য পাত্রে মূল্যবান বস্তু দান করা।
• 'ধর্মের কল বাতাসে নাড়ে' অর্থ- গোপন অন্যায়ের আকস্মিক প্রকাশ।
'লঘু পাপে গুরু দণ্ড' অর্থ - অপরাধের তুলনায় অধিক সাজা।
• 'গরিবের ঘোড়া রোগ' অর্থ - অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
'বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের নাটক?
  1. কৌতুক নাটক
  2. গীতিনাট্য
  3. নৃত্যনাট্য
  4. পৌরাণিক নাটক
সঠিক উত্তর:
কৌতুক নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌতুক নাটক
ব্যাখ্যা
'বৈকুণ্ঠের খাতা':
- বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় একটি কৌতুক নাটক।
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এক আত্মভোলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা।
- সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে।
- নাটকটির কোনো কোনো চরিত্রে লেখকের আত্মীয়-বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
'ভেড়াকান্ত' ছদ্মনামে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলোর নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
কলকাতায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭)
- রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭.
কোন শব্দটি অশুদ্ধ বানানে লেখা?
  1. ক্রিড়া
  2. কলঙ্কিত
  3. কর্তৃত্ব
  4. কার্যালয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিড়া
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- ক্রিড়া। 

• ক্রীড়া (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- খেলা। 
- তামাশা। 
- কৌতুকপ্রদ অনুষ্ঠান।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
• কতৃত্ব - কর্তৃত্ব। 
• কলংকিত - কলঙ্কিত। 
• কার্য্যালয় - কার্যালয়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
মুক্তিযোদ্ধা 'বদিউল আলম' হুমায়ূন আহমেদ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. আগুনের পরশমণি
  4. অনীল বাগচীর একদিন
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি। উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

------------
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নির + আকার = নিরাকার
  2. চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ
  3. বহি + রঙ্গ = বহিরঙ্গ
  4. নির + অন্ন = নিরন্ন
সঠিক উত্তর:
চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- চতুরঙ্গ। 

---------------
বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:

• নিয়ম: ইঃ + অ = ই + র্:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন।
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

• নিয়ম: ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার।
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

• নিয়ম: উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

• নিয়ম: উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা।
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
বুদ্ধদেব বসু কবি জীবনানন্দ দাশকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. চিত্ররূপময় কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. রূপসী বাংলার কবি
  4. নির্জনতার কবি
সঠিক উত্তর:
নির্জনতার কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্জনতার কবি
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জীবনানন্দ দাশের অন্যান্য উপাধিগুলো হলো-
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- শুদ্ধতম কবি হিসেবে অভিহিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
কোন ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান ব্যবহৃত হয়?
  1. তদ্ভব শব্দের বানানে
  2. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে
  3. সমাসবদ্ধ শব্দের ক্ষেত্রে
  4. ঋ, র, ষ- এর পূর্বে
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ- এর পরে 'ণ' বসে।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
নিচের কোনটি প্রাতিপদিকের উদাহরণ?
  1. ভয়ে
  2. লাজ
  3. পশুর
  4. মুখে
সঠিক উত্তর:
লাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাজ
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।

প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

অন্যদিকে, 
• ভয়ে ও মুখে সপ্তমী এবং পশুর শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
'উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।' এখানে 'উঃ!' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. পদান্বয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে।

যেমন:
মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

এছাড়াও অনন্বয়ী অব্যয়ের কয়েকটি উদাহরণ-
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- হ্যাঁ, আমি যাব না।- স্বীকৃতি জ্ঞাপনে।
- উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।- যন্ত্রণা প্রকাশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
'আগুন' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কৃশানু
  2. অংশু
  3. পাবক
  4. শিখা
সঠিক উত্তর:
অংশু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশু
ব্যাখ্যা
• 'আগুন' এর সমার্থক শব্দ নয়- অংশু।

• অংশু(বিশেষ্য পদ), 
অর্থ: কিরণ, দীপ্তি, রশ্মি।

'আগুন' এর সমার্থক শব্দ:
অগ্নি, অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, শিখা, হোমাগ্নি, কৃশানু, সর্বশুচি, সপ্তাংশু, বিভাবসু।

অন্যদকে,
-------------
• 'কিরণ' এর সমার্থক শব্দ:
প্রভা, আলো, বিভা, দীপ্তি, কর, অংশু, রশ্মি, জ্যোতি, আলোক, ময়ূখ, ভাতি, রেশন, রশ্মী, কিরণ, নুর, উদ্ভাস, ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. অধি
  2. পরা
  3. কদ
  4. উপ
সঠিক উত্তর:
কদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কদ
ব্যাখ্যা
'কদ' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- এটি নিন্দিত অর্থে- কদবেল, কদাকার এবং কদর্য শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬.
'Hand-bill' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রচারপত্র
  2. তথ্যপুস্তিকা
  3. লিখিত বিবরণ
  4. জ্ঞাপন পত্র
সঠিক উত্তর:
প্রচারপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রচারপত্র
ব্যাখ্যা
• 'Hand-bill' বাংলা পরিভাষা - প্রচারপত্র।

অন্যদিকে, 
• 'Hand-book' অর্থ - তথ্যপুস্তিকা।
• 'Hand out' অর্থ - জ্ঞাপন পত্র।
• 'Bill' অর্থ - দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় বা পেশাগত সেবার বিনিময়ে ধার্য টাকার লিখিত বিবরণ। 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
২৭.
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার ক্ষেত্রে কোন পদের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

প্রমিত বা চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম 'বৎসর'-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব 'বছর'-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৮.
'মহিরুহ' শব্দের অর্থ কী?
  1. পৃথিবী
  2. সমুদ্র
  3. মেঘ
  4. বৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'মহিরুহ' শব্দের অর্থ- বৃক্ষ।

'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
গাছ, পাদপ, দ্রুম, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহিরুহ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৯.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. জ্বর জ্বর
  2. জ্বলজ্বল
  3. পর পর
  4. ঝিকিমিকি
সঠিক উত্তর:
জ্বলজ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্বলজ্বল
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন:
ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩০.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ঘোড়া
  2. পানসা
  3. চলন্ত
  4. ডুবুরি
সঠিক উত্তর:
ঘোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত, পানসা ইত্যাদি। 

শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১.
'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়'- বক্তব্যটি কার রচনা?
  1. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তাঁর রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- 'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়'- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

কাহিনি সংক্ষেপ-
আনোয়ারা' উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে আনোয়ারা নাম্নী এক তরুণীকে ঘিরে। তার জীবনকে যেন লেখক বাঙালি নারীর আদর্শ জীবনরূপে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। যে কিনা সৎ মা গোলাপজানের শত গঞ্জনা সয়েও মুখে টু শব্দটি করে না। মায়ের বাধ্য সন্তান যেমন হয় আনোয়ারাও ঠিক তাই। আনোয়ারার একমাত্র সঙ্গী তার সই হামিদা। অন্যদিকে সৎ মায়ের গঞ্জনাতে শীতল ছায়া দিয়ে চলেছে আনোয়ারার দাদীমা। এই দুটি মানুষের কাছে জীবনের পরম আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে আনোয়ারা। কিন্তু আনোয়ারার জীবন দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও আদর্শপূর্ণ করে রেখেছেন লেখক। নামাজের জন্য ওযু করতে গিয়ে চোখ পড়ে নুরল এসলামের ওপর। যে সৎ, পবিত্র, নিষ্ঠাবান একজন কর্মী। নৌকাতে অবস্থানকালে তার মধুর কণ্ঠের কোরআন পাঠ আনোয়ারাকে মুগ্ধ করে। মনের অজান্তেই ভিনদেশি এই যুবকের মতো কেউ তার স্বামীর আসন দখল করুক এই তার বাসনা।

অনেক পথ পাড়ি দিয়ে বিয়ে হয় আনোয়ারা এবং নুরল এসলামের। কিন্তু এখানেও আনোয়ারার জীবনে আসে কালবৈশাখী ঝড়। এক তিমির থেকে বেঁচে সে এসে উপস্থিত হয় আরও এক গভীর অন্ধকারে। যেখানে তার পক্ষে কেউ নেই।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- আনোয়ারা,
- নুরুল এসলাম,
- খাদেম,
- আজিমুল্লাহ,
- গোলাপজান ইত্যাদি।

উৎস: 'আনোয়ারা' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন কোনটি?
  1. বর্ণ
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. কার
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন - বর্ণ। 
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি। 
• ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি। 
• ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য। 
• ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩.
'কাঠালের আমসত্ব' বাগ্‌ধারা অর্থ কী?
  1. দুর্লভ বস্তু
  2. অসম্ভব বস্তু
  3. অসম্ভব কল্পনা
  4. অকালপক্ব
সঠিক উত্তর:
অসম্ভব বস্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসম্ভব বস্তু
ব্যাখ্যা
• 'কাঠালের আমসত্ব' বাগ্‌ধারা অর্থ - অসম্ভব বস্তু।

অন্যদিকে, 
• 'অমাবস্যার চাঁদ' অর্থ - দুর্লভ বস্তু। 
• 'আকাশ কুসুম' অর্থ - অসম্ভব কল্পনা। 
• 'ইঁচড়ে পাকা' অর্থ - অকালপক্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪.
কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ-
  1. একাত্তরের যীশু
  2. একাত্তরের দিনগুলি
  3. একাত্তরের চিঠি
  4. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা
'একাত্তরের দিনগুলি' উপন্যাস:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।
- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

অন্যদিকে, 
• লেখক শাহরিয়ার কবির-এর লেখা 'একাত্তরের যীশু' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস।  

• "একাত্তরের চিঠি" কোনো একক ব্যক্তির লেখা গ্রন্থ নয়, এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখা বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধার চিঠিগুলোর একটি সংকলন। এই সংকলনে মোট ৮৬টি চিঠি রয়েছে, যা বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা তাদের পরিবার, বন্ধু ও ভালোবাসার মানুষকে লিখেছিলেন। একাত্তরের চিঠি'র প্রথম চিঠিটি লিখেছেন শহীদ কাজী নূরুন্নবী।  

•  'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা' হাসান আজিজুল হক রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
'ছুটি খাঁনী মহাভারত' খ্যাত অনুবাদের লেখক কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. পরাগল খাঁ
  3. দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
ব্যাখ্যা
• 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত:
- চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খান মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন। ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল 'অশ্বমেধ পর্বের' অংশ নিয়ে শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন।
- শ্রীকর নন্দী রচিত ভারত পাঁচালী 'ছুটি খাঁনী মহাভারত' নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

অন্যদিকে, 
-------------
• 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি। নবাব হুসেন শাহ্ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন। যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন 'ভারত পাঁচালী'।

• 'মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

• মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৬.
কোনটি অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ?
  1. ধোবা > ধোপা
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. শাক > শাগ
  4. ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
ব্যাখ্যা
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিস্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- ধোবা > ধোপা,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭.
মঙ্গলকাব্যের লেখক নন কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. কাশীরাম দাস
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
• কাশীরাম দাস মঙ্গলকাব্যের লেখক নন।

• কাশীরাম দাস:
- কাশীরাম দাস মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি।
- তিনি মহাভারত এর বাংলা অনুবাদক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি সংস্কৃত ‘মহাভারত’-এর শ্রেষ্ঠ বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর রচিত বাংলা ‘মহাভারত’ বাংলা সাহিত্যে একটি মাইলফলক।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ- 
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা। তাঁর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ বাংলা সাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্য, যা চণ্ডী দেবীর মাহাত্ম্য ও সমাজের চিত্র তুলে ধরে।

• বিজয় গুপ্ত মনসামঙ্গল কাব্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর রচিত ‘মনসামঙ্গল’ মনসা দেবীর পূজা ও মাহাত্ম্য প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি মঙ্গলকাব্যের অন্যতম ধারা।

• মানিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি। তিনি চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রাথমিক রচয়িতাদের একজন। 

---------------
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধ্যান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮.
'প্রস্তরকঠিন' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয়:
উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।

যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
[এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়।কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।]

যথা:
- প্রস্তরের ন্যায় কঠিন = প্রস্তরকঠিন;
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র;
- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯.
বাংলা বর্ণমালায় 'ঋ' একটি-
  1. যৌগিক স্বরবর্ণ
  2. অর্ধমাত্রার স্বরবর্ণ
  3. পূর্ণমাত্রার স্বরবর্ণ
  4. অনুনাসিক ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অর্ধমাত্রার স্বরবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধমাত্রার স্বরবর্ণ
ব্যাখ্যা
মৌলিক স্বর:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক স্বর বলে।

বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
যেমন,
- ই, এ, অ্যা, অ, আ, ও, উ।

- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ ছয়টি। যথা: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ।
- অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ একটি। যথা: ঋ।
- মাত্রাহীন বর্ণ চারটি। যথা: এ, ঐ, ও, ঔ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০.
'হঠাৎ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• হঠাৎ, 
- হিন্দি ভাষার শব্দ।  
- অর্থ অনুসারে অব্যয় ও ক্রিয়াবিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
অর্থ:
- সহসা,
- অকস্মাৎ।

• অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন:
হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, অদ্যাপি, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১.
'দৈনিক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. দিন + এক
  2. দৈ + নিক
  3. দিন + ণিক
  4. দিন + ইক
সঠিক উত্তর:
দিন + ইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিন + ইক
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়:
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন:
-  বাঘ + আ = বাঘা। 
- দিন + ইক = দৈনিক। 
[উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।]

উল্লেখ্য, 
দৈনিক শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ-  দিন + এক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪২.
"থ, ছ" কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি
  2. অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি
  3. ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি
  4. অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি- থ, ছ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

-----------------
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪৩.
বাক্যে সামান্য বিরতি নির্দেশ করে-
  1. কমা
  2. দাঁড়ি
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
কমা (,) বাংলা ভাষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ যতিচিহ্ন যা বাক্যে সামান্য বিরতি নির্দেশ করে এবং বক্তব্যকে স্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত করতে সাহায্য করে। এটি পূর্ণযতিচিহ্ন নয়, তাই কমা দিয়ে বাক্য শেষ হয় না। নিচে কমার ব্যবহারের প্রধান ক্ষেত্রগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:

কমার ব্যবহার:
• শব্দ, বাক্যাংশ বা অধীন বাক্য পৃথক করা: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ, বাক্যাংশ বা অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশের ছয়টি ঋতু।

• সম্বোধন পদের পরে: কাউকে সম্বোধন করার সময় নাম বা সম্বোধন পদের পর কমা বসে।
উদাহরণ: সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

• বাক্যের মধ্যে ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত তথ্য আলাদা করা: বাক্যে কোনো অতিরিক্ত তথ্য বা ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

• উদ্ধৃতি বা সরাসরি কথনের আগে: কোনো উদ্ধৃতি বা সরাসরি কথন শুরুর আগে কমা বসে।
উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।"

• বাক্যে স্পষ্টতা আনতে: বাক্যের গঠন জটিল হলে পড়ার সুবিধার্থে বা অর্থ স্পষ্ট করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।

অন্যদিকে,
• দাঁড়ি, বিস্ময়চিহ্নের মাধ্যমে বাক্যের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং এগুলোপূর্ণ যতিচিহ্ন হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
• বাক্যাংশ বা বাক্যের অংশকে সংযুক্ত করতে এবং নির্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪.
'বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়'- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
  2. তিনি বিদ্বান, তাই সর্বত্র আদরণীয়।
  3. তিনি বিদ্বান, ফলে সর্বত্র আদরণীয়।
  4. বিদ্বান যিনি, সর্বত্র আদরণীয়।
সঠিক উত্তর:
যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

জটিল বাক্য হলো সেই বাক্য, যেখানে একটি প্রধান বাক্য এবং একটি বা একাধিক আশ্রিত বাক্য থাকে এবং আশ্রিত বাক্যটি অব্যয় বা সম্পর্কবাচক সর্বনাম দ্বারা প্রধান বাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

যেমন:
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
- যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
- যদিও তার চুল পেকেছে, তবু তার বুদ্ধি পাকেনি।
- বিকেল যখন পাঁচটা, তখন কুমিল্লা পৌঁছলাম।
- যারা ধার্মিক, তারা সুখী।
- যদি কলম থাকত, তাহলে লেখা যেত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫.
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসনটি কার রচনা?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক (প্রহসন)।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

প্রহসনের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

---------------
• দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

•  নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
৪৬.
'অক্টোপাস' শামসুর রাহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'অক্টোপাস':
- শামসুর রাহমান রচিত 'অক্টোপাস' একটি উপন্যাস।
- ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- অক্টোপাস উপন্যাসজুড়ে রয়েছে দাম্পত্য সংকট, প্রেম, পরকীয়া ও ব্যক্তি অস্তিত্বের জলন্ত স্ফুরণ।

-----------------
• শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা'।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে 'বন্দী শিবির থেকে' নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে 'বন্দী শিবির থেকে'র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭.
'Consciousness' শব্দের বাংলা অর্থ?
  1. সচেতন
  2. সজ্ঞান
  3. চেতনা
  4. বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন
সঠিক উত্তর:
চেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেতনা
ব্যাখ্যা
• 'Consciousness' শব্দটির বাংলা পরিভাষা - চেতনা।

অন্যদিকে, 
• 'Conscious' অর্থ - সচেতন, সজ্ঞান।
• 'Conscientious' অর্থ - বিবেকবান; বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৪৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন। তিনি বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।
- প্রমথনাথ বিশি বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের যথার্থ শিল্পী' নামে অভিহিত করেন।
- তাকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়। কারণ তিনি প্রথম বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণ দান করেছেন। সুতরাং, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পূর্বে অনেকেরই গদ্যের বিকাশে অবদান থাকলেও, বাংলা ভাষার প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা তাকেই বলা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. যাত্রাবদল
  2. দৃষ্টিপ্রদীপ
  3. মৌরীফুল
  4. কিন্নরদল
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিপ্রদীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিপ্রদীপ
ব্যাখ্যা
• 'দৃষ্টিপ্রদীপ' উপন্যাস:
- 'দৃষ্টিপ্রদীপ' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস, যা আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক অনন্য সমন্বয়।
- উপন্যাসটি প্রথমে প্রবাসী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এবং পরে গ্রন্থকারে প্রকাশ পায়।
- এটি একজন যুবক জিতুর জীবনকেন্দ্রিক গল্প, যিনি তার আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান ও সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট-
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জিতু দার্জিলিংয়ে তার পরিবার—ভাই নিতাই ও বোন সীতার সঙ্গে বসবাস করে। গল্পে জিতুর জীবনযাত্রা, তার অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং সমাজের কুসংস্কার ও প্রচলিত রীতিনীতির প্রতি তার প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। জিতুর চরিত্রের মাধ্যমে বিভূতিভূষণ মানবজীবনের গভীর দার্শনিক প্রশ্ন এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির বিষয়টি অন্বেষণ করেছেন।

---------------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'দৃষ্টিপ্রদী' উপন্যাস, বিভতিভষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৫০.
'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত অসমান
  2. আহমদ ছফা
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• 'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থ:
- 'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গল্পগ্রন্থের নামগল্প 'দোজখের ওম'।
- ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প।

এগুলো হচ্ছে-
- কীটনাশকের কীর্তি,
- যুগলবন্দি,
- অপঘাত ও
- দোজখের ওম নামক।

-----------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: 'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫১.
'শনিবারের চিঠি' কোন শতকের পত্রিকা?
  1. উনিশ শতকের
  2. আঠারো শতকের
  3. বিশ শতকের
  4. একুশ শতকের
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের
ব্যাখ্যা
• 'শনিবারের চিঠি' বিশ শতকের পত্রিকা। 

'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৯২৪ সালে। পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন- সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২.
'বাঘের চামড়া' এক কথায় বলে-
  1. নির্মোক
  2. কৃত্ত
  3. অজিন
  4. অজিত
সঠিক উত্তর:
অজিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজিন
ব্যাখ্যা
অজিন (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- মৃগচর্ম;
- ছাগচর্ম;
- বাঘছাল;
- পশুচর্ম। 

আবার, 
- বাঘের চামড়া - কৃত্তি।
- হরিণের চামড়া - অজিন।

অন্যদিকে,
- 'সাপের খোলস' এর এক কথায় প্রকাশ = নির্মোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৩.
'চিত্রগুপ্ত' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. মণীশ ঘটক
  3. বিমল মিত্র
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সতীনাথ ভাদুড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

অন্যদিকে, 
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম- যুবনাশ্ব।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত কবিতা কোনটি?
  1. বাংলাদেশ
  2. স্মৃতিস্তম্ভ
  3. উচ্চারণগুলি শোকের
  4. বাতাসে লাশের গন্ধ
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিস্তম্ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে। 

অন্যদিকে, 
• 'উচ্চারণগুলি শোকের' আবুল হাসান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা। 
• বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' রচনা করেন 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ'।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫.
'দুহিতা' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যোগরূঢ়
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়ি
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা
• "দুহিতা" শব্দের বিশ্লেষণ:
"দুহিতা" শব্দটির উৎস সংস্কৃত শব্দ "দুহিতৃ" থেকে এসেছে। এটি নিম্নলিখিত উপাদান নিয়ে গঠিত:
- প্রকৃতি: "দুহ্" (অর্থ: দুধ দোয়া)। 
- প্রত্যয়: "তৃ"। 

ব্যুৎপত্তিগত অর্থ: ব্যুৎপত্তিগতভাবে "দুহিতা" শব্দটি বোঝাতে পারে "যে দুধ দোয়া হয়" বা গাভীর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু।
প্রচলিত অর্থ: বাংলা ভাষায় "দুহিতা" শব্দের প্রচলিত অর্থ হলো "কন্যা" বা "মেয়ে", যা ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

রূঢ়ি শব্দ হিসেবে বিশ্লেষণ-
"দুহিতা" একটি রূঢ়ি শব্দ, কারণ এর অর্থ তার প্রকৃতি ("দুহ্") ও প্রত্যয় ("তৃ")-এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থের অনুগামী নয়। রূঢ়ি শব্দ হিসেবে এটি প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে একটি নতুন অর্থ (কন্যা) প্রকাশ করে।

---------------
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।।
উদাহরণ
গবাক্ষ = গো + অক্ষ, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- গোরুর অক্ষি বা চোখ; কিন্তু 'গবাক্ষ' বলতে 'জানালা' বোঝায়।

এরূপ আরও শব্দ হলো- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৬.
স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. যোগী
  2. বৈষ্ণবী
  3. কোকিল
  4. মেধাবী
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণবী
ব্যাখ্যা
• স্ত্রীবাচক শব্দ- বৈষ্ণবী। 

• 'বৈষ্ণব' বিশেষ্য পদ, যার অর্থ-  বিষ্ণুর উপাসক; ধর্মসম্প্রদায়বিশেষ।
-'বৈষ্ণব' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - বৈষ্ণবী।

অন্যদিকে,
• কোকিল-কোকিলা। 
• ঈনী, নী প্রত্যয় যোগে-  মায়াবী-মায়াবিনী, কুহক-কুহকিনী, যোগী-যোগিনী, মেধাবী-মেধাবিনী, দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৭.
স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. আজি > আইজ
  2. বাক্য > বাইক্য
  3. বিলাতি > বিলিতি
  4. সত্য > সইত্য
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- সত্য > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।