পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা টপিক: (ব্যাকরণ) ১. শব্দ ও পদের গঠন, ২. শব্দের প্রকারভেদ, ৩. নির্দেশক ৪. দ্বিরুক্ত শব্দ। -------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
সাধিত শব্দ তৈরি হয় কীভাবে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. সমাস প্রক্রিয়ায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না?
  1. বিভক্তি
  2. উপসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে যুক্ত হয়না - উপসর্গ।

• উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ ।
---------------- 
প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
‘লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা ‘টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বিভক্তি: 
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- 'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ২০২২ সংস্করণ।
.
পদের লগ্নক কত ধরনের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 
- লগ্নক চার ধরনের।
যথা - 
 
বিভক্তি: 
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
নির্দেশক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ। 
 
বচন: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ। 
 
বলক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. বলক
  2. নির্দেশক
  3. বিভক্তি
  4. বচন
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন:
 -টা , -টি, -খানা, -খানি, - জন, -টুকু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
.
'অঙ্কটঙ্ক' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. প্রত্যয়যোগে
  2. উপসর্গযোগে
  3. সন্ধিযোগে
  4. দ্বিত্ব শব্দের সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব শব্দের সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব শব্দের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
• 'অঙ্কটঙ্ক' শব্দটি দ্বিত্ব শব্দের সাহায্যে গঠিত হয়েছে।

অনুকার দ্বিত্ব:

পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোজাখুজি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. বাবুয়ানা
  2. নিবৃত্তি
  3. দোকানি
  4. একেলে
সঠিক উত্তর:
নিবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।

অন্যদিকে,
• বাবুয়ানা = বাবু + (আনা) - তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• দোকানি = দোকান + (ই) - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• একেলে - একাল + (এ) - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃতের অনুরূপ সেগুলোকে কী বলে?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. বিদেশি
  4. দেশি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
যথা- 
- তৎসম, 
- তদ্ভব, 
- দেশি, 
- বিদেশি।

• তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। 
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বক্ষৃ ।

• সংস্কৃত ব্যাকরণ অনসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি। 

• তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি। 

• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছুশব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি ।

• বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে।
এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম - দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
.
সমাসের মাধ্যমে একাধিক শব্দ কীসে পরিণত হয়?
  1. বিভক্তিতে
  2. পদে
  3. বচনে
  4. এক শব্দে
সঠিক উত্তর:
এক শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক শব্দে
ব্যাখ্যা
• সমাস:
- সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়।
- বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস।
যেমন :
- দেশের সেবা = দেশসেবা.
- বই ও পুস্তক = বইপুস্তক.
- নেই পরোয়া যার = বেপরোয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
কোনটি নির্দেশক?
  1. খানা
  2. রা
সঠিক উত্তর:
খানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খানা
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন:
-টা , -টি, -খানা, -খানি, - জন, -টুকু।

অন্যদিকে,
• ই - বলক,
• রা - বচন,
• এ - বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
১০.
কোন নির্দেশকটি বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. টা
  2. গুলি
  3. টি
  4. খানি
সঠিক উত্তর:
গুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুলি
ব্যাখ্যা
• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক- 'গুলি'।

• একবচনে- টা, টি, খানা, খানি, গাছা ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
যেমন: টাকাটা, বাড়িটা, বইখানি ইত্যাদি।

• বহুবচনে- গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি নির্দেশক সংযুক্ত হয়।
যেমন: মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. কুট কুট
  2. ঘুমঘুম
  3. আমটাম
  4. জ্বর জ্বর
সঠিক উত্তর:
আমটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমটাম
ব্যাখ্যা
• আমটাম- অনুকার দ্বিত্ব। 

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস। 

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১২.
কোনটি লগ্নক নয়?
  1. নির্দেশক
  2. বচন
  3. প্রকৃতি
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
• 'প্রকৃতি' - লগ্নক নয়।

প্রকৃতি: 
যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।
প্রকৃতি দুই প্রকার। যথা -
১. নাম প্রকৃতি; উদাহরণ - হাত + ল = হাতল (বাঁট)। এখানে, হাত - নাম প্রকৃতি।
২. ক্রিয়া প্রকৃতি; উদাহরণ - √চল্‌ + অন্ত = চলন্ত (চলমান)। এখানে, চল্‌ - ক্রিয়া প্রকৃতি।
---------------------
• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:
- বিভক্তি, 
- নির্দেশক, 
- বচন, 
- বলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
‘সাংবাদিক’ শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. দ্বিত্ব ব্যবহার করে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন,
'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।
সুতরাং বলা যায়, 'সাংবাদিক' শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
কোন শব্দের সঙ্গে '-টা, -টি' নির্দেশক যুক্ত হয়?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন -
- টা, -টি, খানি, জন, -টুকু ।

নিচে কয়েকটি নির্দেশকের প্রয়োগ দেখানো হলো।

• বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, -টি নির্দেশক বসে।

এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে।
যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, তিনটে ইত্যাদি।

• বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -খানা, -খানি নির্দেশক বসে।
যেমন - ব্যাপারখানা, ভাবখানা ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১৫.
উৎসের বিবেচনায় নিচের কোন শ্রেণিটিকে শব্দের আগন্তুক উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. অর্ধ-তৎসম
সঠিক উত্তর:
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি ও
- বিদেশি।

এর মধ্যে,
তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬.
‘তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।' - এখানে 'হায় হায়' কী অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. আধিক্য
  2. ভাবের গভীরতা
  3. ধারাবাহিকতা
  4. অনুভূতি
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
১৭.
"আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।" - এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য
  2. ধারাবাহিকতা
  3. সামান্য
  4. অনুরূপ
সঠিক উত্তর:
সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি:
- বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি।

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি:
- বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে-

আধিক্য বোঝাতে:
- রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম।

সামান্য বোঝাতে:
- আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।

পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে:
- তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।

ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে:
- সে ধীরে ধীরে যায়,
- ফিরে ফিরে তাকায়।

অনুরূপ বোঝাতে:
- তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।

আগ্রহ বোঝাতে:
- সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
নিচের কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ঘর-টর
  2. চকচক
  3. খক খক
  4. পর পর
সঠিক উত্তর:
পর পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর পর
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায়।

অন্যদিকে:
- 'ঘর-টর' হচ্ছে অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।
- 'খক খক' এবং 'চকচক' ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১৯.
বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. ভালো ভালো
  2. ঘুম ঘুম
  3. চোখে চোখে
  4. হায় হায়
সঠিক উত্তর:
চোখে চোখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখে চোখে
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব - চোখে চোখে।
-----------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: 
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।