পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

পরীক্ষাপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২ টপিক: ইতিহাস-প্রাচীনকাল থেকে ১৯৪৭ বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন থেকে, ১৯৫৪ এর নির্বাচন, ৬দফা, ৬৯ এর গণঅভুন্থান ও স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস [লাইভ ক্লাস – ৩ ও ৪]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ) · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
বখতিয়ার খলজি কত সালে সালে বাংলা জয় করেন?
  1. ১২০২ সালে
  2. ১২০৩ সালে
  3. ১২০৪ সালে
  4. ১২০৫ সালে
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। 
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশে প্রথম 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা' কত সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম বইমেলা:
- বাংলাদেশের প্রথম বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৫ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি)।
- এটি ছিল মূলত শিশু গ্রন্থমেলা, যার আয়োজন করেছিলেন কথাসাহিত্যিক সরদার জয়েনউদদীন।
- ইউনেস্কো ১৯৭২ সাকে ‘আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে।
- সরদার সাহেব এই আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ উপলক্ষে ১৯৭২ সালে ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন।
- সেই থেকেই বাংলা একাডেমিতে বইমেলার সূচনা।
- ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা'র সূচনা হয়। 

উৎস: ৩১ জানুয়ারি ২০১৪, প্রথম আলো।
.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় -
  1. বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাবেশে
  3. মুজিবনগরে
  4. ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
প্রথম পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস। 
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন: কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
.
'ইউনেস্কো' কত তারিখে ৭ই মার্চের ভাষণকে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে?
  1. ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর
  2. ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর
  3. ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর
  4. ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ।
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে  ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এএইচএম কামারুজ্জামান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এম মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ। 
• অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম মনসুর আলী
• স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এএইচএম কামারুজ্জামান।
• পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র: তৃতীয় খণ্ড।
.
সমগ্র বাংলায় নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করার পর কোন শাসক 'গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. রাজা শশাংক
  2. রাজা হেমন্ত সেন
  3. রাজা বিজয় সেন
  4. রাজা লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা
লক্ষ্মণ সেন:
- লক্ষ্মণসেন (আনু. ১১৭৮-১২০৬ খ্রি)  সেন বংশের তৃতীয় শাসক।
- লক্ষ্মণসেন প্রায় ২৮ বছর রাজত্ব করেন।
- বল্লাল সেন ও রমাদেবীর পুত্র লক্ষ্মণ সেন ১১৭৯ সালে প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেন গৌড়, কলিঙ্গ, কামরূপ ও কাশীতে বিজয় অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।
- গৌড় লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালেই পুরোপুরি সেন সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল।
- তিনিই সেনদের মধ্যে প্রথম রাজা যিনি ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন।
- ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ূধ তাঁর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
.
ভারত বাংলাদেশকে কত তারিখে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান:
- ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৬ ডিসেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন।
- এদিন প্রথম দেশ হিসেবে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- লোকসভার অধিবেশনে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দানের ঘোষণা করেন।
- এসময় লোকসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
- একইসঙ্গে লোকসভার অধিবেশনে হর্ষধ্বনির সঙ্গে 'জয় -বাংলা' স্লোগান উচ্চারিত হয়।
- এদিন ইন্দিরা গান্ধী অধিবেশনে তার বক্তব্যে বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি স্বৈরতান্ত্রিক ও গণহত্যা নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।'

উল্লেখ্য,
- একই দিনে ভুটান ও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎস: ৬ ডিসেম্বর, ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।