পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা (ব্যাকরণ) টপিক: পরীক্ষার টপিক: ১. ভাষারীতি ২. ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ ও ইতিহাস ৩.পদ প্রকরণ ৪. বচন ও লিঙ্গ [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
"তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।" - বাক্যে ‘অথচ’ কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা:
সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক। 

সংযোজক অব্যয়:
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।

সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'বচন' শব্দের অর্থ কী?
  1. পরিমাপের ধারণা
  2. ক্রমের ধারণা
  3. গণনার ধারণা
  4. সংখ্যার ধারণা
ব্যাখ্যা
• 'বচন' শব্দের অর্থ — সংখ্যার ধারণা।

• বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা- একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• একবচন শব্দের উদাহরণ:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

• বহুবচন শব্দের উদাহরণ:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
.
'মরদ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সুন্দরী
  2. ষোড়শী
  3. জেনানা
  4. খানম
ব্যাখ্যা
• 'মরদ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ — 'জেনানা'।

এখানে,
'মরদ' শব্দের অর্থ - পুরুষ, পতি। 
'জেনানা' শব্দের অর্থ - পত্নী, নারী।

• যেসব স্ত্রীবাচক শব্দ বিদেশি ভাষা থেকে আগত তাদেরকে বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন-
- খান-খানম, 
- মরদ-জেনানা,
- মালেক-মালেকা, 

অন্যদিকে,
• সুন্দর - সুন্দরী,
• ষোড়শ - ষোড়শী
• খান - খানম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
"ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
‘ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা-  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)। 

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।
------------------------- 
আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'অদ্য' শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ?
  1. চলিত
  2. প্রাকৃত
  3. সাধু
  4. কোল
ব্যাখ্যা
• 'অদ্য' — শব্দটি সাধু ভাষারীতির উদাহরণ। 
এর চলিতরূপ: আজ।

• অদ্য (ক্রিয়াবিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: আজ, সম্প্রতি, এখন। 
----------------
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)। 
২) অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
.
নিম্নের কোন বাক্যে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পাখিরা আকাশে উড়ছে।
  2. মা রান্না করছেন।
  3. ছাত্ররা শিক্ষককে শ্রদ্ধা করে।
  4. বইগুলো টেবিলে রাখা আছে।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা- একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

একবচন শব্দের উদাহরণ:
• শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
• বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
• ছেলেটি মাঠে খেলছে।
• গাছটি সুন্দর ফুলে সাজানো।
• মা রান্না করছেন।
• সে একটি বই পড়ছে।

বহুবচন শব্দের উদাহরণ:
পাখিরা আকাশে উড়ছে।
• আমরা একসঙ্গে ছবি আঁকছি।
• বইগুলো টেবিলে রাখা আছে।
ছাত্ররা শিক্ষককে শ্রদ্ধা করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
.
'মহীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মহিয়সি
  2. মহিয়সী
  3. মহীয়সি
  4. মহীয়সী
ব্যাখ্যা
• 'মহীয়ান' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ- 'মহীয়সী'। 

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মহীয়ান': 
- সংস্কৃত শব্দ,
- বিশেষণ পদ।
অর্থ: অতি মহান, মহত্তর।
- এর স্ত্রী লিঙ্গ- মহীয়সী।

• পুরুষবাচক শব্দের ‘য়ান’-এর জায়গায় ‘য়সী' যোগ করে স্ত্রীবাচক হয়।
- যেমন:
• বর্ষীয়ান - বর্ষিয়সী,
• গরিয়ান - গরিয়সী,
• ভূয়ান - ভূয়সী, 
• মহীয়ান - মহীয়সী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)। 
.
যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের রূপ প্রাচীনরীতি অনুসারী এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই হলো -
  1. উপভাষা রীতি
  2. চলিত ভাষারীতি
  3. সাধু ভাষারীতি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের রূপ প্রাচীনরীতি অনুসারী এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই সাধু ভাষারীতি।
যেমন:
'এক ব্যক্তির দুইটি পুত্র ছিল।'
এই রীতি শুধু লিখিত গদ্যে পরিদৃষ্ট হয়।
------------------ 
• সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

• চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
.
"এখানে বসো।"- এ বাক্যে ‘এখানে’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অনুসর্গ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।

- যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বোঝায় তাকে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন :
আমার সামনে দাঁড়াও।
এখানে বসো।
বড় মামা মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন।
চশমাটা কোথায় হাড়িয়েছি জানি না।

• "এখানে বসো।" (কোথায় বসো?—এখানে।) 
- স্থান নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত শব্দগুলো ক্রিয়া বিশেষণ হতে পারে। তাই, এখানে- ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
ক্লীব লিঙ্গ শব্দ কোনটি?
  1. মানুষ
  2. মা
  3. বই
  4. সুন্দর
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গ:
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 

লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা :
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, মানুষ, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- অষ্টম শ্রেণি।
১১.
'তরঙ্গ' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. তরঙ্গরাশি
  2. তরঙ্গমালা
  3. তরঙ্গদাম
  4. তরঙ্গদল
ব্যাখ্যা
• ‘তরঙ্গ’ শব্দের বহুবচন- 'তরঙ্গমালা'। 

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
• আবলি- পুস্তকাবলি।
• গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
• দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
• নিকর- কমলনিকর।
• পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
• মালা- পর্বতমালা, তরঙ্গমালা। 
• রাজি- তারকারাজি।
• রাশি- বালিরাশি।
• নিচয়- কুসুমনিচয়। 

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।  (২০২২ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
১২.
কোনটি আত্মবাচক সর্বনাম?
  1. আপনি
  2. একজন
  3. পরস্পর
  4. সমুদয়
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম :
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

- সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: 
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনাম:
নিকট নির্দেশক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক - ও, ওই, ওরা, উনি।
৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
৭. পারস্পারিক সর্বনাম: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
৮. সকল/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
৯. অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো - ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী) (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৩.
'চলন্তিকা আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান' এর প্রণেতা কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. রাজশেখর বসু
  3. আহমদ শরীফ
  4. জামিল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'চলন্তিকা আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান' এর প্রণেতা — 'রাজশেখর বসু'।

বাংলা একাডেমি প্রকাশিত কিছু অভিধান:
• 'বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক: 'জামিল চৌধুরী'। 
• 'বাংলা একাডেমি ঐতিহাসিক অভিধান' এর সম্পাদক- মনজুরুর রহমান। 
• 'বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।
• 'বাংলা একাডেমি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- আবু ইসহাক।
• 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক- আহমদ শরীফ।
• 'মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- মোহাম্মদ আবদুল কাইউম।
• বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষ' এর সম্পাদক- সেলিনা হোসেন ও নূরুল ইসলাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৪.
কোন পদের বচনভেদ হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের বচনভেদ হয়।

• 'বচন':
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার।
যথা: একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন – সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গাছটি বেড়ে উঠছে।
  2. ছেলেটি হাসছে।
  3. সে বই পড়ছে।
  4. পাখি উড়ছে।
ব্যাখ্যা
"সে বই পড়ছে" বাক্যে "পড়ছে" হলো সকর্মক ক্রিয়া, কারণ এটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে "বই" (কর্ম) এর প্রয়োজন হয়। এখানে কর্ম 'বই' রয়েছে।

অন্য অপশনগুলো অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
যেমন:
ক) "গাছটি বেড়ে উঠছে।" (অকর্মক)।
খ) "ছেলেটি হাসছে।" (অকর্মক)।
ঘ) "পাখি উড়ছে।" (অকর্মক)।
--------------------- 
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।
যথা:
১. সকর্মক ক্রিয়া,
২. অকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- সুমাইয়া লিখছে। 
- হাসিব বলছে।
- সালমা ঘুমায়।
উপর্যুক্ত বাক্যগুলোতে কোনো কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সব
  2. বৃন্দ
  3. রাজি
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• 'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে — 'বৃন্দ' লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়।

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’ ‘বৃন্দ’ ‘মণ্ডলী’ ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

তাছাড়া, 
- প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’ ‘সমূহ’ ‘আবলি’ ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭.
'অমরকোষ' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. মহাকাব্য
  3. নাটক
  4. অভিধান
ব্যাখ্যা
• 'অমরকোষ' হলো একটি প্রসিদ্ধ সংস্কৃত অভিধান যা প্রাচীন ভারতে রচিত এবং সবচেয়ে বিখ্যাত অভিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি রচনা করেছিলেন অমরসিংহ, যিনি ষষ্ঠ শতকের বুদ্ধিজীবী এবং উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের একজন ছিলেন।

উল্লেখযোগ্য সংস্করণ:
হেনরি টমাস কোলব্রুক ১৮০৮ এবং ১৮২৫ সালে কলকাতা থেকে অমরকোষের একটি সংস্করণ প্রকাশ করেন।
চিন্তামণি শাস্ত্রী থাট্টে ও কিয়েন হর্ন ১৮৭৭ সালে মহেশ্বর-ভাষ্যসহ আরেকটি সংস্করণ বোম্বাই থেকে প্রকাশ করেন।

'অমরসিংহ' সম্পর্কে:
পণ্ডিতরা মনে করেন, অমরসিংহ ছিলেন ৬ষ্ঠ শতকের মধ্যবর্তী সময়ের বুদ্ধিজীবী।
তিনি উজ্জয়িনীর মহারাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের অন্যতম ছিলেন।
এই তথ্য অনুযায়ী অমরকোষ সংস্কৃত ভাষার প্রচলিত ও প্রাচীনতম অভিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এর প্রভাব সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষায় ব্যাপকভাবে পড়েছে।

রেফারেন্স:
- বাংলাপিডিয়া,
- অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও প্রবন্ধ (যেমন ডেইলি স্টার, জনকণ্ঠ)।
১৮.
'ব্যাঘ্র' কোন রীতির শব্দ?
  1. সাধু
  2. চলিত
  3. উভয় রীতি
  4. প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা
• "ব্যাঘ্র" শব্দটি তৎসম এবং সাধু রীতির শব্দ। এটি সাধারণত লেখ্য ভাষায় ব্যবহার হয়।
- চলিত রীতিতে এর পরিবর্তে "বাঘ" শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু ---- চলিত-

• অগ্নি - আগুন, 
• কর্ণ - কান, 
• চন্দ্র - চাঁদ, 
• দন্ত - দাঁত, 
• পক্ষী - পাখি, 
• ব্যাঘ্র - বাঘ, 
• মৎস্য - মাছ, 
• হস্তী - হাতি।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।