পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
৪৫তম বি.সি.এস. প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [বিশেষ রিভিশন পরীক্ষা] বিষয়ের নাম: বাংলা সাহিত্য সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি নজরুলকে কোন সাহিত্য কর্মটি উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. ক) সেঁজুতি
  2. খ) চিত্রা
  3. গ) বসন্ত
  4. ঘ) পূরবী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তরুণ কবি নজরুলকে তার রচিত ‘বসন্ত’ গীতিনাট্যটি উৎসর্গ করেছিলেন।
• কবি নজরুলকে ‘বসন্ত’ গীতিনাট্যটি উৎসর্গ করলে অনেকেই তা মেনে নিতে পারেন নি। এর প্রত্যুত্তরে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন--

“নজরুল ইসলাম সম্পর্কে তোমাদের মনে
যেন কিছু সন্দেহ রয়েছে। নজরুলকে
আমি ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য উৎসর্গ করেছি
এবং উৎসর্গপত্রে তাকে ‘কবি’ বলে
অভিহিত করেছি। জানি তোমাদের মধ্যে
কেউ কেউ এটা অনুমোদন করতে পারো
নি। আমার বিশ্বাস, তোমরা নজরুলের
কবিতা না পড়েই এই মনোভাব পোষণ করেছো।
আর পড়ে থাকলেও রূপ ও রসের সন্ধান করো নি,
অবজ্ঞাভরে চোখ বুলিয়েছো মাত্র।
কাব্যে অসির ঝনঝনা থাকতে পারে না
এসব তোমাদের অবদান বটে।
সমস্ত জাতির অন্তর যখন সে সুরে বাঁধা,
অসির ঝনঝনায় যখন সেখানে ঝংকার তোলে,
ঐকাতন সৃষ্টি হয়, তখন কাব্যে তাকে প্রকাশ করবে বৈকি।
আমি যদি আজ তরুণ হতাম, তাহলে আমার কলমেও ঐ সুর বাজতো।”

• রবীন্দ্রনাথ তার রচিত ‘পূরবী’ কাব্যটি উৎসর্গ করেছিলে আর্জেন্টিনার নারীকবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’- বিখ্যাত উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন গ্রন্থের?
  1. ক) সাতটি তারার তিমির
  2. খ) মাল্যবান
  3. গ) কবিতার কথা
  4. ঘ) ঝরাপালক
ব্যাখ্যা
•কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
• জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘
• ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক) আগুণের পরশমণি
  2. খ) চিলেকোঠর সেপাই
  3. গ) রেইনকোট
  4. ঘ) জীবনক্ষুধা
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ।
.
'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ' কিসের সংকলন?
  1. ক) ছোটগল্পের সংকলন
  2. খ) কাব্যগ্রন্থের সংকলন
  3. গ) গল্পগ্রন্থের সংকলন
  4. ঘ) গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী অবলম্বনে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) মধুসূদনজীবনী
  2. খ) শ্রীমধুসূদন
  3. গ) স্মরনে মধুসূদন
  4. ঘ) মধুসূদনচরিত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী নিয়ে রচিত বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের নাটকের নাম হচ্ছে - শ্রীমধুসূদন

• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

• উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন।
• বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প,
- বিন্দুবিসর্গ ,
- অদৃশ্যলোকে ,
- তন্বী (১৯৪৯),
- অনুগামিনী (১৯৫৮),
- দূরবীণ,
- মণিহারী,
- বহুবর্ণ ,
- বনফুলের নতুন গল্প প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বঙ্কিমচন্দ্রের তত্ত্বমূলক উপন্যাস কোনটি-
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. গ) রাজসিংহ
  4. ঘ) চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠদেবী চৌধুরাণী

• ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস আনন্দমঠ যা ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
• তাঁর জীবন তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর সৃষ্টিশীলতা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিস্ময়কর প্রভাব ফেলেছে।
• তিনি প্রাচীন ভারতের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন। তাঁর এ ধারণা আনন্দমঠ (১৮৮২) ও দেবী চৌধুরাণী (১৮৮২) গ্রন্থে এবং ধর্মশাস্ত্র ও গীতার ভাষ্যে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে,
• বিষবৃক্ষ ও কৃষ্ণকান্তের উইল বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্রের চারটি ইতিহাস আশ্রয়ী রোমান্সধর্মী উপন্যাস হলো: 
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুন্ডলা
-  চন্দ্রশেখর
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কবি কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' কব্যগ্রন্থের মূল সুর কি?
  1. ক) বিরহ
  2. খ) বিদ্রোহ
  3. গ) বিচ্ছেদ
  4. ঘ) প্রেম
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দুটি- 
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা
মহাকাব্য - মহাশ্মশান। 

কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ 'অশ্রুমালা'। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়। 

- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত দীর্ঘ বারো বছর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ক) পরিচয়
  2. খ) চিত্রদর্শন
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) ভারতী
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
• কাব্য:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী;

• গদ্যগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
'চিরায়ত সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
- 'চিরায়ত সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- জাহানারা ইমাম
- এটি ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয়। 

জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হলো:
- অন্য জীবন 
- বীরশ্রেষ্ঠ 
- জীবন মৃত্যু 
- বুকের ভিতরে আগুন
- নাটকের অবসান 
- দুই মেরু 
- নিঃসঙ্গ পাইন
- নয় এ মধুর খেলা
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস ও
- প্রবাসের দিনলিপি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' উক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) রামপ্রাসাদ সেন
  2. খ) দাশরথি রায়
  3. গ) রামনিধি গুপ্ত
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' উক্তিটি রচনা করেছেন- রামপ্রাসাদ সেন। 

রামপ্রসাদ সেন
:
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।
- বিখ্যাত গান "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা।"
- তার গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন ।
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
১১.
সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সীমানা ছাড়িয়ে
  2. খ) আনন্দের মৃত্যু
  3. গ) দেয়ালের দেশ
  4. ঘ) নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। 
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়।

সৈয়দ শামসুল হক
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুঁডিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন ইত্যাদি। 
প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে। 
উপন্যাস:
- দেয়ালের দেশ (প্রথম উপন্যাস)
- অনুপম দিন 
- এক মহিলার ছবি 
- খেলারাম খেলে যা
- তুমি সেই তরবারি
- ত্রাহি 
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ ইত্যাদি। 
গল্পগ্রন্থ
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান ইত্যাদি। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
১২.
হুমায়ূনের প্রথম টেলিভিশন নাটক কোনটি?
  1. ক) এইসব দিনরাত্রি
  2. খ) প্রথম প্রহর
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) কোথাও কেউ নেই 
ব্যাখ্যা
-  হুমায়ূনের প্রথম টেলিভিশন নাটক 'প্রথম প্রহর'

প্রথম প্রহর:
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই নাটকটি পরিচালনা করেছেন- নওয়াজেস আলী খান।
-----------------------------------------------------------------
- আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের ইতিহাসে তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- তাঁর প্রথম ধারাবাহিক নাটক 'এইসব দিনরাত্রি' যা বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।
- এ ছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মধ্যে আছে:
• বহুব্রীহি 
• অয়োময় 
• কোথাও কেউ নেই 
• আজ রবিবার
• নক্ষত্রের রাত। 

হুমায়ূন আহমেদ
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। 
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান। 
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন। 
- 'নন্দিত নরকে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া
- আগুনের পরশমণি
- অনিল বাগচীর একদিন
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। 
উপন্যাস:
- নন্দিত নরকে 
- শঙ্খনীল কারাগার 
- আমার আছে জল
- আজ রবিবার 
- এই সব দিনরাত্রি 
- বহুব্রীহি 
- অয়োময় 
- শ্রাবণ মেঘের দিন 
- দুই দুয়ারী 
- কোথাও কেউ নেই 
- মহাপুরুষ 
- বৃষ্টিবিলাস
- লীলাবতী ইত্যাদি। 
আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- আমার ছেলেবেলা 
- বলপয়েন্ট 
- কাঠপেন্সিল 
- রঙ পেন্সিল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পসঙ্কলন কোনটি?
  1. ক) বাংলাদেশ কথা কয়
  2. খ) একাত্তরের দিনগুলি
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) একাত্তরের রণাঙ্গন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৭১ সালে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পসঙ্কলন “বাংলাদেশ কথা কয়” কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। 
• গ্রন্থটি সম্পর্কে সম্পাদকের মন্তব্যটি স্মরণযোগ্য : ‘ভাষা আন্দোলন থেকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের সাহিত্য নানা মোড় ফিরেছে, সমৃদ্ধ হয়েছে, জনমানসের প্রতিরোধ চেতনাকে বিস্তার লাভে আরও সাহায্য করেছে। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের গল্প ও কবিতার ভূমিকা তাই গৌণ নয়। বাংলাদেশ কথা কয় গ্রন্থে সন্নিবেশিত বাংলাদেশের কয়েক তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো তাই নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালী জাতীয় মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা।

 এ সঙ্কলনে মোট ষোলোটি গল্প স্থান পায়এগুলো হলো:
• বিপ্রদাশ বড়–য়ার ‘সাদা কফিন’,
• নির্মলেন্দু গুণের ‘শেষ যাত্রা নয়’,
• আবদুল হাফিজের ‘লাল পল্টন’,
• সুব্রত বড়–য়ার ‘বুলি তোমাকে লিখছি’,
• ফজলুল হকের ‘চরিত্র’,
• আসফ-উজ-জামানের ‘রক্ত প্রজন্ম’,
• বুলবন ওসমানের ‘সোলেমান ভাই’,
• কামাল মাহবুবের ‘নীল নকশা’,
• অনু ইসলামের ‘শব্দতাড়িত’,
• আসাদ চৌধুরীর ‘কমলা রঙের রোদ’,
• সত্যেন সেনের ‘পরীবানুর কাহিনী’,
• ইলিয়াস আহমদের অন্যের ডায়েরি থেকে,
• জহির রায়হানের ‘সময়ের প্রয়োজনে’,
• কায়েস আহমেদের ‘শেষ বাজি’,
• শওকত ওসমানের ‘আলোক-অন্বেষা ’এবং
• আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘রোদের অন্ধকারে বৃষ্টি’।
এসব গল্পে মুক্তিযুদ্ধের তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে,
‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
‘একাত্তরের রণাঙ্গন’ শামসুল হুদা চৌধুরী রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।

উৎস: দৈনিক জনকন্ঠ।
১৪.
“বঙ্গদর্শন” নামক সাহিত্য-বিষয়ক মাসিক পত্রিকাটি সম্পাদনার মাধ্যমে সাহিত্যের ইতিহাসে নবযুগের সুচনা করেন-
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিকাশ যুগ এ পর্বের শ্রেষ্ঠ লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪)। তিনি বাংলা গদ্যকে সর্বপ্রকার ভাব প্রকাশের উপযোগী করে তোলেন।
• বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি জীবনে অসামান্য প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভাগুণে পন্ডিতি ও আলালি-হুতোমি রীতির মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করে সরল ও সরস গদ্যের সৃষ্টি করেন।
“বঙ্গদর্শন”  (১৮৭২) নামক সাহিত্য-বিষয়ক মাসিক পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি সাহিত্যের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করেন। সাহিত্য-সমালোচনা, ঐতিহাসিক গবেষণা, ধর্ম ও দার্শনিক আলোচনা, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সাহিত্য, ব্যঙ্গ-সাহিত্য এর সবই তিনি প্রবর্তন করেন।
• বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিভাবলে যে সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তাঁরাই দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবৎ বাংলা সাহিত্যে আধিপত্য করেন। বাংলায় তুলনামূলক সাহিত্যসমালোচনারও তিনিই পথিকৃৎ।
• তবে তাঁর প্রধান পরিচয় ঔপন্যাসিক হিসেবে এবং এজন্য তিনি ‘সাহিত্যসম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুন্ডলা, কৃষ্ণকান্তের উইল, বিষবৃক্ষ, আনন্দমঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!- কাবিতার পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) মাহমুদুল হক
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিদ্বয় কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য
১৬.
'আমলার মামলা' নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। 

শওকত ওসমান
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
- আমলার মামলা
- কাঁকর মণি 
- বাগদাদের কবি

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায় 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭.
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্ররমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলি
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে। 
 
 মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
 - সাহিত্য ও সংস্কৃতি,  
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
'অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থের রচয়িতা?
  1. ক) মুহম্মদ এনামুল হক
  2. খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ড. আহম্মদ শরীফ
ব্যাখ্যা
'অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থের রচয়িতা- 'সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়'

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৮৯০ সালের ২৬শে অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।  

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স 
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা 
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ 
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচর অফ মর্ডান ইন্ডিয়া 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
- লাইনটি কবি সুফিয়া কামালের 'পল্লী স্মৃতি' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

পল্লী স্মৃতি – বেগম সুফিয়া কামাল
বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লী ময়ের কোল,
ঝাউশাখে যেথা বনলতা বাঁধি হরষে খেয়েছি দোল
কুলের কাটার আঘাত লইয়া কাঁচা পাকা কুল খেয়ে,
অমৃতের স্বাদ যেন লভিয়াছি গাঁয়ের দুলালী মেয়ে
পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসে খুশীতে বিষম খেয়ে,
আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।
চৈত্র নিশির চাঁদিমায় বসি‘ শুনিয়াছি রূপকথা,
মনে বাজিয়াছে সুয়ো দুয়োরাণী দুখিনি মায়ের ব্যথা।
তবু বলিয়াছি মার গলা ধরে, “মাগো, সেই কথা বল,
রাজার দুলালে পাষাণ করিতে ডাইনী করে কি ছল!
সাতশ‘ সাপের পাহারা কাটায়ে পাতালবাসিনী মেয়ে,
রাজার ছেলেরে বাঁচায়ে কি করে পৌঁছিল দেশে যেয়ে।”
কল্পপূরীর স্বপনের কাঠি বুলাইয়া শিশু চোখে
তন্দ্রদোলায় লয়ে যেত মোরে কোথা দূর ঘুমলোকে
ঘুম হতে জেগে বৈশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম
খেলার সাথীরা কোথা আজ তারা? ভুলিয়াও গেছি নাম।
নববর্ষার জলে অবগাহি কভু পুলকিত মনে
গান গাহিয়াছি মল্লার রাগে বাদলের ধারা সনে;
শিশির সিক্ত শেফালী ফুলের ঘন সৌরভে মাতি‘
শারদ প্রভাতে সখীগন সাথে আনিয়াছি মালা গাঁথি‘।
পল্লী নদীর জলে ভাসাইয়া মোচার খেলার তরী,
কাঁদিয়া ফিরেছি সাঁঝের আলোতে পুতুল বিদায় করি‘।
আগামী দিনের আশা-ভরসার কত না মধুর ছবি
ফুঁটিয়া উঠেছে আঁখির পাতায় ডুবেছে যখন রবি।

উৎস: পল্লী স্মৃতি কবিতা – বেগম সুফিয়া কামাল। 
২০.
“লায়লী ওয়া মজনুন” কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) আলাওল
  3. গ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. ঘ) কবি জামি
ব্যাখ্যা
• দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত ‘লায়লী মজনু' কাব্য।  ‘লায়লী মজনু’র রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে।
- আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩;
- শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারসি তথা ইরানি কবি জামির ‘লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা-
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা- 'আনোয়ার পাশা' 

• রাইফেল রােটি আওরাত
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২২.
লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক কে ছিলেন?
  1. ক) চন্দ্রকুমার দে
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) দক্ষিণারঞ্জন রায় মিত্র
  4. ঘ) সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা  ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গীতিকাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।

দে, চন্দ্রকুমার (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩.
আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ছুটির দিন দুপুরে
  2. খ) রাত্রিশেষ
  3. গ) ছায়া হরিণ
  4. ঘ) সারা দুপুর
ব্যাখ্যা
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- ছায়া হরিণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
নিচের কোনটি আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) আগুনের মেয়ে
  2. খ) কালের কলস
  3. গ) সৌরভের কাছে পরাজিত
  4. ঘ) লোক লোকান্তর
ব্যাখ্যা
- আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ হচ্ছে 'সৌরভের কাছে পরাজিত'

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত।
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
- গন্ধবণিক।
- ময়ূরীর মুখ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী।
- উপমহাদেশ।
- আগুনের মেয়ে।
- কাবুলের বোন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫.
'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত কোন কবি?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত বিদ্যাপতি

• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৬.
'রাজা যায় রাজা আসে' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
- 'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• আবুল হাসান রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক,
• তাঁর রচিত গল্প সংকলন: 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর
২৭.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত কবিতার নাম কি?
  1. ক) সন্ধিক্ষণ
  2. খ) হসন্তিকা
  3. গ) মেথর
  4. ঘ) অভ্র আবীর
ব্যাখ্যা
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত কবিতার নাম হচ্ছে 'মেথর'

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৮৮২ সালে কলকাতার নিমতাগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর কবিতার ভাববস্তু ছিল দেশাত্মকবোধ, শক্তির সাধনা ও মানবতার বন্ধনা।
- ছন্দের রাজা ও ছন্দের জাদুকর হিসেবে খ্যাতি ছিল সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের।
- তাঁর বহুল প্রচলিত কবিতার নাম ‘মেথর’।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা সমূহ সমৃদ্ধ ছন্দের ঝঙ্কারে।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য গুলো হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
২৮.
'ধারাবাহিক' প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) জসীম উদ্দীন
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা

- হুমায়ুন কবির 'ধারাবাহিক' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেছেন।

• হুমায়ুন কবির:
- তিনি ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন লেখক ও রাজনীতিবীদ।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবির উদ্দিন আহমদ।
- নদী ও নারী' তার রচিত উপন্যাস। যা ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্য-
- অষ্টাদশী,
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-
- মার্কসবাদ,
- ধারাবাহিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯.
আল মাহমুদ রচিত কোন কবিতাটি একটি সনেট?
  1. ক) কালের কলস
  2. খ) সোনালী কাবিন
  3. গ) অবগাহনের শব্দ
  4. ঘ) অন্তরভেদী অবলোকন
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ:
-
আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল ‘সোনালী কাবিন’ (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থ।
-  এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালী কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।
- ‘সোনালী কাবিনে’র কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- পুরো কাব্যগ্রন্থটিতে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীণ আবহে উঠে এসেছে।

 এই কাব্যগ্রন্থের অন্য কবিতা গুলো হলো:
- জাতিস্মর
- পারক ভাঙার প্রতিবাদে,
- ক্যামোফ্লাজ
- শোণিত সৌরভ
- তোমার আড়ালে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত।
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
- গন্ধবণিক।
- ময়ূরীর মুখ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী।
- উপমহাদেশ।
- আগুনের মেয়ে।
- কাবুলের বোন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০.
'আব্বুকে মনে পড়ে' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
- হুমায়ুন আজাদ রচিত 'আব্বুকে মনে পড়ে' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কিশোর উপন্যাস
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক শিশু। ১৯৭১ সালে যার বয়স ছিল ৪ বছর।

• হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।