পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes৩৫ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩৬
সিলেবাস
বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অধ্যায়: বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি টপিকসমূহ: ১. বৈশ্বিক ইতিহাস: i) মানব সমাজের বিবর্তন ii) বিশ্ব সভ্যতা ২. আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: i) দেশ ও মহাদেশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য [দেশের ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান, রাজধানী, মুদ্রা, ভাষা, বিভিন্ন দেশের সংস্কার আন্দোলন, ইত্যাদি। উৎস: ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কিত বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, হিস্টরি.কম, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] -------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৬ প্রশ্ন

.
কনস্টান্টিনোপল কোন সাম্রাজ্যের সাথে সম্পর্কিত?
  1. রোমান সাম্রাজ্য
  2. গ্রিক সাম্রাজ্য
  3. মঙ্গোল সাম্রাজ্য
  4. হ্যান সাম্রাজ্য
সঠিক উত্তর:
রোমান সাম্রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
রোমান সাম্রাজ্য:
- কনস্টান্টিনোপল আধুনিক তুরস্কের একটি প্রাচীন শহর যা এখন ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- প্রথম দিকে ছিল এটা একটি বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- ক্রমে গ্রিক সভ্যতার পতন ৪৭৬ (খ্রি.) ঘটলে এই রোম সমগ্র ইতালি ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করে এক বিশাল রোমান সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী কনস্টান্টিনোপল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই নামকরণ করা হয়েছিল সম্রাট কনস্টানটাইনের নামানুসারে।

উৎস: i) History.com
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ইউরোপে কবে ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটে?
  1. ১৬১৮ সালে
  2. ১৬২৮ সালে
  3. ১৬৩৮ সালে
  4. ১৬৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬৪৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
Thirty years war:
- ইউরোপে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধের সর্বশেষ উদাহরণ ছিলো ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধ।
- প্রোটেস্টান্ট জার্মানির উপর অস্ট্রিয়ান হ্যাপসবার্গের-এর প্রভাব অক্ষুন্ন রাখা, ডেনমার্কের রাজার উচ্চভিলাষ, বাল্টিক অঞ্চলে সুইডেনের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার এবং হ্যাপসবার্গকে পরাজিত করে ফ্রান্সকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করা এসব নিয়েই যুদ্ধ প্রলম্বিত হতে থাকে।
- ধর্মান্ধতা, স্বার্থপরতা, নিজেদের উচ্চাকাংক্ষা এবং প্রাধান্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ইউরোপের সকল দেশ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে যুদ্ধে সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ত্রিশ বছরব্যাপী অবিরামভাবে যুদ্ধ করার পর বিপর্যস্ত ইউরোপের সকল দেশের প্রতিনিধিরা ১৬৪৮ সালে ওয়েস্টফেলিয়াতে মিলিত হয়ে দুটি ভিন্ন শান্তিচুক্তি পাস করে।
- ১৬৪৮ সালের ২৪শে অক্টোবর ওয়েস্টাফেলিয়া চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘ ত্রিশ বছরব্যাপী ধর্মজনিত এই যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
- ওয়েস্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি ইউরোপের শান্তির স্বপক্ষে প্রথম এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- এটি ইউরোপকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
- এই সন্ধির ভূ-খন্ডগত সীমানা নেপোলিয়নের যুগ পর্যন্ত বহাল থাকে।

উৎস: i) Britannica.
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
নব্যপ্রস্তর যুগ সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. চাকার আবিষ্কৃত হয়
  2. মানুষ স্থায়ী বসতি স্থাপন করে
  3. মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নব্যপ্রস্তর যুগ:
- আদি মানব এক সময় নতুন পাথরের যুগে প্রবেশ করে।
- এ সময় তৈরি পাথরের অস্ত্র অনেক বেশি উন্নত ছিল।
- এ যুগে মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল।
- কৃষি আর পশু পালন ছিল মানুষের প্রধান পেশা।
- এরই পাশাপাশি মাটির রকমারি বাসন-কোসন তৈরি করতে শিখল।
- নব্য প্রস্তরযুগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কীর্তি হল চাকার আবিষ্কার।
- কৃত্রিম পদ্ধতিতে আগুন জ্বালানোর কৌশল আয়ত্ত্ব এবং এর ব্যাপক ব্যবহার নব্য প্রস্তর যুগের অর্জন।
- নব্য প্রস্তরযুগের শেষপর্যায়ে এসে সীমিত আকারে তামার ব্যবহার শুরু হয়।
- নতুন পাথরের যুগের মানুষ কাপড় বুনতে পারতো।
- শিকারি জীবনের অবসান হওয়ায় এ যুগের মানুষ স্থায়ী বসতি স্থাপন করে।
- মানুষ স্থায়ী বসবাস গড়ার কারণেই ধীরে ধীরে গ্রামের বিকাশ ঘটলো।
- নতুন পাথরের যুগের সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল সিন্ধু নদীর উপত্যকা এবং বেলুচিস্তান।
- দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায় উন্নত ধরনের পাথরের কুঠার।
- এ যুগে মৃতদেহকে কবর দেয়া হতো।
- কবরের উপরে তৈরি করা হতো সমাধি।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ব্রিটিশ শাসনাধীন 'তেরো উপনিবেশ' কবে স্বাধীন হয়?
  1. ১৭৭০ সালে
  2. ১৭৭২ সালে
  3. ১৭৭৪ সালে
  4. ১৭৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
তেরো উপনিবেশ:
- ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট রাজাদের অদূরদর্শী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নীতির ফলে ইংল্যান্ডের প্রচুর মানুষ আমেরিকায় চলে যায়।
- সেখানকার ওলন্দাজ ও ফরাসি শক্তিকে পরাজিত করে ইংরেজরা যে তেরটি উপনিবেশ গড়ে তোলেন তা 'ত্রয়োদশ উপনিবেশ' (Thirteen Colonies) নামে পরিচিত।

⇒ তেরো উপনিবেশ ছিল ব্রিটেনের শাসনাধীন একগুচ্ছ উপনিবেশ, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।
- এই উপনিবেশগুলি ১৬০০ থেকে ১৭০০-এর দশকের মধ্যে ব্রিটেন প্রতিষ্ঠা করেছিল।
- এগুলোর মধ্যে ছিল: পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, নিউ ইংল্যান্ড (ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, কনেকটিকাট, নিউ হ্যাম্পশায়ার), ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, ক্যারোলিনা (উত্তর এবং দক্ষিণ), জর্জিয়া, ডেলাওয়ার, লুইজিয়ানা, রোড আইল্যান্ড।
- ১৭৩২ সালে জর্জিয়া প্রদেশ সৃষ্টির মাধ্যমে তেরো উপনিবেশ পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৭৭৬ সালে এগুলো স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
- তখন এরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
- এটি আমেরিকান বিপ্লব নামে পরিচিত।

⇒ এই তেরো উপনিবেশের মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল, সবগুলোই ব্রিটিশ শাসনাধীন ছিল এবং আমেরিকান বিপ্লবের সময় একত্রিত হয়ে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে, যা শেষে ১৭৮৩ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা অর্জনে পরিণত হয়।

উৎস: Britannica.
.
নাইজেরিয়ার রাজধানীর নাম কী?
  1. আবুজা
  2. লেগোস
  3. নিয়ামে
  4. বানজুল
সঠিক উত্তর:
আবুজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুজা
ব্যাখ্যা
নাইজেরিয়া:
- নাইজেরিয়া পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ।
- এটি আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল এবং তেল সমৃদ্ধ দেশ।
- এর পশ্চিমে বেনিন, পূর্বে চাদ ও ক্যামেরুন, উত্তরে নাইজার এবং দক্ষিণে গিনি উপসাগর অবস্থিত।
- এটি ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল।
- রাজধানী: আবুজা।
- বৃহত্তম শহর: লেগোস।
- ভাষা: ইংরেজি।
- মুদ্রা: নাইজেরিয়ান নাইরা।

অন্যদিকে,
- গাম্বিয়ার রাজধানী: বানজুল।
- নাইজারের রাজধানী নিয়ামে।

উৎস: Britannica.
.
দ্রাবিড় জাতি কোন সভ্যতার পত্তন করেছিল?
  1. চৈনিক সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. পারস্য সভ্যতা
  4. হিব্রু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
দ্রাবিড়:
- ভারতে আর্যদের আগমনের পূর্বে দ্রাবিড় জাতির বসবাস ছিল।
- এই জাতিগোষ্ঠী দক্ষিণে ইন্দো-আফ্রিকার নিগ্রোদের গোত্রভুক্ত।
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে যে আদিবাসীদের অস্তিত্বের কথা সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের ফলে জানা যায় এরাই দ্রাবিড় জাতি।
- তারাই সিন্ধু সভ্যতার পত্তন করেছিল।
- প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেই ভারতে দ্রাবিড়দের অবস্থান ছিল বলে অনুমান করা হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতা:
- সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতা হচ্ছে দ্রাবিড়রা।
- এই সভ্যতার অধিবাসীরা ছিল দ্রাবিড়, অস্ট্রোলয়েড, ভূ-মধ্যসাগরীয় মঙ্গোলীয় এবং আলপানীয় গোত্রভুক্ত।
- তবে এদের মধ্যে দ্রাবিড়দের সংখ্যাই ছিল বেশি।
- এ কারণে অধিকাংশ পণ্ডিতের ভাষ্য সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতা হচ্ছে দ্রাবিড়রা।
- এ কারণেই সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতি দ্রাবিড়ীয় সংস্কৃতি নামে পরিচিত।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'কান্দাহার' কোন দেশের শহর?
  1. আফগানিস্তান
  2. কাজাখস্তান
  3. কিরগিজস্তান
  4. তুর্কমেনিস্তান
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
কান্দাহার:
- কান্দাহার আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার।
- কান্দাহার দক্ষিণ আফগানিস্তানের একটি শহর এবং কান্দাহার প্রদেশের রাজধানী।
- এটি আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
- শহরটি এক সময় তালেবানের শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল।

উৎস: Britannica.
.
ভারত কবে প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়?
  1. ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭
  2. ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭
  3. ২৫ জানুয়ারি, ১৯৫০
  4. ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০
সঠিক উত্তর:
২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০
ব্যাখ্যা
ভারত:
- ভারত দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র।
- আয়তনে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র।
- রাজধানী: নয়া দিল্লি।
- মুদ্রা: রুপি।
- প্রেসিডেন্ট: দ্রৌপদী মুর্মু।
- প্রধানমন্ত্রী: নরেন্দ্র মোদি।
- প্রধান পর্বতমালা: হিমালয়।
- প্রধান নদী: গঙ্গা, যমুনা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র।

⇒ ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ দুই ভাগে ভাগ হয়ে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারত ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয় এবং প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।
- তাই প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি ভারতে প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করা হয়।

উৎস: Britannica.
.
কোন শতাব্দীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ শুরু হয়?
  1. একাদশ শতাব্দীতে
  2. দ্বাদশ শতাব্দীতে
  3. ত্রয়োদেশ শতাব্দীতে
  4. চতুর্দশ শতাব্দীতে
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ শতাব্দীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
রেনেসাঁ:
- ইংরেজি 'রেনেসাঁ' Renaissance) শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম।
- ধর্মভাবনা নিয়ন্ত্রিত ও সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় দীর্ঘ বদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবনের সবকিছুকে জানার জন্য মানব মনের যে আগ্রহ তারই পরিণতি স্বরূপ যে নবজীবনবাদের সূচনা, তাকেই সাধারণভাবে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

⇒ মধ্যযুগের জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিশ্বাস সব কিছুই আবর্তিত হতো প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে।
- ইউরোপে চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতক থেকে ক্রমেই এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।
- সাধারণ মানুষ যুক্তিতর্ক দ্বারা সবকিছুকে গ্রহণ বা বর্জন করতে উৎসাহী হয়ে ওঠে।
- রেনেসাঁস মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাজ পরিবর্তন প্রক্রিয়া।
- এই রেনেসাঁসের ভেতর দিয়ে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার উত্থান ঘটেছে।

⇒ চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ শুরু হয়।
- ইতালিতে রেনেসাঁস এর গোড়াপত্তন ঘটে।
- পরবর্তী সময়ে জার্মানিতে রিফরমেশন, ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে রুশ বিপ্লব ও চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটে।
- তবে ইতালিতেকেই রেনেসাঁসের প্রথম পর্ব হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica. [link]
১০.
হাম্মুরাবী কে ছিলেন?
  1. চিকিৎসক
  2. ধর্ম প্রচারক
  3. আইন প্রণেতা
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণেতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণেতা
ব্যাখ্যা
রাজা হাম্মুরাবী ও ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য:
- রাজা হাম্মুরাবী ছিলেন এ্যামোরাইট জাতির বিখ্যাত নেতা।
- তাঁর আমলে ব্যবিলন নতুন সভ্যতায় উদ্ভাসিত হয়।
- ইউফ্রেটিস উপত্যকায় ব্যবিলনে তিনি কেন্দ্রীয় রাজ্য স্থাপন করেন এবং যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে এক বিশাল শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন।
- তিনি ছিলেন আইন প্রণেতা।

⇒ হাম্মুরাবী আইন (Code of Hammurabi):
- রাজা হাম্মুরাবী স্বীয় সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষার্থে প্রচলিত স্থানীয় নীতি ও আইন কানুন সংস্কার করে একটি সর্বজনস্বীকৃত বিধিবদ্ধ আইন তৈরী করেন।
- ইতিহাসে তা হাম্মুরাবীর আইন (Code of Hammurabi) বলে খ্যাত।
- তবে হাম্মুরাবীর প্রণীত আইন সুমেরীয় রাজা ডুঙির আইন দ্বারা অনেকাংশে প্রভাবান্বিত।
- প্রস্তুর স্তম্ভে বিধান মালা খোদিত করে রাজা বিভিন্ন মন্দিরে স্থাপন করে রাখেন।
- বর্তমানে ফ্রান্সের প্যারিস যাদুঘরে (ল্যুভ জাদুঘর) সংরক্ষিত এই স্তম্ভে সর্বমোট ২৮২টি বিধি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- রাজনৈতিক অপরাধ, পারিবারিক, বিবাহ, ক্রয় বিক্রয়ের নিয়মাবলী, ব্যবসা বাণিজ্য ইত্যাদি- এই আইনের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- সর্বজন স্বীকৃত বিস্তারিত আইন কানুন হাম্মুরাবীর পূর্বে কোন রাজা প্রণয়ন করেননি।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
'কসোভো' কোন দেশের উপনিবেশ ছিল?
  1. স্পেন
  2. ব্রিটেন
  3. সার্বিয়া
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
সার্বিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্বিয়া
ব্যাখ্যা
কসোভো:
- কসোভো ইউরোপের ভূমিবেষ্টিত ছোট্ট একটি দেশ।
- এর চারদিকে রয়েছে বলকানের চারটি দেশ: আলবেনিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, মন্টেনিগ্রো এবং সার্বিয়া।
- এটি সার্বিয়ার উপনিবেশ ছিল।
- ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে স্বাধীন হয় কসোভো।
- রাজধানী: প্রিস্টিনা।
- প্রধান ভাষা: আলবেনীয় ও সার্বীয়।
- মুদ্রা: ইউরো।

উল্লেখ্য,
- ১৩৮৯ সালে কসোভো যুদ্ধের পর এখানে ইসলামের আগমন ঘটে।
- এরপর থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত তা অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।
- বলকান যুদ্ধের পর, এটি সার্বিয়া এবং মন্টিনিগ্রোকে হস্তান্তর করা হয়।
- যুগোস্লাভিয়ার মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশে পরিণত হয়।
- ১৯৯০-এর দশকে যুগোশ্লাভিয়া ভেঙ্গে যাবার পরপরই স্বাধীনতার ইচ্ছে প্রকাশ করে কসোভো।
- ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে স্বাধীন হয় কসোভো।

উৎস: Britannica.
১২.
জার্মানি ব্যতীত কোন দেশের সরকার প্রধান 'চ্যান্সেলর' হিসেবে পরিচিত?
  1. সার্বিয়া
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. লিচেনস্টাইন
  4. অস্ট্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিয়া
ব্যাখ্যা
অস্ট্রিয়া:
- অস্ট্রিয়া দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপের পর্বত ঘেরা স্থলবেষ্টিত দেশ।
- এটি ইউরোপের নিরপেক্ষ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
- অস্ট্রিয়ার মোট ক্ষেত্রফলের দুই-তৃতীয়াংশ কাঠ এবং তৃণভূমি দ্বারা আচ্ছাদিত।
- অস্ট্রিয়ানদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ খ্রিস্টান।
- রাজধানী: ভিয়েনা।
- ভাষা: জার্মান।
- অস্ট্রিয়ার পার্লামেন্ট 'দুই কক্ষ বিশিষ্ট।

উল্লেখ্য,
- অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদের নামও জার্মানির ন্যায় চ্যান্সেলর।
- অস্ট্রিয়ার অধিকাংশও জার্মান বংশোদ্ভূত।
- এডলফ হিটলারের জন্মও অস্ট্রিয়াতে।
- জার্মানি ব্যতীত অস্ট্রিয়া ও লিচেনস্টাইনের জনগণের প্রধান ভাষা হলো জার্মান।
- এছাড়া সুইজারল্যান্ডের চারটি সরকারি ভাষার একটি জার্মান।

উৎস: Britannica.
১৩.
অগাস্টান যুগ বলা হয় -
  1. অক্টাভিয়ানের শাসনামলকে
  2. পম্পির রাজত্বকালকে
  3. ব্রুটাসের শাসন কালকে
  4. জুলিয়াস সিজারের শাসনকালকে
সঠিক উত্তর:
অক্টাভিয়ানের শাসনামলকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টাভিয়ানের শাসনামলকে
ব্যাখ্যা
অগাস্টান যুগ:
- জুলিয়াস সিজারসহ (সিজার রোমান সম্রাটদের উপাধি) অনেক বিখ্যাত শাসক রোমীয় সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন।
- কিন্তু সম্রাট অক্টাভিয়ান অগাস্টাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩১-১৪ খ্রিস্টাব্দ) রোমের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত শাসক ছিলেন।
- সম্রাট অক্টাভিয়ান অগাস্টাস-এর শাসনামলে রোমীয় সভ্যতায় স্বর্ণযুগের সূচনা হয়।
- তিনি একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসক ছিলেন।
- তাঁর সময়ে রোমীয় ইতিহাস, সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিল্পকলা, বিজ্ঞানচর্চা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।

⇒ এই জন্য ইতিহাসে সম্রাট অক্টাভিয়ান অগাস্টাস-এর সময়কালকে 'অগাস্টান যুগ' (Augustan Age) বলা হয়।


উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
নিম্নের কোনটি সার্বিয়ার সংবাদ সংস্থা?
  1. সানা
  2. সিনহুয়া
  3. ইতার-তাস
  4. তানযুগ তাকনো
সঠিক উত্তর:
তানযুগ তাকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তানযুগ তাকনো
ব্যাখ্যা
সার্বিয়া:
- দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়া।
- এটি একটি ল্যান্ডলকড দেশ।
- এটি এক সময় যুগোস্লাভিয়ার একটি অংশ ছিল।
- রাজধানী: বেলগ্রেড।
- মুদ্রা: সার্বিয়ান ডিনার।
- সংবাদ সংস্থা: বেটা, ফোনেট এবং তানযুগ তাকনো।

অন্যদিকে,
- চীন: সিনহুয়া।
- রাশিয়া: ইতার-তাস (ITAR-TASS), রাশিয়া টুডে (Rossiya Segodnya), ইন্টারফ্যাক্স।
- সিরিয়া: সানা।

উৎস: Britannica.
১৫.
২০০৮ সালে নেপালের কত বছরের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়?
  1. ১৫০ বছর
  2. ১৮০ বছর
  3. ২৪০ বছর
  4. ৪০০ বছর
সঠিক উত্তর:
২৪০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪০ বছর
ব্যাখ্যা
নেপাল:
- নেপাল দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ।
- রাজধানী: কাঠমান্ডু।
- মুদ্রা: নেপালি রুপি।
- ভাষা: নেপালি।
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: কে পি শর্মা ওলি।
- বর্তমান রাষ্ট্রপতি: রাম চন্দ্র পাওদেল।
- নেপালের আইনসভার নাম পার্লামেন্ট।
- নেপালের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট।

⇒ নেপালকে হিমালয় কন্যা বলা হয়।
- গ্রেট হিমালয়, মাউন্ট এভারেস্ট নেপালে অবস্থিত।
- ভারত ও চীন দ্বারা বেষ্টিত দেশটিতে এভারেস্টসহ বিশ্বের ৮টি সর্ববৃহৎ পর্বত অবস্থিত।

⇒ নেপালের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার নাম ফেডারেল পার্লামেন্ট।
- উচ্চকক্ষের নাম ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, যার সদস্য সংখ্যা ৫৯।
- নিম্নকক্ষের নাম হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ, যার সদস্য সংখ্যা ২৭৫।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৮ সালে পৃথ্বী নারায়ণ শাহ কাঠমান্ডু জয় করেন ও ঐক্যবদ্ধ একটি রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
- ১৭৬৯ সালে নেপালে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নেপালের ১ম রাজা ছিলেন পৃথ্বী নারায়ণ শাহ।
- নেপালের সর্বশেষ রাজা ছিলেন রাজা জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব।
- তিনি রাজা বীরেন্দ্রের হত্যার পর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি সর্বশেষ হিন্দু রাজাও ছিলেন।

⇒ ২৮ মে, ২০০৮-এ, নবনির্বাচিত গণপরিষদ নেপালকে একটি ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক ঘোষণা করে।
- এভাবে ২৪০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) Ministry of Foreign Affairs Nepal. [link]
১৬.
কার সময়কে গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগ বলা হয়?
  1. পেরিক্লিসের
  2. রোমারের
  3. সোলনের
  4. সক্রেটিসের
সঠিক উত্তর:
পেরিক্লিসের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিক্লিসের
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- ইউরোপ মহাদেশের গ্রিক রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রাচীন কয়েকটি শহরকে কেন্দ্র করে গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব ঘটে।
- বলকান উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত গ্রিক প্রায় পাঁচ হাজার বর্গমাইল ব্যাপী বিস্তৃত।
- ভূ-প্রকৃতিই দেশটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে; দক্ষিণ গ্রিস, মধ্য গ্রিস ও উত্তর গ্রিস।
- মেসিডোনিয়ান অধিপতি আলেকজান্ডারের শাসনামলে এ সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে আধুনিক মিসর, ইসরাইল, প্যালেষ্টাইন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইরান হয়ে ভারতবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
- আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর, ইজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রিক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়।

⇒ পেরিক্লিসের যুগ:
- দেশাত্মবোধে উজ্জিবিত গ্রিকরা এথেন্সের নেতৃত্বে এক সমৃদ্ধিশালী গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
- এই বিকশিত গণতন্ত্র ও সমাজকে আরো চূড়ান্ত শিখরে তোলেন বিখ্যাত পেরিক্লিস।
- তাঁর সময়ে (খ্রি: পূর্ব ৪৬১-৪২৯) সমগ্র গ্রিসের গণতন্ত্র, স্থাপত্যকলা ও জ্ঞান বিজ্ঞানের চরম বিকাশ লাভ করে।
- এই কারণে তাঁর সময়কালে পেরিক্লিসের যুগ বলা হয়।
- পেরিক্লিসের সময়ে নাট্যকার সোফোক্লিস, দার্শনিক এনাক্সগোরাস, নাট্যকার ইউরিপিডিস রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
'ককেশীয়' সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. গায়ের রং বাদামি
  2. চুলের রং বাদামি
  3. মাথা প্রধানত লম্বাকৃতির
  4. ঠোঁট পাতলা ধরনের
সঠিক উত্তর:
গায়ের রং বাদামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ের রং বাদামি
ব্যাখ্যা
ককেশীয়:
- ককেশীয় বা শ্বেতকায় ককেশীয়দের মাথা প্রধানত লম্বাকৃতির হয়।
- এদের মুখ সরু বা লম্বাকৃতির, নাক প্রধানত খাড়া, চিকন, লম্বা ও সরু, চোখের রং হালকা থেকে কালো বাদামি, ঠোঁট পাতলা ধরনের এবং কান মাঝারি গোছের।
- এদের গায়ের রং প্রধানত সাদা বা লালচে সাদা।
- ককেশীয়দের চুলের রং বাদামি বা সোনালি।
- এরা দীর্ঘ দেহের অধিকারী।

উল্লেখ্য,
- মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ অধিবাসী ককেশীয় নৃগোষ্ঠীর।

অন্যদিকে,
⇒ মঙ্গোলীয় বা বাদামি মঙ্গোলীয়দের মাথার আকৃতি প্রধানত চওড়া এবং গোল। এদের মুখাকৃতি চওড়া ও খর্বাকৃতির, নাক মোটা এবং চ্যাপটা। এদের গায়ের রং বাদামি বা হলুদ ধরনের, ঠোঁট মাঝারি ধরনের, চোখ কালো বাদামি। একমাত্র মঙ্গোলীয়দের চোখের পাতায় একটি ভাঁজ থাকে যাকে এপিক্যানথিক ফোল্ড বা নৃতাত্ত্বিক ভাঁজ বলে। মঙ্গোলীয়রা উচ্চতায় মাঝারি এবং তাদের শারীরিক গঠন খুব সুঠাম ও শক্তিশালী।

⇒ নিগ্রীয় বা কৃষ্ণকায় নিগ্রোদের মাথা সাধারণত লম্বাকৃতির, তবে কারো কারো মাথা চওড়া। এদের মুখাকৃতি ককেশীয়দের মতো অতটা লম্বা বা সরু নয়। এদের নাক মোটা ও মাংসল। এদের গায়ের রং ঘোর কৃষ্ণবর্ণের হয়ে থাকে। নিগ্রোদের ঠোঁট মোটা ও পুরু, চোখের রং কালো, কান ছোট ও প্রশস্ত। এদের চুলের রং কালো ও চুল কোঁকড়ানো হয়ে থাকে। নিগ্রো জনগোষ্ঠীর লোকেরা লম্বাকৃতি, মাঝারি এবং খর্বাকৃতি ধরনের হয়ে থাকে।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) The New York Times.
১৮.
আলেপ্পো শহরটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইরাক
  2. ইরান
  3. সিরিয়া
  4. তুরস্ক
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া
ব্যাখ্যা
আলেপ্পো শহর:
- ভূমধ্যসাগর এবং মেসোপটেমিয়ার মাঝে অবস্থিত আলেপ্পো।
- বর্তমানে এটি সিরিয়ার বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল শহর।
- আলেপ্পোর প্রাচীন নাম হালাব।
- পলিও-ব্যাবিলনিয় সময়ের শহর এটি।
- আলেপ্পো বা হালাবে শাসন করত ইন্দো-ইউরোপিয়ান গোষ্ঠী হিটাইটরা।
- এরপর এখানে রাজত্ব চালায় আসেরিয়ান, গ্রিক এবং পারসিকরা।
- আরও পরে এখানে শাসন করেছে রোমান, বাইজানটাইন, আরবরা।
- ক্রুসেডের পর এই জায়গা চলে যায় মঙ্গল এবং ওত্তোমানদের দখলে।

⇒ সিরিয়া:
- ভূমধ্যসাগরের আরব উপদ্বীপের উত্তরে পশ্চিম এশিয়ায় সিরিয়া অবস্থিত।
- ১৯৪৬ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
- এর রাজধানী: দামেস্ক।
- বিখ্যাত শহর: আলেপ্পো, ইদলিব ও পালমিরা।
- মুদ্রা: পাউন্ড।

উৎস: i) Britannica.
ii) WorldAtlas.
১৯.
'চীনের মহাপ্রাচীর' কোন রাজার শাসনামলে নির্মিত হয়?
  1. ঝেং রাজ-বংশ
  2. কেকিয়াং রাজ-বংশ
  3. কিয়াং রাজ-বংশ
  4. চৌ রাজ-বংশ
সঠিক উত্তর:
চৌ রাজ-বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌ রাজ-বংশ
ব্যাখ্যা
চীন সভ্যতা:
- চীনের তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- প্রথমটি হোয়াং হো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াং জে কিয়াং নদীর তীরে আর তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে।
- চীনের এই প্রাচীন সভ্যতা সৃষ্টি হয় শাং রাজাদের ও চৌ রাজাদের যুগে।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে এখানে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- চীনের আদি মানুষ 'পিকিং মানুষ' নামে পরিচিত।
- চীনবাসীরা হোয়াং-হো ও ইয়াংসি নদীর দুটি পাড়েই বসবাস করত।
- তাদের লিখন পদ্ধতির নাম আইডিও গ্রাফ।

উল্লেখ্য,
- চৌ বংশের রাজা শি-হুয়াং তি-এর রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল 'চীনের মহাপ্রাচীর'।
- হুনদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য এই প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল।
- দেড় হাজর মাইল দীর্ঘ এই প্রাচীরের উচ্চতা ছিল গড়ে ২৪ ফুট।
- এই প্রাচীরের উপর দিয়ে ৬ জন অশ্বারোহী পাশাপাশি চলতে পারত।
- চীনের প্রাচীর বিশ্বের আশ্চর্য বস্তুর একটি।
- চীনের মহাপ্রাচীরকে বলা হয় মানুষের হাতে তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপত্য।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কানাডার কুইবেক অঙ্গরাজ্যের সর্বাধিক জনগোষ্ঠীর ভাষা কোনটি?
  1. ইংরেজি
  2. ফরাসি
  3. স্প্যানিশ
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
ব্যাখ্যা
কানাডা:
- কানাডা উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি আয়তনে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।
- যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ১৮৬৭ সালে।
- রাজধানী: অটোয়া।
- মুদ্রার নাম: ডলার।
- রাষ্ট্রের প্রধান রাজা তৃতীয় চার্লস ও রাষ্ট্রের সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: জাস্টিন ট্রুডো।
- কানাডাকে ম্যাপল পাতার দেশ বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- কানাডার কুইবেক অঙ্গরাজ্যে সর্বাধিক ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠী বাস করে।
- কুইবেকে প্রায় ৮০% লোক ফরাসি ভাষা ব্যবহার করে।
- নুনাভাট-এ প্রায় ৫৩% জনগন আদিবাসী ভাষা ব্যবহার করে।
- কানাডার অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষা ইংরেজি।

উৎস: Britannica.
২১.
কত বছর ব্যাপী ট্রোজান যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ৮ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৪ বছর
সঠিক উত্তর:
১০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ বছর
ব্যাখ্যা
ট্রোজান যুদ্ধ:
- ট্রোজান যুদ্ধ একটি প্রাচীন গ্রীক পুরাণভিত্তিক যুদ্ধ।
- এটি প্রায় ১০ বছর স্থায়ী ছিল।
- এটি মূলত গ্রীক এবং ট্রোজানদের মধ্যে একটি দীর্ঘ যুদ্ধ।
- যুদ্ধ শুরু হয় যখন ট্রোজান রাজপুত্র পারিস, স্পার্টার রানী হেলেনকে অপহরণ করেন।
- গ্রীক বাহিনী, নেতৃত্বে মেনেলাউস, ট্রোজ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধের মধ্যে গ্রীক নায়ক অ্যাকিলিস ট্রোজান হেক্টরকে হত্যা করেন, কিন্তু পরে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যুদ্ধ থেকে সরে যান।
- শেষে, গ্রীকরা একটি বিশাল কাঠের ষাঁড় ব্যবহার করে ট্রোজ শহরে প্রবেশ করে এবং তা ধ্বংস করে দেয়।
-  যুদ্ধের পর, ট্রোজ শহর ধ্বংস হয় এবং গ্রীকরা বিজয়ী হয়।
- এই যুদ্ধের কাহিনী গ্রীক মহাকাব্য ইলিয়াড এবং এনিয়াড-এ বর্ণিত।
- পরবর্তীতে গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.
২২.
মিশরীয় সভ্যতার চূড়ান্ত পতন ঘটেছিল কাদের হাতে?
  1. লিবিয়দের
  2. পারসিদের
  3. রোমানদের
  4. ইংলিশদের
সঠিক উত্তর:
পারসিদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারসিদের
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতার পতন:
- প্রাচীন মিশরের বিশতম রাজবংশের শেষসম্রাট ছিলেন একাদশ রামসেস।
- এ সময় মিশরে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।
- ১০৮০ খ্রিঃপূর্বাব্দে থিবস শহরের প্রধান পুরোহিত বা ধর্মযাজক সিংহাসন দখল করেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫ অব্দে পারস্য রাজশক্তি মিশর অধিকার করলে মিশরীয় সভ্যতার অবসান ঘটে।
-  অতঃপর ৩৩২ খ্রিঃপূর্বাব্দে গ্রীক সম্রাট আলেকজান্ডার মিশর অধিকার করেন।
- তার পর থেকে মিশরে "টলেমী রাজবংশ" প্রতিষ্ঠিত হয়। টলেমী রাজবংশ দীর্ঘদিন মিশর শাসন করে।
- এই বংশেরই রাণী ছিলেন বহু আলোচিত ও জগত খ্যাত রানী ক্লিওপেট্টা।
- ক্লেওপেট্রার সময় মিশর বারবার রোমানদের দ্বারা আক্রান্ত হয়।
- কালক্রমে রোমানরা মিশরে রোমান শাসন বিস্তার করে।

⇒ মিশরীয় সভ্যতা:
- ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারসিকরা সমগ্র মেসোপটেমিয়া অঞ্চলসহ, ক্যালডীয় সাম্রাজ্য অধিকার করে সভ্যতার সূচনা করে।
- পরবর্তীতে ইউরোপ এবং ভারতবর্ষ পর্যন্ত পারস্য সভ্যতার প্রভাব বিস্তার ঘটে।
- ফলে পারসিকরা যেমন অন্য দেশ ও সভ্যতা থেকে শিক্ষা সংস্কৃতি গ্রহণ করে, তেমনি পারস্যের অনেক কিছুই অন্যান্য দেশের শিক্ষা সংস্কৃতিতে বিস্তার ঘটে।
- পরবর্তী সভ্যতা ও ধর্মতত্ত্বের ওপর পারস্য প্রভাব অত্যধিক।
- বিশেষ করে ভারতবর্সের মৌর্য ও গুপ্ত শাসনামলে পারসিক স্থাপত্য কলা অনুসরণ করা হয়েছে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
ফিনিশীয়রা কয়টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে?
  1. ১৯টি
  2. ২১টি
  3. ২২টি
  4. ২৪টি
সঠিক উত্তর:
২২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২টি
ব্যাখ্যা
ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয়দের সামনে ছিল সাগর আর পিছনে ছিল পাহাড়।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে তাদের উত্থান হয়েছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।
- ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত।
- এ কারণে ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে।

উল্লেখ্য,
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে।
- আধুনিক বর্ণমালার সূচনা এখান থেকে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
আফগানিস্তানের শেষ বাদশাহ কে ছিলেন?
  1. দাউদ শাহ
  2. নাদির শাহ
  3. জহির শাহ
  4. সিকান্দার শাহ
সঠিক উত্তর:
জহির শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির শাহ
ব্যাখ্যা
আফগানিস্তান:
- আফগানিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র।
- রাষ্ট্রীয় নাম: ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান (Islamic Emirate of Afghanistan)।
- আফগানিস্তান শব্দটির অর্থ 'আফগান বা পশতুন জাতির দেশ'।
- ভাষা: পশতু, দারি।
- মুদ্রা: আফগানি।

⇒ আফগানিস্তানের শেষ বাদশাহ ছিলেন জহির শাহ।
- ১৯৩৩ সালে জহির শাহ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আফগানিস্তানে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়।
- তাঁর প্রধানমন্ত্রী ও চাচাতো ভাই মুহাম্মদ দাউদ ১৯৭৩ সালে অভ্যুত্থান ঘটালে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং রাজনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছায়।
- এরপর থেকে আর কোনো দিন আফগানিস্তানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৯ সালে তৃতীয় ব্রিটিশ-আফগান যুদ্ধশেষে আফগানিস্তান দেশটি ব্রিটেন থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৯৯৬ সালে তালেবান গোষ্ঠী কাবুলের দখল নেয়।
- ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০০১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান আক্রমণ করে এবং ২০০১-এর শেষে তালেবানদের উৎখাত করে।
- এক বিধ্বংসী সামরিক অভিযানে ২০০১ সালে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গত ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার নেটো মিত্ররা।
- ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়।
- ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবানরা কাবুল পুনরায় দখল করে।

উৎস: i) National Geographic Kids ওয়েবসাইট।
ii) BBC
২৫.
ইনকা সভ্যতার নিদর্শন কোনটি?
  1. মহেঞ্জোদারো
  2. মাচু পিচু
  3. পার্সিপোলিস
  4. কোপান
সঠিক উত্তর:
মাচু পিচু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাচু পিচু
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ইনকা সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে।
- সভ্যতার উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০-১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।

উৎস: Britannica.
২৬.
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী -
  1. জাকার্তা
  2. সুলাওয়েসি
  3. ডারউইন
  4. নুসানতারা
সঠিক উত্তর:
জাকার্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাকার্তা
ব্যাখ্যা
ইন্দোনেশিয়া:
- ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলে অবস্থিত দেশ ইন্দোনেশিয়া।
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ এটি।
- বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া।
- এক সময়ের ডাচ উপনিবেশ থাকা দেশটি আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৪৯ সালে স্বাধীন হয়।
- রাজধানী: জাকার্তা।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রস্তাবিত রাজধানী নুসানতারা।
- মুদ্রা: ইন্দোনেশীয় রুপিয়া।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ হলো: সুমাত্রা, জাভা, বোর্নিও, পাপুয়া নিউ গিনি।
- ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি হলেন প্রবোও সুবিয়ানতো।

⇒ ২০০৪ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন-ড. আহম্মদ সকৰ্ণ।
- মুসলিম বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট মেঘবর্তী সুকর্ণপুত্রী ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ২০২২ সালের শুরুর দিকে বোর্নিও দ্বীপের পূর্ব প্রান্তের নুসানতারা শহরকে নতুন রাজধানী হিসেবে বেছে নেয় ইন্দোনেশিয়া।
- এটি দেশটির ইস্ট কালিমানতান প্রদেশে অবস্থিত।
- ইন্দোনেশিয়ার সমগ্র দ্বীপপুঞ্জের নৃ-তাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীকে বোঝাতে নুসানতারা নামকরণ করা হয়।
- প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এ নামটি প্রস্তাব করেন।
- জনাকীর্ণ, দূষিত এবং ধীরে ধীরে সাগরে তলিয়ে যাওয়া রাজধানী জাকার্তাবাসীকে মুক্তি দিতেই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন উইদোদো।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
২৭.
নিম্নের কোনটি মিশরীয় সভ্যতার নিদর্শন?
  1. প্যাপিরাস
  2. কিউনিফর্ম
  3. গ্রেট ওয়াল
  4. পার্থেনন
সঠিক উত্তর:
প্যাপিরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যাপিরাস
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারােগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।

উল্লেখ্য,
- লেখার কাজে কালি প্রথম ব্যবহার শুরু করে মিশরীয়রা।
- খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ শতকে মিশরীয়রা লেখার জন্য কালির ব্যবহার শুরু করলে এটি লেখালেখির আদর্শ অনুষঙ্গে পরিণত হয়।
- লেখার জন্য মিশরীয়রা প্যাপিরাস নামের একধরনের কাগজ ব্যবহার করত।
- এরপর ওই প্যাপিরাসের উপযোগী করে কালিও তৈরি করত তারা।
- এই কালি তৈরি হতো হাড়ের গুঁড়ো থেকে।
- পুরোপুরি কালো রঙের অমোচনীয় কালির উদ্ভাবন ঘটে চীনের হার্ন রাজবংশের শাসনামলে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
২৮.
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হওয়া মুসলিম প্রজাতন্ত্র কোনটি?
  1. বেলারুশ
  2. কিরগিজস্তান
  3. তাজিকিস্তান
  4. তুর্কমেনিস্তান
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
অপশনে একাধিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।
 
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হওয়া মুসলিম প্রজাতন্ত্রগুলি হল:
কিরগিজস্তান,
তাজিকিস্তান, 
তুর্কমেনিস্তান, 
এই তিনটি দেশই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা হয়েছে এবং এদের মধ্যে সকলেই মুসলিম প্রধান দেশ।
------------------------- 
সোভিয়েত ইউনিয়ন:

- U.S.S.R.-এর পূর্ণরূপ: Union of Soviet Socialist Republics.
- ১৯১৭ সালে অক্টোবর বিপ্লবের পর ১৯২২ সালে পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়।
- ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- এটি ঘটে মিখাইল গর্বাচেভের সময়।

উল্লেখ্য,
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যে ১৫টি রাষ্ট্র গঠিত হয়: রাশিয়া, বেলারুশ, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, কিরগিজিস্তান, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান, মলদোভা, আর্মেনিয়া, লিথুনিয়া, কাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান, জর্জিয়া, ইউক্রেন ও তুর্কমেনিস্তান।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে মুসলিম প্রজাতন্ত্রে তাজিকিস্তান।
- ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তাজিকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে এবং এটি একটি মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। এর অন্যান্য মুসলিম প্রধান প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলির মধ্যে আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং কিরগিজস্তান অন্তর্ভুক্ত।


⇒ তাজিকিস্তান:
- তাজিকিস্তান মধ্য এশিয়ার একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ।
- ১৯৯১ সালের আগে পর্যন্ত দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত ছিল।
- আঞ্চলিক সীমান্ত: তাজিকিস্তান আফগানিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান এবং চীন দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- রাজধানী: দুশানবে।
- ভাষা: তাজিক।
- প্রধান ধর্ম: ইসলাম।

উল্লেখ্য,
- তাজিকিস্তান এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল।
- ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর স্বাধীনতা লাভ করে।
- এরপর থেকে দেশটি বিভিন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে গৃহযুদ্ধের (১৯৯২-১৯৯৭) সময়।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com
২৯.
সুইজারল্যান্ডের আঞ্চলিক বিভাগ বা রাজ্যগুলো কী নামে অভিহিত?
  1. ক্রোমা
  2. ডোম
  3. ক্যান্টন
  4. স্টার্মা
সঠিক উত্তর:
ক্যান্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যান্টন
ব্যাখ্যা
সুইজারল্যান্ড:
- পশ্চিম ইউরোপের ছোট একটি দেশ সুইজারল্যান্ড।
- এটি সুইস কনফেডারেশন নামে পরিচিত।
- এর উত্তরে জার্মানি, পূর্বে অস্ট্রিয়া ও লিশটেনস্টাইন, দক্ষিণে ইতালি এবং পশ্চিমে ফ্রান্স।
- সুইজারল্যান্ড একটি ক্ষুদ্র পর্বতময় দেশ।
- এটি কেন্দ্রীয় আল্পস পর্বতমালা এবং উত্তরাঞ্চলীয় প্রাক-আল্পস পর্বতমালা নিয়ে গঠিত।
- রাজধানী: বের্ন।
- বিখ্যাত শহর মধ্যেগুলোর মধ্যে জেনেভা এবং জুরিখ অন্যতম।
- মুদ্রা: সুইস ফ্রাঙ্ক।
- সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে উঁচু পর্বতের নাম মন্টি রোজা।

উল্লেখ্য,
- সুইজারল্যান্ডে একটি ক্যান্টন হলো একটি আঞ্চলিক বিভাগ বা রাজ্য।
- সুইজারল্যান্ডের প্রতিটি ক্যান্টনের নিজস্ব সংবিধান, সরকার এবং সংসদ রয়েছে।
- সুইজারল্যান্ডে মোট ২৬টি ক্যান্টন রয়েছে।
- ঐতিহাসিক কনফেডারেশনের সময় এর প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল।
- তাদের পৃথক সীমানা ও রাষ্ট্রব্যবস্থাও ছিল।
- বর্তমানে এর সবগুলো সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: Britannica.
৩০.
ক্লিওপেট্রা সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. জুলিয়াস সিজারের প্রেমিকা
  2. মার্ক অ্যান্টনির স্ত্রী
  3. রোমান রানী
  4. বর্ণিত সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
রোমান রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান রানী
ব্যাখ্যা
ক্লিওপেট্রা:
- ক্লিওপেট্রা ছিলেন ইতিহাসের বিখ্যাত মিশরীয় রানী।
- খ্রিস্টপূর্ব ৬৯ সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন জুলিয়াস সিজারের প্রেমিকা এবং পরে মার্ক অ্যান্টনির স্ত্রী।
- ৫১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তার পিতা টলেমি XII এর মৃত্যুতে রানী হয়েছিলেন।
- ক্লিওপেট্রা সক্রিয়ভাবে রোমান রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছিলেন।
- অক্টাভিয়ানের রোমান বাহিনী তাদের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করার পর, অ্যান্টনি এবং ক্লিওপেট্রা আত্মহত্যা করেন।
- মিশর তখন রোমান আধিপত্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

উৎস: Britannica.
৩১.
রোমের শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সব ক্ষেত্রেই কাদের প্রভাব ছিল?
  1. ফরাসিদের
  2. মিশরীয়দের
  3. গ্রিকের
  4. বর্ণিত সবার
সঠিক উত্তর:
গ্রিকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিকের
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।
- রোমের গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

⇒ খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে সর্বপ্রথম লিখিত রোমান আইন প্রচলিত হয়। ইতিহাসের পাতায় 'Twelve Tables বা বারো বিধি' নামে পরিচিত সেই আইনের মাধ্যমে রোমে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। প্রায় বারটি ধাপে রোমের সকল নাগরিকের অধিকারের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রণীত সেই বারো টেবিল আইনটি আজও ইতিহাসবিদগণের নিকট এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।

⇒ সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২.
ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী দেশ নয় কোনটি?
  1. বেলারুশ
  2. স্লোভাকিয়া
  3. রোমানিয়া
  4. অস্ট্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিয়া
ব্যাখ্যা
অস্ট্রিয়া ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী দেশ নয়।

ইউক্রেন:
- ইউক্রেন পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র।
- ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত।
- ইউক্রেনের সাতটি দেশের সাথে সীমান্ত রয়েছে: পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, মলদোভা, রাশিয়া এবং বেলারুশ।
- ইউক্রেনের পশ্চিমে পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি, দক্ষিণ-পশ্চিমে রোমানিয়া ও মলদোভা, দক্ষিণে কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগর, পূর্বে ও উত্তর-পূর্বে রাশিয়া এবং উত্তরে বেলারুশ।
- রাজধানী: কিয়েভ।
- মুদ্রা: হ্রিভনিয়া।
- ওডেসা ও মারিয়াপোল কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত ইউক্রেনের দুটো বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর।
- ইউরোপের শস্য ভাণ্ডার খ্যাত ইউক্রেনের উর্বর ভূমিতে গম, সানফ্লাওয়ার এবং অন্যান্য দানাদার জাতীয় শস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়।
- এজন্য ইউক্রেনকে ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে জন্ম হয় স্বাধীন রাষ্ট্র ইউক্রেনের।
- দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পোন্নত শহরসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রুশ ভাষায় কথা বলে।
- ২০১৪ সালে বিক্ষোভের মাধ্যমে রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে অপসারণের পর থেকে দেশটিতে পশ্চিমাপন্থী সরকারের শাসন শুরু হয়।
- তবে দেশটির ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলের সুযোগ ছাড়েনি রাশিয়া।
- ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পরে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলো দখলের চেষ্টায় ছিল রুশ সরকার।
- ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে পুরোদমে আগ্রাসন চালানো শুরু করে রাশিয়া।

উৎস: Britannica.
৩৩.
পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন কে?
  1. সম্রাট দারিয়ুস
  2. কনফুসিয়াস
  3. সম্রাট কাইরাস
  4. জরথুষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
জরথুষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরথুষ্ট্র
ব্যাখ্যা
পারস্য সভ্যতা:
- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- সভ্যতার ইতিহাসে দুটি ক্ষেত্রে পারসীয়দের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমটি সুষ্ঠু ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দ্বিতীয় ধর্মীয় ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা নিয়ে আসা।
- সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার জন্য সম্রাট দারিয়ুস একটি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন।
- সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়নেরও সম্রাটের দৃষ্টি ছিল।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।
- পারসীয়গণ লিখার জন্য ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত।
- পারস্য স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পিরামিডের আকৃতিতে তৈরি সম্রাট কাইরাসের সমাধি।

উল্লেখ্য,
- জরথুষ্ট্র নামক একজন ধার্মিক ও দার্শনিক পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন।
- তার প্রচারিত এ ধর্মকে বলা হয় জরথুষ্ট্রবাদ।
- জরথুষ্ট্রবাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে 'জেন্দআবেস্তা'।
- জরথুষ্ট্রবাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে প্রচলিত বহু দেবতা ও যাদুবিদ্যার অবসান এবং ধর্মে নৈতিকতা ও দার্শনিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
'ফারাও' কাদের বলা হতো?
  1. প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের
  2. প্রাচীন গ্রিকের সম্রাটদের
  3. প্রাচীন রোমান সম্রাটদের
  4. প্রাচীন চৈনিক সম্রাটদের
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের
ব্যাখ্যা
ফারাও
- প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের 'ফারাও' বলা হতো।
- বিশাল প্রাসাদে বসবাসকারী ফারাওদের মনে করা হতো ঈশ্বরের সন্তান।
- তাঁরা একই সঙ্গে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- মিশরের 'ফারাও' বা সম্রাটের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মেনেস, প্রথমত আহমোজ, রাজা তুথমোস, সম্রাট ইখনাটন এবং প্রথম ও দ্বিতীয় র‍্যামেসিস।
- পরাক্রমশালী তৃতীয় র‍্যামেসিসের মৃত্যুর পর ফারাওদের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।

উৎস: i) Britannica.
ii) ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
এথেন্সের পতন হয় কাদের কাছে?
  1. স্পার্টা
  2. মিনিয়ন
  3. ডোরীয়
  4. রোম
সঠিক উত্তর:
স্পার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পার্টা
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতায় দুটি স্তর লক্ষ্য করা যায়।
- প্রথম স্তর হেলেনিক সভ্যতা এবং দ্বিতীয় স্তরে হেলেনিস্টিক সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে হোমারিক যুগের অবসান ঘটে।
- হোমারিক যুগের গ্রাম সম্প্রদায়গুলি ভেঙ্গে কালক্রমে নগর রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- এথেন্স, থিক্স, মেগারা, স্পার্টা এবং করিন্থ প্রভৃতি নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এসব ক্ষুদ্র রাষ্ট্র।
- এগুলির মধ্যে এথেন্স ছিল সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার ধারক বাহক।
- এথেন্সই ছিল গ্রিসের অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- ৫৯৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সোলন নামক একজন সংস্কারক এথেন্সের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার সাধন করেন।
- এই সংস্কারের ফলে এথেন্সের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ এথেনীয় (হেলেনিক) সভ্যতার পতন:
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীসের দুটি শক্তিশালী নগর রাষ্ট্র এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে বিরোধ বাধে।
- স্পার্টা নগর রাষ্ট্রটি বরাবরই সামরিক তন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
- উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় তা ইতিহাসে পেলোপনেসীয় যুদ্ধ (খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১-৪০৪ অব্দ) বলে খ্যাত।
- এই যুদ্ধে এথেন্সের পতন ঘটে এবং স্পার্টা এথেন্স দখল করে নেয়।
- ফলে হেলেনিক সভ্যতারও পতন ঘটে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
কোন দেশগুলোতে ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  2. ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস
  3. চীন, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়া
  4. সোমালিয়া, ইরিথ্রিয়া ও নাইজেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস
ব্যাখ্যা
ডমিনো তত্ত্ব:
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জন্য 'ডমিনো তত্ত্বটি' প্রযোজ্য ছিল।
- স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কয়েকটি পররাষ্ট্র নীতি গ্রহন করেছিল, তার মধ্যে 'ডমিনো তত্ত্ব' অন্যতম।

⇒ ডমিনো তত্ত্বে বলা হয়েছে, কোনো একটি রাষ্ট্রে যদি সমাজতন্ত্রীরা ক্ষমতাসীন হয়, তাহলে পাশের রাষ্ট্রটিও সমাজতন্ত্রীদের দখলে চলে যাবে।

⇒ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান এই তত্ত্বের উদ্যোক্তা হলেও তার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার প্রথম এই অঞ্চলে প্রয়োগ করেন।
- ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় 'ভিয়েতনাম যুদ্ধ' ও স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।
- তিনি এন্টি-কমিউনিস্ট দক্ষিণ ভিয়েতনাম সরকারকে সহায়তা করেন।
- ডমিনো তত্ত্বটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য প্রযোজ্য ছিল।
- ১৯৫০-৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তত্ত্বটি প্রচার করেছিল।

উৎস: History.com