পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১০
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ৬ টপিক: বাংলাদেশের ভৌগলিক গঠন ও সীমানা এবং ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং ভৌগলিক পরিচিতি, ভূপ্রকৃতি ও প্রধান নদ-নদী [Class Lecture – 10 & 11]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১০ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে কোন জেলা অবস্থিত?
  1. মেহেরপুর
  2. চুয়াডাঙ্গা
  3. বান্দরবান
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান:

• বাংলাদেশের সর্ব উত্তর:
- স্থান: বাংলাবান্ধা;
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া;
- জেলা: পঞ্চগড়।

• সর্ব দক্ষিণ:
- স্থান: ছেঁড়া দ্বীপ, সেন্টমার্টিন;
- উপজেলা: টেকনাফ;
- জেলা: কক্সবাজার।

• সর্ব পশ্চিম:
- স্থান: মনাকষা;
- উপজেলা: শিবগঞ্জ;
- জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

• সর্ব পূর্ব:
- স্থান: আখাইনঠং;
- উপজেলা: থানচি;
- জেলা: বান্দরবান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বাংলাদেশের মোট বিভাগ কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভাগসমূহ:
- বাংলাদেশ আটটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত যাদের বাংলায় 'বিভাগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- বাংলাদেশের ৮টি বিভাগগুলো হলো:
• ঢাকা বিভাগ,
• চট্টগ্রাম বিভাগ,
• রাজশাহী বিভাগ,
• খুলনা বিভাগ,
• সিলেট বিভাগ,
• বরিশাল বিভাগ,
• রংপুর বিভাগ,
• ময়মনসিংহ বিভাগ।

উল্লেখ্য,
- ভাষা আন্দোলনের পূর্ববর্তী বিভাগ: ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী,
- সিলেট বিভাগ: ১৯৫৪ সাল,  
- খুলনা বিভাগ: ১৯৬০ সাল,
- বরিশাল বিভাগ: ১৯৯৩ সাল,
- রংপুর বিভাগ: ২০১০ সাল,
- সর্বশেষ ময়মনসিংহ বিভাগ: ২০১৫ সাল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা ও কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদ বিন্দুটি ফরিদপুর জেলার কোন উপজেলায় পড়েছে?
  1. ভাঙ্গা
  2. মধুখালী
  3. সালথা
  4. বোয়ালমারী
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা: 
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। 
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত। 
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও, বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার ছেদ বিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
.
'বরেন্দ্রভূমি' বাংলাদেশের কোন ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. পাদদেশীয় পলল সমভূমি
  3. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
  4. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের সাথে কয়টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:
বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে - 
→ একটি ভারত এবং
→ অপরটি মিয়ানমার।

- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলাগুলো হচ্ছে - কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা হচ্ছে রাঙামাটি।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
.
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির গড় উচ্চতা কত?
  1. প্রায় ৯ মিটার
  2. প্রায় ১৯ মিটার
  3. প্রায় ২১ মিটার
  4. প্রায় ৩০ মিটার
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্ৰহ্মপুত্ৰ, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- এই অঞ্চলের মোট আয়তন ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।
- প্লাবন সমভূমি পলি দ্বারা গঠিত বলে এ অঞ্চলের মাটির উর্বরতা তুলনামূলকভাবে অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি।
- এ এলাকাতে বিচ্ছিন্নভাবে বিল-ঝিল, হাওড়- বাঁওড় ছড়িয়ে রয়েছে যা দেশের ভূ-প্রকৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- দেশের সমগ্র সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি একই ধরনের নয় বলে একে আবার নিম্নলিখিত কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে আলোচনা করা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
তেঁতুলিয়া উপজেলা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রংপুর
  2. পঞ্চগড়
  3. ঠাকুরগাঁও
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
তেঁতুলিয়া উপজেলা:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা হচ্ছে তেঁতুলিয়া উপজেলা।
- এই উপজেলা পঞ্চগড় জেলার অন্তর্গত।
- এর উত্তরে ভারত, পূর্বে ভারত ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা, দক্ষিণে ভারত এবং পশ্চিমে ভারত সীমান্ত।
- এ উপজেলা প্রায় ২৬০২৪’ ও ২৬০৩৮’উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮০২০’ ও ৮৮০৩২’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
- উপজেলা ইংরেজী ১৮৬০ সন হতে ১৮৬৯ সন পর্যন্ত রংপুর জেলার একটি মহুকুমা হিসেবে প্রশাসনিক ইউনিটের মর্যাদা লাভ করে।
- শিল্প, বাণিজ্য ও নদী বন্দর হিসেবে তেঁতুলিয়া ছিল সুবিখ্যাত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধের চূড়ান্ত রায় কবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৩ সালে
  3. ২০১৪ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
ভারতের সাথে সমুদ্র বিজয়:
- তিন দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০০৯ সালে সালিসি আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
- ২০১৪ সালের ৭ই জুলাই নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালত (পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিট্রেশন-পিসিএ) এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধপূর্ণ এলাকা ছিল প্রায় ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটার।
- এ এলাকার ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশ পেয়েছে।
- এছাড়া, বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে এবং এর বাইরে মহীসোপান অঞ্চলে বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ ও সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
.
শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের কোন অঞ্চলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করে?
  1. পশ্চিম ও পূর্ব ভারতের মধ্যে
  2. দক্ষিণ ও উত্তর ভারতের মধ্যে
  3. ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মূল ভূখণ্ডের মধ্যে
  4. ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমের মধ্যে
ব্যাখ্যা
শিলিগুড়ি করিডোর:
- শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের অন্তর্গত পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র ভূখণ্ড।
- এই করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে।
- এই করিডোর অনেকটা বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে, তা ‘চিকেনস নেক' নামেও পরিচিত।
- এ ভূখণ্ডের প্রস্থ প্রায় ২১-৪০ কিমি।
- এটি ভারতের একমাত্র অংশ, যা চারটি ভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্ত।
- এর দুপাশে নেপাল, বাংলাদেশ এবং রাজতান্ত্রিক ভুটান করিডোরের উত্তর দিকে অবস্থিত।
- ১৯৪৭ এর দেশভাগের সময় বৃহত্তর বাংলা প্রদেশ দ্বিখণ্ডিত হলে এই শিলিগুড়ি করিডোরের সৃষ্টি হয়।
- এই সংকীর্ণ করিডোরটির মাধ্যমে নয়াদিল্লির পক্ষে উত্তর–পূর্ব ভারতের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি রিপোর্ট, ব্রিটানিকা।
১০.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ কী দ্বারা গঠিত?
  1. চুনাপাথর
  2. কাদা মাটি
  3. মার্বেল ও গ্রানাইট
  4. বেলেপাথর, শেল ও কদম
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে, বাংলাদেশকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
→ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
→ প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ;
→ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
- এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ;
খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।