পরীক্ষা আর্কাইভ

পেট্রোবাংলা প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি [Archived]

পরীক্ষাপেট্রোবাংলা প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২ বিষয়: বাংলা - ১ টপিক: ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়; বাংলা ভাষা ও লিপি; বাংলা বর্ণমালা ও যুক্তবর্ণ; প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম; শব্দের উৎস; ধ্বনি ও ধ্বনির পরিবর্তন, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পেট্রোবাংলা প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি [Archived]

পেট্রোবাংলা প্রিলি ও লিখিত সমন্বিত প্রস্তুতি [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
নিচের কোন ভাষা বাংলা লিপিতে লেখা হয়?
  1. নেপালি
  2. অহমিয়া
  3. ভোজপুরি
  4. তিব্বতি
  5. তামিল
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি।
- বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি - স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'প্রাহ্ণ' শব্দটিতে যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণ নিয়ে গঠিত?
  1. হ + ন
  2. হ + ণ
  3. হ + ম
  4. হ + হ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'প্রাহ্ণ' শব্দটিতে যুক্তবর্ণটি 'হ + ণ' বর্ণ নিয়ে গঠিত।
------------- 
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'চারি > চার' - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদিস্বরলোপ
  2. মধ্যস্বর লোপ
  3. অন্ত্যস্বর লোপ
  4. অসমীকরণ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'চারি > চার' - অন্ত্যস্বর লোপ এর উদাহরণ।

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ তিন ধরনের হয়ে থাকে।
সেগুলো হলো:

আদিস্বরলোপ:
 যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ,
- তৈআরি > তৈরি।

অন্ত্যস্বর লোপ:
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- পোকা > পোক্‌,
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন শব্দে 'ণ' এর ভুল প্রয়োগ হয়েছে?
  1. লক্ষণ
  2. ব্রাহ্মণ
  3. কৃপণ
  4. রন্ধণ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- রন্ধণ,
এর শুদ্ধ বানান - রন্ধন।

----------------- 
• ণ-ত্ব বিধান:

- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

ণ ব্যবহারের নিয়ম:
• ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, রন্ধন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘বাংলা ভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।’- এ মতের প্রবক্তা কে?
  1. ড. সুকুমার সেন
  2. স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্রোপধ্যায়
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,
গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃতজনের মুখের ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। 
অর্থাৎ বাংলা ভাষার উৎপত্তি - গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে।

• কিন্তু ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন মগধ জনপদের মানুষের মুখের ভাষা অর্থাৎ মগধ অঞ্চলের প্রাকৃজনের ভাষা বা মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করেছে।

• জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিম্নের কোনটি সঠিক বানান?
  1. ঊর্দ
  2. ঊর্দ্ধ
  3. ঊর্ধ্ব
  4. উর্ধ্ব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:

– রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
• অর্জ্জন → অর্জন, 
• ঊর্দ্ধ → ঊর্ধ্ব, 
• কর্ম্ম → কর্ম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'ক্ষ্ম' যুক্তাক্ষরটিতে আছে -
  1. হ + ম +ণ
  2. ক + ষ + ম
  3. ক + ষ + ণ
  4. ক + ষ + ন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষ্ম'- এই যুক্তব্যঞ্জনে 'ক্‌ + ষ্‌ + ম' বর্ণ আছে। 

'ক্ষ্ম'- এই যুক্তব্যঞ্জন সহযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- লক্ষ্মী,
- লক্ষ্মণ। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ন্ + ম = ন্ম,
- হ্ + ণ = হ্ণ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- ত্ + থ = ত্থ,
- ন্ + ন = ন্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
.
তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে, ট-বর্গের সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে কী হয়?
  1. মূর্ধন্য-ষ
  2. মূর্ধন্য-ণ
  3. দন্ত-ন
  4. মূর্ধন্য-ন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:

• ট-বর্গের সঙ্গে যুক্ত দন্ত-ন পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমন, 
মণ্ড, উৎকণ্ঠা, লুণ্ঠন, বণ্টন, খণ্ড ইত্যাদি।

• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
অর্জ্জন → অর্জন, 
ঊর্দ্ধ → ঊর্ধ্ব, 
কর্ম্ম → কর্ম।

'ক' ও 'র'-এর পরে মূর্ধন্য-ষ বসে, দন্ত-স নয়।
যেমন- 
• ক-এর পরে: চক্ষু, ভিক্ষা
• র-এর পরে: মুমূর্ষু, চিকীর্ষা

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'ধাইমা > দাইমা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
শাক > শাগ; ধোবা > ধোপা; কবাট > কপাট; ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন: ফলাহার > ফলার; আলাহিদা > আলাদা; ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন: বড়দাদা > বড়দা; বউদিদি > বউদি ইত্যাদি।

• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: পিশাচ ˃ পিচাশ; লাফ˃ ফাল; বাক্‌স > বাস্‌ক; রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. সহযোগিতা
  2. দায়ীত্ব
  3. কৃতিত্ব
  4. মন্ত্রিত্ব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বানানের নিয়ম অনুসারে 'দায়ীত্ব' শব্দটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বানান: দায়িত্ব।

-----------------
• নিয়ম:
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ‘ত্ব’ ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী - কৃতিত্ব,
দায়ী - দায়িত্ব,
প্রতিযোগী - প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী - মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী - সহযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১.
'নগদ' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. তৎসম
  3. আরবি
  4. দেশি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নগদ (বিশেষ্য): 
- 'আরবি' ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: তৎক্ষাণাৎ মূল্য পরিশোধের শর্তে ক্রয়বিক্রয় (নগদ বিক্রি)।

• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আরবি শব্দ: 
- আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।