পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬১: বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - জীববিজ্ঞান ১. পদার্থের জীববিজ্ঞান-বিষয়ক ধর্ম, উদ্ভিদ টিস্যু, এনিম্যাল ডাইভারসিটি, প্লান্ট ডাইভারসিটি, অর্গান এবং অর্গান সিস্টেম, সালোক সংশ্লেষণ, জুলোজিক্যাল নমেনক্লেচার, বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার, উদ্ভিদ, ফুল, ফল, প্লান্ট নিউট্রেশন, উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি ও পরাগায়ন ইত্যাদি। ২. প্রাণিজগৎ ও প্রাণিবিজ্ঞান, জেনেটিক্স, জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও প্রজনন, প্রাণী টিস্যু, প্রাণী অর্গান ও অর্গান সিস্টেম, মানব হৃদ্পিণ্ড ও হৃদরোগ, স্নায়ু ও স্নায়ুরোগ, রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, খাদ্য ও পুষ্টি, ভিটামিন। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
ক্যালভিন চক্রে CO2 গ্রহিতা কোনটি?
  1. ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড
  2. ৩-ফসফোগ্লিসার‍্যাল্ডিহাইড
  3. রাইবুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
  4. জাইলুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
ব্যাখ্যা
• ক্যালভিন চক্রে CO2 গ্রহিতা হলো রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট।

• C3 উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয় এবং প্রথম উৎপন্ন স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাদের C3 উদ্ভিদ বলে।

• C3 প্রক্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর আবিষ্কারক বিজ্ঞানী মেলভিন কেলভিনের নামানুসারে।
- C3 উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র-এর প্রথম ধাপে রুবিসকো (RuBisCO) এনজাইম বায়ুমণ্ডলীয় CO2 কে রাইবুলোজ-১, ৫-বিসফসফেট (RuBP)-এর সাথে যুক্ত করে ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড তৈরি করে।
- কাজেই ক্যালভিন চক্রে CO2 এর গ্রহিতা হলো রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট।
- ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড এক অণু H2O গ্রহন করে দুই অণু ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড উৎপন্ন করে।
- ২, ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ।
- বেশিরভাগ উদ্ভিদে C3 চক্র ঘটে থাকে, তাই এদের C3 উদ্ভিদ বলা হয়।

• C3 চক্রের কার্যাবলী:

- কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ: C3 উদ্ভিদের পাতার স্টোমাটা (stomata) দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করা হয়।
- কার্বন ফিক্সেশন: RuBisCO এনজাইম কার্বন ডাই অক্সাইডকে RuBP-এর সাথে যুক্ত করে একটি C3 যৌগ (৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড) তৈরি করে।
- শর্করা তৈরি: C3 যৌগটি বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অবশেষে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
.
ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের মূল বিষয় কী?
  1. জীবের নিজের প্রয়োজনে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি
  2. প্রাকৃতিক নির্বাচন
  3. স্বল্পহারে সংখ্যাবৃদ্ধি
  4. প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে প্রতিটি জীবের বেঁচে থাকা
ব্যাখ্যা
• ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের মূল বিষয় হলো প্রাকৃতিক নির্বাচন। 

• চার্লস ডারউইন ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "On the Origin of Species"–এ বিবর্তনের মূল প্রক্রিয়া হিসেবে “প্রাকৃতিক নির্বাচন”-এর ধারণা তুলে ধরেন।

• প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ হলো—
''যেসব জীব তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে সক্ষম, তাদের বেঁচে থাকার ও প্রজননের সম্ভাবনা বেশি। ফলে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।''

• ডারউইন এর মতবাদের মূল বিষয়-
- জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকে (Variation)। 
- উত্তম বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবরা টিকে থাকে। 
- প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে শুধু যোগ্য জীবেরা বেঁচে থাকে,  অযোগ্য জীবরা বিলুপ্ত হয়।  
- উত্তরাধিকারসূত্রে গঠনগত পরিবর্তন ছড়িয়ে পড়ে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
- National Geographic website – Theory of Evolution
.
রামসার সাইট এর সাথে সম্পর্কিত কোনটি?
  1. বনভূমি
  2. মরুভূমি
  3. জলাভূমি
  4. পাহাড়ি অঞ্চল
ব্যাখ্যা
• রামসার সাইট এর সাথে সম্পর্কিত হলো জলাভূমি। 

• রামসার সাইট:
- রামসার সাইট হলো এমন সব জলাভূমি (Wetlands), যেগুলো আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে স্বীকৃত।
- এই সাইটগুলোকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার নাম "রামসার কনভেনশন (Ramsar Convention)"।
- এটি ইরানের রামসার শহরে ১৯৭১ সালে স্বাক্ষরিত একটি পরিবেশ চুক্তি, যা ইউনেস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয়েছিল।

• রামসার সাইট চিহ্নিতকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো:
- জলাভূমিগুলোর সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- জলাভূমিগুলোর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করা।
- জলাভূমিগুলোর উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের অধিকার রক্ষা করা। 

• রামসার সাইট চিহ্নিতকরণের বিবেচ্য বিষয়:
- জলাভূমির প্রকারভেদ (যেমন: ম্যানগ্রোভ, হ্রদ, বিল ইত্যাদি)।
- জলাভূমি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য (যেমন: বিভিন্ন ধরনের পাখি, মাছ, উদ্ভিদ ইত্যাদি)।
- জলাভূমি অঞ্চলের জলবায়ু ও পরিবেশগত গুরুত্ব।
- জলাভূমি অঞ্চলের মানুষের উপর প্রভাব।

তথ্যসূত্র:
- Ramsar website [link]
- ব্রিটানিকা।
.
কোনটি হৃদরোগের ধরন নয়?
  1. অ্যানজাইনা পেকটোরিস
  2. মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন
  3. সিস্টিক ফাইব্রোসিস
  4. করোনারি অ্যাথেরোমা
ব্যাখ্যা
• সিস্টিক ফাইব্রোসিস হৃদরোগের ধরন নয়। 

• হৃদরোগ:
- হৃদরোগ বলতে হৃৎপিণ্ড এবং রক্তবাহী নালীগুলোকে (ধমনী, শিরা, এবং কৈশিক জালিকা) প্রভাবিত করে এমন রোগগুলোকে বোঝায়।

• হৃদরোগের কারণ:
- অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব, ধূমপান, মদ্যপান, এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।  
- উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, এবং স্থূলতা হৃদরোগের প্রধান কারণ।  
- হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।  
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।  
- সাধারণত পুরুষদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। 

• হৃদরোগ সাধারণত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যথা:
→ অ্যানজাইনা পেকটোরিস (Angina Pectoris):
- এটি হৃদরোগের একটি সাধারণ ধরন।
- যখন হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন-যুক্ত রক্ত পায় না, তখন বুকের ব্যথা বা চাপ অনুভূত হয়—এটিই অ্যানজাইনা।
- এটি সাধারণত করোনারি ধমনীতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হয়।
- এটিকে সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাবস্থা মনে করা হয়। 

→ মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction):
- এটি হার্ট অ্যাটাক নামেও পরিচিত।
- হৃৎপিণ্ডের পেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হলে পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এটিই মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।

→ করোনারি অ্যাথেরোমা (Coronary Atheroma):
- এটি হলো ধমনীতে চর্বি জমা হওয়া, যা করোনারি হার্ট ডিজিজের মূল কারণ।
- এটি রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

অন্যদিকে,
• সিস্টিক ফাইব্রোসিস (Cystic Fibrosis) কোনো হৃদরোগ নয়।
- এটি একটি ফুসফুসজনিত ও পরিপাকতন্ত্র সম্পর্কিত জেনেটিক (বংশগত) রোগ।
- এটি প্রধানত ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রে ঘন ও আঠালো শ্লেষ্মা সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- National Institutes of Health (NIH).
.
উদ্ভিদে পানি পরিবহনকারী টিস্যু কোনটি?
  1. লিগনিন
  2. ফ্লোয়েম
  3. ক্যাম্বিয়াম
  4. জাইলেম
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদে পানি পরিবহনকারী টিস্যু হলো জাইলেম। 

• পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (Vascular bundle):
- উদ্ভিদদেহে যে টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল (পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি) ও তৈরিকৃত খাদ্য পরিবহন করে থাকে তাকে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলে।

• জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকেই একত্রে পরিবহন টিস্যু (Vascular bundle) বলে।
- সাধারণত কাণ্ডে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু একই ব্যাসার্ধে অবস্থিত থেকে মিলিতভাবে একটি বান্ডল সৃষ্টি করে।
- মূলে জাইলেম এবং ফ্লোয়েম পৃথক ব্যাসার্ধে থাকে এবং পৃথক পৃথক বান্ডল সৃষ্টি করে।
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর এই বান্ডলই খাদ্যদ্রব্য (কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত খাদ্য) পরিবহন করে।
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকে ভাস্কুলার বান্ডল বলে।

• জাইলেম টিস্যুর কাজ:
- উদ্ভিদের মূল হতে পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করা।
• ফ্লোয়েম টিস্যুর কাজ:
- পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে প্রস্তুতকৃত খাদ্যদ্রব্য (গ্লুকোজ) উদ্ভিদদেহের অন্যান্য সজীব অংশে পরিবহন করা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে?
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. বোরন
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেনের অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 

• উদ্ভিদের পুষ্টি:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু এবং পানি থেকে কতগুলো উপাদান গ্রহণ করে। এ উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না। এ উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলা হয়।

• এ সকল পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশই উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টি বলা হয়।
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- এদের যেকোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদে তার অভাবজনিত লক্ষণ (deficiency symptoms) দেখা দেয় এবং পুষ্টির অভাবজনিত রোগের সৃষ্টি হয়।
- একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের কাজ অপরটি দিয়ে সম্পন্ন হয় না।

• নাইট্রোজেন (N):
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে।
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

অন্যদিকে,
• ফসফরাসের অভাবে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
• ক্যালসিয়ামের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঞ্চল গুলো শুকিয়ে মরে যায়।
• বোরনের অভাবে পাতার বৃদ্ধি কমে যায়। পাতা বিকৃত হয় ও ফলের কুঁড়ি সৃষ্টি ব্যাহত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।