উত্তর
ব্যাখ্যা
ঋ, র,ষ এর পরে ন/স ধ্বনি আসলে তা ণ/ষ-এ রূপান্তরিত হয়। এটি ণত্ব /ষত্ব বিধি অনুযায়ী ধাতুর ক্রিয়ার সম্পূর্ণতা নির্দেশ করে।
৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন
ঋ, র,ষ এর পরে ন/স ধ্বনি আসলে তা ণ/ষ-এ রূপান্তরিত হয়। এটি ণত্ব /ষত্ব বিধি অনুযায়ী ধাতুর ক্রিয়ার সম্পূর্ণতা নির্দেশ করে।
‘র’ এর পরে ‘স’ ধ্বনি ষত্ব বিধি অনুযায়ী ‘ষ’ তে রূপান্তরিত হয়। এটি ধাতুর ক্রিয়ার ফল বা সম্পূর্ণতা নির্দেশ করার নিয়ম।
ঋৃ -এর পরে ন ধ্বনি আসলে তা ণ-এ রূপান্তরিত হয়। তাই সঠিক বানান হলো ‘ঋণ’। এটি ণত্ব বিধির একটি উদাহরণ।
ঋ ধ্বনির পরে যদি স আসে তবে তা ষ-এ পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ: ঋ + স → ঋষ। এখানে স ধ্বনি সরাসরি ষ ধ্বনিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই ধ্বনিগত রূপান্তরকে বলা হয় ষত্ব বিধান। ফলে ধ্বনি মিলন সহজ হয়।
ষ এর পরে ন এলে ন ধ্বনি ণে পরিণত হয়। যেমন — ষ্ণ। এখানে সরাসরি ন → ণ হচ্ছে। এই পরিবর্তন ণত্ব বিধির নিয়ম অনুযায়ী ঘটে। সংস্কৃত শব্দ গঠনে এই বিধি গুরুত্বপূর্ণ।
ষ এর পরে স এলে স → ষ হয়। যেমন — ষষ্ঠ (ষ + ষ্ঠ)। এটি ষত্ব বিধির সঠিক প্রয়োগ। এর মাধ্যমে একই ধ্বনির পুনরাবৃত্তি ঘটে, ফলে শব্দ উচ্চারণ দৃঢ় হয়।
‘কর্ণ’ শব্দে র-এর পরে ন ধ্বনি এসেছে। ণত্ব বিধান অনুযায়ী র এর পরে ন এলে ন → ণ হয়। তাই এখানে “ন” ধ্বনি “ণ”-এ রূপান্তরিত হয়েছে। এর ফলেই শব্দটি “কর্ণ” হয়েছে, “করন” নয়।
ঘর্ষণ শব্দে “র” ধ্বনির পরে “ন” এসেছে। তাই ন → ণ হয়েছে। এটি ণত্ব বিধির সঠিক প্রয়োগ। যদি এই বিধি না মানা হতো তবে শব্দ হতো “ঘরসন”।
কৃ + ষ+ণ → কৃষ্ণ। এখানে ঋ-এর পরে স ও ন এসেছে। ফলে স> ষ এবং ন → ণ হয়েছে। এটি ণত্ব বিধির সঠিক উদাহরণ। তাই শব্দ হয়েছে কৃষ্ণ, কৃস্ন নয়।
পর্ষণ শব্দে র-এর পরে ন এসেছে। ণত্ব বিধি অনুযায়ী ন → ণ হয়েছে। তাই শব্দটি পর্সন হয়নি, বরং পর্ষণ। এটি ণত্ব বিধির জটিল প্রয়োগ।
অব্যয় পদ হলো সেই শব্দ যা কোনো লিঙ্গ, বচন বা বিভক্তি অনুসারে পরিবর্তিত হয় না। এটি সর্বদা অপরিবর্তিত থাকে। উদাহরণ: অতঃ, চ, হি ইত্যাদি। এজন্য অব্যয় শব্দকে অপরিবর্তনীয় পদ বলা হয়।
অব্যয় পদ ক্রিয়ার কাজ করে না, বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় না। বরং এটি বাক্যে বিশেষ অর্থ, সংযোগ বা ক্রিয়া-বিশেষণীয় ভূমিকা পালন করে। যেমন – “চ” মানে এবং, যা দুই বাক্যকে যুক্ত করে।
“চ” অব্যয়টি দুটি বা একাধিক শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: রামঃ চ কৃষ্ণঃ চ → রাম এবং কৃষ্ণ। এজন্য চ অব্যয়কে সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলা হয়।
“অতঃ” অব্যয় পদ সাধারণত কারণ বা ফল প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: অতঃ গচ্ছতি → এজন্য সে যায়। এজন্য অতঃকে ফলবাচক অব্যয় বলা হয়।
“তথা” অব্যয়টি তুলনা বা ফল নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন – যথা রামঃ তথা কৃষ্ণঃ → যেমন রাম তেমনি কৃষ্ণ। এটি তুলনামূলক অব্যয়ের উদাহরণ।
অব্যয় পদ কোনো বিশেষ্য বা ক্রিয়া নয়। এগুলো সর্বদা অপরিবর্তনীয়, তাই বিভক্তি, লিঙ্গ বা বচন অনুযায়ী বদলায় না। এজন্য এগুলোকে অপরিবর্তনীয় শব্দের শ্রেণিতে ধরা হয়।
“হি” অব্যয় বাক্যে জোর বা নিশ্চয়তা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: সঃ হি মহাবলঃ → সে তো মহাবলী। এটি জোরালো অব্যয়ের উদাহরণ।
সংস্কৃত ভাষায় স্ত্রীলিঙ্গ গঠনের জন্য “নী” প্রত্যয় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। যেমন – কবি → কবিনী, ভৃত্য → ভৃত্যণী। এই প্রত্যয় বসে পুরুষবাচক শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত করে।
“ভৃত্য” শব্দে স্ত্রীলিঙ্গ গঠনের জন্য “ণী” প্রত্যয় বসে। তাই “ভৃত্য + ণী = ভৃত্যণী”। এর অর্থ দাসী।
“অশ্ব” শব্দে স্ত্রীলিঙ্গ করতে “ঈ” প্রত্যয় বসে। তাই “অশ্ব + ঈ = অশ্বী”। এর মানে “ঘোটকী” বা স্ত্রীঘোড়া।
“ভ্রাতা” শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ সরাসরি প্রত্যয় দ্বারা গঠিত নয়, বরং আলাদা শব্দ “ভগিনী” দ্বারা প্রকাশিত হয়। এর মানে “বোন”।
“গোপ” (গো রাখে যে) শব্দ থেকে স্ত্রীলিঙ্গ তৈরি হয় “গোপী/গোপিকা/গোপিণী”। ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যয় (ই, ইক, ণী) দ্বারা এই রূপগুলো গঠিত হয়।
“শিষ্য” শব্দে “আ” প্রত্যয় বসে স্ত্রীলিঙ্গ হয় “শিষ্যা”। এর মানে নারী শিষ্য বা ছাত্রী।
“বনিতা” শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ, যার অর্থ “নারী/অভিনেত্রী/সুন্দরী”। এটি লিঙ্গবাচক শব্দ, যেখানে বিশেষ কোনো প্রত্যয় যোগ হয়নি, বরং স্বভাবত স্ত্রীলিঙ্গ।
আত্মনেপদ ক্রিয়া এমন ক্রিয়া যেখানে কর্মফল কর্তার নিজের জন্য হয়। যেমন স্নানं करोति = সে নিজের জন্য স্নান করে। এই বৈশিষ্ট্যই আত্মনেপদকে পরস্মৈপদ থেকে আলাদা করে।
“পঠ” ধাতুর পরস্মৈপদ রূপ হলো “পঠতি” = সে পড়ে। এখানে পড়ার ফল অন্যকে জানানো বা অন্যের উদ্দেশ্যে হয়। তাই এটি পরস্মৈপদ।
আত্মনেপদে ধাতুর শেষে সাধারণত “তে” প্রত্যয় যোগ হয়। তাই “লিখ” ধাতু আত্মনেপদে “লেখ্যতে” হয়। এর মানে দাঁড়ায় “সে নিজের জন্য লেখে।”
সংস্কৃতে অনেক ধাতুই কখনও আত্মনেপদে, কখনও পরস্মৈপদে ব্যবহৃত হয়। এদেরকে “উভয়পদি ধাতু” বলা হয়। যেমন – গম্ (যাওয়া) ধাতু।
আত্মনেপদে ক্রিয়ার শেষে সাধারণত “তে” যোগ হয়। তাই “ক্রীড়” ধাতু আত্মনেপদে হয় ক্রীড়্যতে = সে নিজের জন্য খেলে।
আত্মনেপদ ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য হলো তৃতীয় পুরুষ একবচনে “তে” প্রত্যয় যোগ হওয়া। যেমন – পঠ্যতে, লেখ্যতে, গচ্ছতে। এটি আত্মনেপদের প্রধান চিহ্ন।
পরস্মৈপদে প্রথম পুরুষ একবচনে “মি” প্রত্যয় থাকে। যেমন – পঠামি, লিখামি। এই প্রত্যয় দ্বারা বোঝা যায় ধাতুটি পরস্মৈপদে ব্যবহৃত হয়েছে।
এখানে কর্মফল নিজের জন্য, তাই আত্মনেপদ রূপ হবে। “উপবিশ” ধাতু আত্মনেপদে হয় উপবিশ্যতে।
“পঠ” ধাতু উভয়পদী। পঠতি (সে বই পড়ে – পরস্মৈপদ), আবার পঠते (সে নিজের জন্য পড়ে – আত্মনেপদ)। উভয়ভাবেই ব্যবহার করা যায়। এজন্য ধাতুটি উভয়পদী।
“ধৌ” ধাতুর রূপ হয় ধৌতে = সে ধোয়। কাপড় ধোওয়া বা নিজেকে ধোওয়া – সাধারণত নিজের কাজ হিসেবে বিবেচিত। তাই এটি আত্মনেপদ ধাতু।
কৃৎ প্রত্যয় হলো সেই প্রত্যয়, যা ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে নতুন বিশেষ্য বা বিশেষণ তৈরি করে। যেমন – পঠ + ক = পাঠক। এভাবে কৃৎ প্রত্যয় ধাতুর অর্থের সাথে সম্পর্কিত একটি বিশেষ্য পদ গঠন করে।
কৃৎ” শব্দের মূল ধাতু হলো কृ (করা)। যেহেতু এরা ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে করণজনিত অর্থ প্রকাশ করে, তাই এদের নাম কৃৎ প্রত্যয়।
কৃৎ প্রত্যয় যোগে ধাতু থেকে নাম পদ (বিশেষ্য) ও বিশেষণ তৈরি হয়। যেমন – কর্তা, পাঠক, গায়ক, লিখিত, গম্য ইত্যাদি। এগুলো আর ক্রিয়া নয়, বরং নাম বা বিশেষণ।
“গম্য” মানে “যেখানে যাওয়া উচিত” বা “যেখানে যাওয়া যায়।” এখানে “য” কৃৎ প্রত্যয় কর্মবাচক অর্থ প্রকাশ করছে।
“ভুজ” (খাওয়া) ধাতুর সাথে “তृন” কৃৎ প্রত্যয় যোগ হলে হয় ভোক্তা। এর অর্থ দাঁড়ায় – যে ভোগ করবে বা খাবে।
যে শব্দ ধাতুর সাথে কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত হয় তাকে কৃদন্ত বলা হয়। যেমন – পাঠক, কর্তা, লিখিত ইত্যাদি। এরা আর ধাতু নয়, ধাতুজাত বিশেষ্য বা বিশেষণ।
“কৃ” ধাতুর সাথে “তব্য” কৃৎ প্রত্যয় যোগ হয়ে হয় কর্তব্য। এর অর্থ – যা করা উচিত বা কর্তব্য। এটি কৃৎ প্রত্যয়ের বিধেয় অর্থের উদাহরণ।
নাম বা প্রাতিপদিকের সাথে যে সমস্ত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকেই তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। সুতরাং সঠিক উত্তর প্রাতিপদিক।
তদ্ধিত প্রত্যয় ধাতুর অর্থ ধারণকারী নামপদ/শব্দে যুক্ত হয়ে নতুন বিশেষ্য বা বিশেষণ তৈরি করে। যেমন – লেখ + অন → লেখন।
তদ্ধিত প্রত্যয়ে ধাতুর অর্থ ধারণকারী নামপদে প্রত্যয় যুক্ত হয় এবং নতুন বিশেষ্য বা বিশেষণ তৈরি হয়। ধাতুর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয় না।
“গীত” + য → গীত্য। অর্থ – যা গাওয়া উচিত। ধাতু সরাসরি যুক্ত নয়, শুধু নামপদে তদ্ধিত প্রত্যয়।
সত্য = নামপদ সৎ + তদ্ধিত প্রত্যয়। অর্থ – যা সত্যি। এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের মাধ্যমে নামপদভিত্তিক বিশেষ্য তৈরি করার উদাহরণ।
ধার্মিক= নামপদ ধর্ম + ষ্ণিক(ইক)। অর্থ – যে ধর্ম পালন করে। এখানে ধাতু সরাসরি যুক্ত নয়।
অত ইঞ্- অ-কারান্ত শব্দের উত্তর অপত্যার্থে ইঞ্ প্রত্যয় হয়। যথা- দশরথ + ইঞ্= দাশরথি(দশরথের পুত্র)। এরূপ- রাবণি, গার্গি ইত্যাদি।