পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৮ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৩ টপিক: পৃথিবীর স্থলভাগ (মহাদেশ সমূহ) এবং পৃথিবীর জলভাগ (মহাসাগর ও প্রণালী) [Live Class – 5 & 6]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
উত্তর গোলার্ধে ধ্রুবতারার উন্নতি কোণ ৪০° হলে ঐ স্থানের অক্ষাংশ কত?
  1. ০° উত্তর 
  2. ৪০° উত্তর 
  3. ৫০° উত্তর 
  4. ৯০° উত্তর 
ব্যাখ্যা

• উত্তর গোলার্ধে ধ্রুবতারা (Polaris)-এর উন্নতি কোণ সরাসরি সেই স্থানের অক্ষাংশ নির্দেশ করে।
- অর্থাৎ ধ্রুবতারার যে কোণে দেখা যায়, সেই কোণই হলো ঐ স্থানের অক্ষাংশ।
- তাই যদি ধ্রুবতারার উন্নতি কোণ ৪০° হয়, তবে স্থানের অক্ষাংশও হবে ৪০° উত্তর।
--------------------------------------------------- 
অক্ষাংশ নির্ণয়:
- অক্ষাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতি একটি ভিন্ন প্রাকৃতিক নীতির উপর ভিত্তি করে।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয় সূর্য বা নক্ষত্রের উন্নতি কোণ (উচ্চতা) ব্যবহার করে।
- দুপুরে যখন সূর্য আকাশে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকে, তখন সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উচ্চতা মাপা হয় এবং সেই মান থেকে ৯০° বিয়োগ করে (প্রয়োজনে বিষুবলম্ব যোগ বা বিয়োগ করে) অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়।

- আবার উত্তর গোলার্ধে ধ্রুবতারার উন্নতি কোণ সরাসরি সেই স্থানের অক্ষাংশ নির্দেশ করে।
- যেমন, কোনো স্থানে যদি ধ্রুবতারা ২৩° কোণে দেখা যায়, তবে ঐ স্থানের অক্ষাংশ ২৩° উত্তর।
- নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারা ০° এবং উত্তর মেরুতে ৯০° কোণে দেখা যায়।

উৎস: মানচিত্র পঠন ও ব্যবহার, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পৃথিবীর পৃষ্ঠের কত শতাংশ জল দ্বারা ঢাকা?
  1. ৭১%
  2. ৬৫%
  3. ৭৫%
  4. ৬০%
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর পৃষ্ঠ:
- পৃথিবীর মোট পৃষ্ঠফল হলো ৫১,০০,৭২,০০০ বর্গ কি.মি. (৫১ কোটি বর্গ কিমি)।
- এর মধ্যে প্রায় ৭১% পানিতে ঢাকা; 
- এবং ২৯% স্থলভাগ।

- পৃথিবী মূলত দুই ভাগ দিয়ে গঠিত: জল ও স্থল।
- পৃথিবীর মোট আয়তন ১.০৮৩২০৭ × ১০¹² ঘন কি.মি. অর্থাৎ পৃথিবী প্রায় ১০¹² ঘন কি.মি. আকারের।
- আমাদের চোখে পৃথিবীকে দেখলে মনে হয় অনেক স্থল আছে। 
- কিন্তু বাস্তবে— 
- জলভাগ: ৩৬,১১,৩২,০০০ বর্গ কি.মি. → পৃথিবীর পৃষ্ঠের ৭০.৮% বা ৭১% এবং 
- স্থলভাগ: ১৪,৮৯,৪০,০০০ বর্গ কি.মি. → পৃথিবীর পৃষ্ঠের ২৯%।

- তবে, পৃথিবীর মোট ভর ও ঘনত্ব অনেক বেশি—প্রায় ৫.৯৭ × ১০²⁴ কেজি;
- এবং গড় ঘনত্ব ৫.৫ গ্রাম/ঘন সে.মি.।
- এর মানে, পানি বেশি হলেও পৃথিবী ভারী ও ঘন, কারণ এর ভেতরের অংশ (কোর ও ম্যান্টল) অনেক ঘন ও ভারী ধাতু দিয়ে গঠিত।

উৎস: Britannica ও বিজ্ঞান চিন্তা [লিঙ্ক]। 

.
এশিয়ার ভূখণ্ডে ইউরোপের সাথে সীমারেখা নির্ধারণ করে কোন পর্বতমালা?
  1. হিমালয়
  2. আর্কটিক সার্কেল
  3. ককেশাস 
  4. ইউরাল
ব্যাখ্যা

এশিয়া মহাদেশ:
- এশিয়া মহাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ও জনবহুল মহাদেশ। 
- এর মোট আয়তন প্রায় ৪৪,৬১৪,০০,০০০ বর্গকিমি (এশিয়ান রাশিয়া এবং ককেশীয় দ্বীপপুঞ্জসহ, তবে নিউ গিনি বাদে), যা পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
- এটি পূর্ব ও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। 
- এশিয়া মহাদেশে স্বাধীন দেশ আছে ৪৪ টি আর সার্বভৌম দেশ হচ্ছে ৪৯ টি। 
- এশিয়া মহাদেশের সর্বশেষ স্বাধীন রাষ্ট্র হলো পূর্ব তিমুর।
- পূর্ব তিমুর ২০০২ সালের ২০ মে ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

- ভূগোলিক বৈশিষ্ট্যে এশিয়ায় রয়েছে পৃথিবীর ছাদ খ্যাত পামির মালভূমি।
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী হলো ইয়াংসিকিয়াং (চীন)।
- বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৫০ মিটার বা ২৯,০৩৫ ফুট) এশিয়ায় অবস্থিত।
- পৃথিবীর স্থলভাগের সর্বনিম্ন স্থান হলো মৃত সাগর, যা এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত।
- এছাড়া, বিশ্বের গভীরতম মহাদেশীয় হ্রদ বৈকাল হ্রদ এশিয়ায় অবস্থিত, যার গভীরতা ১,৬২০ মিটার।
- এশিয়ার বৃহত্তম মরুভূমি হলো গোবি মরুভূমি।
- আর বৃহত্তম সাগর হলো দক্ষিণ চীন সাগর।

- ভূখণ্ডের সীমারেখা নির্ধারণে ইউরাল পর্বতমালা ইউরোপের সাথে এশিয়ার সীমানা চিহ্নিত করে।
- এশিয়ার কিছু দেশ দ্বীপপুঞ্জ আকারে রয়েছে- যেমন জাপান, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া।
- আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার বৃহত্তম দেশ হলো চীন। 
- আর আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ হলো মালদ্বীপ।
---------------------------------- 
উল্লেখ্য,
- এশিয়ার দেশগুলো অঞ্চলভিত্তিকভাবে বণ্টিত:
• দক্ষিণ এশিয়া:
- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান। 

• পূর্ব এশিয়া:
- চীন, জাপান, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান। 

• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া:
- ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, তিমুর

• পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্য):
- ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইয়েমেন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, তুরস্ক, সাইপ্রাস, ইসরায়েল

• মধ্য এশিয়া ও অন্যান্য:
- কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, রাশিয়া। 

উৎস: Britannica. 

.
আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
  1. মাউন্ট এভারেস্ট
  2. মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো 
  3. কিলিমিনাথো
  4. রুয়েনজুরি
ব্যাখ্যা

আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো।
- এটি তানজানিয়াতে অবস্থিত এবং এটি একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।
---------------------------------- 
আফ্রিকা মহাদেশ:
- আফ্রিকা মহাদেশ হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। 
- আফ্রিকার মোট ভূমির আয়তন প্রায় ৩০,৩৬৫,০০,০০০ বর্গকিমি (১,১৭,২৪,০০০ বর্গমাইল)।
- মহাদেশটি বিষুবরেখা দ্বারা প্রায় সমানভাবে দুই ভাগে বিভক্ত।
- ফলে আফ্রিকার বেশিরভাগ অংশ গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত।
- উত্তরে মহাদেশটি কর্কটক্রান্তি এবং দক্ষিণে মকরক্রান্তি দ্বারা সীমাবদ্ধ।
- আফ্রিকা মহাদেশে ৫৪টি দেশ রয়েছে [পশ্চিম সাহারা (১০৫,০২০ বর্গমাইল [২৭২,০০০ বর্গকিলোমিটার]) বাদ দেওয়া হয়েছে , যা মরক্কোর একটি সংযুক্ত অঞ্চল]। 

- আফ্রিকা মহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তরে ভূমধ্যসাগর, পূর্বে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগর, এবং দক্ষিণে আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের মিশ্র জলরাশি দ্বারা বেষ্টিত।
- আফ্রিকাকে ইউরোপ থেকে পৃথক করেছে জিব্রাল্টার প্রণালী।
- এই মহাদেশের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope)।

- আফ্রিকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যর মধ্যে রয়েছে- সাহারা মরুভূমি।
- আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী নীল নদ।
- আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কিলিমাঞ্জারো। 
- এবং আফ্রিকার সর্বনিম্ন স্থান আসাল হ্রদ (জিবুতি)। 

উৎস: Britannica. 

.
ইউরোপ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? 
  1. থেমস
  2. ডানিউব
  3. ভলগা
  4. রাইন
ব্যাখ্যা

ইউরোপ মহাদেশ:
- ইউরোপ মহাদেশ হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।
- এটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বে ষষ্ঠ।
- ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত আর্কটিক মহাসাগর, পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে (পশ্চিম থেকে পূর্বে) ভূমধ্যসাগর, কৃষ্ণ সাগর ও কুমা-মানিচ নিম্নচাপ এবং পূর্বে কাস্পিয়ান সাগর, ইউরাল নদী ও ইউরাল পর্বত।

- এই মহাদেশের ক্ষুদ্রতম দেশ হলো ভ্যাটিকান সিটি। 
- ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশ হলো রাশিয়া, যা আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকেই বৃহত্তম। 
- এশিয়া ও ইউরোপ উভয় মহাদেশে অবস্থিত রাশিয়ার অংশ ইউরোপের অন্তর্ভুক্ত।

- ইউরোপের বৃহত্তম দ্বীপ হলো গ্রিনল্যান্ড, যা ডেনমার্কের অধীনে রয়েছে, তবে ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- এই মহাদেশের দীর্ঘতম নদী হলো ভলগা নদী।
- এবং দীর্ঘতম পর্বতমালা হলো আল্পস পর্বতমালা।
- ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট এলব্রুস।
- আর সর্বনিম্ন স্থান হলো কাস্পিয়ান সাগর। 

উৎস: World Atlas ও Britannica. 

.
উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে আলাস্কা কোন প্রণালী দ্বারা এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. ডেনমার্ক প্রণালী
  3. ইংলিশ চ্যানেল
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

উত্তর আমেরিকা: 
- উত্তর আমেরিকা হলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ।
- এর অধিকাংশ অঞ্চল আর্কটিক সার্কেল এবং কর্কটক্রান্তির মধ্যে অবস্থিত।
- মহাদেশটি উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর, পূর্বে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পশ্চিমে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা সীমাবদ্ধ।

- উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব দিকে, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড নামের দুটি বড় দ্বীপ আছে। এই দ্বীপগুলোকে মূল ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এই দ্বীপগুলোকে মহাদেশের মূল অংশ থেকে আলাদা করেছে একটি জলরাশি, যাকে ডেনমার্ক প্রণালী বলা হয়।
- আর উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে, আলাস্কা নামের অংশটি এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে খুব সরু বেরিং প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। 

- উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট ম্যাককিনলে (ডেনালি);
- এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০,৩১০ ফুট (৬,১৯০ মিটার)।
- আর সর্বনিম্ন স্থান হলো ডেথ ভ্যালি, ক্যালিফোর্নিয়া, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৮২ ফুট (৮৬ মিটার) নীচে অবস্থিত।
- এই মহাদেশের বিখ্যাত জলপ্রপাত হলো নায়াগ্রা জলপ্রপাত, যা নায়াগ্রা নদীর উপর অবস্থিত এবং উত্তর-পূর্ব উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান।

- উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম দেশ (আয়তনে) হলো কানাডা, এবং জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র।
- আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকে ক্ষুদ্রতম দেশ হলো সেন্ট কিটস এবং নেভিস।

- মহাদেশে মোট ২৩টি স্বাধীন দেশ অবস্থিত, যেগুলোকে তিনটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা যায়:
• উত্তর আমেরিকা: ৩টি দেশ – মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা।

• মধ্য আমেরিকা: ৭টি দেশ – এল সালভেদর, হন্ডুরাস, বেলিজ, গুয়াতেমালা, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা, পানামা। 

• ক্যারিবিয়ান অঞ্চল: ১৩টি দেশ – বাহামা, বার্বাডোস, কিউবা, ডোমিনিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, গ্রানাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারমুডা।

উৎস: World Atlas ও Britannica. 

.
প্রশান্ত মহাসাগরের আকৃতি কোনটির সঙ্গে তুলনীয়? 
  1. বর্গাকার
  2. ত্রিভুজাকার
  3. গোলাকার
  4. আয়তাকার 
ব্যাখ্যা

প্রশান্ত মহাসাগর:
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর বৃহত্তম, গভীরতম ও প্রশস্ততম মহাসাগর, যার আয়তন প্রায় ৬৩ মিলিয়ন বর্গমাইল এবং
- আকৃতিতে এটি বৃহদাকার ত্রিভুজ এর মতো দেখতে।
- এ মহাসাগরটি এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা ( সংলগ্ন সমুদ্র ব্যতীত) ১৪,০৪০ ফুট (৪,২৮০ মিটার)।
- উত্তর গোলার্ধে প্রশান্ত মহাসাগর বেরিং সাগরের মাধ্যমে আর্কটিক মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।
- অপরদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধে প্রশান্ত মহাসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে একটি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ অঞ্চলে মিলিত হয়।

- প্রশান্ত মহাসাগরের তথা পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, যার গভীরতা প্রায় ১১,০৩৪ মিটার।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতম বিন্দু হচ্ছে Challenger Deep.
- পাশাপাশি এই মহাসাগরেই অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ।
- এটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূল জুড়ে অবস্থিত।  

উৎস: ব্রিটানিকা। 

.
আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান কোনটি?
  1. Milwaukee Deep
  2. Challenger Deep
  3. Java Trench
  4. Tonga Trench
ব্যাখ্যা

আটলান্টিক মহাসাগর: 
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর, যার আকৃতি ইংরেজি অক্ষর “S”-এর মতো।
- আটলান্টিক মহাসাগর এর গড় গভীরতা ৩৯৩২ মিটার।
- এটি ইউরোপ ও আফ্রিকাকে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আলাদা করেছে।
- এর গভীরতম স্থান হলো পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ যা ক্যারিবিয়ান সাগরের মধ্যখানে অবস্থিত।
- পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ এর গভীরতম বিন্দু হচ্ছে Milwaukee Deep.
- Milwaukee Deep এর গভীরতা ৮৩৮০ মিটার।
- এই মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ হচ্ছে : গ্রীনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বারমুডা, জ্যামাইকা, কিউবা, আয়ারল্যান্ড, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র
- এ মহাসাগরটি প্রাচীন যুগ থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, উপনিবেশ স্থাপন ও সমুদ্র অভিযানের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
---------------------------------------- 
অন্যদিকে,
- Challenger Deep – এটি প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সবচেয়ে গভীর বিন্দু।
-  Java Trench – এটি ভারত মহাসাগরের গভীরতম অংশ।
- Tonga Trench – এটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গভীর ট্রেঞ্চ।

উৎস: Britannica. 

.
ঢাকা থেকে কোনো একটি স্থান ৪০°২০′ পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত। ঢাকায় যখন সকাল ৭টা, তখন উক্ত স্থানের স্থানীয় সময় কত?
  1. সকাল ৯টা ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  2. সকাল ৪টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
  3. সকাল ২টা ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  4. সকাল ৫টা ২০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

•  স্থানীয় সময়:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান থেকে যে সময় নির্ণয় করা হয় তাকে স্থানীয় সময় বলে।
- সূর্য একই সময় একাধিক দ্রাঘিমার ওপর অবস্থান না করায় বিভিন্ন দ্রাঘিমায় স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট;
- এবং প্রতি ১′ (মিনিট) দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ সেকেন্ড।

- এখানে দ্রাঘিমার ব্যবধান ৪০°২০′ পশ্চিম।
- সময়ের পার্থক্য = (৪০ × ৪) মিনিট + (২০ × ৪) সেকেন্ড, 
= ১৬০ মিনিট + ৮০ সেকেন্ড, 
= ১৬১ মিনিট ২০ সেকেন্ড [৬০ সেকেন্ড = ১ মিনিট], 
= ২ ঘণ্টা ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 

- স্থানটি ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত, তাই সেখানে সময় ঢাকার তুলনায় কম হবে।

- অতএব,
- স্থানীয় সময় = ৭:০০:০০ − ২:৪১:২০ [০ সেকেন্ড থেকে ২০ সেকেন্ড বিয়োগ সম্ভব নয়, তাই ১ মিনিট ধার নিই],
∴ ৭:০০:০০ → ৬:৫৯:৬০; 
- এখন বিয়োগ করি —
- ৬:৫৯:৬০ - ২:৪১:২০ 
- ৬০ − ২০ = ৪০ সেকেন্ড,
- ৫৯ − ৪১ = ১৮ মিনিট, 
- ৬ − ২ = ৪ ঘণ্টা।
- অর্থাৎ ৪ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।

সুতরাং, উত্তর: সকাল ৪টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।

উৎস: মানচিত্র পঠন ও ব্যবহার, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
দক্ষিণ আমেরিকার সর্বশেষ স্বাধীন দেশ কোনটি? [মার্চ, ২০২৬] 
  1. ভেনিজুয়েলা
  2. বলিভিয়া
  3. সুরিনাম
  4. পেরু
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ আমেরিকা:
- দক্ষিণ আমেরিকা হলো বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ।
- এটি উত্তরে এবং উত্তর-পশ্চিমে ক্যারিবিয়ান সাগর, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত।
- মহাদেশের মোট আয়তন প্রায় ৬,৮৭৮,০০০ বর্গমাইল (১৭,৮১৪,০০০ বর্গকিমি)।

- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে ১২টি সার্বভৌম দেশ রয়েছে।
- প্রধান দেশগুলো হলো:
- আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, প্যারাগুয়ে, পেরু, সুরিনাম, উরুগুয়ে এবং ভেনিজুয়েলা। 
- এর মধ্যে ব্রাজিল বৃহত্তম দেশ, আর সুরিনাম ক্ষুদ্রতম দেশ।
- দক্ষিণ আমেরিকার সর্বশেষ স্বাধীন দেশ হলো সুরিনাম।
- এটি ১৯৭৫ সালের ২৫ নভেম্বর নেদারল্যান্ডস থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
- এই মহাদেশের স্থলবেষ্টিত (landlocked) দেশ হলো- বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে।

- দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম পর্বতমালা হলো আন্দিজ পর্বতমালা।
- এর পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত চিলি পৃথিবীর দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে সরু দেশ।
- এই মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো অ্যাকনকাগুয়া পর্বত (আর্জেন্টিনা)।
- এবং নিম্নতম স্থান হলো লাগুনা দেন কার্বন (আর্জেন্টিনা)
- বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ হলো টিটিকাকা হ্রদ, যা দক্ষিন আমেরিকার পেরু ও বলিভিয়ার সীমান্তে অবস্থান করে।
- এই মহাদেশের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট হলো আমাজন বন। 
- তাছাড়া এই মহাদেশেই অবস্থিত ইকুয়েডর চির বসন্তের দেশ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: Britannica ও World Atlas. 

১১.
ভারত মহাসাগরে অবস্থিত বৃহত্তম দ্বীপ কোনটি?
  1. সিচেলিস
  2. মরিশাস
  3. মাদাগাস্কার
  4. মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা

ভারত মহাসাগর:
- ভারত মহাসাগর বিশ্বের তিনটি প্রধান মহাসাগরের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম।
- এর মোট আয়তন প্রায় ২৭,২৪৩,০০০ বর্গমাইল (৭০,৫৬০,০০০ বর্গকিমি)।
- মহাসাগরের গড় গভীরতা প্রায় ১২,২৭৪ ফুট (৩,৭৪১ মিটার)।
- এর গভীরতম স্থান হলো পুয়ের্তো সুন্ডা ট্রেঞ্চ;
- যার পূর্বের নাম ছিল জাভা খাত (Java Trench)।

- ভারত মহাসাগরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদাগাস্কার, যা বৃহত্তম।
- এছাড়াও রয়েছে- সিচেলিস, মরিশাস, দিয়াগো গার্সিয়া, মালদ্বীপ ও মালাগাসি।

উৎস: Britannica. 

১২.
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর কোনটি?
  1. আরব সাগর
  2. দক্ষিণ চীন সাগর
  3. ক্যারিবিয়ান সাগর
  4. চিলি সাগর
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর:

- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর ফিলিপাইন সাগর।
- এর আয়তন: ৫৭,০০০,০০ বর্গ কিলোমিটার (প্রায়)। 

• পৃথিবীর বৃহত্তম ৫টি সাগর:
১. ফিলিপাইন সাগর (৫,৬৯৫,০০০ বর্গকি.মি.), 
২. কোরাল সাগর (৪,৭৯১,০০০ বর্গকি.মি.), 
৩. আরব সাগর (৩,৮৬২,০০০ বর্গকিমি),
৪. দক্ষিণ চীন সাগর (৩,৬৮৫,০০০ বর্গকি.মি.),
৫. ওয়েডেল সাগর (২,৮০০,০০০ বর্গকিমি)।

উল্লেখ্য,
- গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকড অনুসারে, দক্ষিণ চীন সাগর পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর।

উৎস: i) World Atlas. 
ii) Britannica. 
iii)  Visual Capitalist ওয়েবসাইট।

১৩.
লোহিত সাগর কোন দুটি মহাদেশকে পৃথক করেছে?
  1. এশিয়া ও আফ্রিকা
  2. এশিয়া ও ইউরোপ
  3. আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
  4. উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা

লোহিত সাগর:
- লোহিত সাগর হলো একটি দীর্ঘ ও সরু সমুদ্র।
- লোহিত সাগরের সর্বোচ্চ প্রস্থ প্রায় ১৯০ মাইল এবং গভীরতা প্রায় ৯,৯৭৪ ফুট (৩,০৪০ মিটার)। 
- এর আয়তন প্রায় ৪৫০,০০০ বর্গকিলোমিটার।

- এটি আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে প্রাকৃতিক বিভাজন তৈরি করে।
- এর পশ্চিম তীর আফ্রিকার দেশগুলো—মিশর, সুদান, ইরিত্রিয়া ও জিবুতি দ্বারা গঠিত।
- আর পূর্ব তীর এশিয়ার দেশগুলো- আরব উপদ্বীপের সৌদি আরব ও ইয়েমেন দ্বারা ঘেরা।
- লোহিত সাগর উত্তরে সিনাই উপদ্বীপ, সুয়েজ উপসাগর এবং আকাবা (এলাত) উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত;
- এবং দক্ষিণে বাব-এল-মান্দেব প্রণালী ও এডেন উপসাগরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
- এটি ভারত মহাসাগরের একটি অভ্যন্তরীণ সমুদ্র হিসেবে কাজ করে।
- এটি সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে পরোক্ষভাবে সংযুক্ত। 
- এটি আফ্রিকা ও আরব উপদ্বীপকে পৃথক করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবেও বিবেচিত।

উৎস: Britannica. 

১৪.
দক্ষিণ গোলার্ধে কোনো স্থানে মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি ৪৫° এবং বিষুবলম্ব ১০° দক্ষিণ। ঐ স্থানের অক্ষাংশ কত?
  1. ৩৫° দক্ষিণ
  2. ৪৫° দক্ষিণ
  3. ৫৫° দক্ষিণ
  4. ২৫° দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ গোলার্ধে অক্ষাংশ নির্ণয় করার সূত্র হলো:
- অক্ষাংশ = ৯০°−(মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি) + বিষুবলম্ব (দক্ষিণ হলে -, উত্তর হলে +)। 

- এখানে, মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি = ৪৫°,
- বিষুবলম্ব = ১০° দক্ষিণ।

∴ অক্ষাংশ = ৯০°− ৪৫°+ ১০°
= ৪৫°+১০°
=৫৫°দক্ষিণ অক্ষাংশ  

- অতএব, ঐ স্থানের অক্ষাংশ = ৫৫° দক্ষিণ।

উৎস: মানচিত্র পঠন ও ব্যবহার, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
ওশেনিয়া মহাদেশে জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ কোনটি? [ মার্চ,২০২৬]
  1. নাউরু
  2. পালাউ
  3. টুভালু
  4. কিরিবাতি
ব্যাখ্যা

• ওশেনিয়া মহাদেশ:
- ওশেনিয়া হলো দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সকল দ্বীপকে একত্রিত করে গঠিত একটি মহাদেশ। 
- এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।
- ওশেনিয়ার মোট স্বাধীন দেশ ১৪টি।
- এই মহাদেশের সর্বশেষ স্বাধীন দেশ হলো পালাউ (Palau)।
- এটি ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাস্টশিপ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।

- ওশেনিয়া মহাদেশকে চারটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে:
• অস্ট্রেলেশিয়া- অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড);
• মেলানেশিয়া- পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ভানুয়াতু, ফিজি, পালাউ);
• মাইক্রোনেশিয়া- ফেডারেল স্টেট অব মাইক্রোনেশিয়া, কিরিবাতি, নাউরু, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ;
• পলিনেশিয়া- সামোয়া, টোঙ্গা, টুভালু। 

- ওশেনিয়ার বৃহত্তম দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া।
- আর ক্ষুদ্রতম দেশ আয়তনে হলো নাউরু।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ হলো টুভালু।

- এই মহাদেশের দীর্ঘতম নদী হলো মারে-ডার্লিং (Murray-Darling River system), যা অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত হয়েছে।
- মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত হলো পুনকাক জায়া, যা ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে অবস্থিত।

উৎস:
Worldometer [link]. 
World Population Review [link]. 

১৬.
আরব সাগর পারস্য উপসাগরের সঙ্গে কোন প্রণালীর মাধ্যমে যুক্ত?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী  
  2. দারদানেলিস প্রণালী
  3. হরমুজ প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা

হরমুজ প্রণালী:
- হরমুজ প্রণালী হলো একমাত্র ন্যূনতম সমুদ্রপথ যা তেল সমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরকে দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। 
-------------------------------------------
• আরব সাগর:

- আরব সাগর ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশ এবং আরব উপদ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি ভারত ও ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হিসেবে কাজ করে।
- আরব সাগরের উত্তরে পাকিস্তান ও ইরান এবং পশ্চিমে আফ্রিকার উপকূলের শৃঙ্গ রয়েছে।
- এখানে প্রধান নদী হিসেবে সিন্ধু নদী প্রবাহিত হয়।
- আরব সাগরের মোট আয়তন প্রায় ১,৪৯১,০০০ বর্গমাইল (৩,৮৬২,০০০ বর্গকিলোমিটার)।

- আরব সাগর ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে পারস্য উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত এবং
- এডেন উপসাগর ও বাব-আল-মান্দেব প্রণালী ব্যবহার করে এটি লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে।
----------------------------------------
অন্যদিকে,
• জিব্রাল্টার প্রণালী:
- এ প্রণালী ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- এবং ইউরোপের স্পেনকে আফ্রিকার মরক্কো থেকে পৃথক করেছে।

• দারদানেলিস প্রণালী:
- এই প্রণালী মারমরা সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এবং তুরস্কের ইউরোপীয় ও এশীয় অংশকে পৃথক করেছে।

• বসফরাস প্রণালী: 
- এটি কৃষ্ণ সাগরকে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- এবং তুরস্কের এশিয়া ও ইউরোপ অংশকে পৃথক করেছে।

উৎস: Britannica. 

১৭.
পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের মধ্যে কোন সাগর অবস্থিত?
  1. তিমুর সাগর 
  2. জাভা সাগর
  3. কাস্পিয়ান সাগর
  4. কৃষ্ণ সাগর
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণ সাগর:
- কৃষ্ণ সাগর পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার কোকেশীয় অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তীয় সাগর।
- এটি ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থান করে।
- এবং এর সীমানায় রয়েছে বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, রাশিয়া, জর্জিয়া ও তুরস্ক।
- কৃষ্ণ সাগরের দক্ষিণ-মধ্য অংশের সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ২,২১০ মিটার (৭,২৫০ ফুট)।

উল্লেখ্য,
- কৃষ্ণ সাগর বসফরাস প্রণালীর মাধ্যমে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- কৃষ্ণ সাগরকে দারদানেলিস প্রণালী ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- এটি পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে।
- এছাড়াও, কৃষ্ণ সাগর ক্রার্চ প্রণালী দ্বারা আজভ সাগরের সঙ্গে যুক্ত। 
----------------------------- 
অন্যদিকে, 
- তিমুর সাগর পূর্ব তিমুর ও অস্ট্রেলিয়ার মাঝে অবস্থিত।
- জাভা দ্বীপের উত্তরে জাভা সাগর অবস্থিত।
- কাস্পিয়ান সাগর এশিয়া ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত। 

উৎস: Britannica.

১৮.
দুই কোরিয়া ও চীনের মধ্যে কোন সাগর অবস্থিত?
  1. কারা সাগর
  2. ব্যারেন্ট সাগর
  3. নরওয়েজিয়ান সাগর
  4. পীত সাগর
ব্যাখ্যা

পীত সাগর:
- পীত সাগর (Yellow Sea) পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তিক সাগর।
- এটি চীনের মূল ভূখণ্ড ও কোরীয় উপদ্বীপের মাঝখানে অবস্থিত।
- এটি মূলত বোহাই উপসাগরসহ পূর্ব চীন সাগরের উত্তরাংশ নিয়ে গঠিত।
- গোবি মরুভূমি থেকে উড়ে আসা সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও পলিমাটি সাগরের পানিতে মিশে পানিকে হলুদাভ রঙ প্রদান করে—এ কারণেই এর নাম হয়েছে “পীত সাগর”।
- ভূ-অবস্থান ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চল।
--------------------------------------- 
অন্যদিকে,
- রাশিয়ার উত্তর পূর্বে রাশিয়ান নোভাইয়া জিমলিয়া দ্বীপপুঞ্জের পূর্বে কারা সাগর অবস্থিত।
- নোভাইয়া জিমলিয়া দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিম থেকে নরওয়ে পর্যন্ত ব্যারেন্ট সাগর অবস্থিত।
- নরওয়ে ও আইসল্যান্ডের মাঝে নরওয়েজিয়ান সাগর অবস্থিত। 

উৎস: Britannica. 

১৯.
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি কোনটি?
  1. মাওনা লোয়া
  2. মাউন্ট ইরেবাস
  3. মাউন্ট এটনা
  4. মেরাপি
ব্যাখ্যা

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
- অ্যান্টার্কটিকা হলো পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ, যা দক্ষিণ মেরুর চারপাশে কেন্দ্রীভূতভাবে অবস্থিত।
- এর স্থলভাগ প্রায় সম্পূর্ণরূপে ৬,৫০০ ফুট (প্রায় ২,০০০ মিটার) পুরু বরফের চাদর দ্বারা আবৃত।
- মহাদেশটি দুইটি উপমহাদেশে বিভক্ত:
- পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা, যা মূলত উঁচু, বরফে ঢাকা মালভূমি নিয়ে গঠিত।
- এবং পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা, যা প্রধানত বরফে ঢাকা পাহাড়ি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত।

- অ্যান্টার্কটিকার ভূমির আয়তন প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন বর্গমাইল (১৪.২ মিলিয়ন বর্গকিমি)।
- এটি আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ অংশ দ্বারা ঘেরা।
- মহাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো মাউন্ট ইরেবাস। 
- এই মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হলো মাউন্ট ভিনসন।
- অ্যান্টার্কটিকায় কোনও দেশ নেই।
------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- মাওনা লোয়া (Mauna Loa), হাওয়াই: এটি বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
- মাউন্ট এটনা (Mount Etna), ইতালি: ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয় এবং উঁচু আগ্নেয়গিরি।
- মেরাপি (Merapi), ইন্দোনেশিয়া: এশিয়ার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি

উৎস: Britannica.