পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ দর্শন [২১১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ দর্শন [২১১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১১৫
সিলেবাস
Full Model Test - 03
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ দর্শন [২১১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ দর্শন [২১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১৫ প্রশ্ন

.
'Amend' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক্ষতিপূরণ দান করা
  2. সংশোধন করা
  3. সংবেদনশীল
  4. পরিবর্ধন করা
ব্যাখ্যা

• 'Amend' এর বাংলা পরিভাষা - সংশোধন করা।

অন্যদিকে,
• 'Amenable' অর্থ - সংবেদনশীল; চালিত বা নিয়ন্ত্রিত হতে আগ্রহী এমন; বাধ্য; অনুগত।
• 'Amends' অর্থ - ক্ষতিপূরণ দান করা।
• 'Augmenting' অর্থ - পরিবর্ধন করা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।

.
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. উদক
  2. হিমানী
  3. প্রভঞ্জন
  4. পায়োদ
ব্যাখ্যা

• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ: অম্বু, জল, নীর, সলিল, অপ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।
• 'তুষার' শব্দের সমার্থক শব্দ: বরফ; হিমানী; নীহার।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ: জলধর; জীমূত; বারিদ; নীরদ; পায়োদ; ঘন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন-
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।

- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ-আগম-পারসী-নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পান্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- চল্লিশ বৎসর বয়সে ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি নিযুক্ত হন। তাঁর মাসিক বেতন হয় চল্লিশ টাকা। কবি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে প্রতিদিন কবিতা রচনা করে শোনাতেন। তাঁর কবিত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা তাঁকে 'গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন এবং প্রচুর ভূসম্পত্তি উপহার দেন।

- ভারতচন্দ্র মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। কবি গ্রন্থোৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, একদিকে দেবীর আদেশ, অন্যদিকে রাজার আদেশে কাব্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি। মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়। তিনি ছিলেন ব্রজবুলি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

• চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
যোগতন্ত্রশাস্ত্র মতে 'মীননাথ' চর্যাপদের কোন কবির অপর নাম?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবনকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

- যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা।

- লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিব্বতি অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ক তিনটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'। প্রথম দুটি বই দর্শনের এবং তৃতীয়টি দোঁহা ও গানের।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
"সবাই এসো আলোর মিছিলে হে নবীন তরুণ দল।" এখানে 'মিছিল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. ওলন্দাজ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা



মিছিল (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- শোভাযাত্রা (মহরমের মিছিল)।
- মোকদ্দমা ও তৎসম্বন্ধীয় নথিপত্র।
- বিন্যাস, সিজিল।
- সমান, সমকক্ষ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস-
  1. নাসিকা
  2. মুখ
  3. ফুসফুস
  4. কণ্ঠ
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি। বস্তুত ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে চারটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো হলো-ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ।

- মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য 'কথা' বলে। মানুষের 'কথা' হলো অর্থযুক্ত কিছু ধ্বনি। ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত শব্দ বা আওয়াজকেই ধ্বনি বলা হয়। বস্তুত অর্থবোধক ধ্বনিসমূহই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি।

- ধ্বনি নির্গত হয় মুখ দিয়ে। ধ্বনি উৎপাদনে মুখ, নাসিকা, কণ্ঠ প্রভৃতি বাক্-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হলেও ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস হলো ফুসফুস। ফুসফুসের সাহায্যে আমরা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আসে। ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখের বিভিন্ন জায়গায় ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে মুখে নানা ধরনের ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

- অর্থাৎ ফুসফুস নির্গত বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশের পর বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আঘাত লাগার দরুন ধ্বনি গঠিত বা তৈরি হয়। ধ্বনি গঠনে বিভিন্ন বাক্- প্রত্যঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

.
'ঘরানা' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• আনা (য়ানা) -আনি (য়ানি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: ভাব, অভ্যাস বা আচরণ অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
ঘর + আনা = ঘরানা,
গরিব + আনা = গরিবানা,
বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
বিবি + আনা = বিবিয়ানা ইত্যাদি।

আবার,
বাবু + আনি = বাবুআনি > বাবুয়ানি।

• এরূপ কিছু বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
-ওয়ান, -খানা, -খোর, -গর, -গিরি, -চা > চি, -চী > চি, -তর (তরো), -দান, -দানি, -সার, -নবিশ, -বন্দি, -বাজ /-বাজি, -সহি, সই, -স্তান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন- ঞ্‌ + ক = ঙ্ক।
- শুদ্ধরূপ: ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।

---------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- জ্‌ + ঞ = জ্ঞ;
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ;
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ;
- ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ;
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।' বাক্যে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে??
  1. বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
  2. বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
  3. সমাস ঘটিত অশুদ্ধি
  4. বাচ্যজনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করলে এ ধরনের ভুল হয়।
যেমন- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।
যেমন
অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ: হার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
শুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।

অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
বিশেষণ পদ নয় কোনটি?
  1. নিখুঁত
  2. সুকঠিন
  3. দুঃসহ
  4. সততা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয়- সততা।
- 'সততা' গুণবাচক বিশেষ্য পদ।

• আদ্য প্রত্যয় বা উপসর্গযুক্ত বিশেষণ: এ ধরনের বিশেষণ আদ্যপ্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হয়।
যেমন:
- নিখুঁত (নি + খুঁত) কাজ।
- সুকঠিন (সু + কঠিন) প্রতিজ্ঞা।
- দুঃসহ (দুঃ + সহ) দারিদ্র্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. প্রশস্ত
  2. অভ্যস্ত
  3. গৃহস্ত
  4. ব্যস্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: গৃহস্থ।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংসার ধর্ম পালন করে এমন,
- গৃহী।

অন্যদিকে,
• প্রশস্ত, অভ্যস্ত ও ব্যস্ত বানানগুলো শুদ্ধ।

• এরূপ কিছু শুদ্ধ শব্দ- ঠোঁটস্থ, মুখস্থ, দ্বারস্থ, অস্ত, কণ্ঠস্থ, গ্রস্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো ঘোড়া
  2. কালো বরফ
  3. খেলাঘর
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• "কালো ঘোড়া" লেখক ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৮১ সালে পশ্চিম জার্মানির সিনডেল ফিঙেন শহরে বসে তিনি এই উপন্যাসটি রচনা করেন এবং এটি বাংলাদেশের একটি নিবিড় গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ‘কালোঘোড়া’ মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। ১৯৭১ এর সেই জেগে ওঠার দিনে বাংলাদেশের একটি গ্রামে কেমন চেহারা নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন করে মুক্তিযুদ্ধ প্রভাবিত করেছিল গ্রামের প্রতিটি মানুষকে, কেমন করে মুক্তিযোদ্ধারা এসে আশ্রয় পায় এক বালকের কাছে, কেমন করে প্রাণ হারায় এব বোবা যুবতী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হোতা কেমন করে নিহত হয় মুক্তেোদ্ধাদের হাতে আর কেমন করেই বা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সেই বালক নিজের অজান্তে হয়ে ওঠে এক মহান মুক্তিযোদ্ধা, প্রাণের বিনিময়ে যে রক্ষা করতে চায় সহযোদ্ধাদের কে, এরকম অনেকগুলো বিষয়কে ‘কালোঘোড়া’ উপন্যাসে উপজীব্য করেছেন ইমদাদুল হক মিলন।

উৎস: 'কালো বরফ' ও "কালো ঘোড়া" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩.
'অপর্ণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ডাকঘর
  2. মুক্তধারা
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।

- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র রঘুপতি ও জয়সিংহের ভূমিকায় বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেন।

- উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনই বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে। নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রঘুপতি,
- জয়সিংহ,
- অপর্ণা,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য।

অন্যদিকে,
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অভিজিৎ, রণজিত, সুমন, অম্বা, বিভূতি।
• "প্রায়শ্চিত্ত" নাটকের চরিত্রগুলো: ধনঞ্জয়, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

-------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মিকী প্রতিভা,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
নিম্নের কত তারিখে অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  3. ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  4. ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি:
- ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর সদস্যদের মধ্যে প্রথম ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য ও কানাডা।
- এর পর দিন ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ জাতিসংঘের সদর দপ্তর এক অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ ফ্রান্স।
- এ নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের দেড় শ’র বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- এর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন ও মধ্য আমেরিকার দেশই বেশি।
- ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে এ পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি।

সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৫.
যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন' কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৮৮৩ সালে
  2. ১৮৮৫ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
ব্যাখ্যা

• ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধিবদ্ধভাবে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৮৮৩ সালে।
- The Pendleton Civil Service Reform Act-1883 এর মাধ্যমে।
- ১৯৭৮ সালে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশনে সংস্কার করে একে তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এগুলো হলো:
- অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট
- দ্য মেরিট সিস্টেম প্রোটেকশন বোর্ড
- দ্য ফেডারেল লেবার রিলেশন অথরিটি।

উৎস: অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট।

১৬.
‘জাপাদ-২০২৫’ নামক সামরিক মহড়া চালিয়েছে -
  1. রাশিয়া ও চীন
  2. জাপান ও ভারত
  3. চীন ও পাকিস্তান
  4. রাশিয়া ও বেলারুশ
ব্যাখ্যা

• জাপাদ-২০২৫:
- জাপাদ-২০২৫ হলো রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া।
- এই মহড়া ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শুরু হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শেষ হয়।
- এই মহড়ায় প্রায় ১ লাখ সেনা অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ভারী অস্ত্র, বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং প্যারাট্রুপারদের সমন্বয়ে ব্যাপক সামরিক কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৩টি দেশের প্রতিনিধিরা মহড়া দেখতে বেলারুশে উপস্থিত ছিলেন।
- মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি প্রদর্শন।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৭.
ন্যায় দর্শন মতে অনুমান পদ্ধতির মেরুদণ্ড বলা হয় কোনটিকে?
  1. প্রত্যক্ষণ
  2. আশ্রয়বাক্যকে
  3. সিদ্ধান্তকে
  4. ব্যাপ্তিকে
ব্যাখ্যা

ন্যায়দর্শন মতে অনুমানের দুইটি ভিত্তি যথা, (১) পক্ষে হেতুর প্রত্যক্ষ এবং (২) সাধ্য ও হেতুর ব্যতিক্রমহীন (Invariable) নিয়ত (Universal) সম্পর্ক-জ্ঞান; সাধ্য ও হেতুর ব্যতিক্রমহীন নিয়ত সম্পর্ককে নৈয়ায়িক পারিভাষিক অর্থে ব্যাপ্তি বলা হয়। এই 'ব্যাপ্তি' ন্যায়দর্শনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কারণ, এই ব্যাপ্তিই অনুমান-পদ্ধতির মূল ভিত্তি। এই ব্যাপ্তিকে অনুমান-পদ্ধতির মেরুদন্ড বলা যায়।

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১৮.
শ্রী অরবিন্দের দর্শনের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?
  1. ইহজগতেই দিব্যজীবন প্রতিষ্ঠা
  2. পরকালে দিব্যজীবন প্রতিষ্ঠা
  3. মোক্ষ লাভ
  4. ইন্দ্রিয় বাসনার পূর্ণতা
ব্যাখ্যা

, জীবনসাধনার লক্ষ্য ক্রমশ ওপরের দিকে ওঠা। বিবর্তন প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর বুকে জড়ের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হতে হতে সৃষ্টি হয়েছে মানুষ। মানুষের স্বকীয়তা নিহিত মনে; আর এই মনসম্পন্ন ব্যক্তিকেই বিবর্তিত হতে হবে অতিমানসিক ব্যক্তিতে। বিবর্তন প্রক্রিয়ায় এ মানুষই রূপান্তরিত হয় অতিমানবে। সত্তা ক্রমশ ওপরের দিকে অগ্রসর হয়ে চলেছে দিব্যজীবনের(Divine Life) চূড়ান্ত উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। অরবিন্দের দর্শনের মূখ্য বিষয় পৃথিবীতেই দিব্যজীবন দর্শন।

Source: বাঙালির দর্শন - আমিনুল ইসলাম

১৯.
পৃথিবীর সর্বপ্রথম দার্শনিক স্কুল বলতে কোনটিকে বুঝানো হয়?
  1. স্কলাস্টিক স্কুল
  2. সোফিস্ট স্কুল
  3. স্টোয়িক স্কুল
  4. মাইলেসিয়ান স্কুল
ব্যাখ্যা

২০.
আমাদের মনের বিভিন্ন ধারণার সাথে যোগ-বিয়োগের ফলে যে ধারণার উৎপত্তি হয়- দেকার্ত সেই ধারণাকে কি নামে অভিহিত করেছে?
  1. কৃত্রিম ধারণা
  2. সহজাত ধারণা
  3. আগন্তুক ধারণা
  4. ইন্দ্রিয়জ
ব্যাখ্যা

ডেকার্টের মতে, আমাদের কতকগুলো সহজাত ধারণা(innate ideas) আছে। ঈশ্বর আমাদের জন্মের সময়ই এগুলোকে আমাদের মনে গেঁথে দেন। সমস্ত কিছুর জ্ঞানই এ সমস্ত ধারণা থেকে গাণিতিক অবরোহ পদ্ধতিতেও লাভ করা যায়। এ জাতীয় বুদ্ধিবাদকে পলসন গাণিতিক বুদ্ধিবাদ নামে অভিহিত করেন। এ সমস্ত ধারণা হচ্ছে, অসীমতা, নিত্যতা, পূর্ণসত্তা বা ঈশ্বর। ডেকার্টের মতে, সুস্পষ্টতা এবং প্রাঞ্জলতা এসব ধারণার সত্যতা প্রমাণ করে, এগুলো মৌলিক ও স্বতঃসিদ্ধ।স্পষ্টতা ও প্রাঞ্জলতা ধারণার সত্যতা প্রমাণ করে।

এ ছাড়াও আরও দুরকমের ধারণা আছে—আগন্তুক এবং কৃত্রিম। যেসব ধারণা বাইরে থেকে আমাদের মনে আসে সেগুলোকে বলে আগন্তুক ধারণা। আমাদের মনের বিভিন্ন ধারণার সাথে যোগ-বিয়োগের ফলে যে ধারণার উৎপত্তি হয় সেগুলো হলো কৃত্রিম। এ উভয় রকমের ধারণাগুলো স্পষ্ট ও উজ্জ্বল নয়। কাজেই এরা নিশ্চিত জ্ঞানের উৎস নয়। অপর দিকে, সহজাত ধারণা নিশ্চিত জ্ঞানের উৎস।

Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

২১.
Philosophy- শব্দের অর্থ কি?
  1. জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ
  2. সত্য সন্ধান
  3. সত্যের প্রতি অনুরাগ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

ইংরেজি ‘Philosophy’ এবং ‘Philosopher' শব্দ দুটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো ‘দর্শন’ ও ‘দার্শনিক’। গ্রীক দার্শনিক পীথাগোরাস সর্বপ্রথম ‘Philosophy' শব্দের ব্যবহার করেন।‘Philosophy' শব্দটি গ্রীক শব্দ ‘Philos’ এবং ‘Sophia’ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ‘Philos' শব্দের ইংরেজি অর্থ ‘Loving’ এবং বাংলা মানে ‘অনুরাগ’। ‘Sophia' শব্দের ইংরেজি অর্থ ‘knowledge' এবং বাংলা মানে ‘জ্ঞান’। কাজেই ‘Philosophy' শব্দের ধাতুগত অর্থ হয় ‘জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ'। আবার এর অর্থ ‘সত্যের প্রতি অনুরাগ' ‘জ্ঞান-সন্ধান' ‘সত্য-সন্ধান' ইত্যাদিও করা হয়। কাজেই ‘Philosopher' বলতে আমরা বুঝি সে ব্যক্তিকে যিনি জ্ঞানের প্রতি অনুরাগী বা সত্যের প্রতি অনুরাগী; যিনি জ্ঞান-সন্ধানী বা সত্য-সন্ধানী।

Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

২২.
জ্ঞানবিদ্যার( Epistemology) আলোচ্য বিষয় কি?
  1. জ্ঞানের উৎস
  2. জ্ঞানের শর্তসমূহ
  3. জ্ঞানের সীমা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

জ্ঞান বলতে মূলত একটি সত্য বিশ্বাস কে বুঝায় যা যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ এবং দৃঢ় যুক্তির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। একটি সংজ্ঞার মাধ্যমে আসলে জ্ঞান এর যথার্থ উপলব্ধি সম্ভব নয়, এজন্য জ্ঞানের উৎপত্তি, স্বরূপ, শর্ত, সীমা আলোচনা করা প্রয়োজন। এই আলোচনাগুলোই মূলত জ্ঞানবিদ্যায়(Epistemology) হয়ে থাকে।

“Epistemology is the theory of knowledge, it enquires into the origin of knowledge and the conditions of its validity also into the nature of knowledge.

Source : Introduction to philosophy by Jadunath Sinha

২৩.
বার্ট্রান্ড রাসেল তার কোন বইটিতে পারমানবিক যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেন?
  1. Region and Science
  2. Power: a new social analysis
  3. Has Man A Future?
  4. The Scientific Outlook
ব্যাখ্যা

Works of Bertrand Russell :
1.Power: A New Social Analysis
2. Marriage And Morals
3. The Scientific Outlook
4. Religion And Science
5. Has Man A Future? (An Inquiry into the Dangers of Nuclear War)

source: Britannica

২৪.
"Logic is the science of thought- যুক্তিবদ্যা চিন্তার বিজ্ঞান " - কে বলেছেন?
  1. যোসেফ
  2. মিল
  3. বেন্থাম
  4. বেইন
ব্যাখ্যা

২৫.
যৌক্তিক দৃষ্টবাদীরা কোন ধারার দার্শনিক?
  1. ভাববাদী
  2. অতীন্দ্রিয়তাবাদী
  3. অভিজ্ঞতাবাদী
  4. বুদ্ধিবাদী
ব্যাখ্যা

আধুনিককালে ব্রিটিশ দার্শনিক জন লক্ অভিজ্ঞতাবাদের জনক। তারপর বার্কলি ও শেষে হিউম অভিজ্ঞতাবাদের একটা সম্পূর্ণ এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। জে. এস. মিল, বেইন প্রমুখ দার্শনিক হিউমের উত্তরসূরী। সাম্প্রতিককালের যৌক্তিক দৃষ্টবাদীদেরকে(Logical positivist) এ দলভুক্ত করা যেতে পারে।
Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

২৬.
"Concepts without percepts are empty and percepts without concept are blind"“ - quoted by?
  1. David Hume
  2. John Locke
  3. Immanuel Kant
  4. Rene Descartes
ব্যাখ্যা

কান্ট বলেন, প্রত্যেক জ্ঞানেরই কোনো বস্তু এবং আকার আছে। কোনো জ্ঞানই কেবল বস্তু দিয়ে অথবা কেবল আকার দিয়ে গঠিত হতে পারে না। তিনি বলেন,
"Concepts without percepts are empty and percepts without concept are blind"“বিষয়বস্তু ছাড়া আকার শূন্যগর্ভ, আবার আকার ছাড়া বস্তু অন্ধ।”
আকার যেন এক প্রকারের ছাঁচ যাতে বস্তু দিলে বস্তু পূর্ণ আকার নিয়ে বের হয়। অন্ধ লোক যেমন কোনো আলো দেখতে পারে না তেমনি কেবল বিষয়বস্তু জ্ঞানরূপ আলো দিতে পারে না, যদি না তা আকার পায় ৷

Source: কান্টের দর্শন - সৈয়দ কমরুদ্দীন হোসাইন

২৭.
নিচের কোনটি দর্শন ও বিজ্ঞান এর পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঠিক নয়?
  1. দর্শন ও বিজ্ঞান উভয়েই জীবন ও জগতের রহস্য উদঘাটন করে
  2. দর্শন ও বিজ্ঞান উভয়েই সত্যের অন্বেষণ করে
  3. দর্শন ও বিজ্ঞানের পদ্ধতি একই
  4. দর্শন ও বিজ্ঞান এক অপরের পরিপূরক
ব্যাখ্যা

দর্শন ও বিজ্ঞান এর বৈসাদৃশ্য :

১. পদ্ধতিগত পার্থক্য : বিজ্ঞান এর পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও আরোহ। দর্শনের পদ্ধতি বুদ্ধিবৃত্তির সাহায্যে বিচার-বিশ্লেষণ

২. বিজ্ঞান কিছু মৌলিক নিয়মকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে নেয়, দর্শন সেগুলো বিশ্লেষণে তৎপর হয়

৩. দর্শনের পরিসর বিজ্ঞান এর তুলনায় অধিকতর ব্যাপক।

৪. বিজ্ঞান অতীন্দ্রিয় বিষয়ের আলোচনা করেনা,দর্শন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও ইন্দ্রিয়াতীত দুটো বিষয়েই আলোচনা করে।

৫. বিজ্ঞান শুধু ঘটনা(fact) বিশ্লেষণ করে,তার মূল্য নির্ধারণ বা নৈতিকতা যাচাই করে না, দর্শন তা করে।

Source : দর্শনের সমস্যাবলী - মোহাম্মদ নূরনবী

২৮.
"যদি বৃষ্টি থামে তাহলে আমরা বাইরে যাবো" - এটি কোন প্রকারের যুক্তিবাক্য?
  1. নিরপেক্ষ যুক্তিবাক্য
  2. প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য
  3. বৈকল্পিক যুক্তিবাক্য
  4. শর্তহীন যুক্তিবাক্য
ব্যাখ্যা

২৯.
"সকল মানুষ হয় মরণশীল,
সকল ছাত্র হয় মানুষ,
সকল ছাত্র হয় মরণশীল । - যুক্তিটিতে মধ্যপদ কোনটি?
  1. ছাত্র
  2. মরণশীল
  3. মানুষ
  4. হয়
ব্যাখ্যা

মধ্যপদ: যে পদ সহানুমানের উভয় আশ্রয়বাক্যে ব্যবহৃত হয় কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না সে পদটিকে মধ্যপদ বলে। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল,

সকল ছাত্র হয় মানুষ,

সকল ছাত্র হয় মরণশীল ।

সহানুমানের উক্ত যুক্তিতে 'মানুষ' পদটি হলো মধ্যপদ । কেননা পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যেই আছে কিন্তু সিদ্ধান্তে নেই ।

Source : উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা (১ম পত্র)

৩০.
ডেভিড হিউম তার কোন গ্রন্থে অভিজ্ঞতাবাদের আলোচনা করেন?
  1. An Enquiry concerning the principles of morals
  2. A Treatise of Human Nature
  3. Dialogues Concerning Natural Religion
  4. An Essay Concerning Human Understanding
ব্যাখ্যা

ডেভিড হিউম (১৭১১ খ্রি.–১৭৭৬ খ্রি.) একজন চরমপন্থী অভিজ্ঞতাবাদী। তিনি তাঁর 'A Treatise of Human Nature' নামক গ্রন্থে অভিজ্ঞতাবাদের আলোচনা করেন।ভল্‌ফে যেমন আমরা দেখেছি বুদ্ধিবাদের চরম পরিণতি তেমনি হিউমের মাঝেও আমরা দেখি অভিজ্ঞতাবাদের চরম পরিণতি এবং তার থেকে উদ্ভূত সংশয়বাদ। হিউম দ্রব্য, আত্মা ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতায় এসব জানা যায় না। কাজেই এরা আছে কি নেই কিছুই বলা যায় না।

Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

৩১.
জ্ঞানের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ, "স্বজ্ঞাবাদের( Intuitionism)" প্রধান সমর্থক কে?
  1. বেকন
  2. কান্ট
  3. ভলফ
  4. বার্গসঁ
ব্যাখ্যা

বিচার-বুদ্ধি ছাড়া সোজাসুজি কোন বস্তুকে প্রত্যক্ষ করার ক্ষমতার নাম স্বজ্ঞা বা বোধি। বস্তু-সত্তার জ্ঞান এ বোধির সাহায্যে সম্ভব। এ মতবাদের প্রধান সমর্থক ফরাসি দার্শনিক হেনরী বার্গস (১৮৫৯ খ্রি. — ১৯৪১ খ্রি.)। অবশ্য ব্রিটিশ দার্শনিক ব্রাড্‌লিও চরম তত্ত্বের সঠিক জ্ঞানের জন্য স্বজ্ঞাকেই সমর্থন করেছেন।

বার্গস মনে করেন, বুদ্ধি সত্তার স্বরূপকে বিকৃত করে, বুদ্ধি সত্তার আসল রূপকে আমাদের সামনে উপস্থিত করতে পারে না। বস্তুর প্রকাশমান রূপটিকে বুদ্ধি অবলোকন করতে পারে। বুদ্ধি বস্তুজগতের দ্বারেই ঘুরে বেড়ায় এবং ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। স্বজ্ঞার সাহায্যেই আমরা বস্তুর ভেতরে প্রবেশ করতে পারি, বস্তুর সাথে একাত্ম হয়ে যেতে পারি।বার্গস স্বজ্ঞার স্বরূপকে “বুদ্ধিসঞ্জাত সহানুভূতি” রূপে আখ্যা দিয়েছেন।

Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

৩২.
বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদের প্রবর্তক কে?
  1. হিউম
  2. কান্ট
  3. লক
  4. রাসেল
ব্যাখ্যা

বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদ বা প্রতীকবাদ(Scientific Realism or Representationism)

ব্রিটিশ দার্শনিক জন লক, লৌকিক বাস্তববাদের দোষ-ত্রুটিমুক্ত বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদের বা প্রতীকবাদের প্রবর্তন করেন। তিনি বলেন, বস্তুর গুণগুলোকে আমরা মুখ্য ও গৌণ এ দু'ভাগে ভাগ করতে পারি। কতকগুলো গুণ বস্তুতেই থাকে; তাদেরকে তিনি বলেছেন মুখ্য গুণ। আবার ব্যক্তিগত বা জ্ঞানগত, এগুলোকে তিনি গৌণ গুণই বলেছেন। বস্তুর আয়তন, সংখ্যা, ঘনত্ব বিস্তৃতি, গতি প্রভৃতি মুখ্য গুণ। রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ প্রভৃতি গৌণ গুণগুলো একান্তভাবেই ব্যক্তিনির্ভর বা জ্ঞাননির্ভর।

Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

৩৩.
নব্য বাস্তববাদ অনুযায়ী নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. বহির্জগতের বস্তুগুলোকে সরাসরি মন দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায়।
  2. নব্য বাস্তববাদ, লৌকিক বাস্তববাদেই প্রত্যাগমন
  3. নব্য বাস্তববাদ জড় এবং মনের দ্বৈততাকে স্বীকার করে
  4. পরব্রহ্মের ধারণা অলীক কল্পনা মাত্র।
ব্যাখ্যা

১৯১২ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার কয়েকজন দার্শনিক “The Neo-realism” 'নব্য বাস্তববাদ' প্রকাশ করেন। নব্য বাস্তববাদ লৌকিক বাস্তববাদেই প্রত্যাগমন। এ মতবাদের বিশেষ বিষয়গুলো নিম্নে দেওয়া হলো—

প্রথমত, বহির্জগতের বস্তুগুলোকে সোজাসুজি মন দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায়। এদেরকে ধারণার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা যায় না, ধারণাগুলো বস্তুর প্রতিকৃতি বা প্রতীক নয়। তাঁরা ডেকার্টে এবং লকের প্রতীক প্রত্যক্ষণকে অস্বীকার করেন। তাঁরা জ্ঞানের দ্বৈতবাদ স্বীকার করেন না।

দ্বিতীয়ত, মুখ্য, গৌণ এবং সুন্দর-অসুন্দরের গুণগুলো সত্য, মনাতিরিক্ত ও বস্তুনির্ভর। এরা ব্যক্তিমনের ধারণা নয়। সুতরাং নব্য বাস্তববাদ লৌকিক বা সরল বাস্তববাদের সাথে একমত।

তৃতীয়ত, নব্য বাস্তববাদ আত্মগত এবং বস্তুগত উভয় প্রকার ভাববাদকেই অস্বীকার করে।

চতুর্থত, নব্য বাস্তববাদ জড় এবং মনের দ্বৈততাকে অস্বীকার করে নিরপেক্ষ একাত্মতাবাদ প্রচার করে।

পঞ্চমত, তাঁরা মনে করেন, এ জগৎ কোনো পরব্রহ্ম বা পরমাত্মার প্রকাশ নয়। পরব্রহ্মের ধারণাও অলীক পরব্রহ্মের ধারণা অলীক কল্পনা মাত্র।

source : দর্শনের সমস্যাবলী - মোহাম্মদ নূরনবী

৩৪.
জড়বাদ অনুসারে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. জড়বাদীরা শক্তির নিত্যতা নিয়মে বিশ্বাসী
  2. জড়বাদীরা সৃজনমূলক বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী
  3. জড়বাদ অনুসারে জীবন বা প্রাণের উদ্ভব জড় থেকে সম্ভব নয়
  4. জড়বাদ অনুযায়ী ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে
ব্যাখ্যা

জড়বাদীদের মূল বক্তব্যগুলোকে নিম্নে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা গেল:

প্রথমত, জড়বাদীরা প্রত্যক্ষণকেই একমাত্র প্রমাণ বলে মেনে নেন।

দ্বিতীয়ত, জড়ের কাজ যান্ত্রিকভাবেই সম্পন্ন হয়। জড়বাদীরা জগতের মূলে কোনো উদ্দেশ্য ও জগতের মধ্যে কোনো আদর্শকে স্বীকার করেন না।

তৃতীয়ত, জড়বাদীরা শক্তির নিত্যতা নিয়মে বিশ্বাসী। জগতের বস্তুগুলোর কোনো (গুণগত পার্থক্য নেই। তাদের কেবল রূপগত ও পরিমাণগত পার্থক্য আছে।

চতুর্থত, জীবন বা প্রাণের উদ্ভব জড় থেকেই। জড়ের সঙ্গে জীবনের কোনো গুণগত পার্থক্য নেই। জড়ের জীবকোষ তুলনায় প্রাণ জটিল।

পঞ্চমত, মন বা চৈতন্য জড় থেকেই উদ্ভূত। মস্তিষ্কের কোন স্বাধীন চেতনা-প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব নেই। জড়ই প্রকৃত বস্তু। চৈতন্য মস্তিকের কোষের অনবরত ঘর্ষণজনিত ফল মাত্র।

ষষ্ঠত, জড়বাদীরা যান্ত্রিক বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেন। জড় থেকে জগৎ ও প্রাণের উদ্ভব। জীবদেহ একটি জটিল যন্ত্রবিশেষ। প্রাণ-শক্তি জড়শক্তির ভিন্ন রূপ। মন বা চৈতন্য জড়েরই উপবস্তু।

সপ্তমত, জড়বাদ অনুযায়ী ইচ্ছার স্বাধীনতা নেই। কেননা, আমাদের ইচ্ছা জাগতিক নিয়ম দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত জড়বাদীরা ইচ্ছার নয়। পূর্ববর্তী ঘটনাই কোনো কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং ব্যক্তি-ইচ্ছা স্বাধীন নয়।

Source : দর্শনের সমস্যাবলী - মোহাম্মদ নূরনবী

৩৫.
"On the origin of species" - গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ল্যাপ্লাস
  2. ডারউইন
  3. ল্যামার্ক
  4. ভাইজম্যান
ব্যাখ্যা

১৮৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ইংল্যান্ডের "বীগল” জাহাজে চড়ে চার্লস ডারউইন আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী দ্বীপপুঞ্জ ও উপকূলবর্তী দেশগুলো ভ্রমণ করেন। তাঁর এ ভ্রমণের বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল সব জায়গায় উদ্ভিদ ও পশু আলোড়ন সৃষ্টি করে। পাখির প্রকৃতি ও জীবনযাত্রা গবেষণা করা। এ গবেষণার ফল হিসাবে ইংরেজি ১৮৫৯ সালে ডারউইনের যুগান্তকারী "On the Origin of Species” নামক গ্রন্থখানি প্রকাশিত হয়। তারপর আরও প্রায় একযুগ পরে তাঁর বৈপ্লবিক গ্রন্থ 'The Descent of Man'" প্রকাশিত হয়।

Source : ব্রিটানিকা

৩৬.
সক্রেটিসের বিরুদ্ধে তৎকালীন এথেন্সের শাসকগোষ্ঠীর অভিযোগ কি ছিলো?
  1. যুবকদের পথভ্রষ্ট করা
  2. জাতীয় দেব-দেবীকে অস্বীকার
  3. নিজস্ব দেবদেবী সৃষ্টি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

সক্রেটিসের বিরুদ্ধে তৎকালীন এথেন্সের শাসকগোষ্ঠীর অভিযোগগুলো ছিলো:
যুবকদের পথভ্রষ্ট করা,
জাতীয় দেব-দেবীকে অস্বীকার করা
নিজস্ব দেবদেবী সৃষ্টি প্রভৃতি

Source : পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিবৃত্ত - আব্দুল হাই তালুকদার

৩৭.
প্রকৃত আরোহ কত প্রকার?




ব্যাখ্যা

প্রকৃত আরোহ বা যথার্থ আরোহ : যে সকল আরোহে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ আরোহমূলক লম্ফ বা অনির্দেশ যাত্রা উপস্থিত সেগুলোকে তিনি ‘প্রকৃত আরোহ' বলেছেন।

প্রকৃত আরোহকে তিনি তিন ভাগে ভাগ করেছেন। যথা :

(ক) বৈজ্ঞানিক আরোহ (Scientific Induction): প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নীতির ভিত্তিতে পরিবেশের কিছু বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হলে তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে

(খ) অবৈজ্ঞানিক আরোহ (Unscientific Induction): জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন কোনো বিষয় সম্পর্কে যা সত্য বলে জানা গেছে তা যদি সমজাতীয় সকল বিষয় সম্পর্কে সত্য হয়,তাহলে সেই সত্যের ভিত্তিতে একটি সাার্বিক সত্যবাক্য প্রতিষ্ঠার প্রতিক্রিয়াই অবৈজ্ঞানিক আরোহ

(গ) সাদৃশ্যানুমান বা উপমানুমান (Analogy): যে আরোহ অনুমানে দুই বা ততোধিক বস্তু বা শ্রেণির মধ্যে এক বা একাধিক বিষয়ে সাদৃশ্য আছে দেখে অন্য বিষয়েও সাদৃশ্য আছে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে সাদৃশ্যানুমান বলে

Source : উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা (১ম পত্র)

৩৮.
“বস্তুত প্রাণ হলো গতি, জড় হলো বিপরীত গতি।”- কার অভিমত?
  1. হেনরি বার্গসঁ
  2. লয়েড মর্গান
  3. স্যামুয়েল আলেকজান্ডার
  4. পলসন
ব্যাখ্যা

বার্গসঁ বলেন, বিবর্তন প্রক্রিয়া সৃজনমূলক। নতুন নতুন জিনিস সৃষ্টি করাই এই প্রক্রিয়ার ধর্ম। বার্গস হেরাক্লিটাসের ন্যায় বলেন, গতিই একমাত্র জগতের মূল বৈশিষ্ট্য। জগৎ জুড়ে এক বিরাট পরিবর্তনের স্রোত প্রবাহিত হয়ে চলেছে। এখানে কিছুই নিত্য নয়। এ গতিকে তিনি আবার প্রাণ-প্রবাহ(Elan Vital) বলে ভেবেছেন। অনাদি অনন্ত প্রাণ-প্রবাহ বিশ্বের চরম তত্ত্ব। এ প্রাণ-প্রবাহের একমাত্র কাজ প্রতিনিয়ত নতুন বস্তু সৃষ্টি করা। চলার পথে নতুন জিনিস অহরহ সৃষ্টি করে চলে। এ নতুন সৃষ্টির সঞ্চয়ে প্রাণ-প্রবাহ পূর্ণ ও বেগবান হয়ে ওঠে। প্রাণ-প্রবাহ কখনও থামে না। উন্মত্ত উধাও হয়ে প্রাণ-প্রবাহ ছুটে চলে। এ প্রাণ-প্রবাহকে কখনও আবার তিনি কাল-প্রবাহ বলে ভেবেছেন। এ কাল-প্রবাহে কোনো অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ বলে ভাগ নেই। এরা অবিচ্ছিন্ন তিনটি তরঙ্গবিশেষ। অতীত তরঙ্গ বর্তমানের মধ্যে মিশে গিয়ে বর্তমানকে ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করে। এ ত্রি-তরঙ্গের মধ্যে কোনো বিচ্ছেদ নেই। বিচ্ছেদহীন কাল-প্রবাহ নতুন সৃষ্টির উন্মাদনায় অন্ধভাবে ছুটে চলেছে।

“বস্তুত প্রাণ হলো গতি, জড় হলো বিপরীত গতি।”

"In reality life is a movement, materiality is the inverse movement."--Bergson

Source : দর্শনের সমস্যাবলী- মোহাম্মদ নূরনবী

৩৯.
ইচ্ছার স্বাধীনতাকে নীতিবোধের ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. মিল
  2. জন লক
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. বেন্থাম
ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত দার্শনিক এবং নীতিবিদ কাণ্টের মতে ইচ্ছার স্বাধীনতাই নীতিবোধের ভিত্তি। নৈতিক বিচারের ক্ষেত্রে ঔচিত্যবোধ আছে। কিন্তু সামর্থ্য না থাকলে ঔচিত্যবোধের কোনো প্রশ্ন ওঠে না। ‘তোমার করা উচিত, তার মানেই তুমি করতে পার” – (Thou oughtest means thou can).-Kant এ হলো কাণ্টের বিখ্যাত উক্তি। ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে বলেই কর্তব্য, দায়িত্ব, ন্যায়, অন্যায়, গৌরব, অগৌরব, পাপ-পুণ্য—এগুলোর অর্থ আছে ; নতুবা এগুলো অর্থহীন শব্দমাত্র। নৈতিক আদর্শ ইচ্ছার স্বাধীনতা ছাড়া অর্থহীন। মেকেন্‌জী (Mackenzie) বলেন, “নৈতিক আদর্শের যদি কোনো অর্থ থাকে তাহলে ইচ্ছা সম্পূর্ণভাবে পারিপার্শ্বিক অবস্থার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে কিন্তু কোনো না কোনো অর্থে তাকে স্বাধীন হতেই হবে। ”

Source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী

৪০.
আত্মা সম্পর্কে অভিজ্ঞতাবাদী মতের সমর্থক নন কে?
  1. প্লেটো
  2. ডেভিড হিউম
  3. উইলিয়াম জেমস
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

যে সমস্ত দার্শনিক আত্মা সম্মন্ধে অভিজ্ঞতামূলক মতবাদ পোষণ করেন তাদের মধ্যে ডেভিড হিউম, জন স্টুয়ার্ট মিল ও উইলিয়াম জেম্‌স প্রমুখ প্রধান। চরম সন্দেহবাদী দার্শনিক হিউম হচ্ছেন আত্মা সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা- বাদী ব্যাখ্যার জনক।
অন্যদিকে প্লেটো আত্মার অধ্যাত্মবাদে বিশ্বাসী।

Source : দর্শনের সমস্যাবলী- মোহাম্মদ নূরনবী

৪১.
দেহ ও মনের সম্পর্ক বিষয়ক মতবাদ "ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াবাদ" অনুসারে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. এটি একটি দ্বৈতবাদী তত্ত্ব
  2. মন একটা জড়ীয় দ্রব্য
  3. দেহ অচেতন দ্রব্য, যার সারসত্তা বিস্তৃতি
  4. দেহ নিষ্ক্রিয় এবং যান্ত্রিক নিয়মের অধীন
ব্যাখ্যা

ফরাসী দার্শনিক দেকার্ত-এর (Descartes) (১৫৯৬-১৬৫০) দেহ ও মনসম্পৰ্কীয় তত্ত্বটি হচ্ছে একটি উল্লেখযোগ্য দ্বৈতবাদী তত্ত্ব। তিনি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ ও মনের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় ব্যাখ্যায় প্রথমে দেহ ও মনের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেন । ‘মন একটা আধ্যাত্মিক দ্রব্য' – একথা বলে দেকার্ত মন ও দেহের মধ্যে একটা স্পষ্ট পার্থক্য নিরূপণ করেন । দেকার্তের মতে, প্রকৃতির দিক থেকে দেহ ও মন দুটি স্বতন্ত্র ও পরস্পর-বিরোধী সত্তা বা দ্রব্য । দেহ অচেতন জড় দ্রব্য, যার সারসত্তা বিস্তৃতি এবং মন চেতন দ্রব্য, যার সারসত্তা চেতনা। অর্থাৎ দেহ জড় এবং মন অজড় বা অশরীরী। দেহ নিষ্ক্রিয় এবং যান্ত্রিক নিয়মের অধীন। মন সক্রিয় এবং উদ্দেশ্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

৪২.
"মৃত্যুর পর আত্মা অন্য জগতে প্রস্থান করে, যে জগতে প্রশ্ন উপস্থাপন করার জন্য কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় না" - কে বলেছেন?
  1. সক্রেটিস
  2. প্লেটো
  3. এরিস্টটল
  4. প্রোটাগোরাস
ব্যাখ্যা

প্লেটো ( খ্রিস্ট পূর্ব ৪২৭-৩৪৭ ) তাঁর 'এপোলজি' (Apology) নামক সংলাপে সক্রেটিসের পরকালের ধারণা ও আত্মার অমরত্ব সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা থেকে বুঝা যায় যে, সক্রেটিস এগুলো সম্পর্কে বিশেষ স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেন নি, তবে তিনি বলেন যে, মৃত্যুর পর আত্মা অন্য জগতে প্রস্থান করে, যে পরজগতে প্রশ্ন উপস্থাপন করার জন্য কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় না। এদিক থেকে মনে করা হয় যে,সক্রেটিস আত্মার অমরত্বে বিশ্বাস করেন।

Source : Apology by Plato

৪৩.
মার্টিনিউ আত্মার অমরত্বের যুক্তির আলোচনায় কত প্রকারের ভবিষ্যৎবাণীর উল্লেখ করেন?




ব্যাখ্যা

মার্টিনিউ ( Martineau ) নৈতিক যুক্তির দিক থেকেও আত্মার অমরতার সপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি তাঁর 'স্টাডি অব রেলিজিয়ান' ( Study of Religion ) গ্রন্থে আত্মার অমরত্বের সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন যে, মানবাত্মার গঠনের আসল প্রকৃতি থেকে বেশ কতকগুলো ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, আত্মা অমর । এই ভবিষ্যদ্বাণী বা ইঙ্গিতগুলোকে তিনি তিন ভাগে ভাগ করেছেন, যেমন, বুদ্ধির ভবিষ্যদ্বাণী' ( Vaticinations of intellect), 'বিবেকের ভবিষ্যদ্বাণী' ( Vaticinations of conscience ) এবং ‘উদ্বেগের ভবিষ্যদ্বাণী' ( Vaticinations of suspense )

Source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী

৪৪.
দার্শনিক লোটজার মতে মূল্য..................
  1. বিষয়ীগত
  2. বিষয়গত
  3. সার্বজনীন
  4. (ক) ও (খ) উভয়ই
ব্যাখ্যা

দার্শনিক লোটজার মতে, মূল্য প্রকৃতপক্ষে আমাদের পরিতৃপ্তির অনুভূতির সাথে জড়িত। যা কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতিকে পরিতৃপ্ত করে, তা-ই আমাদের কাছে মূল্যবান। একটি বস্তু আমাদের যে আনন্দ দেয় তাই হলো তার মূল্য। আনন্দ দানের ক্ষমতা দেখেই আমরা বস্তুর মূল্য নিরূপণ করি। আনন্দের অনুভূতি ব্যক্তিগত ব্যাপার। অতএব, ব্যক্তি আনন্দের সাথে জড়িত মূল্যও ব্যক্তিগত ব্যাপার।

Source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী

৪৫.
"গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম, "সুন্দর"
সুন্দর হলো সে" - রবীন্দ্রনাথের এই পঙক্তির মাধ্যমে মূল্যের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
  1. Neutrality (নিরপেক্ষতা)
  2. Objectivity (বিষয়গত দিক)
  3. Universality (সর্বজনীনতা)
  4. Subjectivity (বিষয়ীগত দিক)
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "আমি" কবিতার দুটি চরণ "গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম, "সুন্দর"
সুন্দর হলো সে" - এর মাধ্যমে ব্যাক্তি মনের উপরে মূল্য তথা সৌন্দর্য এর নির্ভরশীলতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বুঝানো হয়েছে যে, গোলাপের মাঝে সৌন্দর্য নেই, আমি সুন্দর রূপে অবলোকন করছি বলেই তা সুন্দর।

Source : দর্শনের ভূমিকা - নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী

৪৬.
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক পিথাগোরাসের জগতের মূল সত্তা কি?
  1. পানি
  2. আগুন
  3. সীমাহীন
  4. সংখ্যা

ব্যাখ্যা

৪৭.
সত্যতা সম্পর্কিত অনুরূপতাবাদ মতবাদের প্রধান সমর্থক কে?
  1. হেগেল
  2. দেকার্ত
  3. রাসেল
  4. জেমস
ব্যাখ্যা

অনুরূপতাবাদের প্রধান সমর্থক বার্ট্রান্ড রাসেল
। Theory. In the case of probable opinions. *রাসেলের এ মতবাদ তাঁর The Problems of Philosophy নামক গ্রন্থে পাওয়া যায়।

Source : The problems of philosophy by Bertrand Russell

৪৮.
"Truth is the outcome of definite and controlled investigation" - who said this?
  1. Hegel
  2. Russell
  3. James
  4. Dewey
ব্যাখ্যা

প্রয়োগবাদী জন ডিউইও বলেন যে, সত্যতা স্বতঃপ্রতীতির বিষয় নয়। সত্যতা সুনির্দিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিত অনুসন্ধানেরই ফল। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ফলকেই সত্যতা বলা হয়। কোনো ধারণা সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিলেই সত্যতা সুনির্দিষ্ট ও আমরা ধারণার বস্তুর স্বরূপ সম্পর্কে সন্দেহ করি এবং সন্দেহের অবসান হলে ধারণাটিকে সুনিয়ন্ত্রিত অনুসন্ধানের সত্য বলে গ্রহণ করি। সুতরাং ধারণার সত্যতা এর পরীক্ষার সাফল্যের ওপরই নির্ভর করে। সা-রে-গা-মার শব্দ শুনে আমরা বল্‌লাম পাশের বাড়ির কোনো মেয়ে গান শিখছে। অনুসন্ধানের মাধ্যমে মেয়েটিকে গান শিখতে দেখামাত্র আমরা ধারণাটিকে সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য। এখানে আমাদের সন্দেহ নিরসনের ফলে সত্য উৎপন্ন হলো ।
"Truth is the outcome of definite and controlled investigation"

Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

৪৯.
ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে বিশ্বতত্ত্ব বিষয়ক প্রমাণ( Cosmological proof) প্রদান করেন কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. হেন্ডারসন
  3. আনসেলম
  4. ফ্লিন্ট
ব্যাখ্যা

বিশ্বতত্ত্ব বিষয়ক বা আদি কারণ বিষয়ক প্রমাণ( The Cosmological or Causal Proof)

ড. ফ্লিন্ট (Dr. Flint) ঈশ্বরের অস্তিত্বের যে প্রমাণ দেন তার নাম হলো বিশ্বতত্ত্ব বিষয়ক প্রমাণ। আর ড. মার্টিনিউ (Dr. Martineau) যে প্রমাণ দেন তার নাম হলো আদিকারণ বিষয়ক প্রমাণ। এ প্রমাণ মূলত একই প্রমাণের দুই বিভিন্ন রূপ বা প্রকাশ মাত্র। উভয় প্রমাণই সর্বজনগৃহীত কার্যকারণ তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

source: দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী

৫০.
কোন মতবাদকে অমূর্ত একত্ববাদ হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. সর্বধরেশ্বরবাদ
  2. সর্বেশ্বরবাদ
  3. ঈশ্বরবাদ
  4. দ্বিঈশ্বরবাদ
ব্যাখ্যা

সর্বেশ্বরবাদকে অমূর্ত একত্ববাদ (Abstract Monism) বলেও অভিহিত করা হয়েছে। কারণ এ মতবাদ অনুসারে পরম সত্তাই একমাত্র সত্তা। জগতের বহুত্ব মিথ্যা বা অবভাস মাত্র। বহুত্বের কোনো আত্যন্তিক সত্যতা নেই। আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনে প্রখ্যাত দার্শনিক স্পিনোজা হলেন সর্বেশ্বরবাদের একজন প্রধান সমর্থক। তাঁর মতে, ঈশ্বরই একমাত্র দ্রব্য। এ দ্রব্যের অসংখ্য গুণের মাঝে দুটি গুণ হলো—চেতনা ও বিস্তৃতি।

source: দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

৫১.
দেহ ও মনের সম্পর্ক বিষয়ক কোন মতবাদকে "Double aspect theory" বলা হয়?
  1. Interactionism
  2. Pre-established Harmony theory
  3. Parallelism
  4. Occasionalism
ব্যাখ্যা

স্পিনোজার মতে, ঈশ্বরই একমাত্র দ্রব্য এই ঈশ্বরের অসংখ্য গুণ আছে। এই অসংখ্য গুণের মধ্যে আমরা মাত্র দুটো গুণই জানি। দেহ বা বিস্তৃতি ও মন বা চৈতন্য এই দুই গুণ। দেহ ও মন ঈশ্বরস্থিত দুই সমান্তরাল গুণ। দেহে যখন কোন পরিবর্তন ঘটে, তখন মনেও সেই পরিবর্তন দেখা যায় । আবার মনে যখন কোন পরিবর্তন হয়, তখন দেহেও তদনুরূপ পরিবর্তন ঘটে থাকে। ঈশ্বরের মধ্যে চিরকাল দেহ ও মন পাশাপাশি থাকে। ঈশ্বরই প্রকৃতি বা জগৎ। সুতরাং জগতে দেহ ও মন চিরকালই পাশাপাশি দেখা যায়। সমান্তরবাদ অনুসারে দেহ ও মন একই ঈশ্বরের দুই প্রকার। সেজন্য সমান্তরবাদকে কেউ কেউ দ্বিদিগবাদ, দ্বিপার্শ্ববাদও (double- aspect theory ) বলেন ।

Source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী

৫২.
জরথ্রুস্ট ধর্মমতে, আহরিমান হলেন......
  1. অকল্যাণের প্রতীক
  2. কল্যাণের প্রতীক
  3. কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়ের প্রতীক
  4. মহাবিশ্বের স্রষ্টা
ব্যাখ্যা

জরথ্রুস্ট ধর্মে, আহুরা মাজদা হলেন মহাবিশ্বের স্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী এবং ভালোর উৎস, অন্যদিকে আহরিমান (বা আংরা মাইনু) হলেন ধ্বংসাত্মক, অশুভ আত্মা ও অন্ধকারের প্রতীক। এই দুটি শক্তি মহাবিশ্বের ভালো ও মন্দের মধ্যে চলমান দ্বৈতবাদী সংগ্রামের প্রতীক, যেখানে অনুসারীরা আহুরা মাজদার অনুসরণ করে ভালো চিন্তা, কথা ও কর্মের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।
Source : Britannica

৫৩.
ঈশ্বর প্রয়োজন হলে জাগতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন - এটি কোন মতবাদের বক্তব্য?
  1. সর্বেশ্বরবাদ
  2. অতিবর্তী ঈশ্বরবাদ
  3. সর্বধরেশ্বরবাদ
  4. ঈশ্বরবাদ
ব্যাখ্যা

অতিবর্তী ঈশ্বরবাদ : অতিবর্তী ঈশ্বরবাদের মতে, ঈশ্বর জগৎ সৃষ্টি শেষ করেই জগৎকে পিছে ফেলে রেখে ষ-স্থানে ফিরে গেছেন। ঈশ্বর হলেন বিশ্বাতীত সত্তা। তিনি অতিবর্তী পুরুষ। তিনি জগৎকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। ফলে জগৎ আপন নিয়মেই চলছে। জাগতিক অমঙ্গল হচ্ছে জগতের স্বাধীনতার চরম মূল্য। অবশ্য জগতে কোনো সমস্যা বড় আকারে দেখা দিলে অথবা জগৎ সংসারে পাপের বাড়াবাড়ি হলে তিনি জগতের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেন। পাপীকে শাস্তি দিয়ে তিনি জগৎকে আবার সঠিক পথে পরিচালনা করেন।

source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

৫৪.
"A proved God is no God" - who said this?
  1. Soren Kierkegaard
  2. Friedrich Nietzsche
  3. Jean Paul Satre
  4. Karl Jaspers
ব্যাখ্যা

অস্তিত্ববাদী দার্শনিক কার্ল জাসপার্স এর মতে ঈশ্বর বস্তু নয় যে তাকে জানা যাবে, ঈশ্বর কে প্রমাণ করা যায়না। তিনি বলেন, A proved God is no God- ঈশ্বরকে প্রমাণ করার চেষ্টা করলে তাকে অপমান করা হয়।

Source : The chief current of contemporary philosophy by D.M Datta

৫৫.
নিচের কোনটি অস্তিবাদী দর্শনের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. এটি প্রচলিত পাশ্চাত্য দর্শনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ
  2. এই মত অনুসারে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা নেই
  3. এই মত অনুসারে অস্তিত্ব সারসত্তার পূর্বগামী
  4. মধ্যযুগীয় চার্চ ও ধর্মীয় কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহ এই দর্শন
ব্যাখ্যা

অস্তিত্ববাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

> প্রচলিত পাশ্চাত্য দর্শনের(বস্তুবাদ,ভাববাদ, দ্বান্দ্বিকবাদ...) বিরুদ্ধে, মধ্যযুগীয় চার্চ ও ধর্মীয় কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহ এই দর্শন।

>মানুষের ভাগ্যের নির্মাতা মানুষ নিজেই।ব্যাক্তি মানুষকে গুরুত্ব প্রদান। ইচ্ছার স্বাধীনতাকে স্বীকার।

> সত্তা(essence) এবং অস্তিত্বের(existence) মধ্যে পার্থক্য করে, অস্তিত্বকে সারসত্তার পূর্বগামী মনে করে।

Source : হেগলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম

৫৬.
হেগেলীয় দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার ধাপ নয় কোনটি?
  1. Thesis
  2. Prothesis
  3. Synthesis
  4. Antithesis
ব্যাখ্যা

দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির কাজই হলো পরস্পর বিরোধী ধারণগুলোর মধ্যে একটা ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। হেগেলের মতানুসারে দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপ রয়েছে যেমনঃ বাদ (Thesis), প্রতিবাদ (Antithesis) এবং সমন্বয় (Synthesis) । একে বলা হয় দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার ত্রয়ী (Triad)। হেগেলের মতে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি কেবল মাত্র চিন্তার পদ্ধতিই নয়, এটি সমস্ত জগতের পদ্ধতিও। তার মতে জড় জগৎ, ইতিহাস, জীবাণু, নীতি, ধর্ম সকল ক্ষেত্রেই ক্রমোন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটেছে এই দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির মাধ্যমে। বলা যায় দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিই জগতের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম কারণ। ইতিহাসে এ দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়া “হেগেলীয়ান দ্বান্দ্বিক” (Hegelian Dialetic) পদ্ধতি নামে সুপরিচিত।

Source: সমকালীন দর্শনের কয়েকটি ধারা - সৈয়দ কমরুদ্দীন হোসাইন

৫৭.
Who is the author of the book, "Being and Time"?
  1. Martin Hidegaar
  2. Gabriel Marcel
  3. Jean Paul Satre
  4. Soren Kierkegaard
ব্যাখ্যা

মার্টিন হিডেগার ( Martin Hidegar)

জার্মান হিডেগার অস্তিবাদী নাস্তিক ধারার একজন দার্শনিক। তার অস্তিত্ববাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জীবন সম্পর্কে গভীর হতাশাবোধ।

Notable works:

1. Being and Time

2. The origin of the work of art

3. Contributions to philosophy

4. Letter on Humanism

5. The question concerning technology

Source : Britannica

৫৮.
এফ সি এস শিলারের প্রয়োগবাদী চিন্তাধারা কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. Pragmatism
  2. Instrumentalism
  3. Studies in Humanism
  4. How to make our ideas clear
ব্যাখ্যা

চার্লস পার্সের লেখা 'হাউ টু মেক আওয়ার আইডিয়াজ ক্লিয়ার' (How to Make Our Ideas Clear), উইলিয়াম জেমসের 'প্র্যাগম্যাটিজম' (Pragmatism), জন ডিউঈ-র ‘ইন্সট্রোমেন্টালিজম' (Instrumentalism) এবং এফ. সি. এস. শীলার-এর ‘স্টাডিজ ইন হিউম্যানিজম' (Studies in Humanism) প্রয়োগবাদী চিন্তাধারার যথেষ্ট উন্নতি সাধন করে । ডিউঈ, মীড (Mead), ৰোড (Bode), স্টুয়ার্ট (Stuart), টাফট্স (Tufts), ক্যালেন (Kallen) প্রমুখ দার্শনিকদের দ্বারা সম্মিলিতভাবে লিখিত এবং ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত 'ক্রিয়েটিভ ইনটেলিজেন্স' (Creative Intelligence) নামক গ্রন্থটি প্রয়োগবাদী নীতির বিভিন্ন প্রয়োগ দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, গণিত, প্রাকৃতিক মনোবিজ্ঞান, নীতিবিদ্যা, অর্থনীতি, ' কলা, ধর্ম ইত্যাদি ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

Source: The chief current of contemporary philosophy by D.M Datta

৫৯.
মেরী কলকিন্স কোন ধারার নব্য ভাববাদী দার্শনিক?
  1. আমেরিকান
  2. ব্রিটিশ
  3. ইতালীয়
  4. কোনটিই নক্য
ব্যাখ্যা

নব্য ভাববাদীদের ৩ টি ধারা পরিলক্ষিত হয়। যথা:

১. ইতালিয় ধারা: বেনেডিটো ক্রোচে ও জিওভানি জেন্টাইল (Giovanni Gentile)

২. আমেরিকান ধারা : যোশিয়া রয়সে, মেরী কলকিন্স, প্রিঙ্গল প্যাটিনসন এবং হাউইসন।

৩. ব্রিটিশ ধারা : টি এইচ গ্রিন, এফ এইচ ব্রাডলি, ম্যাকটাগার্ড এবং বি. বোসাঙ্কে

Source : হেগলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম

৬০.
দার্শনিক কেয়ার্ড কোন গ্রন্থটিকে, ""The greatest think since Kant "- হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. Critique of practical reason
  2. Problems of philosophy
  3. Appearance and reality
  4. Essays on truth and reality
ব্যাখ্যা

নব্য হেগেলীয় ভাববাদী দার্শনিক এফ. এইচ. ব্র‍্যাডলি (১৮৪৬- ১৯২৪) :

Francis Herbert Bradley একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ দার্শনিক। তাকে Order of Merit উপাধিতে ভূষিত করা হয়, তিনিই প্রথম দার্শনিক যিনি এই ডিগ্রী লাভ করেন।

Notable works :

১. Ethical Studies

২. The principles of Logic

৩. Appearance and Reality (1893)

৪. Essays on Truth and Reality

তার রচিত Appearance and Reality (1893) দর্শন জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। কেয়ার্ড এই গ্রন্থকে "The greatest think since Kant - কান্টের পর দর্শনে সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে অভিহিত করেন।

source : হেগেলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম

৬১.
"Refutation of Idealism" শীর্ষক প্রবন্ধটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. Popular science monthly
  2. New age
  3. Mind
  4. New horizon
ব্যাখ্যা

জি ই মুর(G.E Moore) তাঁর Philosophical Essays' গ্রন্থে এবং স্যামুয়েল আলেকজাণ্ডার তাঁর Space, Time, Deity- তে নব্য বাস্তববাদ সম্বন্ধে যথেষ্ট আলোচনা করেন। ১৯০৩ সালে জি ই মুর 'Mind' পত্রিকায় 'ভাববাদ খণ্ডন' (Refutation of Idealism) নামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। রাসেলেও নব্য বাস্তববাদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন

Source: Stanford encyclopedia of philosophy

৬২.
"Three factor theory of perception "- কোন মতবাদের প্রতি নির্দেশ করে?
  1. Neo Idealism
  2. Neo Critical Realism
  3. Naive Realism
  4. None of the above
ব্যাখ্যা

নব্য বিচারমূলক বাস্তববাদ(Neo Critical Realism)

নব্য বাস্তববাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া স্বরূপ নব্য বিচারমূলক বাস্তববাদ আমেরিকাতেই জন্ম নেয়। এই মতের স্রষ্টারা হলেন : ডুরান্ট ড্রেক(Durant Drake), লাভজয়(Lovejoy), জেমস বিসেট প্র‍্যাট(James Bisset Prat), এ কে রজার্স (A. K. Rogers) , জর্জ সান্টায়ানা ( George Santayana), সেলার্স ( Sellers), এবং স্ট্রং(Strong)। এই সমস্ত দার্শনিক ১৯২০ সালে "The Essays in Critical Realism " নামে গ্রন্থ রচনা করেন। তাদের মতে প্রত্যক্ষণে বস্তুকে সরাসরি জানা যায় না। প্রত্যক্ষণের ৩ টি উপকরণ থাকতে হবে : মন, ইন্দ্রিয়োপাত্ত ও বহির্জগত। এই ত্রিশর্ত জ্ঞানীয় মতবাদকে Three factor theory of perception বলা হয়।

Source :
হেগলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম

৬৩.
Who introduced "Logical atomism" in philosophy?
  1. Rudolf Karnap
  2. Democritus
  3. G.E Moore
  4. Bertrand Russell
ব্যাখ্যা

Bertrand Russell introduced logical atomism, a philosophical theory that proposes the world can be broken down into its most fundamental, irreducible elements or "logical atoms". Although Russell introduced the theory and popularized the phrase in 1911, Ludwig Wittgenstein, his student and colleague, also developed a version of it, influencing its early 20th-century development within analytic philosophy.

Source : Britannica

৬৪.
বেনেডিতো ক্রোচে তার "The philosophy of spirit" গ্রন্থে অধ্যাত্ম জীবনের কার্যাবলিকে কত ভাগে ভাগ করেছেন?




ব্যাখ্যা

ক্রোচের দর্শনের সারকথা হলো স্বজ্ঞা বা অনুভূতি, মনই প্রধান শক্তি। ৪ প্রকার ক্রিয়ার মাধ্যমে মন প্রকাশ পেতে পারে, এদের অধ্যাত্ম বা মানসিক জীবনের ৪ স্তর বলা হয়। তার "The Philosophy of Spirit " গ্রন্থে এর উল্লেখ করেন: নন্দনতাত্ত্বিক(aesthetic), যৌক্তিক(Logical) অর্থনৈতিক(Economical) ও নৈতিক(Ethical)

ক্রোচে তার গ্রন্থে অধ্যাত্ম জীবনের কার্যাবলিকে ২ ভাগে ভাগ করেছেন। যথা:

১. তত্ত্বগত ক্রিয়া (Theoretical activity)

২. ব্যবহারিক ক্রিয়া ( Practical activity )

Source: হেগেলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম

৬৫.
"In fashioning ,I fashion man." - quoted by?
  1. Albert camus
  2. Jean Paul Satre
  3. Nietzsche
  4. Leo Tolstoy
ব্যাখ্যা

সার্তে স্বাধীনতাকে স্বেচ্ছাচারিতা হিসেবে ব্যবহার করেননি। মানুষ অফুরন্ত স্বাধীনতার অধিকারী হলেও ভাবাবেগ ও খেয়ালীপনার দোহাই দিয়ে স্বাধীনতার নামে সে যা খুশি তা করবে এরূপ ধারণা সার্ত্রে পোষণ করেন না। ওজর দিয়ে এরূপ কাজকে সমর্থন করা যায় না। মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি এর বিচার বিশ্লেষণ করেছেন। তাই এখানে তাঁর অস্তিত্ববাদ মানবতাবাদে রূপান্তরিত হয়েছে। ব্যক্তি নিজকে গড়ার সাথে সাথে সমগ্র মানবজাতিকে গড়ার প্রয়াস পায়। এ প্রসঙ্গে সার্তে বলেন, "In fashioning ,I fashion man." অর্থাৎ আমি নিজকে যেভাবে গড়ি, মানুষকে সেভাবেই গড়তে চাই। নিজকে গঠনের মধ্যে সমস্ত মানুষকে গঠনের একটি প্রতিচ্ছবি আমি দেখতে পাই।

Source: হেগলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম

৬৬.
গুহার রুপকের(Allegory of cave) ধারণা কার দর্শনে পাওয়া যায়?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. সক্রেটিস
  4. সোফিস্ট
ব্যাখ্যা

গুহার রূপকটি গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তাঁর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে প্রথম উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর রচনায় শিক্ষাবিস্তারের প্রভাব এবং মানব প্রকৃতির উপর এর অভাব ব্যাখ্যা করার জন্য এই রূপকটি ব্যবহার করেন।
উদ্দেশ্য:
প্লেটো এই রূপকটির মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে মানুষ কীভাবে প্রকৃত জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে যদি তারা কেবল নিজেদের ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর করে।
ব্যাখ্যা:
এই রূপকে, গুহার ভেতরের জগৎকে মানুষের বর্তমান জীবন এবং বাস্তবতাকে তাদের ব্যাখ্যার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে বাইরের জগৎ হল প্রকৃত বাস্তবতার প্রতীক।

Source : পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিবৃত্ত - আব্দুল হাই তালুকদার

৬৭.
"আমার জীবনদর্শন" - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আরজ আলী মাতুব্বর
  2. জিসি দেব
  3. আবুল হাশিম
  4. খান বাহাদুর আহছানউল্লা
ব্যাখ্যা

দেবের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট নয়টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২)(Idealism and Progress), আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ এ্যাপলিকেশন (১৯৫৮)(Idealism: A new defense and new application), আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭), এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩)(Aspiration of the common man), দি ফিলোসফি অব বিবেকানন্দ অ্যান্ড দি ফিউচার অব ম্যান (১৯৬৩), তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬), বুদ্ধ: দি হিউম্যানিস্ট (১৯৬৯)(Buddha: The humanist)। গ্রন্থগুলো তাঁর জীবিতকালেই প্রকাশিত হয়। দি প্যারাবুলস অব দি ইস্ট (১৯৮৪)(parables of the east) এবং মাই আমেরিকান এক্সপিরিয়েন্স (১৯৯৩)(My American experience) নামক গ্রন্থদুটি তাঁর মরণোত্তর প্রকাশনা।

Source : Britannica

৬৮.
বাস্তববাদের বাংলাদেশী প্রবক্তা কারা?
  1. আব্দুল মতীন
  2. ড. মফিজউদ্দিন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. (ক) ও (খ) উভয়ই
ব্যাখ্যা

বাঙালির দর্শনে শুধু ভাববাদ নয়, বাস্তববাদী চিন্তাও স্থান পেয়েছে। যাঁদের লেখায় বাস্তববাদের উপাদান পাওয়া যায় তাঁদের মধ্যে ড. মফিজউদ্দীন ও ড. আবদুল মতীন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাস্তববাদী দার্শনিক ড. মতীন দর্শনচর্চায় বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগের পক্ষপাতী।
Source: বাঙালির দর্শন - রামদুলাল রায়

৬৯.
সূফীদের মরমী জ্ঞান অর্জনের পথে সাধারণত কয়টি ধাপ রয়েছে?




ব্যাখ্যা

সূফীদের মরমী জ্ঞান অর্জনের পথ সাধারণত চারটি ধাপে বিভক্ত: শরীয়ত, তরিকত, মারেফত, এবং হাকিকত। শরীয়ত হলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন মেনে চলার মাধ্যমে প্রথম ধাপ, তরিকত হলো গুরু বা পীরের নির্দেশনায় আধ্যাত্মিক অনুশীলন, মারেফত হলো আল্লাহর জ্ঞান লাভ করা, এবং হাকিকত হলো চূড়ান্ত সত্য ও আল্লাহর সাথে একাত্ম হওয়া।

Source: মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম

৭০.
"যা আছে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেখ খণ্ডে" - এটি কোন ধারার দর্শনের প্রতি নির্দেশ করে?
  1. বৈষ্ণব দর্শন
  2. বাউল দর্শন
  3. সূফী দর্শন
  4. চার্বাক দর্শন
ব্যাখ্যা

বাউলদের মতে মানবদেহই সাধনার মূল ক্ষেত্র। দেহের সাধনার মধ্যে দিয়েই মরমী জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। তাই তারা বলেন, "যা আছে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেখ খণ্ডে"।

Source: বাঙালির দর্শন - আমিনুল ইসলাম

৭১.
"গাহি সাম্যের গান- মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান" - এই চরণ দুটি নজরুলের কোন ধারার জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি?
  1. বস্তুবাদী
  2. ভাববাদী
  3. মানবতাবাদী
  4. ভোগবাদী
ব্যাখ্যা

চরণ দুটি কাজী নজরুল ইসলামের 'মানুষ' কবিতার, এই কবিতায় নজরুলের সাম্যবাদ ও মানবতাবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক ও অভিন্ন হিসেবে দেখেছেন।

Source : বাংলাপিডিয়া

৭২.
কার্য উপযোগবাদের( Act Utilitarianism) এর সমর্থক কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. জি ই ম্যুর
  4. উপরিউক্ত সকলেই
ব্যাখ্যা

কার্য উপযোগবাদ বা অ্যাক্ট ইউটিলিটারিয়ানিজম হলো একটি নৈতিক তত্ত্ব, যেখানে একটি নির্দিষ্ট কাজকে তখনই নৈতিকভাবে সঠিক বলে মনে করা হয় যখন কাজটি সেই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সুখ বা আনন্দ সৃষ্টি করে। এটি উপযোগবাদের একটি শাখা, যা প্রতিটি পৃথক কাজের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে তার নৈতিকতা বিচার করে।
এই ধারণার প্রধান প্রবক্তা হলেন দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম। তিনি মনে করতেন, একটি কর্মের নৈতিকতা বিচার করতে হবে তার ফলাফলের ভিত্তিতে, যা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য আনন্দ ও যন্ত্রণার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করে।
পরবর্তীতে জি ই ম্যুর, জন স্টুয়ার্ট মিল এই তত্ত্বকে আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।

Source : সমকালীন নীতিবিদ্যার কয়েকটি ধারা- আব্দুল হামিদ

৭৩.
"অনুমান" নামক গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আব্দুল মতীন
  2. ড. মফিজউদ্দিন
  3. আরজ আলী মাতুব্বর
  4. জিসি দেব
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন। তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি: সত্যের সন্ধান (১৯৭৩), সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭), অনুমান (১৯৮৩), মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি। তাঁর বেশ কিছু অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি সম্প্রতি আরজ আলী মাতুববর রচনাবলি নামে প্রকাশিত হয়েছে।

বাঙালির দর্শন - রামদুলাল রায়

৭৪.
নিচের কোন দার্শনিক ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক সংগঠন, তমদ্দুন মজলিসের সভাপতি ছিলেন?
  1. আরজ আলী মাতুব্বর
  2. জিসি দেব
  3. খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ
  4. দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
ব্যাখ্যা

দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ(১৯০৮-১৯৯৯): একজন শিক্ষাবিদ, দার্শনিক, লেখক, জাতীয় অধ্যপক। ১৯০৮ সালের ১ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলায় তাঁর জন্ম।মোহাম্মদ আজরফ ছিলেন ভাষা আন্দোলনের একজন দৃঢ় সমর্থক।তিনি ১৯৪৯ সালে তমদ্দুন মজলিসের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং আজীবন ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন।

তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ দর্শন সমিতির সভাপতি ছিলেন।তিনি পাকিস্তান দর্শন কংগ্রেসেরও একজন সক্রিয় সদস্য এবং কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে তমদ্দুনের বিকাশ, ইসলাম ও মানবতাবাদ, মরমী কবি হাসন রাজা, ধর্ম ও দর্শন ইত্যাদি।

source : বাঙালির দর্শন - রামদুলাল রায়

৭৫.
এরিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যায় যৌক্তিক চিন্তার মূলসূত্র কয়টি?




ব্যাখ্যা

৭৬.
প্লেটো কোন ক্ষেত্রে আত্মহত্যাকে সমর্থন করেছেন?
  1. আত্মার মুক্তি লাভের উপায় হিসেবে
  2. অন্যের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য
  3. চরম দুঃখ-দুর্দশা থেকে নিষ্কৃতির উপায় হিসাবে
  4. ধারণার জগতে গমনের উপায় হিসেবে
ব্যাখ্যা

প্রাচীন এথেন্সের আইনে আত্মহত্যাকে অমানবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রাচীন যুগের দার্শনিকগণ এটিকে সম্পূর্ণ মন্দ কাজ বলে প্রত্যাখান করতেন না। মহামতি প্লেটো সক্রেটিস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন যে, সক্রেটিস মনে করতেন যে মানুষ দেবতার সম্পদ এবং তাই মানুষের আত্মহত্যা করা উচিত নয়। কারণ তাতে দেবতাগণ রুষ্ট হন এবং মানুষের ওপর অভিশাপ দেন । প্লেটো চরম দুঃখ-দুর্দশা থেকে নিষ্কৃতির উপায় হিসাবে আত্মহত্যাকে সমর্থন করেছেন।

Source : প্রায়োগিক দর্শন - আব্দুল খালেক

৭৭.
"A crime is an act committed or omitted in violation of a public law that either forbids or commands it" - অপরাধের এই সংজ্ঞা প্রদান করেন কে?
  1. Blackstone
  2. Gladstone
  3. Winston Churchill
  4. Aristotle
ব্যাখ্যা

অপরাধের উপর্যুক্ত সংজ্ঞাটি Blackstone কর্তৃক প্রদত্ত।

৭৮.
"Pleasure is the beginning and the end of living happily" - is the main principle of which theory?
  1. Epicureanism
  2. Stoicism
  3. Narcissism
  4. None of the above
ব্যাখ্যা

The phrase "pleasure is the beginning and the end of living happily" is a key concept from the philosophy of Epicurus, who defined pleasure not as sensual indulgence, but as ataraxia (freedom from pain in the body and turmoil in the soul). For Epicurus, this state of tranquility is the highest good and the ultimate goal of a happy life.

Source : Stanford encyclopedia of philosophy

৭৯.
Who is the author of "Being and Nothingness"?
  1. Jean Paul Satre
  2. Martin Hidegaar
  3. Karl Jaspers
  4. Friedrich Nietzsche
ব্যাখ্যা

জ্যা পল সার্ত্রে (Jean Paul Satre, 1905-1980)
Notable works:
Philosophical Works:
1.Being and Nothingness (1943):
exploring existentialist themes of
consciousness, freedom, and the nature of being.
2.Existentialism is a Humanism
(1946): A lecture defending existentialism
against accusations of nihilism and promoting its humanist aspects.
3.The Transcendence of the Ego (1936):
An early work exploring the nature
of the self and consciousness.
4.Critique of Dialectical Reason (1960,
1985):A two-volume work exploring Marxism
and its relationship to existentialism.

Literary Works:
5. Nausea (1938): A novel exploring themes of
alienation, meaninglessness, and existence through the character of Antoine
Roquentin.
6. No Exit (1944): A play exploring existential themes of hell, human relationships, and self-deception.
7. The Flies (1943): A play based on the Greek myth of Orestes, exploring themes of freedom and responsibility.
8. The Roads to Freedom (trilogy): A series of novels exploring the lives of individuals in France before, during, and after World War II, including The Age of Reason, The Reprieve, and Troubled Sleep.
9. The Words (1963): An autobiography exploring Sartre's childhood and his relationship with literature.

Source : Britannica

৮০.
টম রেগান প্রাণীকুলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়টি নীতি অনুসরণের কথা বলেছেন?




ব্যাখ্যা

টম রেগান প্রাণীকুলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনটি নীতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করেছেন।

ক. বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রাণীর বংশবৃদ্ধি অবৈধ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

খ. ব্যবসায়িক লক্ষ্যে প্রাণী হত্যা, শিকার ও লালনপালন অন্যায়।

গ. ওষুধ ও রোগ পরীক্ষা বা অন্য কোন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পরীক্ষণাগারে প্রাণীর ব্যবহার করা অনুচিত।

source : প্রায়োগিক নীতিবিদ্যা- আব্দুল খালেক

৮১.
"দর্শন আকস্মিক কিছু নয় অলৌকিক কিছু নয় বরং অনিবার্য ও স্বাভাবিক" - কার উক্তি?
  1. পলসন
  2. পেরী
  3. কান্ট
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

প্রমাণ্য সংজ্ঞা:

“নিত্যের এবং বস্তুর স্বরূপের জ্ঞান লাভ করাই দর্শনের লক্ষ্য।”- প্লেটো

"দর্শন আকস্মিক কিছু নয় অলৌকিক কিছু নয় বরং অনিবার্য ও স্বাভাবিক" - দার্শনিক পেরী “দর্শন সমস্ত বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সমষ্টি”- পলসন

“দর্শন সাধারণ সত্যের সর্বোচ্চ ধাপের জ্ঞান”- হার্বার্ট স্পেনসার।

ইমানুয়েল কান্ট বলেন, “দর্শন হলো জ্ঞান সম্পর্কীয় বিজ্ঞান এবং তার সমালোচনা।”

ফিক্‌টে বলেন, “দর্শন হলো জ্ঞান-বিজ্ঞান।”

“দর্শন হলো ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী একটি অনধিকৃত প্রদেশ(No mans land)"------বার্ট্রান্ড রাসেল

“সকল মানুষ দার্শনিক, জীবন এবং এর প্রয়োজন থেকেই উৎপত্তি হয় দর্শনের”- কানিংহাম

৮২.
পিটার সিংগারের মতে গর্ভপাতকে হত্যা বলা যায়না যদি............
  1. সমাজ অনুমোদন দেয়
  2. গর্ভধারিণীর সম্মতি থাকে
  3. ভ্রূণ সচেতন না হয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

পিটার সিংগার তার Practical Ethics গ্রন্থে গর্ভপাত সংক্রান্ত আলোচনা করেন। ভ্রূণ সচেতন না হওয়া পর্যন্ত তিনি গর্ভপাতকে হত্যা বলতে নারাজ।

৮৩.
অ্যারিস্টটল তার কার্যকরণ তত্ত্বে কত প্রকার কারণের উল্লেখ করেছেন?




ব্যাখ্যা

অ্যারিস্টটল তার কার্যকরণ তত্ত্বে ৪ প্রকার কারণের উল্লেখ করেছেন:
১. উপাদান কারণ - এর দ্বারা জড়কে বুঝিয়েছেন।
২. নিমিত্ত কারণ - এটি একটি শক্তি যা জড়ের উপরে ক্রিয়া করে।
৩. আকারগত কারণ- এটি বস্তুর সারসত্তা যাকে ভাস্করের পরিকল্পনার সাথে তুলনা করা যায়।
৪. পরিণতি কারণ - এটি বস্তুটি নিজে অর্থাৎ বস্তুর সম্পূর্ণ সত্তা।

Source: পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিবৃত্ত - আব্দুল হাই তালুকদার

৮৪.
"The Social Contract " - is written by?
  1. Thomas Hobbes
  2. John Locke
  3. Jean Jacques Rousseau
  4. David Hume
ব্যাখ্যা

Jean-Jacques Rousseau's most famous and influential works are "The Social Contract" and "Emile, or On Education," both published in 1762, though his "Discourse on the Origin of Inequality" is also a highly significant and often-cited piece.

Source : Britannica

৮৫.
"আত্মহত্যা করা ঈশ্বরের সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপের নামান্তরমাত্র" - কার অভিমত?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. দেকার্ত
  4. লক
ব্যাখ্যা

আধুনিক যুগের প্রখ্যাত দার্শনিক জন লক আত্মহত্যা অনুমোদন না করে এটিকে অন্যায় কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে যদিও সমাজের প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতা রয়েছে এবং স্বাধীন মতামত প্রকাশের সমান অধিকার ও সুযোগ রয়েছে, তবুও তার আত্মহত্যা করার স্বাধীনতা নেই। তিনি আত্মহত্যাকারীকে অপরাধী, মানব জাতীর জন্য বিপজ্জনক এবং সমগ্র অস্তিত্বশীল প্রাণীর সঙ্গে প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষ ঈশ্বরের সৃষ্ট সম্পত্তি। তাই তারা স্বাধীন হলেও তাঁর সম্পত্তি বিধায় স্বাধীন ইচ্ছায় তাদের এ সম্পত্তি হস্তান্তরযোগ্য নয়। আত্মহত্যা করা ঈশ্বরের সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপের নামান্তরমাত্র।

source : প্রায়োগিক দর্শন - আব্দুল খালেক

৮৬.
নৈতিকতাকে পরিণতিমুক্ত ও পরিণতিমূলক মতবাদে শ্রেণিকরণ করেন কে?
  1. মিল
  2. সি. ডি ব্রড
  3. সিগউইক
  4. বেন্থাম
ব্যাখ্যা

পরিণতিমুক্ত ও পরিণতিমূলক মতবাদ ঃ সি.ডি.ব্রড নৈতিক মতবাদসমূহকে পরিণতিমুক্ত বা কর্তব্যবিষয়ক ও পরিণতিমূলক মতবাদ হিসেবে শ্রেণীকরণ করেন। কর্তব্যবিষয়ক মতবাদ মনে করে যে, একটা কাজের ফলাফলের উপর কাজটির ন্যায়ত্ব- অন্যায়ত্ব নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে স্বয়ং কাজটির উপর। পক্ষান্তরে, পরিণতিমূলক মতবাদ মনে করে যে, কাজের ন্যায়-অন্যায় নির্ভর করে কাজটির ফলাফলের উপর।

Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম

৮৭.
নিচের কোন নৈতিক মতবাদকে নব্য প্রকৃতিবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. নির্দেশবাদ
  2. আবেগবাদ
  3. বর্ণনাবাদ
  4. সবগুলোকেই
ব্যাখ্যা

বর্ণনাবাদী: এই মতবাদকে নব্য প্রকৃতিবাদও(neo naturalism) বলা হয়। এর সমর্থক ডেভিড হিউম, জে আর সার্ল(তার How to derive ought from is প্রবন্ধ), জি জে ওয়ারনক প্রমুখ।

source : সমকালীন নীতিবিদ্যার রূপরেখা - আব্দুল হামিদ

৮৮.
“প্রকৃতি মানুষকে সুখ ও দুঃখ এই দুই প্রভুর নিয়ন্ত্রণাধীন করে রেখেছে" - এটি কার অভিমত?
  1. মিল
  2. বেন্থাম
  3. রাশডাল
  4. জি ই ম্যুর
ব্যাখ্যা

মনস্তাত্বিক সুখবাদ( Psychological Hedonism)

মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ অনুসারে সুখই মানুষের একমাত্র কাম্যবস্তু। প্রত্যেক মানুষ সর্বদা সুখ অন্বেষণ করে এবং দুঃখ পরিহার করতে সচেষ্ট হয়। সুখই মানুষের কাজের একমাত্র প্রেরণা। আমরা কৌনো বস্তুকে তার নিজের জন্য কামনা করি না, বস্তুটি সুখ আনয়ন করে বলে বস্তুটি কামনা করি। অর্থাৎ সুখের আশায় আমরা কোনো বস্তু পেতে চাই, স্রেফ বস্তুটির জন্য নয়।সুতরাং এই মতবাদ অনুসারে নিরবচ্ছিন্ন সুখান্বেষণেই জীবনের লক্ষ্য ।

প্রাচীন সিরেনিক চিন্তাবিদরা (cyrenaics) এই মতের সমর্থক। বর্তমান যুগে হিউম, বেন্থাম, জে.এস. মিল, বেন প্রমুখ চিন্তাবিদ এই মতবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। বেন্থাম বলেন, “প্রকৃতি মানুষকে সুখ ও দুঃখ এই দুই প্রভুর নিয়ন্ত্রণাধীন করে রেখেছে। আমাদের কি করা উচিত এবং কি করব তা একমাত্র তারাই নিরূপণ করে থাকে।”

"Nature has placed mankind under the governance of two sovereign matters, pain and pleasure. It is then alone to point out what we ought to do as well as what we shall do." - বেন্থাম

Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম

৮৯.
মিল, সার্বিক সুখ কামনার মূলে যে আত্মনিয়ন্ত্রণের বা অন্তরের নিয়ন্ত্রণের (internal sanctions) কথা বলেছেন সেটি মূলত কি?
  1. কর্তব্য পালন না করার জন্য দুঃখের অনুভূতি
  2. ঈশ্বর ভীতি
  3. ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব
  4. মূল্যবোধের চর্চার পরিণতি
ব্যাখ্যা

মিল বলেন যে, আমাদের সার্বিক সুখ কামনার মূলে দ্বিবিধ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে - বহিনিয়ন্ত্রণ (external sanctions) এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ/অন্তর নিয়ন্ত্রণ (internal sanctions)। বেন্থাম চার প্রকারের বহিনিয়ন্ত্রণ স্বীকার করেছেন। যথা- প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ। মিলও এই চারটি বহিনিয়ন্ত্রণ স্বীকার করেছেন। যেহেতু এই নিয়ন্ত্রণসমূহ বাইরে থেকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাই এদের প্রভাবে আমরা যে কাজ করতে বাধ্য হই তার কোনো নৈতিক মূল্য থাকে না। এই কারণে মিল বহিনিয়ন্ত্রণের সাথে একটি অন্তরের নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। অন্তরের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে মিল বলেন যে, কর্তব্য পালন না করার জন্য আমাদের মনে যে দুঃখের অনুভূতি জাগে তা অন্তরের নিয়ন্ত্রণ।

Source :
নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম

৯০.
নৈয়ায়িকদের মতে হেত্বাভাস(Fallacy) কত প্রকার?




ব্যাখ্যা

হেত্বাভাস (Fallacies in Inference) :- ‘হেত্বাভাস' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করিলে আমরা দুইটি শব্দ পাই, যথা, হেতু এবং আভাস (হেতু+আভাস)। যে অনুমানের হেতু প্রকৃতপক্ষে হেতু নয়, হেতুর আভাস মাত্র (অর্থাৎ আসলে হেতু নয় হেতুর মত দেখায় মাত্র), সেই অনুমান ভ্রান্তিজনক এবং এই ভ্রান্তির নাম হেত্বাভাস । ইহা স্মরণ রাখা উচিত যে, ভারতীয় তর্কশাস্ত্রে যে সকল হেত্বাভাস বা অনুমান-সংক্রান্ত দোষ দেখা যায়, সবগুলিই বস্তুগত (Material), আকারগত (Formal) নয়। নৈয়ায়িকদের মতে হেত্বাভাস পাঁচ প্রকারের, যথা, (১) সব্যভিচার, (২) বিরুদ্ধ, (৩) সৎপ্রতিপক্ষ, (৪) অসিদ্ধ ও (৫) বাধিত ।

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

৯১.
প্লেটোর মতে আত্মার উপাদান কয়টি?




ব্যাখ্যা

প্লেটোর মতে, আত্মার ত্রিবিধ উপাদান আছে। যথা- প্রজ্ঞা(wisdom) বা বুদ্ধি, কামনা(desire) ও চেতনা (spirit) বা মন। প্রজ্ঞা বা বুদ্ধি আত্মার সার্বভৌম উপাদান; কামনা সংখ্যায় অনেক, এইগুলি বুদ্ধির আদেশে নিয়ন্ত্রিত। চেতনা বা মন কামনাসমূহের ক্ষেত্রে বুদ্ধির আদেশ কার্যকরি করে। এই ত্রিবিধ উপাদান যখন পরস্পর পূর্ণ সঙ্গতির সাথে ক্রিয়া করে তখন আত্মা সম্পূর্ণ সুস্থ, আর যখন এই উপাদানগুলি বিচ্ছিন্নভাবে ক্রিয়া করে তখন আত্মা অকল্যাণ। তাই প্লেটো মনে করেন যে, ন্যায় আত্মার কল্যাণ; আর অন্যায় আত্মার অকল্যাণ। ন্যায় হলো আত্মার বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক ঐক্য আর অন্যায় হলো আত্মার বিভিন্ন উপাদানসমূহের মধ্যে অনৈক্য।

Source : নীতিবিদ্যা - আব্দুল বারী

৯২.
"ন্যায়পরতা হচ্ছে কথা ও কাজে সততা" - ন্যায়পরতার এই সংজ্ঞায়ন কে করেন?
  1. থ্র‍্যাসিমেকাস
  2. পলিমার্কাস
  3. সিফালাস
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার এক ক্রান্তিকালে প্লেটোর “দি রিপাবলিক' (The Republic) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়, যার মুখ্য আলোচ্য বিষয় ছিল ন্যায়পরতা বলতে আমরা কি বুঝি এবং এই ন্যায়পরতাকে কিভাবে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিষ্ঠা করা যায়। সিফালাস,থ্র‍্যাসিমেকাস, পলিমার্কাস প্রমুখ আর সক্রেটিসের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে এবং এরপরে এ ব্যাপারে আলোচনা অগ্রসর হতে থাকে। সিফালাসের মতে, "ন্যায়পরতা হচ্ছে কথা ও কাজে সততা"

Cephalus: "Justice is telling the truth and paying one's debts"

পলিমার্কাসের মতে, "ন্যায়পরতা হচ্ছে বন্ধুর প্রতি বন্ধুত্ব, শুক্রর প্রতি শত্রুতা"

According to Polemarchus, justice can be defined as "doing good to friends and harm to enemies"

"Justice is to give to each what is owed to him"

থ্রেসিমেকাসের(Thrasymachus) মতে, "ন্যায়পরতা হচ্ছে শক্তিমানের স্বার্থ রক্ষা""(Justice is nothing other than the advantage of the stronger)

Source : The Republic by Plato

৯৩.
সক্রেটিসের মতে শাসক শ্রেণির প্রধান সদগুণ কি?
  1. সংযম
  2. সাহস
  3. মিতাচার
  4. প্রজ্ঞা
ব্যাখ্যা

তিনি ন্যায়পরতার সংজ্ঞা দেয়ার আগে রাষ্ট্রের নাগরিকদের শাসক, সৈনিক ও উৎপাদক, এই তিন শ্রেণীতে ভাগ করে প্রজ্ঞাকে(reason/wisdom) শাসকের প্রধান সদগুণ, সাহসকে(courage) সৈনিকদের প্রধান সদগুণ এবং সংযম বা মিতাচারকে(temperance) উৎপাদক শ্রেণীর প্রধান সদগুণ বলে অভিহিত করেন। এরপরে তিনি বলেন যে, ন্যায়পরতা এমন এক নীতি (principle), যার স্বরূপ রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতিটি শ্রেণী অপরের কাজে হস্তক্ষেপ না করে নিজ নিজ কর্তব্য কাজ সম্পাদন করার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ অপরের কাজে হস্তক্ষেপ না করে নিজ নিজ কাজ সম্পাদন করাই ন্যায়পরতা। অর্থাৎ তাঁর মতে, রাষ্ট্রের এই তিন শ্রেণীর নাগরিকদের সঙ্গতির মধ্যেই ন্যায়পরতা নিহিত।মূলত সক্রেটিসে সংলাপের মাধ্যমে প্লেটো তার নিজের বক্তব্যই তুলে ধরেছেন।

Source: The Republic by Plato

৯৪.
আল ফারাবী কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ইরান
  2. সিরিয়া
  3. তুরস্ক
  4. মরক্কো
ব্যাখ্যা

আল ফারাবী

আবু নছর মুহম্মদ অল- ফারাবী, ৮৭০ খ্রিস্টাব্দে তুরস্কের ফারাব শহরে তাঁর জন্ম হয়। মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যে সম্ভবত তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও একজন মৌলিক চিন্তাবিদ ছিলেন । অসাধারণ প্রতিভা ও পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি আবার পরবর্তী মুসলিম দার্শনিকদের শিক্ষক হিসেবেও আখ্যায়িত। বলা হয়ে থাকে যে, পৃথিবীর প্রধান প্রধান প্রায় ৭০টি ভাষায় তিনি কথা বলতে পারতেন। ৯৫০ খ্রিস্টাব্দে প্রায় ৮০ বছর বয়সে দামেস্কে আল-ফারাবী মৃত্যুবরণ করেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য : আল মাদিনাহ, তাহসীল- আল সায়াদাহ ইত্যাদি

Source: মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী

৯৫.
সাপেক্ষে সৃষ্টিতত্ত্ব( Conditional theory of creation) অনুসারে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. নিছক শূন্য থেকে জগতের সৃষ্টি হয়েছে।
  2. ঈশ্বর শিল্পীর মত উপাদান গ্রহণ করে তা সাহায্যে এ জগতের আকারে রূপ দেন
  3. ঈশ্বর ও জগতের উপাদান উভয়ে নিত্য
  4. ঈশ্বর জগতের উপাদান কারণ নন
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সৃষ্টি তত্ত্ব : সাপেক্ষ সৃষ্টি তত্ত্ব অনুসারে নিছক শূন্য থেকে শূন্যেরই সৃষ্টি হয় না। ঈশ্বর জগৎ সৃষ্টির ব্যাপারে নিছক শূন্য নয় বরং স্বতঃস্থিত উপাদানের আশ্রয় নেন। কেউ কেউ এ উপাদানকে ঈশ্বর স্বতঃস্থিত উপাদানের জড় বা আদিম উপকরণ বলে মনে করেন। ঈশ্বর শিল্পীর মত উপাদান গ্রহণ করে তা সাহায্যে এ জগতের আকারে রূপ দেন। ফলে এই সুন্দর জগতের সৃষ্টি হয়। কিন্তু ঈশ্বর জগতের উপাদান কারণ নন। তিনি জগতের উপাদান কারণের সৃষ্টিও করেন নি। ঈশ্বর ও জগতের উপাদান উভয়ে নিত্য, অথবা চিরস্থায়ী। ঈশ্বর কেবল জগতের নিমিত্ত কারণ। সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় জগতের উপাদান অত্যন্ত বিশৃঙ্খলভাবে ছিল। ঈশ্বর তাতে শৃঙ্খলা এনে এ সুন্দর জগতের সৃষ্টি করেন। সুতরাং জগৎ হলো স্বতঃস্থিত উপাদানের ঈশ্বরসৃষ্ট শৃঙ্খলাবিশেষ ।

source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী

৯৬.
আল ফারাবীর মতে আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি কি?
  1. ফেরেশতা
  2. মানবাত্মা
  3. আল্লাহর প্রতিকৃতি
  4. নভোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

ফারাবী উচ্চতম থেকে নিম্নতম সত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরকে ছয়টি শ্রেণীতে বিভক্ত করেন। তাঁর মতে, আল্লাহই আদি সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্তকাল থেকে অস্তিত্বশীল। এর পরের সত্তা হচ্ছে আল্লাহর প্রতিকৃতি (image)। এটি আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি এবং প্রথম সৃষ্ট চিদাত্মা (spirit)। অনন্তকাল থেকেই এটি আল্লাহ থেকে উৎসারিত ।
Source : মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী

৯৭.
জ্ঞানতাত্ত্বিক সমস্যার ক্ষেত্রে ইবনে রুশদ কয় ধরনের পদ্ধতির উল্লেখ করেছেন?




ব্যাখ্যা

জ্ঞানতাত্ত্বিক সমস্যার ক্ষেত্রে ইবনে রুশদ তিন ধরনের পদ্ধতির উল্লেখ করেছেন। যথা : (১) আলঙ্কারিক (rhetorical), (২) দ্বান্দ্বিক (dialectical) ও (৩) প্রমাণমূলক (demonstrative)। তাঁর মতে, আলঙ্কারিক পদ্ধতি সাধারণ মানুষের, দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি ধর্মতাত্ত্বিকদের এবং প্রমাণমূলক পদ্ধতি দার্শনিকদের পদ্ধতি বলে মনে করা যুক্তিযুক্ত। একইভাবে, তিনি কোরআনের তিন ধরনের ব্যাখ্যার নির্দেশ করেছেন। সাধারণ লোক কোরআনের আলঙ্কারিক অর্থ, ধর্মতত্ত্ববিদ কোরআনের দ্বান্দ্বিক ব্যাখ্যা এবং দার্শনিকগণ কোরআনের প্রমাণমূলক ব্যাখ্যা গ্রহণ করে থাকে ।

Source : মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম

৯৮.
"যা ব্যক্তিত্বকে সুদৃঢ় করে তাই ভাল এবং যা একে দুর্বল করে, তা-ই মন্দ" - কার অভিমত?
  1. ইবনে রুশদ
  2. আল্লামা ইকবাল
  3. শাহ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ইবনে সিনা
ব্যাখ্যা

আল্লামা ইকবালের খুদীতত্ত্ব অনুযায়ী, আমিত্ব বা অহংবোধ অর্জনের লক্ষ্যেই জীবনের সব কার্যকলাপ পরিচালিত হয়ে থাকে। অতএব, জগতে বসবাসকালে জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যক্তিত্ব অর্জন। এ কারণেই ইকবাল মনে করেন যে, "যা ব্যক্তিত্বকে সুদৃঢ় করে তাই ভাল এবং যা একে দুর্বল করে, তা-ই মন্দ।”

Source : মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী

৯৯.
বৌদ্ধদের প্রথম আর্যসত্য কোনটি?
  1. দুঃখ-নিবৃত্তির মার্গ আছে
  2. দুঃখের কারণ আছে
  3. দুঃখের নিবৃত্তি আছে
  4. দুঃখ আছে
ব্যাখ্যা

প্রথম আর্য-সত্য—দুঃখ আছে (The First Noble Truth — There is a Suffering) :

সবই দুঃখময়

রোগ জরা এবং মৃত্যুর দৃশ্য দেখিয়া বুদ্ধদেব উপলব্ধি করিয়াছিলেন যে, এই সংসারে সবই দুঃখময় (সর্বং দুঃখম্) । জন্ম, ব্যাধি, জরা, মরণ, শোক, উৎকণ্ঠা, আকাঙ্ক্ষা, প্রিয়- "বিয়োগ, অপ্রিয় সংযোগ সবই দুঃখের বিষয়বস্তু । এমন কি, যাহাকে মানুষ আপাত সুখের বিষয় মনে করে, তাহার মধ্যেও দুঃখের বীজ বীজ প্রচ্ছন্ন আছে। বুদ্ধদেব বলেন, জগৎ ও জীবন অনিত্য এবং যাহা অনিত্য তাহা দুঃখময় (যৎ অনিত্যম তৎ দুঃখম্)। বুদ্ধদেবের মতে সুখ ক্ষণস্থায়ী। তাই সুখের অবসান সুনিশ্চিত এই সুখের অবসানও দুঃখের কারণ। এমন কি, সুখাবসানের আশঙ্কা মানুষকে ভীত, ও হতাশ করিয়া তুলে। এই সকল কথা চিন্তা করিলে আপাত সুখকে দুঃখ বলিয়া প্রতিপন্ন হইবে।

Source : ভারতীয় দর্শন - অর্জুন বিকাশ

১০০.
আল গাজালীর দর্শন সম্পর্কে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. আল্লাহ স্বয়ং জগতকে বিশেষ এক সময়ে সৃষ্টি করেছেন
  2. অন্যান্য বস্তুর মতে দেশ-কাল আল্লাহর সৃষ্টি
  3. আল্লাহ শুধু সার্বিক সম্পর্কে অবহিত, বিশেষ সম্পর্কে অবহিত নন
  4. আল-গাজালী বলেন, মৃত্যুর পর আত্মার সাথে দেহের পুনরুত্থান ও পুনর্মিলন সম্ভব
ব্যাখ্যা

দার্শনিকদের মতে, আল্লাহ শুধু সার্বিক (universals) সম্পর্কে জানেন, বিশেষ (particulars) সম্পর্কে নয়। দার্শনিকদের এ মতের বিরোধিতা করে আল-গাজালী বলেন যে, আল্লাহ স্বেচ্ছায় জগতকে সৃষ্ট করেছেন, তিনি সৃষ্টির সমুদয় বস্তু সম্পর্কে অবহিত। তাঁর মতে, আল্লাহর ইচ্ছাই সবকিছুর কারণ এবং তাঁর অনন্ত জ্ঞানের মধ্যে প্রতিটি ছোট-খাট বস্তুর জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।আল্লাহ সার্বিক বিশেষ সম্পর্কে একইভাবে জ্ঞাত।

Source: তাহফাতুল ফালাসিফা - আল গাজালী

১০১.
অনিত্যবাদ বুঝানোর জন্য বুদ্ধদেব কোন উপমাটি দেন?
  1. অগ্নিশিখা
  2. নদীজলধারা
  3. কোনটিই নয়
  4. (ক) ও (খ) উভয়ই
ব্যাখ্যা

'সর্বব্যাপক পরিবর্তনবাদ ও অনিত্যতাবাদ' প্রতীত্য সমুৎপাদ হইতেই উদ্ভূত হইয়াছে । প্রতীত্য সমুৎপাদ অনুযায়ী সকল বস্তু বা ঘটনার কারণ আছে । সুতরাং কারণটির পরিবর্তন হইলে কার্যের আবির্ভাব হয় এবং কারণটি ধ্বংস হইলে কার্যটিও ধ্বংস হয়। বুদ্ধদেব বার বার বলিয়াছেন, 'সব কিছুই পরিবর্তনশীল, সব কিছুই ধ্বংসশীল এবং সব কিছুই অনিত্য (সর্বং অনিত্যম্) । তিনি আরও বলেন, যাহার আদি আছে, তাহার অন্তও আছে, যাহার জন্ম আছে তাহার মৃত্যুও আছে, যেখানে মিলন আছে সেখানে বিচ্ছেদও আছে । অক্ষম, চিরস্থায়ী বা নিত্য বলিয়া কিছুই নাই । আপাতদৃষ্টিতে কোন বস্তুকে চিরস্থায়ী মনে হইলেও আসলে তাহা চিরস্থায়ী নয়; তাহার বিনাশ হইবেই। এই অনিত্যতাবাদ বুঝাইবার জন্য বুদ্ধদেব দুইটি উপমা দিয়াছেন, যথা, “অগ্নিশিখা' এবং 'নদীজলধারা'। অগ্নিশিখা যেমন নিয়ত চঞ্চল, নদীজলধারা যেমন নিয়ত পরিবর্তনশীল, তেমনি জগতের সকল কিছুই অগ্নিশিখার মত চঞ্চল এবং নদীজলধারার মত পরিবর্তনশীল ।

Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১০২.
গৌতম বুদ্ধ আত্মাকে কি হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. সংবেদনের সমষ্টি
  2. জড় পদার্থের সমষ্টি
  3. চেতনার অবিরাম প্রবাহ
  4. (ক) ও (খ) উভয়ই
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব মানুষের মধ্যে শাশ্বত বা চিরন্তন আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করেন না। তাঁহার মতে জগতে সব কিছুই যখন অনিত্য তখন চিরন্তন আত্মার অস্তিত্ব বুদ্ধদেবের মতে কোন নিত্য বা চিরন্তন আত্মার থাকাও সম্ভব নয়। বুদ্ধদেবের মতে আত্মা বলিয়া কোন নিত্য বস্তু নাই ।বুদ্ধদেবের মতে মানুষের আত্মা হইল তাহার চেতনার অবিরাম প্রবাহ(Stream of Consciousness)। মানুষের মধ্যে সুখ-দুঃখ প্রভৃতি নানা রকমের অনুভূতি, চিন্তা ও ইচ্ছা অহরহ আসা-যাওয়া করিতেছে। এই সকল মানসিক প্রক্রিয়ার ধারা বা প্রবাহই আত্মা ।কাজেই দেখা যাইতেছে, বুদ্ধদেব আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন নাই । নিত্য বা শাশ্বত আত্মার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করিয়াছেন।

Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১০৩.
সাংখ্য মতে যথার্থ জ্ঞানের শর্ত নয় কোনটি?
  1. প্রমিত
  2. জ্ঞাতা
  3. জ্ঞেয়
  4. প্রমাণ
ব্যাখ্যা

যে-কোন যথার্থ জ্ঞানের তিনটি শর্ত আছে, যথা জ্ঞাতা বা প্রমাতা (Subject), জ্ঞেয় বা প্রমেয় (Object) এবং জ্ঞান লাভের উপায় বা প্রমাণ (Source of Knowledge) । সাংখ্য মতে পুরুষই একমাত্র জ্ঞাতা।

Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১০৪.
ন্যায়দর্শনের মূল গ্রন্থ "ন্যায়-সূত্র' কয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত?




ব্যাখ্যা

মহর্ষি গৌতমের 'ন্যায়-সূত্র' ন্যায়দর্শনের মূল গ্রন্থ। এই গ্রন্থটি 'পঞ্চ অধ্যায়ে’ বিভক্ত এবং প্রতিটি অধ্যায় আবার দুই খন্ডে (Section) বিভক্ত।

Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১০৫.
"সৃষ্টিতত্ত্ব ও বিবর্তনবাদ" দর্শনের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. Axiology
  2. Ontology
  3. Cosmology
  4. Epistemology
ব্যাখ্যা

বিশ্বতত্ত্ব (Cosmology) : বিশ্বতত্ত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘কসমলজি' শব্দটি গ্রিক শব্দ 'কসমস' ( kosmos ) থেকে উদ্ভূত হয়েছে। 'কসমস' শব্দটির অর্থ সুশৃঙ্খল বিশ্বজগত ( ordered universe )। দর্শনের এই শাখায় বিশ্বজগতের পরিদৃশ্যমান দিকের অনুসন্ধান করা হয়। দর্শনের এই শাখা রূপবিজ্ঞান বা জগত দর্শন নামেও আখ্যায়িত হয়ে থাকে। বিশ্বজগত, দেশ, কাল, জড়, প্রাণ, বিশ্বজগতের উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ, অর্থাৎ সৃষ্টি, বিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে এই শাখায় আলোচনা করা হয় ।

source: দর্শনের কথা- আব্দুল বারী

১০৬.
ন্যায়য়দর্শনে কোন প্রমাণের স্থান সর্বপ্রথমে?
  1. শব্দ
  2. অনুমান
  3. প্রত্যক্ষ
  4. উপমান
ব্যাখ্যা

ন্যায়য়দর্শনে 'প্রত্যক্ষের' স্থান সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রধান। নৈয়ায়িকগণের মতে প্রত্যক্ষ ভিন্ন কোন প্রমাণই 'সিদ্ধ' নহে। অনুমান, উপমান এবং শব্দ সবই প্রতাক্ষের উপর নির্ভরশীল; কোন কোন নৈয়ায়িকের মতে বিষয় এবং ইন্দ্রিয়ের সন্নিকর্ষ বা সংযোগের ফলে বিষয়ের যে নিশ্চিত এবং যথার্থ জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তাহাই প্রত্যক্ষ; যেমন, আমার সম্মুখস্থ টেবিলের সঙ্গে যখন আমার চক্ষুরূপ ইন্দ্রিয়ের সংযোগ ঘটে, তখন টেবিল সম্পর্কে আমার প্রত্যক্ষ জ্ঞান হয় এবং আমি সুনিশ্চিত যে, যে-বস্তুকে আমি প্রত্যক্ষ করিতেছি তাহা একটা টেবিল।

Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১০৭.
নৈয়ায়িকদের মতে অনুমান কত প্রকার?




ব্যাখ্যা

নৈয়ায়িকদের মতে অনুমান দুই প্রকারের। যথা, স্বার্থানুমান এবং পরার্থানুমান অনুমানকারীর নিজের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য যদি কোন অনুমান করা হয়, সেই অনুমানের নাম নৈয়ায়িকদের মতে স্বার্থানুমান; আর অপরের কাছে কিছু প্রমাণ করিবার জন্য যে অনুমান করা হয় তাহা পরার্থানুমান। স্বার্থানুমানের ক্ষেত্রে অনুমানটিকে বিস্তারিতভাবে ব্যক্ত করিবার কোন প্রয়োজন হয় না; কিন্তু পরার্থানুমানের ক্ষেত্রে অনুমানকে বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ করিবার প্রয়োজন আছে । তাই নৈয়ায়িকগণ একটি অনুমানকে পাঁচটি অবয়বের (বচনের) সাহায্যে ব্যক্ত করিয়াছেন । এইজন্য নৈয়ায়িকদের অনুমানকে পঞ্চ-অবয়বী ন্যায় (Five- membered syllogism) বলা হয় । এই অবয়বগুলির নাম হইল, (১) প্রতিজ্ঞা বা প্রমাণের বিষয়, (২) হেতু বা কারণ, (৩) উদাহরণ, (৪) উপনয় বা উদাহরণের প্রয়োগ এবং (৫) নিগমন বা সিদ্ধান্ত ।

Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১০৮.
বিবেকানন্দের দর্শনে প্রাচ্যের কোন দার্শনিকের প্রভাব দেখা যায়?
  1. গৌতম বুদ্ধ
  2. রামানুজ
  3. শংকর
  4. (ক) ও (গ) উভয়ই
ব্যাখ্যা

বিবেকানন্দের দর্শনে প্রাচ্যের দুজন দার্শনিকের প্রভাব লক্ষ করা যায়। এর একজন হলেন শংকর এবং অপরজন গৌতম বুদ্ধ। শংকরের, মায়াবাদের প্রভাব তাঁর দর্শনে পরিলক্ষিত হয়। বুদ্ধদেবের দর্শন দ্বারা পুরাপুরি প্রভাবিত না হলেও বিবেকানন্দ তাঁর বৈশ্বিক মানবতা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। বিবেকানন্দের ওপর শংকরের প্রভাব মূলত দর্শনগত; পক্ষান্তরে বুদ্ধের প্রভাব ছিল ব্যবহারগত । শংকরের কাছ থেকে তিনি বিশ্ব প্রপ্রঞ্চের স্বরূপ সম্পর্কিত জ্ঞানের সন্ধান পান। আর বুদ্ধের কাছ থেকে ইহ জীবনে মানুষের কতর্ব্য সম্পর্কিত ব্যবহারিক নির্দেশ পান। বিবেকানন্দের হৃদয় ছিল বুদ্ধের, আর মস্তিষ্ক শংকরের।”

Source: বাঙালির দর্শন - আমিনুল ইসলাম

১০৯.
কোন বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে "উত্তরদেশীয় বৌদ্ধমত" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. হীনযান সম্প্রদায়
  2. মহাযান সম্প্রদায়
  3. বৈভাষিক সম্প্রদায়
  4. সৌতান্ত্রিক সম্প্রদায়
ব্যাখ্যা

মহাযানপন্থীদের বিশ্বপ্রেম ও বিশ্বকল্যানই মূল লক্ষ্য। দার্শনিক তত্ত্বের দিক থেকে বিচারে এই সম্প্রদায়কে ভাববাদের সমর্থক বলা যায়। মাধ্যমিক ও যোগাচার দার্শনিক সম্প্রদায় মহাযান ধর্ম সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। তিব্বত, চীন, জাপান, কোরিয়া প্রভৃতি উত্তর দেশে মহাযান সম্প্রদায়ের বিস্তার হইয়াছিলো বলিয়া এই ধর্মমতকে "উত্তরদেশীয় বৌদ্ধমত" নামেও অভিহিত করা হয়। ইহাদের মতবাদ সংস্কৃত ভাষায় লিখিত।

Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১১০.
Peter Singer belongs to which country?
  1. Austria
  2. Australia
  3. Britain
  4. America
ব্যাখ্যা

১১১.
আল গাজালী কত খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১১১১
  2. ১০৫৮
  3. ১০১১
  4. ১২১১
ব্যাখ্যা

আল-গাজালী (১০৫৮-১১১১ খ্রিঃ)

ইসলামী চিন্তার জগতে আল-গাজালী ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মৌলিক চিন্তাবিদ। তাঁর পুরো নাম আবু হামিদ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ আল-গাজালী । তিনি সাধারণত একজন আশারীয় সম্প্রদায়ভুক্ত দার্শনিক বলে পরিচিত।

আল-গাজালী ১০৫৮ খ্রিস্টাব্দে পারস্য দেশীয় খোরাসানের অন্তর্গত তুস নগরীর নিকটবর্তী গাজালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । জন্মস্থান গাজালা থেকেই তিনি গাজালী নামে পরিচিত হন ।

Source : মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম

১১২.
ইবনে সিনার মতে যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কি?
  1. জাগতিক বিষয়াবলি
  2. মানসিক ধারণাসমূহ
  3. আধ্যাত্মিক বিষয়াবলি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

আল-নাজাত’ ও ‘আল-ইশরাত' গ্রন্থে যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে ইবনে সিনা তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, যুক্তিবিদ্যা দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। দর্শনের অন্য দু' শাখা হচ্ছে - পাদার্থবিদ্যা ও অধিবিদ্যা । এ প্রসঙ্গে ইবনে সিনা দর্শনের আলোচ্য বিষয় হিসেবে মানসিক, জাগতিক ও আধ্যাত্মিক এই তিন ধরনের অস্তিত্বের উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, যুক্তিবিদ্যা মানসিক, পদার্থ বিদ্যা জাগতিক এবং অধিবিদ্যা আধ্যাত্মিক অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করে । অর্থাৎ মানসিক ধারণাসমূহ যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় । অন্য ভাষায়, মনের বাইরে এদের কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই: তবে এরা বাস্তব সত্তার সাথে সম্পর্কিত। প্রসঙ্গত, গণিত ও যুক্তিবিদ্যার ন্যায় মানসিক ধারণা নিয়ে আলোচনা করে। তবে, এ দু'য়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গাণিতিক ধারণাবলীকে ইন্দ্রিয়-সংবেদনের সাহায্যে উপস্থাপন করা যায়; কিন্তু যুক্তিবিদ্যার ধারণাবলীকে কখনও ইন্দ্রিয়-অভিজ্ঞতার উপাত্ত হিসেবে প্রদর্শন করা যায় না।

Source : মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী

১১৩.
"দানেশ নামা" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আল গাজালী
  2. আল ফারাবী
  3. ইবনে রুশদ
  4. ইবনে সিনা
ব্যাখ্যা

ইবনে সিনা ছিলেন প্রায় শতাধিক গ্রন্থের প্রণেতা। আরবি ও ফারসি উভয় ভাষায় তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করে গেছেন । তাঁর প্রণীত গ্রন্থসমূহের মধ্যে ‘কিতাব আল-শিফা’, ‘কিতাব আল-নাজাত, “কানুন ফিতিব্ব, ‘দানেশ নামা' প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । চিকিৎসা-বিজ্ঞানের উপর রচিত 'কানুন ফিতিব্ব'' গ্রন্থটি ইবনে সিনার অমর কীর্তি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশ্বকোষ বা বাইবেল হিসেবে খ্যাত । বস্তুত, গ্রন্থটি ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে শতাব্দী সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

Source: মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী

১১৪.
“একটি সুখী শূকর হওয়ার চেয়ে অসুখী মানুষ হওয়া ভালো, একটি সুখী মূর্খ হওয়ার চেয়ে অসুখী সক্রেটিস হওয়া অনেক ভালো।”- কার উক্তি?
  1. রুশো
  2. প্লেটো
  3. বেন্থাম
  4. মিল
ব্যাখ্যা

মিল বলেন, “একটি সুখী শূকর হওয়ার চেয়ে অসুখী মানুষ হওয়া ভালো, একটি সুখী মূর্খ হওয়ার চেয়ে অসুখী সক্রেটিস হওয়া অনেক ভালো।”

"It is better to be a human being dissatisfied than a pig satisfied better to be a socrates dissatisfied than a food satisfied." - Mill: Utilitarianism

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মিল আত্মসুখের পরিবর্তে সর্বসাধারণের সুখ, সুখের পরিমাণগত ও গুণগত পার্থক্য এবং বহিনিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে অন্তরের নিয়ন্ত্রণকে নৈতিকতার মাপকাঠি হিসাবে স্বীকার করে সুখবাদের সংস্কার সাধন করেছেন।

Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম

১১৫.
"All knowledge is knowledge through concept" - who said this?
  1. Plato
  2. Aristotle
  3. Socrates
  4. Kant
ব্যাখ্যা

প্রাচীন বুদ্ধিবাদী দার্শনিকদের মধ্যে অন্যতম সক্রেটিস্ এবং প্লেটো। সক্রেটিস বলেন, বুদ্ধিই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়। তার মতে "All knowledge is knowledge through concept" সব জ্ঞানই আমরা সাধারণ ধারণার সাহায্যে পেয়ে থাকি। আর এ সাধারণ ধারণা আমরা বুদ্ধির সাহায্যেই গঠন করি। দার্শনিক প্লেটোর মতে, আত্মা হলো সক্রিয় এবং বুদ্ধি তার সহজাত ক্ষমতার সাহায্যে জ্ঞান লাভ করে। সংবেদন ও অনুভূতি আমাদেরকে যথার্থ জ্ঞান দিতে পারে না। এগুলোর সাহায্যে আমরা যে জ্ঞান পেয়ে থাকি তা অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল। জ্ঞান হতে হবে শাশ্বত ও সনাতন।

Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী