জড়বাদীদের মূল বক্তব্যগুলোকে নিম্নে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা গেল:
প্রথমত, জড়বাদীরা প্রত্যক্ষণকেই একমাত্র প্রমাণ বলে মেনে নেন।
দ্বিতীয়ত, জড়ের কাজ যান্ত্রিকভাবেই সম্পন্ন হয়। জড়বাদীরা জগতের মূলে কোনো উদ্দেশ্য ও জগতের মধ্যে কোনো আদর্শকে স্বীকার করেন না।
তৃতীয়ত, জড়বাদীরা শক্তির নিত্যতা নিয়মে বিশ্বাসী। জগতের বস্তুগুলোর কোনো (গুণগত পার্থক্য নেই। তাদের কেবল রূপগত ও পরিমাণগত পার্থক্য আছে।
চতুর্থত, জীবন বা প্রাণের উদ্ভব জড় থেকেই। জড়ের সঙ্গে জীবনের কোনো গুণগত পার্থক্য নেই। জড়ের জীবকোষ তুলনায় প্রাণ জটিল।
পঞ্চমত, মন বা চৈতন্য জড় থেকেই উদ্ভূত। মস্তিষ্কের কোন স্বাধীন চেতনা-প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব নেই। জড়ই প্রকৃত বস্তু। চৈতন্য মস্তিকের কোষের অনবরত ঘর্ষণজনিত ফল মাত্র।
ষষ্ঠত, জড়বাদীরা যান্ত্রিক বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেন। জড় থেকে জগৎ ও প্রাণের উদ্ভব। জীবদেহ একটি জটিল যন্ত্রবিশেষ। প্রাণ-শক্তি জড়শক্তির ভিন্ন রূপ। মন বা চৈতন্য জড়েরই উপবস্তু।
সপ্তমত, জড়বাদ অনুযায়ী ইচ্ছার স্বাধীনতা নেই। কেননা, আমাদের ইচ্ছা জাগতিক নিয়ম দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত জড়বাদীরা ইচ্ছার নয়। পূর্ববর্তী ঘটনাই কোনো কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং ব্যক্তি-ইচ্ছা স্বাধীন নয়।
Source : দর্শনের সমস্যাবলী - মোহাম্মদ নূরনবী