পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১৭ টপিক: বাচ্য, উক্তি ও যতিচিহ্ন - দ্বিরুক্ত শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ, বচন [লাইভ ক্লাস - ৩৩ ও ৩৪]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করলে কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. তৃতীয়া
  2. প্রথমা
  3. ষষ্ঠী
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
- ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে-
- কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং 
- ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।

যেমন-
(ক) তোমাকে হাঁটতে হবে। (ভাববাচ্য)
(ক) তুমি হাঁটবে। (কর্তৃবাচ্য)

(খ) এবার একটা গান করা হোক। (ভাববাচ্য)
(খ) এবার (তুমি) একটা গান কর। (কর্তৃবাচ্য)

(গ) তার যেন আসা হয়। (ভাববাচ্য) 
(গ) সে যেন আসে। (কর্তৃবাচ্য)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।” - পরোক্ষ উক্তিতে হবে-
  1. হামিদ বলল যে তোমরা পরদিন এসো।
  2. হামিদ তাদের বলল যে তারা যেন আগামীকাল আসে।
  3. হামিদ তাদের বলল যে তারা যেন পরদিন আসে।
  4. হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।
ব্যাখ্যা

উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়।
- প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়। 
- বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।”
পরোক্ষ উক্তি: হামিদ তাদের পরদিন আসতে (বা যেতে) বলল।

প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত না হলে কোন চিহ্ন বসে?
  1. কোলন (:)
  2. সেমিকোলন (;)
  3. কমা (,)
  4. কোলন ড্যাস (:-)
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন (;)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন (;)
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। সেমিকোলন চিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।যেমন:
১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয় (যেমন: ও, এবং, কিন্তু, অথবা) দ্বারা যুক্ত না হলে তাদের মাঝে সেমিকোলন (;) বসে।
যেমন:
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।
৩. যেসব অব্যয় বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে, তাদের আগে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই ভালো ফল করবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. টুং টুং
  2. ঠুকঠুক
  3. ঘর-টর
  4. পটাপট
সঠিক উত্তর:
ঘর-টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘর-টর
ব্যাখ্যা

শব্দদ্বিত্ব:
অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার-
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধনাত্মক দ্বিত্ব,
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। যেমন:
- অঙ্ক-টঙ্ক;
- আম-টাম,
- কেক-টেক;
- ঘর-টর;
- গরু-টরু;
- ছাগল- টাগল;
- আড়াআড়ি,
- খোজাখুজি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ।
- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
- যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
'কোথায় থাকা হয়?'- এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্যের 
  2. কর্তৃকর্মবাচ্যের
  3. কর্তৃবাচ্যের
  4. ভাববাচ্যের 
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্যের 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্যের 
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
 - কোথায় থাকা হয়?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিরুত্ব শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ভালো ভালো
  2. কত কত
  3. ঘুম ঘুম
  4. চোখে চোখে
সঠিক উত্তর:
চোখে চোখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখে চোখে
ব্যাখ্যা

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
- যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
-ভালো ভালো (কথা),
- কত কত (লোক),
- হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা),
- ঘুম ঘুম (চোখ),
- উড়ু উড়ু (মন),
- গরম গরম (জিলাপি),
- হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
- কথায় কথায় (বাড়া),
- মজার মজার (কথা),
- ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), 
- চোখে চোখে (রাখা),
- মনে মনে (হাসা),
- সুরে সুরে (বলা),
- পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নয় কোনটি?
  1. প্রথমা
  2. এক
  3. দোসরা
  4. পহেলা
সঠিক উত্তর:
এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক
ব্যাখ্যা

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ দিয়ে কোন সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। 
- যেমন- ‘এক’ সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম’, ‘প্রথমা’, ‘পহেলা’ ইত্যাদি। 

• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরণের হয়:
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ.....দ্বাদশ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড় আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ: একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
- যেমন- ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
খোকা বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।" এর পরোক্ষ উক্তি হবে-
  1. খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
  2. খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি নেই।
  3. খোকা বলল যে তোমার বাবা বাড়ি নেই।
  4. খোকা বলল যে, আমার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
সঠিক উত্তর:
খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
ব্যাখ্যা

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
- উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়। বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: খোকা বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।"
• পরোক্ষ উক্তি: খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।

২. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

৩. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

৪. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়। যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
• পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

.
আধিক্য বোঝাতে বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে হিসেবে ব্যবহার হয়েছে কোনটিতে?
  1. কালো কালো চেহারা
  2. ছোট ছোট ডাল
  3. ভালো ভালো আম
  4. রাশি রাশি ধান
সঠিক উত্তর:
রাশি রাশি ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশি রাশি ধান
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
২. সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর বোধ করছি।
৩. পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ। তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

অন্যদিকে,
বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে: ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
২. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে: গরম গরম জিলাপি, নরম নরম হাত।
৩. সামান্যতা বোঝাতে : উড়ু উডু ভাব; কালো কালো চেহারা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০.
তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত কোন নিয়মে সাধিত হয়?
  1. ফার্সি
  2. হিন্দি
  3. বাংলা
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা

 তারিখবাচক শব্দ:
- বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে যে সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে তারিখবাচক শব্দ বলে।
- যেমন-পয়লা বৈশাখ, বাইশে শ্রাবণ ইত্যাদি।
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি শব্দ বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
- পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার। যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১১.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ নয় কোনটি?
  1. শিক্ষকবৃন্দ
  2. জনগণ
  3. মনুষ্যসকল
  4. সুধীবৃন্দ
সঠিক উত্তর:
মনুষ্যসকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনুষ্যসকল
ব্যাখ্যা

উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১২.
'বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।' - বাক্যেটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2.  কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কী বসবে?
  1. সেমিকোলন (;)
  2. কোলন (:)
  3. কমা (,)
  4. কোলন ড্যাস (:-)
সঠিক উত্তর:
কমা (,)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা (,)
ব্যাখ্যা

কমা (,)
- বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
- পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
- সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
- জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”
- মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
- বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. চকচক
  2. কুট কুট
  3. খপাখপ
  4. গরু-টরু
সঠিক উত্তর:
গরু-টরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরু-টরু
ব্যাখ্যা

শব্দদ্বিত্ব :
- অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার-
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধনাত্মক দ্বিত্ব,
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোজাখুজি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। 
- কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ: কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, ভটভট, হিস হিস।
- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৫.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত 'ইহা' শব্দটির পরোক্ষ উক্তিতে কী পরিবর্তন হবে?
  1. উহা
  2. এটি
  3. তা
  4. তাহা
সঠিক উত্তর:
তাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহা
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ:
→ এই-সেই, 
→ ইহা-তাহা, 
→ এ-সে, 
→ আজ-সেদিন, 
→ আগামীকাল-পরদিন, 
→ গতকাল-আগেরদিন, 
→ গতকল্য-পূর্বদিন, 
→ ওখানে-ঐখানে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
কোনটি অপ্রাণীবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় না?
  1. রাজি
  2. পুঞ্জ
  3. যূথ
  4. দাম
সঠিক উত্তর:
যূথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যূথ
ব্যাখ্যা

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক ‘পাল ও যূথ’।
- যেমন: হতিযূথ, মৃগপাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১৭.
বাক্যে যতিচিহ্ন 'অর্ধচ্ছেদ' থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়? 
  1. এক সেকেন্ড
  2. এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. এক বলার দ্বিগুন সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
এক বলার দ্বিগুন সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক বলার দ্বিগুন সময়
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
- বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে - থামার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।