পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৭ ইসলামি ব্যক্তিগত আইন: বিবাহ, তালাক ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন; ধর্মপাঠ: ইসলাম, হিন্দুত্ববাদ, বৌদ্ধ, ইহুদি ও খ্রীষ্টানদের মধ্যে তুলনামূলক মতবাদ। [উৎস: লেকচার-৫ ও সংশ্লিষ্ট বই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪১ প্রশ্ন

.
মোহর অনুল্লেখিত রেখে বিবাহ করার হুকুম কী?
  1. মাকরুহে তাহরিমি
  2. হারাম
  3. কোন সুযোগ নেই
  4. জায়েজ
ব্যাখ্যা

- মোহরানা (দেনমোহর) উল্লেখ না করে বিবাহ করা বৈধ বা জায়েজ, তবে তা সুন্নাহ পরিপন্থী। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী, মোহরানা একটি অপরিহার্য বিষয় এবং বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি স্বামীর জন্য স্ত্রীর প্রাপ্য এবং স্ত্রীর প্রতি সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। মোহরানা ছাড়া বিয়ে হলেও তা বৈধ হবে, তবে মোহরানা নির্ধারণ না করা একটি ভুল কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে। মোহর উল্লেখ না করা হলে তা পরবর্তীতে মোহরে মিসাল অনুযায়ী আদায় করতে হবে।

.
ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে ৩ তালাক একত্রে দেয়ার বিধান কী?
  1. ৩ তালাক হয়ে যাবে
  2. ১ তালাক হবে
  3. হারাম হবে
  4. ৩ তুহুরের পরে তা কার্যকর হবে
ব্যাখ্যা

- ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে, একসঙ্গে তিন তালাক দিলে তা এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে।  ইবনে তাইমিয়া রহ. ও ইবনুল কাইয়্যিম রহ.-এর মাযহাব হলো:  তিন তালাক একত্রে দিলেও এর দ্বারা এক তালাক হবে, যদিও তালাকদাতা তিন তালাকের নিয়ত করে থাকেন।
- (তাকমিলায়ে ফাতহুল মুলহিম: ১:১১৫)

.
বিবাহ কার জন্য ওয়াজিব? 
  1. অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত থাকার প্রবল আশঙ্কা থাকলে
  2. প্রবল যৌন চাহিদা ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে
  3. শারীরিক সামর্থ্য থাকলে এবং আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- সাধারণভাবে, বিবাহ করা সুন্নাত। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ওয়াজিব হয়ে যায়। যদি কোনো ব্যক্তির যৌন চাহিদা প্রবল হয় এবং আর্থিক সামর্থ্য থাকে, তাহলে তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব। আর যদি অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত থাকার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তাহলে বিবাহ করা ফরজ।

.
নিচের কোনটি বিবাহের শর্ত নয়?
  1. দুই পক্ষের ইচ্ছার প্রকাশ
  2. বিয়েতে অন্তত দুইজন ন্যায্য সাক্ষীর উপস্থিতি
  3. মোহর নির্ধারণ এবং প্রদান
  4. নারীর ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমোদন
ব্যাখ্যা

 সাধারণভাবে বিবাহের শর্ত ৪টি। 
​(১) পরস্পর বিবাহ বৈধ এমন পাত্র-পাত্রী নির্বাচন।
(২) উভয়ের সম্মতি (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩১২৬)।
(৩) মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি থাকা (আহমাদ, তিরমিযি; মিশকাত হা/৩১৩০)।
(৪) দুজন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী থাকা (ত্বাবারানি, ছহিহুল জামে হা/৭৫৫৮)।
​সুতরাং মোহর নির্ধারণ এবং প্রদান বিবাহের জন্য শর্ত নয়।

.
বিয়ের ক্ষেত্রে যে নারীর ওলি থাকে না , তার ওলি কে হবে? 
  1. নারীর বড় বোন
  2. পাড়া প্রতিবেশী
  3. নারীর দাদি
  4. মুসলিম শাসক বা সরকার
ব্যাখ্যা

- ইসলামিক আইন অনুযায়ী, যে নারীর কোনো পুরুষ ওলি (পারিবারিক অভিভাবক) থাকে না, তার ওলি হিসেবে একজন কাজি/মুসলিম শাসক অথবা মুসলিম সমাজনেতা ভূমিকা পালন করতে পারে, যিনি বিবাহের অনুমতি দেন। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, বিবাহটি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ এবং এতে কোনো প্রতারণা নেই। 

.
বিবাহের ক্ষেত্রে মোহর হলো-
  1. শর্ত
  2. রুকন
  3. অধিকার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বিবাহের ক্ষেত্রে মোহর হলো স্ত্রীর অধিকার। এটি স্বামীর উপর একটি অপরিহার্য দায়িত্ব যা তাকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং স্ত্রীর প্রাপ্য সম্মান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি অংশ। মোহর (দেনমোহর) বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । ইসলাম ধর্মে মোহর পরিশোধ করা স্বামীর জন্য আবশ্যকীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি স্ত্রীর প্রতি স্বামীর শ্রদ্ধার প্রতীক এবং তার অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। 

.
অন্যের অধিকারে থাকা স্ত্রীকে কখন বিয়ে করা যায়?
  1. তালাকপ্রাপ্তা হওয়া মাত্রই
  2. ইদ্দত পালনকালীন সময়ে
  3. ইদ্দত পালন শেষ হলে
  4. যেকোন সময়ে
ব্যাখ্যা

অন্যের অধিকারে থাকা স্ত্রীকে বিয়ে করা যায় না, যতক্ষণ না তার আগের স্বামীর সাথে তার বিবাহবিচ্ছেদ সম্পূর্ণ না হয়। বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য ইদ্দত পালন অপরিহার্য । এর পরেই কেবল তিনি আইনিভাবে "অন্যের অধিকার" থেকে মুক্ত হন এবং পুনরায় বিয়ের যোগ্য হন। 

.
حرمة المصاهرة অর্থ কী?
  1. ব্যভিচারীর অনির্ধারিত শাস্তি
  2. ব্যাভিচারের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া
  3. ব্যাভিচারের জন্য বেত্রাঘাত করা
  4. ব্যভিচারীর নির্ধারিত শাস্তি
ব্যাখ্যা

"حرمة المصاهرة" শব্দটি "বিবাহ/ব্যভিচারের কারণে হারাম হওয়া" বা "বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া" অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি ইসলামের একটি পরিভাষা, যা দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কিছু আত্মীয়ের সাথে বিবাহ হারাম হয়ে যাওয়াকে বোঝায়।
আরও স্পষ্ট করে বললে, حرمة المصاهرة বলতে বোঝায়, বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কিছু আত্মীয়ের সাথে আজীবন বিবাহ করা হারাম হয়ে যাওয়া। যেমন, স্ত্রীর মা, নাতনী, শাশুড়ি, ইত্যাদি।
​ 
এই হারাম হওয়াটা মূলত দুটি কারণে হয়ে থাকে:
বৈবাহিক সম্পর্ক (عقد الزواج):
যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীকে বিয়ে করে, তখন সেই নারীর সাথে তার কিছু আত্মীয়ের (যেমন, স্ত্রীর মা, নাতনী) সাথে তার বিবাহ হারাম হয়ে যায়।
​ 
সহবাস/ব্যভিচার (وطء):
ব্যভিচার/সহবাসের মাধ্যমেও কিছু আত্মীয়ের সাথে বিবাহ হারাম হতে পারে, যেমন, কোন নারীর সাথে সহবাসের কারণে তার মায়ের সাথে বিবাহ হারাম হয়ে যায়, যদিও তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক নাও থাকে। 
সুতরাং, حرمة المصاهرة দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কিছু আত্মীয়ের সাথে বিবাহ করাকে চিরতরে হারাম করাকে বোঝানো হয়। 

.
বিয়েতে কুফুর হুকুম কী? 
  1. ফরজ
  2. ওয়াজিব
  3. সুন্নাহ
  4. অপ্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা

বিয়েতে কুফুর (Kufu) অর্থ হলো পাত্র-পাত্রীর মধ্যে উপযুক্ত সমতা বা সামঞ্জস্য থাকা। ইসলামী শরীয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে কুফুর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হলো, বর ও কনে উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বীনদারিতা, সামাজিক মর্যাদা, বংশ, পেশা, আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে পারস্পরিক সমতা থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে, কুফু একটি আপেক্ষিক বিষয় এবং এর মানদণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। সুতরাং সাধারণভাবে এটি সুন্নাহ বা মুস্তাহাব।

১০.
মোহর নির্ধারনের প্রধান মূলনীতি কোনটি?
  1. পুরুষের আর্থিক সামর্থ্য
  2. স্ত্রীর সামাজিক মর্যাদা
  3. উভয়ের বংশীয় আভিজাত্য
  4. স্ত্রীর গুণাবলি
ব্যাখ্যা

মোহর নির্ধারণের প্রধান মূলনীতি হলো পুরুষের আর্থিক সামর্থ্য। তবে, "মোহরে মিছাল" বা সমমানের নারীর অধিকারও বিবেচনা করা হয়। যদিও মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ১০ দিরহাম, এর কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই, তবে এটি এমন হওয়া উচিত নয় যা নারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং স্বামী পরিশোধে ব্যর্থ হলে গোনাহগার হন। 

১১.
ইদ্দত পালনরত অবস্থায় বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার হুকুম কী?
  1. সরাসরি দেওয়া যাবে
  2. বাধ্য করা যাবে
  3. ইঙ্গিত দেওয়া যাবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- রজয়ি ব্যতীত অন্য কোনো ইদ্দত পালনকারী নারীকে বিবাহের ইঙ্গিত দেওয়া যাবে। তবে স্পষ্টভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হারাম, সুতরাং ইশারা ইঙ্গিতে প্রস্তাব দেওয়া হারাম নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ فِيمَا عَرَّضۡتُم بِهِۦ مِنۡ خِطۡبَةِ ٱلنِّسَآءِ
“আর এতে তোমাদের কোনো পাপ নেই যে, তোমরা নারীদেরকে ইশারায় যে প্রস্তাব করবে”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৫]

- ইশারা-ইঙ্গিতের উদাহরণ: তোমার মতো নারীর আমি খুব প্রয়োজন বোধ করি। রজয়ি ইদ্দত ব্যতীত অন্য কোনো ইদ্দত পালনকারী নারীর পক্ষে ইঙ্গিত দাতার প্রস্তাবের উত্তর ইঙ্গিতের মাধ্যমে প্রদান করা বৈধ, তবে স্পষ্টভাবে সাড়া দেওয়া বৈধ নয়। রাজয়ি ইদ্দত পালনকারী নারীর পক্ষে ইশারা বা স্পষ্ট কোনো ভাবেই বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া বৈধ নয়।

১২.
কোন বিবাহিত নারীর ইদ্দত নেই?
  1. নাবালিকা নারী
  2. বৃদ্ধা নারী
  3. দাসী
  4. বিবাহিতা কিন্তু  সঙ্গম হয়নি
ব্যাখ্যা

যে নারীকে বিয়ের পর সহবাসের পূর্বে তালাক দেওয়া হয় তার ওপর কোনো ইদ্দত নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا نَكَحۡتُمُ ٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ ثُمَّ طَلَّقۡتُمُوهُنَّ مِن قَبۡلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمۡ عَلَيۡهِنَّ مِنۡ عِدَّةٖ تَعۡتَدُّونَهَاۖ
“হে মুমিনগণ, যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করবে অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দিয়ে দেবে, তাহলে তোমাদের জন্য তাদের কোনো ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে”। [সুরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৯]

ইবন কাসির রহ. তার তাফসীর: (৫/৪৭৯) গ্রন্থে বলেন: এ মাস’আলার ক্ষেত্রে সকল আলেম একমত, অর্থাৎ নারীকে যদি সহবাসের পূর্বে তালাক দেওয়া হয়, তাহলে তার ওপর কোনো ইদ্দত নেই, সে তালাকের পর তৎক্ষণাৎ যার সাথে ইচ্ছা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।

১৩.
‘হিদাদ’ কাকে বলে?
  1. তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
  2. বিধবা নারীর জন্য নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
  3. বিধবা নারীর অধিকার
  4. তালাকপ্রাপ্তা নারীর অধিকার
ব্যাখ্যা

বিধবা নারীর ইদ্দতে পাঁচটি বস্তু হারাম বা নিষিদ্ধ, যার আরবি নাম হিদাদ। তা হলো-
​১। সকল প্রকার সুগন্ধি
​২। শারীরিক সাজসজ্জা গ্রহণ করা
​৩। সাজসজ্জার কাপড় পরিধান করা
​৪। অলঙ্কার
​৫। স্ত্রী যে ঘরে থাকাবস্থায় স্বামী মারা যায় সে ঘর ব্যতীত কোথাও রাত-যাপন করা

১৪.
কোন ক্ষেত্রে ইদ্দতপালনরত নারীকে বিবাহের ইঙ্গিত দেওয়া হারাম?
  1. নারী রজয়ি ইদ্দত পালনকারী হলে
  2. নারী বায়েন ইদ্দত পালনকারী হলে
  3. নারী মুগাল্লাজা ইদ্দত পালনকারী হলে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

নারী রজয়ি ইদ্দত পালনকারী হলে বিবাহের ইঙ্গিত দেওয়া হারাম। এ জাতীয় নারীকে স্পষ্ট বা ইঙ্গিতে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া নিষিদ্ধ। কারণ, সে এখনো সাবেক স্বামীর স্ত্রীর হুকুমে, তাই তাকে প্রস্তাব দেওয়া কারো জন্য বৈধ নয়, এখনো সে আগের স্বামীর নিরাপত্তায় রয়েছে।

১৫.
ফারায়েজশাস্ত্রে ‘রাদ’ কাকে বলে?
  1. অবশিষ্ট অংশ মূল উত্তরাধিকারীদের ফেরত দেওয়া
  2. মূল অংশ অন্য পরিবারের হাতে দেওয়া
  3. দূর সম্পর্কের উত্তরাধিকারদের অন্তর্ভূক্ত করা
  4. ওসিয়তের অংশ বাদ দেওয়া
ব্যাখ্যা

ফারায়েজ শাস্ত্রে 'রাদ' হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নির্ধারিত অংশ বণ্টন করার পর যদি মোট অংশ পুরো সম্পত্তির চেয়ে কম হয়, তবে অবশিষ্ট সম্পত্তি ভাগীদারদের মধ্যে তাদের প্রাপ্ত অংশের অনুপাতে পুনরায় বাড়িয়ে বণ্টন করা হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যখন আসাবা ওয়ারিশ থাকে না এবং নির্দিষ্ট ওয়ারিশদের প্রাপ্ত অংশের যোগফল মোট সম্পত্তির চেয়ে কম হয়, তখন অবশিষ্ট সম্পত্তি তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। 

১৬.
কোন শর্তটি পূর্ণ না হলে ইসলামে বিবাহ বৈধ হবে না? 
  1. ওসিয়ত লিখিতভাবে করা
  2. সাক্ষীর উপস্থিতি
  3. কুফু না থাকা
  4. মোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করা
ব্যাখ্যা

সাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় না। ইসলামী শরিয়তে বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য কমপক্ষে দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষী থাকতে হয় এছাড়া বিয়ে ও সংসার জীবন বিশুদ্ধ হয় না। তাই বিয়ের আকদের সময় সাক্ষী রাখতে হবে। 'সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের তাবেয়ী ও অন্যান্য আলিমগণের আমল তার প্রমাণ।

১৭.
কোন ব্যক্তির ১০ জন স্ত্রী থাকায় মহানবি (সা) তাকে চারজন স্ত্রী রেখে বাকীদের মুক্ত করে দেওয়ার আদেশ দেন?
  1. আম্মার ইবনে হুম্মাম
  2. আকরাম ইবনে বুহাইল
  3. গায়লান ইবনে সাকাফি
  4. আসওয়াদ ইবনে আম্মার
ব্যাখ্যা

গাইলান ইবনে সালামা আল-সাকাফি যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তার ১০ জন স্ত্রী ছিলেন। নবী (সা) তাকে এই অবস্থায় চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি দেন এবং বাকিদের মুক্ত করে দিতে বলেন। কারণ, ইসলামে একসাথে ৪ জনের বেশি স্ত্রী রাখা যায় না।

১৮.
الوصية দ্বারা কেন বিবাহ শুদ্ধ হবে না? 
  1. এর দ্বারা ওসিয়ত বোঝায়
  2. এটি হলো একটি আম শব্দ
  3. ওসিয়ত নিকাহ এর চেয়ে কম শক্তিশালী
  4. এর দ্বারা তাৎক্ষণিক মালিকানা অর্জন হয় না
ব্যাখ্যা

ওসিয়ত দ্বারা বিবাহ শুদ্ধ হবে না। কারণ, বিবাহ একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি যা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পাদিত হয় এবং এর জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী ও নিয়মাবলী রয়েছে, যা ওসিয়ত দ্বারা পূরণ করা যায় না।  ওসিয়ত সাধারণত মৃত্যুর পর কার্যকর হয় এবং এটি মূলত সম্পদ বণ্টনের জন্য করা হয়। এটি বিয়ের মতো একটি সামাজিক ও আইনি চুক্তির জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই, ওসিয়ত দ্বারা বিবাহকে বৈধতা দেওয়া যায় না। কারণ, ওসিয়ত এর দ্বারা তাৎক্ষণিক মালিকানা অর্জন হয় না।

১৯.
নিচের কোনটি হিন্দু ধর্মের ‘লক্ষণ’ নয়?
  1. শীত-তাপ সহিষ্ণুতা
  2. ধীবিদ্যা
  3. ইন্দ্রিয় নিগ্রহ
  4. ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা
ব্যাখ্যা

হিন্দুধর্মের দশটি লক্ষণ হলো: ধৈর্য, ক্ষমা, সংযম, অস্তেয় (চুরি না করা), শৌচ (পবিত্রতা), ইন্দ্রিয় নিগ্রহ, বুদ্ধি, বিদ্যা, সত্য ও অক্রোধ (ক্রোধ না করা)। এই দশটি গুণ বা লক্ষণ একজন ধার্মিক ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য এবং এগুলো পালন করাই ধর্মের পথ নির্দেশ করে, এমনটাই মনে করেন অগ্নিবীর। হিন্দু ধর্মানুসারে, এই দশটি লক্ষণ একজন ব্যক্তিকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে তৈরি করে এবং জগতের কল্যাণ ও উন্নতিতে সাহায্য করে, এমনটাই বলা হয়েছে অগ্নিবীরে। 

২০.
নিচের কোনটি New Testament এর ভাগ নয়?
  1. Gospels 
  2. Acts
  3. Deeds
  4. Epistles
ব্যাখ্যা

- নিউ টেস্টামেন্টকে মোট চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়: সুসমাচার (Gospels), প্রেরিতদের কার্য (Acts), পত্র (Epistles) এবং প্রকাশিত বাক্য (Revelation)। এই চারটি ভাগেই নিউ টেস্টামেন্টের মোট ২৭টি বই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২১.
বেদের ৪টি ভাগের মধ্যে সর্বপ্রাচীন কোনটি?
  1. ঋগবেদ
  2. সামবেদ
  3. যজুর্বেদ
  4. অথর্ববেদ
ব্যাখ্যা

বেদের চারটি ভাগের মধ্যে প্রাচীনতম বেদ হল ঋগ্বেদ। এটি হিন্দুধর্মের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ এবং বিশ্বের প্রাচীনতম গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম। 

২২.
হিন্দুধর্মে দুঃখ মুক্তির চারটি মার্গ রয়েছে। নিচের কোনটি তার অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. জ্ঞান মার্গ
  2. কর্ম মার্গ
  3. যোগ মার্গ
  4. বিয়োগ মার্গ
ব্যাখ্যা

হিন্দুধর্ম অনুসারে, দুঃখ বা সংসার চক্র থেকে মুক্তি লাভের চারটি প্রধান মার্গ (পথ) রয়েছে। দুঃখ মুক্তির এ ৪টি মার্গ হলো- জ্ঞান মার্গ, কর্ম মার্গ, যোগ মার্গ ও ভক্তি মার্গ।
​জ্ঞান মার্গ: এটি হলো দার্শনিক জ্ঞান অর্জন ও আত্ম-উপলব্ধির পথ।
কর্ম মার্গ: এই পথে কর্মফল ত্যাগ করে, নিষ্কামভাবে নিজের কর্তব্য পালনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করা যায়।
ভক্তি মার্গ: এটি ঈশ্বরের প্রতি গভীর প্রেম, समर्पण ও আত্মসমর্পণের পথ।
যোগ মার্গ: এটি মানসিক ও শারীরিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে যুক্ত করার পথ। 

২৩.
যীশু তাঁর প্রচার কাজের জন্য কতজন সহচর মনোনীত করেছিলেন?
  1. ৭জন
  2. ১০জন
  3. ১২জন
  4. ৪০জন
ব্যাখ্যা

যীশু তাঁর প্রচার কাজের জন্য মোট ১২ জন বিশেষ সহচর বা শিষ্যকে মনোনীত করেন, যাঁদের প্রেরিত বলা হয়। এই শিষ্যরা তাঁর পরিচর্যা, অলৌকিক কাজ দেখা এবং পরবর্তীকালে ঈশ্বরের বাণী প্রচার করার জন্য তাঁর সাথে ছিলেন।

২৪.
إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ আয়াতে কারিমাটি পবিত্র কুরআনের কোথায় রয়েছে?
  1. সুরা বাকারা, আয়াত ১৯
  2. সুরা আলে-ইমরান, আয়াত ১৯
  3. সুরা মায়েদা, আয়াত ৮১
  4. সুরা ইসরা, আয়াত ১৪
ব্যাখ্যা

إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ “নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র ধর্ম।”
​এটি পবিত্র কুরআনের সুরা আলে-ইমরানের ১৯ নং আয়াতে রয়েছে।

২৫.
পবিত্র কুরআনের কত জায়গায় সালাত প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে?
  1. ৪০ স্থানে
  2. ৮০ স্থানে
  3. ৮২ স্থানে
  4. ১১৪ স্থানে
ব্যাখ্যা

পবিত্র কুরআনে ‘সালাত প্রতিষ্ঠা করা’ এই নির্দেশমূলক বাক্যটি বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন প্রসঙ্গে মোট ৮২ বার বা ১০৪ বার উল্লেখ করা হয়েছে, যা সালাতের অপরিসীম গুরুত্ব প্রমাণ করে। 

২৬.
যদি কেউ বিবাহের মাধ্যমে নিজের বা স্ত্রীর হক আদায় করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে, তবে তার হুকুম কী?
  1. হারাম
  2. মাকরুহ
  3. সুন্নাত
  4. হালাল
ব্যাখ্যা

যদি কেউ বিবাহের মাধ্যমে নিজের বা স্ত্রীর হক আদায় করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে, তাহলে তার জন্য বিবাহ করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হতে পারে। আর যদি কেউ বিবাহের মাধ্যমে কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে, তবে তা হারাম।

২৭.
‘নাফকাহ’ শব্দের অর্থ হলো-
  1. পরিবেশ
  2. ভরণপোষণ
  3. প্রতিবেশ
  4. উপার্জন
ব্যাখ্যা

'নাফকাহ' (Nafaqah) শব্দের অর্থ হলো ভরণপোষণ বা ব্যয়। এটি একটি ইসলামী আইনি পরিভাষা যা একজন স্বামীর তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য যে আর্থিক সহায়তা, যেমন খাদ্য, পোশাক এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, তা বোঝায়। 

২৮.
জাবিল ফুরুজ এ পুরুষের সংখ্যা কত?
  1. ৪ জন
  2. ৮ জন
  3. ১২ জন
  4. ১৪ জন
ব্যাখ্যা

জাবিল ফুরুজ বা নির্দিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৪ জন। তারা হলেন বাবা, স্বামী, দাদা এবং বৈমাত্রেয় ভাই। এই ৪ জন পুরুষ এবং আরও ৮ জন মহিলা নিয়ে মোট ১২ জন জাবিল ফুরুজ বা প্রথম শ্রেণীর অংশীদার। এরা হলেন ঐ শ্রেণির ওয়ারিশ যাদের আংশ কুরআন ও হাদিস দ্বারা নির্ধারিত এবং যাদের অংশ দেওয়া ব্যতিত অন্য কারো অংশ দেওয়া যায় না

২৯.
নিচের কোন ব্যক্তি জাবিল ফুরুজের  অন্তর্ভূক্ত পুরুষ নন?
  1. পুত্র
  2. বৈমাত্রেয় ভাই
  3. স্বামী
  4. দাদা
ব্যাখ্যা

জাবিল ফুরুজ বা নির্দিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৪ জন। তারা হলেন বাবা, স্বামী, দাদা এবং বৈমাত্রেয় ভাই। এই ৪ জন পুরুষ এবং আরও ৮ জন মহিলা নিয়ে মোট ১২ জন জাবিল ফুরুজ বা প্রথম শ্রেণীর অংশীদার। সুতরাং পুত্র এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত নয়।

৩০.
যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে মাতার অংশ হলো-
  1. ১/৪
  2. ১/৬
  3. ১/২
  4. ১/৮
ব্যাখ্যা

- মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির যদি পুত্রসন্তান থাকে, তাহলে তাঁর মা সম্পত্তি পাবেন ১/৬ অংশ। যদি পুত্রসন্তান না থাকে এবং শুধু কন্যা থাকে, তবে কন্যা সন্তান একা সম্পত্তি পেলে ১/২ অংশ, আর একাধিক কন্যা থাকলে ২/৩ অংশ পাবেন, এবং মা তখন সেই অনুযায়ী অংশ পাবেন। 

৩১.
স্মৃতি সংহিতার সংখ্যা কত?
  1. ১০টি
  2. ১৫টি
  3. ২০টি
  4. ২৫টি
ব্যাখ্যা

স্মৃতি সংহিতার সংখ্যা ২০টি, কারণ এগুলি সনাতন ধর্মের সমাজ-ব্যবস্থাপক শাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সংহিতাগুলোর মধ্যে মনু সংহিতা অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগ্রন্থ। বেদের শাশ্বত সত্যকে স্বীকার করে সমকালীন সমাজের আলোকে মুণি-ঋষিগণ কর্তৃক রচিত শাস্ত্রকে স্মৃতি সংহিতা বলে। বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ ৩টি স্মৃতি সংহিতা হলো-মনু স্মৃতি সংহিতা, যাজ্ঞবক্ষ স্মৃতি সংহিতা ও পরাশর স্মৃতি সংহিতা।

৩২.
হিন্দুধর্মের বর্ণ নয় কোনটি?
  1. শূদ্র
  2. বৈশ্য
  3. ক্ষত্রিয়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

হিন্দুধর্মে চারটি বর্ণ হলো ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র। এই চারটি বর্ণের বাইরে যে সম্প্রদায়গুলো রয়েছে, যেমন দলিত বা আদিবাসী জনগোষ্ঠী, তারা সবর্ণ হিন্দু নয়, বরং অবর্ণ হিন্দু। 

৩৩.
মহামতি বুদ্ধ কয়টি আর্যসত্য লাভ করেছিলেন?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

মহামতি গৌতম বুদ্ধ চারটি আর্যসত্য (চতুরার্য সত্য) লাভ করেছিলেন। এই চারটি সত্য হলো – ১. জীবন দুঃখময়, ২. দুঃখের কারণ আছে, ৩. দুঃখের নিবৃত্তি আছে এবং ৪. দুঃখ নিরোধের উপায় আছে। চার আর্যসত্য হল মূল তথ্য যা মানুষেল সমস্যাগুলি থেকে অতিক্রম করার জন্য একটা মার্গের রূপরেখা তৈরী করে দেয়।

৩৪.
ইহুদি ধর্মের ইতিহাস কত বছরের প্রাচীন? 
  1. চার হাজার বছর
  2. পাঁচ হাজার বছর
  3. ছয় হাজার বছর
  4. তিন হাজার বছর
ব্যাখ্যা

ইহুদি ধর্ম আব্রাহাম এবং তার বংশধরদের থেকে আসা একটি অন্যতম প্রাচীন একেশ্বরবাদী ধর্ম, যার ঐতিহাসিক শিকড় প্রায় ৪,০০০ বছরেরও বেশি পুরনো। প্রাচীন ইসরায়েল ও যিহূদা রাজ্যের সময় থেকে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে এবং এটি বর্তমান রূপ লাভ করেছে প্রায় ৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। 

৩৫.
ইহুদিগণ সপ্তাহের কোন দিন বিশেষভাবে উপাসনা করেন? 
  1. সোমবার
  2. বুধবার
  3. শুক্রবার
  4. শনিবার
ব্যাখ্যা

ইহুদিগণ তাদের সাব্বাত (শনিবার) দিনটিকে বিশেষভাবে উপাসনা এবং বিশ্রাম করার জন্য পালন করেন। সাব্বাত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এবং এটি সপ্তাহের সপ্তম দিনে পালিত একটি পবিত্র দিন, যা ঈশ্বরের সৃষ্টির কাজ সম্পন্ন করার পর বিশ্রামকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সাব্বাত (হিব্রু ভাষায় "শাভাত") হলো ইহুদিদের সপ্তাহের সপ্তম দিন, যা বিশ্রাম ও প্রার্থনার জন্য উৎসর্গীকৃত। 

৩৬.
প্রধান ফেরেশতা কত জন?
  1. ৩জন
  2. ৪জন
  3. ৫জন
  4. ৭জন
ব্যাখ্যা

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, প্রধান ফেরেশতা হলেন চার জন: হযরত জিব্রাইল (আঃ), হযরত মীকাঈল (আঃ), হযরত ইসরাফীল (আঃ), এবং হযরত আজরাইল (আঃ)। এদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে, যেমন জিব্রাইল (আঃ) ওহী বহন করেন এবং আজরাইল (আঃ) প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত। হযরত মীকাঈল (আঃ):
তিনি আল্লাহর আদেশে বৃষ্টি, রিজিক (জীবিকা) এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির নিয়ন্ত্রণ করেন। হযরত ইসরাফীল (আঃ): কেয়ামতের দিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর।

৩৭.
জাহিলী যুগে ফেরেশতাদের সম্পর্কে কী ধারণা প্রচলিত ছিল?
  1. ফেরেশতাগণ আল্লাহর পুত্র
  2. ফেরেশতাগণ আল্লাহর কন্যা
  3. ফেরেশতাগণ ও জীন জাতি একই
  4. ফেরেশতাগণ আগুনের তৈরি
ব্যাখ্যা

জাহিলী যুগের পূর্বে আরবরা ফেরেশ্তাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলে অভিহিত করত। তাদের পূজা-আর্চনা করত এবং এমন আকীদাও পোষণ করত যে, তারা আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য সুপারিশকারীর ভূমিকা পালন করবে। ইসলাম ফেরেশতাদের সম্বন্ধে এ সকল মতাদর্শকে ভ্রান্ত ধারণা এবং অসার বলে ঘোষণা করেছে।

৩৮.
কুরআন মাজিদের কয়টি স্থানে মহান আল্লাহ সালাত আদায়ের নির্দেশ প্রদান করেছেন?
  1. ১৭ বার
  2. ৮২ বার
  3. ১২৭ বার
  4. ১৪ বার
ব্যাখ্যা

পবিত্র কুরআন মাজীদে মহান আল্লাহ বহুবার সালাত (নামায) আদায়ের নির্দেশ প্রদান করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন সূরা ও আয়াতে বিভিন্নভাবে সালাতের গুরুত্ব, নিয়ম এবং সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত কুরআনে সালাতের নির্দেশ ৮২ বার (প্রায়) এসেছে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো: সব নির্দেশ একরকম নয়। কখনো সরাসরি সালাত আদায়ের নির্দেশ, কখনো সালাত কায়েম করার নির্দেশ (أَقِمِ الصَّلَاةَ), আবার কখনো সালাত রক্ষা করা বা সময়মতো আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৩৯.
কৃপণতা থেকে মুক্তিদাতা মৌলিক ইবাদত কোনটি? 
  1. সালাত
  2. সাদাকাহ
  3. হজ
  4. যাকাত
ব্যাখ্যা

যাকাত কৃপণতা ও অর্থের প্রতি লোভ থেকে মুক্তিদাতা একটি মৌলিক ইবাদত, যা আত্মিক পবিত্রতা অর্জনে সাহায্য করে এবং সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনে। যাকাত আদায় করার মাধ্যমে অর্থ শুধু নিজের কাছে জমা না রেখে অসহায় ও অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছায়, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এবং মানসিক প্রশান্তি নিয়ে আসে। 

৪০.
মহানবি (সা)-এর ঘোষণা অনুসারে কবুল হজের একমাত্র প্রতিদান কী? 
  1. জান্নাত
  2. তাকওয়া
  3. জাহান্নাম থেকে মুক্তি
  4. সীমাহীন রিযিক
ব্যাখ্যা

মহানবী (সা.)-এর ঘোষণা অনুসারে, কবুল বা মাবরুর হজের একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত (বেহেশত)। এটি এমন এক হজ, যা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয় এবং যেখানে কোনো লৌকিকতা বা অহংকার থাকে না। 

৪১.
কুরআন মাজিদের কোথায় নামায শেষে জীবিকা অর্জনের জন্য পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে? 
  1. সুরা আলাকে
  2. সুরা নিসায়
  3. সুরা বাকারাতে
  4. সুরা জুমুআতে
ব্যাখ্যা

কুরআন মাজিদের সুরা আল-জুমুআহ এর ১০ নম্বর আয়াতে নামাজ শেষ হওয়ার পর পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর অনুগ্রহ বা জীবিকা সন্ধান করার এবং আল্লাহর স্মরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই আয়াতটি নামাজের পর জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করা এবং তা করতে গিয়ে আল্লাহর স্মরণ থেকে যেন গাফেল না হওয়া হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। 
এই আয়াতে যা বলা হয়েছে: "অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও"।