পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ সিলেবাস: ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, প্রত্যয়, বাক্য, বানান ও বাক্য শুদ্ধি উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই ইত্যাদি। --------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ১০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
তালব্য ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনি সাত প্রকার। যথা-

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি: জিভের মূল বা গোড়ালি উঁচু করে কোমল তালুর সামনের বা মাঝের সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ক, খ, গ, ঘ ঙ/ং।

তালব্য ধ্বনি: জিভের পাতা উঁচু করে অর্থতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- চ, ছ, জ, ঝ ঞ, শ।

দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি: সমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি উপর পাটি দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা একটু উল্টো করে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হ তাদের দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ড়, ঢ়।

দন্ত ধ্বনি: উপর পাটি দাঁতের সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের দন্ত ধ্বনি বলে। যেমন- ত, থ, দ, ধ।

ওষ্ঠ্য ধ্বনি: উপরের ঠোঁটের সঙ্গে নিচের ঠোঁট লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- প, ফ, ব, ভ, ম।

দন্তমূলীয় ধ্বনি: উপর পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে। যেমন- ন, য, র, ল, স।

কন্ঠ্য ধ্বনি: স্বরযন্ত্রের ভেতরে যে দুট স্বরতন্ত্রী আছে তাদের সংকোচনের সাহায্যে বায়ুপথ সংকীর্ণ করে, কিন্তু একেবারে বন্ধ না করে যে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাকে কন্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- হ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
'বন্য' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- "বন্য" শব্দটি একটি — বিশেষণ পদ।

• 'বন্য' (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- বনে জাত বা উৎপন্ন, বুনো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
বাংলা বর্ণমালায় ‘আ’ একটি -
  1. যৌগিক স্বরবর্ণ
  2. অনুনাসিক ধ্বনি
  3. দ্বিস্বর ধ্বনি
  4. মৌলিক স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• মৌলিক স্বর:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক স্বর বলে।

 • বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি। 
যেমন,
- ই, এ, অ্যা, অ, আ, ও, উ।

• স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ ছয়টি। যথা: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ।

• অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ একটি। যথা: ঋ।

• মাত্রাহীন বর্ণ চারটি। যথা: এ, ঐ, ও, ঔ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ধাতুর সঙ্গে কোন প্রত্যয় যুক্ত হলে সেটিকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলা হয়?
  1. কৃৎ-প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত-প্রত্যয়
  3. বিভক্তি
  4. সমাস
সঠিক উত্তর:
কৃৎ-প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হলে সেটিকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বলা হয়।
যেমন: খেল্ + অন = খেলন
এখানে,
'খেল্' হচ্ছে ধাতু এবং 'অন' হচ্ছে কৃৎ-প্রত্যয়।

• প্রাতিপদিকের ক্ষেত্রে তদ্ধিত-প্রত্যয় যুক্ত হয় এবং তখন সেটিকে নাম-প্রকৃতি বলা হয়।


প্রাতিপদিক:

- লাঙ্গল- এর সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। 
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।

- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি - ঝ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
.
'সদা সত্য কথা বলবে।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'সদা সত্য কথা বলবে।'-  এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। 

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। 
যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।

বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
'তারুণ্য' কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. জাতিবাচক বিশেষ্য
  4. ভাববাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। 
তদ্রূপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে, অপশ্রুতি কয় প্রকারে হতে পারে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. আট
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
• অপশ্রুতি:
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বরের কিছু পরিবর্তন ঘটে, এই পরিবর্তনকে অপশ্রুতি বলে। 
অপশ্রুতি তিনভাবে হতে পারে।
যথা : 
১. গুণ  
২. বৃদ্ধি  
৩. সম্প্রসারণ।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম—দশম শ্রেণি, মাধ্যমিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. তৃণ
  2. কাণ্ড
  3. প্রনয়
  4. ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
প্রনয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রনয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
' প্রনয়' শব্দটি - অশুদ্ধ।

• 'প্রনয়' শব্দটির সঠিক বানান হলো - 'প্রণয়'।

এখানে,
'প্রণয়' অর্থে প্রেম বা ভালোবাসা বোঝানো হয়।

বাকিগুলো সঠিক:
তৃণ (সঠিক), 
কাণ্ড (সঠিক),
ঘণ্টা (সঠিক)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০.
কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় -
  1. উপমান
  2. পূর্বপদ
  3. উপপদ
  4. প্রাতিপদিক
সঠিক উত্তর:
উপপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় - কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় — উপপদ।

অন্যভাবে বলা যায় -
কৃৎ-প্রত্যয়ান্ত শব্দের আগে উপসর্গ ছাড়া অন্য পদ থাকলে তাকে উপপদ বলে। 
যেমন: কুম্ভকার = কুম্ভ + কৃ + অ; এখানে ‘কুম্ভ’ উপপদ।

উল্লেখ্য,
- কৃদন্ত পদের আগে নামপদ যুক্ত হলে থাকে উপপদ বলে।
- আর এই সমাসকে বলা হয় উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন : ছেলেধরা। এখানে, 'ধরা' কৃদন্ত পদের পূর্বে 'ছেলে' নাম পদ যুক্ত হয়েছে বলে 'ছেলে' শব্দটি উপপদ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
'অদ্যাপি' কোণ জাতীয় শব্দ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অদ্যাপি' - অব্যয় জাতীয় শব্দ।
অর্থ:
- এখনও; আজও; একাল পর্যন্ত।

অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, অদ্যাপি, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা -
  1. উপমা, অলংকার
  2. উদ্দেশ্য, বিধেয়  
  3. সাধু, চলিত
  4. বাচ্যার্থ, লক্ষার্থ
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়  
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে।
যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
অল্পপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
- প্রত্যেক বর্গের প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম ধ্বনির উচ্চারণকালে বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে বলে এদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে।
যেমন: ক, গ, ঙ, চ, জ, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মহাপ্রাণ ধ্বনি:
প্রত্যেক বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ ধ্বনির উচ্চারণকালে বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে বলে এদের মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
যেমন: খ, ঘ; ছ, ঝ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৪.
"লোকটি গরিব তথাপি অত্যন্ত সৎ।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন- 
- সে সৎ, অথচ গরিব।
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
--------------
• "লোকটি গরিব তথাপি অত্যন্ত সৎ।"- বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

কারণ:
যৌগিক বাক্যে দুটি বা ততোধিক সরল বাক্য সংযোজক অব্যয় (যেমন: এবং, অথচ, কিন্তু, তথাপি, তাই ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত থাকে।

এখানে,
লোকটি গরিব → প্রথম অংশ (সরল বাক্য)
অত্যন্ত সৎ → দ্বিতীয় অংশ (সরল বাক্য)
এই দুইটি বাক্য তথাপি যোজক অব্যয়ের মাধ্যমে যুক্ত হওয়ায় এটি একটি যৌগিক বাক্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৫.
নিচের কোনটি উষ্মবর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উষ্মধ্বনি:
'শ, ষ, স, হ' - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলােকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।

উল্লেখ্য,
- শ ষ স - এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘােষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘােষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
• প- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।
• থ - দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• চ - তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'ব্রতী' এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ব্রত + ই
  2. ব্রত + ঈন
  3. ব্রতী + ন
  4. ব্রত + ইন্‌
সঠিক উত্তর:
ব্রত + ইন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রত + ইন্‌
ব্যাখ্যা
• 'ব্রতী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে — ব্রত + ইন্‌।

• ব্রতী (বিশেষণ):
- উচ্চারণ - ব্রোতি।
- সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: ব্রত + ইন্‌।
- অর্থ - ব্রতপালনকারী, ব্রতধারী, পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠাতা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৭.
'ঘাস' শব্দের 'ঘ' কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. ওষ্ঠ ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন- 
কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮.
অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: পড়্+উয়া = পড়ুয়া; ঢাকা+আই=ঢাকাই, কৃ+তব্য=কর্তব্য।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ। হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি।
কিন্তু পঙ্কজ বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

অন্যদিকে,
গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ- 
১। মৌলিক এবং
২। সাধিত। 

• মৌলিক শব্দ :
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনাে অংশ থাকে না, সেগুলােকে মৌলিক শব্দ বলে।
- যেমন – গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ :
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন – পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
নিচের কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. কোথাও
  2. যেমন-তেমন
  3. স্বয়ং
  4. নিজেরা নিজেরা
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
ব্যাখ্যা
• সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্য অপশনে,
• আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
• অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কোথাও।
• পারস্পরিক সর্বনাম - নিজেরা নিজেরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. সুষুপ্ত
  2. মুমূর্ষু
  3. চিকীর্ষা
  4. অনুসঙ্গ
সঠিক উত্তর:
অনুসঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'অনুসঙ্গ' - বানানটি অশুদ্ধ।

কারণ,
ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন,
— অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
--------------- 
• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:

১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়।
যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন,
— অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটিতে অক্ষর রয়েছে -
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে — ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

• অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা:
• মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)।
• বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
২২.
তৎসম শব্দের ব্যবহার কোথায় বেশি?
  1. আঞ্চলিক রীতিতে
  2. চলিত রীতিতে
  3. সাধু রীতিতে
  4. মিশ্র রীতিতে
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতিতে
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়। 
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
২৩.
উচ্চারণ স্থানের নামানুসারে, ট- বর্গের বর্ণগুলো কী নামে পরিচিত?
  1. কণ্ঠ বর্ণ
  2. মূর্ধন্য বর্ণ
  3. তালব্য বর্ণ
  4. দন্ত্য বর্ণ
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য বর্ণ
ব্যাখ্যা
বর্গীয় ধ্বনি:
- ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণস্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছ বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় বর্গীয় ধ্বনি।
- বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়। যেমন-

বৰ্গ - বৰ্গীয় বৰ্ণ - বর্গের ভাষাবৈজ্ঞানিক নাম:
• ক - ক, খ, গ, ঘ, ঙ - কণ্ঠ্য,
• চ - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ - তালব্য,
• ট - ট, ঠ, ড, ঢ, ণ - মূর্ধন্য,
• ত - ত, থ, দ, ধ, ন - দন্ত্য,
• প - প, ফ, ব, ভ, ম - ওষ্ঠ্য।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. নিশীথিনি আকাশে চাঁদের কোমল আলো তারার সান্নিধ্যে মিশে এক মায়াময় দৃশ্য সৃষ্টি করে।
  2. নিশীথীনী আকাশে চাঁদের কোমল আলো তারার সান্নিধ্যে মিশে এক মায়াময় দৃশ্য সৃষ্টি করে।
  3. নিশীথিনী আকাশে চাঁদের কোমল আলো তারার সান্নিধ্যে মিশে এক মায়াময় দৃশ্য সৃষ্টি করে।
  4. নীশিথিনী আকাশে চাঁদের কোমল আলো তারার সান্নিধ্যে মিশে এক মায়াময় দৃশ্য সৃষ্টি করে।
সঠিক উত্তর:
নিশীথিনী আকাশে চাঁদের কোমল আলো তারার সান্নিধ্যে মিশে এক মায়াময় দৃশ্য সৃষ্টি করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশীথিনী আকাশে চাঁদের কোমল আলো তারার সান্নিধ্যে মিশে এক মায়াময় দৃশ্য সৃষ্টি করে।
ব্যাখ্যা
অপশন গ),
নিশীথিনী আকাশে চাঁদের কোমল আলো তারার সান্নিধ্যে মিশে এক মায়াময় দৃশ্য সৃষ্টি করে।" - বাক্যটি শুদ্ধ।

কারণ, সঠিক বানান হলো "নিশীথিনী"।

অন্য অপশনগুলোতে, 
"নিশীথিনী" বানানে ভুল রয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫.
যেসব শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে বলে -
  1. তদ্ভব শব্দ
  2. তৎসম শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. বিদেশি শব্দ
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

• সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
২৬.
"অনেক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
- অনেক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
গতকাল তিনি এসেছেন। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
২৭.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. হালুয়া
  2. ঘায়েল
  3. ঝোল
  4. কাগজ
সঠিক উত্তর:
ঝোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝোল
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: চিকচিক, ঝোল, পেট, ডাব, টোপর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আরবি শব্দ - হালুয়া।
• হিন্দি শব্দ - ঘায়েল।
• কাগজ- ফারসি শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮.
"কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না" - বাক্যের জটিল রূপ কোনটি?
  1. কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করা উচিত নয়।
  2. যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।
  3. কর্মরত ব্যক্তি বিরক্ত হয় না।
  4. সে কর্মরত ব্যক্তি এবং তাকে বিরক্ত করো না।
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে ।
- জটিল বাক্য হলো সেই বাক্য, যেখানে একটি প্রধান বাক্য এবং একটি বা একাধিক আশ্রিত বাক্য থাকে এবং আশ্রিত বাক্যটি অব্যয় বা সম্পর্কবাচক সর্বনাম দ্বারা প্রধান বাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

বাক্য বিশ্লেষণ:
কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না → এটি সরল বাক্য।

এর জটিল বাক্য রূপ হবে:
"যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. দূরবস্থা
  2. দুরবস্তা
  3. দুরবস্থা
  4. দুরবস্ত
সঠিক উত্তর:
দুরবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরবস্থা
ব্যাখ্যা
সঠিক বানানটি হবে - দুরবস্থা।
দুরবস্থা (বিশেষ্য) - 
অর্থ: দুর্দশা; দারিদ্র্য; দৈন্য।

• 'দুরবস্থা' শব্দটি বিসর্গ সন্ধিজাত। 
এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ: দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
কোনটিতে বাংলা বর্ণের যথাযথ ক্রম অনুসৃত হয়নি?
  1. ছ, জ, ঝ
  2. ড, ঢ, ণ
  3. ল, য, র
  4. ষ, স, হ
সঠিক উত্তর:
ল, য, র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল, য, র
ব্যাখ্যা
• ল, য, র - এখানে বাংলা বর্ণের যথাযথ ক্রম অনুসৃত হয়নি।
এর সঠিক রূপ- য, র, ল।
----------
• বাংলা বর্ণমালা:

- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ।
- এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
- তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।
- মূল বর্ণগুলো স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণে বিভক্ত।
- স্বরবর্ণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ ও ঔ = ১১টি

ব্যঞ্জনবর্ণ:
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ,
ত, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, র, ল,
শ, ষ, স, হ,
ড়, ঢ়, য়, ৎ,
ং, ঃ, ঁ,= ৩৯টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩১.
'গবাক্ষ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. যোগরূঢ়
  4. রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।।
উদাহরণ
গবাক্ষ = গো + অক্ষ, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- গোরুর অক্ষি বা চোখ;
কিন্তু 'গবাক্ষ' বলতে 'জানালা' বােঝায়। 

• এরূপ আরও শব্দ হলাে- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
″যাব আমি ভাত কলেজে খেয়ে।" - বাক্যটি সার্থক বাক্যের কোন গুণ হারিয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসক্তি
  3. আসত্তি
  4. যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা, 
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা।

• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশে বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

যেমন,
-'যাব আমি ভাত কলেজে খেয়ে।" - এই বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।

- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন- আমি ভাত খেয়ে কলেজে যাব। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

উৎস: : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩.
উৎসবের দিনগুলোতে শহরের মানুষদের ______ আর উত্তেজনা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
  1. উচ্ছ্বাষ
  2. উচ্ছাস
  3. উচ্ছ্বাশ
  4. উচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
উচ্ছ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
• এখানে "উচ্ছ্বাস" শব্দটি সঠিক বানান এবং এর অর্থ হলো আনন্দ, উৎসাহ বা উদ্দীপনা, যা বাক্যের প্রেক্ষিতে পুরোপুরি মানানসই।

• তাই বাক্যটি হবে- 
উৎসবের দিনগুলোতে শহরের মানুষদের উচ্ছ্বাস আর উত্তেজনা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

অন্যদিকে:
উচ্ছ্বাষ, উচ্ছাস, উচ্ছ্বাশ – এগুলো বানানগত অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. প্রোসিতভর্তৃকা
  2. ভৌগলিক
  3. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  4. সমিচীন
সঠিক উত্তর:
শ্রদ্ধাঞ্জলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রদ্ধাঞ্জলি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'শ্রদ্ধাঞ্জলি' - শব্দটি সঠিক বানানে লেখা হয়েছে, যা উৎসর্গ বা নিবেদন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 

অন্যান্য অপশনলিতে বানানগত অশুদ্ধি রয়েছে।
যেমন- 
ক) প্রোসিতভর্তৃকা – এর শুদ্ধ বানান - প্রোষিতভর্তৃকা।
খ) ভৌগলিক – শব্দটির সঠিক রূপ হলো - ভৌগোলিক।
ঘ) সমিচীন – সঠিক বানান হলো - সমীচীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।