পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২ টপিক: বাংলায় স্বাধীন সুলতানী আমল আফগান শাসন, বাংলায় মোঘল শাসন, নবাবী আমল ও পলাশী যুদ্ধ, উপমহাদেশে মুঘল শাসকগণ-দিল্লি সালতানাত মুঘল সম্রাটদের অবদান, ইতিহাসে ঢাকা নির্মাণ শৈলী ও প্রাচীন নাম। মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি [Live Class - 3 & 4 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
মুঘল সম্রাটদের মধ্যে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন -
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. হুমায়ুন
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবর
ব্যাখ্যা

মুঘল সম্রাটদের মধ্যে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন সম্রাট বাবর। তার রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তযুক-ই-বাবরী'। 

সম্রাট বাবর:

- জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ছিলেন ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
- বাবরের পিতা উমর শেখ মির্জা ছিলেন দুধর্ষ সমর নেতা তৈমুরের বংশধর এবং মাতা কুতলুঘ নিগার খানম ছিলেন মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খানের অধস্তন বংশধর ইউনুস খানের কন্যা।
- মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর পিতৃ সিংহাসনে উপবেশন করেন।
- বাবর অল্পদিনের মধ্যেই সমগ্র আফগানিস্তানে নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে 'পাদশাহ' (বাদশাহ) উপাধি গ্রহণ করে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কাবুলের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে উজবেকদের সাথে সংঘটিত এক যুদ্ধে বাবর পরাজিত হয়ে সমরকন্দ থেকে বিতাড়িত হন। অতঃপর মধ্য এশিয়ায় রাজ্য স্থাপন অসম্ভব মনে করে বাবর ভারতবর্ষের দিকে মনোনিবেশ করেন।

⇒  ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদীকে, ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে মেবারের রাজপুত নেতা রানা সংগ্রাম সিংহকে, ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে চান্দেরী অভিযানের সময় মেদেনী রাওকে এবং সর্বশেষ ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে গোগরার যুদ্ধে সম্মিলিত আফগান শক্তিকে পরাস্ত করার মধ্যে বাবরের উন্নত সামরিক কৌশল, রণনিপুণতা এবং একজন সফল সমর নায়কের কৃতিত্ব ফুটে উঠে। 

⇒ জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্য শাসন করেন। তাঁর সময় মুঘল সাম্রাজ্য পশ্চিমে কাবুল থেকে পূর্বে বিহার এবং উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে চান্দেরি পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। মাত্র চার বছরের সংক্ষিপ্ত রাজত্বকালে বাবর বিশাল সাম্রাজ্যে সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখেন।
- তবে বাবর খলিফার ক্ষমতাকে অস্বীকার করে স্বয়ং 'বাদশাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- বাবর সমগ্র সাম্রাজ্যব্যাপী ১৫ মাইল অন্তর অন্তর ডাকচৌকির ব্যবস্থা করেন।
- তিনি তুর্কি ও ফার্সি ভাষায় অসংখ্য কবিতা রচনা করেন। তাঁর রচিত তুর্কি কবিতার সংকলন 'দিওয়ান' নামে পরিচিত। জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের সাহিত্যানুরাগের শ্রেষ্ঠ নির্দশন তুর্কি ভাষায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তযুক-ই-বাবরী'। 'তুযুক-ই-বাবরী' মুঘল ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কোথায় রাজধানী স্থাপন করেন?
  1. গৌড়
  2. সোনারগাঁও
  3. একডালা
  4. বিহার
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।

⇒ ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।

⇒ ফখরুদ্দিন বাংলায় তাঁর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করলে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়। 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান।
- একজন যোগ্য শাসক ও কূটকৌশলী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন।
- তিনি তাঁর রাজ্যসীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অনেকটা সম্প্রসারণ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম বিজয় করেন এবং এ পর্যন্ত সমগ্র ভূ-ভাগে তাঁর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে ছিল। 
- তিনি তাঁর রাজ্যে অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ ইত্যাদি নির্মাণ করেন। 

⇒ ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন (১৩৪৬)।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মীর কাশিম কোন যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন?
  1. তুকারোইয়ের যুদ্ধ
  2. বক্সারের যুদ্ধ
  3. পলাশীর যুদ্ধ
  4. পানিপথের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- তার মাত্র চার বছরের রাজত্বকাল ১৭৬০ থেকে শুরু হয়ে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল।
 
⇒ মীর কাসিম নবাব হয়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন। ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন।
- নবাব মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের বিরোধ চরমে উঠলে তা পাটনায় সংঘর্ষের রূপ নেয়।
- এরপর ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল। নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়।
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।

.
মুর্শিদ কুলি খান কোন সম্রাটের আমলে বাংলার সুবাদার ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. বাহাদুর শাহ
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান: নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন। 

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি অসংখ্য উপাধি ও পদবিতে ভূষিত হন। প্রথমে তিনি ‘জাফর খান’ উপাধি পান এবং পরে তাঁকে ‘মুতামিন-উল-মুলক আলা-উদ-দৌলা জাফর খান নাসিরী নাসির জঙ্গ বাহাদুর' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে সাত হাজারি মনসব প্রদান করা হয়।
- ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যু হয়।

⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

.
স্বাধীন সুলতানী আমল কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. প্রায় ৫০ বছর
  2. প্রায় ১০০ বছর
  3. প্রায় ২০০ বছর
  4. প্রায় ৩০০ বছর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২০০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২০০ বছর
ব্যাখ্যা

সুলতানি আমল:
- ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে বাংলার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- এরপর থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না, বরং তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সুযোগ পেলেই স্বাধীনতার জন্য দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
- এজন্য বাংলাকে বুলঘাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।
- ১৩৩৮ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দু'শ বছর ধরে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা ভোগ করেছিল।

⇒ বাংলার এই স্বাধীন সুলতানি যুগে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, ইলিয়াস শাহী বংশ, রাজা গণেশের বংশ, হাবশি সুলতান এবং পরবর্তীতে হোসেন শাহী বংশের শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন।
- এ সময় বাংলার সুলতানগণ বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাসংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধন, জনকল্যাণকামী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন।
- তাই দু'শ বছরের এ স্বাধীন যুগটিকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সাত গম্বুজ মসজিদ কোন স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন?
  1. মুঘল
  2. সুলতানি
  3. নবাবী
  4. ইউরোপীয়
সঠিক উত্তর:
মুঘল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল
ব্যাখ্যা

সাত গম্বুজ মসজিদ:
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ।
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাতগম্বুজ মসজিদ'।
- এটি মুঘল আমলের অন্যতম নিদর্শন।
- ১৬৮০ সালে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ মসজিদটি নির্মান করান।
- মসজিদটি লালবাগ দূর্গ মসজিদ এবং খাজা আম্বর মসজিদ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

⇒ এর ছাদে রয়েছে তিনটি বড় গম্বুজ এবং চার কোণের প্রতি কোনায় একটি করে অনু গম্বুজ থাকায় একে সাত গম্বুজ মসজিদ বলা হয়।
- মসজিদের পূর্বপাশে এরই অবিচ্ছেদ্য অংশে হয়ে রয়েছে একটি সমাধি।
- কথিত আছে, এটি শায়েস্তা খাঁর মেয়ের সমাধি। সমাধিটি ‘বিবির মাজার’ বলেও খ্যাত। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।

.
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ পারস্যের কোন কবির সাথে পত্রালাপ করেন?
  1. হাফিজ
  2. রশিদউদ্দিন
  3. জামি
  4. ওমর খৈয়াম
সঠিক উত্তর:
হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাফিজ
ব্যাখ্যা

গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ:
- সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ পিতা সিকান্দর শাহকে পরাজিত ও নিহত করে ১৩৯৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।

⇒ গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং তিনি চীনে বিশেষ দূত প্রেরণ করেন। চীন সম্রাট ইয়াং লু'র সাথে তিনি দূত বিনিময় করেন। বাংলা থেকে ১৪০৫, ১৪০৮ ও ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দে চীন সম্রাটের দরবারে প্রতিনিধি দল প্রেরণ করা হয়, প্রত্যুত্তরে চীন সম্রাটও ১৪১১ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত চৈনিক দোভাষী মাহুয়ান-এর নেতৃত্বে একটি চীনা প্রতিনিধি দল বাংলায় প্রেরণ করেন। 

⇒ সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের একজন উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি নিজেও কাব্যচর্চা করতেন এবং ফারসি কবিতা রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন।
- পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সাথে তাঁর পত্রালাপ হত। তিনি তাঁকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।
- গিয়াসউদ্দিনের প্রশংসা করে কবি সুলতানকে ভারতবর্ষের তোতাপাখি বলে উল্লেখ করেছেন।

⇒ মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসে যে সকল শাসক শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এবং বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে উদার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তাঁদের মধ্যে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ অন্যতম। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভকরে শাহ মুহাম্মদ সগীর ইউসুফ জুলেখা কাব্য রচনা করেন। অনেক ঐতিহাসিক বলেন যে, তিনি বাংলা ভাষায় রামায়ণের রচিয়তা কৃত্তিবাসেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। 

⇒ আজম শাহ বাংলায় অগণিত মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, এতিমখানা ইত্যাদি নির্মাণ করেন। তিনি মক্কা ও মদিনায় মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য অর্থ ব্যয় করেন এবং দুই শহরের অধিবাসীদের মধ্যে বিলি করার জন্য বহু অর্থ প্রেরণ করেন। 

⇒ দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর সগৌরবে রাজত্ব শেষে ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দে আজম শাহ রাজা গণেশের চক্রান্তে নিহত হন। আজম শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সাইফউদ্দিন হামযা শাহ সিংহাসনে বসেন। তিনি মাত্র দু'বছর রাজত্ব করেন। রাজা গণেশের চক্রান্তে সুলতানের ক্রীতদাস শিহাবউদ্দিন তাঁকে হত্যা করে নিজেই সিংহাসনে আরোহণ করেন। বায়েজিদ শাহ উপাধিধারী এই শাসক সম্ভবত: গণেশের চক্রান্তে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর বায়েজিদের পুত্র আলাউদ্দিন ফিরোজশাহ সুলতান হন। পরবর্তীতে রাজা গণেশ তাকে অপসারণ করে নিজেই সিংহাসনে বসেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
"The Prince of Builders or Engineer King" নামে পরিচিত কে?
  1. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  2. আকবর 
  3. জাহাঙ্গীর
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র ছিলেন সম্রাট শাহজাহান। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর শাহজাহান ১৬২৮ খ্রি. ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজী উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। আসফ খানকে শাহাজাহান 
- শাহজাহানের রাজত্বকাল মুঘল ইতিহাসের স্বর্ণময় এক অধ্যায়।
- তিনি ছিলেন তার পূর্ববর্তী শাসকদের মতই সামরিক প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনায় দক্ষ এক নৃপতি।
- তার সময়কাল মুঘল ইতিহাসের চিত্রকলা ও স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ বলে বিবেচিত ও প্রশংসিত। 
- মুঘল ইতিহাসে তিনি প্রিয়তমা পত্নীর স্মৃতিতে তাজমহলের স্রষ্টা ও 'Prince of builders' নামে আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন।

⇒ মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল "The Age of Marble" নামে খ্যাত।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন শিল্পকলা, স্থাপত্য ও সৌন্দর্যের পূজারী। তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে "The Prince of Builders or Engineer King" নামে পরিচিত। তার স্থাপত্যরীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তিনি লাল পাথরে স্থলে মূল্যবান শ্বেত মর্মম পাথর (White marbel) ব্যবহার করেছেন।
- তার রাজত্বকালে দিল্লি, আগ্রা, লাহোরে ব্যাপক স্থাপত্য শৈলী তৈরী করা হয়েছিল।
- কাবুল, কান্দাহার ও কাশ্মিরে মনোরম উদ্যান, প্রাসাদ, মসজিদ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল।
- রাজধানী আগ্রাতে তিনি নির্মাণ করেছিলেন দীউয়ান-ই-আম, দীউয়ান-ই-খাস, মোতি মসজিদ, সালিমার উদ্যান, শীষ মহল ইত্যাদি।
- শাহজাহান ১৬৩৮ খ্রি. রাজধানী আগ্রা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করেন এবং নতুন নগরীর নাম দেন শাহজাহানাবাদ। এখানে তিনি লালকেল্লা, মমতাজ মহল ইত্যাদি নির্মাণ করেন।
- তার মসজিদ স্থাপত্যের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির জামে মসজিদ।
- এছাড়াও তিনি বহু মূল্যবান রত্ন খচিত জগৎবিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন তৈরি করেন।

⇒ সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। ভারতীয় ও পারসিক শিল্পকলার মিলন ঘটিয়ে তাজমহল নির্মিত হয়েছে। 

⇒ আওরঙ্গজেব তার পিতা শাহজাহানকে আগ্রাদুর্গে বন্দি করে রাখেন।
- পুত্র আওরঙ্গজেব কর্তৃক দীর্ঘ আট বছর আগ্রা দুর্গে অন্তরীণ থেকে ১৬৬৬ খ্রি. ২২ জানুয়ারি ৭৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'তারা মসজিদ'-এর নির্মাতা কে?
  1. নবাব আব্দুল গণি 
  2. শায়েস্তা খান 
  3. মির্জা আহমদ জান
  4. শেখ এনায়েত উল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মির্জা আহমদ জান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মির্জা আহমদ জান
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- বাংলাদশের পুরানো ঢাকার আরমানিটোলা-র আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত ‘তারা মসজিদ’।
- খ্রিষ্টীয় আঠারো শতকে ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।
- তারা মসজিদের আরও কিছু প্রচলিত নাম আছে, যেমন, মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ বা সিতারা মসজিদ।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

⇒ সতের শতকে দিল্লি, আগ্রা ও লাহোরে নির্মিত মোঘল স্থাপত্য শৈলী অনুসরণে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
- মসজিদের কোথায়ও এর তৈরির সময় উল্লেখ নেই বলে কবে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়, তার সুস্পষ্ট কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
- তবে, মসজিদটি তৈরির পর ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে মির্জা গোলাম পীর মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন।
- এই সময় মসজিদটির আকার বৃদ্ধি করা হয়।
- ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে এই মসজিদটির পুনরায় সংস্কার করা হয়।
- এই সময় পুরনো একটি মেহরাব ভেঙে দুটো গম্বুজ আর তিনটি নতুন মেহরাব বানানো হয়।
- সব মিলিয়ে বর্তমানে এর গম্বুজ সংখ্যা পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে।
- এর ফলে মসজিদের জায়গা সম্প্রসারিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১০.
সুবাদার ইসলাম খান বাংলার রাজধানী কোথায় স্থানান্তর করেন?
  1. ঢাকা থেকে রাজমহল
  2. রাজমহল থেকে ঢাকা
  3. রাজমহল থেকে সোনারগাঁও
  4. মুর্শিদাবাদ থেকে ঢাকা
সঠিক উত্তর:
রাজমহল থেকে ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজমহল থেকে ঢাকা
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।

উল্লেখ্য,
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- নিয়োগ লাভ করে তিনি অনতিবিলম্বে বাংলার তদানীন্তন রাজধানী বিহারের রাজমহল-এ চলে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন। 

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং ঢাকার ধোলাই খাল খনন করেন।
- বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন শাহ সুজা।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১.
‘ব্ল্যাক হোল ট্র্যাজেডি’ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৫ সালে
  2. ১৭৫৬ সালে
  3. ১৭৫৭ সালে
  4. ১৭৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

অন্ধকূপ হত্যা (ব্ল্যাক হোল ট্র্যাজেডি):
- অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

 
⇒ নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।
- হলওয়েল, জন জেফেনিয়াহ বহুল আলোচিত অন্ধকূপ হত্যা কাহিনীর রচয়িতা।
- উনিশ শতকের প্রথম দিকের অধিকাংশ ইংরেজ ইতিহাসবিদ এ কাহিনী বিশ্বাস করেন এবং অন্ধকূপ হত্যার ঘটনাকে প্রাচ্যদেশীয় শাসকদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার জঘন্য নিদর্শনরূপে গণ্য করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।
- সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নবাবের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতেই ঘটেছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
হোসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান কে ছিলেন?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. নসরত শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা

গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ:
- গিয়াসউদ্দিন মহমুদ শাহ ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি ছিলেন হোসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান এবং একজন অযোগ্য শাসক।
- এ সময় শের খান নামক একজন তরুণ আফগান দলপতির আবির্ভাব ঘটলে তিনি বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়েন।
- শের খান কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে বিহারের শাসনকর্তা জালাল খান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের শরণাপন্ন হন।
- এর ফলে শের খানের সাথে মাহমুদ শাহের যুদ্ধ বাঁধে।
- ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরুজগড়ে সংঘটিত যুদ্ধে শেরখান মাহমুদ শাহের বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- অবশেষে শের খান ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে গৌড় সংঘটিত যুদ্ধে সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদের বাহিনীকে পরাজিত করে গৌড় অধিকার করে নেন।
- তিনি মাহমুদ শাহকে বঙ্গ দেশ থেকে বিতাড়িত করলে হোসেন শাহী বংশের শাসনের পরসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
পলাশীর যুদ্ধের ফলে কারা উপমহাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল?
  1. পর্তুগিজরা
  2. ফরাসিরা
  3. ডাচরা
  4. ডেনিশরা
সঠিক উত্তর:
ফরাসিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসিরা
ব্যাখ্যা

পলাশী যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- নবাবের পক্ষে সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ছিল মাত্র ৩ হাজার।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
কত শতকে ঢাকার আর্মেনীয় গির্জা নির্মিত হয়?
  1. সপ্তদশ শতক
  2. অষ্টাদশ শতক
  3. ঊনবিংশ শতক
  4. বিংশ শতক
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতক
ব্যাখ্যা

আর্মেনীয় গির্জা:
- পুরনো ঢাকার আর্মেনীটোলায় যে আর্মেনীয় গীর্জাটি রয়েছে তা-ই ‘আর্মেনিয়ান চার্চ’ (Armanian Church)  হিসেবে পরিচিত।
- এটি নির্মিত হয় ১৭৮১ সালে। 
- গির্জা নির্মাণের পূর্বে ওই স্থানে ছিল আর্মেনীয়দের একটি কবরস্থান।
- গীর্জা নির্মাণের জন্য গোরস্থানের আশেপাশে যে বিস্তৃত জমি তা দান করেছিলেন আগা মিনাস ক্যাটচিক নামের এক আর্মেনীয়।
- আর লোকশ্রুতি অনুযায়ী গীর্জাটি নির্মাণে সাহায্য করেছিলেন চারজন আর্মেনীয়।
- এরা হলেন মাইকেল সার্কিস, অকোটাভাটা সেতুর সিভর্গ, আগা এমনিয়াস এবং মার্কার পোগজ।

⇒ গীর্জাটি লম্বায় সাড়ে সাতশো ফুট, দরজা চারটি, জানালা সাতটি।
- এর পাশেই ছিলো একটি ঘড়িঘর। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ঘড়িঘরটি ভেঙে গিয়েছিলো বলে জানা যায়।
- গীর্জায় বৃহৎ আকারের একটি ঘণ্টা ছিলো। এই ঘণ্টা বাজার শব্দ নগরের প্রায় সব স্থান থেকে শুনা যেত বলে সাক্ষ্য পাওয়া যায়। এই ঘণ্টার শব্দ শুনেই নাকি অধিকাংশ ঢাকাবাসী নিজ নিজ সময়ঘড়ি ঠিক করে নিতেন। ১৮৮০ সালের দিকে আর্মেনী গীর্জার এই বিখ্যাত ঘণ্টাটি স্তব্ধ হয়ে যায়, যা আর কখনো বাজেনি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৫.
কোন যুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করা হয়?
  1. খানুয়ার যুদ্ধ
  2. গোগরার যুদ্ধ
  3. তরাইনের যুদ্ধ
  4. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- স্থান: বর্তমান ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে হরিয়ানা রাজ্য।
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল।
- বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী।
- ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন।
- সম্রাট বাবর এই যুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। ভারতবর্ষে তিনিই সর্বপ্রথম গোলন্দাজ বাহিনী নামে একটি বিশেষ বাহিনী গড়ে তুলেন।
- ফলাফল: শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। ফলে উপমহাদেশে সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদীকে, ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে মেবারের রাজপুত নেতা রানা সংগ্রাম সিংহকে, ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে চান্দেরী অভিযানের সময় মেদেনী রাওকে এবং সর্বশেষ ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে গোগরার যুদ্ধে সম্মিলিত আফগান শক্তিকে পরাস্ত করার মধ্যে বাবরের উন্নত সামরিক কৌশল, রণনিপুণতা এবং একজন সফল সমর নায়কের কৃতিত্ব ফুটে উঠে। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
ঢাকেশ্বরী মন্দির কোন রাজাদের শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. সেন 
  2. শাহী
  3. নবাবী
  4. গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন 
ব্যাখ্যা

ঢাকেশ্বরী মন্দির:
- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ঢাকেশ্বরী একটি মন্দির।
- এই মন্দিরটি বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত।

⇒ ঢাকার পুরোনো ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো ঢাকার শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির।
- মন্দির অঙ্গনে প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি সিংহদ্বার। সিংহদ্বারটি নহবতখানা তোরণ নামে অভিহিত।

⇒ ধারণা করা হয়, সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন ১২শ শতাব্দীতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তবে সেই সময়কার নির্মাণশৈলীর সঙ্গে এর স্থাপত্যকলার মিল পাওয়া যায় না বলেও অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন।
- এটি ঢাকার আদি ও প্রথম মন্দির।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭.
বাংলার ইতিহাসে প্রথমবার সমগ্র বাংলা একত্রিত করেছিলেন কে?
  1. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. আলাউদ্দিন খলজি
  4. নাসিরউদ্দিন নসরত শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করলেও সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
 
উল্লেখ্য,
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।
 
উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
কোন মুঘল সম্রাট ভারতকে সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করেন?
  1. হুমায়ূন 
  2. জাহাঙ্গীর 
  3. আওরঙ্গজেব 
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- যুদ্ধক্ষেত্র, সমরনীতি, কূটনীতি ও প্রশাসন সকল ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মুঘলদের মধ্যে সর্বশেষ্ঠ শাসক। ইতিহাসে তাই তিনি 'Akbar the Great' নামে পরিচিত।
- সম্রাট হুমায়ুন যখন শেরশাহ এর নিকট পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত হয়ে স্ত্রী হামিদাবানুকে নিয়ে পারস্য অভিমুখে যাত্রাকালে, রাজস্থানের অমরকোটে ২৩ নভেম্বর, ১৫৪২ সালে আকবর জন্মলাভ করেন।
- জন্মের পর হুমায়ুন শিশুপুত্রের নামকরন করেন জালালউদ্দিন। 

⇒ ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- উত্তরে কাশ্মীর হতে দক্ষিণে আহমেদনগর ও মধ্য এশিয়ার কাবুল কান্দাহার হতে পূর্ব বাংলা পর্যন্ত একচ্ছত্র মুঘল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এটিই দ্বীন-ই-ইলাহি নামে পরিচিত।

⇒ সুবিশাল ভারতকে শাসন করার জন্য আকবর তার সাম্রাজ্যকে ১৫৮২ খ্রি. ১৫টি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং সুবার শাসক হিসেবে ১ (এক) জন সুবাদার নিয়োগ করেন। 
- সুবাদার ছাড়াও প্রদেশের এ শাসনকার্যে একজন দিওয়ান, আমিল, ফৌজদার, কাজি ইত্যাদি পদের রাজকর্মচারি ছিলেন।
- শাসনকার্যের সুবিধার জন্য প্রত্যেক সুবাকে কতগুলো সরকার ও প্রত্যেক সরকারকে কতগুলো পরগনায় বিভক্ত করেছিলেন।

⇒ রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য আকবর শের শাহের রাজস্ব নীতি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
- আকবর ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- সম্রাট আকবর পদাতিক, অশ্বারোহী, গোলন্দাজ ও নৌ-বাহিনী এই চার ভাগে তার সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করেন। 
- কৃষিকাজের ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে। 
- তিনি ছিলেন ভারতবর্ষে আধুনিক শাসনের রূপকার ও শ্রেষ্ঠ মুঘল সম্রাট।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।