পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪৪: বাংলা পদ প্রকরণ, কাল, উপসর্গ, বাক্য।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
‘ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে’ বাক্যে ‘নইলে’ কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) আবেগ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।
- যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘গুণবান ব্যক্তি বিনয়ী হয়’ বাক্যটির মিশ্ররূপ কোনটি?
  1. ক) যিনি গুণবান তিনি বিনয়ী হন
  2. খ) গুণবান ব্যক্তি মানেই বিনয়ী ব্যক্তি
  3. গ) গুণবান ব্যক্তি হন বিনয়ী
  4. ঘ) গুণবান ব্যক্তি সবসময় বিনয়ী
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য: গুণবান ব্যক্তি বিনয়ী হন।
- জটিল/মিশ্র বাক্য: যিনি গুণবান ব্যক্তি তিনি বিনয়ী হন।
• জটিল বা মিশ্রবাক্য:
- যে বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্যর সমন্বয়ে বা দুটো খণ্ডবাক্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় বা যে বাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে তাকে জটিল বাক্য বলে।
- এখানে প্রধান খণ্ডবাক্যটি স্বাধীন এবং অপ্রধান খণ্ডবাক্যটি তার অধীন বা আশ্রিত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘আগামী কাল একটি বিজয় দিবস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১৬ই ডিসেম্ব হবে আমাদের স্কুলে উপলক্ষে’- বাক্যটি কোন গুণ হারিয়েছে?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) সহজবোধ্যতা
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
- এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা

• আকাঙ্ক্ষা: ‘আকাঙক্ষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা, বাসনা। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

• আসত্তি: আসত্তি শব্দের অর্থ নৈকট্য। মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।
- ‘আগামী কাল একটি বিজয় দিবস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১৬ই ডিসেম্ব হবে আমাদের স্কুলে উপলক্ষে’- বাক্যটিতে পদবিন্যাস সঠিক বা সুশৃঙ্খল না হওয়ায় বাক্যটি  আসত্তি গুণ হারিয়েছে।
• শুদ্ধরূপ: আগামী কাল ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের স্কুলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

• যােগ্যতা: বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।
.
বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. খ) পুরাঘটিত বর্তমান
  3. গ) ঘটমান বর্তমান
  4. ঘ) সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
অতীত কাল: যে ক্রিয়া পূর্বেই ঘটে গেছে তাতে অতীত কাল বলে। যেমন:
- তিনি ঢাকায় গেলেন।
- আমি বাড়ি ফিরলাম।

অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন: 
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।
- বাতিটি নিভে গেল।

২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।

.নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘তপুর বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধি’- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) তপুর বয়স অল্প হলেও বুদ্ধিমান
  2. খ) যদিও তপুর বয়স অল্প তথাপি সে বেশ বুদ্ধিমান
  3. গ) তপুর বয়স অল্প কিন্তু সে বুদ্ধিমান
  4. ঘ) তপুর বয়স অল্প এবং যে বুদ্ধিমানি
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য: তপুর বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
- জটিল বাক্য: যদিও তপুর বয়স অল্প তথাপি সে বেশ বুদ্ধিমান।

• জটিল বা মিশ্রবাক্য:
- যে বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্যর সমন্বয়ে বা দুটো খণ্ডবাক্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় বা যে বাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে তাকে জটিল বাক্য বলে।
- এখানে প্রধান খণ্ডবাক্যটি স্বাধীন এবং অপ্রধান খণ্ডবাক্যটি তার অধীন বা আশ্রিত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) আড়চোখ
  2. খ) অবতরণ
  3. গ) অভিযান
  4. ঘ) আমদরবার
ব্যাখ্যা
•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘আড়’ বাঁকা অর্থে - আড়চোখ, আড়নয়ন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে’ কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) সংযুক্ত
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
• যেমন -
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
.
পদ/পদ প্রকরণ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) বাক্যতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) রূপতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
প্রতিটি ভাষারই ৪টি মৌলিক অংশ থাকে-
১. ধ্বনি,
২.শব্দ,
৩. বাক্য ও
৪. অর্থ।

আর তাই সব ভাষার ব্যাকরণই প্রধানত এই ৪টি অংশ নিয়েই আলোচনা করে। অর্থাৎ, ব্যাকরণের বা বাংলা ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয়/ অংশ ৪টি-
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)

বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম:
- পদ প্রকরণ (শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে তখনই সেটাকে পদ বলে। তাই পদ বাক্যের ও পদ প্রকরণ বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- ক্রিয়াপদ
- কারক ও বিভক্তি (বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে। বাক্যের অন্তর্গত পদ নিয়ে কাজ করে বলে কারকও বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- কাল
- পুরুষ
- অনুসর্গ
- বাগধারা
- বাচ্য
- উক্তি
- যতি ও ছেদ চিহ্ন (বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে যতি বা ছেদ চিহ্ন ব্যবহার হয়। অর্থাৎ, এরা বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বাক্যের প্রকারভেদ
- বাক্যে পদ-সংস্থাপনার ক্রম বা পদক্রম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি।
.
‘চটপটে ছেলে’ এখানে ‘চটপটে’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়।
যেমন:
- সাদা বাড়ি।
- সুন্দর বাগান।
- চটপটে ছেলে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
যদি তুমি সাবধান না হও তাহলে বিপদ হবে- বাক্যটি-
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) সংযুক্ত বাক্য
ব্যাখ্যা
- যদি তুমি সাবধান না হও তাহলে বিপদ হবে- বাক্যটি জটিল বাক্য।
জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
আমি আপনার আশায় খবরটি পৌছে দিব- বাক্যটি-
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ কালের
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের
  4. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা কালের
ব্যাখ্যা
আমি আপনার আশায় সংবাদটি পৌঁছে দিব।- এ বাক্যে ভবিষ্যৎ কালে ক্রিয়াটি সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে বোঝাচ্ছে। কাব্যটিতে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়া রয়েছে।


যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কালের চারটি রূপ রয়েছে। যথা:
১. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
২. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
৩. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
৪. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা

• পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল: ভবিষ্যৎ কালে কোনো ক্রিয়া সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে, এরূপ বোঝালে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমার কথা হয়তো মনে পড়ে থাকবে।

মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ পুরাতন সংস্করণ অনুসারে,

পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রকাশের জন্য মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়া বিভক্তি- ইয়া/ এ যোগ করে এবং ধাতুর সঙ্গে সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত করে যৌগিক ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
যে বাক্যে ভবিষ্যৎ কালে ক্রিয়াটি সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে বোঝায় তা পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল। 
তাই এটা পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে বা পরে সংঘঠিত হবে তাই সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল।
যেমন- আমি ভাত খাব। রানা স্কুলে যাবে।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (১ম খণ্ড) অনুসারে,

পুরাঘটিত ভবিষ্যতের অর্থ বাংলায় ঠিক নির্মিত হয়না।
'বলে থাকব, খেয়ে থাকব, পড়ে থাকব'- ইত্যাদি প্রয়োগ খানিকটা সংশয়বাচক অর্থ প্রকাশ করবে।
এ থেকে বোঝা যায়- পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালে এ ধরনের 'বলে থাকব, খেয়ে থাকব, পড়ে থাকব' শব্দ ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে 'যাব, শুনব' এ ধরনের শব্দ ব্যবহৃত হয় এবং কোন নিজস্ব বিভক্তি যুক্ত হয়না।
 
সে হিসাবে 'আমি আপনার আশায় সংবাদটি পৌঁছে দিব' বাক্যটি সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল।

(প্রশ্নটি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি ড. হায়াৎ মামুদের বই থেকে হুবুহু করা হয়েছিল। )
১২.
‘আমি নিজে নিজে অঙ্কটা করেছি’- বাক্যে ‘নিজে’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম: সর্বনাম বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ্যের মতোই কারক ও বচন ভেদে তার রূপের পরিবর্তন হয়।
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে- এ ভাব রেজার দিয়ে বোঝানোর জন্য আত্মবাচক সর্মনাম ব্যবহৃত।
যেমন:
- আমি নিজে নিজে অঙ্কটি করেছি।
- তিনি স্বয়ং আমাকে দেখতে আসবেন।
- যাত্রীরা স্ব স্ব আসনে গিয়ে বসলেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
‘ঘণ্টা বেজে উঠল‘ কোন ধরণের ক্রিয়াপদ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ধাতুর ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
"ঘণ্টা বেজে উঠল"- বাক্যে 'বেজে উঠা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
অভাব অর্থে ব্যবহৃত উপসর্গ কোনটি?
  1. ক) হাঘরে
  2. খ) বিফল
  3. গ) কদাকার
  4. ঘ) কুকাজ
ব্যাখ্যা
•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- অভাব অর্থে ব্যবহৃত খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘হা’ যোগে গঠিত শব্দ - হাভাত, হাঘরে, হাপিত্যেশ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।