পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes২১ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১০ টপিক: রিভিশন (পরীক্ষা ৮ ও ৯) [Live Class – 12 to 15]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
বন্যা হওয়ার প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
  1. ফারাক্কা বাঁধ
  2. নদীর গভীরতা কম
  3. অপরিকল্পিত নগরায়ণ
  4. জলাশয় ভরাট
সঠিক উত্তর:
নদীর গভীরতা কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর গভীরতা কম
ব্যাখ্যা
• বন্যা হওয়ার প্রাকৃতিক কারণ নদীর গভীরতা কম।

• বন্যার কারণ (Causes of Flood):
- বন্যা হওয়ার দুটি কারণ যথা : ১. প্রাকৃতিক কারণ, ২. মানব-সৃষ্ট কারণ।

• প্রাকৃতিক কারণ:
- উজানে প্রচুর বৃষ্টি;
- ভৌগোলিক অবস্থান;
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব;
- নদীর গভীরতা কম;
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ;
- বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা।
- ভূমিকম্প।

•মানব-সৃষ্ট কারণ:
- নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন ;
- গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ;
- অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব;
- অপরিকল্পিত নগরায়ণ;
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- জলাশয় ভরাট।

• বন্যা :
- বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম।
- এ দেশের বন্যা অর্থনৈতির ওপর ভয়াবহ  প্রভাব ফেলে।
- প্রকৃতপক্ষে এ দেশের প্রেক্ষিতে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতিসাধন হয় তাহলেই বন্যা হয়েছে বলে ধরা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
বন্যা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ব্যবস্থাপনা-
  1. সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
  2. রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
  3. নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
  4. নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।
সঠিক উত্তর:
নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
ব্যাখ্যা
• বন্যা নিয়ন্ত্রণ সাধারণের ব্যবস্থাপনা - নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control Measures)

• সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management):
- সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
-  নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
-  নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
-  বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
- পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
-  প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

• শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা (Labour intensive and expensive engineering management):
-  ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন করে পানির পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
-  সন্নিহিত স্থানে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা।
সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
- নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।

• সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা (Easy engineering management):
-  নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
-  দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
- রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
- বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
- শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
খরার প্রভাব দেশের কোন অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়?
  1. পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
- দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।

• খরা (Drought) :
- দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে।
- অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়।
- সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।

• অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব:
- আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
- প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে
- পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে
- অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের মূখ্য উপাদান কোনটি?
  1. প্রশমন
  2. সাড়াদান
  3. পুনরুদ্ধার 
  4. উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উপাদান:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি 
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার 
- উন্নয়ন। 
- প্রতিরোধ, প্রশমন, পূর্বপ্রস্তুতি হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
’মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি’ কী ধরনের বনভূমি?
  1. চিরহরিৎ বনভূমি
  2. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি
  3. স্রোতজ বনভূমি
  4. পার্বত্য বনভূমি
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
- বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮%। বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০.৭৪%।
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত। পা
- হাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র ভূমির কারণে বাংলাদেশে চিরহরিৎ অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে।
- উষ্ণ ও আর্দ্র ভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা জন্ম নেয়।
- এসব গাছের পাতা একসঙ্গে ফোটে না, ঝরেও না। ফলে বনগুলো সারা বছর সবুজ থাকে।

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
 (ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
 (খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেসায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্ত সীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: প্রথম আলো এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
ধলেশ্বরীর শাখা নদী কোনটি?
  1. ধরলা
  2. বুড়িগঙ্গা
  3. করতোয়া
  4. আত্রাই
সঠিক উত্তর:
বুড়িগঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড়িগঙ্গা
ব্যাখ্যা
• ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা :
- তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে।
- আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি এক সময়ে ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমদিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো।
- কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়।
- এই নতুন স্রোত ধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়।
- এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত।
- যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী
- এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী-বুড়িগঙ্গা।

অন্যদিকে,
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
- করতোয়া ও আত্রাই হলো যমুনার উপনদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
  1. সেলসিয়াস স্কেল
  2. রিখটার স্কেল
  3. ক্রমিক স্কেল
  4. অনুপাত স্কেল
সঠিক উত্তর:
রিখটার স্কেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিখটার স্কেল
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্প (Earthquake) :
- বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম ভূমিকম্প। ভূমিকম্প হলো খুবই অল্প সময়ের জন্য মাটির কম্পন বা ঝাঁকুনি। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূগর্ভ।

• ভূমিকম্পের কারণঃ
- টেকটনিক প্লেটের স্থানান্তর,
- অগ্ন্যুৎপাত
-  ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপ বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- তাপ বিকিরণ

• ভূমিকম্পের কেন্দ্রঃ
- ভূঅভ্যন্তরে যে স্থানে প্রথম কম্পন হয় (অগভীর কেন্দ্র ০-৭০কি.মি,
- মধ্যপর্যায়ের কেন্দ্র ৭০-৩০০কি.মি, গভীর কেন্দ্র ১৩০০কি.মি)

• উপকেন্দ্রঃ
ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক সোজা উপরে ভূপৃষ্ঠের স্থান ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রঃ রিখটার স্কেল (মাত্রা ০-১০)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম ও দশম শ্রেণি।
.
হালদার প্রধান উপনদী-
  1. টংকাবতী
  2. ধুরুং
  3. সাঙ্গু নদী
  4. খুরং
সঠিক উত্তর:
ধুরুং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুরুং
ব্যাখ্যা
হালদা নদী :
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার একটি নদী।
- বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়ে বঙ্গপোসাগরে পতিত হওয়া একমাত্র নদী হালদা নদী।
- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।
- হালদা নদী (Halda River) পার্বত্য চট্টগ্রামের বদনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে। 
- হালদা নদী হলো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র। 
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।

উৎস: হাটহাজারী উপজেলা ওয়েবসাইট।
.
ভূ-অভ্যন্তরে বড় রকমের শিলাচ্যুতি ঘটলে কী হয়?
    অনির্ধারিত
    ব্যাখ্যা
    - ভূ-অভ্যন্তরে বড় রকমের শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়

    • ভূমিকম্পের কারণ:
    ভূমিকম্পের উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. ভূ-ত্বক সাতটি বৃহৎ এবং কতকগুলো ছোট প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহ একে অপরের দিকে, একে অপরের বিপরীতে অথবা পরস্পর সমান্তরালভাবে সঞ্চালিত হয়। এইরূপ সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট চাপ থেকে আকস্মিকভাবে প্রচণ্ড কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূ-পৃষ্ঠে
    এই কম্পন ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
    ২. কোনো কারণে ভূ-অভ্যন্তরে বড় রকমের শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়।
    ৩. ভূ-আলোড়নের ফলে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবল ফ্রিকশান হয়ে কোনো অংশ ধসে পড়ে ভূ-ত্বক কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়।
    ৪. উত্তপ্ত ভূ-অভ্যন্তর তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে শিলাস্তরে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য স্থান পরিবর্তন করলে ভূ-ত্বক কেঁপে উঠলে ভূমিকম্প হতে পারে।
    ৫. ভূ-গর্ভে সঞ্চিত বাষ্পচাপ অধিক হলে নিম্নভাগে প্রবলভাবে ধাক্কা দেয়, এতে ভূমিকম্প দেখা দিতে পারে।

    উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, উচ্চমাধ্যমিক, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১০.
    বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত নদী কয়টি?
    1. ৫৪ টি
    2. ৫৭ টি
    3. ৫৯ টি
    4. ৭২ টি
    সঠিক উত্তর:
    ৫৭ টি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ৫৭ টি
    ব্যাখ্যা

    • বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত নদী- ৫৭ টি।
    • ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদী- ৫৪ টি।
    • বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী ৩টি, (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)। 
    • আন্তর্জাতিক নদী- ১ টি। (পদ্মা)

    উৎস: যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ

    ১১.
    ’গরান বৃক্ষ' কোন বনভূমির অন্তর্গত?
    1. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি
    2. স্রোতজ বনভূমি
    3. পার্বত্য বনভূমি
    4. চিরহরিৎ বনভূমি
    সঠিক উত্তর:
    স্রোতজ বনভূমি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    স্রোতজ বনভূমি
    ব্যাখ্যা
    ’গরান বৃক্ষ' স্রোতজ বনভূমির অন্তর্গত।

    • স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:

    - এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।
    - বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ খুলনা এবং দক্ষিণ পূর্বাংশে নোয়াখাসী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে জোয়ার ভাটার লোনা ও ভেজা মাটিতে যেসব উদ্ভিজ্জ জন্মায় তাদের স্রোতজ বা গরান বনভূমি বলা হয়।
     - প্রধানত সুন্দরবনে এসব উদ্ভিদ বেশি জন্ম নেয়।
    - স্যাঁতসেঁতে লোনা পানিতে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, ফুন্দল, কেওড়া, বাইন, গরান, গোলপাতা ইত্যাদি বৃক্ষ এ বনভূমির অন্তর্গত।
    -উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্ত সীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।

    উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
    ১২.
    পশুর নদীর তীরে কোন বন্দর অবস্থিত?
    1. পায়রা বন্দর
    2. মোংলা বন্দর
    3. মাতারবাড়ি বন্দর
    4. চট্টগ্রাম বন্দর
    সঠিক উত্তর:
    মোংলা বন্দর
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    মোংলা বন্দর
    ব্যাখ্যা
    • পশুর নদী:
    - পসুর নদী (Pasur River)  সুন্দরবনের এক অতি বৃহৎ নদী, প্রকৃতপক্ষে রূপসা নদীরই বর্ধিত রূপ।
    - পশুর নদীর তীরে মোংলা বন্দর অবস্থিত।
    - এটি আরও দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে ত্রিকোনা ও দুবলা দ্বীপদ্বয়ের ডানদিক দিয়ে মংলা বন্দরের দক্ষিণে সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
    - প্রায় ১৪২ কি. মি. দীর্ঘ ও ৪৬০ মিটার থেকে ২.৫ কি. মি প্রশ্ন এই নদীর গভীরতা এত বেশি যে, সারা বছর সমুদ্রগামী জাহাজ এর মোহনা দিয়ে অনায়াসে মংলা সমুদ্রবন্দরে প্রবেশ করতে পারে।
    - খুলনা-বরিশাল নৌপথ হিসেবে পশুর নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

    উৎস: বাংলাপিডিয়া।
    ১৩.
    চা চাষের জন্য কেমন জলবায়ু প্রয়োজন?
    1. গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু
    2. নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
    3. উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু
    4. হিমমণ্ডলীয় জলবায়ু
    সঠিক উত্তর:
    উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু
    ব্যাখ্যা
    • চা (Tea)
    - বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম।
    - দেশে উৎপাদিত চা-এর প্রায় বেশিরভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়।
    - পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়।
    - মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে।
    - এছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষ হচ্ছে।
    - চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন।
    - ১৬০ থেকে ১৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
    ১৪.
    পদ্মা নদী কোথায় থেকে উৎপত্তি লাভ করে?
    1. হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গ
    2. নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন
    3. লুসাই পাহাড়
    4. হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ
    সঠিক উত্তর:
    হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ
    ব্যাখ্যা
    • পদ্মা:
    - বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা।
    - ভারতে এই নদীর নাম গঙ্গা।
    - গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভকরেছে।
    - এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
    - এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
    - গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
    - এরপর দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
    - গঙ্গার মূল ধারা হওয়াতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এই নদীটি গঙ্গা।
    - কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখানদী।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
    ১৫.
    নিচের কোন জেলায় কঠিন-শিলা খনি পাওয়া গেছে?
    1. দিনাজপুর
    2. নেত্রকোনা
    3. খুলনা
    4. বরিশাল
    সঠিক উত্তর:
    দিনাজপুর
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    দিনাজপুর
    ব্যাখ্যা
    বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ:

    • কঠিন শিলা (Hard Rock):
    - রেলপথ, রাস্তাঘাট, গৃহ, সেতু ও বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।
    - রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার  পার্বতীপুর, কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
    - রংপুরের রানীপুকুর থেকে বৈদেশিক সহযোগিতায় শিলা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
    - বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, এখান থেকে বছরে প্রায় ১৭ লক্ষ টন শিলা উত্তোলন করা যাবে। 

    • খনিজ তেলঃ
    - দেশের একমাত্র খনিজ তেলক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
    - এ তেলক্ষেত্রে তেলের মোট মজুতের পরিমাণ প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল।
    - ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে হরিপুর তেলক্ষেত্র থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
    - উৎপাদন শুরুর পরবর্তী সাড়ে ছয় বছরে এ তেলক্ষেত্র থেকে ০.৫৬ মিলিয়ন ব্যারেল খনিজ তেল উৎপাদন করা হয়।
    - ১৯৯৪ সালের জুলাই মাস থেকে তেল উৎপাদন স্থগিত হয়ে যায়।
    - বিশেষজ্ঞগণের মতে, হরিপুর তেলক্ষেত্রটিকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা হয় নি এবং সঠিক উপায়ে মূল্যায়নকার্য পরিচালনার পর পূর্ণমাত্রায় তেল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

    * প্রাকৃতিক গ্যাসঃ
    - মোট বানিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের ৭১% পূরণ হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে
    - আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯টি
    - সর্বশেষে গ্যাসক্ষেত্র- ভোলা জেলার ইলিশা-১।
    - সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র- তিতাস।

    উৎস: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি এবং
    খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো
    ১৬.
    বাংলাদেশের কোন মাটি গম চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক?
    1. দোআঁশ মাটি
    2. পলিমাটি
    3. এটেল মাটি
    4. পলি দোঁআশ
    সঠিক উত্তর:
    দোআঁশ মাটি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    দোআঁশ মাটি
    ব্যাখ্যা
    • গম (Wheat):
    - বর্তমানে খাদ্য-শস্যের প্রয়োজনীয়তায় বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই গম চাষ হয়।
    - তবে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো গম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
    - দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর, বগুড়া প্রভৃতি অঞ্চলে গম চাষ ভালো হয়।
    - সাধারণত গম চাষের জন্য ১৬০ থেকে ২২° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৫০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন।
    - এ কারণে বাংলাদেশে বৃষ্টিহীন শীত মৌসুমে পানিসেচের মাধ্যমে গম চাষ ভালো হয়।
    - বাংলাদেশের উর্বর দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
    ১৭.
    চট্রগ্রাম সমুদ্রবন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
    1. কর্ণফুলী
    2. হাড়িয়াভাঙ্গা
    3. নাফ
    4. ফেনী নদী
    সঠিক উত্তর:
    কর্ণফুলী
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    কর্ণফুলী
    ব্যাখ্যা
    • কর্ণফুলী:
    - বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী কর্ণফুলী।
    - এর উৎপত্তিস্থল লুসাই পাহাড়ে।
    - ৩২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের এ নদীটি চট্টগ্রাম শহরের খুব কাছ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
    - কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী হচ্ছে কাপ্তাই, হালদা, কাসালাং ও রাঙখিয়াং।
    - বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর তীরে অবস্থিত।
    - পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এ নদীর গুরুত্ব অধিক।


    উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়,
    ১৮.
    বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ দেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ?
    1. ২০.৬%
    2. ১৮.৬%
    3. ২৫.৬%
    4. ১৫.৬%
    সঠিক উত্তর:
    ১৫.৬%
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    ১৫.৬%
    ব্যাখ্যা
    • বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
    - বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
    - কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
    - বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮%।
    -  বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০.৭৪%।
    - জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
    যেমন:
    • ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি।
    • ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
    • স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বন অধিদপ্তর [লিংক]।
    ১৯.
    নিচের কোনটি নদীভাঙনের কারণ?
    1. অপরিকল্পিত নগরায়ণ
    2. জলবায়ু পরিবর্তন
    3. নদীর গভীরতা কম
    4. গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ
    সঠিক উত্তর:
    জলবায়ু পরিবর্তন
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    জলবায়ু পরিবর্তন
    ব্যাখ্যা
    • নদীভাঙন (River Bank Erosion):
    - নদীখাতে পানিপ্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদীভাঙন বলে।
    - পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়।
    - অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।

    • নদীভাঙনের কারণ:
    - জলবায়ু পরিবর্তন;
    - নদীর প্রবাহপথ ও তীব্র গতিবে ;
    - নদীর গতিপথ পরিবর্ত ;
    - নদীগর্ভে শিলার উপাদান;
    - রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি;
    - বাহিত শিলার কঠিনতা;
    - নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিত;
    - বৃক্ষ নিধন।

    • বন্যার কারণ (Causes of Flood):
    - ভৌগোলিক অবস্থান;
    - নদীর গভীরতা কম;
    - হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ;
    - বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা।
    - ভূমিকম্প।
    - গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ;
    - অপরিকল্পিত নগরায়ণ;
    - জলাশয় ভরাট।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
    ২০.
    বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অর্ন্তভুক্ত কোনটি?
    1. নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
    2. দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা
    3. নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা
    4. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন
    সঠিক উত্তর:
    দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা
    ব্যাখ্যা
    - বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অর্ন্তভুক্ত - দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।

    • বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control Measures)

    • সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা (Easy engineering management):
    -  নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
    -  দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
    - রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
    - বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
    - শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

    • সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management):
    - সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
    -  নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
    -  নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
    -  বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
    - পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
    -  প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

    • শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা (Labour intensive and expensive engineering management):
    -  ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন করে পানির পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
    -  সন্নিহিত স্থানে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
    - ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা।
    -  সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
    - নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
    ২১.
    কোনটি বন্যা হওয়ার মানব-সৃষ্ট কারণ?
    1. উজানে প্রচুর বৃষ্টি
    2. বৃক্ষ কর্তন
    3. ভূমিকম্প
    4. তীব্র জোয়ার-ভাটা
    সঠিক উত্তর:
    বৃক্ষ কর্তন
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    বৃক্ষ কর্তন
    ব্যাখ্যা
    • বন্যার কারণ (Causes of Flood):
    - বন্যা হওয়ার দুটি কারণ যথা : ১. প্রাকৃতিক কারণ, ২. মানব-সৃষ্ট কারণ।

    •মানব-সৃষ্ট কারণ:
    - নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন ;
    - গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ;
    - অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব;
    - অপরিকল্পিত নগরায়ণ;
    - অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
    - জলাশয় ভরাট।

    • প্রাকৃতিক কারণ:
    - উজানে প্রচুর বৃষ্টি;
    - ভৌগোলিক অবস্থান;
    - মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব;
    - নদীর গভীরতা কম;
    - হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ;
    - বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা।
    - ভূমিকম্প।

    • বন্যা :
    - বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম।
    - এ দেশের বন্যা অর্থনৈতির ওপর ভয়াবহ  প্রভাব ফেলে।
    - প্রকৃতপক্ষে এ দেশের প্রেক্ষিতে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতিসাধন হয় তাহলেই বন্যা হয়েছে বলে ধরা হয়।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
    ২২.
    নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ?
    1. অগ্নিকাণ্ড
    2. বনাঞ্চল ধ্বংস
    3. আগ্নেয়গিরি
    4. মরুকরণ
    সঠিক উত্তর:
    আগ্নেয়গিরি
    উত্তর
    সঠিক উত্তর:
    আগ্নেয়গিরি
    ব্যাখ্যা
    - ’রাসায়নিক দূষণ’ একটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

    • প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ
    -  প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
     যেমন:
    - বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরি, ইত্যাদি।

    • মানব- সৃষ্ট দুর্যোগ:
    - মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
    যেমন:
    - জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।