পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

পরীক্ষাBJS & BARতারিখ১২ নভেম্বর, ২০২৩সময়50 minutes
মোট প্রশ্ন১০০
সিলেবাস
বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা-২০১৩
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

BJS & BAR · ১২ নভেম্বর, ২০২৩ · ১০০ প্রশ্ন

.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৯ ধারার অধীন দায়েরযোগ্য মামলার তামাদির মেয়াদ হবে বেদখলের তারিখ হতে
  1. ৬ বছর
  2. ৬ মাস
  3. ৬ সপ্তাহ
  4. ৬ দিন
সঠিক উত্তর:
৬ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ মাস
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ৩ অনুচ্ছেদের বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৯ ধারার অধীন স্থাবর সস্পত্তির দখল পূনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে  বেদখলের তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে।
.
লিমিটেশন এ্যাক্ট, ১৯০৮ এর কোন কিছুই প্রযোজ্য হবে না-
  1. চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
  2. সিভিল প্রসিডিউর কোডের ১১৪ ধারার ক্ষেত্রে
  3. সিভিল প্রসিডিউর কোডের ১০৭ ধারার ক্ষেত্রে
  4. সিভিল প্রসিডিউর কোডের ১১৫(২) ধারার ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ২৯ ধারার বিধান সংরক্ষণ:

(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের (১৮৭২ সালের ৯নং আইনে) ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করিবে না।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রহিয়াছে, সেইক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের বিধান অনুসারে কোনো মামলা, আপিলে বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-

(ক) এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হইতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হইবে, যেই পরিমাণ উহা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নহে, এবং
(খ) এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।

(৩) এই আইনের কোনো বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন (১৮৬৯ সালের ৪ নং আইন) অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

(৪) যেই সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতা আপাতত সম্প্রসারিত করা হইবে, সেই সকল এলাকা হইতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত ‘সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হইবে না।
.
কোন ব্যক্তি সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের পূর্বে সিঁদ কেটে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করলে সে ব্যক্তির অপরাধ হবে-
  1. গৃহে অনধিকার প্রবেশ
  2. রাত্রিকালে গৃহে সিঁদ কেটে বা দরজা জানালা ভেঙ্গে অনধিকার প্রবেশ
  3. সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ
  4. সিঁদ কেটে বা দরজা জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ
সঠিক উত্তর:
রাত্রিকালে গৃহে সিঁদ কেটে বা দরজা জানালা ভেঙ্গে অনধিকার প্রবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিকালে গৃহে সিঁদ কেটে বা দরজা জানালা ভেঙ্গে অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোডের ৪৪৬ ধারার বিধান রাত্রিকালে সিঁধ কাটিয়া বা দরজা- জানালা ভাঙ্গিয়া গৃহে প্রবেশ:

কোন ব্যক্তি যদি সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের পূর্বে সিধ কেটে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে তবে উক্ত ব্যক্তি রাত্রিকালে অপথে গৃহে প্রবেশ করেছে বলে গণ্য হয়।

♦পেনাল কোডের ৪৪৭ ধারার বিধান অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশের শাস্তি:

কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
.
X অন্যায়ভাবে Y-এর ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক Y-এর একটি আংটি নদীতে নিক্ষেপ করে। X-এর কৃত অপরাধ হলো-
  1. চুরি
  2. অর্থ আত্মসাৎ
  3. ক্ষতি
  4. জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়
সঠিক উত্তর:
ক্ষতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষতি
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৪২৫ ধারা অনুযায়ী অন্যের অন্যায় ক্ষতি বা লোকসানের (Wrongful loss or damage) উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট অথবা সম্পত্তির মূল্য/উপযোগীতা হ্রাস বা ক্ষতিগ্রস্ত করাকে অনিষ্ট বা ক্ষতি (mischief) বলে।
.
X নিজেকে মৃত Y হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে। X এর কি অপরাধ হলো-
  1. ক্ষতি
  2. প্রতারণা
  3. প্রবঞ্চনা
  4. ছদ্মবেশে প্রবঞ্চনা
সঠিক উত্তর:
ছদ্মবেশে প্রবঞ্চনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছদ্মবেশে প্রবঞ্চনা
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারার বিধান অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণাঃ কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):-
যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

♦উদাহরণসমূহঃ
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।

(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে, খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।

♦অর্থাৎ প্রতারণার উদ্দেশ্যে অন্যের পরিচয়ে নিজেকে উপস্থিত করলে তাকে ছদ্মবেশী প্রতারণা বা Cheating by personation বলে।

♦ ৪১৯ ধারায় cheating by personation এর শাস্তি বর্ণিত আছে যা অনধিক ৩ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড।
.
প্রতিটি দস্যুতায় রয়েছে-
  1. চুরি এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়
  2. জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায় এবং চুরি
  3. চুরি অথবা জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়
  4. ডাকাতি এবং চুরি
সঠিক উত্তর:
চুরি অথবা জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুরি অথবা জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়
ব্যাখ্যা
♦ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারায় দস্যুতার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চুরি করার সময় কোন কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নেবে এবং বলপূর্বক গ্রহণের সময় কী কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নিবে সেটি বর্ণনা করা হয়েছে। চুরি অপরাধ সংঘটনকালে যদি death, hurt, wrongful restraint ইত্যাদি করে বা তা করার চেষ্টা করে বা তা করার তাৎক্ষণিক ভয় দেখায় তবে তা দস্যুতায় রূপ নেবে। কিন্তু extortion –এর ক্ষেত্রে উক্ত অপরাধগুলো সংঘটন করা নয়, বরং তা করার ভয় দেখালেই তা দস্যুতায় রূপান্তরিত হবে।
♦ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারা মতে প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।

♦যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-
চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা।

♦বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে  দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
♦ ব্যাখ্যা (Explanation):-
অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।

♦ অর্থাৎ চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।

♦দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।

♦দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করে;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখায়;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করে; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকে।

♦দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।

♦ প্রত্যেক ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা ( চুরি অথবা বলপূর্বক গ্রহণ) থাকে। কিন্তু দস্যুতা এবং ডাকাতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সংখ্যাগত। দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন থাকতে হবে।
.
ডাকাতির সাথে খুনের অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা কি?
  1. মৃত্যুদন্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদন্ড
  3. ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
  4. কোন অপরাধ হয় নাই
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুদন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুদন্ড
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারার বিধান ডাকাতির শাস্তি:

কোন ব্যক্তি যদি ডাকাতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

♦দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান খুনসহকারে ডাকাতি:

যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে, অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

♦দণ্ডবিধির ৩৯৭ ধারার বিধান মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত সংঘটনের উদ্যোগ সহকারে দস্যুতা বা ডাকাতি:

যদি দস্যুত বা ডাকাতি সংঘটনকালে অপরাধকারী কোন মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে, অথবা কাউকে গুরুতর আঘাত করার উদ্যোগ করে, তবে যে কারাদণ্ডে অনুরূপ অপরাধকারীকে দণ্ডিত করা হবে তার মেয়াদ সাত বৎসরের কম হবে না।

♦দণ্ডবিধির ৩৯৮ ধারার বিধান মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় দস্যুতা বা ডাকাতি করিবার উগ্যোগ:

যদি দস্যুত বা ডাকাতি অনুষ্ঠানের উদ্যোগকালে অপরাধকারী কোন মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত থাকে, তবে অনুরূপ অপরাধকারী যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তার মেয়াদ সাত বৎসরের কম হবে না।
.
A, Z এর দখলে থাকা একটি সম্পত্তি তার নিজের মনে করে সরল বিশ্বাসে নিয়ে যায়। A এর কৃত অপরাধ হলো-
  1. চুরি
  2. অর্থ আত্মসাৎ
  3. জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়
  4. কোন অপরাধ হয় নাই
সঠিক উত্তর:
কোন অপরাধ হয় নাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোন অপরাধ হয় নাই
ব্যাখ্যা
♦ অপরাধ সংঘটনের সময়ে আসামীর মনের অবস্থা ‘Mens rea' নামে পরিচিত। এটা 'অপরাধীর দুষ্টমন নামেও পরিচিত। একজন অপরাধী শুধু তার অপরাধজনক কার্যের জন্যই দায়ী হয়না বরং সে তার কার্যের সাথে তার অপরাধী মন বা অপরাধ করার ইচ্ছা বা উদ্দেশ্যের জন্যই বিশেষভাবে দায়ী হয়ে থাকে। এই অপরাধী মন বা অপরাধ করার ইচ্ছাকে বলা হয় mens rea বা guilty mind.

♦ লর্ড গোড়ার্ডের মতে, জনগণের স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, আদালত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করবে না, যতক্ষণ না তার একটি দোষী মন থাকে। যদি অপরাধীর মনে অপরাধ করার ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য না থাকে,তাহলে তার কার্যকে অপরাধ বলে বিবেচনা করা যাবেনা (The act itself does not constitute guilt, unless with a guilty intent).

♦ফৌজদারি মামলায় আসামীকে শাস্তি দিতে হলে প্রসিকিউসন পক্ষকে আসামীর দুষ্ট মন প্রমাণ করতে হয়।

♦ দণ্ডবিধি অনুযায়ী সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না। চুরি, অর্থ আত্মসাৎ এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়সহ অন্য যে কোন ফৌজদারী অপরাধে কোন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার প্রথম শর্ত হলো উক্ত ব্যক্তির উক্ত অপরাধ করার দুষ্ট মন ( Guilty Mind) ছিল কিনা। যেহেতু A, Z এর দখলীয় সম্পত্তিটি সরল বিশ্বাসে নিয়ে যায়, তাই সে কোন অপরাধ করেনি এবং তার এমন কর্ম দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমে মধ্যে পড়ে।
.
পেনাল কোডের অধীনে কোনটি অনুমোদিত সাজা নয়?
  1. কারাদন্ড
  2. সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ
  3. বেত্রাঘাত
  4. জরিমানা
সঠিক উত্তর:
বেত্রাঘাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেত্রাঘাত
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে। ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে।
♦ অর্থাৎ পেনাল কোডের অধীনে অনুমোদিত সাজা পাঁচটি। যথা:

      (i)  মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
      (ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
      (iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:

           ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং

           খ) বিনাশ্রম (Simple)

      (iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
      (v) অর্থদণ্ড (fine)

♦ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।

♦ দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা অনুযায়ী বেত্রাঘাত  অনুমোদিত সাজা নয়।
১০.
যদি কোন আসামী চার্জ গঠনকালে স্বীকার করে যে সে অভিযুক্ত অপরাধটি সংঘটন করেছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন আসামীর-
  1. অব্যাহতির
  2. মুক্তির
  3. খালাসের
  4. সাজার
সঠিক উত্তর:
সাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাজার
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪২ ধারা বিধান অভিযোগ গঠন করতে হবেঃ ঐরূপ বিবেচনা, পরীক্ষা কিছু করা হলে তা এবং শুনানী অন্তে ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, এরূপ প্রাকপ্রত্যয় করার হেতু আছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারযোগ্য অপরাধ সম্পাদন করেছে, যে অপরাধের বিচার ঐরূপ ম্যাজিস্ট্রেট করতে যোগ্যতাসম্পন্ন এবং তাঁর মতে তিনি যার জন্য যথোপযুক্ত শাস্তিবিধান করতে সক্ষম, তাহলে তিনি উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ গঠন করবেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, যে অপরাধে তাকে চার্জভুক্ত করা হয়েছে ঐ অপরাধে সে অপরাধ স্বীকার করে কি-না।
 
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৩ ধারা বিধান অভিযোগের সত্যতা স্বীকারের প্রেক্ষিতে দণ্ডঃ আসামী যদি স্বীকার করে যে, যে অপরাধে সে অভিযুক্ত হয়েছে তা সে করেছে, তাহলে যথাসম্ভব তার ব্যবহৃত শব্দে তার স্বীকৃতি নথিবদ্ধ করতে হবে এবং কি কারণে সে দণ্ডিত হবে না, সেই বিষয়ে সে যদি যথেষ্ট কারণ না দর্শায়, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দণ্ড দান করতে পারবেন।

♦ অর্থাৎ যদি কোন আসামী চার্জ গঠনকালে স্বীকার করে যে সে অভিযুক্ত অপরাধটি সংঘটন করেছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে আসামীর দণ্ডের (Conviction) আদেশ দিতে পারে।
১১.
চুরি অপরাধ নিম্নের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. জমির সাথে
  2. দন্ডায়মান গাছের সাথে
  3. স্বর্ণালংকারের সাথে
  4. দালানের সাথে
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণালংকারের সাথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণালংকারের সাথে
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।

♦ চুরির অপরাধ অস্থাবর সম্পত্তি যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধু উপায়ে গ্রহণ করার অভিপ্রায়ে বা অনুরুপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে, সেই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে। চুরির উপাদান বা শর্তসমূহ:
(i) অন্যকোনো ব্যক্তির দখল হতে অসাধুভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করা
(ii) সম্পত্তিটি অবশ্যই অস্থাবর সম্পত্তি হবেl যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি।
(iii) উক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির দখল থেকে নিতে হবে।
 (iv) সম্পত্তিটি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া নিবে।
(v) চুরি সম্পন্ন হবে যদি সম্পত্তিটি সামান্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানান্তর করা হয়।

♦সুতরাং একমাত্র অস্থাবর সম্পত্তি চুরি করা যায় । উপরের অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র স্বর্ণালংকার হলো অস্থাবর সম্পত্তি।
১২.
বসতঘরে চুরির অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা কি?
  1. ৫ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা
  2. ৩ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা
  3. ৭ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা
  4. ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা
সঠিক উত্তর:
৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারার বিধান বাসগৃহ ইত্যাদিতে চুরি করা:- কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন গৃহ, তাঁবু জলযানে চুরি করে যে গৃহ তাঁবু বা জলযান মানুষের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয় অথবা সম্পত্তি হেফাজতের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

যেহেতু সশ্রম কারাদণ্ড বিনাশ্রম কারাদণ্ড থেকে কঠিন এজন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হিসেবে অপশন 'ঘ' (৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা)  নির্বাচন করা হয়েছে।
১৩.
ধর্ষন অপরাধ সংঘটনের উপাদান হলো-
  1. ৮টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার বিধান নারী ধর্ষণ:

কোন পুরুষ অতঃপর উল্লেখিত ব্যতিক্রম ভিন্ন অপর সকল ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ৫টি যেকোন অবস্থায় কোন স্ত্রীলোকের সাথে যৌনসঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

প্রথমত:- স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে।

তৃতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে।

চতুর্থত- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটি স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মতভাবে বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে।

পঞ্চমত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যতি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):-
ধর্ষণের অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌনসঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট গণ্য হবে।

ব্যতিক্রম (Exception):-
কোন পুরুষের কর্তৃক নিজ স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম ধর্ষণ বলে পরিগণিত হবে না, যদি স্ত্রী তের বৎসরে নিম্ন বয়স্কা না হয়।

♦ অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী ধর্ষনের অপরাধ সংঘটনের উপাদান হলো-৫টি।
১৪.
Y-এর রাস্তায় চলাচলের অধিকার আছে X সে পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে Y এর চলাচল বাধাগ্রস্থ হয়। X এর কৃত অপরাধ-
  1. ন্যায় আটক
  2. অন্যায় অর্পণ
  3. অন্যায় বাধা
  4. অন্যায় নিয়ন্ত্রণ
সঠিক উত্তর:
অন্যায় বাধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায় বাধা
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তির যেদিকে যাওয়ার অধিকার আছে তাকে সেইদিকে যেতে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাঁধা দেওয়া হলে তাকে অন্যায়ভাবে বাঁধা বা অবৈধ বাঁধা (Wrongful restraint) প্রদান করা হয়েছে বলা হবে।
♦এখানে X এর কৃত অপরাধ হল অন্যায় বাধা বা অবৈধ বাঁধা।

♦ দন্ডবিধির ৩৩৯ ধারাযর বিধান অবৈধ বাধা
:
যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যতিক্রম (Exception):-
যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।

উদাহরণ:
যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয় । ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।

♦ দন্ডবিধির ৩৪০ ধারার বিধান অবৈধ অবরোধ:
যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তির চলাচলে অবৈধভাবে এমন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে যে, উক্ত ব্যক্তি নিৰ্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে না, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অবরোধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ:
(ক) ক, চ-কে একটি দেয়াল-ঘেরা জায়গায় যেতে বাধ্য করে এবং সেখানে চ-কে তালাবদ্ধ করে রাখে। ফলে চ সে দেয়ালের মধ্যবর্তী নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে অসমর্থ হয়। ক চ-কে অবৈধভাবে অবরোধ করেছে।
(খ) ক কোন অট্টালিকার সকল বহির্দ্বারে আগ্নেয়াস্ত্রে-সজ্জিত ব্যক্তিদের মোতায়েন করে চ-কে বলে যে, চ অট্টালিকা হতে নিষ্ক্রমণের চেষ্টা করলে আগ্নেয়াস্ত্র-সজ্জিত ব্যক্তিরা চ-এর প্রতি গুলিবর্ষণ করবে। ক অবৈধভাবে চ-কে অবরোধ করেছে।
১৫.
পেনাল কোড হলো একটি-
  1. Adjective law
  2. Substantive law
  3. Preventive law
  4. Procedural law
সঠিক উত্তর:
Substantive law
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Substantive law
ব্যাখ্যা
♦যে আইন কোন অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করে, সৃষ্টি করে এবং অর্পণ করে বা কোন শাস্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং দায় আরোপ করে সেই আইনকে তত্ত্বগত বা মৌলিক আইন [Substantive Law] বলে। যেমন সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদিদণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, উক্ত অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে এটা তত্ত্বগত আইন বা Substantive law.

♦ যে আইনে কোন মোকদ্দমা বা মামলার বিচার করার পদ্ধতি অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যে সকল আইনী প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বা নিয়ম যে আইনে উল্লেখ থাকে সেই নিয়ম সংশ্লিষ্ট আইনকে পদ্ধতিগত আইন [Procedural Law or Adjective Law] বলে। যেমন ফৌজদারী কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি, তামাদি আইন ইত্যাদি। Procedural Law এবং Adjective Law উভয় পদ্ধতিগত আইন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
১৬.
পেনাল কোডে কত প্রকারের আঘাতকে ‘মারাত্মক' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে?
  1. ৬ প্রকারের
  2. ৮ প্রকারের
  3. ৯ প্রকারের
  4. ১০ প্রকারের
সঠিক উত্তর:
৮ প্রকারের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ প্রকারের
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩২০ ধারায় ৮ ধরণের গুরুতর জখমের উল্লেখ রয়েছে।

(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ দিন পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।

♦ অর্থাৎ পেনাল কোডে এই ৮ প্রকারের আঘাতকে ‘মারাত্মক' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
১৭.
X, Z-এর মুখে ঘুষি মারলে তার (Z) একটি দাঁত পরে যায়। X এর কৃত অপরাধ হলো-
  1. সাধারণ জখম
  2. মারাত্মক জখম
  3. ইচ্ছাকৃত জখম
  4. হত্যার প্রচেষ্টা
সঠিক উত্তর:
মারাত্মক জখম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারাত্মক জখম
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩২০ ধারায় ৮ ধরণের মারাত্মক বা গুরুতর জখমের উল্লেখ রয়েছে।

(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন

(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ দিন পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।

দন্ডবিধির ৩২০ ধারা অনুযায়ী  X এর কৃত অপরাধ মারাত্মক জখম  বলে গণ্য হবে।
১৮.
পেনাল কোডের ৩৪ ধারার অধীন সাধারন উদ্দেশ্য অপরাধ সংঘটনের জন্য ন্যূনতম আসামী হতে হবে-
  1. ৫ জন
  2. ৩ জন
  3. ৭ জন
  4. ২ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার বিধান একই উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক কৃত কার্যাবলী:- যখন কতিপয় ব্যক্তি একত্রিত হয়ে তাদের সকলের একই অভিপ্রায় সাধনকল্পে অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত করে, তখন অনুরূপ ব্যক্তিগণের প্রত্যেকে উক্ত কাজের জন্য এইরূপে দায়ী হবেন যেন উক্ত কাজ উক্ত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়েছিল।
দন্ডবিধির ৩৪ ধারায় সাধারণ অভিপ্রায় বা অভিন্ন অভিপ্রায়ের (Common Intention) বিধান রয়েছে।

♦সাধারণ অভিপ্রায়/অভিন্ন অভিপ্রায় (Common intention) - আদালত যৌথ দায় নির্ধারণের জন্য সাধারণ অভিপ্রায় বা অভিন্ন অভিপ্রায় বিবেচনা করেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই অভিপ্রায়ে অপরাধ করলে উক্ত ব্যক্তিগণের অপরাধ করার সাধারণ অভিপ্রায় বা Common intention ছিল বলে মনে করতে হবে। সাধারণ অভিপ্রায় বা Common intention কোন অপরাধ নয় বরং এটা অপরাধীদের দায় নির্ধারনের একটি নীতি।

♦ ৩৪ ধারা অধীন সাধারণ উদ্দেশ্য (Common Intention) এর জন্য কোন ব্যক্তিকে যৌথভাবে দায়ী করতে হলে অপরাধটি অবশ্যই সংগঠিত হতে হবে এবং সেখানে সর্বনিম্ন ২ জন ব্যক্তি থাকতে হবে। কারণ দুইয়ের অধিক না থাকলে সাধারণ অভিপ্রায়ে (Common Intention) গঠিত হয় না।
১৯.
নিম্নের কোনটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে কৃত কর্ম
  2. অবৈধ সমাবেশ গঠনে কৃত কর্ম
  3. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করা
  4. অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করা
সঠিক উত্তর:
আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে কৃত কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে কৃত কর্ম
ব্যাখ্যা
♦  দণ্ডবিধির ৪র্থ অধ্যায়ে ফৌজদারী দায়ের সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় কিছু কার্য এবং কার্যবিরতিকে [Acts and omission] ফৌজদারী দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ সকল কার্য বা কার্যবিরতি গুলোকে ফৌজদারী দায়ের সাধারণ ব্যতিক্রম [General Exceptions) বলে।

♦ দণ্ডবিধির ৯৬ ধারার বিধান আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদিত কার্য :- আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগজনিত কোন কার্যই অপরাধ নয়।

♦Section 96. Things done in private defence :- Nothing is an offence which is done in the exercise of the right of private defence.
২০.
খুন নহে এমন অপরাধমূলক নরহত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও জরিমানা
  2. ১৪ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা
  3. ১০ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা
  4. ৭ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও জরিমানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও জরিমানা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারার বিধান খুন বলিয়া গণ্য নহে এইরূপ অপরাধজনক নরহত্যার শাস্তি:

কোন ব্যক্তি যদি খুন নয় এমন শাস্তি যোগ্য নরহত্যা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, ,যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, অথবা এমন দৈহিক জখম করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, যে দৈহিক জখমের দরুণ মৃত্যু ঘটতে পারে,

অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি সম্পাদনের দরুণ মৃত্যু অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা থাকে, অথচ কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্যে করা হয় নাই যে দৈহিক জখম করার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে।

♦ অর্থাৎ ৩০৪ ধারায় নিন্দনীয় নরহত্যার জন্য ২ ধরণের শাস্তি রয়েছে। যথা-
১)মৃত্যুর অভিপ্রায় নিয়ে নিন্দনীয় নরহত্যা হলে শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা অনধিক ১০ বছর কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড।
২) মৃত্যুর অভিপ্রায় ব্যতীত নিন্দনীয় নরহত্যা হলে শাস্তি অনধিক ১০ বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড।
 
♦তাইলে বলা যায় যে খুন নহে এমন অপরাধমূলক নরহত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড।
২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুসারে স্থাবর সম্পত্তি দখল উদ্ধারের ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ পক্ষ দায়ের করতে পারে-
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. রেফারেন্স
সঠিক উত্তর:
রিভিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিভিশন
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed. যেহেতু আপিল ও রিভিউ করা যায় না, সুতরাং রিভিশন করার সুযোগ আছে।

♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারায় বলা আছেঃ যথাযথ আইগত পন্থা ব্যতিরেকে যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।

♦এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না ।
♦এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না।

♦এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল করা যাবে না, অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রী পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।

♦যেহেতু আপিল ও রিভিউ করা যায় না, সুতরাং রিভিশন করার সুযোগ আছে।
২২.
সরকার কর্তৃক কোন ব্যক্তি তার জমি হতে বেদখল হলে সে মামলা করতে পারে-
  1. দখল উদ্ধারের
  2. স্বত্ব ঘোষনা ও দখল উদ্ধারের
  3. কেবল স্বত্ব ঘোষণার
  4. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
সঠিক উত্তর:
স্বত্ব ঘোষনা ও দখল উদ্ধারের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বত্ব ঘোষনা ও দখল উদ্ধারের
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী কোনো সম্পত্তি থেকে সরকার কর্তৃক অন্যায়ভাবে দখলচ্যুত হলে এবং দখলচ্যুত ব্যক্তি সম্পত্তির বৈধ মালিক বা দাবিদার হয়ে থাকলে: ৮ ও ৪২ ধারা অনুযায়ী স্বত্ব ঘোষণা ও দখল উদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা করতে পারবে।

♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৯ ধারা অনুযায়ী সরকার কর্তৃক কোন ব্যক্তি তার জমি হতে বেদখল হলে সে কোন ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে দখল উদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে না। কিন্তু উক্ত বেদখলকৃত ব্যক্তি ৮ এবং ৪২ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারসহ স্বত্ত্ব ঘোষণার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। কারণ এই দুইটি ধারার অধীন সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়েরে কোন বাধা নেই।
২৩.
একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায়, যখন-
  1. চুক্তির প্রকৃতিগতভাবেই প্রত্যাহারযোগ্য
  2. ইহার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয়
  3. ইহার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না
  4. চুক্তিটি সম্পাদনের পূর্বেই, চুক্তির বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশের অস্তিত্ব বিলীন হয়
সঠিক উত্তর:
ইহার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়। যথা-

ক) চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে।

খ) চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদন্ড না থাকলে।

গ) চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে।

ঘ) চুক্তিভঙ্গের ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভবনা না থাকলে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।

অর্থাৎ একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায়, যখন ইহার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না।
২৪.
A একটি জমির বৈধ দখলে আছে। প্রতিবেশী গ্রামবাসী উক্ত সম্পত্তির উপর দিয়ে চলাচলের অধিকার দাবী করে। A মামলা করতে পারে-
  1. অগ্রক্রয়ের
  2. ক্ষতিপূরণের
  3. ঘোষণার
  4. বন্টনের
সঠিক উত্তর:
ঘোষণার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোষণার
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

♦ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

♦ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

♦ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

♦যেহেতু A একটি জমির বৈধ দখলে আছে। প্রতিবেশি গ্রামবাসী উক্ত সম্পত্তির উপর দিয়ে চলাচলের অধিকার দাবী করে জমিতে A এর বৈধ দখলকে অস্বীকার করছে। এই ক্ষেত্রে উক্ত জমিতে A এর যে বৈধ অধিকার আছে তার ঘোষণা চেয়ে A দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
২৫.
একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না, যখন-
  1. চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবেই প্রত্যাহারযোগ্য
  2. চুক্তিটির প্রকৃত ক্ষতি নিরুপণের কোন মাপকাঠি থাকে না
  3. চুক্তিটির আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না
  4. চুক্তিটির আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না
সঠিক উত্তর:
চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবেই প্রত্যাহারযোগ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবেই প্রত্যাহারযোগ্য
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable)- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-

১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে

৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে 
৪)চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে 

৫)চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে
৬)বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি

৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা
৮)যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে।
২৬.
১ জুলাই, ২০০৪ তারিখে একটি রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তির অনুকুলে সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে জমা দেয়ার প্রয়োজন ছিল-
  1. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ২৫%
  2. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ৫০%
  3. অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য
  4. কোন চুক্তিমূল্য দাখিল অপ্রয়োজনীয়
সঠিক উত্তর:
কোন চুক্তিমূল্য দাখিল অপ্রয়োজনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোন চুক্তিমূল্য দাখিল অপ্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, এর ধারা ২১ক হচ্ছে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্যঃএই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিষ্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা উহার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।

♦সহজ কথা- স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে যদি-
i) চুক্তিটি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হয়
ii) চুক্তির বিনিময় মূল্যের বাকি অংশ আদালতে জমা প্রদান করে।

♦The Specific Relief (Amendment)Act, 2004 ধারা 21A অনুযায়ী ২০০৫ সালের ১লা জুলাই থেকে একটি রেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য জমা দিতে হবে।

♦অর্থাৎ বিক্রয় চুক্তিটি ১ জুলাই, ২০০৫ এর সময় হতে পরবর্তী যেকোন সময়ের হলে ২১ক ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে। ১ জুলাই ২০০৫ এর আগের বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে ২১ক এর বিধান প্রযোজ্য নয়।

 ♦যেহেতু ১ জুলাই, ২০০৪ তারিখে চুক্তিটি রেজিষ্ট্রী করা হয়েছে, সেহেতু অবশিষ্ট চুক্তিমূল্য আরজির সাথে দাখিল করার প্রয়োজন নেই।
২৭.
দেওয়ানি আদালত কর্তৃক স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি প্রচারের ক্ষমতা-
  1. বিবেচনামূলক
  2. বাধ্যতামূলক
  3. নির্দেশনামূলক
  4. নিরোধমূলক
সঠিক উত্তর:
বিবেচনামূলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেচনামূলক
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়: আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

♦ The Specific Relief Act,1877-Section 52. Preventive relief how granted: Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.

♦ প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন।
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে বা

২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো এক প্রকারের প্রতিরোধমূলক বা নিরোধমূলক প্রতিকার । দেওয়ানী আদালত কর্তৃক নিরোধমূলক প্রতিকার যেমন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি প্রচারের ক্ষমতা স্বেচ্ছাধীন বা বিবেচনামূলক অথাবা ইচ্ছাধীন।
২৮.
দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের-
  1. পক্ষ থাকার প্রয়োজন নাই
  2. অবশ্যই পক্ষ থাকতে হবে
  3. একজন সাক্ষী হতে হবে
  4. পরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পক্ষ থাকার প্রয়োজন নাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষ থাকার প্রয়োজন নাই
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার বিধান যখন বিলুপ্তির আদেশ প্রদানযোগ্যঃ – যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।


♦অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার অধীনে যে কোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত দলিল বাতিল বা বাতিলযোগ্য হলে এবং তা গুরুতর ক্ষতির কারণ হলে, উক্ত দলিল বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে। সুতরাং দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের পক্ষ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
২৯.
ঘোষণামূলক মামলা কে করতে পারে?
  1. আইনসম্মত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি
  2. কোন সম্পত্তিতে অধিকার আছে এমন ব্যক্তি
  3. মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে অধিকারী ব্যক্তি
  4. ক এবং খ উভয়
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।

♦ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

♦ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

♦ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

♦ এখানে আইনানুগ পরিচয় বলতে আইনসম্মত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝায়।
৩০.
কোন ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি ঘোষণামূলক মোকদ্দমা করতে পারে যদি সম্পত্তিতে তার-
  1. প্রতীকী দখল থাকে
  2. দখল না থাকে
  3. আংশিক দখল থাকে
  4. একচ্ছত্র দখল থাকে
সঠিক উত্তর:
একচ্ছত্র দখল থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একচ্ছত্র দখল থাকে
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

♦ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

♦ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

♦ঘোষনামূলক ডিক্রির প্রকৃতি
i) ঘোষনামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষনা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষনামূলক মামলা করা যায় না।

ii) ঘোষনামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষনা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।

iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।

♦৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।

♦ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।

২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।

৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।

♦ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়।
৩১.
প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা যেতে পারে -
  1. নিষেধাজ্ঞাদেশ দ্বারা
  2. ক্রোকাদেশ দ্বারা
  3. ঘোষণামূলক আদেশ দ্বারা
  4. নিলাম বিক্রির আদেশ দ্বারা
সঠিক উত্তর:
নিষেধাজ্ঞাদেশ দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষেধাজ্ঞাদেশ দ্বারা
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়: আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

♦ The Specific Relief Act,1877-Section 52. Preventive relief how granted: Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.
♦ কোন ব্যক্তি যে বেআইনী কাজ (Wrongful Act) করতে অধিকারী নয়, সেই কাজ করা, চালিয়ে যাওয়া, পুনরায় করা থেকে বিরত (Prevent) রাখতে, আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে যে আদেশ দেয় তাই নিরোধমূলক প্রতিকার বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Prevent relief).

প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন।
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে বা

২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো এক প্রকারের প্রতিরোধমূলক বা নিরোধমূলক প্রতিকার।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী নিরোধমূলক প্রতিকার বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা (অস্থায়ী এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) হলো সর্বত্তোম পন্থা।
৩২.
জেলা জজের আপিল এখতিয়ারবলে প্রচারিত ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিকার কি?
  1. আপিল
  2. রেফারেন্স
  3. রিভিশন
  4. রিভিউ
সঠিক উত্তর:
রিভিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিভিশন
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ থেকে ১১২ ধারা পর্যন্ত দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপীলের বিধান উল্লেখ রয়েছে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
♦আপিল (Appeal)-
মোকদ্দমার কোন পক্ষ বিচারিক আদালতের (Trial court) সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য ঐ সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে উচ্চ আদালতে যে আবেদন করে, তাকে আপিল বলে। আপিল হলো সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির মামলার রায় অনুমোদনযোগ্য কিনা তা পুনরায় নির্ধারণের জন্য নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে প্রেরণের অধিকার। অর্থাৎ আপিল হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনঃমূল্যায়ন। 

♦রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। 

দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের শর্ত- 
♦কোন ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য না হলে, কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান না থাকলে অথবা কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান থাকার পরও উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিল দায়ের করা না হলে সেক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা করা যায়।

♦কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে একবার আপিল করা হলে উক্ত আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিশন করা যায়, কেননা দেওয়ানী কার্যবিধিতে ২য় আপিলের বিধান নেই।

♦সাধারণত রিভিশন এখতিয়ারে আদালত ঘটনার প্রশ্ন (question of fact) বিবেচনা করে না। যেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে (question of law) ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আইনগত ভুলের কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটলেই আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদি (মূল) এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত ( সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, এবং যুগ্ম জেলা জজ) প্রদত্ত প্রত্যেক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল শ্রবণের জন্য ক্ষমতা প্রাপ্ত আদালতে ( জেলা জজ বা হাইকোর্টে) আপীল দায়ের করা যাবে। আপীলে প্রদত্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে পুনরায় আপীল করা যায়না। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধিতে দ্বিতীয় আপীলের কোন বিধান নেই।

♦যেহেতু জেলা জজ আপীল এখতিয়ারবলে ডিক্রি দিয়েছে অর্থাৎ মূল মোকদ্দমায় ডিক্রি দেয়নি, তাই এই ডিক্রির বিরুদ্ধে পুনরায় আপীল করা যাবে না। কিন্তু দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী মূল মোকদ্দমায় বা আপীলে প্রদত্ত যে সকল আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না, সেই সকল ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যায়। জেলা জজের আপীল এখতিয়ারবলে প্রচারিত ডিক্রির বিরুদ্ধে ১১৫ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করা যাবে
৩৩.
আপিলযোগ্য ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়ের পূর্বেই উক্ত ডিক্রি স্থগিতের দরখাস্ত কোন আদালতে দাখিল করা যাবে?
  1. রিভিশন আদালত
  2. রেফারেন্স আদালত
  3. আপিল আদালত
  4. উক্ত ডিক্রি প্রচারকারী আদালত
সঠিক উত্তর:
উক্ত ডিক্রি প্রচারকারী আদালত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উক্ত ডিক্রি প্রচারকারী আদালত
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ নং আদেশের ৫ ও ৬ নং বিধিতে ডিক্রি জারি স্থগিত রাখা সংক্রান্ত বিধান আলোচনা করা হয়েছে। কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হলেই ডিক্রিটির জারি কর্ম স্থগিত থাকবেনা, তবে নিম্নলিখিত কারণে আদালত ডিক্রি জারির কাজ স্থগিত রাখতে পারে। যথা-
i) আবেদনকারীর গুরুতর ক্ষতির আংশকা;
ii) যথাসময়ে আবেদন করলে;
iii) আবেদনকারী চূড়ান্ত ডিক্রির জন্য যথাযথ জামানত দাখিল করেছে;
iv) আবেদনকারীর শুনানী সাপেক্ষে আদালত একতরফাভাবেও ডিক্রি জারি স্থগিত রাখতে পারে।

♦ আদেশ ৪১ বিধি-৫ মতে আপিল আদালত কর্তৃক স্থগিত রাখা (Stay by appellate Court): আপিল চললে বা আপিল করা হলেই কোন ডিক্রির কার্যকারিতা স্থগিত হবে না। বরং ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা আপিল চলাকালে আপিল আদালতে ডিক্রি জারি স্থগিত রাখার জন্য প্রার্থনা করা হলে তখন উল্লেখিত আদালত ডিক্রি জারি স্থগিত রাখতে পারে।

♦এছাড়া ২১ আদেশের ২৬ থেকে ২৯ বিধিমতেও ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ডিক্রি জারি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে। ২৬ বিধি অনুসারে শুধুমাত্র দেনাদার ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে বা আপিল আদালতে কোন ডিক্রি জারি স্থগিত রাখার জন্য আবেদন করতে পারেন। দেনাদার আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারলে, আদালত ডিক্রি জারি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারেন।

♦ যে ক্ষেত্রে আপীল করার জন্য নির্ধারিত সময় উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই কোন আপীলযোগ্য ডিক্রি জারি স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়, তখন উপযুক্ত কারণ থাকলে ডিক্রিদানকারী আদালত ডিক্রি জারি স্থগিত করার আদেশ দিতে পারে। সুতরাং আপীলযোগ্য ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের পূর্বেই উক্ত ডিক্রি স্থগিতের দরখাস্ত উক্ত ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে দাখিল করা যাবে।
৩৪.
কোন রিভিউ দরখাস্ত না-মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. রেফারেন্স
সঠিক উত্তর:
রিভিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিভিশন
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৪ ধারায় এবং ৪৭ আদেশে রিভিউ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ধারা ১১৪ এবং ৪৭ আদেশের ১ বিধির অধীন রিভিউ আবেদন করা যায় যে সকল ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের বিধান নেই বা যে সকল ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের বিধান আছে কিন্তু আপীল করে নাই।

♦যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ দেয়, সেই আদালতে ডিক্রি বা আদেশটি রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ রিভিউযোগ্য কোন ডিক্রি যে আদালত উক্ত ডিক্রিটি প্রদান করে সে আদালতে রিভিউ এর জন্য দায়ের করতে হবে এবং সেই ক্ষেত্রে উক্ত আদালত (ডিক্রি প্রদানকারী আদালত যার নিকট ডিক্রিটি রিভিউ এর জন্য বিবেচনা করার জন্য দাখিল করা হয়েছে) সেই আদালত উক্ত রিভিউ এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারে।

♦ ৪৭ আদেশ ৪ বিধি এর বিধান যেক্ষেত্রে আবেদনপত্র অগ্রাহ্য হয় (Application where rejected): আদালত যদি মনে করেন রিভিউ এর যথেষ্ট কারণ আছে তাহলে তা মঞ্জুর করতে এবং যদি মনে করেন যথেষ্ট কারণ নেই তাহলে তা না মঞ্জুর করতে পারেন।

♦ ৪৭ আদেশ ৭ বিধি এর বিধান প্রত্যাখ্যানের আদেশ আপিলযোগ্য নয় ; আবেদন মঞ্জুর করার আদেশে আপত্তি (Order of rejection not appealable Objection to order granting application): রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলে তবে রিভিউ আবেদন না মঞ্জুর করলে রিভিশন চলবে।

♦ অর্থাৎ রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করলে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আপীল করতে পারে কিন্তু রিভিউ আবেদন না-মঞ্জুর করলে, সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি রিভিশন দায়ের করতে পারে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৭ আদেশের ৪(১) বিধি অনুযায়ী আদালত রিভিউ আবেদন অগ্রাহ্য (না-মঞ্জুর) করতে পারে এবং ৪(২) বিধি অনুযায়ী আদালত রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করতে পারে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ আদেশে বলা হয়েছে, ৪৭ আদেশের ৪ বিধি অনুযায়ী রিভিউর আবেদন মঞ্জুর করে কোন আদেশ দিলে উক্ত আদেশ হবে আপীলযোগ্য আদেশ। অর্থাৎ উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায়। কিন্তু রিভিউ আবেদন না মঞ্জুর করে কোন আদেশ দিলে তা আপীলযোগ্য আদেশ নয়। তাই এর বিরুদ্ধে আপীল (আপত্তি) করা যায় না।দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে সকল আদেশ এবং ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল চলে না তার বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যাবে। সুতরাং যেহেতু রিভিউ আবেদন না-মঞ্জুর কোন আপীলযোগ্য আদেশ নয়, তাই এর বিরুদ্ধে ১১৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশন দায়ের করা যাবে। 

 রিভিউ সংক্রান্ত অন্যান্য বিধানাবলী-
♦আদালত রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করলে তার বিরুদ্ধে আপিল চলে, তবে রিভিউর আবেদন না মঞ্জুর করলে তার বিরুদ্ধে রিভিশন চলবে।

♦কোন পক্ষ যদি কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল না করে, তবে সে পক্ষ অন্য পক্ষের আপিল বিচারাধীন থাকা সত্বেও রায় পুনঃনিরীক্ষণ করার জন্য দরখাস্ত করতে পারবে। কিন্তু যেক্ষেত্রে আপিলের কার্যক্রমের শর্তসমূহ দরখাস্তকারী ও আপিলকারীর জন্য একই বা যেক্ষেত্রে উত্তরদায়ক হিসেবে আদালতে হাজির হয়ে উক্ত ব্যক্তি স্বীয় বক্তব্য পেশ করতে পারবে, সেক্ষেত্রে রিভিউয়ের দরখাস্ত করা চলবে না।

♦সাধারণত রিভিউ শুধু দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রেও তার রায় বা আদেশ রিভিউ করতে পারবে।

♦৪৭ নং আদেশের ৭(২) বিধিমতে রিভিউ আবেদনকারী রিভিউ শুনানীর সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকলে বা হাজির না হলে, আদালত রিভিউ আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
৩৫.
Pleadings সংশোধন করা যায়-
  1. অনুসন্ধানের যে কোন পর্যায়ে
  2. তদন্তের যে কোন পর্যায়ে
  3. প্রসিডিংস এর যে কোন পর্যায়ে
  4. ডিক্রি জারির কোন পর্যায়ে
সঠিক উত্তর:
প্রসিডিংস এর যে কোন পর্যায়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রসিডিংস এর যে কোন পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭নং বিধিতে প্লিডিংস সংশোধন করার বিধান রয়েছে। ১৭ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিলেও আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে।

♦প্লিডিংস সংশোধনের সময়- ৬ নং আদেশের ১৮ নং বিধিমতে আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অথবা সময় নির্ধারণ করে না দিলে আদালতের প্লিডিংস সংশোধনীর আদেশের ১৪ দিনের মধ্যে প্লিডিংস সংশোধন করতে হবে। নির্ধারিত সময় পার হলে এবং আদালত সময় বর্ধিত না করলে প্লিডিংস সংশোধন করা যাবে না।

♦অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ বিধি ১৭ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে প্লিডিংস বা আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের অনুমতি দিতে পারে-
   (i) যদি সংশোধনটি পক্ষগণের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় হয়।
   (ii) যদি সংশোধনটি অপর পক্ষের জন্য অবিচার না হয়।
৩৬.
যদি বিবাদী আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে লিখিত বর্ণনা দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে মামলাটি -
  1. খারিজ হবে
  2. একতরফা নিষ্পত্তি হবে
  3. ডিক্রি হবে
  4. দোতরফা নিষ্পত্তি হবে
সঠিক উত্তর:
একতরফা নিষ্পত্তি হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একতরফা নিষ্পত্তি হবে
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৮ বিধি-১ এর বিধান লিখিত জবাব (Written statement): সমন প্রাপ্তির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিবাদীকে অবশ্যই লিখিত জবাব দিতে হবে। এরূপ করতে ব্যর্থ হলে আদালত আরো ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় দিতে পারে। অর্থাৎ লিখিত জবাব দাখিলের জন্য বিবাদী সর্বমোট ৬০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় পেতে পারেন।

♦বিবাদী যদি এরপরও দাখিল করতে ব্যর্থ হয় তাহলে, মোকদ্দমাটি একতরফা (Ex-parte) নিষ্পত্তি হবে। এরূপ একতরফা আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদী রিভিশন দায়ের করতে পারবে।

♦প্রয়োজনীয় দলিল লিখিত জবাবের সাথে দাখিল না করলে উক্ত দলিল আদালতের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা যাবে না । তবে কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আদালত অনুমতি দিলে ব্যবহার করা যেতে পারে।

♦ বিবাদী কর্তৃক বাদীর আরজিতে দাবিকৃত বিষয়সমূহ অস্বীকার করে এবং বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে এমন তথ্য সংবলিত জবাব হলো লিখিত জবাব।

♦ ধারা ৮০ মতে সরকার বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মোকদ্দমা করতে হলে লিখিত নোটিশ প্রদানের ২ মাস পর মোকদ্দমা করা যাবে। যদি নোটিশ ছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করা হয় তাহলে আদালত সরকারকে লিখিত বিবৃতি পেশ করার জন্য কমপক্ষে ৩ মাস সময় মঞ্জুর করবে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশের ৯ ও ১০ নং বিধিতে অতিরিক্ত লিখিত জবাবের বিধান রয়েছে।

♦ ৯ নং বিধিমতে আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় বিবাদীকে সময় নির্ধারণ করে দিয়ে লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিলের আদেশ দিতে পারে।
♦ ১০ নং বিধিমতে বিবাদী আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে,আদালত বিবাদীর বিরূদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে (pronounce judgement) অথবা মোকদ্দমা সম্পর্কিত যে কোন আদেশ দিতে পারে।

♦ অর্থাৎ বিবাদীর প্রতি সমন জারির তারিখ হতে ৩০ (ত্রিশ) কার্য দিবসের মধ্যে, বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল করবে। উক্ত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে পারবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, আদালত মোকদ্দমাটি একতরফা নিষ্পত্তি করতে পারে।
৩৭.
আদি এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতের একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ পক্ষের প্রতিকার হতে পারে-
  1. রিভিশন
  2. রিভিউ
  3. রেফারেন্স
  4. আপিল
সঠিক উত্তর:
আপিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিল
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ থেকে ১১২ ধারা পর্যন্ত দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপীলের বিধান উল্লেখ রয়েছে।
♦আপিল (Appeal)- মোকদ্দমার কোন পক্ষ বিচারিক আদালতের (Trial court) সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য ঐ সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে উচ্চ আদালতে যে আবেদন করে, তাকে আপিল বলে। আপিল হলো সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির মামলার রায় অনুমোদনযোগ্য কিনা তা পুনরায় নির্ধারণের জন্য নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে প্রেরণের অধিকার। অর্থাৎ আপিল হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনঃমূল্যায়ন।

♦দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬ ধরার অধীন মূল ডিক্রি হতে আপিল: (১) এই আইনের কোন কোন অংশে অথবা বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে স্পষ্টতঃ অন্যরূপ বিধান না থাকলে, আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেক ডিক্রি হতে আপিল শ্রবণের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।
(২) একতরফা মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে।
(৩) পক্ষগণের সম্মতিতে আদালত কোন ডিক্রি দান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল চলবে না।
আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত [Court exercising original jurisdiction] অর্থ হলো কোন মোকদ্দমা প্রথমে বা আদিতে যে আদলতে শুনানী এবং বিচারপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এটা হলো এমন আদালত যে আদলত  সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর বিষয়টি আপীল বা রিভিশন আদালতে দায়ের করতে হয়। যেমন দেওয়ানি মোকদ্দমার ক্ষেত্রে সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা জজ হলো আদি এখতিয়ারকারী আদালত। এই সকল আদালতে মোকদ্দমা প্রথমে দায়ের করতে হয় এবং এই আদালত সিদ্ধান্ত দিলে তার বিরূদ্ধে আপীল বা রিভিশন আদালতে দায়ের করতে হবে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদি (মূল) এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত ( সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, এবং যুগ্ম জেলা জজ) প্রদত্ত প্রত্যেক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল শ্রবণের জন্য ক্ষমতা প্রাপ্ত আদালতে ( জেলা জজ বা হাইকোর্টে) আপীল দায়ের করা যাবে। আপীলে প্রদত্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে পুনরায় আপীল করা যায়না। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধিতে দ্বিতীয় আপীলের কোন বিধান নেই।
৩৮.
একজন অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক প্রচারিত আপিলঅযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে, সাধারণতঃ রিভিশন দায়ের করা যায়-
  1. জেলা জজ আদালতে
  2. বিভাগীয় জজ আদালতে
  3. আপিল বিভাগে
  4. হাইকোর্ট বিভাগে
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
♦রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।

♦১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।

♦দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে।

♦অর্থাৎ দেওয়ানি মামলার একজন অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক প্রচারিত আপিলঅযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে, সাধারণত রিভিশন দায়ের করা যায় - হাইকোর্ট বিভাগে।
৩৯.
কোন পক্ষ কর্তৃক Set-off দাবী করা যেতে পারে-
  1. নিষেধাজ্ঞার মামলায়
  2. স্বত্বের মামলায়
  3. অর্থের মামলায়
  4. বন্টনের মামলায়
সঠিক উত্তর:
অর্থের মামলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থের মামলায়
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ৮ বিধি-৬ এর বিধান লিখিত বর্ণনায় পারস্পরিক দায় শোধের বিবরণ দিতে হবে:
(১) টাকা পরিশোধের দাবিতে দায়েরকৃত কোন মামলায় যদি বাদীর নিকট হতে আইনত বিবাদীর প্রাপ্য টাকা দিয়ে তার বিরুদ্ধে বাদীর দাবি পরিশোধ করতে চায়। এবং প্রাপ্য টাকার পরিমাণ যদি আদালতের এখতিয়ারের উর্ধ্বে না হয়, এবং বাদীর মামলার ন্যায় বিবাদীর দাবির ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একই পর্যায়ে পড়ে, তবে মামলার প্রথম শুনানির তারিখেই বিবাদী তার পাওনা টাকার বিবরণ সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবে। কিন্তু প্রথম শুনানির পর আদালতের অনুমতি ব্যতীত অনুরূপ বিবৃতি দাখিল করতে পারবে না।

(২) দাবি সমন্বয়ের ফলাফল
: উক্ত লিখিত বিবৃতিটি পাল্টা মামলার আরজির ন্যায় গণ্য হবে এবং বিচারক মূল মামলা ও পাল্টা দাবির মামলা সম্পর্কে একই রায় দান করতে পারবেন; কিন্তু ডিক্রির টাকার উপর খরচ বাবদ কোন উকিলের দাবি থাকলে তা এতদ্বারা প্রভাবিত হবে না।

(৩) বিবাদী লিখিত বিবৃতি সম্পর্কিত বিধিসমূহ পারস্পরিক দায় পরিশোধের দাবিতে প্রদত্ত বিবৃতির উত্তর দানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

♦ যখন বাদী বিবাদীর বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা করে তখন প্রথম শুনানির দিন বাদীর দাবিকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবিকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী লিখিত আবেদন করতে পারেন। মোকদ্দমায় শুধুমাত্র বাদীর বিবাদীর কাছে টাকা পাওনা থাকে না, বিবাদীও বাদীর নিকট টাকা পাওনা থাকে। তবে এইক্ষেত্রে বিবাদীর দাবী, বাদীর দাবির সমান বা কম হতে হবে।

♦ Set off অর্থ হলো পারস্পরিক দায়শোধ। Set-Off এর জন্য নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ করতে হবে-

১) মোকদ্দমাটি অবশ্যই অর্থ পুনরুদ্ধারের সংক্রান্ত হতে হবে,
২) আইনগতভাবে আদায়যোগ্য,
৩) দাবীকৃত টাকার পরিমাণ অবশ্যই নির্দিষ্ট হতে হবে,
৪) আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
৫) একাধিক বিবাদী থাকলে সকল বিবাদীর প্রাপ্য বাদী বা সকল বাদীর বিরুদ্ধে আদায়যোগ্য হতে হবে।

♦ অর্থাৎ Set off বা পারস্পরিক দায়শোধ এর মূল কথা হলো যে কোন পরিমান অর্থ যেটা বিবাদী বাদীর নিকট পাবে, সেই অর্থ Set off বা পারস্পরিক দায়শোধ করা যেতে পারে বাদী বিবাদীর নিকট যে অর্থ পাবে তার দ্বারা। শুধুমাত্র অর্থের মোকদ্দমায় Set off দাবী করা যায়।
৪০.
Mesne Profit বলতে বুঝায় একজন ব্যক্তি কর্তৃক কোন সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত মুনাফা, যে সম্পত্তিতে উক্ত ব্যক্তির-
  1. বৈধ দখল আছে
  2. অনুমিত দখল আছে
  3. আইনসঙ্গত দখল আছে
  4. অন্যায়ভাবে দখল আছে
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ভাবে দখল আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ভাবে দখল আছে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) মতে বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তিসাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne profits] বলে।
♦ তবে বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] বলে গণ্য হবে না।
♦ সুতরাং মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] এর ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে  বিবাদীর  বেআইনী দখল এবং স্বাভাবিকভাবে লাভ।

♦ অর্থাৎ আমরা বলে পারি যে; Mesne Profit বলতে বুঝায় একজন ব্যক্তি কর্তৃক কোন সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত মুনাফা, যে সম্পত্তিতে উক্ত ব্যক্তির অন্যায়ভাবে দখল আছে।
৪১.
নিম্নের কোন আদালত একটি ডিক্রি জারি করতে পারে?
  1. আপিল আদালত
  2. রিভিশন আদালত
  3. ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
  4. একই শ্রেণীর অন্য যে কোন আদালত
সঠিক উত্তর:
ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
ব্যাখ্যা
♦জারিকারক আদালত (executing court)- কোন কোন আদালত ডিক্রি জারি করতে পারেন তা দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ ধারা থেকে ৪৬ ধারায় বলা হয়েছে। ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছেন, সেই আদালত অথবা যে আদালতে ডিক্রিটি জারির জন্য প্রেরিত হয়েছে, সেই আদালত ডিক্রি জারি করতে পারেন।

♦ ডিক্রি জারির কাজ সর্বদা বিচারিক আদালত (Trial court) করে থাকে, এমনকি কোন ডিক্রির বিরূদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোন আপিল বা রিভিশন করা হলে, উক্ত আপিল বা রিভিশনে প্রদত্ত ডিক্রির ক্ষেত্রেও মূল আদালত অর্থাৎ বিচারিক আদালতই (Trial court) ডিক্রি জারি করবে।

♦ আদেশ ২১ বিধি-১০ এর বিধান জারির আবেদন (Application for execution): ডিক্রিদার ডিক্রিটি জারি করতে চাইলে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে সেই আদালতে আবেদন করবেন।

♦ ডিক্রিজারি সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি (objection) ডিক্রি জারিকারক আদালতই (executing court) নিষ্পত্তি করবে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারায় বলা হয়েছে ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত অন্য কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে ডিক্রি জারি করার অনুরোধ করতে পারেন এবং এরূপ আদালত অনুরোধপত্রে নির্ধারিত দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন। যা  ডিক্রি জারির অনুরোধ (Precepts) নামে পরিচিতো।

♦ডিক্রিদানকারী আদালত ক্রোকের মেয়াদ বৃদ্ধি না করলে কোন ক্রোক ২ মাসের অধিক সময় বলবৎ থাকবে না।
৪২.
আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাদী প্রয়োজনীয স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে, আদালতের আদেশ হবে -
  1. আরজির ফেরতের
  2. আরজি অস্বীকারের
  3. আরজি প্রেরণের
  4. আরজি নাকচের
সঠিক উত্তর:
আরজি নাকচের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজি নাকচের
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ৭ বিধি- ১১ এর বিধান আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান:  নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আরজি প্রত্যাখ্যান করা হবে-

ক) যেক্ষেত্রে এটা মোকদ্দমার কারণ প্রকাশ করেনি;

খ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকার কম মূল্যায়িত হয় এবং আদালতের নির্দেশ মত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছে:

গ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকারের যথার্থই মূল্যায়ন করা হয়েছে; কিন্তু প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশমত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঘ) যেক্ষেত্রে আরজির বিবৃতি অনুযায়ী উক্ত মোকদ্দমা কোন আইন দ্বারা বারিত বলে প্রতীয়মান হয়;

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার মূল্যমান বা আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সংশোধন করার জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় কোনক্রমেই ২১ দিনের অধিক হবে না।

♦ধারা-২ (২) এর বিধান মতে আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ ডিক্রি হিসেবে গণ্য হবে।

আরজি নাকচ / প্রত্যাখ্যানের কারণ ৪টি

১) মোকদ্দমার কারণ উল্লেখ না করলে (Cause of action)

২) দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেয়া হলে (undervalued)

৩) অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প পেপারে লিখা হলে (insufficiency stamped)

৪) মোকদ্দমাটি আইন/তামাদিতে বারিত হলে (Barred by law)

♦ দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেখালে বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে আদালত তা সংশোধনের জন্য অনধিক ২১ দিন সময় দিতে পারে।

♦ প্রতিকার
১) বিধি: ১৩ অনুযায়ী পুনরায় একই বিষয়ে নতুন আরজি দাখিল।
 ২) আপিল করা যাবে

♦ বিবাদীর আবেদনক্রমে বা আদালত নিজ উদ্যোগে আরজি প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
♦ বিবাদী কর্তৃক আরজি প্রত্যাখ্যানের আবেদন নামঞ্জুর হলে রিভিশন করা যাবে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১১ নং বিধি অনুযায়ী আদালত ৪ (চার) টি কারণে আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তার মধ্যে তৃতীয় নম্বর কারণটি হলো আরজি প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের ষ্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে লেখা হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বাদী উক্ত স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে, আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
৪৩.
একটি মামলায় মুল্যমান সংশোধনের সর্বাধিক সময়কাল হবে-
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
সঠিক উত্তর:
২১ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ দিন
ব্যাখ্যা
♦আদেশ ৭ বিধি- ১১ এর বিধান আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান:  নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আরজি প্রত্যাখ্যান করা হবে-

ক) যেক্ষেত্রে এটা মোকদ্দমার কারণ প্রকাশ করেনি;

খ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকার কম মূল্যায়িত হয় এবং আদালতের নির্দেশ মত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছে:

গ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকারের যথার্থই মূল্যায়ন করা হয়েছে; কিন্তু প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশমত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঘ) যেক্ষেত্রে আরজির বিবৃতি অনুযায়ী উক্ত মোকদ্দমা কোন আইন দ্বারা বারিত বলে প্রতীয়মান হয়;

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার মূল্যমান বা আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ সংশোধন করার জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় কোনক্রমেই ২১ দিনের অধিক হবে না।

♦ধারা-২ (২) এর বিধান মতে আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ ডিক্রি হিসেবে গণ্য হবে।

♦আরজি নাকচ / প্রত্যাখ্যানের কারণ ৪টি

১) মোকদ্দমার কারণ উল্লেখ না করলে (Cause of action)

২) দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেয়া হলে (undervalued)

৩) অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প পেপারে লিখা হলে (insufficiency stamped)

৪) মোকদ্দমাটি আইন/তামাদিতে বারিত হলে (Barred by law)

দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম দেখালে বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে আদালত তা সংশোধনের জন্য অনধিক ২১ দিন সময় দিতে পারে।

♦ প্রতিকার
১) বিধি: ১৩ অনুযায়ী পুনরায় একই বিষয়ে নতুন আরজি দাখিল।
২) আপিল করা যাবে

♦ বিবাদীর আবেদনক্রমে বা আদালত নিজ উদ্যোগে আরজি প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
♦ বিবাদী কর্তৃক আরজি প্রত্যাখ্যানের আবেদন নামঞ্জুর হলে রিভিশন করা যাবে।
৪৪.
আরজিতে বিবৃত অভিযোগসমূহ বিবাদীর লিখিত জবাবে সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা না হলে, তা হবে বিবাদীর-
  1. স্বীকারোক্তি
  2. উপস্থাপন
  3. স্বীকৃতি
  4. বর্জন
সঠিক উত্তর:
স্বীকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বীকৃতি
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৮ বিধি-৫ এর বিধান সুনির্দিষ্ট অস্বীকার (Specific denial): আরজিতে উল্লেখিত তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের প্রত্যেকটি যদি সুনির্দিষ্ট বা প্রয়োজনীয় নিহিতার্থে (by necessary implication) বা বিবাদীর আরজি জবাবে তা স্বীকৃত হয়নি বলে যদি উল্লেখ করা না হয়, তবে অক্ষম ব্যক্তি ব্যতিত অপর সকলের বিরুদ্ধে তা স্বীকার হয়েছে বলে গণ্য হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ স্বীকৃত কোন তথ্য আদালত ইচ্ছা করলে এরূপ স্বীকারোক্তি ছাড়া অন্য কোনভাবে প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন।

♦ অর্থাৎ আরজিতে বর্ণিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদীকে তার লিখিত জবাবে স্পষ্টভাবে বা সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করতে হবে, নয়তো তা বিবাদী স্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে। তবে বিবাদী অক্ষম হলে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।
৪৫.
কোন ব্যক্তি বিবাদী পক্ষ তার লিখিত জবাব দাখিল করতে সর্বোচ্চ-
  1. ৬ মাসের মধ্যে
  2. ৪ মাসের মধ্যে
  3. ৩ মাসের মধ্যে
  4. ২ মাসের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
২ মাসের মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৮ বিধি-১ এর বিধান লিখিত জবাব (Written statement): সমন প্রাপ্তির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিবাদীকে অবশ্যই লিখিত জবাব দিতে হবে। এরূপ করতে ব্যর্থ হলে আদালত আরো ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় দিতে পারে। অর্থাৎ লিখিত জবাব দাখিলের জন্য বিবাদী সর্বমোট ৬০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় পেতে পারেন।

♦বিবাদী যদি এরপরও দাখিল করতে ব্যর্থ হয় তাহলে, মোকদ্দমাটি একতরফা (Ex-parte) নিষ্পত্তি হবে। এরূপ একতরফা আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদী রিভিশন দায়ের করতে পারবে।

♦ ধারা ৮০ মতে সরকার বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মোকদ্দমা করতে হলে লিখিত নোটিশ প্রদানের ২ মাস পর মোকদ্দমা করা যাবে। যদি নোটিশ ছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করা হয় তাহলে আদালত সরকারকে লিখিত বিবৃতি পেশ করার জন্য কমপক্ষে ৩ মাস সময় মঞ্জুর করবে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ নং আদেশের ৯ ও ১০ নং বিধিতে অতিরিক্ত লিখিত জবাবের বিধান রয়েছে।

♦ ৯ নং বিধিমতে আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় বিবাদীকে সময় নির্ধারণ করে দিয়ে লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিলের আদেশ দিতে পারে। 
♦ ১০ নং বিধিমতে বিবাদী আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে,আদালত বিবাদীর বিরূদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে (pronounce judgement) অথবা মোকদ্দমা সম্পর্কিত যে কোন আদেশ দিতে পারে।

♦ অর্থাৎ বিবাদীর প্রতি সমন জারির তারিখ হতে ৩০ (ত্রিশ) কার্য দিবসের মধ্যে, বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল করবে। উক্ত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে পারবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে, আদালত মোকদ্দমাটি একতরফা নিষ্পত্তি করতে পারে।
৪৬.
একটি আরজিতে সত্যাখ্যান (Verification) স্বাক্ষর করবে কে?
  1. বাদী
  2. বাদীর উকিল
  3. বিবাদী
  4. রিভিউ
সঠিক উত্তর:
বাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদী
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১৫ নং বিধিতে প্লিডিংস সত্যাখ্যানের (Verification of pleadings) বিধান রয়েছে। ১৫ নং বিধিমতে প্রত্যেক Pleadigns-এর শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষ অর্থাৎ আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী সত্যপাঠে স্বাক্ষর করবে, যাকে প্লিডিংস সত্যাখ্যান বা সত্যতা প্রতিপাদন (Verification of pleadigns) বলে।
অর্থাৎ আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখান বা সত্যতা প্রতিপাদন করবে।

♦ আদেশ ৬, বিধি ১৫ তে এই বিষয়ে বলা আছে। …every pleading shall be verified at the foot by the party or one of the parties….”

♦ আরজির সত্যতা প্রতিপাদনকারী ব্যক্তি তাতে একেবারে শেষে স্বাক্ষর দিবেন এবং স্বাক্ষরে তারিখ ও স্থান উল্লেখ করবেন।
৪৭.
৭ লক্ষ টাকা মূল্যমানের একটি মামলায় আরজি খারিজের দরখাস্ত প্রত্যাখানের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে-
  1. আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. জেলা জজ আদালত
  4. বিভাগীয় জজ আদালত
সঠিক উত্তর:
জেলা জজ আদালত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
♦ আমরা জানি, CPC'র ২(২) ধারা মোতাবেক আরজি খারিজের (Order of Rejection of Plaint) একটি ডিক্রি। তাই, আরজি খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে ৯৬ ধারা মোতাবেক আপিল চলবে। আরজি খারিজের আদেশ দিলে এক্ষেত্রে বাদী সংক্ষুব্ধ হবে। তাই বাদী আপিল দায়ের করতে পারবে।

কিন্তু আলোচ্য প্রশ্নে বলা হয়েছে, আরজি খারিজের দরখাস্ত প্রত্যাখ্যানের আদেশ। অর্থাৎ, উক্ত মোকদ্দমায় বিবাদীপক্ষ আরজি খারিজের জন্য দরখাস্ত দিয়েছে এবং তা প্রত্যাখ্যাত (Rejected) হয়েছে। আরজি খারিজের দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান কোনো ডিক্রিও নয়, আপিলযোগ্য আদেশও নয়। সুতরাং ১১৫ ধারা মোতাবেক রিভিশন করা যাবে।

আবার, যেহেতু প্রশ্ন বলা আছে মূল্যমান ৭ লক্ষ টাকা, তাই আমরা বুঝতে পারি, মোকদ্দমাটি সহকারি জজ আদালতের দায়ের হয়েছে। সুতরাং, সহকারি জজ আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে রিভিশন হবে। কারণ জেলা জজের নিয়ন্ত্রাধীন আদালতসমূহের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন শুধুমাত্র জেলা জজ আদালতেই হবে।

♦ রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে।

♦ ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।

♦ দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে।
৪৮.
সিভিল প্রসিডিউর কোডের ১৪৪ ধারার অধীন প্রত্যার্পণ বিষয়ে কোন আদেশ হলে সেটি হবে একটি-
  1. রায়
  2. ডিক্রি
  3. আদেশ
  4. রিভিউ
সঠিক উত্তর:
ডিক্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিক্রি
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারার বিধান: ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। আরজি প্রত্যাখ্যান এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও এর অন্তর্ভুক্ত হবে,

তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-
ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

♦ব্যাখ্যাঃ ডিক্রি তখনই প্রাথমিক হয়, যখন মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আরও ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার থাকে; মোকদ্দমা যখন চূড়ান্তরূপে নিষ্পত্তি হয়, তখনই ডিক্রি চূড়ান্ত হয়ে থাকে। কোন ডিক্রি আংশিকভাবে প্রাথমিক এবং আংশিকভাবে চূড়ান্ত হতে পারে।

♦অর্থাৎ সিভিল প্রসিডিউর কোডের ১৪৪ ধারার অধীন প্রত্যার্পণ বিষয়ে কোন আদেশ হলে সেটি হবে একটি  ডিক্রি।
৪৯.
সিভিল প্রসিডিউর কোডের কোন ধারায় রেস সাব-জুডিস এর নীতি বর্ণিত আছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
সঠিক উত্তর:
১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০
ব্যাখ্যা
♦ রেস সাব-জুডিস- দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারার বিধান অনুযায়ী একই বিষয়ে একই পক্ষদ্বয়ের মধ্যে একই সময়ে একাধিক মোকদ্দমা দায়ের করা যায় না।

ল্যাটিন শব্দ রেস (Res) এবং সাবজুডিস (Subjudice) থেকে রেস সাবজুডিস শব্দটির উৎপত্তি। ল্যাটিন রেস (Res) অর্থ বিষয় এবং সাবজুডিস (Subjudice) অর্থ আদালতে বিচারাধীন অর্থাৎ Res subjudice অর্থ আদালতের বিচারাধীন বিষয়।

পক্ষগণ যাতে একই বিষয়ে অধিক মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং বিচার বিভ্রান্তি না ঘটে সে উদ্দেশ্যে রেস সাবজুডিস নীতিটি প্রয়োগ করা হয়। দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ ধারায় রেস সাবজুডিস নীতিটির প্রতিফলন ঘটেছে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ ধারায় যদিও Res-subjudice শব্দটি একবারও ব্যবহার হয়নি তবে ১০ ধারায় Res-subjudice শব্দটির পরিবর্তে Stay of suit শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। 

সাবজুডিস নীতি অনুযায়ী একই বিচার্য বিষয়ে পক্ষগণের মধ্যে দুইটি পৃথক মামলার বিচার একই সময়ে চলতে পারে না। সে ক্ষেত্রে পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটির বিচার সাপেক্ষে পরবর্তী মামলার বিচার কার্য স্থগিত রাখতে হবে। কোন দেওয়ানী মামলায় রেস সাবজুডিস নীতি প্রয়োগ করতে হলে নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ করতে হয়-
i) পূর্বে দায়েরকৃত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকতে হবে;

ii) পূর্বে দায়েরকৃত মামলা অবশ্যই সেই আদালতে বিচারাধীন থাকতে হবে, যেখানে পরবর্তী মামলা দায়ের করা হয়েছে;

iii) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার পক্ষসমূহ একই হবে এবং একই স্বত্বের অধীন (Under same title) হতে হবে;

iv) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার বিচার্য বিষয় সমূহ প্রত্যক্ষভাবে না হয় মূলত (directly or substantially) একই হতে হবে অর্থাৎ উভয় মামলার বিষয়বস্তু অভিন্ন হতে হবে।
৫০.
প্রত্যেকটি আপিল মেমোতে স্বাক্ষর করবে-
  1. আপিলকারী বা তার উকিল
  2. আপিলকারী এবং তার উকিল
  3. উকিল এবং রেসপনডেন্ট
  4. আপিলকারী এবং রেসপনডেন্ট
সঠিক উত্তর:
আপিলকারী বা তার উকিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিলকারী বা তার উকিল
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৪১ বিধি ১ এর বিধান মূল ডিক্রি হতে আপীল:
১) আপীলের নমুনা স্মারকলিপির সঙ্গে যা থাকতে হবেঃ (১) প্রত্যেকটি আপীল আপীলকারী বা তার উকিল কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি স্বারকলিপির আকারে পেশকরতে হবে এবং আদালত বা এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মচারীর নিকট দাখিল করতে হবে। যে ডিক্রি হতে আপীল করা হচ্ছে এবং (যদি না আপীল আদালত ইহার প্রয়োজনীয়তা শেষ করেন) যে রায়ের উপর উহা প্রতিষ্ঠিত, তার একটি নাকল স্বারকলিপির সঙ্গে প্রদান করতে হবে।

(২) স্মারকলিপির সারমর্মঃ যে ডিক্রি হতে আপীল করা হচ্ছে, সেই ডিক্রি সম্পর্কে আপত্তির সঙ্গত কারণগুলি সংক্ষেপে এবং স্পষ্ট শিরোনামে স্বারকলিপিতে কোন তর্ক বা ধারাবাহিক বর্ণনা ব্যতিত ব্যাখ্যা করতে হবে, এবং এরূপ সঙ্গত কারণগুলি ধারাবাহিক নম্বর যুক্ত হতে হবে।
৫১.
বার কাউন্সিল নির্বাচিত সদস্যগণের কার্যকাল সমাপ্ত হয়-
  1. ৫ বৎসরে
  2. ৩ বৎসরে
  3. ২ বৎসরে
  4. ১ বৎসরে
সঠিক উত্তর:
৩ বৎসরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ বৎসরে
ব্যাখ্যা
♦ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ-৪ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরবর্তী ১লা জুলাই থেকে ০৩ (তিন) বছর পর্যন্ত বার কাউন্সিলের মেয়াদ থাকবে। অর্থাৎ বার কাউন্সিলের মেয়াদ ৩ বছর। বার কাউন্সিলের মেয়াদ শেষে বার কাউন্সিলের সদস্যগণ অফিস ধারণের যোগ্যতা হারাবেন।

♦ অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যদের পদের মেয়াদ ৩ বৎসর। এই ৩ বৎসর শুরু হবে সাধারণ নির্বাচনের পর পহেলা জুলাই থেকে।
৫২.
একজন এ্যাডভোকেটকে হাইকোর্ট বিভাগে আইন ব্যবসা করার অনুমতি প্রাপ্তির জন্য অধঃস্তন আদালতে অন্যূনতম কত বৎসর আইন ব্যবসা করতে হবে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বৎসর
  3. ২ বৎসর
  4. ৩ বৎসর
সঠিক উত্তর:
২ বৎসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বৎসর
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 এর ২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে হাইকোর্টে আইন পেশা করার অনুমতির জন্য এডভোকেট হিসাবে অধঃস্তন আদালতে অন্যূন ২ বৎসর আইন ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৫৩.
এ্যাডভোকেট এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান-
  1. অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান
  3. আপিল বিভাগের বিচারক
  4. হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগের বিচারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগের বিচারক
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 এর ১১খ অনুচ্ছেদে অ্যাডভোকেট নিবন্ধন কমিরি উল্লেখ আছে। উক্ত কমিটির সদস্য হলো ৫ জন। প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপীল বিভাগের বিচারক হবে নিবন্ধন কমিটির সভাপতি।

♦ অনুচ্ছেদ-১১খ: নিবন্ধন কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫ জন। ১ জন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্য।
চেয়ারম্যান হবেন প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনিত আপিল বিভাগের বিচারক,
প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনিত হাইকোর্ট বিভাগের ২জন বিচারক,
অ্যাটর্নি জেনারেল এবং
বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে ১ জন।

♦ নিবন্ধন কমিটির কাজ: নিম্ন আদালত এবং হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবীদের নিবন্ধন সংক্রান্ত কার্যাবলী সম্পাদন করা।
৫৪.
একজন ব্যক্তির অন্য সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য তার অন্যুন বয়স হতে হবে-
  1. ৩০ বৎসর
  2. ২৭ বৎসর
  3. ২৫ বৎসর
  4. ২১ বৎসর
সঠিক উত্তর:
২১ বৎসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ বৎসর
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 এর ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তির অন্য সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য অনূন্য বয়স হতে হবে ২১ বৎসর।

♦ আইনজীবী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে Bangladesh Legal Practitioner and Bar Council Order 1972 এর অনুচ্ছেদ – ২৭ অনুযায়ী নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ করতে হবেঃ
১। প্রথমত তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;
২। তাকে ২১বছর বয়সী হতে হবে;
৩। আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে হবে-
বাংলাদেশের যেকোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে;
বার কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত দেশের বাইরের কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে;
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের পূর্বে হলে পাকিস্তানের যেকোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ;
১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্টের পূর্বে হলে ভারতবর্ষের যেকোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে;
ব্যরিস্টার এট ল’ হয়ে থাকলে;
৪। বার কাউন্সিল কর্তৃক কোন পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে এবং পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি দিলে।
৫৫.
বার কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত ট্রাইব্যুনাল হয়-
  1. ৭ ব্যক্তির সমন্বয়ে
  2. ৫ ব্যক্তির সমন্বয়ে
  3. ৩ ব্যক্তির সমন্বয়ে
  4. ১ ব্যক্তির সমন্বয়ে
সঠিক উত্তর:
৩ ব্যক্তির সমন্বয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ব্যক্তির সমন্বয়ে
ব্যাখ্যা
♦The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Orders, 1972  এর ৩৩ অনুচ্ছেদ মতে  মোট ৩ জন সদস্য নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়।

♦বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে হতে বার কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত ২ জন সদস্য এবং অ্যাডভোকেটদের মধ্যে হতে ১ জন নিয়ে বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে।
♦এই তিন জনের মধ্যে যে প্রবীণ, সেই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হবে।
৫৬.
ট্রাইব্যুনালের কোন আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারে-
  1. আপিল বিভাগে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. জেলা জজ আদালতে
  4. বার কাউন্সিল আপিল বোর্ডে
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে হবে।এই আপিল বার কাউন্সিল নিজে অথবা অভিযুক্ত আইনজীনী স্বেচ্ছায় করতে পারেন।
৫৭.
বার কাউন্সিল কর্তৃক বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে পূর্ণ অনুমোদন লাগবে-
  1. রাষ্ট্রপতির
  2. প্রধান বিচারপতির
  3. বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের
  4. সরকারের
সঠিক উত্তর:
সরকারের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ- ৪০ মতে The Bangladesh Legal Practitioners & Bar Council Order 1972 এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে বার কাউন্সিল সরকারী গেজেট নোটিফিকেশন দ্বারা বিধি (Rules) প্রণয়ন করতে পারে। বার কাউন্সিল এরূপ বিধি প্রণয়ন না করা পর্যন্ত অনুচ্ছেদ ৪০ (৩) এর অধীন বার কাউন্সিলের ক্ষমতা সরকার কর্তৃক প্রয়োগ করা হবে। এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরকার The Bangladesh Legal Practitioners & Bar Council Rules, 1972 প্রণয়ন করে।

♦ অর্থাৎ বার কাউন্সিল সরকারের পূর্ব অনুমতি নিয়ে বিধি প্রণয়ন করতে পারে।
৫৮.
এ্যাডভোকেট ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি যদি আইন ব্যবসা করেন, তাহলে তাকে কারাদন্ডে দন্ডিত করা যেতে পারে-
  1. ২ মাস পর্যন্ত
  2. ৩ মাস পর্যন্ত
  3. ৬ মাস পর্যন্ত
  4. ৪ মাস পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
৬ মাস পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ মাস পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুযায়ী যে ব্যক্তি এ্যাডভোকেট না হয়ে আইন পেশা করে (নিম্ন আদালতে বা হাইকোর্টে) সে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
৫৯.
চেয়ারম্যান কর্তৃক বার কাউন্সিলের নির্বাচনী তফসিল প্রকাশ করতে হবে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের কমপক্ষে -
  1. ১৫ দিন পূর্বে
  2. ৩০ দিন পূর্বে
  3. ৪৫ দিন পূর্বে
  4. ৬০ দিন পূর্বে
সঠিক উত্তর:
৪৫ দিন পূর্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫ দিন পূর্বে
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 এর ৩ বিধিতে বলা হয়েছে বার কাউন্সিলের নির্বাচনের সর্বনিম্ন ৪৫ দিন পূর্বে, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করবে।
৬০.
বার কাউন্সিলের মেয়াদ শুরুর তারিখ থেকে হিসাব করে ১ম সভা অনুষ্ঠিত হবে-
  1. ৬ মাসের মধ্যে
  2. ৩ মাসের মধ্যে
  3. ২ মাসের মধ্যে
  4. ১ মাসের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
১ মাসের মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 এর ২৮ বিধিতে বলা হয়েছে বার কাউন্সিলের মেয়াদ শুরুর তারিখ হতে ১ মাসের মধ্যে প্রথম সভা আয়োজন করতে হবে। বার কাউন্সিলের সম্পাদক প্রথম সভা আহব্বান করবেন।
৬১.
বার কাউন্সিলে কোন এডভোকেটের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের সাথে প্রদত্ত ফি-এর পরিমাণ হবে-
  1. ১০০ টাকা
  2. ৫০০ টাকা
  3. ১০০০ টাকা
  4. ২০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
১০০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972  এর ৪১ক বিধিতে বলা হয়েছে বার কাউন্সিলে কোন এডভোকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হলে ১০০০ টাকা ফি জমা দিতে হবে।
৬২.
কোন এ্যাডভোকেট বার কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত শিক্ষানবীশ নিতে পারবেন-
  1. ২ জনের বেশী নয়
  2. ৩ জনের বেশী নয়
  3. ৪ জনের বেশী নয়
  4. ৫ জনের বেশী নয়
সঠিক উত্তর:
৪ জনের বেশী নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ জনের বেশী নয়
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 এর বিধি-৬০ (৩) এ বলা হয়েছে বার কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া, কোন এ্যাডভোকেট ৪ জনের বেশি ব্যক্তিকে শিক্ষানবীশ হিসাবে নিতে পারবে না।
৬৩.
যদি কোন প্রার্থী তালিকাভুক্তির দরখাস্তে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে, তিনি তালিকাভুক্তির অযোগ্য হবেন-
  1. ৩ বৎসরের জন্য
  2. ৫ বৎসরের জন্য
  3. ৬ বৎসরের জন্য
  4. ১ বৎসরের জন্য
সঠিক উত্তর:
৫ বৎসরের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ বৎসরের জন্য
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 বিধি-৬০ এর বিধান:

♦ শিক্ষানবিশ: অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তি হবার পূর্বে কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত উকালতি করেন এমন একজন অ্যাডভোকেটের অধীনে দরখাস্তকারীকে নিয়মিত কমপক্ষে ৬ মাস শিক্ষানবিশ থাকতে হবে।

♦আবেদনপত্রের সাথে ৫টি দেওয়ানি এবং ৫টি ফৌজদারি মোট ১০ টি মামলার লিখিত নোটবুক দাখিল করতে হবে।

♦কোন অ্যাডভোকেট বার কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া একসাথে ৪ জনের বেশি শিক্ষানবিশ গ্রহণ করবেন না।

♦অ্যাডভোকেটের সাথে শিক্ষানবিশ এর যে চুক্তি হবে তা এফিডেভিট সহ বার কাউন্সিলের সেক্রেটারীর নিকট ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।

♦কোন অ্যাডভোকেট চুক্তি পত্রে মিথ্যা বিবৃতি বা মিথ্যা সার্টিফিকেট দিলে পেশাগত অসদাচরনের জন্য দায়ী হবেন।

♦শিক্ষানবিশ তালিকাভুক্তির আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিলে উক্ত শিক্ষানবিশ ৫ বছরের জন্য অযোগ্য হবেন।

♦হাইকোর্ট বিভাগে প্রাকটিসের অনুমতির এবং রেজিস্ট্রেশন ৫ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে। ৫ বছরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে ব্যর্থ হলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে।

♦এম.সি.কিউ এবং লিখিত পরীক্ষা এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস অনুমতির পরীক্ষা সরকারী কলেজে হবে।
৬৪.
কোন মামলায় যে কোন পক্ষে একের অধিক এ্যাডভোকেট নিযুক্ত থাকলে, মামলা পরিচালনার অধিকার থাকবে-
  1. এ্যাডভোকেট যিনি সর্বপ্রথম নিযুক্ত
  2. এ্যাডভোকেট যিনি পক্ষ কর্তৃক মনোনীত
  3. নিযুক্তিয় এ্যাডভোকেটদের মধ্যে যিনি সিনিয়র
  4. নিযুক্তিয় এ্যাডভোকেটদের মধ্যে যে কোন একজন
সঠিক উত্তর:
নিযুক্তিয় এ্যাডভোকেটদের মধ্যে যিনি সিনিয়র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিযুক্তিয় এ্যাডভোকেটদের মধ্যে যিনি সিনিয়র
ব্যাখ্যা
♦ পেশাগত সদাচরণ ও নিয়মানুবর্তীতা [Cannons of Professional Conduct and Etiquette]  ১ম অধ্যায় আইনজীবীদের পারস্পরিক আচরণ[Conduct with regard to other Advocates] বিধি ১১ এর বিধান যদি কোন মামলায় একাধিক আইনজীবী নিযুক্ত হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে অধিকার বলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উক্ত মামলা পরিচালনা করবে এবং কনিষ্ঠ আইনজীবী তাকে সহযোগিতা করবে।

♦ অর্থাৎ কোন মামলায় একপক্ষে একাধিক আইনজীবী নিয়োজিত হলে, সেই ক্ষেত্রে জৈাষ্ঠ আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবে।
৬৫.
আদালত কর্ম সময়ের পর যে কোন জরুরী বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের সাথে একজন নিযুক্তিয় এডভোকেটের যোগাযোগ করার উপযুক্ত পন্থা হলো-
  1. বিচারকের সরকারি খাস কামরায় দেখা করা
  2. প্রতিপক্ষের অ্যাডভোকেটের সাথে নিয়ে বিচারকের সাথে দেখা করা
  3. স্থানীয় বারের সভাপতিকে সাথে নিয়ে বিচারকের সাথে দেখা করা
  4. এ ধরনের যোগাযোগ করা হতে বিরত থাকা
সঠিক উত্তর:
এ ধরনের যোগাযোগ করা হতে বিরত থাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ ধরনের যোগাযোগ করা হতে বিরত থাকা
ব্যাখ্যা
♦ পেশাগত সদাচরণ ও নিয়মানুবর্তীতা [Cannons of Professional Conduct and Etiquette] ৩ অধ্যায়ে ‘আদালতের প্রতি দায়িত্ব' শিরোনামে ৯টি বিধি আছে। ৪নং বিধির বিধান- একজন আইনজীবী ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যতিরেকে কোন বিচারক কিংবা কোন বিচারিক কর্মকর্তার প্রতি লক্ষণীয় আগ্রহ ও আতিথেয়তা পরিহার করবে অন্যথায় উক্ত আগ্রহ ও আতিথেয়তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে। কোন বিচারাধীন মামলার বিষয়ে কোন আইনজীবী বিচারকের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ কিংবা মামলার গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে যুক্তি প্রদর্শন করতে পারবেনা। উক্তরুপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোন বিচারকের বিশেষ অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত আইনজীবী ভর্ৎসনা ও ঘৃণা লাভের যোগ্য। বিচারকের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক নিজের স্বীয় মর্যাদা ও স্বাতান্ত্র্য বজায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই আইনজীবী ও বিচারকের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুসম্পর্ক যথাযথভাবে স্থাপন করা যেতে পারে।

♦ ৪নং বিধিতে যা বলা হয়েছে যে, তার সার-সংক্ষেপ হলো: আদালতের কর্ম-সময়ের পর যেকোনো জরুরি বিরোধীর বিষয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের সাথে সংশ্লিষ্ট মামলার অ্যাডভোকেট যোগাযোগ করা থেকে বিরত থাকবে।
৬৬.
একজন এডভোকেটের মামলা পরিচালনার দায়িত্ব অন্য কোন এ্যাডভোকেটকে অর্পণ করবে, যদি তাঁকে মক্কেলের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করতে হয়-
  1. কোন দলিল সত্যায়ন বিষয়ে
  2. কোন দলিলের হেফাজত বিষয়ে
  3. অভিযুক্ত প্রকারে কোন প্রতারণামূলক দলিল সৃজন বিষয়ে
  4. মামলায় উক্ত এডভোকেটের নিযুক্তিয় বিষয়ে
সঠিক উত্তর:
মামলায় উক্ত এডভোকেটের নিযুক্তিয় বিষয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামলায় উক্ত এডভোকেটের নিযুক্তিয় বিষয়ে
ব্যাখ্যা
♦ পেশাগত সদাচরণ ও নিয়মানুবর্তীতা [Cannons of Professional Conduct and Etiquette] ২য় অধ্যায়ে বিধি ১৩ এর বিধান যদি কোন কারণে একজন আইনজীবীকে মক্কেলের দলিল দস্তাবেজ প্রত্যয়ন কিংবা উহার জিম্মাদারী সম্পর্কিত কোন আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ব্যতিরেকে, সাক্ষী হতে হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত আইনজীবী উক্ত মামলাটি অন্য কোন আইনজীবীর নিকট হস্তান্তর করবে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন না হলে তিনি তার মক্কেলের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবেনা।

♦  মক্কেলের প্রতি এ্যাডভোকেটের দায়িত্ব সম্পর্কিত বিধি-১৩ অনুযায়ী কোন দলিল সত্যয়ন বিষয়ে, কোন দলিলের হেফাজত বিষয়ে, অভিযুক্ত প্রকারে কোন প্রতারণামূলক দলিল সৃজন বিষয়ে, একজন এডভোকেট মামলা পরিচালনার দায়িত্ব অন্য এ্যাডভোকেটকে অর্পণ করতে পারে না। কিন্তু মামলায় উক্ত এডভোকেটের নিযুক্তির বিষয়ে একজন এ্যাডভোকেট মামলা পরিচালনার দায়িত্ব অন্য এডভোকেটকে অর্পণ করতে পারে।
৬৭.
একজন পাবলিক প্রসিকিউটরের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো-
  1. আসামীর সাজা নিশ্চিত করা
  2. আসামীর খালাস নিশ্চিত করা
  3. আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখা
  4. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
সঠিক উত্তর:
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
♦অচরণবিধির অধ্যায় ৩, বিধি ৫ঃ ফৌজদারি মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবীর প্রাথমিক দায়িত্ব সাজা দেয়া নয় বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এজন্য তিনি কোন ঘটনা বা সাক্ষ্য কোনভাবে লুকাবেন না।
(The primary duty of an Advocate engaged in public prosecution is not to convict, but to see that the justice is done. The suppression of facts or the concealing of witnesses capable of establishing the innocence of the accused is highly reprehensible.)

♦পাবলিক প্রসিকিউটরের প্রাথমিক দায়িত্ব দায়িত্বই হচ্ছে- ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। শুধু আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়। আসামিকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য ঘটনা গোপন রাখা বা সাক্ষীদের লুকিয়ে রাখা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
৬৮.
কেবল অপর পক্ষকে হয়রানীর লক্ষ্যে কোন পক্ষ একটি দেওয়ানি মামলা করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে একজন এ্যাডভোকেট-
  1. আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলাটি গ্রহণ করবেন
  2. বিরুদ্ধ পক্ষের এ্যাডভোকেটকে সাহায্য করবেন
  3. মামলাটি পরিচালনায় করতে অস্বীকার করবেন
  4. নিযুক্তিয় এ্যাডভোকেট হিসাবে মামলাটি পরিচালনা করবেন
সঠিক উত্তর:
মামলাটি পরিচালনায় করতে অস্বীকার করবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামলাটি পরিচালনায় করতে অস্বীকার করবেন
ব্যাখ্যা
♦ পেশাগত সদাচরণ ও নিয়মানুবর্তীতা [Cannons of Professional Conduct and Etiquette] ৪ অধ্যায়ে বিধি ৩ এর বিধান একজন আইনজীবীর নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে কোন একটি দেওয়ানী মামলা বিবাদমান পক্ষ একে অপরকে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্থ করার উদ্দেশ্যে মামলায় লিপ্ত হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে তিনি বাদী কিংবা বিবাদী পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহনে অবশ্যই অস্বীকার করবে। উক্ত ব্যতিক্রম ব্যতীত একজন আইনজীবী যে কোন মামলা পরিচালনা করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

♦ এডভোকেটের জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব সম্পকৃত ৩ নং বিধিতে বলা হয়েছে, কাউকে হয়রানি বা ক্ষতি করার জন্য কোন দেওয়ানী মামলা দায়ের করা হলে তা পরিচালনা করতে একজন আইনজীবী অবশ্যই অস্বীকার করবে।
৬৯.
একটি সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের কার্যক্রমে একজন এ্যাডভোকেট কোন পক্ষকে প্রতিনিধিত্ব করলে তিনি-
  1. সম্পত্তিটি নিজে ক্রয় করতে পারবেন
  2. সম্পত্তিটি বেনামীতে ক্রয় করতে পারবেন
  3. পারিতোষিকের পরিবর্তে সম্পত্তিটি ক্রয় করতে পারবেন
  4. সম্পত্তিটি বা তার কোন অংশ কোনভাবেই ক্রয় করতে পারবেন না
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তিটি বা তার কোন অংশ কোনভাবেই ক্রয় করতে পারবেন না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তিটি বা তার কোন অংশ কোনভাবেই ক্রয় করতে পারবেন না
ব্যাখ্যা
♦ মক্কেলের সাথে এডভোকেটের আচরণ সংক্রান্ত ৫ নং বিধিতে বলা হয়েছে একজন এডভোকেট নিজের নামে অথবা বেনামে ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে, বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয়, বিচারিক বা নিলামের মাধ্যমে সম্পত্তি ক্রয় করবে না যদি উক্ত এডভোকেট উক্ত মামলায় কোন পক্ষের হয়ে মামলা পরিচালনা করে।
৭০.
সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগ এ মর্মে ঘোষণা করেন যে-
  1. তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি অবৈধ
  2. খন্দকার মোশতাক আহমদ কর্তৃক জারিকৃত সামরিক আদালত অবৈধ
  3. জেনারেল এইচ.এম. এরশাদ কর্তৃক জারিকৃত সামরিক আইন অবৈধ
  4. রাজধানীর বাহিরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন অবৈধ
সঠিক উত্তর:
রাজধানীর বাহিরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন অবৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজধানীর বাহিরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন অবৈধ
ব্যাখ্যা
 ♦ সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে রাজধানীর বাহিরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬ টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী আইন, ১৯৮৮ পাস করা হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে দুইটি রীট দায়ের করা হয়েছিল এই ভিত্তিতে যে প্রজাতন্ত্রের উপর বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি যা পরিবর্তন বা নষ্ট করা যায় না । সুতরাং উক্ত সংশোধনী অবৈধ। হাইকোর্টের বিভক্ত বেঞ্চ এই দুইটি রীট পিটিশন খারিজ করে দেয়। লিভ টু আপীল আপীলেট ডিভিশনে দায়ের করলে তা আপীল বিভাগ মঞ্জুর করে এবং সর্বশেষ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে রাজধানীর বাহিরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬ টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন অবৈধ বলে আপীল বিভাগ রায় দেয়।
৭১.
অজামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে একজন আসামী জামিন দাবী করতে পারে যদি তার বয়স হয়-
  1. ১৮ বৎসরের কম
  2. ১৬ বৎসরের কম
  3. ১৫ বৎসরের কম
  4. ১৪ বৎসরের কম
সঠিক উত্তর:
১৬ বৎসরের কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ বৎসরের কম
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিনের বিধান রয়েছে। জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিনের বিধান সমূহ নিম্নরূপ-

♦ জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আসামী ১৬ বৎসরের নিম্ন বয়স্ক বা স্ত্রীলোক বা পীড়িত বা অক্ষম হলে অথবা আদালত উপযুক্ত মনে করলে জামিন দিতে পারেন (May be released on bail)। এক্ষেত্রে জামিন দেওয়া আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)।

♦অভিযুক্ত আসামি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধে দোষী হতে পারে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারন থাকলে, আদালত উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি প্রদান করবেনা।

♦ অর্থাৎ মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে জামিনে মুক্তি পেতে পারে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি
i) ১৬ বছরের কম (any person under the age of sixteen years),
ii) স্ত্রীলোক (any woman) অথবা,
iii) অসুস্থ বা অক্ষম (any sick or infirm person ) হয়।
৭২.
কে পাবলিক প্রসিকিউটার নিয়োগ করতে পারে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. সরকার
সঠিক উত্তর:
সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯২ ধারা অনুযায়ী সরকার পাবলিক Prosecutor নিয়োগ করতে পারে।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯২ ধারার বিধান পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতাঃ (১) সরকার বা কোন স্থানীয় এলাকায় সাধারণভাবে, বা কোন মামলায়, বা কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর মামলার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর নামক এক বা একাধিক অফিসার নিয়োগ দান করতে পারবেন।

(২) পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে, বা যেক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত হননি সেক্ষেত্রে মামলা পরিচালনার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্বিষয়ে নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ব্যতিত অন্য যে কোন ব্যক্তিকে পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারবেন।

-------------------------------------------------------------------------------------------
 Power to appoint Public Prosecutor : ( 1 ) The Government may appoint, generally, or in any case, or for any specified class of cases, in any local area, one or more officers to be called Public Prosecutors.

(2) The District Magistrate may, in the absence or the Public Prosecutor, or where no Public Prosecutor has been appointed, appoint any other person, not being an officer of police below such ranks as the Government may prescribe in this behalf to be Public Prosecutor for the purpose of any case.
৭৩.
Complaint বলতে বুঝায়-
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগ
  2. জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগ
  3. দায়রা জজের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগ
  4. পুলিশ অফিসারের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগ
সঠিক উত্তর:
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগ
ব্যাখ্যা
♦ পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট নালিশ বলে গণ্য হবে না। কারণ পুলিশ অফিসারের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগ কে এফআইআর (FIR) বলে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এবং দায়রা জজের নিকট Complaint (অভিযোগ ) দায়ের করা যায় না।
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-৪(১) এর জ এবং ৪ক এক সাথে পড়লে বলা যায় Complaint কে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়েরকৃত কোন অভিযোগ বলে গণ্য করতে হবে।

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-৪(১জ) এর বিধান নালিশ (Complaint)- “নালিশ” বলতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক অথবা লিখিতভাবে এই মর্মে অভিযোগ করা যে, জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি একটি অপরাধ করেছে।

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪ক এর বিধান নির্দেশাবলীর অর্থঃ এই কোড অনুসারে, প্রসঙ্গ অন্য কোন নির্দেশ না করলে, কাউকে উল্লেখ করলে তার অর্থ দাঁড়াবে নিম্নরূপঃ
(ক) কোন বিশিষ্টার্থক শব্দ ছাড়া কেবল ম্যাজিস্ট্রেট বলে বর্ণিত থাকলে তা দ্বারা একজন বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট-কে উল্লেখ করা হয়েছে মর্মে বুঝতে হবে।

-----------------------------------------------------------------------------------------

4A. Constuction of reference: (1) In this Code, unless the context otherwise requires, any reference-
(a) without any qualifying word, to a Magistrate, shall be construed as a reference to a Judicial Magistrate.
৭৪.
কে ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. মহানগর দায়রা জজ
  4. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
সঠিক উত্তর:
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৬ ধারার বিধান ফৌজদারী আদালতের শ্রেণীবিভাগঃ (১) সুপ্রীম কোর্ট এবং উক্ত কোড ভিন্ন সাময়িকভাবে বলবৎ অপর কোন আইনবলে প্রতিষ্ঠিত আদালতসমূহ ব্যতীত, বাংলাদেশে দুই প্রকারের ফৌজদারী আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে; যথাঃ

(অ) দায়রা আদালত; এবং (আ) ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত।

(২) দুই প্রকারের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে; যথাঃ
(অ) বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট; এবং (আ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

(৩) চার প্রকারের বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন; যথাঃ
(অ) মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর এলাকায় এবং মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট, অন্যান্য এলাকায়;

(আ) মহানগর এলাকায় প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মর্মে আখ্যায়িত হবে;

(আ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট;

(ঈ)তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।

♦ ব্যাখ্যাঃ এই উপধারার উদ্দেশ্যে, চীফ মোট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট” এবং “চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট” শব্দ দুটিকে যথাক্রমে “অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট” এবং “অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট” বুঝাবে।

♦ মেট্রোপলিটন এলাকায় ২য়/৩য় শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাই।

♦ মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে। অর্থাৎ সকল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।

♦ অর্থাৎ ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নামে পরিচিত। তাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর এলাকায় ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
৭৫.
কোন মহানগর এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তা অ-আমলযোগ্য মামলার তদন্ত করতে পারবে না, যদি সে অনুমতি না নেয়-
  1. মহা পুলিশ পরিদর্শকের
  2. অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. মহানগর দায়রা জজ
  4. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের
সঠিক উত্তর:
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৫৫ ধারার বিধান আমল অযোগ্য মামলার সংবাদঃ (১) যখন কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঐরূপ থানার সীমার মধ্যে কোন আমল অযোগ্য অপরাধের সম্পাদনের বিষয়ে সংবাদ প্রদান করা হয়, তখন তিনি, এ ব্যাপারে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট নিদর্শে ঐরূপ অফিসার কর্তৃক রক্ষিত বহিতে উক্ত সংবাদের সারাংশ লিখে রাখবেন বা রাখাবেন এবং সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর যাওয়ার নির্দেশ দিবেন

(২) আমল অযোগ্য মামলার তদন্তঃ আমল অযোগ্য অপরাধের বিচার করার বা উহা বিচারার্থ প্রেরণ ক্ষমতা আছে এরূপ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত কোন পুলিশ অফিসার কোন আমল অযোগ্য ঘটনা তদন্ত করবেন না।

(৩) এরূপ আদেশপ্রাপ্ত যে কোন পুলিশ অফিসার ঐ তদন্তের ব্যাপারে (বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া), কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমলযোগ্য ঘটনায় যে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন সেই একই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

♦ প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া কোন পুলিশ অফিসার ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৫ ধারার অধীন আমল অযোগ্য মামলার তদন্ত করতে পারে না। যেহেতু প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নামে পরিচিত তাই মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি না নিয়ে পুলিশ ১৫৫ ধারার অধীন আমল অযোগ্য মামলার তদন্ত করতে পারবে না।

♦ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫(২) ধারামতে আমল অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া কোন পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত শুরু করতে পারবে না।
৭৬.
একটি ফৌজদারি আদালত পুলিশ ডায়েরী তলব করতে পারেন-
  1. সাক্ষ্যের জন্য
  2. তদন্তের জন্য
  3. বিচারের জন্য
  4. সুরতহালের জন্য
সঠিক উত্তর:
বিচারের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারের জন্য
ব্যাখ্যা
♦ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তের বিবরণ/অগ্রগতি যে ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন, তাকেই পুলিশ ডায়েরি বলা হয়। পুলিশ ডায়েরিতে উল্লেখ থাকে; কখন সংবাদটি তার নিকট পৌঁছেছিল। কখন তদন্ত শুরু এবং শেষ করেছে। কোন কোন স্থানটি পরিদর্শন করেছে।তল্লাশি, গ্রেফতার, আলামত উদ্ধার, ১৬১ ধারায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পর্কিত সকল বিবরণসহ মামলার সকল প্রকার কার্যক্রম।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭২(২) ধারামতে শুধুমাত্র আদালত অনুসন্ধান বা বিচারে (সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার ব্যতীত) সহায়তা পেতে অর্থাৎ ন্যায় বিচারের স্বার্থে পুলিশ ডায়েরী তলব করতে পারে।
♦ কোনভাবেই অভিযুক্ত বা তার প্রতিনিধি পুলিশ ডায়েরী তলব করতে পারে না, তবে তদন্ত কর্মকর্তা (IO) স্মৃতি পুনঃরুজ্জীবিত করার জন্য (Refreshing Memory) পুলিশ ডায়েরী বা কেস ডায়েরী ব্যবহার করতে পারে।
৭৭.
যখন ম্যাজিস্ট্রেট ফাইনাল রিপোর্ট গ্রহণ করেন, তখন আসামী-
  1. অব্যাহতি পেতে পারে
  2. খালাস পেতে পারে
  3. দন্ড পেতে পারে
  4. মুক্তি পেতে পারে
সঠিক উত্তর:
অব্যাহতি পেতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যাহতি পেতে পারে
ব্যাখ্যা
♦ তদন্তে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে প্রমান পাওয়া না গেলে আসামীকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন জমা দেন তাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা Final Report বলে।

♦ম্যাজিষ্ট্রেট ফাইনাল রিপোর্ট গ্রহণ করতে বাধ্য নয় ; ম্যাজিষ্ট্রেট Final Report গ্রহণ বা প্রত্যাখান করতে পারে।

♦ম্যাজিষ্ট্রেট ফাইনাল রিপোর্ট গ্রহণ করলে আসামীকে ২০২(২খ) ধারায় অব্যাহতি দিতে পারেন। 

♦কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট ফাইনাল রিপোর্ট গ্রহণ না করলে অথবা নারাজী পিটিশন দাখিল করা হলে ম্যাজিষ্ট্রেট পুনরায় তদন্তের আদেশ দিতে পারেন অথবা ১৯০খ ধারায় মামলাটি আমলে নিতে পারেন।
৭৮.
Complaint প্রত্যাহার করা হলে আসামী-
  1. মুক্তি পাবে
  2. অব্যাহতি পাবে
  3. দন্ড পাবে
  4. খালাস পাবে
সঠিক উত্তর:
খালাস পাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খালাস পাবে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৮ ধারা বিধান অভিযোগ প্রত্যাহারঃ এই অধ্যায়ের অধীন যে কোন মামলার চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের আগে যে কোন সময় নালিশকারী (ফরিয়াদী) যদি ম্যাজিস্ট্রেটকে এমর্মে সন্তুষ্ট করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ (নালিশ) প্রত্যাহার করতে অনুমতি দেয়ার যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান আছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে তা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে পারেন এবং অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন।

♦ অর্থাৎ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৮ ধারা অনুযায়ী মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে। অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে খালাস দিতে পারে।
৭৯.
Complaint ব্যতীত অন্যভাবে রুজুকৃত একটি ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম বন্ধ করা হলে, ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে-
  1. মুক্তি দিতে পারেন
  2. অব্যাহতি দিতে পারেন
  3. খালাস দিতে পারেন
  4. দন্ড দিতে পারেন
সঠিক উত্তর:
মুক্তি দিতে পারেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তি দিতে পারেন
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারার বিধান যেক্ষেত্রে ফরিয়াদী না থাকে, সেক্ষেত্রে কার্যক্রম বন্ধের ক্ষমতাঃ নালিশ ব্যতিরেকে অন্যভাবে দায়ের করা যে কোন মকদ্দমায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি পূর্বে নিয়ে অন্য যে কোন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলার যে কোন পর্যায়ে বেকসুর খালাস অথবা দণ্ডের কোন রায় ঘোষণা না করে, কার্যবাহ বন্ধ করে দিতে পারেন এবং অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারবেন।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ বলতে মামলাটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত বোঝায় না বরং মামালাটি বহাল আছে বোঝায়। সাক্ষী পর্যাপ্ত হলে ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি পুনরায় চালু করতে পারে। যে কারণে ম্যাজিস্ট্রেট ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ প্রদান করলো উক্ত কারণ যখন বিদ্যামান থাকেনা তখন থেকে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারে।
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ বা নালিশকারী বিচারিক আদালতে উক্ত মামলার বিচার পুনরুজ্জীবিত বা পুনরায় চালুর জন্য আবেদন করতে পারে এবং উক্ত ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম যেখান থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেখান থেকে শুরু হবে।
♦যে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল সে উক্ত বন্ধের আদেশ বাতিল করতে পারে এবং মামলার কার্যক্রম শুরু করতে পারে যদি সাক্ষী পাওয়া যায়।
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে রিভিশন দায়ের করা যায়। একই অভিযোগের জন্য একই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুনরায় মামলা দায়ের করা যাবে।
৮০.
একজন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল হবে-
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. দায়রা জজ আদালতে
  4. বিভাগীয় জজ আদালতে
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ আদালতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৮ ধারার বিধানঃ যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলঃ যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপীল দায়ের করতে পারবেঃ
♦ নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-
(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপীল করতে হবে।

(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপীল করতে হবে।

♦ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যে দণ্ডই প্রদান করুক না কেন আপীল করতে হবে দায়রা আদালতে। প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুধুমাত্র দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দন্ড দিলে আপীল করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে।

♦ সুতরাং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে আপীল করতে হবে।
৮১.
৩য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হবে-
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  2. দায়রা জজ আদালতে
  3. জেলা জজ আদালতে
  4. বিভাগীয় জজ আদালতে
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ আদালতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪১৭ ধারার বিধান খালাসের ক্ষেত্রে আপীলঃ (১) উপধারা ৪ এর বিধান সাপেক্ষে সরকার যেকোন ক্ষেত্রে আপীল দায়েরের জন্য পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিতে পারেন-
(ক) কোন আদালত কর্তৃক মূল মামলায় বা আপীলে প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে;
(খ) মূল মামলায় বা আপীলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে ।
(২) ধারা-৪১৮ এ যা কিছুই বর্ণিত থাকুক না কেন, উক্তরূপ খালাসের আদেশ যদি ফরিয়াদি কর্তৃক আনীত মামলায় প্রদত্ত হয়ে থাকে এবং আদেশে আইনের ভুল ব্যাখ্যার জন্য ন্যায় বিচারে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ফরিয়াদি উক্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে এরূপ যে কোন হেতুবাদে আপীল দায়ের করতে পারবে-
(ক) দায়রা আদালত কর্তৃক প্রদত্ত মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে; (খ) যেকোন ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে।
(৩) খালাসের আদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিন পার হবার পর ফরিয়াদী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল দায়ের করলে হাইকোর্ট ডিভিশনে তা গ্রাহ্য হবে না ।
(৪) যদি কোন ক্ষেত্রে খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল গৃহীত না হয়, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলবে না ।

♦খালাসের ক্ষেত্রে আপিলের বিধানসমূহ-
১. যেকোন ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর (P.P) মূল মামলা ও আপিলে দেওয়া খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। অর্থাৎ (P.P) কর্তৃক খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপিল চলে।
২. Complaint Registered Case এর ক্ষেত্রে শুধু মূল মামলায় দেওয়া খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে অভিযোগকারী (Complainant)। অর্থাৎ Complaint Registered Case হলে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপিল চলে না।

♦ যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
♦ খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। [ধারা ৪১৭(3)]
♦খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে। [অনুচ্ছেদ ১৫৭, তামাদি আইন, ১৯০৮]

 অর্থাৎ ৪১৭ ধারা অনুযায়ী যে কোন ম্যাজিস্ট্রেটের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ কোর্টে আপীল দায়ের করতে হবে।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------

Appeal in case of acquittal
[417](1) Subject to the provisions of sub-section (4), the Government may, in any case, direct the Public Prosecutor to present an appeal- 
 
(a) to the High Court Division from an original or appellate Order of acquittal passed by any Court of Session; 

(b) to the Court of Session from an original or appellate Order of acquittal passed by any Magistrate.

(
2) Notwithstanding anything contained in section 418, if such an order is passed in any case instituted upon complaint, and if the order involves an error of law occasioning failure of justice, the complainant may present an appeal- 

(a) to the High Court Division from an original order of acquittal passed by any Court of Session;
 
(b) to the Court of Session from an original order of acquittal passed by any Magistrate.] 

(3) No appeal by the complaint from an order of acquittal shall be entertained by the High Court Division 4[or a Court of Session] after the expiry of sixty days from the date of the order of acquittal. 
(4) If, in any case, the admission of an appeal from an order of acquittal is refused, no appeal from that order of acquittal shall lie under sub-section (1).
৮২.
একজন অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে-
  1. ৩০ দিনের মধ্যে
  2. ৬০ দিনের মধ্যে
  3. ৯০ দিনের মধ্যে
  4. ১২০ দিনের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
৬০ দিনের মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪১৭ ধারার বিধান খালাসের ক্ষেত্রে আপীলঃ (১) উপধারা ৪ এর বিধান সাপেক্ষে সরকার যেকোন ক্ষেত্রে আপীল দায়েরের জন্য পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিতে পারেন-
(ক) কোন আদালত কর্তৃক মূল মামলায় বা আপীলে প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে;
(খ) মূল মামলায় বা আপীলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে।
(২) ধারা-৪১৮ এ যা কিছুই বর্ণিত থাকুক না কেন, উক্তরূপ খালাসের আদেশ যদি ফরিয়াদি কর্তৃক আনীত মামলায় প্রদত্ত হয়ে থাকে এবং আদেশে আইনের ভুল ব্যাখ্যার জন্য ন্যায় বিচারে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ফরিয়াদি উক্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে এরূপ যে কোন হেতুবাদে আপীল দায়ের করতে পারবে-
(ক) দায়রা আদালত কর্তৃক প্রদত্ত মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে; (খ) যেকোন ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে।
(৩) খালাসের আদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিন পার হবার পর ফরিয়াদী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল দায়ের করলে হাইকোর্ট ডিভিশনে তা গ্রাহ্য হবে না।
(৪) যদি কোন ক্ষেত্রে খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল গৃহীত না হয়, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলবে না।

♦খালাসের ক্ষেত্রে আপিলের বিধানসমূহ-
১. যেকোন ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর (P.P) মূল মামলা ও আপিলে দেওয়া খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। অর্থাৎ (P.P) কর্তৃক খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপিল চলে।
২. Complaint Registered Case এর ক্ষেত্রে শুধু মূল মামলায় দেওয়া খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে অভিযোগকারী (Complainant)। অর্থাৎ Complaint Registered Case হলে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপিল চলে না।

♦ যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
♦ খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। [ধারা ৪১৭(3)]
♦খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে। [অনুচ্ছেদ ১৫৭, তামাদি আইন, ১৯০৮]
৮৩.
ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের অধীনে নিম্নের কোন আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে?
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. দায়রা জজ আদালত
  3. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,
  4. জেলা জজ আদালত,
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ আদালত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
♦ রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক এখতিয়ার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্ন আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারা থেকে ৪৪২ক ধারা পর্যন্ত রিভিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩৯ ধারা এবং ৪৩৫ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট ডিভিশনকে এবং ৪৩৯ক ধারা এবং ৪৩৫ ধারা মোতাবেক দায়রা আদালতকে রিভিশনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকার্যের যে কোন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায়। এর কারণ হল যে, অধঃস্তন আদালতের রায় বা বিচারকার্যের নির্ভুলতা বা বৈধতা নিশ্চিত করা, কেননা বিচারকার্যের যে কোন ত্রুটি ন্যায়বিচারকে ভুল পথে চালিত করতে পারে।

♦ রিভিশন হচ্ছে আদালতের একটি স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary power)।

ফৌজদারি রিভিশনের বৈশিষ্ট্য-
i) রিভিশনে শুধুমাত্র আইনের প্রশ্ন বিবেচনা করা হয়, কিন্তু ঘটনার প্রশ্ন বিবেচ্য হয় না।
ii) আপিলের মত রিভিশন প্রকৃত বিচার কার্যক্রমের চলমান অবস্থা নয়।
iii) যেক্ষেত্রে আপিলের রায় হয়েছে সেই সকল প্রত্যেক মামলায় রিভিশনের জন্য আবেদন করা যায়।

♦ অর্থাৎ ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন রিভিশন ক্ষমতা আছে ৪৩৯ ধারার অধীন হাইকোর্ট বিভাগের এবং ৪৩৯ক ধারার অধীন দায়রা জজ আদালতের।
৮৪.
একজন অভিযোগকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না, যদি অভিযোগকারী হয় একটি-
  1. আর্থিক প্রতিষ্ঠান
  2. বার কাউন্সিল
  3. বার সমিতি
  4. আদালত
সঠিক উত্তর:
আদালত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদালত
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার বিধান বাদীর জবানবন্দিঃ নালিশের প্রেক্ষিতে অপরাধ আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট যত দ্রুত সম্ভব বাদীর এবং উপস্থিত যদি থাকে, সাক্ষীবৃন্দের মধ্যে যে কয়জনকে সঠিকরূপে গণ্য করেন। তাহাদের শপথ গ্রহণ করে জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারবস্তু নথিবদ্ধ করবেন এবং বাদী বা যেসব সাক্ষীর জবানবন্দি গৃহীত হয়েছে, তারা ও ম্যাজিস্ট্রেট তাতে সই করবেনঃ

(ক) লিখিত নালিশ দায়ের করা হলে ধারা-১৯২ এর বিধানমতে মামলাটি হস্তান্তরের পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্তভাবে জবানবন্দি গ্রহণের দরকার নেই;

(কক) যখন লিখিত নালিশ দায়ের করা হয় এবং আদালত বা সরকারি কর্মচারী তাঁদের সরকারি কাজে কর্তব্যরত অবস্থায় বা সরকারি হিসাবে কথিত কর্তব্য সম্পাদনের সময় এই নালিশ দায়ের করেন, সেক্ষেত্রে বাদীর জবানবন্দি গ্রহনের দরকার নেই।

(গ) যখন ধারা-১৯২ এর বিধান মতে মামলা হস্তান্তর করা হয় এবং হস্তান্তরকারী ম্যাজিস্ট্রেট আগেই বাদীর ও সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে যে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলা হস্তান্ত রিত হয়, , তিনি পুনরায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন না।

♦ অর্থাৎ সাধারণ নিয়ম হলো ফরিয়াদী/ অভিযোগকারী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক অভিযোগ দায়ের করলে, ম্যাজিস্ট্রেট ২০০ ধারার অধীন ফরিয়াদী, অভিযোগকারীকে এবং উপস্থিত সাক্ষীদের শপথপূর্বক পরীক্ষা করবে। কিন্তু অভিযোগকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই যদি অভিযোগকারী লিখিতভাবে নালিশ করে বা যখন আদালত বা সরকারী কর্মকর্তা সরকারী কর্তব্য সম্পাদনের সময় লিখিতভাবে নালিশ করে।
৮৫.
যুগ্ম দায়রা জজ আদালত হতে একটি মামলা প্রত্যাহার করতে পারেন সংশ্লিষ্ট-
  1. দায়রা জজ
  2. বিভাগীয় জজ
  3. স্পেশাল জজ
  4. জেলা জজ
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়রা জজ
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২৮ ধারার বিধান দায়রা জজ সহকারী দায়রা জজের কাছ হতে মোকদ্দমা তুলে নিতে পারবেনঃ (১) দায়রা জজ তাঁর অধঃস্তন সহকারী দায়রা জজের কাছ থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাঁকে যে মামলা দিয়েছেন তা তলব করতে পারবেন।

(১ক) দায়রা জজ কোন অতিরিক্ত দায়রা জজকে যে মামলা বা আপীল দিয়েছিলেন উক্ত অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট যেকোন সময় উক্ত মামলার বিচার বা আপীলের শুনানী আরম্ভের পূর্বে তিনি তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন।
(১খ) যেক্ষেত্রে দায়রা জজ উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন মামলা তুলিয়ে নেন বা ফেরত নেন কিংবা উপ-ধারা (১এ) এর অধীন কোন মামলা বা আপীল ফেরত নেন, সেক্ষেত্রে তিনি নিজের আদালতে উক্ত মামলার বিচার করতে বা নিজে উক্ত আপীল শ্রবণ করতে পারবেন, কিংবা এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে উহা বিচার বা শুনানীর জন্য অন্য কোন আদালতে দিতে পারবেন।

(২) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাঁকে যে মামলা দিয়েছিলেন, তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন, এবং নিজে এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন, বা এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচারের যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর তা ইনকোয়ারী বা বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারবেন।

(৩) সরকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এমর্মে ক্ষমতা দিতে পারবেন যে, তিনি যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শ্রেণীর মামলা বা কোন বিশেষ শ্রেণীর মামলা তার অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে নিতে পারবেন।

(৪) কোন ম্যাজিস্ট্রেট ধারা-১৯২ এর উপধারা (২) এর অধীন কোন মামলা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়েছেন উক্ত মামলা তিনি ফিরিয়ে নিতে এবং নিজে উহার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন।

(৫) কোন ম্যাজিস্ট্রেট এই ধারার অধীন কোন আদেশ দেবার সময় তার এরূপ আদেশ প্রদানের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।


♦ অর্থাৎ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২৮ ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ তার অধীন অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজের নিকট হতে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে পারবেন।

-------------------------------------------------------------------------------------------------
Sessions Judge may withdraw cases from Assistant Sessions Judge.
528.(1) Any Sessions Judge may withdraw any case from, or recall any case which he has made over to, any [Joint] Sessions Judge subordinate to him. 
  
(1A) At any time before the trial of the case or the hearing of the appeal has commenced before the Additional Sessions Judge, any Sessions Judge may recall any case or appeal which he has made over to any Additional Sessions Judge. 
 
(1B) Where a Sessions Judge withdraws or recalls a case under sub-section (1) or recalls a case or appeal under sub-section (IA), he may either try the case in his own Court or hear the appeal himself, or make it over in accordance with the provisions of this Code to another Court for trial or hearing, as the case may be.
৮৬.
ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের ৪৭৬ ধারার অধীন Complaint দায়েরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ-
  1. আপিলযোগ্য
  2. রিভিশনযোগ্য
  3. রিভিউযোগ্য
  4. উপরের কোনটাই নয়
সঠিক উত্তর:
আপিলযোগ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিলযোগ্য
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৭৬-খ ধারার বিধান আপিল (Appeals): যে ব্যক্তির আবেদনক্রমে কোন দেওয়ানী, রাজস্ব বা ফৌজদারী আদালত ৪৭৬ ধারা বা ৪৭৬ক ধারার অধীন নালিশ করতে অস্বীকার করেছেন সেই ব্যক্তি অথবা যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এরূপ অভিযোগ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি ১৯৫ ধারার (৩) উপধারার অর্থানুসারে উক্ত আদালতের উর্ধতন আদালতে আপীল করতে পারেন, এবং অতঃপর উর্ধতন আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে নোটিশ দিয়া নালিশ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে পারেন, অথবা ক্ষেত্ৰ বিশেষে নিজেই সেই নালিশ করতে পারেন যা অধস্তন আদালত ৪৭৬ ধারার অধীন করতে পারতেন, এবং উর্ধতন আদালতে যদি এই নালিশ করেন তাহলে উক্ত ধারার বিধানসমূহ অনুরূপভাবে প্রযোজ্য হবে।

♦যে ব্যক্তির আবেদনক্রমে আদালত ৪৭৬ ধারা বা ৪৭৬ক ধারার অধীন নালিশ করতে অস্বীকার করেছেন সেই ব্যক্তি বা যার বিরুদ্ধে এরূপ অভিযোগ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি উক্ত আদালতের উর্ধ্বতন আদালতে আপিল করতে পারেন।
৮৭.
প্রতিপক্ষ কর্তৃক জেরাকৃত একজন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য একই বিষয় এবং পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পরবর্তী যে কোন বিচারিক কার্যক্রমে প্রাসঙ্গিক হবে, যখন উক্ত সাক্ষী হন-
  1. সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য
  2. সরকারি কর্মচারী
  3. মৃত ব্যক্তি
  4. জীবিত ব্যক্তি
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ধারা ৩৩ অনুযায়ী- সাক্ষী মামলার বিচারক্রমে বা আইনত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা সম্পন্ন কোন ব্যাক্তির নিকট যে সাক্ষ্য দেয়, উক্ত সাক্ষীর মৃত্যু হলে, সন্ধান পাওয়া না গেলে, সে সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হয়ে পড়লে, বিরুদ্ধ পক্ষ তাকে সরিয়ে রাখলে অথবা তাকে উপস্থিত করার জন্য সে সময় ও অর্থের প্রয়োজন, মামলার অবস্থা বিবেচনায় আদালত তা অযৌক্তিক বলে মনে করলে, উক্ত সাক্ষীর পুর্বোক্ত সাক্ষ্যে বর্ণিত কোন ঘটনার সত্যতা পরবর্তী কোন মামলায় বা একই মামলায় পরবর্তী পর্যায়ে প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক হবে (শর্তসাপেক্ষে)।

♦অর্থাৎ ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন এর ৩৩ ধারা অনুযায়ী প্রতিপক্ষ কর্তৃক জেরাকৃত একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য একই বিষয় এবং পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পরবর্তী যে কোন বিচারিক কার্যক্রমে প্রাসঙ্গিক হবে যদি তা পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষ্যতে উল্লেখিত কোন ঘটনার সত্যতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন এবং সাক্ষী মৃত্যুবরণ করলে, সন্ধান পাওয়া না গেলে, সাক্ষ্য প্রদানে অসমর্থ হয়ে পড়লে, বিপক্ষ তাকে সরিয়ে রাখলে এবং তাকে উপস্থিত করার জন্য যে সময় এবং অর্থের প্রয়োজন তা মামলার বিবেচনায় আদালত অযৌক্তিক মনে করলে।
-----------------------------------------------------------------------------------------------
Relevancy of certain evidence for proving, in subsequent proceeding, the truth of facts therein stated
33. Evidence given by a witness in a judicial proceeding, or before any person authorized by law to take it, is relevant for the purpose of proving, in a subsequent judicial proceeding, or in a later stage of the same judicial proceeding, the truth of the facts which it states, when the witness is dead or cannot be found, or is incapable of giving evidence, or is kept out of the way by the adverse party, or if his presence cannot be obtained without an amount of delay or expense which, under the circumstances of the case, the Court considers unreasonable: 
 
Provided- 
that the proceeding was between the same parties or their representatives in interest; 
that the adverse party in the first proceeding had the right and opportunity to cross-examine; 
that the questions in issue were substantially the same in the first as in the second proceeding. 
Explanation.–A criminal trial or inquiry shall be deemed to be a proceeding between the prosecutor and the accused within the meaning of this section.
৮৮.
সকল ক্ষেত্রেই মৌখিক সাক্ষ্য হবে-
  1. লিখিত
  2. দালিলিক
  3. পরোক্ষ
  4. প্ৰত্যক্ষ
সঠিক উত্তর:
প্ৰত্যক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্ৰত্যক্ষ
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুসারে, মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে [Oral evidence must be direct]। অর্থাৎ যে বিষয় দেখা যায়, সেই বিষয়ে কোন সাক্ষ্য দিতে হলে সেই ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে পারবে যে বিষয়টি দেখেছে বলে দাবি করে।
৮৯.
নিম্নের কোনটি গৌণ সাক্ষ্য নহে?
  1. মূল দলিলের সার্টিফাইড কপি
  2. মুল দলিলের প্রতিলিপি
  3. সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিক্রয় দলিলের অবিকল নকল
  4. দলিল দেখেছেন এমন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত দলিল সম্পর্কিত মৌখিক সাক্ষ্য
সঠিক উত্তর:
সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিক্রয় দলিলের অবিকল নকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিক্রয় দলিলের অবিকল নকল
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে প্রাথমিক/মুখ্য সাক্ষ্য: প্রাথমিক সাক্ষ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট দলিলটি আদালতে পরিদর্শনের জন্য দাখিল করা
ব্যাখ্যা-১ কোন দলিল কতিপয় খণ্ডে সম্পাদিত হলে প্রত্যেক খণ্ডই উক্ত দলিলের প্রাথমিক সাক্ষ্য 
কোন দলিল যখন প্রতিলিপি (counterpart) সহকারে সম্পাদিত হয়; এবং প্রত্যেকটি প্রতিলিপি পক্ষগণের মধ্যে একজন বা কয়েকজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি তার সম্পাদনকারী পক্ষের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ব্যাখ্যা-২ঃ যে ক্ষেত্রে একাধিক দলিল একই পদ্ধতিতে (uniform process) প্রস্তুত হয়; যথাঃ মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে তার প্রত্যেকটিই অন্যগুলির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য, কিন্তু যে ক্ষেত্রে সেগুলি সবই একটি মূল দলিলের নকল , সেক্ষেত্রে ঐগুলি দলিলটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য নয়।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মাধ্যমিক/গৌণ সাক্ষ্য (Secondary evidence) : মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তার অন্তর্ভুক্ত হলঃ বর্ণিত বিধানবলী অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল, মূল দলিল হতে এরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্রস্তুত নকল, যাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এরূপ নকলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া অন্য নকল; মূল দলিল হতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া নকল কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তার বিরুদ্ধে তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে, যে ব্যক্তি নিজে কোন দলিল দেখেছে, তার দেওয়া উক্ত দলিলের বিষয় বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ।
 
♦ প্রশ্নে কোনটি গৌণ্য সাক্ষ্য নহে অর্থ কোনটি প্রাথমিক সাক্ষ্য তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মূল দলিলের সার্টিফাইড কপি বা জাবেদা নকল, দলিল দেখেছেন এমন ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিক্রয় দলিলের অবিকল নকল হলো গৌণ সাক্ষ্য বা মাধ্যমিক সাক্ষ্য।
সাক্ষ্য আইনের ৭৬ ধারা অনুসারে, সাব রেজিষ্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিক্রয় দলিলের অবিকল নকল বা জাবেদা নকল ৬৩ ধারার (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে মাধ্যমিক সাক্ষ্য।
অন্যদিকে, ৬২ ধারার ব্যাখ্যা-০১ অনুসারে, যখন কোন দলিল প্রতিলিপিসহ [counterparts] সম্পাদিত হয়, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি প্রতিলিপি এর সম্পাদনকারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য হবে।
সুতরাং, মূল দলিলের প্রতিলিপি বা মূল দলিলের অনুরূপ কপি প্রস্তুত করা হলে, এবং পক্ষগণ মূল দলিলটিসহ প্রস্তুতকৃত প্রতিলিপি স্বাক্ষর করে সম্পাদন করলে, অনুরূপ প্রতিলিপি প্রাথমিক সাক্ষ্য মর্মে গণ্য হবে।
৯০.
প্রাথমিক সাক্ষ্য বলতে বুঝায় এমন দলিল যাহা পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে-
  1. সরকারি কর্মকর্তার নিকট
  2. আইনজীবীর নিকট
  3. তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট
  4. আদালতের নিকট
সঠিক উত্তর:
আদালতের নিকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদালতের নিকট
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারায় প্রাথমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে মূল দলিল সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করাকে প্রাথমিক সাক্ষ্য বা Primary evidence বলে। এছাড়া নিম্নলিখিত সাক্ষ্যগুলোও প্রাথমিক সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে-

i) সাক্ষ্য আইনের ৬২ ও ৯১ ধারা অনুযায়ী লিখিত দলিলের ক্ষেত্রে দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে খোদ দলিলটিই প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ii) একটি দলিল কয়েক খন্ডে সম্পাদিত হলে, প্রত্যেক খন্ডই একে অন্যের প্রাথমিক সাক্ষ্য ।

iii) যখন কোন দলিল প্রতিলিপিসহ সম্পাদিত হয় (executed in counterpart), তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি সম্পাদনকারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

iv) যেক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক দলিল মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির মাধ্যমে একই পদ্ধতিতে হয়, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি অন্যগুলির প্রাথমিক সাক্ষ্য। কিন্তু মূল দলিলের নকল হলে, তা মূল দলিলের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য হবেনা যেমন- এক ব্যক্তির দখলে এমন কতগুলি প্রচার পত্র (placards) আছে বলে দেখান হল, যার সবগুলি একটি মূল দলিল হতে একই সময়ে মুদ্রিত হয়েছে। প্রচার পত্রগুলির যে কোন একটি অপর একটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য, কিন্তু সেগুলির একটিও মূল প্রচার পত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রথম শ্রেণীর সাক্ষ্য নয়।

♦ মৌখিক সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য- সাক্ষী নিজে দেখে-শুনে বা অনুভব করে যে সাক্ষ্য দেয় তা প্রাথমিক সাক্ষ্য। তার নিকট থেকে অন্য জন শুনে সাক্ষ্য দিলে তা হয় মাধ্যমিক (Secondary) বা পরোক্ষ তথা জনশ্রুতি সাক্ষ্য ।
৯১.
একটি দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে-
  1. প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা
  2. গৌণ সাক্ষ্য দ্বারা
  3. স্বয়ং দলিলটি দ্বারা
  4. উপরের যে কোন একটির দ্বারা
সঠিক উত্তর:
উপরের যে কোন একটির দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের যে কোন একটির দ্বারা
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী কোন দলিলের বিষয় বস্তু প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক গৌণ সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে । যেহেতু স্বয়ং দলিলটি একটি প্রাথমিক দলিল, তাই কোন দলিলের বিষয়বস্তু প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা, গৌন সাক্ষ্য দ্বারা বা স্বয়ং দলিলটি দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুসারে প্রাথমিক/মুখ্য সাক্ষ্য: প্রাথমিক সাক্ষ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট দলিলটি আদালতে পরিদর্শনের জন্য দাখিল করা
ব্যাখ্যা-১ কোন দলিল কতিপয় খণ্ডে সম্পাদিত হলে প্রত্যেক খণ্ডই উক্ত দলিলের প্রাথমিক সাক্ষ্য 
কোন দলিল যখন প্রতিলিপি (counterpart) সহকারে সম্পাদিত হয়; এবং প্রত্যেকটি প্রতিলিপি পক্ষগণের মধ্যে একজন বা কয়েকজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, তখন প্রত্যেকটি প্রতিলিপি তার সম্পাদনকারী পক্ষের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য।

ব্যাখ্যা-২ঃ যে ক্ষেত্রে একাধিক দলিল একই পদ্ধতিতে (uniform process) প্রস্তুত হয়; যথাঃ মুদ্রণ, লিথোগ্রাফি বা ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে তার প্রত্যেকটিই অন্যগুলির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য, কিন্তু যে ক্ষেত্রে সেগুলি সবই একটি মূল দলিলের নকল , সেক্ষেত্রে ঐগুলি দলিলটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক সাক্ষ্য নয়।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মাধ্যমিক/গৌণ সাক্ষ্য (Secondary evidence): মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তার অন্তর্ভুক্ত হলঃ বর্ণিত বিধানবলী অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল, মূল দলিল হতে এরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্রস্তুত নকল, যাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এরূপ নকলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া অন্য নকল; মূল দলিল হতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সাথে মিলিয়ে নেওয়া নকল কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তার বিরুদ্ধে তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে, যে ব্যক্তি নিজে কোন দলিল দেখেছে, তার দেওয়া উক্ত দলিলের বিষয় বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ।
৯২.
কোনটি Private Document -
  1. মূল বিক্রয় দলিল
  2. খতিয়ান
  3. সিআরপিসি-র ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত বক্তব্য
  4. কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলী আরজি
সঠিক উত্তর:
মূল বিক্রয় দলিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল বিক্রয় দলিল
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারি দলিল নিম্নলিখিত দলিল গুলি সরকারী দলিলঃ

(১) যে সমস্ত দলিল (ক) কোন সাবভৌম কর্তৃপক্ষের, (খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং (গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোন অংশের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যাক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারী দলিলঃ অন্যান্য যাবতীয় দলিল ব্যাক্তিগত।

♦তাইলে আমরা বলতে পারি যে সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারা অনুযায়ী, খতিয়ান, সি আর পি সি-র ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত বক্তব্য, এবং মামলার কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলী আরজি হলো সরকারী দলিল। কারণ এগুলো সরকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রহণ এবং সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু মূল বিক্রয় দলিল ব্যক্তিগত দলিল কারণ এটা সরকারীভাবে সংরক্ষণ বা তৈরী করা হয় না বরং চুক্তির পক্ষসমূহ এটা তৈরী করে।
৯৩.
B একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। A, B এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায়। এখানে A- কে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে-
  1. B এর জীবনকাল
  2. B এর মৃত্যু
  3. B এর অসুস্থতা
  4. B এর হাসপাতাল ত্যাগ
সঠিক উত্তর:
B এর মৃত্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
B এর মৃত্যু
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার বিধান হচ্ছে: সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য যে ঘটনা প্রমাণ করতে হবে, যিনি সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক; তা প্রমাণের দায়িত্ব তার উপর। যেমন: মৃত্যুকালীন ঘোষণা।
♦  সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য করার জন্য যে ঘটনা আগে প্রমাণ করা প্রয়োজন, তা অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে । এখানে A, B এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায়। মৃত্যুকালীন ঘোষণাকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য, আগে A অবশ্যই Bএর মৃত্যু প্রমাণ করবে।
৯৪.
বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের অভিযোগ X অভিযুক্ত হয়। X-এর টিকেট ছিল এ বিষয়টি প্রমাণের দায়িত্ব-
  1. ট্রেন টিকেট চেকারের
  2. স্টেশন মাস্টারের
  3. ট্রেনের গার্ডের
  4. X-এর
সঠিক উত্তর:
X-এর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
X-এর
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৬ ধারা অনুযায়ী যে ঘটনা বিশেষভাবে কারও অবগতির মধ্যে থাকে তা প্রমাণের দায়িত্ব: কোন ঘটনা যখন বিশেষভাবে কোন ব্যক্তির অবগতির মধ্যে থাকে তখন সেই বিষয় প্রমাণ করার দায়িত্ব তার উপর ন্যাস্ত।

♦ কোন ব্যক্তি যখন এমন ইচ্ছা প্রণোদিত হয়ে একটি কাজ করে, যা উক্ত কাজের প্রকৃতি ও পরিস্থিতি হতে অনুমিত ইচ্ছা অপেক্ষা ভিন্ন, তখন ঐ ইচ্ছা প্রমাণের দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর ন্যাস্ত।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৬ ধারা অনুযায়ী কোন বিষয় যখন বিশেষভাবে কোন ব্যক্তির অবগতির মধ্যে থাকে, তখন সেই বিষয় প্রমাণ করার দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত। X যে টিকিট কেটেছিল তা X বিশেষভাবে অবগত । তাই X এর টিকেট ছিল এ বিষয়টি প্রমাণের দায়িত্ব X এর।
৯৫.
তামাদি আইন সর্বপ্রথম আইনে পরিণত হয়
  1. ১৮৫৯ সালে
  2. ১৮৬২ সালে
  3. ১৮৭১ সালে
  4. ১৯০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
♦ ১৭৯৩ সালে সর্ব প্রথম তামাদি আইন ইংরেজীতে প্রবর্তিত হলেও ১৮৫৯ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তামাদি আইন প্রণীত হয়। অর্থাৎ ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন সর্বপ্রথম আইনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৮৫৯ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭১ সালে নতুন করে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়। লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, ১৮৭১ সালের তামাদি আইনে সরকার কর্তৃক যে কোন মোকদ্দমা দায়েরের সময় ছিল ৬০ বৎসর। পরবর্তীতে ১৮৭১ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭৭ সালে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়।

♦ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত। এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়। তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।

♦ সর্বশেষ ২০০৪ সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়। ২০০৪ সালের ২৮ নং আইন দ্বারা তামাদি আইনের ১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ দুইটি সংশোধন করা হয়।

♦ তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)। তবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পদ্ধতিগত আইন উল্লেখ না থাকলে বিধিবদ্ধ আইন হবে।
৯৬.
লিমিটেশন এ্যাক্ট, ১৯৮০ এর ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে না-
  1. স্যুটের ক্ষেত্রে
  2. আপিলের ক্ষেত্রে
  3. রিভিউর ক্ষেত্রে
  4. রিভিশনের ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
স্যুটের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যুটের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকৃষ্ণের জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।

♦অর্থাৎ ৫ ধারায় দরখাস্তকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যথাসময়ে আদালতে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে যথোপযুক্ত কারণ (sufficient cause) ছিলো।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারাটি কেবরমাত্র আপীল এবং রিভিউ ,রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারী মামলার আপীলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে।
৯৭.
Z-নাবালক থাকাবস্থায় তার মামলা করার অধিকার জন্মে। গণনা শুরু হবে যখন-
  1. Z-এর সাবালকত্বের অবসান হবে
  2. Z-নাবালক থাকবে
  3. Z-এর নাবালকত্বের অবসান হবে
  4. উপরের কোনটাই নয়
সঠিক উত্তর:
Z-এর নাবালকত্বের অবসান হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Z-এর নাবালকত্বের অবসান হবে
ব্যাখ্যা
♦ আইনগত অক্ষমতা/বৈধ অপারগতা (Legal Disability)- নাবালকত্ব, পাগল বা উম্মাদ অবস্থা অথবা নিবুদ্ধিতার কারণে মামলা দায়ের করতে অসমর্থ হওয়াকে আইনগত অক্ষমতা বা বৈধ অপারগতা (legal disability) বলে। কোন মামলা বা প্রসিডিংস দায়ের করার অধিকারী ব্যক্তি অথবা ডিক্রিজারির দরখাস্ত পেশ করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত পেশ করার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ যেদিন হতে গণনা শুরু হবে সেদিন নাবালক, পাগল বা উম্মাদ থাকেন তাহলে তিনি তার নাবালকত্ব, পাগলামি বা উম্মত্ততা শেষ হওয়ার পর ঐ একই মেয়াদের মধ্যে উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত দায়ের বা পেশ করতে পারবেন।

♦ মামলা করার কারণ সৃষ্টির সময় (cause of action) মামলা করার অধিকারী ব্যক্তি আইনগতভাবে মামলা করতে অপারগ হলে উক্ত ব্যক্তির তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬-৯ ধারা কার্যকর হবে। কোন ব্যক্তি যতদিন নাবালক, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধ/নির্বোধ থাকে ততদিন তার তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। অর্থাৎ নাবালকত্ব, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা অর্থাৎ তামাদির মেয়াদ শুরু হবে। অন্যভাবে বলা যায়, আইনগত সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত তামাদি সময়সীমা গণনা করা হয় না অর্থাৎ কোন ব্যক্তি আইনগতভবে সক্ষম হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী মামলা করতে পারবে।

♦ তামাদি আইনের ৬ ধারামতে আইনগত অপারগতা বা Legal Disability বলতে ৩টি বিষয়কে বুঝায়। যথা- ১) নাবালকত্ব (minor); ২) উন্মাদ (insane); এবং ৩) জড়বুদ্ধ/নির্বোধ (idiot)।
আইনগত অক্ষমতার বিধানসমূহ কেবলমাত্র বাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, বিবাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রে নয় । 
কেবলমাত্র মূল মামলা ও ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রেই আইনগত অক্ষমতা প্রযোজ্য হয়- অন্য কোন ক্ষেত্রে নয় । 

♦ তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপরাগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হবে।
৯৮.
একটি আপিল দায়ের তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বাদ যাবে-
  1. আপিলের মেমো প্রস্তুতের জন্য ব্যয়িত সময়
  2. আইনজীবী নিয়োগের জন্য ব্যয়িত সময়
  3. প্রতিপক্ষের প্রতি সমন জারির জন্য ব্যয়িত সময়
  4. রায় এবং ডিক্রি-র জাবেদা নকল পেতে ব্যয়িত সময়
সঠিক উত্তর:
রায় এবং ডিক্রি-র জাবেদা নকল পেতে ব্যয়িত সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায় এবং ডিক্রি-র জাবেদা নকল পেতে ব্যয়িত সময়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১২ ধারার বিধান আইনানুগ কার্যধারায় যে পরিমাণ সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে-

(১) কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন হতে উক্ত মেয়াদ গণনা করতে হবে সেই দিন বাদ দিতে হবে।

(২) কোনো আপিল, আপিলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যে রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হবে, তা যেদিন ঘোষণা করা হয়েছে, সেইদিন এবং যে ডিক্রি, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপিল করা হবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হবে, তার নকল গ্রহণ করতে যেই সময় আবশ্যক, তা বাদ দিতে হবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি সম্পর্কে আপিল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি যেই রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেই রায়ের নকল পেতে যে সময় লাগে, তাও বাদ দিতে হবে।

(৪) কোনো রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, রোয়েদাদের নকল পেতে যে সময় লাগে, তা বাদ দিতে হবে।

♦ অর্থাৎ তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন উক্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে, সেদিনটি এবং যে ডিক্রি, আদেশ বা দণ্ডাদেশ সম্পর্কে আপীল করা হবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হবে, তার নকল গ্রহণ করতে যে সময় ব্যয় হবে, তা বাদ দিতে হবে।
৯৯.
লিমিটেশন এ্যাক্ট-১৯০৮ এর ধারা ১৪ প্রযোজ্য হয়-
  1. স্যুটের ক্ষেত্রে
  2. রেফারেন্সের ক্ষেত্রে
  3. রিভিশনের ক্ষেত্রে
  4. রিভিউ-র ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
স্যুটের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যুটের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৪ ধারার বিধান  এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় যেই সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে-

(১) কোনো মামলা দায়েরের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, বাদী মূল বা আপিল আদালতে বিবাদীর বিরুদ্ধে যদি অন্য একটা দেওয়ানি কার্যক্রম যথাবিহিত যত্ন সহকারে চালাতে থাকে সেক্ষেত্রে উক্ত মামলা ও কার্যক্রমের কারণ যদি একই হয় এবং এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে যে আদালত শেষোক্ত কার্যক্রমের বিচার করার ক্ষমতা সম্পন্ন নয়, সেই আদালতে যদি সৎবিশ্বাসে তা দায়ের করা হয়ে থাকে, তবে কার্যক্রমে যে সময় ব্যয়িত হয়, মামলার মেয়াদ গণনা হতে তা বাদ দিতে হবে।

(২) কোন দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে দরখাস্তকারী মূল বা আপিল আদালতে একই পক্ষের বিরুদ্ধে যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যধারা যথোপযুক্ত যত্ন সহকারে চালাতে থাকে এবং তাতে একই প্রতিকার দাবি করা হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে এখতিয়ার নিয়ে ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোন কারণে যে আদালতে শেষোক্ত কার্যধারার বিচার করার ক্ষমতা সম্পন্ন নয় সেই আদালতে সৎবিশ্বাসে উপরোক্ত কার্যধারা দায়ের করা হয়ে থাকলে শেষোক্ত কার্যধারায় যে সময় ব্যয়িত হয়, উপরোক্ত দরখাস্তের মেয়াদ গণনা হতে তা বাদ দিতে হবে।

ব্যাখ্যা ১- যে সময়ের জন্য পূর্ববর্তী মামলা বা দরখাস্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল তা বাদ দিতে, যে ঐ মামলা বা দরখাস্ত রুজু বা দাখিল করা হয়েছিল এবং যে দিন তাদের কার্যধারা শেষ হয়েছিল, উভয় দিনই গণনা করতে হবে।

ব্যাখ্যা ২- এ ধারার উদ্দেশ্যে যে বাদী বা দরখাস্তকারী আপিলে বিরোধিতা করছে, সে কার্যধারা চালাচ্ছে বলে গণ্য হবে ।

ব্যাখ্যা ৩- এ ধারার উদ্দেশ্যে ভুল পক্ষভুক্তি বা মামলার কারণভুক্তি, এখতিয়ারগত ত্রুটির ন্যায় একই প্রকৃতির কারণ বলে পরিগণিত হবে।

♦অর্থাৎ তামাদি আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় ব্যয়িত সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ দিতে হবে। ১৪ ধারা শুধুমাত্র মূল মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আপীল বা রিভিশ বা রিভিউ এর ক্ষেত্রে ১৪ ধারা প্রযোজ্য না। 
১০০.
একটি মামলায় প্রতারণামূলক দলিল সৃজনের অভিযোগ করা হলে মামলায় তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদীর-
  1. অধিকার সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
  2. প্রতারণা বিষয়ে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
  3. দলিল সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
  4. মামলা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
সঠিক উত্তর:
প্রতারণা বিষয়ে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতারণা বিষয়ে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-

(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা

(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

♦ অর্থাৎ যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।