পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২৬: বিষয়: ভূগোল ও দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
সাধারণত কোন ধরনের এলাকায় ক্লাউডবার্স্ট (Cloudburst) বা মেঘ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেশি থাকে?
  1. পাহাড়ি এলাকায়
  2. উপকূলীয় এলাকায়
  3. শহুরে এলাকায়
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পাহাড়ি এলাকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাহাড়ি এলাকায়
ব্যাখ্যা
• মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):

- ক্লাউডবার্স্ট হল অল্প সময়ের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট স্বল্প জায়গায় শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত সহ অতি বৃষ্টিপাত।
- এর ফলে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বস হতে পারে।  
- সাধারণত যখন ১০ বর্গকিলোমিটার (৩.৮৬ বর্গ মাইল) অঞ্চলে এক ঘন্টার মধ্যে ১০ সেন্টিমিটার (৩.৯৪ ইঞ্চি) এর বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তাকে ক্লাউড বিস্ফোরণ বা ক্লাউডবার্স্ট বলে থাকে।
- এটি হিমালয়ান অঞ্চল এবংপার্বত্য এলাকায় বেশি ঘটে থাকে।  
- সাধারণত ক্লাউডবার্স্ট বর্ষা ঋতুতে হয়ে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- হঠাৎ ঘটে: মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- সংকীর্ণ এলাকা: এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে। মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- ভারী বৃষ্টিপাত: মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।
- সম্প্রতি আগস্ট, ২০২৪-এ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণের জন্য ত্রিপুরা সংলগ্ন বাংলাদেশের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী সহ ১১ টি জেলাইয় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

Image Source: Shankar IAS Academy
উৎস: ব্রিটানিকা এবং Times of India এবং প্রথম আলো। 
.
নিম্ন উচ্চতার মেঘ-
  1. কিউম্যুলোনিম্বাস
  2. সিরাস
  3. অল্টোস্ট্রেটাস
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কিউম্যুলোনিম্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিউম্যুলোনিম্বাস
ব্যাখ্যা
মেঘ (CLOUD):

• সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
১. উঁচু উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ। উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস,
- সিরোকিউম্যুলাস, 
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।
২. মাঝারি উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস,
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস, 
- নিম্বোস্ট্রেটাস। 
৩. নিম্ন উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস,
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলোনিম্বাস

উৎস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 
.
নিচের কোন স্তরটি ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone) নামে পরিচিত? 
  1. কেন্দ্রমন্ডল
  2. গুরুমণ্ডল
  3. অশ্বমন্ডল 
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
গুরুমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুমণ্ডল
ব্যাখ্যা
ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone): 

- কেন্দ্র মন্ডলের বহিঃভাগ থেকে অশ্বমন্ডলের (ভূ-ত্বকের) নিম্ন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে গুরুমন্ডল বলে। 
- এটি পৃথিবীর আয়তনের শতকরা ৮২ ভাগ এবং ওজনের শতকরা ৬৮ ভাগ দখল করে আছে। 
- গুরুমন্ডলের স্তরটি প্রায় ২.৮৮৫ কি.মি. পুরু। 
- সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি ভারী ধাতুগুলোর সংমিশ্রণেই এই মন্ডলটি গঠিত।
- এর উপরের অংশের ১৪৪৮ কি.মি. (৯০০ মাইল) ব্যাসল্ট জাতীয় উপাদানে গঠিত। 
- এই জন্যই গুরুমণ্ডলের স্তরকে ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone) বলা হয়। 
- সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা এই মন্ডলটি গঠিত বলে একে সিমা (Sima) ও বলা হয়।

উৎস: ভুমিরূপবিদ্যা, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
.
বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ কী? 
  1. নিম্নচাপ
  2. অতিবৃষ্টি
  3. উচ্চচাপ
  4. বায়ুপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়: 

• কালবৈখাশী ঝড় বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
• এটি গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 
• সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায়। 
• কালবৈশাখী ঝড়ে বাৎসরিক এক পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত হয় 
• এ ঝড়ের ফলে উষ্ণতা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫-১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমে যায়।
• কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো নিম্নচাপ (Depression)। 
• নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডা বাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়। 
• এ ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ৪০ কি. মি. থেকে ৮০ কি.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
• এ ঝড় দেশের পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সংঘটিত হয় এবং এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বেশি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
.
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা কত?
  1. ৩৩টি
  2. ৩২টি
  3. ৩০টি
  4. ৩১টি
সঠিক উত্তর:
৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:

- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী মোট জেলা ৩ টি। 
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি জেলার যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
- বান্দরবান এবং কক্সবাজার জেলার সাথে ভারতের কোনো সীমানা নেই। 
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমানা ৪,১৫৬ কিলোমিটার (সূত্র: BGB)

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল, BGB এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
নিচের কোনটি সেভেন সিস্টার্স এর অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. পশ্চিমবঙ্গ
  2. নাগাল্যান্ড
  3. মেঘালয়
  4. অরুণাচল
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা
সেভেন সিস্টার্স:

- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য 'সেভেন সিস্টার্স' নামে পরিচিত।
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য যেগুলোর অধিকাংশই বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত এবং ভারতের সাথে সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে যুক্ত।
- শিলিগুড়ি করিডোর চিকেন নেক নামে পরিচিত।
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।
- ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া সর্বপ্রথম রাজ্যগুলোকে একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন।
- ১৯৭২ সালে এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- আসামের মাধ্যমে রাজ্যগুলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।


উৎস: Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট ও ওয়ার্ল্ড এটলাস।
.
আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. সাভানা
  2. তুন্দ্রা
  3. প্রেইরি
  4. সাহেল
সঠিক উত্তর:
সাহেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহেল
ব্যাখ্যা
সাহেল: 

• সাহেল অঞ্চলটি আফ্রিকার একটি বিশাল এলাকা যা আটলান্টিক উপকূল থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত।
• আফ্রিকার দক্ষিণে সাভানা তৃণভূমি অঞ্চল এবং উত্তরে সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী অঞ্চল সাহেল নামে পরিচিত।
• এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত দেশ হলো ১০টি। যথা:
- সেনেগাল
- মৌরিতানিয়া
- নাইজার
- মালি
- শাদ
- সুদান
- ইরিত্রিয়া
- নাইজেরিয়া
- বুরকিনা ফাসো

অপরদিকে,
- উত্তর আমেরিকার মধ্য অক্ষাংশের অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত তৃণভূমিকে প্রেইরি বলে।
- আর সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তের মধ্যবর্তী অঞ্চল যা প্রায় সারা বছর বরফাচ্ছন্ন থাকে তাকে তুন্দ্রা অঞ্চল বলে। 
- সাভানা হলো আফ্রিকার ঘানা, সুদান ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের তৃণভূমি অঞ্চল। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস। 
.
ইউরোপের ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি কি ধরনের সমভূমির উদাহরণ? 
  1. ক্ষয়জাত সমভূমি
  2. কার্স্ট সমভূমি
  3. হৈমবাহিক সমভূমি 
  4. সঞ্চয়জাত সমভূমি
সঠিক উত্তর:
ক্ষয়জাত সমভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষয়জাত সমভূমি
ব্যাখ্যা
ক্ষয়জাত সমভূমি: 

• বায়ুপ্রবাহ, সৌরতাপ, বৃষ্টিপাত, পানিস্রোত, হিমবাহ প্রভৃতি দ্বারা ক্ষয় হয়ে ধীরে ধীরে অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিতে পরিণত হয়ে ক্ষয়জাত সমভূমি গঠিত হয়। 
• ইউরোপের ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি ক্ষয়জাত সমভূমির উদাহরণ।
• সমভূমিতে সাধারণত কোনো উচ্চভূমি, নিম্নভূমি বা খাড়া ঢাল থাকে না। 
• সমভূমিসমূহ সাধারণত মহাদেশের সীমান্তে, মহাসাগরের তীরে অথবা মহাদেশীয় ভূ-ভাগের অভ্যন্তরে হতে পারে।
• হিমবাহের মাধ্যমে যে সমভূমি সৃষ্টি হয় তাদেরকে হৈমবাহিক সমভূমি বলে ।
• উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশ, ফিনল্যান্ড, পূর্ব কানাডা এবং সুইডেনে  হৈমবাহিক সমভূমি দেখা যায়।
• যুগোশ্লোভিয়ার কার্স্ট অঞ্চলে কার্স্ট সমভূমি জাতীয় সমভূমি দেখা যায়।
• সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়। 
• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
• সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
• সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। 
• পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট কোন ধরনের পর্বতের প্রকৃষ্ট উদাহরণ? 
  1. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  2. ভঙ্গিল পর্বত 
  3. উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বত 
  4. আগ্নেয় পর্বত 
সঠিক উত্তর:
চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
ব্যাখ্যা
চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Fault-block Mountain):

• ভূ-আলোড়নের ফলে শিলাস্তরের সংকোচন ও প্রসারণে দুটি ফাঁটলের মাঝের অংশ অনেক সময় উপরে ওঠে যায় বা নিচে বসে যায়।এই ধরনের পর্বতকে চ্যুতি-স্তূপ পর্বত বলে। 
• চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উৎপত্তি: তিন ধরনের পরিস্থিতিতে চ্যুতি-স্তূপ পর্বত সৃষ্টি হতে পারে। 
• প্রথমত: ভূ-ত্বকের শিলাস্তরে টানজনিত চাপের কারণে।
- উদাহরণ- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা, নিউ মেক্সিকো, ক্যালিফোর্নিয়ায় এ ধরনের স্তূপ পর্বত দেখা যায়।
• দ্বিতীয়ত: ভূ-ত্বকের কোনো অংশ ভূ-অভ্যন্তরস্থ কারণে ওপরের দিকে উঠতে থাকলে।
- যেমন- পূর্ব আফ্রিকার স্রস্ত উপত্যকার পাশ্ববর্তী উঁচু পার্বত্য স্তূপই এ ধরনের চ্যুতি-স্তূপ পর্বত।
• তৃতীয়ত: কোনো কারণে ভূ-ত্বকের এক অংশ খাড়াভাবে পাশের সমভূমির ওপরে উঠে গেলে।
- উদাহরণ- জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, ফ্রান্সের ভোঁজ এবং ভারতের বিন্ধ্যা ও ত্রিপুরা পর্বতদ্বয় চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
• ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ: এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।
• আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ: জাপানের ফুজিয়ামা, হাওয়াই দ্বীপের মওনালোয়া, ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো ইত্যাদি।
• উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বতের উদাহরণ: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাক হিলস্, কলোরাডোর ফ্রান্ট রেঞ্জ (কলোরাডো)। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
'যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া' ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কীকরণ সংকেতের কত নং এ বলা হয়েছে?
  1. ৬ নং
  2. ১০ নং
  3. ১১ নং
  4. ৯ নং
সঠিক উত্তর:
১১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে।
- তার মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। বাকিগুলো বিপদ সংকেত।

• নিম্নে ১১টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হল: 

• ১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।
• ২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।
• ৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।
• ৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।
• ৫ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
• ৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
• ৭ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
• ৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
• ৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
• ১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।
• ১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেত:
আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

উৎস: ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা। 
১১.
আয়তনে প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি -
  1. লালমাই পাহাড়
  2. বরেন্দ্রভূমি
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
ব্যাখ্যা
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: 

• 'মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়' প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ভূ-প্রকৃতির অন্তর্গত।
• উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। 
• এ অঞ্চলটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে গঠিত। 
• আয়তন- ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
• গড় উচ্চতা:  প্রায় ৬-৩০ মিটার। 
• এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। 
• এখানকার মাটি লালচে এবং কঙ্করময় বলে কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়।
• এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপন্ন হয়। 
• বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি গজারি বৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
বর্তমানে [সেপ্টেম্বর, ২০২৪] বাংলাদেশে আবহাওয়া স্টেশন কয়টি?
  1. ১২টি
  2. ৪টি
  3. ৩৫টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর:
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৮৬৭ সালে যশোর ও নারায়ণগঞ্জে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপনের মাধ্যমে ‘পর্যবেক্ষণ সার্ভিস’ এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে এটি ‘আবহাওয়া সার্ভিস’ নামে পরিচিতি পেলেও স্বাধীন বাংলাদেশে এটি ‘আবহাওয়া দপ্তর’ নামে এবং পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর’ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের একমাত্র সংস্থা হিসেবে সার্বক্ষণিক বাংলাদেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয়ভাবে আবহাওয়ার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, আদান-প্রদান ও সংরক্ষণ করে থাকে।

আবহাওয়া স্টেশন:

- বর্তমানে বাংলাদেশে আবহাওয়া স্টেশন ৩৫টি।
- সাইক্লোন শেল্টার ১৮৪১টি।
- কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র ১২টি।
- আবহাওয়া কেন্দ্র ৪টি।
- রাডার স্টেশন ৫টি।


উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট & ResearchGate.
১৩.
Nife (নাইফ) নামে পরিচিত নিচের কোন স্তর? 
  1. ম্যান্টল
  2. লিথোস্ফিয়ার
  3. সেন্ট্রোস্ফিয়ার
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সেন্ট্রোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন্ট্রোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রমন্ডল (Centrosphere/Core):

• পৃথিবীর কেন্দ্রের চারিদিকে প্রায় ৩,৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের যে গোলক অবস্থিত এর নাম কেন্দ্রমন্ডল বা সেন্ট্রোস্ফিয়ার।
• অন্তঃকেন্দ্র ও বহিঃকেন্দ্রকে একত্রে কেন্দ্রমন্ডল বলে। 
• এই স্তরের ঘনত্ব প্রায় ১০.৭৮ গ্রাম/সে.মি., যা গুরুমন্ডলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন।
• কেন্দ্রমন্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ দ্বারা - গঠিত। 
• এই স্তরে নিকেল (Ni) ও লৌহের (Fe) পরিমাণ বেশি থাকায় একে নাইফ (Nife) বলা হয়।
• এটি পানি অপেক্ষা ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন। 
• এর বহিঃকেন্দ্রের পুরুত্ব আনুমানিক ২,২৭০ কি.মি. এবং অন্তঃকেন্দ্রের পুরুত্ব ১,২১৬ কি.মি.। 
• কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশ তরল এবং ভেতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে । 

উৎস: ভুমিরূপবিদ্যা, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৪.
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় কী হিসেবে পরিচিত?
  1. সাইক্লোন
  2. হারিকেন
  3. টাইফুন
  4. আসনা
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:
• সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়। 

• হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

• টাইফুন: 
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

• সাইক্লোন: 
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

• এ ছাড়াও, দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
• আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

• যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হয় না: 
- পৃথিবীর বিষুব রেখা বরাবর সাগরে সাধারণত কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
- বিষুব রেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।
- অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরেও কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।

উল্লেখ্য, কোনো টাইফুন তার এলাকা থেকে সরে গিয়ে হারিকেন প্রবণ অঞ্চলে প্রবেশ করলে একে তখন একে হারিকেন হিসেবেই ডাকা হয়। একইভাবে কোনো হারিকেন দিক পরিবর্তন করে টাইফুনের এলাকায় চলে এলেও একে তখন টাইফুন বলা হয়।

ঘূর্ণিঝড় 'আসনা': 
- সম্প্রতি আরব সাগরের উত্তরাংশে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
- এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আসনা’।
- এর অর্থ সর্বোচ্চ, উজ্জ্বলতম এবং প্রশংসনীয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘আসনা’ দিয়েছে পাকিস্তান।
- উত্তর-পূর্ব আরব সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসরের সঙ্গে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘আসনা’য় পরিণত হয়েছে। 

উৎস: Tropical Cyclone Naming/World Meteorological Organization. 
১৫.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের অন্যতম প্রধান কারণ-
  1. ভূমির গঠন
  2. জলবায়ু
  3. ভৌগোলিক অবস্থান
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ:

- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়ে থাকে।
• বাংলাদেশে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- ভৌগোলিক অবস্থান;
- জলবায়ু;
- ভূমির গঠন;
- নদী-নালার আধিক্য ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন হাত থাকে না।
যেমন - বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহকে তিনটি বৃহৎ বিভাগভুক্ত করা যেতে পারে। যেমন- 
- বায়ুমন্ডলীয় প্রক্রিয়াসৃষ্ট climatic বাযুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ (ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, হারিকেন, খরা ইত্যাদি), 
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রক্রিয়া সৃষ্ট exogenetic দুর্যোগসমূহ (বন্যা, নদীতীর ভাঙন, উপকূলীয় ভাঙন, ভূমিধ্বস,  মৃত্তিকা ক্ষয় এবং প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ), 
- এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়াসৃষ্ট endogenetic ভূগর্ভস্থ দুর্যোগসমূহ (ভূমিকম্প এবং অগ্ন্যুৎপাত)

মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: 
মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
যেমন - যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি৷

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই। 
১৬.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হয় কবে?
  1. ১ আগস্ট, ২০১৬ সাল
  2. ১ আগস্ট, ২০১৫ সালে
  3. ৩০ আগস্ট, ২০২৪ সালে
  4. ১ জুলাই, ২০১৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১ আগস্ট, ২০১৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ আগস্ট, ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল সমস্যা ও সমাধান:

• ছিটমহল দ্বারা এমন অঞ্চল বা ভূখণ্ডকে বোঝায় যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অবস্থিত অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই অন্য রাষ্ট্রের এ ধরণের ছিটমহল রয়েছে। যেমন ভারত- বাংলাদেশ ছিটমহল।
• বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল সমস্যার উদ্ভব হয়: ১৬ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে।
• সমস্যা-সমাধানে মুজিব-ইন্ধিরা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে।
• চুক্তি কার্যকর হয়: ১ আগস্ট, ২০১৫ সালে।

ছিটমহল বিনিময়ের ফলাফল:
• বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি বলে আর কোনো ছিটমহলের অস্তিত্ব নেই। 
• প্রথম বাংলদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় কুড়িগ্রামের দশিয়ারছড়া ছিটমহলে,
• দশিয়ারছড়া ছিটমহলের বর্তমান নাম মুজিব-ইন্ধিরা ইউনিয়ন,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো এবং বিবিসি পত্রিকা রিপোর্ট। 
১৭.
অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বকের সকল বিষয় প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. মৃত্তিকা ভূগোল
  2. গাণিতিক ভূগোল
  3. ভূমিরূপবিদ্যা
  4. জলবায়ুবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
ভূমিরূপবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিরূপবিদ্যা
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল: 
- ভূগোল বিষয়ের যে অংশ পাঠ করলে পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বারিমন্ডল, বায়ুমন্ডল প্রভৃতি বিষয় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা যায় তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
- প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রধান প্রকৃতি হলো- প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়কে প্রাকৃতিক ভূগোল এককভাবে প্রকাশ করে।
- তাই প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধিও ব্যাপক এবং ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধি আরো অধিক বিস্তৃত হবে।
 
১. ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): প্রাকৃতিক ভূগোলের এই শাখায় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন বা ভূ-আন্দোলন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, ভূ-তাত্ত্বিক সময় মাপনি, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ, খনিজ, শিলা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
- মূলত অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বকের সকল বিষয় ভূমিরূপবিদ্যার অন্তর্গত।
২. জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): এই শাখা বায়ু, বায়ুস্তর, বায়ুর গঠন, বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও তাপমাত্ৰা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, ঘূর্ণিবাত, প্রতীপ ঘূর্ণিবাত, বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। সংক্ষেপে বায়ুমন্ডল ও বায়ুমন্ডলের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে ।
৩. সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): বারিমন্ডলের প্রধান উপাদান সাগর, মহাসাগরসমূহের উৎপত্তি, বিন্যাস, বিস্তরণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ, জোয়ার-ভাঁটা, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব ও বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
8. মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): মৃত্তিকা ভূগোল ভূ-ত্বকের বা অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের অংশ অর্থাৎ মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে ।
৫. জীব ভূগোল (Biogeography): উদ্ভিদ বাস্তব্যবিদ্যা, উদ্ভিদের ক্রমবিকাশ, পরিবেশের উপর উদ্ভিদের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
৬. প্রাণি ভূগোল (Zoogeography): এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও প্রাণিজগতের বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে।
৭. গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
'জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ' SDG'র কত নং লক্ষ্যমাত্রায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ১৭ নং
  2. ৯ নং
  3. ১৩ নং
  4. ১৪ নং
সঠিক উত্তর:
১৩ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ নং
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG):

- SDG - এর পূর্ণরূপ Sustainable Development Goals বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য।
- SDGs-এর মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল।
- এতে মোট ১৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্য (Goals) রয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রাসমূহ হলো:
১. দারিদ্র্য নির্মূল।
২. ক্ষুধামুক্তি।
৩. সুস্বাস্থ।
৪. মানসম্মত শিক্ষা।
৫. লিঙ্গ সমতা।
৬. বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন।
৭. সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
৮. উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো।
১০. বৈষম্য হ্রাস।
১১. টেকসই শহর ও জনগণ।
১২. পরিমিত ভোগ ও উৎপান।
১৩. জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ।
১৪. সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান।
১৫. স্থলভাগের জীবন।
১৬. শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।
১৭. অভিষ্টের জন্যে অংশীদারিত্ব।

উৎস: SDG অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৯.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' কোন উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়?
  1. সামাজিক বনায়ন জোরদার করা
  2. দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা
  3. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা
  4. রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

• সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
২০.
মানবসৃষ্ট আপদ হলো -
  1. নদী ভাঙ্গন
  2. বন্যা
  3. নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
ব্যাখ্যা
আপদ (Hazard):

‘‘আপদ (Hazard) ’’ অর্থ এমন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা যাহা প্রাকৃতিক নিয়মে, কারিগরি ত্রুটির কারণে অথবা মানুষের দ্বারা সৃষ্ট হইয়া থাকে এবং ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে এবং জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতিসহ দুঃখ দুর্দশার সৃষ্টি করে।

• আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা - যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।
• প্রাকৃতিক আপদ হল- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
মানবসৃষ্ট আপদ হল- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
• কারিগরি আপদ হল- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটন ইত্যাদি। 
- মনে রাখতে হবে - ‘আপদ দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ’।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প,বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২
২১.
ভূমিকম্পের ফলে বাংলাদেশে কোন নদীর গতিপথ বদলে গিয়েছিল?
  1. যমুনা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. মেঘনা
  4. কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake):

- ভূ-গাঠনিক দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রমশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, পূর্বে ইন্দো-বার্মা সীমান্তে আরাকান-ইয়োমা পার্বত্য অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- বাংলাদেশে ১৮৯৭ সালে ভুমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে এবং তৎসংলগ্ন এলাকাতে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- যথা- 
১) মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (রিখটার স্কেল মাত্রা: ৭)। 
২) মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (রিখটার স্কেল মাত্রা: ৬)।
৩) কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (রিখটার স্কেল মাত্রা: ৫)। 
উল্লেখ্য, গবেষণা অনুসারে, আড়াই হাজার বছর আগে ভূমিকম্পের কারণে গঙ্গার পথ হঠাৎ স্থানান্তরিত হয়ে যায়। 

ছবির উৎস: দৈনিক গোপালগঞ্জ নিউজ পত্রিকা 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
'Geography' শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন-
  1. স্ট্রাবো
  2. কার্ল রিটার
  3. ডাডলি স্ট্যাম্প
  4. ইরাটসথেনিস
সঠিক উত্তর:
ইরাটসথেনিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাটসথেনিস
ব্যাখ্যা
‘Geography':

- ‘Geography' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন প্রাচীন গ্রিসের ভূগোলবিদ ইরাটসথেনিস।
- ভূগোল হলো এমন একটি বিষয়/শাস্ত্র যেখানে স্থানীক ও কালীক পর্যায়ে মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়।
- সংক্ষেপে মানুষের বাসভূমি হিসাবে পৃথিবীর বর্ণনা হলো ভূগোল।
- ইংরেজি 'Geography' শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দটির উৎপত্তি। ‘Geo' শব্দের অর্থ ‘ভূ’ বা পৃথিবী এবং ‘graphy' শব্দের অর্থ বর্ণনা। সুতরাং Geography শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা।
- কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ, কেউ কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- অধ্যাপক কার্ল রিটার (Professor Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন, পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- অধ্যাপক ডাডলি স্ট্যাম্প (Professor Dudley Stamp) আরও সহজভাবে বলেছেন, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল।
- অধ্যাপক রিচার্ড হার্টশোন (Professor Richard Hartshorne) বলেন, পৃথিবী পৃষ্ঠের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের যথাযথ, যুক্তিসংগত ও সুবিন্যস্ত বিবরণের সঙ্গে সংশিষ্ট বিষয় হলো ভূগোল।
- আলেকজান্ডার ফন হামবোল্টের (Alexander Von Hambolt) মতে, ভূগোল হলো প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিজ্ঞান। প্রকৃতিতে যা কিছু আছে তার বর্ণনা ও আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।