পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
Exam - 91 Bangla: Topic: বাক্যের শেণি বিভাগ, বাক্য রূপান্তর, বাক্য শুদ্ধি, যতিচিহ্ন।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
গঠন অনুসারে, বাংলা বাক্য -
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. ছয় প্রকার
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুসারে বাক্যকে — তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 

১. সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
 যেমন- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

২. জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
 যেমন- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

৩. যৌগিক বাক্য:
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
 যেমন- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. আমি সাক্ষী দিব না।
  2. আমি সন্তোষ হলাম।
  3. কেবল গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।
  4. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: কেবলমাত্র গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।
শুদ্ধ বাক্য: কেবল গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।

এমনকিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো-
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
- শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

• অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি বাক্যের প্রধান অংশ নয়?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. ক্রিয়া
  4. অলংকার
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ।
যথা-
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

অর্থ্যাৎ,
• অলংকার - বাক্যের প্রধান অংশ নয়।

- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার সময় বাক্যের মাঝখানে কোনটির পরিবর্তন করতে হয়?
  1. কর্তা 
  2. ক্রিয়া
  3. কর্ম 
  4. উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: এখন পরবালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"তুমি পড়াশোনা করো, নাহলে পরীক্ষায় ভালো করবে না।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্য হল এমন একটি বাক্য যেখানে দুটি বা তার অধিক সরল বাক্য অব্যয় (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা, তাই, নাহলে, তবু ইত্যাদি) দিয়ে যুক্ত থাকে
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- তুমি পড়াশোনা করো, নাহলে পরীক্ষায় ভালো করবে না।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোনটি অভ্যন্তর যতিচিহ্ন?
  1. ঊর্ধ্বকমা
  2. দুই দাঁড়ি
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• অভ্যন্তর যতিচিহ্ন- কমা (,)।

• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (—),
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
.
"দশ মিনিট পর বাস এলো।" - এ বাক্যটির যৌগিক বাক্যে রূপান্তর কোনটি?
  1. যখন দশ মিনিট পার হলো তখন বাস এলো।
  2. দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।
  3. বাস এলো এবং দশ মিনিট পার হলো।
  4. বাস আসতে আসতে দশ মিনিট পার হলো।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: দশ মিনিট পর ট্রেন এলো।
যৌগিক বাক্য: দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"বাড়িটা তারা দখল করেছে" বাক্যটি নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. বাড়িটা তারা দখল করছে না।
  2. বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।
  3. বাড়িটা তারা ছাড়েনি।
  4. বাড়িটা তারা দখল না করেছে।
ব্যাখ্যা
"বাড়িটা তারা দখল করেছে" বাক্যটি নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর -  সঠিক উত্তর: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

• সরল বাক্য:

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

• অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে “মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না” বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে।

অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:
১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মত বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক: হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক: হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক: এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক: এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

অস্তিবাচক: বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘আমার ভাই গান গায়।’ — এই বাক্যে ‘গান গায়’ অংশটি কী?
  1. উদ্দেশ্য
  2. কর্তা
  3. কর্ম
  4. বিধেয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় - এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

উদ্দেশ্য:
বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'মামুন বল খেলে।'
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

বিধেয়:
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন - 'মামুন বল খেলে।'
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

বাক্যটি-
"আমার ভাই গান গায়।"
এখানে, 
- 'আমার ভাই' উদ্দেশ্য এবং 'গান গায়' বিধেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোন বাক্যে কমার ব্যবহার সঠিক নয়?
  1. নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
  2. মা, আমি এখনই আসছি।
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।”
  4. সুজন দেখ তো, কে এসেছে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: সুজন দেখ তো, কে এসেছে।
এখানে “সুজন” একটি সম্বোধন পদ, তাই তার পরে কমা বসানো উচিত।
শুদ্ধ রূপ: সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ ৷”

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
ব্যাকরণের কোন অংশে 'যতিচিহ্ন' আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়। 

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
"যে গাছটি আমি লাগিয়েছি, সেটি দ্রুত বড় হচ্ছে।" — এই জটিল বাক্যের সরল রূপ কী হবে?
  1. গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
  2. আমি গাছটি লাগিয়েছি, সেটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
  3. আমার লাগানো গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
  4. সে গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• "যে গাছটি আমি লাগিয়েছি, সেটি দ্রুত বড় হচ্ছে।" - এই জটিল বাক্যের সরল বাক্যের রূপ হলো: "আমার লাগানো গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।"

সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
----------------------------- 
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও।
সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।

জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
"অন্তঃসত্তা মহিলা মাতৃসদনে আগমন করেলন।" - এর শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. অন্তঃসত্বা মহিলা মাতৃসদনে আগমন করলেন।
  2. অন্তসত্ত্বা মহিলা মাতৃসদনে আগমন করলেন।
  3. অন্তঃসত্ত্বা মহিলা মাতৃসদনে আগমন করলেন।
  4. অন্তঃসত্ত্বা মহিলা মাতৃসনদে আগমন করলেন।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য হবে:
"অন্তঃসত্ত্বা মহিলা মাতৃসদনে আগমন করলেন।"

বিশ্লেষণ:
অন্তঃসত্তা (অন্তঃসত্ত্বা) : "অন্তঃসত্ত্বা" শব্দটি সঠিক।
"অন্তঃসত্ত্বা" অর্থ = গর্ভবতী।

অন্য অপশনে,
"অন্তঃসত্তা" ভুল।
কারণ, "অন্তঃসত্তা" অর্থ - অভ্যন্তরে কোন বস্তুর অবস্থিতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪.
"নিষ্ঠাবান কর্মীরা সময়মতো অফিসে আসে।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: 
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
- নিষ্ঠাবান কর্মীরা সময়মতো অফিসে আসে।
• 'রক্ষকই ভক্ষক' বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকায় বাক্যটি একটি সরল বাক্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
"কোথাও শান্তি ছিল না" বাক্যটি অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর -
  1. কোথাও শান্তি ছিল।
  2. সর্বত্র শান্তি ছিল।
  3. সর্বত্র অশান্তি ছিলো।
  4. কোথাও অশান্তি ছিল না।
ব্যাখ্যা
• নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২ 
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্র: ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
বাক্যে 'ব্র্যাকেট' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ কোনটি?
  1. ১ সেকেন্ড
  2. ১ বলতে যে সময় লাগে
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• 'ব্র্যাকেট' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ - থামার প্রয়োজন নেই।

• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
"যখন বৃষ্টি শুরু হলো, তখন আমরা ঘরে ফিরে এলাম।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. আশ্রিত খণ্ড বাক্য 
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি শুরু হলো, তখন আমরা ঘরে ফিরে এলাম।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
(বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮.
"যে কাজটি তুমি করতে চাও, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।" — এই জটিল বাক্যের সরলরূপ কী হবে?
  1. তুমি করা কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।
  2. তোমার করা কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।
  3. তোমার করতে চাওয়া কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।
  4. সে কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও।
সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।

জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

জটিল বাক্য:যে কাজটি তুমি করতে চাও, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
সরল বাক্য: তোমার করা কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।

জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো ।
সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।

জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ণ বানান অনকেই ভুল করে।
  2. অপরাহ্ন বানান অনেকেই ভুল করে।
  3. অপরাহ্ণ বানান অনেকেই ভুল করে।
  4. অপরাহ্ণ বানান অনেকেই ভূল করে।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যটি হলো:
গ) অপরাহ্ণ বানান অনেকেই ভুল করে।

অন্যান্য অপশন:
ক) "অনকেই" ভুল বানান।
খ) "অপরাহ্ন" ভুল বানান।
ঘ) "ভূল" - ভুল বানান।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০.
সেমিকোলন থাকলে থামতে হয় —
  1. এক বলার সময়
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন হয় না
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।