৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]
সিলেবাস
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
নৈতিক ও মানব জীবন গঠনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম, কারণ পরিবারই হলো সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিশুরা প্রাথমিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, এবং দায়িত্ববোধ শেখে। মা-বাবা হলেন প্রথম শিক্ষক এবং নৈতিকতার ভিত্তি স্থাপনকারী, যা পরবর্তী জীবনে শিশুর সামাজিক আচরণ, মানসিক বিকাশ, ও মূল্যবোধ গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
কুরআনের সুরা বাকারাহ-এর ২২৮ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "নারীদের যেমন অধিকার আছে স্বামীদের ওপর, তেমনি স্বামীদেরও অধিকার আছে স্ত্রীদের ওপর"। এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ককে বোঝায় যেখানে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই একে অপরের প্রতি সুনির্দিষ্ট ও সমান অধিকার এবং দায়িত্ব রয়েছে।
ব্যাখ্যা
وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيْلَ: وَمَنْ يَا رَسُوْلَ اللهِ!؟ قَالَ: الَّذِيْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ.
‘‘আল্লাহ্’র কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন হতে পারে না। আল্লাহ্’র কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন হতে পারে না। আল্লাহ্’র কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন হতে পারে না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহ্’র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে ব্যক্তি কে? তিনি বললেন: যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়’’। (বুখারী ৬০১৬)
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী কোনো শিশুকে কাজে নিয়োগ করা যাবে না যদি তার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ না হয়। এই আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী কাউকে কাজে নিয়োগ করাকে শিশুশ্রম হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটি নিষিদ্ধ।
ব্যাখ্যা
মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশির ৩টি হক: (১) মুসলিম হিসেবে, (২) আত্মীয় হিসেবে, (৩) প্রতিবেশি হিসেবে; মুসলিম প্রতিবেশির ২টি হক: (১) মুসলিম হিসেবে, (২) প্রতিবেশি হিসেবে; অমুসলিম অনাত্মীয় প্রতিবেশির হক ১টি (১) প্রতিবেশি হিসেবে।
ব্যাখ্যা
'সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা' হলো আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার (আরবি: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) নামক একটি ইসলামি বিধান বা নীতি। এটি বিধান হিসেবে ফরজে কিফায়া। সুতরাং, প্রতিটি সমাজের যদি কেউ আদায় করে, তাহলে সবার পক্ষে আদায় হবে, নতুবা সবাই গুনাহগার হবে। এটি মানবজাতির নিরাপত্তা, কল্যাণ ও পরিশুদ্ধির চাবিকাঠি এবং ঈমানের পূর্ণতার পরিচায়ক।
ব্যাখ্যা
“দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্নক অপরাধ।” (সুরা বনি ইসরাইলের ৩১ নম্বর আয়াত) এটি বোঝায় যে, দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান হত্যা করা মহাপাপ, এবং আল্লাহ তা'আলা এর বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
ব্যাখ্যা
বিচারকার্য পরিচালনায় আদল বা ন্যায়বিচার অপরিহার্য কারণ এটিই সামাজিক শৃঙ্খলা, প্রকৃত শাসন ব্যবস্থা ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। আদল ছাড়া বিচার প্রক্রিয়া সঠিক ও নিরপেক্ষ হতে পারে না, যা একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ব্যাখ্যা
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া, শান্তি ও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। এই সম্পর্ক কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি একটি পবিত্র বন্ধন যেখানে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। কোরআন ও হাদিসে এই সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের প্রতি দয়া ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকাতে বলা হয়েছে, যা একটি সুখী ও শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য জীবন নিশ্চিত করে।
ব্যাখ্যা
আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যখন তোমাদের কেউ কোন অন্যায় দেখতে পায়, তখন সে যেন তা নিজ হাতে প্রতিহত করে। যদি ততটুকু শক্তি তার না থাকে, তবে সে যেন মুখে তা দূর করতে তৎপর হয়। যদি এই শক্তিও তার না থাকে, তবে সে যেন উক্ত মন্দ কাজকে মনে মনে ঘৃণা করে। আর এ হলো ঈমানের নিম্নতম পর্যায়।
ব্যাখ্যা
ইসলাম ধর্মানুযায়ী, শিশুকে চন্দ্র মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ দুই বছর (২৪ মাস) পর্যন্ত বুকের দুধ পান করানো যেতে পারে। এটিই বিশুদ্ধ মত। উক্ত নির্ধারিত সময় পার হবার পরেও কেউ যদি নিজ সন্তানকে দুধ খাওয়ায় তাহলে তা জায়েয হবে না এবং সন্তানের জন্য উপকারী হবে না। কেননা যেটা সন্তানের জন্য উপযোগী সেটাই আল্লাহু তাআলা বিধান দিয়েছেন। সুতরাং দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর সন্তানকে আর দুধ পান করানো যাবে না। দুই বছর পর কোনো রাজাআত নেই।
ব্যাখ্যা
হাদিসে 'আজল' পদ্ধতিটি অনুমোদিত বলে উল্লেখ আছে, যেখানে পুরুষ সহবাসের সময় বীর্যপাতের ঠিক আগে লিঙ্গ বের করে বাইরে বীর্যপাত করে। তবে, এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করার সময় নারীর অনুমতি নেওয়া আবশ্যক, কারণ এটি নারীকে যৌন তৃপ্তি এবং গর্ভধারণ—উভয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে। সাহাবিরা আজল করতেন।
ব্যাখ্যা
ইসলামে পরিবার পরিকল্পনার প্রধান একটি শর্ত শারীরিক অসুস্থতা, এবং ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা জায়েয। ইসলামে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি বা পরিকল্পিত পরিবার গঠনের অনুমতি আছে, তবে শারীরিক অসুস্থতা এর প্রধান শর্ত। সাধারণভাবে ইসলামে সাময়িক পরিবার পরিকল্পনা জায়েজ। স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা সাধারণভাবে জায়েজ নেই।
ব্যাখ্যা
পবিত্র কুরআনের সুরা নিসাতে নারীদের উত্তরাধিকারের সুনির্দিষ্ট অংশ সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান বর্ণিত আছে, যেখানে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নারীরা ঠিক কী পরিমাণ সম্পত্তি পাবেন, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুরা নিসা মূলত নারীজাতিকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে এতিম ও উত্তরাধিকারীদের অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্যাখ্যা
‘সতী নারীর চেয়ে পাপিষ্ঠ পুরুষ শতগুণে ভালো’- নারী সম্পর্কে উক্তিটি ইহুদি ধর্মে করা হয়েছে। অপরদিকে ইসলাম নারীকে করেছে সম্মানিত।
ব্যাখ্যা
পরিবার কল্যাণের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, যেমন - অনাথ ইয়াতীমের অধিকার, স্ত্রীর অধিকার, এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধ সংক্রান্ত বিধান সুরা নিসায় পাওয়া যায়, যা পরিবারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী সামাজিক কাঠামোতে অবদান রাখে।
ব্যাখ্যা
ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা একটি বড় পাপ বা কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য। আল্লাহ তা'আলা এবং তার রাসুল (সা.) আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, আর যারা এই বন্ধন ছিন্ন করে, আল্লাহও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং এর ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ব্যাখ্যা
“পুরুষেরা নারীদের উপর তত্ত্বাবধানকারী ও ভরণপোষণকারী, যেহেতু আল্লাহ তাদের মধ্যে একের উপর অপরকে বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এই হেতু যে, তারা স্বীয় ধন সম্পদ হতে তাদের জন্য ব্যয় করে থাকে; সুতরাং যে সমস্ত নারী পুণ্যবতী তারা আনুগত্য করে, আল্লাহর সংরক্ষিত প্রচ্ছন্ন বিষয় সংরক্ষণ করে; যদি নারীদের অবাধ্যতার আশংকা হয় তাহলে তাদেরকে সদুপদেশ প্রদান কর, তাদেরকে শয্যা হতে পৃথক কর এবং তাদেরকে প্রহার কর; অনন্তর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তাহলে তাদের জন্য অন্য পন্থা অবলম্বন করনা; নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহা মহীয়ান।” (সুরা নিসা, আয়াত ৩৪)
ব্যাখ্যা
“তোমার প্রতিপালক হুকুম জারি করেছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কারো ‘ইবাদাত করো না, আর পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন বা তাদের উভয়ে যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে বিরক্তি বা অবজ্ঞাসূচক কথা বলো না, আর তাদেরকে ভৎর্সনা করো না। তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল।” (সুরা ইসরা, আয়াত ২৩)
কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় মাতাপিতার প্রতি সদ্ব্যাবহারের নির্দেশনা থাকলেও এ আয়াতে বিস্তারিতভাবে রয়েছে।
ব্যাখ্যা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করে। (তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নারীদের ব্যাপারে আমি তোমাদের সদাচরণের উপদেশ দিচ্ছি। তোমরা আমার এই উপদেশ গ্রহণ করো। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৩১; মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৮)
মুহাম্মদ (সা) স্ত্রীদের প্রতি উত্তম আচরণের মানদণ্ড হিসেবে এক হাদিসে নিজেকে উল্লেখ করেছেন।
ব্যাখ্যা
“হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। ” (সুরা হুজরাত, আয়াত ১৩)
ব্যাখ্যা
ইসলামে স্ত্রীকে মোহরানা (বা দেনমোহর) প্রদান করা ফরজ অর্থাৎ বাধ্যতামূলক। মোহর হলো বিবাহের সময় কনেকে বর কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ বা সম্পদ, যা প্রদান না করলে বিয়ে পূর্ণাঙ্গ হয় না। এটি স্ত্রীর অধিকার, যা বিবাহের সময়ই নির্ধারণ করা হয় এবং তার প্রাপ্য।
ব্যাখ্যা
ইসলামে বিবাহের মূল উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে পরিবার গঠন অন্যতম এবং এটি একটি সুস্থ সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামো তৈরির ভিত্তি। বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ব পালন, এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হয়, যা একটি সুস্থ সমাজের জন্য অপরিহার্য।
ব্যাখ্যা
ইসলামী পরিবার উন্নত নৈতিক জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি সততা, ধৈর্য, এবং সহানুভূতির মতো মূল্যবোধ শেখায়, যা সমাজের ভিত্তি তৈরি করে। ইসলামী পরিবারে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুস্থ চরিত্র গড়ে তোলা হয়, যা ব্যক্তির নৈতিক বিকাশ ঘটায় এবং তাকে ন্যায়ের পথে চলতে সহায়তা করে।
ব্যাখ্যা
"তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম"—এই কথাটি বলেছেন নবী মুহাম্মদ (সাঃ), যা একটি হাদিস থেকে এসেছে।
এই উক্তিটি মুসলিমদের বোঝায় যে, একজন পুরুষ তার স্ত্রীর প্রতি কেমন আচরণ করে, তার উপর তার উত্তম হওয়া নির্ভর করে। এটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা, যেখানে স্বামীর উচিত স্ত্রীর প্রতি ভালো ব্যবহার করা এবং তাকে ভালোবাসা।
ব্যাখ্যা
স্ত্রীর অবাধ্যতার আশঙ্কা দেখা দিলে, স্বামী স্ত্রীর প্রতি সদুপদেশ দিতে পারে। এই ক্ষেত্রে, স্বামীকে ধৈর্য ধরে স্ত্রীর সাথে আলোচনা করতে হবে, তার সমস্যাগুলো বুঝতে হবে এবং সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। স্বামী স্ত্রীকে বোঝাতে পারেন যে কেন তার আচরণ সঠিক নয় এবং সম্পর্কের ভালোর জন্য একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া কতটা জরুরি।
ব্যাখ্যা
পরিবারই মানুষের প্রথম পাঠশালা কারণ এখানেই শিশুরা ভাষা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং সামাজিক রীতিনীতি শেখে। পরিবারে শিশুরা প্রথম সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বাস করতে, বন্ধুত্ব করতে এবং অন্যদের সাথে সম্পর্ক তৈরি ও বজায় রাখতে শেখে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও মূল্যবোধ তাদের ভবিষ্যতের আচরণ এবং ব্যক্তিগত বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলে।
ব্যাখ্যা
বিয়ের পরে স্ত্রীকে পর্দা করার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া প্রতিটি স্বামীর উপর অবশ্য কর্তব্য। সুতরাং, শ্বশুরবাড়িতেও এ দায়িত্ব পালন করবে স্বামী।
ব্যাখ্যা
ইসলামী সমাজব্যবস্থার মূল ভিত্তি ও প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাওহিদ, যা আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা, তাঁরই ইবাদত করা, এবং তাঁরই সার্বভৌম ক্ষমতা ও বিধানের কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণকে বোঝায়। এই এককত্ব বিশ্বাস ইসলামের সকল বিশ্বাস, ইবাদত, ও সামাজিক রীতিনীতিকে পরিচালিত করে এবং এটিই তাওহিদভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি।
ব্যাখ্যা
মায়েদের সন্তানকে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, কারণ তারাই শিশুর প্রথম শিক্ষক হন। তারা নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং সামাজিক রীতিনীতি শেখানোর পাশাপাশি হোয়াইটওয়ার্কে সহায়তা এবং শেখার প্রতি আগ্রহ তৈরীর মাধ্যমে সন্তানের শিক্ষাগত দক্ষতায় সাহায্য করতে পারেন। একটি ইতিবাচক ও সহায়ক গৃহ পরিবেশ তৈরীর মাধ্যমে মায়েরা শিশুদের জ্ঞানীয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
ব্যাখ্যা
আত্মীয়তার ৩টি প্রকারভেদ উল্লেখ করা হলো:
রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়:
এরা সরাসরি রক্তের সম্পর্কযুক্ত, যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী ইত্যাদি।
বৈবাহিক সম্পর্কীয় আত্মীয়:
এরা বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে সম্পর্কিত, যেমন শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ভাবী ইত্যাদি।
দুগ্ধ সম্পর্কিত:
যেমন দুধ মা, দুধ ভাই ও দুধ বোন।
ব্যাখ্যা
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, নিজের বাড়ি থেকে সামনে-পেছনে এবং ডান-বাম দিকে কমপক্ষে ৪০ ঘর পর্যন্ত লোক প্রতিবেশীর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হয়। অর্থাৎ, বাড়ির চারপাশের ৪০টি বাড়ি পর্যন্ত সবাইকে প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ব্যাখ্যা
ইসলাম-পূর্ব যুগে দাইয়াতুল কলবী (রা.) তার কন্যাকে জীবন্ত কবর দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে, এটি সাহাবী হিসেবে ছিল না, বরং ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে প্রচলিত জাহেলী যুগের একটি প্রথা ছিল, যেখানে কন্যা সন্তানকে দুর্ভাগ্য মনে করে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়াকে সমাজে কলঙ্ক ও লজ্জার বিষয় মনে করা হতো।
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার কম বয়সী সকল মানুষকেই শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সংজ্ঞাটি সনদটির প্রথম অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
ব্যাখ্যা
তাকওয়ার দ্বিতীয় স্তরে কেবল ফরজ ও ওয়াজিব কাজগুলো নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করতে হয় এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হয়। এই স্তরে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ পালনের পাশাপাশি তাঁর নিষেধগুলো থেকেও সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকে।
ব্যাখ্যা
“উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম ছাড়া আর কী হতে পারে ?” (সুরা আররহমান, আয়াত ৬০)
পবিত্র কুরআনের আলোকে, ইহসান বা উত্তম কাজের প্রতিদান হলো উত্তম বা তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ প্রতিদান (ইহসান)। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আন্তরিকতা ও একাগ্রতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করে এবং উত্তম আচরণ করে, আল্লাহ তাকে তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান দেবেন।
ব্যাখ্যা
হাদিস অনুসারে, শিশুদের সাত বছর বয়স হলে তাদেরকে নামাজের জন্য আদেশ দিতে হবে এবং দশ বছর বয়সে নামাজ না পড়লে হালকাভাবে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এই বয়সেই তাদের নামাজ শিক্ষা দেওয়া এবং অভ্যস্ত করানো উচিত, যা তাদের পরিণত বয়সে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে সাহায্য করবে।
ব্যাখ্যা
রাসুল (সা.) প্রথম শিশুদের হাতে মৌসুমী ফল তুলে দিতেন, কারণ শিশুদের হাতে নতুন ফল তুলে দেওয়া সুন্নত, যা তাদের কোমল মনে আনন্দ ও প্রফুল্লতা আনে এবং তাদের খুশি করা একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্যাখ্যা
মানুষের মধ্যে পিতামাতাই হলেন প্রথম হকদার বা অধিকারের দাবিদার, যাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা প্রতিটি সন্তানের উপর অপরিহার্য। ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ তাআলার পরই তাদের স্থান এবং তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা আল্লাহ তাআলারই একটি আদেশ, যা সূরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
সলামি দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো পরিবারে শান্তি, সুস্থতা এবং কল্যাণ রক্ষা করা, যেখানে স্বামী-স্ত্রীর সুস্থতা, সন্তানদের লালন-পালনের সক্ষমতা এবং একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবারকে ইসলামি সমাজব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হয় এবং এর সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীলতার জন্য ব্যাপক বিধান রয়েছে, যা শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করে।
ব্যাখ্যা
ইসলামে পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ সীমা নির্ধারণে শরীয়াহ-এর প্রধান ভিত্তি হলো পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ (হাদিস), যা সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালন, এবং সমাজের কল্যাণের উপর গুরুত্বারোপ করে। এই ভিত্তিগুলি স্বামী-স্ত্রীর আর্থিক সামর্থ্য, সুস্থ সন্তানের জন্ম ও লালন-পালন, এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যেকোন সিদ্ধান্ত নেবার আগে শরীয়াহ আলোচনা করে দেখতে হয় আমাদের।
ব্যাখ্যা
রাসুল (সা)-এর যুগে "আযল" নামক এক পদ্ধতি প্রচলিত ছিল, যা পরিবার পরিকল্পনার অংশ ছিল এবং এটি কখনো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। আযল হলো স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের সময় বীর্যপাতের পরিবর্তে বীর্যকে স্ত্রীর বাইরে ফেলে দেওয়া, যা আজকের পরিবার পরিকল্পনার একটি আধুনিক রূপ।