পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৫৮
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 15” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ১২ পার্ট-১) নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন: 1) Impact of Values Education and Good Governance in national development; 2) How the element of Good Governance and Values Education can be established in society in a given social context; 3) The benefits of Values Education and Good Governance and the cost society pays adversely in their absence. পার্ট-২) বাংলাদেশ বিষয়াবলি: টপিকসমূহ - বাংলাদেশের অর্থনীতি: ১. উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রেক্ষিত ও পঞ্চবার্ষিকী, জাতীয় আয়-ব্যয়, রাজস্ব নীতি ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি। ২) অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট, কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ, আমদানি-রপ্তানি রিপোর্ট। ------------------ পার্ট–১ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, SSC & HSC পৌরনীতি বোর্ড বই। পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড বই, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট, কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থগ্রন্থ, EPB -এর আমদানি-রপ্তানি রিপোর্ট। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৮ প্রশ্ন

.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৫ অনুসারে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা কত?
  1. ১৭০.২৮ মিলিয়ন
  2. ১৭১.২৮ মিলিয়ন
  3. ১৭২.২৮ মিলিয়ন
  4. ১৭২.৮২ মিলিয়ন
সঠিক উত্তর:
১৭২.২৮ মিলিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭২.২৮ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭২.২৮ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১৭১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.১২%।
- পুরুষ: মহিলা = ৯৬.৩: ১০০।
- গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল: ৭২.৩ বছর (পুরুষ: ৭০.৮; নারী: ৭৩.৮)।
- স্থূল জন্মহার (প্রতি ১০০০): ১৯.৪ জন। 
- স্থূল মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০): ৬.১ জন।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি: ২,৬৭১ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৪৩,৯৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৬৪,৩৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৩.৯৭%।
- মূল্যস্ফীতি: ৮.৪৮%।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।

.
জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক, ২০২৫ অনুযায়ী, কোন বিভাগে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. রংপুর
  2. বরিশাল
  3. সিলেট
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা

জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক:
- ৩১ জুলাই ২০২৫ তারিখে পরিকল্পনা কমিশনে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
-  বাংলাদেশের এ সূচকে তিনটি মাত্রা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাতে জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
- এই মাত্রাগুলোকে ১১টি আলাদা সূচকে ভাগ করা হয়েছে। যেমন জীবনযাত্রার মানের মধ্যে রয়েছে—বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, খাওয়ার পানি, বাসস্থান, রান্নার জ্বালানি, সম্পদ এবং ইন্টারনেট সংযোগ।


উল্লেখ্য,
- এমপিআই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে ২৪.৫ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে রয়েছে, যা সংখ্যায় প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লাখ। 
- গ্রামীণ এলাকায় এই হার ২৬.৯৬ শতাংশ, আর শহরে ১৩.৪৮ শতাংশ। 
সিলেট বিভাগে এই দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ (৩৭.৭০ শতাংশ) এবং সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগে।
- এই দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি বান্দরবানে (৬৫.৩৬ শতাংশ) এবং সবচেয়ে কম ঝিনাইদহে (৮.৬৬ শতাংশ)। 

উৎস: প্রথম আলো। [link]

.
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হয় কবে?
  1. ১ জুন, ২০২৫
  2. ৩০ জুন, ২০২৫
  3. ১ জুলাই, ২০২৫
  4. ৩১ জুলাই, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬:
- বাজেটের ক্রম: ৫৪তম (অন্তবর্তীকালীনসহ ৫৫তম)।
- বাজেটের শিরোনাম: 'বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয়'।
- বাজেট উত্থাপনকারী: ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ (অর্থ উপদেষ্টা)।
- বাজেট উত্থাপন: ২ জুন, ২০২৫।
- অনুমোদন হয় : ২২ জুন, ২০২৫।
- কার্যকর হয়: ১ জুলাই, ২০২৫।
- বাজেটের আকার: ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৫.৫%।
- অনুমিত মুদ্রাস্ফীতির হার: ৬.৫%।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (ADP): ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৭%)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬।

.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৫ অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ১.১২%
  2. ১.২২%
  3. ১.৩২%
  4. ১.৪২%
সঠিক উত্তর:
১.১২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.১২%
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭২.২৮ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১৭১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.১২%।
- পুরুষ: মহিলা = ৯৬.৩: ১০০।
- গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল: ৭২.৩ বছর (পুরুষ: ৭০.৮; নারী: ৭৩.৮)।
- স্থূল জন্মহার (প্রতি ১০০০): ১৯.৪ জন। 
- স্থূল মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০): ৬.১ জন।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি: ২,৬৭১ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৪৩,৯৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৬৪,৩৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৩.৯৭%।
- মূল্যস্ফীতি: ৮.৪৮%।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৫।

.
মোট জাতীয় আয় (GNI)-এর অপর নাম কী?
  1. GDP
  2. NDP
  3. GNP
  4. NNP
সঠিক উত্তর:
GNP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
GNP
ব্যাখ্যা

মোট জাতীয় আয় (Gross National Income বা GNI):
- কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত আর্থিক বছরে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় (GNI) বলে।
- একে মোট জাতীয় উৎপাদনও (GNP) বলে।
- মোট দেশজ উৎপাদনের সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
ক) GDP – Gross Domestic Product (মোট দেশজ উৎপাদন);
খ) NDP – Net Domestic Product (নিট দেশজ উৎপাদন);
ঘ) NNP – Net National Product (নিট জাতীয় উৎপাদন)।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ–২০২৪ অনুসারে, তুলা উৎপাদনে বাংলাদেশের শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. যশোর
  2. কুষ্টিয়া
  3. ঝিনাইদহ
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
ঝিনাইদহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিনাইদহ
ব্যাখ্যা

কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ–২০২৪:
 • ফসলভিত্তিক শীর্ষ জেলা:

ধান উৎপাদনে – ময়মনসিংহ;
গম উৎপাদনে – ঠাকুরগাঁও;
ভুট্টা উৎপাদনে – দিনাজপুর;
তুলা উৎপাদনে – ঝিনাইদহ;
চা উৎপাদনে – মৌলভীবাজার;
তামাক উৎপাদনে – কুষ্টিয়া;
পাট উৎপাদনে – ফরিদপুর;
আলু উৎপাদনে – রংপুর।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪।

.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা কোন মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে?
  1. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
  2. অর্থ মন্ত্রণালয়
  3. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
  4. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
অর্থ মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা (Economic Review):
- অর্থনৈতিক সমীক্ষা হলো একটি সরকারি বার্ষিক প্রতিবেদন যেখানে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা, প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, বিভিন্ন খাতের বিশ্লেষণ, বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আয়, সরকারি ব্যয় ইত্যাদি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়। এটি অর্থবছরের আগে প্রকাশিত হয়।
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ প্রতি বছর অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রকাশ করে। 
- এ সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক নীতি ও কৌশলসহ দেশের অর্থনীতির খাতওয়ারি উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা প্রদান করা।

অর্থনৈতিক সমীক্ষার উদ্দেশ্য:
- দেশের গত এক বছরের অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়ন করা;
- বাজেট প্রণয়নে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ;
- খাতভিত্তিক উন্নয়ন ও সমস্যাসমূহ বিশ্লেষণ;
- ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশি পণ্যের প্রধান আমদানিকারক দেশ কোনটি?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. জার্মানি
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

দেশভিত্তিক রপ্তানি:
- দেশভিত্তিক রপ্তানি উপাত্তে দেখা যায় যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশি পণ্যের প্রধান আমদানিকারক দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।
- আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে যথাক্রমে ৮,৬৯২.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ৫,২৯৪.৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
- যা দেশের মোট রপ্তানির যথাক্রমে ১৮.০০ শতাংশ এবং ১০.৯৬ শতাংশ।
- যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে রপ্তানিকৃত প্রধান প্রধান পণ্যসমূহ হলোঃ তৈরি পোশাক, নীটওয়্যার, হিমায়িত চিংড়ি, কাঁকড়া, গৃহস্থালী বস্ত্র ইত্যাদি।
- দেশভিত্তিক পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য (৯.৫৭%), ফ্রান্স (৫.০০%) ও নেদারল্যান্ড (৪.৮৭%)।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।

.
বাংলাদেশের কোন জেলাসর্বাধিক বনাঞ্চলসম্পন্ন? (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)
  1. রাঙ্গামাটি
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বাগেরহাট
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
- দেশে মোট বনাঞ্চলের পরিমাণ - ৬৩,৬৩,০০০ একর।

সর্বাধিক বনাঞ্চলসম্পন্ন জেলা:
১) রাঙ্গামাটি - ১৩,৭৮,৫৬৪.১৩ একর।
২) বান্দরবান - ৭,৯৭,৫৪১.৪৯ একর।
৩) বাগেরহাট - ৫,৬৬,৫১২.৯৫ একর।
৪) খাগড়াছড়ি - ৫,৫৪,১১৬.২১ একর।
৫) খুলনা - ৫,৬৪,০৮১.৬১ একর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১০.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী, কোন খাতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ?
  1. কৃষি খাত
  2. শিল্প খাত
  3. সেবা খাত
  4. নির্মাণ খাত
সঠিক উত্তর:
সেবা খাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেবা খাত
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ. (সেবা খাত – ৪.৫১%)

• খাতভিত্তিক সারসংক্ষেপ (অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৫):


১. সেবা খাত:

জিডিপিতে অবদান: ৫১.৬২%;
প্রবৃদ্ধির হার: ৪.৫১%;
নিয়োজিত শ্রমশক্তি: ৩৭.৯৬%।
 
২. শিল্প খাত:
জিডিপিতে অবদান: ৩৭.৪৪%;
প্রবৃদ্ধির হার: ৪.৩৪%;
নিয়োজিত শ্রমশক্তি: ১৭.৩৭%।
 
৩. কৃষি খাত:
জিডিপিতে অবদান: ১০.৯৪%;
প্রবৃদ্ধির হার: ১.৭৯%;
নিয়োজিত শ্রমশক্তি: ৪৪.৬৭%।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৫।

১১.
বাংলাদেশ কত সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

LDC (Least Developed Countries):
- এলডিসি দেশগুলো একধরনের উন্নয়নশীল দেশ।
- যেসব দেশের সক্ষমতা তুলনামূলক কম, তাদের এই তালিকায় রাখা হয়।
- ১৯৭১ সালে প্রথম স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা করা হয়।
- বর্তমানে বিশ্বে ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে। 
- তিনটি সূচককে মানদন্ড হিসেবে নিয়ে LDC কর্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সেগুলো হলো:
১. আয় সূচক;
২. মানব সম্পদ সূচক;
৩. অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দুর্বলতা সূচক।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে LDC তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
- বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মানদণ্ডের তিনটিতেই উত্তীর্ণ হয়।
- ২০২১ সালেই বাংলাদেশ চূড়ান্ত সুপারিশ পায় যে ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণ হতে পারে বাংলাদেশ।
- ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য আরও দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়।
- সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে LDC হতে উত্তরণ করবে।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, পত্রিকা রিপোর্ট।

১২.
২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল কত? (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৫)
  1. ৩৮,৩০০ মিলিয়ন ডলার
  2. ৪৮,৩০০ মিলিয়ন ডলার
  3. ৫৮,৩০০ মিলিয়ন ডলার
  4. ৬৮,৩০০ মিলিয়ন ডলার
সঠিক উত্তর:
৪৮,৩০০ মিলিয়ন ডলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৮,৩০০ মিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা

২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি-রপ্তানি চিত্র:
- ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮,৩৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- অন্যদিকে একই সময়ে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৮,৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ায় দেশে ২০,৩৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাণিজ্য ভারসাম্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।
- এই ঘাটতি নির্দেশ করে যে দেশের বৈদেশিক লেনদেনে আমদানির চাপ রপ্তানির তুলনায় বেশি, যা সামষ্টিক অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মুদ্রাবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৫।

১৩.
২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত কোনটি?
  1. শিক্ষা
  2. স্বাস্থ্য
  3. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ
  4. পরিবহন ও যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
পরিবহন ও যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবহন ও যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬:
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (ADP): ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৭%)।
- উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ: ২,৪৫,৬০৯ কোটি টাকা।
- সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত খাত (পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট): জনপ্রশাসন।
- উন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত: পরিবহন ও যোগাযোগ (৫৮,৭৫১ কোটি টাকা)।
- অনুন্নয়ন (পরিচালন) বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত খাত: সুদ।

উৎস: জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬।

১৪.
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়নের অটোমেশন প্রক্রিয়া ADP/RADP Management System (AMS) কোন অর্থবছর হতে প্রচলন করা হয়েছে?
  1. ২০২০-২১ অর্থবছর
  2. ২০২১-২২ অর্থবছর
  3. ২০২২-২৩ অর্থবছর
  4. ২০২৩-২৪ অর্থবছর
সঠিক উত্তর:
২০২০-২১ অর্থবছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২০-২১ অর্থবছর
ব্যাখ্যা

ADP/RADP Management System (AMS):
- ADP/RADP Management System (AMS) শীর্ষক ওয়েববেইজ পদ্ধতি (ওয়েব-ভিত্তিক সিস্টেম) হলো বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক ব্যবহৃত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) এবং সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (RADP) প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, এবং পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এখানে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো প্রকল্পের তথ্য, বরাদ্দ ও ব্যয় সংক্রান্ত ডেটা এই সিস্টেমের মাধ্যমে আপডেট করে, যা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বাজেট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে।
- ADP/RADP Management System (AMS) শীর্ষক ওয়েববেইজ পদ্ধতি ২০২০-২১ অর্থবছর হতে প্রচলন করা হয়েছে।
- এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, এডিপি'র ১৭টি সেক্টরের পরিবর্তে ১৫টি সেক্টরে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
- সে অনুযায়ী ২০২২-২৩,২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের এডিপি/আরএডিপি প্রণয়ন করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৫।

১৫.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪ অনুযায়ী, কোন ধরনের ধান সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়?
  1. আউশ ধান
  2. আমন ধান
  3. বোরো ধান
  4. ক ও খ উভয়
সঠিক উত্তর:
বোরো ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরো ধান
ব্যাখ্যা

কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪:
• উৎপাদনের পরিমাণ (মেট্রিক টন):
- আউশ ধান (স্থানীয় + অন্যান্য)= ২৯.৭৩ লক্ষ।
- আমন ধান (স্থানীয় + অন্যান্য)= ১৬৬.৫৬ লক্ষ।
- বোরো ধান (স্থানীয় + অন্যান্য)= ২১০.৬৮ লক্ষ।

 • ধান উৎপাদনে আবাদকৃত জমির পরিমান:
- আমন ধান আবাদকৃত জমির পরিমাণ- ১,৪২,১০,০০০ (একর)।
- বোরো ধান আবাদকৃত জমির পরিমাণ- ১২,০৫,৩০০০ (একর)।
- আউশ ধান আবাদকৃত জমির পরিমাণ- ২৫,৫৭,০০০ (একর)।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪।

১৬.
‘কাবিখা’ কর্মসূচি কোন ধরনের সরকারি উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত?
  1. টিকা দান
  2. নিরক্ষরতা দূরীকরণ
  3. দারিদ্র বিমোচন
  4. অবকাঠামো উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র বিমোচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র বিমোচন
ব্যাখ্যা

‘কাবিখা’ কর্মসূচি:
- বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ‘কাবিখা’ বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি।
- ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব, খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ অঞ্চলে তীব্র বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলার মানুষ যখন অনাহারের সম্মুখীন হয়, তখন সরকার জরুরি ভিত্তিতে ‘ফুড ফর ওয়ার্ক’ কর্মসূচি চালু করে, যা পরবর্তীতে কাবিখা হিসেবে পরিচিতি পায়।
- এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামোর নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ, স্বাভাবিক সময়ে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র মানুষের আয় বৃদ্ধি।
- পাশাপাশি দেশের সর্বত্র খাদ্য সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা ও সার্বিক দারিদ্র বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭.
মোট পণ্য আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোন দেশ থেকে সর্বোচ্চ আমদানি করা হয়?
  1. চীন
  2. ভারত
  3. জাপান
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা

২০২৪-২৫ অর্থবছরের আমদানি:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮,৩৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের মোট আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ৬৬,৭২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি।
- মোট পণ্য আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে সর্বোচ্চ আমদানি করা হয়।
- যা দেশের মোট আমদানির ৩০.০২ শতাংশ।
- আলোচ্য সময়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (১৪.১৮%) ও যুক্তরাষ্ট্র (৩.৬৭%)।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৫।

১৮.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ- ২০২৪ অনুযায়ী, পাট উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ কোনটি?
  1. রংপুর
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. খুলনা
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, শীর্ষ বিভাগ:
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রাজশাহী।
- ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ ঢাকা।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ খুলনা।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ সিলেট।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ খুলনা।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ রংপুর।

উল্লেখ্য,
বিভাগ অনুযায়ী পাট সর্বাধিক উৎপাদন:
১. ঢাকা বিভাগ- উৎপাদন: ৩৫,৭৮,৩৪২ বেল;
২. খুলনা বিভাগ- উৎপাদন: ২৬,২৮,৩৪৮ বেল।
 
জেলা অনুযায়ী পাট সর্বাধিক উৎপাদন:
১. ফরিদপুর জেলা- উৎপাদন: ১২,৩৭,৩২০ বেল;
২. রাজবাড়ী জেলা- উৎপাদন: ৬,২১,৮৯৯ বেল।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১৯.
২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ডলার প্রবাসী আয় এসেছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ২৭.৩৩ বিলিয়ন ডলার
  2. ২৯.৩৩ বিলিয়ন ডলার
  3. ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার
  4. ৩২.৩৩ বিলিয়ন ডলার
সঠিক উত্তর:
৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা

প্রবাসী আয় (২০২৪-২৫ অর্থবছর):
- ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে।
- দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো অর্থবছরে এত প্রবাসী আয় আসেনি।
- এই আয় আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
- এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [
LINK]

২০.
মূলধন বা উন্নয়ন বাজেটের প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
  2. আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন
  3. নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি
  4. সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন
ব্যাখ্যা

মূলধন বাজেট বা উন্নয়ন বাজেট:
- সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয় তাকে মূলধন বা উন্নয়ন বাজেট বলে।
- এ বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ও জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন করা।
- এ লক্ষ্যে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস হতে অর্থসংস্থান করে।
- অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস হলো-রাজস্ব উদ্বৃত্ত, বেসরকারি সঞ্চয় ব্যাংক ঋণ ও অতিরিক্ত কর ধার্য করা ইত্যাদি।
- বৈদেশিক আয়ের উৎস হলো-বৈদেশিক ঋণ, বৈদেশিক অনুদান ইত্যাদি।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায়- কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, মহিলা ও যুব উন্নয়ন, পরিবহণ ও যোগাযোগ, পল্লি উন্নয়ন ও গৃহায়ণ ইত্যাদি খাতে সরকার ব্যয় করে থাকে।
- এ বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২১.
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৩ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন:
- পিডিবিএফ একটি সংবিধিবদ্ধ, স্ব-শাসিত, অমুনাফাকাঙ্ক্ষী, আত্মনির্ভরশীল, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে গৃহীত আইনের মাধ্যমে 'পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)' প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পিডিবিএফ সৃষ্টির গোড়ায় ছিল আরডি-২ আরপিপি, আরডি-১২ প্রকল্প এবং পল্লী বিত্তহীন কর্মসূচী।
- ১৯৮৪ সাল থেকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কানাডিয়ান সিডার আর্থিক ও কারিগরী সহায়তায় এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে আসছিল।
- সরকারী সেক্টরে এগুলিই সর্বপ্রথম বিত্তহীন কল্যাণ প্রোগ্রাম যা পরবর্তীতে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) নামে একটি স্বশাসিত স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে।
- পিডিবিএফ ক্ষুদ্র ঋন এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋন (SELP) পরিচালনা করে যাতে করে গ্রামীন বঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২২.
মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের শীর্ষ জেলা কোনটি? (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ, ২০২৪)
  1. কুমিল্লা
  2. যশোর
  3. চট্টগ্রাম
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

মিঠা পানিতে মৎস্য উৎপাদন:
- মিঠা পানিতে মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিভাগ সারা দেশে শীর্ষস্থান দখল করে আছে।
- এ বিভাগের উৎপাদন পরিমাণ ৮,৮০,৭৯৭ মেট্রিক টন, যা দেশের মোট মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে।
- দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ, যার উৎপাদন ৮,২২,৩৬১ মেট্রিক টন।
- তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে উৎপাদন হয়েছে ৫,৭৬,৮৩০ মেট্রিক টন।

অন্যদিকে,
- জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদন হয়েছে ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ জেলার উৎপাদন পরিমাণ ৩,৪৫,০০১ মেট্রিক টন, যা দেশের যেকোনো জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী জেলা হলো কুমিল্লা, যেখানে উৎপাদন হয়েছে ৩,১৫,৪৫৭ মেট্রিক টন।
- তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর জেলা, যার উৎপাদন ২,৪৮,০৮৯ মেট্রিক টন। 

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ, ২০২৪।

২৩.
আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ অনুযায়ী, এশিয়ার কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ভারত
  2. জাপান
  3. চীন
  4. পাকিস্তান
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা

বাণিজ্য ঘাটতি:
- এশিয়া মহাদেশে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে চীনের সাথে বাংলাদেশের সর্বাধিক ঘাটতি রয়েছে।
- চীন থেকে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) পণ্য আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৬১ কোটি ডলারের। 
- এর বিপরীতে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৭৪ কোটি ডলারের পণ্য।
- তাতে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি ১ হাজার ৯৮৭ কোটি ডলারের।
- চীনের পরেই বড় ঘাটতি ভারতের সঙ্গে।
- গত অর্থবছরে দেশটি থেকে আমদানি হয়েছে ৯৬৮ কোটি ডলার পণ্য।
- রপ্তানি হয়েছে ১৮২ কোটি ডলারের পণ্য। তাতে বছর শেষে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি ৭৮৬ কোটি ডলারের।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো। [link]

২৪.
২০২৫–২৬ অর্থবছরে এনবিআরের সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কত? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ৫ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা
  2. ৫ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা
  3. ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা
  4. ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা
সঠিক উত্তর:
৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা
ব্যাখ্যা

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা:
- চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়।
- পরবর্তীতে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।
- নতুন লক্ষ্যমাত্রা বিদ্যমান টার্গেটের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি।
- এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আদায়ের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ।

 তথ্যসূত্র- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। [link]

২৫.
আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি? (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ, ২০২৪)
  1. বগুড়া
  2. রংপুর
  3. দিনাজপুর
  4. জয়পুরহাট
সঠিক উত্তর:
রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা

আলু উৎপাদন:
​• আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা:
- প্রথম: রংপুর জেলা।
- (১৩,২৬,৩৪৫ মে. টন)
- দ্বিতীয়: বগুড়া জেলা।
- (১১,৮৭,০২৩ মে. টন)

• আলু উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ:
- প্রথম: রংপুর বিভাগ।
- (৪৩,৪৪,৫৪৬ মে. টন)
- দ্বিতীয়: রাজশাহী বিভাগ।
- (৩,৫৭৬,৮৯৬ মে. টন)

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪।

২৬.
কত সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা:
- বাংলাদেশে মোট ৮টি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
- প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮)।
- দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৮০-১৯৮৫)।
- তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৮৫-১৯৯০)।
- চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৯০-১৯৯৫)।
- পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৯৭-২০০২)।
- ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫)।
- সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০)।

⇒ অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২০-২৫) স্থগিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট, পত্রিকা রিপোর্ট।

২৭.
জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ অনুযায়ী, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কত?
  1. ৮.৫%
  2. ৭.৫%
  3. ৬.৫%
  4. ৫.৫%
সঠিক উত্তর:
৫.৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫.৫%
ব্যাখ্যা

জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬:
- বাজেটের ক্রম: ৫৪তম (অন্তবর্তীকালীনসহ ৫৫তম)।
- বাজেটের শিরোনাম: 'বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয়'।
- বাজেট উত্থাপনকারী: ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ (অর্থ উপদেষ্টা)।
- বাজেট উত্থাপন: ২ জুন, ২০২৫।
- অনুমোদন হয় : ২২ জুন, ২০২৫।
- কার্যকর হয়: ১ জুলাই, ২০২৫।
- জিডিপির আকার: ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা।
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৫.৫%।
- অনুমিত মুদ্রাস্ফীতির হার: ৬.৫%।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (ADP): ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৭%)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬।

২৮.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ, ২০২৪ অনুসারে, চা উৎপাদনে শীর্ষে কোন জেলা কোনটি? 
  1. হবিগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. মৌলভীবাজার
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে চা উৎপাদন:
মোট উৎপাদন: ১,০০,৬৬০ মে. টন।
মোট জমির পরিমাণ: ১,৪৫,১৮২ একর।
বিভাগ অনুযায়ী চা উৎপাদনে শীর্ষে: সিলেট বিভাগ (উৎপাদন: ৭৩,৩০০ মে. টন)।
জেলা অনুযায়ী চা উৎপাদনে শীর্ষে: মৌলভীবাজার জেলা (উৎপাদন: ৪৯,৭৭৯ মে. টন)।

তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

২৯.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৫ এর তথ্যমতে, বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় কত?
  1. ২,৬২০ মার্কিন ডলার
  2. ২,৭২০ মার্কিন ডলার
  3. ২,৮২০ মার্কিন ডলার
  4. ২,৯২০ মার্কিন ডলার
সঠিক উত্তর:
২,৮২০ মার্কিন ডলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২,৮২০ মার্কিন ডলার
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৫:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭২.২৮ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১৭১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.১২%।
- পুরুষ: মহিলা = ৯৬.৩: ১০০।
- গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল: ৭২.৩ বছর (পুরুষ: ৭০.৮; নারী: ৭৩.৮)।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি: ২,৬৭১ মার্কিন ডলার।
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৩.৯৭%।
- মূল্যস্ফীতি: ৮.৪৮%।
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭%।
- চরম দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।

৩০.
দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে কোনটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. নৈতিক চরিত্র
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. আইনের প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণে জবাবদিহিতা (Accountability) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

জবাবদিহিতা:

- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে কোন উপাদানটি প্রভাব বিস্তার করে? 
  1. ধর্মীয় বিশ্বাস
  2. স্থানীয় কৃষ্টি
  3. জলবায়ু
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বিভিন্ন উপাদান যেমন- ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, স্থানীয় কৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, যুদ্ধ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ প্রভাব বিস্তার করে।
- আমাদের সমাজের মূলবোধের সাথে যেমন সৌদি আরবের মূল্যবোধের মিল পাওয়া যাবে না, তেমনি করে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশের সমাজে কারো সাথে কুশল বিনিময়ে সালাম, নমস্কার অথবা আদাব দেয়া হয়।
- অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে good morning, good afternoon অথবা good evening বলা হয়ে থাকে।
- অর্থাৎ একটি সমাজের মূল্যবোধগত রীতি আরেকটি সমাজ হতে আলাদা করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি-এর তথ্যমতে, সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- এতে বলা হয়েছে- 'কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৩৩.
কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সর্বজনীন রূপ নেই
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনা করে
  3. বিমূর্ত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়
  4. লিখিত সামাজিক বিধান
সঠিক উত্তর:
লিখিত সামাজিক বিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিখিত সামাজিক বিধান
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ সমাজস্থ প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
- মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় কোনটি?
  1. অধিক শিল্পায়ন
  2. সুশাসন
  3. সামরিক শক্তি 
  4. বৈদেশিক সাহায্য
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৫.
'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড'-এই উক্তিটি করেছেন কে?
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. এফ ই মেরিল
  3. এইচ এম জনসন
  4. নিকোলাস রেসার
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
মূল্যবোধকে কোনটি সুদৃঢ় করে?
  1. পরিবার
  2. শিক্ষা
  3. ঐক্য 
  4. সামাজিক বণ্টন
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৭.
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. সরলতা
  3. দক্ষতা
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে নৈতিকতা।
- নৈতিকতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা, সততা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তি তৈরি করে।
- এটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশ্বাস ও প্রেরণা জাগাতে সহায়ক।
- নৈতিকতা এমন একটি গুণ যা সততা, ন্যায্যতা, এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- নৈতিকতা ছাড়া অন্য গুণাবলিগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
- দায়িত্বশীলতা: দায়িত্বশীলতা একজন প্রশাসকের গুরুত্বপূর্ণ গুণ, তবে এটি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। যদি কোনো প্রশাসক দায়িত্বশীল হলেও নৈতিক না হন, তবে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন না। নৈতিকতা দায়িত্ব পালনের পথনির্দেশক।
- সরলতা: সরলতা একটি ব্যক্তিগত গুণ যা ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে সরলতা সবসময় কার্যকর নয়। নৈতিকতার অভাব থাকলে সরলতা একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে বাধা হতে পারে।
- দক্ষতা: দক্ষতা প্রশাসকের কাজের ফলাফল উন্নত করে, তবে নৈতিকতা ছাড়া দক্ষতা ক্ষতিকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দক্ষ ব্যক্তি যদি অনৈতিক হয়, তবে সে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে (যেমন: দুর্নীতি বা অন্যায় সিদ্ধান্ত)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৮.
আধুনিক বিশ্ব যে ধরনের মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে সেটি হলো -
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. বিশ্বস্ততা 
  2. নিরপেক্ষতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. সৃজনশীলতা
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা

সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে যে মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয় - সৃজনশীলতা। 

সুশাসন:
- সাধারণত শাসন হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ও তা বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া।
- শাসনের ধারণা কোন নতুন বিষয় নয় বরং এটা মানব সভ্যতার মতোই পুরাতন।
- শাসন ব্যবস্থার অর্থ ও মাত্রা সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।
- সুশাসন শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন: আন্তর্জাতিক শাসন, জাতীয় শাসন, স্থানীয় শাসন, যৌথ শাসন ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- বর্তমানে সুশাসনকে একটি দেশের উন্নয়নের দিক নির্দেশনা প্রদানকারী হিসেবে দেখা হয়।

⇒ সুশাসনের প্রধান উপদান:
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,
- অংশগ্রহণ,
- আইনের শাসন,
- নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা,
- জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা ও বিকেন্দ্রীকরণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪০.
জনগণ ও সরকারের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করে তোলে কোনটি?
  1. ই-গভর্ন্যান্স
  2. আমলাতন্ত্র
  3. স্থানীয় সরকার নির্বাচন
  4. তথ্য কেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্ন্যান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্ন্যান্স
ব্যাখ্যা

ই-গভর্ন্যান্স সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করে তোলে।

ই-গভর্নেন্স:

- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪১.
জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
  1. নারীদের উন্নয়ন
  2. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  4. টেকসই উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৪২.
নৈতিকতা ও মূল্যবোধ অর্জনের প্রথম উৎস –
  1. পরিবার
  2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  3. ধর্ম
  4. সমাজ ও প্রথা
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা ও মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
• উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৩.
আইন নিষ্প্রয়োজন হয় যখন -
  1. শাসক চরিত্রহীন হন
  2. শাসক স্বৈরাচারী হন
  3. শাসক ন্যায়বান হন
  4. শাসক না থাকেন
সঠিক উত্তর:
শাসক ন্যায়বান হন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসক ন্যায়বান হন
ব্যাখ্যা

আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।

⇒ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪.
সুশাসনের একপক্ষ সরকার, অন্যপক্ষ কে?
  1. বিরোধী দল
  2. জনগণ
  3. আমলা
  4. সংবাদমাধ্যম
সঠিক উত্তর:
জনগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের একপক্ষ সরকার হলে এর অন্যপক্ষ হলো জনগণ।
- যারা সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে অর্থাৎ, সুশাসন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া যেখানে সরকার ও জনগণ উভয়েই অংশীদার এবং দায়িত্বশীল থাকে। 

সুশাসন:
- সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

৪৫.
লালফিতার দৌরাত্মের ফলে নিম্নের কোনটি ব্যাহত হয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  3. আইন
  4. জনগণের সন্তুষ্টি
সঠিক উত্তর:
দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৬.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. লাল ফিতার দৌরাত্ম্য
  3. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  4. জনবান্ধব প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
লাল ফিতার দৌরাত্ম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল ফিতার দৌরাত্ম্য
ব্যাখ্যা

লাল ফিতার দৌরাত্ম্য সুশাসনের উপাদান নয়। 

সুশাসনের উপাদান:

- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন। 

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ, দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৭.
মূল্যবোধ না থাকলে কোনটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. সামাজিক ঐক্য
  3. আইনের শাসন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৮.
সুশাসনের পথে সরাসরি বাধা কোনটি?
  1. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  2. নেতৃত্বের সংকট
  3. দুর্নীতি
  4. জনগণের অসচেতনতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পথে সরাসরি বাধা দুর্নীতি।

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।

৪৯.
একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে -
  1. শিক্ষা
  2. সঠিক নেতৃত্ব
  3. অবাধ প্রচার মাধ্যম
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মূল লক্ষ্য মানব উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘ প্রত্যেক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দিচ্ছে।
- একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে, যা দারিদ্র বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা, লিঙ্গগত বৈষম্য রোধ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০.
মূল্যবোধ শিক্ষা মানব মনে কোন দিকটি উদ্ভব ঘটায়?
  1. বিবেকবোধ
  2. স্বজাতিবোধ
  3. অহংকারবোধ
  4. বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ
সঠিক উত্তর:
বিবেকবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেকবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা মানব মনে বিবেকবোধের উদ্ভব ঘটায়।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫১.
সমাজে ব্যক্তির কোনটি ভালো ও মন্দ, ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য করতে সাহায্য করে?
  1. শিক্ষা
  2. আইন
  3. ঐতিহ্য
  4. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নীতি ও ঔচিত্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি ও ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা

নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে। নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, কটূক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।  নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
- ফলে সে ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থ্যক্য করে ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫২.
আতিথেয়তা কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. নৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় কোনটি?
  1. উন্নয়ন
  2. সুশাসন
  3. আইন প্রণয়ন
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় সুশাসন।

জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
 
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. কঠোর অনুশাসন
  2. গণতন্ত্রের চর্চা
  3. ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  4. সীমিত ভোটাধিকার
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন- ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। 

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:

- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।

⇒ গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
নিম্নের কোনটি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি আসে?
  1. ধর্ম থেকে
  2. নীতি ও মতাদর্শ থেকে
  3. মূল্যবোধ চর্চা থেকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ চর্চা থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ চর্চা থেকে
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধ চর্চা থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি আসে।

⇒ মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে। এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যমতে পৌছানো জরুরি, যা কেবল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব।
- সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যসম্পাদনকারী ব্যক্তিবর্গের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন হওয়া উচিত।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ থেকে বিরত থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬.
নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি কোনটি?
  1. পরিবার
  2. বিদ্যালয়
  3. সমাজ
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, 
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
-  সহনশীলতা, 
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

⇒ নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে। নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, কটূক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।  নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে। ফলে সে ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থ্যক্য করে ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৭.
IDA-এর মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- International Development Association (IDA) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- এগুলো হলো: আইনের শাসন, অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা।

এছাড়াও,
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৫৮.
'মূল্যবোধ হলো ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ'— উক্তিটি কার?
  1. এম. ডাব্লিউ. পামফ্রে
  2. এম. আর. উইলিয়াম
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. আর. টি. শেফার
সঠিক উত্তর:
এম. ডাব্লিউ. পামফ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ডাব্লিউ. পামফ্রে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

উল্লেখ্য,
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

এছাড়াও,
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।