ব্যাখ্যা
⇒ সমাজকর্ম পেশার বিকাশে শিল্প বিপ্লব ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
- এটি ১৭৫০-১৮৫০ সালের মধ্যে ঘটেছিল।
- এজন্য সমাজে সমস্যাগুলো ভিন্ন রুপ ধারণ করে। ফলে, পেশাগত সমাজকর্মের উদ্ভব ঘটে।
- উচ্চ মাধ্যমিক সমাজকর্ম: শহীদুল্লাহ্।
৪৯তম বিসিএস ⎯ সমাজকল্যাণ [৩৬১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন
⇒ সমাজকর্ম পেশার বিকাশে শিল্প বিপ্লব ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
- এটি ১৭৫০-১৮৫০ সালের মধ্যে ঘটেছিল।
- এজন্য সমাজে সমস্যাগুলো ভিন্ন রুপ ধারণ করে। ফলে, পেশাগত সমাজকর্মের উদ্ভব ঘটে।
- উচ্চ মাধ্যমিক সমাজকর্ম: শহীদুল্লাহ্।
⇒ প্রাচীনকাল থেকে সকল ধর্মের মানুষই ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় দানকর্ম সম্পাদন করে আসছিলো। সকল যুগেই মানুষ অসহায়, ক্ষুধার্ত ও দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্যে দান করতো। এজন্য Charity বা দানশীলতাকে সমাজকর্মের সূচনাকারী অনুঘটক বলা হয়।
- সমাজকর্মের ইতিহাস ও দর্শন : আতিকুর রহমান।
⇒ ঐতিহ্যগত সমাজকর্মের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: দান নির্ভর, ক্ষণস্থায়ী,, উপশমমূলক সেবা কর্মসূচি। অন্যদিকে পেশাগত সমাজকর্ম অধিক প্রগতিশীল ও আধুনিক।
⇒ যাকাত ও সদকা মুসলিম ধর্মের সেবামূলক কার্যক্রম। অন্যদিকে দেবোত্তর হিন্দু ধর্মের দানপ্রথা। কিন্তু ধর্মগোলা হলো মানুষ হিসেবে প্রাকৃতিক প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষার কৌশল হিসেবে খাদ্যের সুরক্ষা। এজন্য ধর্মগোলা ও দানশীলতা অধিক মানবিক।।
⇒ ওয়েন ভেসী( Wayne Vasey) (1910- 1992), ইংল্যান্ডের একজন সমাজকর্মী, যিনি সামাজিক নীতি, সমাজকর্ম, ও বার্ধক্য নিয়ে কাজ করেন।
- তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো "Government and Social welfare "।
- যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনে স্থানীয় সরকারের দ্বারা পরিচালনা করার যোগ্য সমাজকল্যাণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।
⇒ দানশীলতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Charity, যা ল্যাটিন শব্দ Charitas থেকে নেওয়া হয়েছে। Charitas শব্দের অর্থ মানবপ্রেম।
- এজন্য দানশীলতা এক ধরনের মানবপ্রেমী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সমাজকর্ম।
⇒ সদকা দানশীলতার মতোই দরিদ্র ও অসহায় শ্রেণির কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- এটি প্রকৃতপক্ষে মানবতারই বহিঃপ্রকাশ।
- এটি কোনো অহংকার বা আভিজাত্যের ব্যাপার নয়।
⇒ যাকাত আরবি শব্দ। এর অনেকগুলো অর্থ রয়েছে।
- তন্মধ্যে দুটি অর্থ হলো; পবিত্রকরণ ও বৃদ্ধি। এটি সম্পদকে পবিত্র করে ও যাকাত সম্পদের বৃদ্ধি ঘটায়।
⇒ সরাইখানা হলো বিশ্রামের জায়গা। প্রাচীন ও মধ্যযুগে পথিক, পর্যটক, তীর্থযাত্রী, ভ্রমণপিপাসু মানুষের বিশ্রামের জন্য রাস্তার পাশে তৈরি বিশ্রামাগার হলো সরাইখানা।
- এখানে দিনমজুররা থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
⇒ ধর্মগোলা ছিলো একটি বিশেষ খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পদ্ধতি। দুর্ভিক্ষ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল সুরক্ষার জন্য মানুষ এটা তৈরি করতো। ব্রিটিশ সরকার এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সমাজকর্ম।
⇒ পবিত্র কুরআনের সূরা তওবার ৬০ নং আয়াত অনুযায়ী, ৮টি খাতে যাকাত দেওয়া যাবে।
(১) মুসলমান দরিদ্র ব্যক্তি( ফকির),
(২) মুসলমান নিঃস্ব ব্যক্তি( মিসকিন),
(৩) যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী,
(৪)সদ্য মুসলমান হওয়া ব্যক্তি,
(৫) দাস মুক্তি,
(৬) ঋণগ্রস্ত লোক,
(৭) ইসলাম প্রচারের স্বার্থে,
(৮) মুসাফির
⇒ পবিত্র কুরআনের সূরা তওবার ৬০ নং আয়াত অনুযায়ী, ৮টি খাতে যাকাত দেওয়া যাবে।
(১) মুসলমান দরিদ্র ব্যক্তি( ফকির),
(২) মুসলমান নিঃস্ব ব্যক্তি( মিসকিন),
(৩) যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী,
(৪)সদ্য মুসলমান হওয়া ব্যক্তি,
(৫) দাস মুক্তি,
(৬) ঋণগ্রস্ত লোক,
(৭) ইসলাম প্রচারের স্বার্থে,
(৮) মুসাফির।
- এই সকল খাত ব্যতিত রাস্তাঘাট নির্মাণ, পুকুর খনন বা অন্য কোনো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, যদিও তা জনকল্যাণমুখী, কিন্তু যাকাতের অর্থ ঐসব খাতে দেওয়া যাবে না।
⇒ ওয়াকফ অর্ডিন্যান্স প্রথম জারি করা হয় পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৬২ সালে। এটি মুসলিম ওয়াকফ বৈধকরণ আইন, ১৯১৩ এর ভিত্তিতে গড়ে উঠে।
- উল্লেখ্য, ওয়াকফ( সম্পত্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন) বিশেষ বিধান, ২০১৩ সালে নতুন করে সংশোধন করা হয়েছে।
- সে অনুযায়ী অপশনগুলোতে ২০১৩ সাল থাকলে এটি প্রাধান্য পেতো। যেহেতু অর্ডিন্যান্স এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এজন্য এটা ১৯৬২ সাল হবে।
⇒ ইসলাম ধর্মানুসারে, যাকাত ফরজ। এটি ধনীর সম্পত্তির উপর গরীবের অধিকার। সাধারণত, যদি কোনো মুসলিম ৭.৫ তোলা স্বর্ণ অথবা ৫২.৫ তোলা রূপার ( নিসাব) অথবা সমপরিমাণ অর্থের মালিক হন, একইসাথে এই সম্পত্তি তার হাতে পূর্ণ এক বছর জমা থাকে, তখন তাকে সম্পদের ২.৫% হারে নির্দিষ্ট ৮টি খাতে টাকা বন্টন করতে হয়। এটিই যাকাতের বিধান।
⇒ প্রাচীন ও মধ্যযুগে দীর্ঘ পথচলার দরুন ক্লান্ত পথিক সরাইখানায় আশ্রয় নিতো। সরকার বা রাজারা সরাইখানায় প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অসুস্থ পথিকদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন। এমনকি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা প্রহরীও রাখতেন। কিন্তু টাকা দিয়ে সাহায্যের প্রচলন ছিল না।
সোর্স :- উচ্চ মাধ্যমিক সমাজকর্ম:- শহীদুল্লাহ্।
⇒ ওয়াকফের ধরন তিনটি।
- (১) ওয়াকফ এ- খাইরি( রাস্তা নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, সেতু নির্মাণ ইত্যাদি)
- (০২) ওয়াকফে- ই - আহলি:(বংশধরদের সম্পদ দান)
- (৩) ওয়াকফ- এ- লিল্লাহ( মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান)
⇒ ব্রিটিশ শাসনামলে জেলা ও মহকুমা কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন বোর্ডগুলোর উপর ধর্মগোলা গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- ধর্মগোলা পরিচালনার ক্ষেত্রে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার অনেক সতর্ক ছিল।
- এজন্য, মূলত একজন সার্কেল অফিসারকে একাজের দায়িত্ব প্রদান করেছিলো ব্রিটিশ সরকার।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সমাজকর্ম, হুমায়ুন কবির।
⇒ প্রাচীনকালে পর্যটক ও পথিকদের সুবিধার্থে রাস্তার পাশে সরাইখানা নির্মাণ করা হতো।
- দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি দূর করতে পথিকরা এই জায়গায় আশ্রয় নিতো ও বিশ্রাম করতো।
- রাজা ও জমিদাররা বা সরকার এখানে কিছু খাবার ও চিকিৎসা সেবার সু্যোগ রাখতেন।
⇒ ইসলাম ধর্মানুসারে, ওয়াকফ হলো সম্পদের কিছু অংশ মানবকল্যানে বা ধর্মীয় কাজে দান করা।
- অন্যদিকে হিন্দু ধর্মানুসারে, দেবতা বা ঈশ্বরের নামে কোনো সম্পদ উৎসর্গ করা।
- দুটোই মানবকল্যান বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে করা হয়।
- এজন্য এই দুটি প্রত্যয় একটি আরেকটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
⇒ হযরত উমর( রাঃ) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা।
- তিনি হযরত মোহাম্মদ সা. এর মৃত্যুর পর চার খলিফার মধ্যে হযরত আবু বকর (রা.) এর স্থলাভিষিক্ত হন।
- তিনি বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।তার রাজত্বকাল হলো (৬৩৪-৬৪৪)।
সোর্স : উচ্চ মাধ্যমিক সমাজকর্ম।
⇒ ইসলাম ধর্মের বায়তুল মাল বা সরকারি কোষাগারের অর্জিত টাকার অন্যতম উৎস হলো যুদ্ধলব্ধ সম্পত্তি।
- এটাকে শত্রু সম্পত্তি বা Foe property বলে।
- উল্লেখ্য এই সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে হস্তান্তর করার পর তা জনস্বার্থে বা রাষ্ট্রীয় ব্যয়ভার বহন করতে ব্যয় করা হয়।
- এবার, যুদ্ধ বিদেশি যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধেই হতে পারে।