পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত - প্রাচীন কাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। উৎস: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
কাকে 'প্রাচ্যের হোমার' বলা হয়?
  1. ক) মহাকবি ফেরদৌসীকে
  2. খ) কবি কালিদাসকে
  3. গ) আর্যভট্টকে
  4. ঘ) অমরসিংহকে
সঠিক উত্তর:
ক) মহাকবি ফেরদৌসীকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহাকবি ফেরদৌসীকে
ব্যাখ্যা
মহাকবি ফেরদৌসী
- ফেরদৌসী ছিলেন একজন পারস্যের কবি।
- তিনি লিখেছেন 'শাহনামা'।
- তাকে 'প্রাচ্যের হোমার' হিসাবে গণ্য করা হয়।
- ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান ও বিজেতা হিসেবে সুলতান মাহমুদ ছিলেন প্রতিভাবান শাসক ও সুনিপুন সৈনিক।
- ঈশ্বরী প্রসাদ সুলতান মাহমুদের যুগকে 'কবিতার যুগ' বলে অভিহিত করেছেন।
- ঐ যুগের প্রসিদ্ধ কবি ছিলেন আবুল কাশেম ফেরদৌসী।
- প্রাচ্যের হোমার নামে খ্যাত এ কবি সুলতান মাহমুদের অনুরোধে জগদ্বিখ্যাত ‘শাহনামা' মহাকাব্য রচনা করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
তরাইনের প্রথম যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
  1. ক) পৃথ্বীরাজ চৌহান
  2. খ) মুহম্মদ ঘোরি
  3. গ) মুহাম্মদ বিন কাসিম
  4. ঘ) বখতিয়ার খলজী
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ ঘোরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ ঘোরি
ব্যাখ্যা
তরাইনের প্রথম যুদ্ধ (১১৯১ খ্রি.)
- মুহম্মদ ঘোরি ছিলেন ঘোরি রাজবংশের শাসক।
- তিনি ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে কৃতিত্ব লাভ করেছিলেন কারণ তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের বেশিরভাগ অংশ আক্রমণ করেছিলেন। 
- ১১৮৯ খ্রি. ভাতিন্দা দখল করে মুহম্মদ ঘোরি চৌহান রাজের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলে দিল্লি ও আজমীরের রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান একটি শক্তি সংঘ গঠন করেন।
- পৃথ্বীরাজের আহ্বানে অনেক রাজা সাড়া দেন।
- মুহম্মদ ঘোরী পৃথ্বীরাজের রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইন প্রান্তরে মিলিত পৃথ্বীরাজের বাহিনীর সাথে মুহম্মদ ঘোরির প্রচন্ড যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধে মুহম্মদ ঘোরির বাহিনী পরাজিত হলে তিনি নিজে আহত হন ও পলায়ন করেন।
- এটি তরাইনের প্রথম যুদ্ধ নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পারস্যের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ হয়েছিল -
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. খ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. গ) সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ
  4. ঘ) সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ
সঠিক উত্তর:
ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান।
- সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।
- একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান।
- হাফিজ দ্বিতীয় চরণটি রচনা করে কবিতাটি পূর্ণ করে পাঠান।
- তিনি সুলতানের নিকট একটি গজলও লিখে পাঠান।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন। 

উৎস: ইতিহাস, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'রক্তপাত ও কঠোর নীতি'- কার শাসনের বৈশিষ্ট্য ছিল?
  1. ক) সুলতানা রাজিয়া
  2. খ) ইব্রাহীম লোদী
  3. গ) সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন
  4. ঘ) জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর
সঠিক উত্তর:
গ) সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন
ব্যাখ্যা
- সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন সাম্রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতাবাদ, গোলযোগ ও বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলা নির্মূল করার উদ্দেশ্যে এক অভিনব ও নির্মম নীতি অবলম্বন করেন।
- সুলতান কর্তৃক গৃহীত এই নীতি ইতিহাসে ‘রক্তপাত ও কঠোরতার নীতি' (Blood and Iron Policy) নামে পরিচিত।
- সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর বিশ্বস্ত ও সুযোগ্য চল্লিশজন ক্রীতদাসকে নিয়ে বিখ্যাত ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান' বা চল্লিশ চক্র গঠন করেছিলেন।
- সুলতান বলবন এই চল্লিশ চক্রের প্রভাব হ্রাস করার জন্য কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- এমনকি সামান্য অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধানও প্রয়োগ করেন।
- আমির খান, হায়বৎখান এবং বরবকসহ বহু প্রভাবশালী অভিজাতকে তিনি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
- তিনি আপন চাচাতো ভাই ও চল্লিশ চক্রের অন্যতম সদস্য শেরখানকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন।
- সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ছিলেন স্বেচ্ছাচারী এবং আধিপত্যবাদী স্বৈরশাসক। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন পর্যটক বাংলাকে 'দোযখপুর নিয়ামত' বলে আখ্যা দেন?
  1. ক) ইবনে বতুতা
  2. খ) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. গ) বখতিয়ার খলজি
  4. ঘ) হিউয়েন সাং
সঠিক উত্তর:
ক) ইবনে বতুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা
- ইবনে বতুতার ভ্রমণকালে বাংলার সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন একজন খ্যাতিমান নরপতি। 
- ইবনে বতুতা সোনারগাঁয়ের সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ও লক্ষ্ণৌতির সুলতান আলাউদ্দিন আলী শাহের মধ্যকার তীব্র সংঘর্ষের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছেন।
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বাংলার জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন।
- তিনি বলেছেন, 'জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রাচুর্য ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেশটিকে বসবাসের জন্য খুবই আকর্ষণীয় করে তুলেছে।'
- কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং তার সঙ্গে ভ্যাপসা গরম বিশেষত গ্রীষ্মকালে নদীনালা থেকে উদ্ভূত দাবদাহ এতটাই পীড়াদায়ক ছিল যে, বিদেশিরা যে একে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত’ অর্থাৎ 'প্রাচুর্যপূর্ণ নরক' বলে অভিহিত করত। 


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলা নামের উৎপত্তির বিষয়টি কোন গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে?
  1. ক) তুযুক-ই-আকবরী
  2. খ) আকবরনামা
  3. গ) আইন-ই-আকবরী
  4. ঘ) আলমগীরনামা
সঠিক উত্তর:
গ) আইন-ই-আকবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইন-ই-আকবরী
ব্যাখ্যা
আইন-ই-আকবরী
- আইন-ই-আকবরী  মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- আকবরনামা একটি ইতিহাস গ্রন্থ।
- সুষ্ঠু প্রশাসন প্রবর্তন ও কার্যকর করার জন্য সম্রাট আকবর যে আইন ও নীতি প্রবর্তন করেন তা আইন-ই-আকবরীতে উল্লিলখিত হয়েছে।
- আকবরনামার অংশবিশেষ হলেও আইন-ই-আকবরী এককভাবেই এক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।
- আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
- এ গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া ‘আল’ নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'পানিপথ প্রান্তর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মুলতানের অদূরে
  2. খ) দিল্লির অদূরে
  3. গ) পেশোয়ারের অদূরে
  4. ঘ) তুর্কির অদুরে
সঠিক উত্তর:
খ) দিল্লির অদূরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দিল্লির অদূরে
ব্যাখ্যা
- ভারতবর্ষে বাবুরের প্রাথমিক বিজয় তাঁকে দিল্লীর সিংহাসন দখলের জন্য উৎসাহিত করে।
- সে লক্ষে তিনি দিল্লীর অদূরে ঐতিহাসিক পানিপথ প্রান্তরে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ১২ এপ্রিল দিল্লীর লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীর সাথে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হন।
- বাবুর তাঁর আজীবনী তুযুক-ই-বাবুরী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ সময়ে তাঁর সাথে বার হাজার সৈন্য ছিল।
- তাঁর জ্যৈষ্ঠপুত্র হুমায়ুনও তাঁর সাথে যোগদান করেন।
- এ যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ।
- পানিপথ প্রান্তরে বাবুর প্রতিরক্ষা কৌশল হিসেবে পরিখা খনন করেন এবং কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- এ যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী প্রাণপণ যুদ্ধ করেও পরাজিত ও নিহত হন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
লক্ষণ মাণিক্য ছিলেন -
  1. ক) রাজপুত রাজা
  2. খ) মুঘল শাসক
  3. গ) সেন শাসক
  4. ঘ) বার ভূঁইয়াদের একজন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বার ভূঁইয়াদের একজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বার ভূঁইয়াদের একজন
ব্যাখ্যা
বার ভূঁইয়া
- ‘বার ভূঁইয়া' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ বারো জন প্ৰধান বা বারো জন জমিদার হলেও মূলত বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে শাসন কার্যক্রম পরিচালনাকারী সকল স্বাধীন জমিদারগণই একত্রে ‘বার ভূঁইয়া' নামে পরিচিত ছিলেন।
- বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে সুলতানগণ কর্মের পুরস্কার এবং ইজারা দায়িত্ব হিসেবে নানা জায়গীর লাভ করে।
- পরবর্তীকালে রাজস্ব আদায়কারী এ সকল ইজারাদার ও কর্মচারীদের বংশধরগণ জমিদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- এ জমিদারগণ স্বাধীনভাবে জমিদারী কার্যক্রম পরিচালনাকালে মুঘলদের সাথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৈরি সম্পর্ক তৈরি হলেই মূলত এরা ইতিহাসের পাতায় উঁচু স্থান লাভ করে।
বার ভূঁইয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- ঈসা খান, মুসা খান।
- চাঁদ রায় ও কেদার রায়।
- বাহাদুর গাজী।
- সোনা গাজী।
- ওসমান খান।
- লক্ষণ মাণিক্য।
- পরমানন্দ রায়।
- বিনোদ রায়, মধু রায়।
- মুকুন্দরাম, সত্রজিৎ।
- রাজা কন্দর্পনারায়ণ, রামচন্দ্র।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, ওপেন স্কুল।
.
কোন মুঘল সম্রাট গৌড়ের নাম 'জান্নাতাবাদ' করেন?
  1. ক) সম্রাট হুমায়ুন
  2. খ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. গ) সম্রাট বাবর
  4. ঘ) সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
সম্রাট হুমায়ুন
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন। 
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একজন সুদক্ষ এবং নির্ভীক যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সুপরিকল্পনার বড়ই অভাব ছিল।
- তিনি অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী গুজরাটের বাহাদুর শাহের বিরুদ্ধে অযথা সময় নষ্ট করেন।
- অথচ শের শাহের শক্তিবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ উদাসীন।
- চুনার দুর্গ জয়ের পর সম্রাট হুমায়ুন দীর্ঘ সময় নষ্ট করেন।
- বাংলাকে ‘জান্নাতাবাদ' নামকরণ করে তিনি বাংলায় প্রায় ৮ মাস আরাম-আয়েশে ডুবে থাকেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, ওপেন স্কুল।
১০.
'ধোলাই খাল' কে খনন করেন?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) শেরশাহ
  3. গ) ঈশা খান
  4. ঘ) ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
ধোলাই খাল
- এটি পুরানো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক আবাসিক এলাকা।
- তৎকালীন ঢাকার প্রধান জলপথ ও নগর রক্ষা পরিখা ছিল এ ধোলাই খাল।
- নগর রক্ষার পরিখা নির্মাণ ও জলপথ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ঢাকার প্রথম সুবেদার ইসলাম খান ধোলাই খাল খনন করিয়েছিলেন।
- অতীতে ধোলাই খাল শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং ঐতিহাসিক  লালবাগ দুর্গ, আহসান মঞ্জিল ও  বড় কাটরা এবং ছোট কাটরাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এর চারপাশে গড়ে ওঠে।
- খালটি শহরকে সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগের সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে খনন করা হয়। 
- ১৮৩২ সালে মি. ওয়াল্টার নামে ঢাকার একজন কালেক্টর নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতের সুবিধার্থে খালটির উপর একক স্প্যানের একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন।
- এটি ছিল সে সময়ের প্রকৌশল সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
- ১৮৬৭ সালে খালে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর টোল আরোপ করা হয়।
- সময়ের বিবর্তনে কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্ববহ জলপথটি পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর থেকে নিক্ষিপ্ত ময়লা-আবর্জনা দিয়ে স্থানে স্থানে ভরাট হয়ে যায়।
- খালটির কিছু অংশ এখনও উন্মুক্ত স্থান হিসেবে দেখা যায়।
- কিন্তু পুরানো ঢাকায় এটিকে একটি ভূগর্ভস্থ নর্দমায় রূপান্তর করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম দুর্গ স্থাপন করেন -
  1. ফরাসীরা
  2. দিনেমাররা
  3. ওলন্দাজরা
  4. পর্তুগিজরা
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস বিখ্যাত ইতালীয় নাবিক ছিলেন।
- পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে।
- পর্তুগিজরাই প্রথম ইউরোপীয় যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজে এদেশে সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
- ভারতে প্রথম ইউরোপীয় দুর্গগুলির মধ্যে, ফোর্ট ইমানুয়েল ১৫০৩ সালে পর্তুগিজদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
- ফোর্ট কোচিতে অবস্থিত।
- এটি একসময় কোচির শাসক এবং পর্তুগালের রাজার মধ্যে জোটের প্রতীক ছিল।
- সৈকত বরাবর একটি আকর্ষণীয় কাঠামো, এটি একটি আকর্ষণীয় অনুসন্ধানের জন্য তৈরি করে।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ফোর্ট ইমানুয়েল, অবিশ্বাস্য ভারত।
১২.
ওলন্দাজরা কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) পর্তুগাল
  2. খ) হল্যান্ড
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) ডেনমার্ক
সঠিক উত্তর:
খ) হল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ওলন্দাজ
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। 
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
কত সালে ডেনিস ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়?
  1. ক) ১৬০২ সালে
  2. খ) ১৬১৬ সালে
  3. গ) ১৬২০ সালে
  4. ঘ) ১৬২৫ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১৬ সালে
ব্যাখ্যা
দিনেমার
- ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।
- ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- অবশেষে দিনেমারগণ কোনো প্রকার বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই এদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নেয়।

অন্যদিকে -
- ওলন্দাজ বণিকরা ভারতে আসে ১৬০২ সালে।
- দিনেমাররা ভারতের তাঞ্জোর জেলায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ১৬২০ সালে।
- ওলন্দাজরা প্রথম বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে ১৬২৫ সালে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে প্রথম ইংরেজ দূত কে ছিলেন?
  1. ক) প্রথম জেমস
  2. খ) উইলিয়াম কেরি
  3. গ) ক্যাপ্টেন জন
  4. ঘ) স্যার টমাস রো
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্যার টমাস রো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্যার টমাস রো
ব্যাখ্যা
সম্রাট জাহাঙ্গীর
- সম্রাট জাহাঙ্গীর সকল ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
- ফকির, দরবেশ, জ্ঞানী-গুণীদের তিনি সমাদর করতেন।
- সাহিত্য, শিল্পকলা ও চিত্রশিল্পে তাঁর যথেষ্ট অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়।
- তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী ছিল তাঁর আত্মজীবনী।
- এখানে সমসাময়িক মোগল ইতিহাসের অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে প্রথম ইংরেজ দূত ছিলেন স্যার টমাস রো।
- এসকল দূতরা ভারতবর্ষে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সম্রাটের নিকট থেকে সুবিধা আদায় করেন।
- তার সময় থেকেই ভারতে ব্রিটিশদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের সূত্রপাত ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
কলকাতা নগরীর প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. ক) লর্ড ক্লাইভ
  2. খ) লর্ড ডালহৌসি
  3. গ) লর্ড ওয়েলেসলি
  4. ঘ) জব চার্নক
সঠিক উত্তর:
ঘ) জব চার্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জব চার্নক
ব্যাখ্যা
- কলকাতা  ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।
- পরবর্তী সময়ে এটি অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের রাজধানী ছিল।
- এর অভিজাত ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের জন্য কলকাতাকে ‘প্রাসাদ নগরী’ও বলা হতো। 
- কলকাতা নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক বসতি স্থাপন করার অধিকার লাভ করা থেকে।
- জব চার্নক ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানির জন্য কলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রাম মুগল সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
- জব চার্নক কলকাতা নগরীর প্রতিষ্ঠাতা।
- সুতানটি ছিল তৎকালে ওই অঞ্চলে সুতা ও বোনা কাপড়ের একটি প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র।
- ১৬৯৩ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত চার্ণক তাঁর সময়ে খড় তালপাতার অল্প কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ ছাড়া আর কিছু করে যেতে পারেন নি।
- গভর্নর হিসেবে ফ্রান্সিস এলিস তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। এলিসের পরে আসেন চার্লস আইয়ার।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' হয়েছিল ইংরেজি -
  1. ক) ১১৭৬ সালে
  2. খ) ১৬৭৬ সালে
  3. গ) ১৭৬০ সালে
  4. ঘ) ১৭৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৭০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৭০ সালে
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন ও দুর্ভিক্ষ
- রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে।
- দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠিকে।
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল।
- ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় সীমাহীন বিশৃঙ্খলা ।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
'ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে -
  1. ক) ১৭৫৭ সালে
  2. খ) ১৭৬৪ সালে
  3. গ) ১৭৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৭৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
কোম্পানির দেওয়ানি লাভ
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লীর সম্রাটের পরাজয় ইংরেজ শক্তিকে এই ক্ষমতা লাভের সুযোগ করে দেয়।
- বক্সারের যুধের পর ক্লাইভ দ্বিতীয়বার (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
- ক্লাইভ দেশ থেকে ফিরে অযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন।
- তার বিনিময়ে আদায় করে নেন কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- এর বিনিময়ে ছাব্বিশ লক্ষ টাকা নবাব প্রতিবছর সম্রাটকে পাঠাবেন।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠাবার জামিনদার হবে কোম্পানি।
- ইতিহাসে এটি এলাহাবাদ চুক্তি নামে পরিচিত। 

অন্যদিকে-
- ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে জয়ী হয়ে 'ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা তথা ভারতবর্ষে তাদের কর্তৃত্বের ভিত্তি রচনা করেন।
- ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে বাংলা, বিহার, অযোধ্যা ও দিল্লির সম্রাটের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করলে, ইংরেজদের সেই ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।
- ১৭৭৩ সালে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের জন্য 'নিয়ামক আইন' পাশ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত'- প্রবর্তন করেন -
  1. ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. খ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  3. গ) লর্ড ওয়েলেসলি
  4. ঘ) লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত  ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির আওতায় জমিদার উপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভূ-সম্পত্তির নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হন।
- এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯.
বাংলায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তক -
  1. ক) লর্ড মিন্টো
  2. খ) লর্ড রিপন
  3. গ) লর্ড লিটন
  4. ঘ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
- বাংলায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তক লর্ড রিপন।
- ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় (১৮৮০-৮৪) ছিলেন। 
- তাঁর সর্বপ্রথম পদক্ষেপ ছিল দীর্ঘস্থায়ী অ্যাংলো-আফগান শক্রতার অবসান ঘটানো।
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে লর্ড রিপন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
- ১৮৮২ সালে তিনি সরকারিভাবে মনোনীত ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত স্থানীয় সরকারের চলমান প্রথা রহিত করেন।
- তিনি গ্রামীণ বোর্ডসমূহের জন্য সর্ব প্রথম নির্বাচন প্রথা প্রবর্তন করেছিলেন।
- বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার কাঠামো শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে।
- ব্রিটিশ আমলে ১৮৭০ সালে চৌকিদারি আইনের মাধ্যমে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার আইনি কাঠামো দেওয়া হয়।
- এরপর ভাইসরয় লর্ড রিপনের সময়ে ১৮৮৫ সালে ব্রিটিশ বেঙ্গল লোকাল সেল্ফ গর্ভমেন্ট এ্যাক্টের মাধ্যমে এ জনপদে তিনস্তর বিশিষ্ট পল্লী স্থানীয় সরকার কাঠামো প্রবর্তন করা হয়।
- এগুলো হলো- জেলা পর্যায়ের জন্য জেলা বোর্ড, থানা পর্যায়ের জন্য লোকাল বোর্ড এবং গ্রামের জন্য ইউনিয়ন কমিটি।
- এছাড়াও ভাইসরয় লর্ড রিপনের সময়েই ১৮৮৪ সালে বেঙ্গল মিউনিসিপল এ্যাক্টের মাধ্যমে নগর স্থানীয় সরকার মিউনিসিপল্ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কোনটি লর্ড কার্জন করেছিলেন?
  1. ক) সীমান্ত নীতি চালু করেন
  2. খ) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নির্মাণ
  3. গ) ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লর্ড কার্জন
- কার্জন, লর্ড (১৮৫৯-১৯২৫) ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয়।
- তাঁর পুরো নাম জর্জ নাথানিয়েল কার্জন।
- লর্ড কার্জন পর পর দু'বার ভারত সাম্রাজ্যের অধিকর্তা ছিলেন। 

সীমান্ত নীতি  
- কার্জনের গৃহীত প্রথম পদক্ষেপ ছিল চিত্রল, খাইবার ও খুর্রম উপত্যকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার।
- কারণ, এগুলি সরাসরি ব্রিটিশ শাসিত ছিল না।
- প্রয়োজনে ব্রিটিশ সাহায্য নিয়ে উক্ত অঞ্চলের উপজাতীয়রা নিজেদেরকে রক্ষা করবে- এটিই ছিল লর্ড কার্জনের নীতি।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত এ নীতির গুণেই সীমান্ত অঞ্চল শান্ত ছিল।
- এ নীতির সম্পূরক হিসেবেই উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল  
- কলকাতার বিখ্যাত গড়ের মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত স্মৃতিভবন।
- ১৯০১ সালে ৯৪ বছর বয়সে মহারানী ভিক্টোরিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে সাদা মার্বেল পাথরের এই ভবনটি নির্মিত হয়।
- লর্ড কার্জন এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন।
ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি
- ব্রিটিশ মিউজিয়াম আর অক্সফোর্ডের বোদলেইয়ান লাইব্রেরির আদলে স্থাপন করেন ‘ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১.
র‍্যাডক্লিফ সীমারেখা নির্ধারিত হয় -
  1. ক) ১৯১১ সালে
  2. খ) ১৯৩৭ সালে
  3. গ) ১৯৪০ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
র‍্যাডক্লিফ সীমারেখা 
- র‌্যাডক্লিফ লাইন হল ভারত ও পাকিস্তানের সীমারেখা।
- র‌্যাডক্লিফ লাইন ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতকে দুটি স্বাধীন দেশ ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত করে।
- র‌্যাডক্লিফ লাইনের নামকরণ করা হয়েছিল এর স্থপতি স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফের নামে।
- তিনটি ভারতীয় রাজ্য এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পাকিস্তানের সাথে একটি সীমানা ভাগ করে নেয়।
- ১৭ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন সংক্রান্ত সীমানা নির্ধারণ রেখার অন্তিম পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়৷ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।