পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes৬০ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৬১
সিলেবাস
৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড ⎯ ১] বিষয়ের নাম: বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ [৮০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৬১ প্রশ্ন

.
'আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।' বাক্যটিতে ক্রিয়ার কোন কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সাধারণ বর্তমান কালের
  2. ঘটমান বর্তমান কালের
  3. সাধারণ অতীত কালের
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। নিচের বাক্য দুটির দিকে তাকানো যাক:
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
[প্রথম বাক্যে ক্রিয়ার কাল অতীত এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ক্রিয়ার কাল বর্তমান কালের এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। দ্বিতীয় বাক্যটি কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের নমুনা।]


• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- 'যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২২ সংস্করণ)।
.
'কৃপাণ' শব্দের অর্থ কী?
  1. অঙ্গ
  2. দয়া
  3. তলোয়ার
  4. কালো
ব্যাখ্যা
• কৃপাণ/কৃপান।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অসি,
- খড়গ।

• 'অসি' এর সমার্থক শব্দ: তলোয়ার, কৃপাণ, তরবারি, অসি।

অন্যদিকে, 
• 'শ্যাম' এর সমার্থক শব্দ: কালো, শ্যামল, অসিত।
• 'অঙ্গ' এর সমার্থক শব্দ: গা, গাত্র, তনু, দেহ, কায়, অঙ্গ।
• 'দয়া' এর সমার্থক শব্দ: অনুগ্রহ, করুণা, কৃপা, অনুকম্পা, বদান্যতা, ক্ষমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'পরিশিষ্ট' এর ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. Index
  2. Annex
  3. Appended
  4. Appendix
ব্যাখ্যা
• 'Appendix' অর্থ - পরিশিষ্ট। 

অন্যদিকে, 
• 'Appended' অর্থ - সংলগ্ন। 
• 'Index' অর্থ- সূচক।  
• 'Annex' অর্থ - সংলাগ, ক্রোড়পত্র। 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ঞ্‌ + ব = ঞ্ঝ
  2. হ্ + ম = হ্ম
  3. ষ্‌ + ক = ক্ষ
  4. ক্ + ষ + ন = ক্ষ্ম
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যেমন:
- হ্ + ম = হ্ম। 

• 'হ্ম' - সহযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ: ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, ব্রহ্মপুত্র ইত্যাদি।

-----------------
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্‌ + ঝ = ঞ্ঝ, 
- ঞ + জ = ঞ্জ,
- ঞ + চ = ঞ্চ,
- ঞ + ছ = ঞ্ছ,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
.
'পক্ষি' শব্দের শুদ্ধ বহুবচনবোধক শব্দ কোনটি?
  1. পক্ষিরাজি
  2. পক্ষিকুল
  3. পক্ষিদাম
  4. পক্ষিরাশি
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
• কুল- কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
• সকল- পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব- ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ- বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

-----------------------
বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
আবলি- পুস্তকাবলি
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
.
সমাসে বিভক্তির বদলে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. কমা
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
-বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'তর্কে বিরত হও।' এখানে 'তর্কে' কোন কারক? 
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন ২ করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
- পাপে বিরত হও।

এরূপ-
- তর্কে বিরত হও। 
[বাক্যেকে 'কি হতে/থেকে বিরত হও?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তর্কে'। সুতরাং 'তর্কে' শব্দটি অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'ভ্রমরের শব্দ' এক কথায় কী বলে?
  1. গুঞ্জন
  2. গঞ্জন
  3. কুঞ্জল
  4. ভ্রমি
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রমরের শব্দ' এর এক কথায় প্রকাশ - গুঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'গঞ্জন' অর্থ - তিরস্কার, নিন্দা। 
• 'কুঞ্জল' অর্থ - পান্তাভাতের জল। 
• 'ভ্রমি' অর্থ - আবর্ত, ঘুর্ণিজাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ কোনটি?
  1. সংস্কৃত লিপি
  2. বাংলা লিপি
  3. হিন্দি লিপি
  4. তদ্ভব লিপি
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি।
- বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি – স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।

- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
  2. চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
  3. এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।
  4. এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয়- এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।

----------------------
• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. স্বরযন্ত্র
  2. কর্ণ
  3. ওষ্ঠ
  4. নাসিকা
ব্যাখ্যা
• বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয়- কর্ণ। 

------------------
• বাগ্‌যন্ত্র:
ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে। মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

বাগ্‌যন্ত্রের অংশসমূহ হলো:
১. ফুসফুস,
২. শ্বাসনালি,
৩. স্বরযন্ত্র,
৪. জিভ,
৫. আলজিভ,
৬. তালু,
৭. মূর্ধা,
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত),
৯. ওষ্ঠ,
১০. নাসিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১২.
'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কুমুদনাথ
  2. নিশাকর
  3. মৃগাঙ্ক
  4. যামিনী
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- যামিনী। 

• যামিনী (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- রাত্রি,
- রজনি

-------------
• 'চাঁদ' শব্দের সমার্থক:
সোম, চন্দ্র, চন্দ্রমা, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, শুধাংশু, হিমাংশু, বিধু, ইন্দু, সিতকর, নিশাকর, সুধাকর, নিশাকান্ত, মৃগাঙ্ক, রজনীকান্ত, কলাধর, কলানিধি, কুমুদনাথ

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩.
'অন্তরীপ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অন্তরঃ+ ঈপ
  2. অন্তঃ + রীপ
  3. অন্তঃ+ ঈপ
  4. অন্তঃ+ ইপ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গসন্ধির নিয়ম:
অন্তঃ, পুনঃ, প্রান্তঃ ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গর হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ,
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা,
- অন্তঃ + ইত = অন্তরিত,
- অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়,
- অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ,
- অন্তঃ+ ঈপ = অন্তরীপ,
- পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান,
- পুনঃ+ উক্তি = পুনরুক্তি,
- পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
'বাক্য > বাইক্য' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- সত্য > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
'অলীক' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. কৃত্রিম
  2. লৌকিক
  3. বাস্তব
  4. মিথ্যা
ব্যাখ্যা
• অলীক (বিশেষ্য পদ),
অর্থ-
- মিথ্যা,
- অসত্য।

• 'অলীক' শব্দের বিপরীত শব্দ - সত্য/বাস্তব।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ হলো-
অনুগ্রহ - নিগ্রহ,
অর্বাচীন - প্রাচীন,
প্রবীণ - নবীন,
প্রাকৃতিক - কৃত্রিম,
অধিত্যকা - উপত্যকা,
জ্ঞাত - অজ্ঞাত,
অর্থী - প্রত্যর্থী,
অনুরাগী - বিরাগী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. বৈচিত্ত্য
  2. বৈশ্বীকিকরণ
  3. বৈচিত্র
  4. বৈশিষ্ট
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- বৈচিত্ত্য।
- বিশেষ্য পদ,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- চিত্তের গতিপ্রকৃতি;
- মতিভ্রম;
- মোহ।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
বৈশ্বীকিকরণ - বৈশ্বিকীকরণ। 
বৈচিত্র - বৈচিত্র্য।
বৈশিষ্ট - বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং অভিগম্য অভিধান।
১৭.
'জগদ্দল পাথর' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. বিশিষ্ট ব্যক্তি
  2. গুরুভার
  3. বিচক্ষণ ব্যক্তি
  4. জমকালো কিন্তু বেমানান
ব্যাখ্যা
• 'জগদ্দল পাথর' বাগ্‌ধারার অর্থ- গুরুভার। 

অন্যদিকে, 
• 'কেউকেটা' অর্থ - বিশিষ্ট ব্যক্তি।
• 'ভূষণ্ডির কাক' অর্থ - দীর্ঘকালের অভিজ্ঞ ব্যক্তি/বিচক্ষণ ব্যক্তি।
• 'জবরজং' অর্থ - জমকালো কিন্তু বেমানান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
'রজক' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. রজকী
  2. রজকিনী
  3. রজকনী
  4. রজকাইন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• 'রজক' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ- রজকিনি। 

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বই অনুসারে, 
• 'রজক' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ- রজকী। 

---------------------------
ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ-
• সাধারণ অর্থে:
 নিশাচর-নিশাচরী, ভয়ংকর-ভয়ংকরী, রজক-রজকী, কিশোর-কিশোরী, সুন্দর-সুন্দরী, চতুর্দশ-চতুর্দশী, ষোড়শ-ষোড়শী ইত্যাদি।

• জাতি বা শ্রেণিবাচক:
সিংহ-সিংহী, ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী, মানব-মানবী, বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, কুমার-কুমারী, ময়ূর-ময়ূরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
'অহি-নকুল' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব:
অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন-
• অহি ও নকুল = অহি-নকুল,
• ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ,
• সাদা ও কালো= সাদাকালো,
• দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া,
• স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক,
•দেব ও দানব = দেবদানব,
• ধনী ও গরিব = ধনীগরিব ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য পদের সঙ্গে যুক্ত হয়-
  1. নির্দেশক
  2. বিভক্তি
  3. বচন
  4. বলক
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা 'টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।
• বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলো পদের রা' বা 'গুলো হলো বচনের উদাহরণ।
• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। তখনই বা 'এখনও পদের ই বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২১.
'Debt' এর শুদ্ধ পারিভাষিক কোনটি?
  1. বন্ধক
  2. জামানত
  3. ঋণ
  4. ঋণপত্র
ব্যাখ্যা
• 'Debt' শব্দের পারিভাষিক অর্থ - ধার, দেনা বা ঋণ। 

অন্যদিকে, 
• 'Mortgage' অর্থ - বন্ধক।
• 'Security' অর্থ - জামানত।
• 'Debenture' অর্থ -ঋণপত্র। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
২২.
কোনটি ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  2. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
  3. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
  4. কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
ব্যাখ্যা
• ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

অন্যদিকে, 
• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

• সাধারণ অতীত কাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস?
  1. দানবীর
  2. ভোজন পটু
  3. পকেটমার
  4. অদৃষ্টপূর্ব
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
• পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
• যাদু করে যে = যাদুকর,
• ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
• ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

--------------
• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
• গাছে পাকা = গাছপাকা,
• অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
• দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
• ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
• পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
• দানে বীর = দানবীর,
• মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
'শশক' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. হাতি
  2. সিংহ
  3. সাপ
  4. খরগোশ
ব্যাখ্যা
• শশক (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- খরগোশ। 

অন্যদিকে, 
• 'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ: গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ, পিল ইত্যাদি।

• 'সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ: কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, পারীন্দ্র, মৃগরাজ ইত্যাদি।

• 'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ: ফণী, সর্প, সাপ, আশীবিষ, নাগ, অহি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫.
কোন যুক্তবর্ণের গঠনটি অশুদ্ধ?
  1. ণ্‌ + ড = ণ্ড
  2. ত্‌ + ত্‌ + উ = ক্ত
  3. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  4. ষ্‌ + ণ = ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ- ত্‌ + ত্‌ + উ = ক্ত। 

• শুদ্ধরূপ- ক্‌ + ত = ক্ত। 

এরূপ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- ণ্ড = (ণ্‌ + ড), 
- গু = (গ্‌ + উ),
- গ্ধ = (গ্‌ + ধ),
- জ্ঞ = (জ্‌ + ঞ),
- ঞ্জ = (ঞ্‌ + জ),
- ষ্ণ = (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
২৬.
'ফুল হতে জাত' এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. স্ফুলিঙ্গ
  2. পুষ্পাভরণ
  3. ফুলেল
  4. ফুসকুড়ি
ব্যাখ্যা
• 'ফুল হতে জাত' এর এক কথায় প্রকাশ- ফুলেল।

অন্যদিকে, 
• 'ফুলের মতো অগ্নিকণা' - স্ফুলিঙ্গ।
• 'ফুল দিয়ে তৈরি গয়না' - পুষ্পাভরণ।
• 'ক্ষুদ্র ফোঁড়া' - ফুসকুড়ি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭.
উক্তি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত কোন পদের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়?
  1. বিশেষ্য পদের
  2. বিশেষণ পদের
  3. সর্বনাম পদের
  4. অব্যয় পদের
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

২. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

৩. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

৪. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৮.
কোনটি ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ?
  1. ত্রি
  2. নবম
  3. তেসরা
  4. পহেলা
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
------------------------------ 

• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
যেমন:
১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চৌদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।

ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ: 'দ্বি', 'দু', 'দো'।
'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ: 'ত্রি', 'তে'।

------------
পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যেমন:
• সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ...নবম ইত্যাদি।
• তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২৯.
অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. কবাট > কপাট
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিস্ > দিশা;
- পোখত্ > পোক্ত;
- বেঞ্চ > বেঞ্চি;
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
'অনভিজ্ঞ' অর্থে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. আটাশে ছেলে
  2. ছা-পোষা
  3. কেবলা হাকিম
  4. ডাকাবুকো
ব্যাখ্যা
• 'কেবলা হাকিম' বাগধারাটির অর্থ - অনভিজ্ঞ।

অন্যদিকে, 
• 'আটাশে ছেলে' অর্থ - দুর্বল ছেলে।
• 'ছা-পোষা' অর্থ - পোষ্য-ভারাক্রান্ত।
• 'ডাকাবুকো' অর্থ - নির্ভীক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১.
'মূর্ধন্য-ণ' ব্যবহৃত হয় কোন শব্দের বানানে?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. দেশি
  4. তদ্ভব
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।

- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ৩ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. প্রৌঢ়
  2. গবেষণা
  3. শুদ্ধোদন
  4. মার্তণ্ড
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ নয়- গবেষণা। 
 
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
স্বরবর্ণ পরে থাকলে এ-কাজের স্থানে অয়, ঐ কারের স্থানে আয়, ও-কারের স্থানে অব এবং ঔ-কারের স্থানে আব হয়।
যেমন:
- পৌ + অক = পাবক;
- গো + এষণা = গবেষণা। 

--------------
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন :
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়);
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়);
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়);
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড;
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৩.
'চালতা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তৎসম
  2. ফারসি
  3. দেশি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'চালতা' দেশি শব্দ।
অর্থ: পত্রমোচী বৃক্ষ বা তার ভেষজগুণসম্পন্ন সবুজ গোলাকার ফল।

• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।

• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪.
কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উড়ন্ত
  2. চোরাই
  3. ঝলক
  4. মিশাল
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ- চোর + আই = চোরাই।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়য়োগে গঠিত শব্দ:

• আ-কারান্ত প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতুর পরে 'আন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'আনো' হয়।
যেমন:
√জানা + আন = জানানো।
এরূপ- শোনানো, ভাসানো ইত্যাদি।

• আও-প্রত্যয়: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে 'আও' প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন:
√পাকড় + আও = পাকড়াও;
√চড্ + আও = চড়াও।

• 'অনি' (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√বাঁধ + অনি = ব্যাঁধনি;
√চির + অনি = চিরনি।

• 'অন্ত' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
√ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

• 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
√মুড় + অক = মোড়ক;
√ঝিল্ + অক = ঝলক

• আল-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
√মাত্ + আল = মাতাল;
√মিশ্ + আল = মিশাল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৫.
'শৈবলিনী' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পদ্ম
  2. নদী
  3. বৃক্ষ
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা
• শৈবলিনী (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নদী।

----------------
• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- নদ,
- নদনদী,
- গাঙ,
- স্রোতস্বিনী,
- তটিনী,
- স্রোতস্বতী,
- শৈবলিনী,
- সরিৎ,
- প্রবাহিণী,
- নির্ঝরণী,
- তরঙ্গিণী
- মন্দাকিনী
- কল্লোলিনী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৬.
তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনাদার
  2. ইতিহাস
  3. ভরপুর
  4. নির্বাসন
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• 'নির' উপসর্গের ব্যবহার:
- অভাব অর্থে - নিরব, নির্জীব, নিরহঙ্কার, নিরাশ্রয়, নির্ধন। 
- নিশ্চয় অর্থে - নির্ধারণ, নির্ণয়, নির্ভর।
- বাহির/বহির্মুখিতা অর্থে - নির্গত, নিঃসরণ, নির্বাসন।

অন্যদিকে, 
অনাদার, ইতিহাস ও ভরপুর  বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ। 

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৩৭.
'চুপি চুপি' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• চুপিচাপি। 
- ক্রিয়া বিশেষণ পদ।
- এটি বাংলা শব্দ। 
অর্থ:
- অন্যের অগোচরে।

------------------
• ক্রিয়াবিশেষণ:

যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
• বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৮.
'Knowledge' শব্দের শুদ্ধ পারিভাষিক কোনটি?
  1. বুদ্ধিবাদ
  2. জ্ঞান
  3. মেধা
  4. বুদ্ধি
ব্যাখ্যা
• 'Knowledge' অর্থ - জ্ঞান, জ্ঞাত বা জ্ঞাতব্য বিষয়। 

অন্যদিকে, 
• 'Intellect' অর্থ - মেধা। 
• Intellectualism - বুদ্ধিবাদ।
• ntelligence - বুদ্ধিI

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান এবং প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩৯.
'আলপিন, চাবি' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. হিন্দি
  2. ওলন্দাজ
  3. ফারসি
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ ভাষা  থেকে আগত শব্দ :
- আনারস,
- আলপিন,
- আলমারি,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- পাউরুটি,
- পাদ্রি,
- বালতি ইত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪০.
'ফিবছর' শব্দের শুদ্ধ ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. প্রতি বছর
  2. বছরের পর বছর
  3. বছর বছর
  4. আগের বছর
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।

অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন:
• জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত।
• মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
• রোজ রোজ = হররোজ।
• বছর বছর = ফিবছর।
• ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
'আত্মাকে অধিকার করে' এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. আধ্যান
  2. অধ্যাত্ম
  3. আধ্যাত্মিক
  4. আরাধ্য
ব্যাখ্যা
• 'আত্মাকে অধিকার করে' এর এক কথায় প্রকাশ - অধ্যাত্ম।

অন্যদিকে,
• 'আধ্যান' অর্থ - স্মরণ, ধ্যান, চিন্তন। 
• আত্মা থেকে জাত - আধ্যাত্মিক। 
• 'আরাধনার যোগ্য যিনি' - আরাধ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪২.
'তাঁর পথে পথে বিপদ'- এখানে 'পথে পথে' কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. বিভক্তিহীন দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• 'তাঁর পথে পথে বিপদ'- এখানে 'পথে পথে' বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।  

------------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:

- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৩.
'গোঁয়ার গোবিন্দ' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. অকর্মণ্য লোক
  2. শ্রমবিমুখ
  3. ব্যক্তিত্বহীন
  4. কাণ্ডজ্ঞানহীন
ব্যাখ্যা
• 'গোঁয়ার গোবিন্দ' অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন। 

অন্যদিকে,
• 'কুমড়ো কাটা বটঠাকুর' বান্ধারাটির অর্থ - অকর্মণ্য লোক।
• 'ননীর পুতুল' অর্থ - শ্রমবিমুখ।
• 'উনপাঁজুরে' অর্থ - দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪.
'মিথ্যারে করো না উপাসনা।' বাক্যে 'মিথ্যারে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।

- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে-'কে' বিভক্তি হয়।

উল্লেখ্য,
• ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্মকারক।
যেমন:
- মিথ্যারে করো না উপাসনা।
- পাহাড় নড়ায় সাধ্য কার?

এরূপ-
- 'মিথ্যারে করো না উপাসনা।'
[বাক্যকে 'কী/কাকে উপাসনা করো না?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মিথ্যারে'। সুতরাং, 'মিথ্যারে' কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্য।
  2. অপব্যায় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  3. অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
  4. অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: অপব্যায় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
• শুদ্ধ বাক্য: অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্য।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬.
'Indigenous' এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. বিদেশী
  2. উপজাতি
  3. স্বদেশী
  4. অভিবাসী
ব্যাখ্যা
• 'Indigenous' এর পারিভাষিক শব্দ- স্বদেশী। 

অন্যদিকে, 
• 'Foreign; Alien; Exotic' অর্থ - বিদেশী। 
• Tribe' অর্থ - উপজাতি।
• 'Immigrant / Migrant' অর্থ - অভিবাসী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান এবং প্রশাসনিক পরিভাষা।
৪৭.
উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. লা
  2. কম
  3. টুকু
  4. অপি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ নয়- টুকু। 
- 'টুকু' পদাশ্রিত নির্দেশকের উদাহরণ।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে দুটো ভাত, প্রভৃতি।

---------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮.
'ধৃষ্ট' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. জড়
  2. নীরব
  3. নম্র
  4. শ্লথ
ব্যাখ্যা
• 'ধৃষ্ট' এর বিপরীতার্থক শব্দ - নম্র।

অন্যদিকে, 
• সরব - নীরব। 
• ত্বরিত - শ্লথ।
• জড় - চেতন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৯.
'খোশখবর' কোন কোন ভাষার সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ফারসি + আরবি
  2. তৎসম + দেশি
  3. ফারসি + তৎসম
  4. আরবি + তৎসম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- 'খোশখবর' হচ্ছে 'ফারসি + আরবি' ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।

• 'খোশখবর' শব্দের অর্থ:
- সুসংবাদ।

• কয়েকটি 'ইংরেজি + ফারসি' ভাষার শব্দ:
- হেডমৌলভি, ডাক্তারখানা, ডাক্তারবাবু, সিলমোহর, জেলখানা।

• কয়েকটি 'আরবি + ফারসি' ভাষার শব্দ: 
- আদমশুমারি, ওকালতনামা, কেতাদুরস্ত, বরকন্দাজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫০.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সর্ব + উর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব
  2. সরোঃ + বর= সরোবর
  3. অহম্ + কার = অহংকার
  4. তৎ + হিত = তদ্ধিত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: অহম্ + কার = অহংকার।

অশুদ্ধ সন্ধিগুলোর সুদ্ধরূপ হলো-
- সর্ব + ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব।
- সরঃ + বর= সরোবর।
- তদ্‌ + হিত = তদ্ধিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫১.
'অপ্রয়োজনীয়' অর্থ প্রকাশ করে কোন বাগ্‌ধারাটি?
  1. ঢাকের বাঁয়া
  2. ঢাকের কাঠি
  3. নারদের ঢেঁকি
  4. ঢেঁকি অবতার
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকের বাঁয়া' অর্থ - অপ্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে, 
• 'ঢাকের কাঠি' অর্থ - মোসাহেব বা তোষামুদে। 
• 'নারদের ঢেঁকি' অর্থ - বিবাদের বিষয়।
• 'ঢেঁকি অবতার' অর্থ - নির্বোধ লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫২.
তারিখ পূরণবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পয়লা
  2. চৌঠা
  3. সাতই
  4. তেহাই
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ নয়- তেহাই। 

• তারিখ পূরণবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই, সাতই, আটই  ইত্যাদি।

[তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।]

অন্যদিকে,
---------------------
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ:
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন:
আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৫৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. দর্পণ
  2. ত্বরিৎ
  3. দুর্বিষহ
  4. ত্বরান্বিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ- ত্বরিৎ।

• শুদ্ধরূপ: ত্বরিত।
- বিশেষণ পদ,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- দ্রুত,
- ক্ষিপ্র,
- শীঘ্র,
- ত্বরান্বিত।

• দর্পণ, দুর্বিষহ ও ত্বরান্বিত শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং অভিগম্য অভিধান।
৫৪.
'এবার মা খেতে ডেকেছেন।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমান:
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫৫.
'বিভক্তি' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• রূপতত্ত্ব:
এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থপূর্ণ একককে বলা হয় রূপমূল (morpheme)। রূপমূল গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব (Morphology) বলা হয়।

ব্যাকরণের এ অংশে শব্দ ও পদের ব্যুৎপত্তি-গঠন, বচন, লিঙ্গ, উপসর্গ, প্রত্যয়, বিভক্তি, সমাস, ধাতুরূপ, ক্রিয়ার কাল (সময়) ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
'যা বলার যোগ্য নয়' এক কথায় বলে- 
  1. অনুচ্চার্য
  2. দুরুচ্চার্য
  3. অকথ্য
  4. অবাচ্য
ব্যাখ্যা
• 'যা বলার যোগ্য নয়' এক কথায় প্রকাশ - অকথ্য।

অন্যদিকে:
- 'যা উচ্চারণ করা যায় না' - অনুচ্চার্য।
- 'বলা অনুচিত এমন' – অবাচ্য।
- 'যা উচ্চারণ করা কঠিন' - দুরুচ্চার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭.
'খানসামা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঝি
  2. আয়া
  3. বাঁদী
  4. খানম
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়। যেমন:
খানসামা - আয়া।
গোলাম - বাঁদী।
চাকর - ঝি।

অন্যদিকে, 
--------------
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
খান - খানম,
মরদ - জেনানা,
মালেক - মালেকা,
মুহতারিম - মুহতারিমা,
সুলতান - সুলতানা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮.
বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. উদ্ধৃতি
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. বন্ধনী
ব্যাখ্যা
• 'কোলন' যতিচিহ্ন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে।যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
• কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭:২০।
• নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
• গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯.
'Patois' শব্দের বাংলা অর্থ কী?
  1. আঞ্চলিক ভাষা
  2. দোভাষী
  3. সাধু ভাষা
  4. চলিত ভাষা
ব্যাখ্যা
• 'Patois' শব্দের অর্থ - আঞ্চলিক ভাষা।

অর্থ, 
• 'Interpreter' - দোভাষী।
• 'Elegant or chaste language' - সাধুভাষা। 
• 'Colloquial language' - চলিত ভাষা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড) এবং প্রশাসনিক পরিভাষা; অভিগম্য অভিধান।
৬০.
ভগ্নাংশবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. চৌথাই
  2. তেসরা
  3. ছয়ই
  4. দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
• ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ:
পূর্ণসংখ্যার অংশবাচক শব্দকে ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ বলে। পূর্ণসংখ্যার অংশ বোঝাতে বাংলায় নিম্নলিখিত শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়।
যথা-
চার ভাগের এক ভাগ = চৌথাই, সিকি, পোয়া।
তিন ভাগের এক ভাগ = তেহাই।
দুই ভাগের এক ভাগ = অর্ধ, আধা, আধ, অর্ধেক, আধেক।

অন্যদিকে,
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ- তেসরা, ছয়ই।
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ- দ্বিতীয়া।

 উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
৬১.
'যার হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে' এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. হৃদয়ঙ্গম
  2. বিদীর্ণহৃদয়
  3. হৃদয়বিদারক
  4. হৃদয়বেদনা 
ব্যাখ্যা
•  'যার হৃদয় বিদীর্ণ হয়েছে' এক কথায় বলে - বিদীর্ণহৃদয়।

অন্যদিকে, 
• 'যা হৃদয়ে গমন করে' অর্থ - হৃদয়ঙ্গম।
• 'যা হৃদয় বিদীর্ণ করে' অর্থ - হৃদয়বিদারক।
• 'মনের কষ্ট' অর্থ - হৃদয়বেদনা।  

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।