পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪৬: আইন বিষয়াবলী - ১৮ Subject: Muslim Law Topic: Sources and Schools of Muslim Law, Marriage, Dissolution of Marriage, Dower, Maintenance, Gift, Wakf, Will, Shufaa, Guardianship of Person and Property etc.
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
মুসলিম আইনের ২য় প্রধান উৎস কোনটি?
  1. হাদিস
  2. ইজমা
  3. কোরআন
  4. কিয়াস
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

কোরআন-
ইসলামী শরিয়তের ভিত্তি চারটি প্রধান উৎসের উপর স্থাপিত, যার মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ উৎস হলো কোরআনুল কারিম। এটি মুসলিমদের জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা এবং ইসলামী আইনের মূল ভিত্তি। কোরআনের প্রতিটি বাণী চূড়ান্ত, অকাট্য এবং প্রশ্নাতীত। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

আইনের দ্বিতীয় উৎস হাদিস:
হাদিস অর্থ কথা বা বাণী। ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় মানদণ্ড সুন্নাহ বা হাদিস। কারণ কোরআন  হলো মূল, আর সুন্নাহ বা হাদিসের ব্যাখ্যা। পবিত্র কোরআনে সব বিষয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রয়েছে, আর সুন্নাহ বা হাদিসে রয়েছে ওইসব বিষয়ের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। শরিয়তের পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ নিঃসৃত বাণী, রাসুল হিসাবে তাঁর সম্পাদিত কাজ এবং সাহাবায়ে কেরামের শরিয়ত সম্পর্কিত এমন সব কথা ও কাজÑ রাসুলুল্লাহ (সা.) যার প্রতিবাদ করেননি বা নীরব থেকে এর প্রতি মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাই হাদিস। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ‌ তায়ালা শরিয়তের সব আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান বর্ণনা করেছেন। এতে শরিয়তের আহকাম, মূলনীতি ও নির্দেশাবলী অতি সংক্ষেপে বিবৃত হয়েছে।

আর এ সংক্ষিপ্ত নির্দেশগুলোকে কার্যকরী করার জন্য হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতেন। যেমন, পবিত্র কোরআনে সালাত কায়েম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে, প্রতি ওয়াক্তে কত রাকাত পড়তে হবে এবং কীভাবে পড়তে হবে এর বিস্তারিত বর্ণনা কোরআনে নেই। তেমনিভাবে রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদির নিয়মকানুনের বিস্তারিত বর্ণনা কোরআনে নেই। আল্লাহ‌র হুকুম অনুসারে রাসুলুল্লাহ (সা.) এগুলোর যেসব নিয়মকানুন বর্ণনা করেছেন তাই হাদিস হিসেবে গণ্য।

ইজমা:
ইসলামের আইনে তৃতীয় উৎস ইজমা। কোনো বিশেষ যুগে কোনো বিশেষ প্রশ্নে মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্যকে আইনের পরিভাষায় ইজমা বলে। এর দুটি তাৎপর্য রয়েছে। 
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর পর মুসলিম রাষ্ট্রের বিস্তৃতির ফলে নবোদ্ভূত অনেক সমস্যা দেখা যায়, যা কোরআন-হাদিস নিয়ে সমাধা হয় না। ফলে মুসলিম সমাজ কোরআন হাদিসের শিক্ষার ভিত্তিতে স্বাধীন চিন্তায় ইজমার প্রয়োজন অনুভব করে। ইজমা তিনটি উপায়ে নির্ধারিত হয়—কথা, কাজ ও নীরবতায়।

কিয়াস: 
কিয়াস ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস। চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হলো কিয়াস। যে প্রশ্নে কোরআন-হাদিস নিশ্চুপ এবং ইজমাতেও সমাধান নেই, সেই প্রশ্নের সমাধানকল্পে সব সুন্নি মাজহাব যে উৎসের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তাকে কিয়াস বলা হয়।
.
'ইসতিহসান' কী নির্দেশ করে?
  1. সর্বাধিক কঠিন সমাধান গ্রহণ করা
  2. পূর্ববর্তী সমাধান প্রত্যাখ্যান করা
  3. সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সমাধান গ্রহণ করা
  4. ব্যক্তিগত মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া
ব্যাখ্যা
ইসতিহসান:
'ইসতিহসান' অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন। কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

যে নীতির বলে আইনবিদগণ তাদের ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারেন, সে নীতিকেই হানাফীগণ ইসতিহসান বলে। তাদের মতে কিয়াসভিত্তিক আইন অভ্রান্ত নয়। এমনকি ইজমাকেও অভ্রান্ত বলা যায় না। প্রয়োজনবোধে ঐগুলোর পরিবর্তে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করাই ইসতিহসানের মূল মর্ম। হানাফীগণ বলেন যে, ইসতিহসানও এক প্রকার কিয়াস, তবে কিয়াস অপেক্ষা ইসতিহসানের এখতিয়ার ব্যাপক।
.
মুসলিম আইনে বিবাহ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih)
২) বাতিল (Void or Batil )
৩)  অনিয়মিত (Irregular or fasid)

বৈধ (Valid or Sahih)-
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্যকোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেনা। একটি বৈধ বিবাহ কোন মুসলিম নারীকে দেনমোহরের অধিকার, ভরণপোষণের অধিকার প্রদান করে এবং একই সাথে স্বামীর প্রতি বিশ্বাসী থাকার, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে এবং ইদ্দত পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এটা উত্তরাধিকারের পারস্পরিক অধিকার সৃষ্টি করে।

বাতিল (Void or Batil)-
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ। যেমন Blood relationship, Consanguinity or affinity এর কারণে নিষিদ্ধ বিবাহ হলো বাতিল বিবাহ। বাতিল বিবাহের ক্ষেত্রে কারণগুলো স্থায়ী প্রকৃতির এবং এমন কারণ অপসারিত করে বিবাহ বৈধ করার কোন সুযোগ নেই।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid)-
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।
.
‘ইজমা’ শব্দের অর্থ কী?
  1. মতভেদ
  2. যুক্তি প্রদান
  3. চুক্তি ভঙ্গ
  4. ঐকমত্যে পৌঁছা
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

⇒ অন্যান্য উৎসগুলো হলো-
ক. ইসতিহসান [Istihsan];
খ. ইসতিসলাহ [Istislah];
গ. ইসতিদলাল;
ঘ. ইজতিহাদ;
ঙ. তকলিদ।

ইজমা:
‘ইজমা’ আরবি শব্দ। এর অর্থ ঐকমত্যে পৌঁছা। কোরআন হাদিসের মৌলিক বিষয়কে সামনে রেখে নতুন কোনো বিষয়ের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছার নাম ইজমা। সুতরাং রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মুসলিম সমাজে শরিয়াহর কোনো বিধান সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে মুজতাহিদদের মধ্যে সম্পাদিত সর্বসম্মত চুক্তির নাম ইজমা। উদাহরণস্বরূপ ‘নবী করিম (সা.) আমল অনুসরণে স্থিরীকৃত ইজমার ভিত্তিতে বাই আল-মুজাইয়াদাহ বৈধ বলে স্বীকৃত। বাই আল-মুজাইয়াদাহ হলো পণ্যের বিক্রেতা কর্তৃক ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ, যা ক্রেতা প্রতিযোগিতামূলক সর্বোচ্চ মূল্যে ক্রয় করবে। যে ক্রেতা সর্বোচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে রাজি হয়, বিক্রেতা তার কাছে পণ্য হস্তান্তরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।’
.
মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার মতবাদ কোনটি?
  1. মালিকি
  2. হানাফি
  3. শাফেয়ি
  4. হাম্বলি
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনের চার প্রধান মতবাদ (Schools of Islamic Law):
মুসলিম আইনকে চারটি প্রধান সুন্নি মতবাদে বিভক্ত করা হয়েছে। এই মতবাদগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এবং প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ইমামের অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

হানাফি মতবাদ (Hanafi School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু হানিফা (৭০২–৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি ইজতিহাদ (ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ) এবং রায় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
- হানাফি মতবাদ মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার ও সহনশীল।
- স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

মালিকি মতবাদ (Maliki School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৭১১–৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কুরআন ও হাদিস প্রধান উৎস, তবে মদিনার ঐতিহ্য এবং ইজমাও বিবেচ্য।

শাফেয়ি মতবাদ (Shafi'i School)
- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (৭৬৭–৮২০ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসকে প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- ইজমা (মুসলিম সমাজের ঐক্যমত) এবং কিয়াস (যুক্তিগত বিশ্লেষণ) ব্যবহারের উপর জোর দেয়।

হাম্বলি মতবাদ (Hanbali School)

- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (৭৮০–৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- এটি সবচেয়ে রক্ষণশীল সুন্নি মতবাদ।
- কুরআন ও হাদিস ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে খুব কম গ্রহণ করে।
.
কোন ধরনের বিয়ে মুসলিম আইনে বৈধ নয়?
  1. স্থায়ী বিয়ে
  2. সাক্ষীসহ বিয়ে
  3. অস্থায়ী বিয়ে
  4. নাবালক বিয়ে
ব্যাখ্যা
মুতা বিয়ে (Mut'a Marriage):
মুতা বিয়ে হলো একটি অস্থায়ী বিবাহের চুক্তি, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পন্ন হয় এবং চুক্তি শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এটি শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈধ বিবাহের একটি ধরন, তবে সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ে এটি বৈধ নয়।

মুতা বিয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
মুতা বিয়ে একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। সময় শেষ হলে এই বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। মুতা বিয়েতে দেনমোহর বা মেহের নির্ধারণ করা এবং তা প্রদান করা আবশ্যক। মুতা বিয়েতে স্ত্রী বা সন্তানরা সাধারণত স্বামীর উত্তরাধিকার দাবি করতে পারে না। এই বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না। এই বিবাহে তালাকের বিধান নেই, সময়সীমা শেষ হলেই বিবাহের সমাপ্তি ঘটে।
.
তালাক-ই-হাসানের ক্ষেত্রে মোট কয় বার 'তালাক' উচ্চারণ করতে হয়?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক):
তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] দুই প্রকার হতে পারে;

ক. তালাক আহসান [Ahsan] (সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক)
খ. তালাক হাসান [Hasan] (অনুমোদিত তালাক)

- তালাক-ই-আহসান (Ahsan): স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক।

- তালাক-ই-হাসান (Hasan): স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।
.
Which one is chronologically correct in case of making demand for 'right to pre-emption'?
  1. talab-i-tamlik>talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat
  2. talab-i-mwasibat > talab-i- ishhad> talab-i- tamlik
  3. talab-i-mwasibat> talab-i-tamlik> talab-i-ishhad
  4. talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat> talab-i- tamlik
ব্যাখ্যা
শুফা:
কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি শরীক বা প্রতিবেশী হওয়ার কারনে উক্ত সম্পত্তি সর্বাগ্রে ক্রয়ের অধিকারী হয় কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কারো নিকট বিক্রয় করিলে উক্ত শরীক বা প্রতিবেশী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করিয়া উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করিতে পারেন। মুসিলম আইনে উক্তরূপ ক্রয় অধিকার কে হক শুফা বা শুফার অধিকার বলে।

মুসলিম আইনে নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ-শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির মাধ্যমে পথ ব্যবহার বা পানি নিষ্কাশনের অধিকারী ব্যক্তি।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করিলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারিবেন।শুফার অধিকার শুধুমাত্র বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে দাবি করা যায়, অন্য কোন ভাবে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাবি করা যায় না এবং খরিদ্দার যদি অমুসলিম হয় সেক্ষেত্রেওশুফার অধিকার দাবি করা যায় না।

• অগ্রক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা। যদি এই সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে পালন করা না হয়, তবে কোন ব্যক্তিই অগ্রক্রয়ের অধিকারী নয়। এই সকল আনুষ্ঠানিকতাগুলো হচ্ছে-

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।
.
'Marriage among Muhammadans is not a sacrament, but purely a civil contract'- was said in which of the following leading cases?
  1. Abdul Kadir v. Salima
  2. Abdus Salam v. Mst. Razia Begum
  3. Anwar Hossain v. Momtaz Begum
  4. Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum
ব্যাখ্যা
Abdul Kadir v. Salima:
এই মামলাটি একটি মুসলিম দম্পতির মধ্যে ঘটে, যেখানে স্বামী তার স্ত্রীর কাছ থেকে বৈবাহিক অধিকার ফিরে পেতে আদালতে আবেদন করেন। তিন মাস একসাথে থাকার পর স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান এবং স্বামীকে ফিরে আসতে দিতে অস্বীকার করেন। স্বামী অনেকবার স্ত্রীর বাবার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। তাই তিনি আদালতে Restitution of Conjugal Rights (বৈবাহিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা) মামলা দায়ের করেন।

স্ত্রী আদালতে ডিভোর্সের মামলা এবং মোহর প্রদান না করার অভিযোগ করেন। আদালত প্রথম দুটি অভিযোগ খারিজ করে দিলেও মোহর নিয়ে গুরুত্ব দেয়। এরপর স্বামী আদালতে মোহরের টাকা পরিশোধ করেন এবং আদালত শর্ত সাপেক্ষে রায় দেয়, যার মধ্যে বলা হয় মোহর পরিশোধের পরই বৈবাহিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

উভয় পক্ষই এই রায় নিয়ে আপিল করলেও, আপিল কোর্ট বলে যে, স্বামী Restitution of Conjugal Rights মামলা দাওয়ার পরিশোধ না করেই দাখিল করেছেন, তাই তিনি আইনগত সেবা পাওয়ার অধিকারী নন। পরে এই বিষয়টি আল্লাহাবাদ হাই কোর্ট এ পাঠানো হয়।

এলাহাবাদ হাই পর্যবেক্ষণ করে যে, মুসলিম বিবাহ একটি আইনি চুক্তি, যা কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়। কোর্ট মুনশী বজলুর রহীম বনাম শামসুন-নিসা বেগম (১৮৬৭) মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ না হলে, তিনি স্বামীর সাথে বসবাস করতে বা যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। তবে, যদি একত্রে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং সেসময় পরিপূর্ণ সম্মতি থাকে, তাহলে শর্তসাপেক্ষে Restitution of Conjugal Rights মামলার রায় কার্যকর হতে পারে, যেটি মোহরের দ্রুত পরিশোধের ওপর নির্ভরশীল।
১০.
নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবককে কী বলা হয়?
  1. কাসিম
  2. ওয়ালি
  3. মুফতী
  4. মুতাওয়াল্লি
ব্যাখ্যা
নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবক (Guardian of a Minor)
ইসলামী শরিয়তে, নাবালক (অর্থাৎ, যে শিশু বা কিশোর আইনগতভাবে পূর্ণবয়সে পৌঁছায়নি) তার নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয় এবং তার ব্যক্তিগত এবং সম্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করতে অভিভাবক প্রয়োজন। এই অভিভাবককে "ওয়ালি" বলা হয়।

ওয়ালি (Guardian) - এর ভূমিকা:
ওয়ালি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নাবালকের বা অনাবালকের শারীরিক, মানসিক ও আইনি স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল। ওয়ালি সেই ব্যক্তি, যিনি নাবালক বা মেয়ে বা ছেলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার পক্ষ থেকে আইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারণত, ওয়ালি হিসেবে প্রথমে বাবা বা পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিয়োগ পায়, যদি না তারা জীবিত না থাকেন। এরপর তার পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে একজন পুরুষ বা মহিলাকে নিয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে নাবালক বা নাবালিকার স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

ওয়ালি হওয়ার শর্ত:
বয়স ও পরিপক্কতা: ওয়ালি হতে হলে অভিভাবকের অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতা: অভিভাবককে সৎ, যোগ্য এবং আইনের প্রতি আনুগত্যশীল হতে হবে।
পরিবারের অভিভাবক: প্রাথমিকভাবে, নাবালকের বাবা বা তার পরিবারের পুরুষ সদস্য ওয়ালি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, যদি বাবা না থাকেন, তাহলে মায়ের পক্ষ থেকেও অভিভাবক মনোনীত হতে পারেন।

অন্যদিকে,
- কাসিম শব্দের অর্থ হল "ভাগকারী" বা "বিভাগকারী"। ইসলামী আইন বা শরিয়তে এটি সাধারণত "বিতরণকারী" বা "বংশের ভাগ" বুঝানোর জন্য ব্যবহার হয়
- মুতাওয়াল্লি হলো একজন ব্যক্তি, যিনি ইসলামী দান বা ওয়াকফ (Waqf) সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন।
- মুফতী হলো একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, যিনি ইসলামী আইন বা শরিয়তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন এবং মুসলিমদের জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। 
১১.
"ইসতিদলাল" এর মাধ্যমে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়?
  1. কিয়াসের মাধ্যমে
  2. কোরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে
  3. জনকল্যাণের ভিত্তিতে
  4. যুক্তি-তর্কের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনের উৎস:
ইসলাম পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। শরিয়ত (আইন বা বিধান), তরিকত (পদ্ধতি বা নিয়ম), মারেফত (জানা বা আলো) ও হাকিকত (সত্য বা বাস্তব) হচ্ছে ইসলামি জীবনবিধানের এক একটি বিশেষ পদ্ধতি। ইসলামি আইনের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ মোতাবেক মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।

আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।
১২.
In case of Gift, if the donee dies before acceptance, then the gift is:
  1. Valid
  2. Void
  3. Reduced
  4. Court has to decide
ব্যাখ্যা
• দান বা হেবা:
আইনের সরল ভাষায়, এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির কাছে স্বেচ্ছায় এবং বিনা প্রতিদানে কতিপয় বিদ্যমান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরকে দান বলে। মুসলিম আইনে একে 'হেবা' বলা হয়।

কোনো হেবা আইনানুগ হতে হলে অবশ্যই সেখানে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলো হলো-
(১) দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা বা প্রস্তাব (Offer);
(২) দানগ্রহীতা কর্তৃক উহা গ্রহণ (Acceptance);
(৩) দাতা কর্তৃক দানগ্রহীতাকে দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে। এই শর্তগুলো যদি পালন করা হয়, তাহলে হেবাটি আইনানুগভাবে সিদ্ধ হবে ।

হেবা করার যোগ্যতা-
নাবালক নয় এমন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।
 
কে হেবা গ্রহণ করতে পারে-
একজন মুসলিম তার সমগ্র ভূ-সম্পত্তি যেকোনো ব্যক্তি, হোক সে অমুসলিম বরাবর দান করতে পারেন। অর্থাৎ গ্রহীতার ক্ষেত্রে সাবালক, নাবালক, পুত্র, অপুত্র, স্বামী কিংবা স্ত্রী, ধনী-নির্ধন বালাই নেই, যে কাউকে দান করা যায় এবং তিনি বা তারা নির্বিবাদে দান গ্রহণ করতে পারেন। যদি হেবা গ্রহণের পূর্বে গ্রহীতা (Donee) মৃত্যুবরণ করেন, তবে হেবা গ্রহণের শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে গিফট কার্যকর হয় না এবং সেটি বাতিল (Void) হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৩.
স্ত্রী কখন তালাক-ই-তাওফিজ প্রয়োগ করতে পারে?
  1. যখন স্বামী অত্যাচারী হবে
  2. যখন স্বামী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া পুনরায় বিয়ে করে
  3. যখন স্বামী কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দেয়
  4. ক+খ
ব্যাখ্যা
• 'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':
সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে। আমাদের দেশে নিকাহনামায় বা বিবাহের চুক্তিপত্রের ১৮ নং অনুচ্ছেদে এই সংক্রান্ত বিধান আছে। অর্থাৎ নিকহানামার ১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী- স্ত্রী, স্বামীর নিকট হতে তালাক প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে স্বামীকে তালাক দিতে পারে যা Talak e Tafwid নামে পরিচিত।

উদাহরণ:
বিবাহের কাবিননামায় শর্ত দেওয়া হলো যে- কাবিননামায় উল্লেখিত তাৎক্ষণিক দেনমোহর [Prompt Dower] স্বামী দিতে ব্যর্থ হলে, স্ত্রী বিবাহ বাতিল করতে পারবে। কিন্তু স্ত্রী উক্ত দেনমোহর চাইলেও স্বামী তা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এইক্ষেত্রে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।
১৪.
A gift made during death illness is known as -
  1. Hiba-bil-illness
  2. Marz-ul-maut
  3. Marz-ul-heba
  4. Hiba-bil-maut
ব্যাখ্যা
⇒ Marz-ul-maut-
The concept of Marz-ul-Maut in Islam is actually a doctrine of death-bed gifts. The governing tenet of Muslim personal civil law is the Shariat. One of the provisions relates to Marz-ul-Maut (death bed Gifts). This can only be executed in case there is genuine apprehension that the testator will die.

মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে। অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যু আশঙ্কায় থেকে তথা মৃত্যু শয্যায় থেকে দান করাকে মরজ-উল-মউত বলে। এরূপ দানের পর দাতার মৃত্যু হলে তা উইলের ন্যায় কার্যকর হবে অর্থাৎ তখন উইলের সীমাবদ্ধতা, বিধান ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে। 

অর্থাৎ, যখন কোনো ব্যক্তি এমন অসুস্থতায়/রোগে ভোগে, যার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়, এমতাবস্থায় কোনো দান (Gift/Hiba) করলে, দানটিকে মৃত্যুশয্যায় দান (Marz-ul-Maut) বলে।

এমন দান উইল (Wasiyyat) বলে গণ্য হবে এবং উইলের বিধান প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যক্তি মরজ-উল-মউতের সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তি বরাবর তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ সম্পত্তি দান (Gift/Hiba) করতে পারেন।
১৫.
মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করলে কী ধরনের সাজার বিধান আছে?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার অর্থদণ্ড বা উভয়
  3. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়
  4. ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
মুসলমানের ইজাব কবুলের মাধ্যমে বিবাহ সম্পূর্ণ হয়। শরিয়তের যেই সমস্ত বিধান উল্লেখ আছে তা প্রতিপালিত হলেই বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। বিবাহ রেজিস্ট্রি না করলে বিবাহ অসিদ্ধ হয় না। 

তবে, ১৯৭৪ সালের ৫২ নং আইন, মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রেকরন আইন দ্বারা মুসলিম বিবাহকে রেজিষ্ট্রেকরন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটা অমান্য করলে সাজার বিধানের কথা বলে হয়েছে। মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রিকরন আইনের ৫ ধারায় সাজা হতে পারে- ২ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন

বিবাহের রেজিষ্ট্রেশন কোরআন বা হাদিস দ্বারা প্রমানিত না তবে হাদিসের মধ্যে এ ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই ; তবে হানাফি ফকীহদের মতে নিকাহের কিতাব অর্থাৎ বিবাহ সংঘটন সম্পর্কে লিখে রাখা মুস্তাহাব।
১৬.
একজন উইলদাতা তার সম্পত্তির কত শতাংশ অংশ উইলমূলে আগন্তুক ব্যক্তিকে দান করতে পারেন?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ২/৩
  4. ১/৪
ব্যাখ্যা
উইল বা অছিয়ত:
মুসলিম আইনে উইলকে অছিয়ত বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক এ সম্পকে মুসলমানদের অনুমতি দিয়েছেন তা করার জন্য। মৃত্যুকালে  কিংবা মুত্যুর আগে পরের জন্য নিজ মালিকানার কিছু অংশ নিঃস্বার্থভাবে কাউকে দান করার নাম ওসিয়ত বা উইল।

মুসলিম আইন অনুযায়ী উইল বা অছিয়ত এর সংজ্ঞা বিশ্লষণ করলে যে বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করা যায়, সেগুলো নীচে উল্লেখ করা হলো:
১) মুসলিম আইন আনুযায়ী প্রত্যেক সাবালক ও সুস্থমনা ব্যক্তিই উইল বা অছিয়ত করতে পারে।
২) মুসলিম উইলকে বৈধ করবার জন্য বিশেষ কোন আনুষ্ঠিকতার প্রয়োজন নেই। এটি লিখিত দলিল দ্বারা বা মৌখিক হতে পারে। এ সম্পকে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো উইলকারীর ইচ্ছা সুস্পস্টভাবে প্রকাশিত এবং সঠিকভাবে নির্ভরযোগ্য  হতে হবে।
৩) উইলকারী তার যে কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উইল করতে পারে। কিন্তু উইল যেহেতু উইলকারীর মৃত্যুর পর বলবত হয়, সেহেতু উইলকারী মৃত্যুর সময় অবশ্যই উইলে বর্ণিত সম্পত্তির অস্বিত্ব হবে।

ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা:
১) মুসলিম আইনের বিধান মোতাবেক একজন উইলদাতা যে কোনো আগন্তুক ব্যক্তিকে তার সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশী উইলমূলে দান করতে পারে না। উইলকারী ১/৩ অংশের বেশী উইল করলেও ১/৩ অংশ কাযকর হবে এবং বাকী অংশ আইনে অগ্রাহ্য হবে। যে অবশিষ্ট ২/৩ অংশ থাকবে তা স্বাভাবিক ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে।

২) মুসলিম আইনের বিধান মতে উইলদাতার মৃত্যুর পর যারা ওয়ারিশ বলে গন্য হবে, তাদের বরাবরে কোনো সম্পত্তি উইল করতে পারবেন না। কোনো সম্পত্তি ওয়ারিশের বরাবরে উইল করলে তা বৈধ হবে না, তবে উইলদাতার মৃত্যুর পর তার অন্যান্য ওয়ারিশেরা অনুমোদন বা সম্মতি দিলে উইলটি কাযকর বা বৈধ হবে।

৩) আবার উইলদাতার ওইরূপ কোনো উইলে সব ওয়ারিশ যদি অনুমোদন বা সম্মতি না দেয়, তাহলে যারা অনুমোদন বা সম্মতি না দেয় তারা ব্যতীত যারা অনুমোদন করবে বা মেনে নিবে, কেবলমাত্র তাদের অংশই সংশ্লিষ্ট উইলগ্রহীতা প্রাপ্ত হবে। উত্তরাধিকারীদের সম্মতি অবশ্যই উইলকারীর মৃত্যুর পরে প্রদান করতে হবে এবং উইলকারীর জীবদ্দশায় প্রদত্ত সম্মতি অবৈধ হবে। উইল দলিল রেজিস্ট্রি করলেই তা বৈধ বলে ধরে নেয়া যায় না। উইলে সম্মতি দানের ক্ষেত্রে নীরবতা সম্মতি বলে ধরে নেয়া যাবে না। উইল করা হয়নি এবং উইল করার সময় বিদ্যমান ছিল না, তাতে সম্মতির প্রয়োজন নেই।

যদি কিছু উত্তরাধিকারী নাবালক থাকে, তবে তারা সাবালক হওয়ার পর উইলে সম্মতি বা অসন্মতি দিতে পারে। তাদের নাবালকত্বের সময় অভিভাবকগণ কর্তৃক প্রদত্ত সম্মতির কোনো বৈধতা নেই এবং এ অবস্থায় তারা সাবালক হওয়ার পর উইলের বৈধতা সম্পর্কে বিবাদ করতে পারে। অতএব, কোনো মা যদি নাবালক সন্তানের পক্ষে সম্মতি দেয়, তবে যতদূর সন্তান সংশ্লিষ্ট, ততদূর পর্যন্ত উইলটি অকাযকর হবে। একমাত্র উইলকারীর মৃত্যুর পরেই সম্মতি কাযকর হবে; সুতরাং উইলের উদ্দেশ্যে উইলকারীর মৃত্যুর সময় যারা উত্তরাধিকারী থাকেন, তারাই উত্তরাধিকারী বলে গন্য হবেন, এবং উইল করার সময় যারা ছিলেন তারা নয়।
১৭.
মুসলিম আইন অনুযায়ী, স্বামী কি স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করতে বাধ্য?
  1. না, এটি ইচ্ছাধীন
  2. হ্যাঁ, তবে শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব
  3. না, তবে স্ত্রীর ইচ্ছা হলে দিতে হবে
  4. হ্যাঁ, এটি তার ধর্মীয় ও আইনগত দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। স্বামী যদি ধনী হয়, তবে স্ত্রীর জন্য তার ভরণপোষণও বেশি হতে পারে। যদি স্বামী দরিদ্র হয়, তবে স্ত্রীর নাফাকা তার আর্থিক সামর্থ্য অনুসারে নির্ধারিত হবে। সাধারণভাবে, নাফাকা এমনভাবে নির্ধারিত হবে যেন স্ত্রীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে, এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূর্ণ হয়।

স্ত্রীর অধিকার:
যদি কোনো স্ত্রীর কাছে স্বামীর অর্থনৈতিক সহায়তা বা নাফাকা প্রদান না করা হয়, তবে সে আদালতে নাফাকা চেয়ে মামলা করতে পারে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য নাফাকা একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি নিশ্চিত করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তালাকের পর, ইদ্দতকালে স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করাটা স্বামীর কর্তব্য।
১৮.
A marriage with a woman before completion of her Iddat is ______ :
  1. Void
  2. Valid
  3. Irregular
  4. None of these
ব্যাখ্যা
• ইদ্দত (Iddat):
ইদ্দত শব্দের অর্থ হলো- অপেক্ষা করা। যেকোনো নারীর বিবাহ সমাপ্ত হলে, তাকে পুনরায় বিয়ে করার জন্য যে সময়কাল অবশ্যই অপেক্ষা করতে হয় তাকে ইদ্দত বলে। একজন নারীকে বিবাহ বিচ্ছেদের পর অবশ্যই ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দত পালনকালীন সময় কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না।

⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ। যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।
১৯.
'Doctrine of Cy-pres' -এর সাথে সম্পর্কযুক্ত-
  1. তালাক
  2. বিবাহ
  3. হেবা
  4. ওয়াকফ
ব্যাখ্যা
Doctrine of Cy-pres শব্দটি ফরাসি থেকে এসেছে, যার অর্থ "as near as possible"। এটি ইসলামী আইন এবং বিশেষত ওয়াকফের (Waqf) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুসলিম আইনে এই নীতি ব্যবহৃত হয় যখন ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্দেশ্য কোনো কারণে অর্জন করা সম্ভব হয় না। তখন সেই উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শরিয়াহ সম্মত একটি বিকল্প উদ্দেশ্য পূরণ করা হয়।

Doctrine of Cy-pres-এর মূল বৈশিষ্ট্য
মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে নিকটবর্তী উদ্দেশ্য:
ওয়াকফের উদ্দেশ্য যদি কার্যকর করা সম্ভব না হয়, তবে এই নীতির মাধ্যমে ওয়াকফের আয়ের ব্যবহার এমন কোনো উদ্দেশ্যে করা হয় যা মূল উদ্দেশ্যের খুব কাছাকাছি।

শরিয়াহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
বিকল্প উদ্দেশ্য অবশ্যই ইসলামী শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী হতে হবে। কোনো অশরিয়াহ কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

নিরপেক্ষ এবং সুবিবেচনা:
এই নীতির প্রয়োগ তখনই হয় যখন ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতার ইচ্ছা পূরণ করা পুরোপুরি সম্ভব নয় এবং সেই ইচ্ছার পরিবর্তে অন্য একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প খুঁজে বের করতে হয়।
২০.
মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য ন্যূনতম কতজন সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক?
  1. ২ জন মুসলিম পুরুষ ও ১ জন মহিলা
  2. ২ জন পুরুষ অথবা ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা
  3. ২ জন মুসলিম পুরুষ অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা
  4. ৩ জন মুসলিম পুরুষ অথবা ২ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা
ব্যাখ্যা
'বিবাহ` শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো মিলানো, একত্র করা। ইসলামী আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট একজন নর ও নারীর একত্রিত হওয়ার চুক্তিকেই বিবাহ বলে।

ডি এফ মোল্লা তাঁর ‘মুসলিম আইনের মূলনীতি’ বইয়ে বিবাহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন
“বিবাহ বা নিকাহ এমন একটি চুক্তি যার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো বৈধভাবে সন্তান লাভ ও প্রতিপালন।

বিচারপতি মাহমুদ তাঁর ‘আঃ কাদির ও সালিসী মোকদ্দমার রায়ে বলেছেন,
“মুসলিম বিবাহ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানী চুক্তি যার উদ্দেশ্য পারিবারিক জীবন যাপন ও বৈধ সন্তান দান।"

মুসলিম বিবাহের অবশ্য পূরণীয় শর্তাবলী-
বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এক পক্ষকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং অপর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। এটিই বিবাহ বন্ধন সংগঠিত হওয়ার মূল শর্ত। বিবাহের জন্য পাত্র এবং পাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতির প্রয়োজন। বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে।

মুসলিম আইনে বিবাহের চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা আবশ্যক। কমপক্ষে ২ জন মুসলিম পুরুষ, অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা সাক্ষী থাকতে হবে। এটি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধতার জন্য বাধ্যতামূলক। সাক্ষীদের প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যোগ্য হতে হবে।তারা বিবাহ চুক্তি (নিকাহ) সম্পাদনের সময় উপস্থিত থাকতে হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতি শুনতে হবে হানাফি মাযহাব অনুসারে, সাক্ষী ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়। শিয়া মতানুসারে সাক্ষীর উপস্থিতি সব ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়, তবে এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
২১.
মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুসারে, বাবার অনুপস্থিতিতে কাকে অভিভাবকত্ব দেওয়া হবে?
  1. মা
  2. আদালত
  3. দাদা বা পরিবারের অন্য পুরুষ
  4. সমাজের প্রতিনিধি
ব্যাখ্যা
দেশে প্রচলিত আইন এবং মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুযায়ী অভিভাবকত্ব মূলত তিন ধরণের হয়ে থাকে। যথা:
ক) নাবালকের জীবনের,
খ) সম্পত্তির এবং
গ) জীবন ও সম্পত্তি উভয়ের।

অভিভাবকত্ব ও প্রতিপাল্য আইন, ১৯৮০ এ অভিভাবকত্ব ও জিম্মাকে আলাদাভাবে দেখানো হয়নি। যদিও মুসলিম শরিয়াহ আইনে বিষয় দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিভাবত্ব ও প্রতিপাল্য আইন, ১৯৮০ এর ধারা ৪(২) এ বলা হয়েছে, অভিভাবক বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার উপর কোন নাবালকের শরীর, সম্পত্তি বা শরীর ও সম্পত্তি উভয়ের তত্বাবধানের ভার রয়েছে। এ আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী প্রতিপাল্যের শরীরের অভিভাবকের উপর অভিরক্ষা ন্যস্ত থাকবে। অর্থাৎ, অভিভাবক একইসাথে অভিভাবকত্ব এবং তত্বাবধান বা নাবালকের ও নাবালকের সম্পত্তির দেখাশুনা করবেন।

মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুযায়ী মা সন্তানের জিম্মা পাবেন তবে তিনি অভিভাবক হবেন না। অপরদিকে বাবা সন্তানের অভিভাবকত্ব একইসাথে জিম্মা লাভ করতে পারেন। তবে, বাবা যদি ওসিয়ত করে বা আদালত যদি ঘোষণা করে সেক্ষেত্রে মা অভিভাবক হতে পারে। অভিভাবকত্ব ও প্রতিপাল্য আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী একমাত্র আদালতই পারে নাবালকের অভিভাবকত্ব ঘোষণা এবং নিয়োগ করতে। মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুসারে বাবার অনুপস্থিতিতে দাদা বা পরিবারের অন্য পুরুষ অভিভাবকত্ব লাভ করবেন। তবে সন্তান জিম্মায় রাখার ক্ষেত্রে মা সব সময় প্রাধান্য পাবে।
২২.
'আরিয়াত' শব্দের অর্থ কী?
  1. সম্পত্তির আংশিক বিক্রি
  2. সম্পত্তির পূর্ণ বিক্রি
  3. সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর
  4. সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগের অস্থায়ী অনুমতি
ব্যাখ্যা
আরিয়াত (Areeat): 
আরিয়াত (Areeat) শব্দটি ইসলামী আইন (ফিকাহ) থেকে উদ্ভূত একটি শব্দ, যা মূলত দান বা অস্থায়ী অনুমতি বোঝায়। এটি এমন এক ধরনের দান যেখানে সম্পত্তির মালিকানা দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হয় না, তবে গ্রহীতা সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমতি পায়।

এটি মূলত এমন ধরনের দান বা অস্থায়ী সুবিধা, যেখানে সম্পত্তির মালিকানা কেউ পায় না, বরং একে কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায়, সম্পত্তির মালিক ব্যক্তি যে কোনো সময় তার অনুমতি ফিরিয়ে নিতে পারেন, অর্থাৎ এটি এক ধরনের অস্থায়ী দান।

আরিয়াতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর নয়:
আরিয়াতের ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা কখনোই দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে স্থানান্তরিত হয় না। দাতা কেবল অনুমতি দেন যে, গ্রহীতা সম্পত্তির আয় বা লভ্যাংশ কিছু সময়ের জন্য ভোগ করবে। মালিকানা দাতারই থাকে।

অস্থায়ী অনুমতি:
আরিয়াতের অধীনে অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। এর মানে হলো, এক ব্যক্তি আরেককে সম্পত্তির আয় বা লভ্যাংশ ভোগ করার জন্য কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিতে পারে, কিন্তু কখনোই পুরোপুরি মালিকানা হস্তান্তর করা হয় না।

দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল:
দাতা যে কোনো সময় তার অনুমতি পরিবর্তন বা রদ করতে পারেন। এটি সম্পূর্ণভাবে দাতার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। যদি দাতা চায়, তবে আরিয়াতের সময়কাল পরিবর্তন বা বাতিল করা যেতে পারে।

রদযোগ্যতা:
আরিয়াতের মাধ্যমে দাতা যে অনুমতি দেন, তা চাইলে দাতা রদ (বাতিল) করতে পারেন। এটি সম্পূর্ণভাবে দাতার ইচ্ছাধীন, এবং তিনি যখন চান তখন এটি বাতিল করতে পারেন।
২৩.
The 'right to pre-emption' is-
  1. right to inherit directly
  2. right to substitution
  3. right to repurchase
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
• Pre-emption হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa)। নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ:- A এবং B একটি জমির যৌথ মালিক। ৪ তার অংশটি অপর অপরিচিত ব্যক্তি C কে বিক্রয় করে দেয়। এই ক্ষেত্রে B কর্তৃক বিক্রিত সম্পত্তিটি ক্রয়ের প্রথম অধিকার A এর। এ ক্ষেত্রে এ সম্পত্তিটি তার নিকট বিক্রি করার জন্য B কে বাধ্য করতে পারে। সম্পত্তিটি অপরিচিত ব্যক্তি C এর পূর্বে A এর ক্রয় করার অধিকার অগ্রক্রয়ের অধিকার নামে পরিচিত।

• অগ্রক্রয়ের অধিকার শুধু স্থাবর সম্পত্তির সাথে সম্পর্কীত। অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় অধিকার প্রযোজ্য নয়। অগ্রক্রয়ের অধিকার মূলত প্রতিস্থাপনের অধিকার। এটি সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয়ের অধিকার নয়।।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।
২৪.
'ক' মৃত্যু শয্যায় তার সম্পত্তির ১/৩ অংশ 'খ' বরাবর হেবা করে এবং দখল অর্পণের পূর্বেই মারা যায়। এমতাবস্থায় এই হেবার আইনগত ফলাফল কী?
  1. হেবা কার্যকর হবে না এবং সমগ্র সম্পত্তি 'ক' এর ওয়ারিশগণ পাবে
  2. হেবা কার্যকর হবে যদি ওয়ারিশগণ আপত্তি না করে
  3. যেহেতু ১/৩ অংশ দান করেছে মৃত্যুশয্যায়, সেহেতু এটি উইলের ন্যায় কার্যকর হবে
  4. কোনটি সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
হেবা (Hiba) মুসলিম আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়া যা জীবিত অবস্থায় সম্পন্ন হতে হয়। যদি সম্পত্তি হেবা (দানে) করা হয় কিন্তু দখল অর্পণের পূর্বেই হেবাকার (দানকারী) মারা যায়, তাহলে:
ক) হেবা কার্যকর হবে না এবং সমগ্র সম্পত্তি 'ক' এর ওয়ারিশগণ পাবে।

হেবা এবং দখল:
মুসলিম আইনে, হেবা (সম্পত্তির দান) কার্যকর হতে হলে দুইটি শর্ত পূরণ করতে হয়: (১) হেবার (দানকারী) জীবিত থাকতে হবে এবং (২) হেবা সম্পন্ন হওয়ার জন্য দখল অর্পণ করা প্রয়োজন। যদি দখল অর্পণ না হয় এবং হেবাকার মারা যান, তাহলে হেবা সম্পন্ন হয় না।

উইল:
উইল এবং হেবা দুটি ভিন্ন বিষয়। উইল মৃত্যুর পর কার্যকর হয়, তবে হেবা জীবিত অবস্থায় সম্পন্ন হতে হয়।

ওয়ারিশগণ:
হেবা কার্যকর না হলে সম্পত্তি হেবাকারের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণের মধ্যে বণ্টিত হয়।
২৫.
কোন পরিস্থিতিতে স্ত্রী আলাদা থাকলেও ভরণপোষণ পেতে পারে?
  1. ধর্মত্যাগ করলে
  2. বন্দিদশায় থাকলে
  3. অন্যায়ভাবে স্বামীর গৃহ ত্যাগ করলে
  4. যুক্তিসঙ্গত কারণে আলাদা বসবাস করলে
ব্যাখ্যা
সাধারণ অর্থে একজন স্ত্রী বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় স্বামী থেকে ভরণপোষণ পাবেন। ভরণপোষণ একজন স্ত্রীর আইনগত অধিকার। স্ত্রী যত দিন স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে এবং স্বামীর যুক্তিসংগত নির্দেশগুলো পালন করবেন, তত দিন ভরণপোষণ দিতে স্বামী বাধ্য। তবে স্ত্রী যদি স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে অস্বীকৃতি জানান বা অন্যভাবে তার প্রতি অবাধ্যতা দেখান, তাহলে স্ত্রী ভরণপোষণ পাবেন না। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক নাবালক স্বামীর পক্ষে তার পিতা ভরণপোষণ দেবেন। এমনকি স্ত্রী আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও সে ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন। অর্থাৎ দেনমোহরের মতো ভরণপোষণের অধিকারও স্ত্রীর অবিচ্ছেদ্য অধিকার।

কিন্তু যে স্ত্রী স্বামীর সাথে যৌনমিলন অস্বীকার করবে অথবা অন্য কোন প্রকার স্বামীর অবাধ্য হবে সে স্ত্রীকে ভরণপোষন দিতে স্বামী বাধ্য থাকবে না। (মিতা খান বনাম হেমায়েত বিবি, ১৪ ডিএলআর (হাইকোর্ট), পৃষ্ঠা-৪৫৫)। তবে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে স্ত্রী আলাদা বসবাস করলে স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। (মোঃ ইব্রাহিম হোসেন সরকার বনাম মোসা. সোলেমান্নেসা (১৯৬৭, ১৯ ডি এল আর পৃষ্ঠা ৭৫১)।

স্ত্রী কখন ভরণপোষণ পাবে না-
১. স্ত্রী স্বামীর নিষেধাজ্ঞা সত্বেও যেখানে স্বামী অবস্থান করে সেখানে ভিন্ন অন্যত্র বসবাস করলে;
২. স্ত্রী বন্দিদশায় থাকলে। তবে স্বামী বন্দিদশায় থাকলে স্ত্রী ভরণপোষন হতে বঞ্চিত হবে না;
৩. স্ত্রী অন্যায়ভাবে অবাধ্য হয়ে স্বামীর অনুমতি ছাড়া অসংগত কারণে স্বামীর গৃহ ত্যাগ করলে;
৪. স্ত্রী ধর্মত্যাগ করলে;
৫. স্ত্রীর অবাধ্যাচারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে;
৬. স্বামীর মৃত্যুজনিত কারণে ইদ্দত পালনরত থাকলে; তবে শর্ত হলো যে, বিধবা অন্তঃসত্তা হলে গর্ব খালাস না অবধি খোরপোষ পাবে;
৭. স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেলে;

স্বামী যতই গরীব হোক না কেন, তাতে স্ত্রীর অধিকার নষ্ট হয় না। স্ত্রীর খোরপোষ স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক। স্বামীর এ দায়িত্ব ব্যক্তিগত। তবে স্ত্রীর খোরপোষ বা ভরণপোষন শর্তসাপেক্ষে।
২৬.
Which two main sects exist among Muslims?
  1. Hanafi and Shafi
  2. Sunni and Shia
  3. Maliki and Hanbali
  4. None of them
ব্যাখ্যা
ইসলামী আইনের স্কুলসমূহ:
মুসলিমদের মধ্যে দুটি প্রধান মতবাদ রয়েছে। তারা হলো সুন্নি এবং শিয়া। বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলিম সুন্নি সম্প্রদায়ের অনুসারী।
সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে চারটি প্রধান ইমাম আছেন, যাদের মাধ্যমে চারটি ভিন্ন চিন্তাধারার সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলি হলো:
১. হানাফি ২. শাফি ৩. মালিকি ৪. হানবালি

সুন্নি এবং শিয়া মুসলিমদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল, তারা বিশ্বাস করেন কি না যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার উত্তরাধিকারী হিসাবে কাউকে নির্ধারণ করেছিলেন।
সুন্নি মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কোন উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেননি, তবে শিয়া মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার চাচাতো ভাই এবং জামাই হজরত আলী (রাঃ) কে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।
২৭.
মুসলিম আইন অনুসারে হেবা কখন কার্যকর হয়?
  1. হেবা নিবন্ধনের সাথে সাথে
  2. হেবাকারীর মৃত্যুর পর
  3. দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
  4. দখল হস্তান্তরের ৩ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় হিবা নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব)
খ. Acceptance (গ্রহণ)
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)

⇒ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়, আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।
২৮.
'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34' মামলাটি কোন বিষয় সম্পর্কিত?
  1. দত্তক গ্রহণ
  2. দেনমোহর
  3. তালাক-পরবর্তী ভরণ-পোষণ
  4. দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
'Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum 47 DLR (1995) 34':
মুহাম্মদ হেফজুর রহমান বনাম শামসুন নাহার বেগম মামলাটি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় যা ১৫ বিডিএল(৩৪) রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অধীনে রয়েছে। এই মামলার মূল বিষয় ছিল তালাকপ্রাপ্ত মহিলার Post-divorce Maintenance এর অধিকার সম্পর্কিত।

মামলার পটভূমি:
শামসুন নাহার বেগম তার স্বামী মুহাম্মদ হেফজুর রহমানের বিরুদ্ধে Maintenance-এর দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তালাক দেওয়ার পরও তাকে Maintenance প্রদান করা হচ্ছে না।

আইনি প্রশ্ন:
মামলার মূল আইনি প্রশ্ন ছিল, তালাকের পর একজন মহিলার Maintenance দেওয়ার অধিকার কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষভাবে, ইদ্দতকাল (তালাকের পর নির্দিষ্ট সময়কাল) ছাড়াও কি Maintenance প্রদান করা হবে?

আদালতের সিদ্ধান্ত:
হাই কোর্ট ডিভিশন রায় দিয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর Maintenance ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরও চলমান থাকবে, যতক্ষণ না তিনি পুনরায় বিয়ে করেন এবং তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।
আদালত বলেছে, “একজন পুরুষ তার স্ত্রীর তালাক দেওয়ার পর তাকে ইদ্দতকাল পেরিয়ে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণে Maintenance প্রদান করতে বাধ্য। এই Maintenance প্রদান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করে তালাকপ্রাপ্ত অবস্থার অবসান ঘটে।”
২৯.
ভরণপোষণ এবং দেনমোহর সংক্রান্ত মামলার বিচার কোন আদালতে করা হয়?
  1. দেওয়ানি আদালতে
  2. পারিবারিক আদালতে
  3. ফৌজদারি আদালতে
  4. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।
৩০.
নির্ধারিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক না ঘটে এবং তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তাহলে স্ত্রী __________ দেনমোহর পাবে।
  1. সম্পূর্ণ দেনমোহর
  2. উপযুক্ত দেনমোহর
  3. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক
  4. নির্ধারিত দেনমোহরের এক চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইন অনুসারে,
যদি বৈধ বিবাহ হয় এবং দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় কিন্তু যদি স্ত্রীয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক পালন না হয় সেক্ষেত্রে অর্ধেক দেনমোহর দিতে হবে। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন- “আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে।” (আল কুরআন ২:২৩৭)

এছাড়া, Taibi vs Nathai Sharif (1940)2MLJ345=191IC728 এই মামলায়ও আদালত এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন- If the marriage was not consummated and the amount of dower was specified in the contract she is entitled to half of the amount the amount.

যদি বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সহবাস অথবা দাম্পত্য নির্জনতা পালিত হওয়ার পূর্বে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং যদি দেনমোহর নির্ধারিত না থাকে তাহলে কোন দেনমোহর পাওয়া থেকে স্ত্রী বঞ্চিত হতে পারেন। এছাড়া যদি বিয়েটি অনিয়মিত (irregular marriage) ধরণের হয় এবং স্বামী স্ত্রীর মাধ্যে সহবাস না হলে, কোন পক্ষের মৃত্যু বা ডিভোর্স যেভাবেই বিয়েটির সমাপ্তি ঘটুক না কেন এবং দেনমোহর নির্ধারিত হোক বা না হোক স্ত্রী কোন দেনমোহর লাভ করবে না।

এখানে উল্ল্যখ্য যে,
বিয়ে অনেক কারণেই অনিয়মিত হতে পারে। যেমনঃ সাক্ষীর উপস্থিতি না থাকা, পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ, ইদ্দত কালে বিয়ে ইত্যাদি। অনিয়মিত বিয়েতে হওয়া দূষণগুলি মুক্ত করে বৈধ বিয়েতে রুপান্তর করা যায়।এছাড়া কিছু আরো কিছু কারণে বিয়ে অনিয়মিত হতে পারে।
৩১.
ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লিকে বেআইনিভাবে অপসারণ করা হলে, প্রতিকার কী?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন
  2. জেলা জজের নিকট আপিল
  3. হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
  4. জেলা জজের নিকট রিভিশন
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লি বেআইনিভাবে অপসারণের ক্ষেত্রে প্রতিকার হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করার বিধান রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ১৯৬২ অনুযায়ী।

ওয়াকফ সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ১৯৬২:
এই আইনের অধীন ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারণ করা হয় এবং বেআইনিভাবে অপসারণের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়।

রিভিশন আবেদন:
মুতাওয়াল্লি বেআইনিভাবে অপসারণ হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করতে পারেন। এই আইন অনুযায়ী, সাধারণত ১ মাসের মধ্যে রিভিশন আবেদন করা যায়।
৩২.
Who is 'guardian at litem'?
  1. A biological parent of a minor
  2. A step-parent of the child
  3. A legal advisor for the family
  4. A court-appointed person to represent a minor in legal proceedings
ব্যাখ্যা
Guardian ad litem হল এমন একজন ব্যক্তি, যাকে আদালত নিয়োগ দেয় একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাবালক (minor) বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। মুসলিম আইনে, এটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যখন কোনো নাবালক তার অধিকার বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যা সম্মুখীন হয় এবং নিজের পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করতে অক্ষম থাকে।

Guardian ad litem-এর ভূমিকা:

আদালত কর্তৃক নিয়োগ:
Guardian ad litem শুধুমাত্র আদালতের অনুমোদন এবং নির্দেশের মাধ্যমে কাজ করেন। এটি নিশ্চিত করে যে নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে।

নাবালকের স্বার্থের সুরক্ষা:
Guardian ad litem-এর প্রধান কাজ হল নাবালকের সর্বোত্তম স্বার্থের জন্য কাজ করা। তারা আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যা নাবালকের ভবিষ্যৎ এবং সম্পত্তি সংরক্ষণ করে।

সম্পত্তির সুরক্ষা:
মুসলিম আইনে, একটি নাবালকের সম্পত্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যদি কেউ নাবালকের সম্পত্তি দখল করতে বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, Guardian ad litem সেই সম্পত্তি রক্ষায় আদালতে মামলা করতে পারেন।

পারিবারিক বিরোধ:
পারিবারিক আইন অনুযায়ী, শিশুদের অভিভাবকত্ব, দেখভাল বা হেফাজত নিয়ে যদি কোনো বিরোধ হয়, তখন Guardian ad litem দায়িত্ব নেন।

নাবালকের সম্পত্তি:
মুসলিম আইন অনুযায়ী, নাবালকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য যদি তার পিতা বা নিকটতম অভিভাবক উপস্থিত না থাকে, তাহলে আদালত একটি Guardian ad litem নিয়োগ করতে পারে।