পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: সাধারণ জ্ঞান টপিক: সাধারণ বিজ্ঞান [গুরত্বপূর্ণ সকল বিষয়সমূহ] পদার্থবিজ্ঞান: দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারিক বিজ্ঞান, মহাকর্ষ-অভিকর্ষ, আলো, তড়িৎ, চৌম্বক, নবায়নযোগ্য শক্তি, বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও আবিষ্কারক, বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র (যেমন: থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার, ফ্যাদোমিটার) প্রভৃতি। রসায়ন: দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারিক বিজ্ঞান, বিভিন্ন ব্যবহারিক জিনিসের রাসায়নিক নাম ও সংকেত, পদার্থের অবস্থা ও ধর্ম, পারমাণবিক গঠন, মৌলিক কণা, অণু ও পরমাণু প্রভৃতি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
নিচের কোন পদার্থটির নির্দিষ্ট আকার ও নির্দিষ্ট আয়তন উভয়ই থাকে? 
  1. অ্যামোনিয়া 
  2. পানি 
  3. কয়লা 
  4. অ্যালকোহল 
সঠিক উত্তর:
কয়লা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন শক্তির উৎস কখনও ফুরিয়ে যায় না? 
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  2. নিউক্লিয় শক্তি 
  3. অনবায়নযোগ্য শক্তি 
  4. নবায়নযোগ্য শক্তি 
সঠিক উত্তর:
নবায়নযোগ্য শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবায়নযোগ্য শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস: 
- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না কারণ শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধানে কাজ করছে। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- শুধু যে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের শক্তির ওপর মানুষ ভরসা করে আছে তা নয়, এই মুহূর্তেও তারা এমন শক্তির ওপর ভরসা করে আছে, যেগুলো ফুরিয়ে যাবে না। 
- সে শক্তিগুলো আসে সূর্যের আলো থেকে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে। 
- এই শক্তিগুলো অফুরন্ত, যেগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy)। 
অর্থাৎ, যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, সে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে, তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে। 
যেমন- জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তাই শক্তির চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ব্যারােমিটার 
  2. হাইগ্রোমিটার 
  3. ফ্যাদোমিটার 
  4. ম্যানােমিটার 
সঠিক উত্তর:
ব্যারােমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারােমিটার 
ব্যাখ্যা

ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 

অন্যদিকে, 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

.
মরিচার রাসায়নিক সংকেত কোনটি? 
  1. NaHCO3
  2. Fe2O3.nH2O
  3. CaCO3
  4. Na2CO3.10H2O
সঠিক উত্তর:
Fe2O3.nH2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fe2O3.nH2O
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক নাম ও সংকেত: 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3). 
- চুনের নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO). 
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2
- চুন (CaO) এর সাথে পানি (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 
- মরিচার রাসায়নিক সংকেত হলো Fe2O3.nH2O

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং 
  2. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি 
  3. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি 
  4. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও 
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
স্থির তাপমাত্রায় একই উপাদানের রোধ কোন বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে? 
  1. শুধুমাত্র দৈর্ঘ্য 
  2. শুধুমাত্র তাপমাত্রা 
  3. উপাদান এবং তাপমাত্রা 
  4. দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল 
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল 
ব্যাখ্যা

রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়।
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বায়ু কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. মিশ্র পদার্থ 
  2. কঠিন পদার্থ 
  3. মৌলিক পদার্থ 
  4. যৌগিক পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
মিশ্র পদার্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র পদার্থ 
ব্যাখ্যা

মিশ্র পদার্থ: 
- যে মিশ্রণে একের অধিক পদার্থ বিদ্যমান থাকে তাকে বলা হয় মিশ্র পদার্থ। 
- বায়ু এক ধরনের মিশ্র পদার্থ যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্পসহ অন্যান্য পদার্থ থাকে। 
- বায়ু এমন একটি মিশ্র পদার্থ যেখানে মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরনের পদার্থ রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

.
দুটি বস্তুর মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে মহাকর্ষ বলের মান কী হবে? 
  1. বৃদ্ধি পাবে 
  2. কমে যাবে 
  3. অপরিবর্তিত থাকবে 
  4. প্রথমে বৃদ্ধি পাবে পরে কমবে 
সঠিক উত্তর:
কমে যাবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে যাবে 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

.
রাদারফোর্ড মডেল অনুযায়ী নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কোন বল ভারসাম্য রাখে? 
  1. বিকর্ষণ বল 
  2. গ্রাভিটেশনাল বল 
  3. চুম্বকীয় বল 
  4. কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলর প্রস্তাবগুলো হলো- 
• পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ভারী ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট কেন্দ্র থাকে, যাকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। এটি পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। 
• নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে। 
• মডেলটিকে পরমাণুর সৌর মডেল বলা হয়, কারণ এটি সৌরমণ্ডলের মতো সাজানো। 
• নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ ইলেকট্রনের কেন্দ্রমুখী বলের সাথে ভারসাম্য রাখে। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ- 
• ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হওয়ায় একে অপরকে বিকর্ষণ করে, যা মডেল ব্যাখ্যা করতে পারে না। 
• ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন শক্তি বিকিরণ করলে শেষ পর্যন্ত নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়া উচিত কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। 
• ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি নির্ধারণ করা যায় না। 
• একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনের অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা নেই। 
• পরমাণুর বর্ণালী (spectrum) ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে কী বলা হয়? 
  1. মৌলের অণু 
  2. মৌলিক কণিকা 
  3. আয়ন 
  4. যৌগের অণু 
সঠিক উত্তর:
মৌলের অণু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলের অণু 
ব্যাখ্যা

পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। 
যেমন- O2 । 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। 
যেমন- CO2 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১১.
নিচের কোন মৌলিক কণিকার সংখ্যা কখনো সমান কিংবা কখনো বেশি থাকে? 
  1. ইলেকট্রন 
  2. নিউট্রন 
  3. প্রোটন 
  4. পজিট্রন 
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি কণিকাকে পরমাণুর স্থায়ী কণিকাও বলা হয়। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, আর প্রোটন ও নিউট্রন এই নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ট্যাকোমিটার 
  2. অডিওমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৩.
নিচের কোনটি একটি অ্যান্টিসেপটিক পদার্থ? 
  1. ইথার 
  2. পেনিসিলিন 
  3. টিংচার আয়োডিন 
  4. পটাশিয়াম ক্লোরাইড 
সঠিক উত্তর:
টিংচার আয়োডিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিংচার আয়োডিন 
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

কৃষিকাজে রসায়ন: 
- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। 
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। 
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 

শিল্পক্ষেত্রে রসায়ন: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ম্যালামাইনের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃত্রিম নাইলন, সিল্ক, রাবার, প্রসাধনী ইত্যাদি সকল কিছুই নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়। 
- ইস্পাত, কাগজ, চিনি, বস্ত্র, কাচ ও চামড়া ইত্যাদি সকল শিল্পেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। 
- তাছাড়া ব্যাটারি, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলোও রসায়নের অবদান রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।