পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা- ১ টপিক Science Expert Book ক্লাস এর সূচনা, পদার্থবিজ্ঞান: পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা: (পদার্থবিজ্ঞানের শাখা, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞানের কয়েকজন স্মরণীয় পথিকৃৎ, পদার্থবিজ্ঞানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার) ভৌত রাশি ও পরিমাপ: (রাশি, রাশির পরিমাপ, পরিমাপের যন্ত্রপাতি, পরিমাপের ত্রুটি) কাজ, ক্ষমতা, শক্তি ও শক্তির রূপান্তর: (কাজ, ক্ষমতা, শক্তি, শক্তির রূপান্তর, যন্ত্রিক শক্তি, পারমাণবিক শক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও অনবায়নযোগ্য শক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তির কয়েকটি উৎস) [ক্লাস ১ ও ২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক কী? 
  1. ফুট
  2. মিটার
  3. সেন্টিমিটার 
  4. মিলিমিটার 
ব্যাখ্যা

সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে- 
• দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার (cm),
• ভরের একক গ্রাম (g) এবং
• সময়ের একক (s). 

এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI) এম.কে.এস. পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই- 
দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m)
• ভরের একক কেজি (kg) বা কিলোগ্রাম এবং
• সময়ের একক (s). 

এফ.পি.এস পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে-
• দৈর্ঘ্যের একক ফুট (ft),
• ভরের একক পাউন্ড (lb)এবং
• সময়ের একক (s). 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং britannica.com।

.
নিচের কোনটি লব্ধ রাশির উদাহরণ?
  1. দৈর্ঘ্য 
  2. ভর 
  3. তাপমাত্রা
  4. বল 
ব্যাখ্যা

রাশি এবং তাদের পরিমাপ: 
- প্রকৃত বিজ্ঞানে সবকিছুরই পরিমাপ করতে হয়; বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরিমাপ করে সব কিছুকে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা। 
- এই জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলে, এই ভৌতজগতে অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা পরিমাপ করা সম্ভব। 
যেমন- কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, আয়তন, ওজন, তাপমাত্রা, রং, কাঠিন্য, তার অবস্থান, বেগ, তার ভেতরকার উপাদান, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, স্থিতিস্থাপকতা, তাপ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, ঘনত্ব, আপেক্ষিক তাপ, চাপ গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক ইত্যাদি।
অর্থাৎ, ভৌতজগতে রাশিমালার কোনো শেষ নেই। 
- এই অসংখ্য রাশিমালা পরিমাপ করার জন্য অসংখ্য রাশির সংজ্ঞা আর অসংখ্য একক তৈরি করে রাখতে হবে বিষয়টি এমন নয়; শুধুমাত্র সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায়। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায় সে সব রাশিকে বলে মৌলিক রাশি। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা। 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, এই সাতটি একককে বলে এস.আই (S.I) একক। 

লব্ধ রাশি: 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি ব্যবহার করে যখন অন্য কোনো রাশি প্রকাশ করা হয়, তখন তালে বলে লব্ধ রাশি। 
যেমন- কাজ, ক্ষমতা, বল, বেগ, ত্বরণ, ঘনত্ব ইত্যাদি হচ্ছে লব্ধ রাশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না? 
  1. খনিজ তেল 
  2. সৌর শক্তি 
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বায়োগ্যাস 
ব্যাখ্যা

- 'খনিজ তেল'কে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না, কারণ এটি অনবায়নযোগ্য শক্তির একটি উৎস। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
লর্ড কেলভিন কোন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন?
  1. আলোর প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা 
  2. তাপগতিবিজ্ঞানের দুটি সূত্র প্রদান করা
  3. বৈদ্যুতিক চার্জের সূত্র আবিষ্কার করা 
  4. ব্যাটারি আবিষ্কার করা
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানীদের অবদান: 
- অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে তাপকে ভরহীন এক ধরনের তরল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। 1798 সালে কাউন্ট রামফোর্ড দেখান, তাপ এক ধরনের শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- আরও অনেক বিজ্ঞানীর গবেষণার ওপর ভিত্তি করে লর্ড কেলভিন 1850 সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন। 

- বিদ্যুৎ ও চুম্বকের ওপরেও এই সময় ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। 1778 সালে কুলম্ব বৈদ্যুতিক চার্জের ভেতরকার বলের জন্য সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- 1800 সালে ভোল্টা বৈদ্যুতিক ব্যাটারি আবিষ্কার করার পর বিদ্যুৎ নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা শুরু হয়। 
- 1820 সালে অরস্টেড দেখান বিদ্যুৎপ্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায়। 
- 1831 সালে ফ্যারাডে এবং হেনরি ঠিক তার বিপরীত প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন। 
- তারা দেখান চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। 
- 1864 সালে ম্যাক্সওয়েল তার বিখ্যাত ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ দিয়ে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রকে একই সূত্রের মাঝে নিয়ে এসে দেখান যে আলো আসলে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। বিদ্যুৎ ও চুম্বক আলাদা কিছু নয়, আসলে এ দুটি একই শক্তির দুটি ভিন্ন রূপ। এটি সময়োপযোগী একটি আবিষ্কার ছিল। কারণ, 1801 সালে ইয়ং পরীক্ষার মাধ্যমে আলোর তরঙ্গ ধর্মের প্রমাণ করে রেখেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. তাপ 
  2. শব্দ 
  3. আলোক
  4. যান্ত্রিক
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক মোটর একটি ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যন্ত্র যা তড়িৎ শক্তিকে (Electrical Energy) যান্ত্রিক শক্তিতে (Mechanical Energy) রূপান্তর করে। এটি তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে 

শক্তির রূপান্তর: 

- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
উপসর্গ “গিগা (Giga)” দ্বারা কোন মান বোঝানো হয়?
  1. 109
  2. 106
  3. 1012
  4. 1015
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “গিগা (Giga)” দ্বারা বোঝানো হয় 109 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়।


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
ক্ষমতার মাত্রা কোনটি?
  1. MLT -3
  2. ML2T -2
  3. ML2T -3
  4. ML-2T -3
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
• 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T -3]

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
স্ফেরোমিটারের কেন্দ্রীয় স্ক্রু দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ঘনত্ব 
  2. ব্যাস 
  3. ভর 
  4. উচ্চতা 
ব্যাখ্যা

- স্ফেরোমিটারের কেন্দ্রীয় স্ক্রুটিকে উপরে বা নিচে নামিয়ে একটি সমতল থেকে গোলীয় তলের সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন বিন্দুর দূরত্ব মাপা হয়। এই দূরত্বটি মূলত উচ্চতা (height বা Sagitta) নির্দেশ করে

স্ফেরোমিটার: 

- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার। 
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- স্ফেরোমিটার দ্বারা তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়। 
- বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে, 
R = {(d2/6h) + (h/2)} 
​যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

.
শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র অনুযায়ী- 
  1. শক্তি সৃষ্টি করা যায়
  2. শক্তি ধ্বংস করা যায়
  3. শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
  4. শক্তি কেবল কমে যায়
ব্যাখ্যা

- শক্তির সংরক্ষণশীলতা বা নিত্যতা সূত্র অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট এবং অপরিবর্তনীয়। এই সূত্রের মূল কথা হলো শক্তিকে নতুন করে সৃষ্টি করা যায় না বা শক্তিকে চিরতরে ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করা যায় না। শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র: 

- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র। 
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না। 
- প্রকৃতপক্ষে নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করা যায় না বা শক্তি ধ্বংসও করা যায় না। 
- এ বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে। 
- এই শক্তি একটু বাড়েওনি বা কমেওনি, এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা। 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক কে?
  1. বোর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. হাইজেনবার্গ
  4. ডিরাক
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- ১৮০৩ সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, ১৮৯৭ সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। 
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯২৪ সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 

- ১৯০০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং ১৮৮৭ সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক ১৯৩১ সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৬ সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- ১৮৯৯ সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১.
বায়োমাস শক্তির প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন ও হাইড্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
  3. কার্বন ও নাইট্রোজেন
  4. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

বায়োমাস শক্তি: 
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে। এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে। এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে। 
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস।
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস। 
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন। 
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রধানত কোন বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. জারণ বিক্রিয়া
  2. নিউক্লিয় ফিউশন
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. রাসায়নিক দহন
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শক্তির প্রধান উৎস হলো নিউক্লিয় ফিশন (Nuclear Fission) বিক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় একটি ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে (যেমন: ইউরেনিয়াম-২৩৫) নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে দুই বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে বিভক্ত করা হয়। এই বিভাজনের ফলে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি নির্গত হয়, যা ব্যবহার করে পানি ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয় এবং সেই বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 

- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩.
সমুদ্র তলদেশের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফ্যাদোমিটার 
  2. ব্যারোমিটার 
  3. টেলিস্কোপ 
  4. সিসমোমিটার
ব্যাখ্যা

সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ: 
- সাগর, মহাসাগরের পানিরাশির উপরিভাগ সমতল দেখা গেলেও সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ সমতল নয়। 
- স্থলভাগ যেমন বন্ধুর প্রকৃতির অর্থাৎ কোথাও সমভূমি, কোথাও মালভূমি, কোথাও সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, আবার কোথাও গভীর খাত, সমুদ্র তলদেশের ভূমির প্রকৃতিও তেমন বন্ধুর। বরং স্থলভাগের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশ অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। 
- সমুদ্র তলদেশে অসংখ্য পাহাড়, পর্বত, আগ্নেয়গিরি, মালভূমি, পর্বতচূড়া এবং সুগভীর খাত বর্তমান। 
- অতীতে জাহাজ হতে শিকল বা শক্ত তারের মাথায় ভারী জিনিস বেঁধে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হতো। 
- বর্তমানে অন্যান্য পদ্ধতিসহ শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার গিয়ে আবার ফিরে আসে, আর এভাবেই সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা সাধারণত ফ্যাদমে (এক ফ্যাদম সমান ছয় ফুট) পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- টেলিস্কোপ (Telescope) মূলত দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- সিসমোমিটার (Seismometer) ভূমিকম্প বা কম্পনের মাত্রা পরিমাপ করার যন্ত্র। 
- ব্যারোমিটার (Barometer) বায়ুর চাপ পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৪.
১০০ W এর একটি বাতি জ্বালানোর অর্থ- 
  1. ১০০ সেকেন্ডে ১ জুল শক্তি ব্যয় হচ্ছে
  2. মোট ১০০ জুল শক্তি ব্যয় হচ্ছে
  3. প্রতি সেকেন্ডে ১০০ নিউটন বল প্রয়োগ হচ্ছে
  4. প্রতি সেকেন্ডে ১০০ জুল শক্তি ব্যয় হচ্ছে
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা: 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার।
অর্থাৎ, t সময়ে W পরিমাণ কাজ করা হলে ক্ষমতা P হবে, P = W/t. 
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। তাই বলা যায়, ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। 
- কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে- ওয়াট (W)। 
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে, [P] = ML2T -3
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে বলা হয় 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে।
- 100 W এর একটা বাতি জ্বালানোর অর্থ হচ্ছে বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫.
যে রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই তাকে কী বলে?
  1. লব্ধ রাশি
  2. স্কেলার রাশি
  3. ভেক্টর রাশি
  4. দিক রাশি
ব্যাখ্যা

রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

• স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

• ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
নবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. একবার ব্যবহার করা যায়
  2. পরিবেশের ক্ষতি করে
  3. বারবার ব্যবহার করা যায়
  4. সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

- নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে এমন সব শক্তির উৎসকে বোঝায় যা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় পূরণ বা রিফিল হয়

শক্তি: 

- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না। 
- শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়, তাই জীবনের জন্য প্রয়োজন শক্তির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধান করে চলছে। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable energy): 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ শক্তি, বায়োমাস শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable energy): 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- শক্তির চাহিদা মেটাতে আমাদেরকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 
- শক্তির সঠিক ও কার্যকর ব্যবহারে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু কোন ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান?
  1. অপটিক্স
  2. ব্যাটারি ডিজাইন
  3. তাপগতিবিজ্ঞান 
  4. তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
ভোল্টমিটার দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়? 
  1. বিভব পার্থক্য 
  2. শক্তি 
  3. ত্বরণ 
  4. বিদ্যুৎ প্রবাহ 
ব্যাখ্যা

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

অ্যামিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।