পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়34 minutes
মোট প্রশ্ন৪৫
সিলেবাস
সাধারণ বিজ্ঞান সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার] (যারা প্যাকেজ নিয়েছেন তাদের জন্য সকল পরীক্ষা ফ্রি)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৫ প্রশ্ন

.
হৃৎস্পন্দন লিপিবদ্ধের যন্ত্র-
  1. ক) স্টেথোস্কোপ
  2. খ) ক্রেস্কোগ্রাফ
  3. গ) কার্ডিওগ্রাফ
  4. ঘ) স্ফিগমােম্যানােমিটার
ব্যাখ্যা
হৃৎস্পন্দন লিপিবদ্ধের যন্ত্র-কার্ডিওগ্রাফ; মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক যন্ত্র-স্ফিগমােম্যানােমিটার; হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ নির্ণায়ক যন্ত্র-স্টেথোস্কোপ এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র-ক্রেস্কোগ্রাফ।
[সূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি]
.
SI (International System of Units) পদ্ধতিতে পরিবাহিতার একক-
  1. ক) সিমেন্স
  2. খ) বেকেরেল
  3. গ) ডায়প্টার
  4. ঘ) কুলম্ব
ব্যাখ্যা
SI(International System of Units) পদ্ধতিতে পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S); আধানের একক কুলম্ব(C); তেজস্ক্রিয়তার একক বেকেরেল(Bq) এবং লেন্সের ক্ষমতার একক ডায়াপ্টার(D)।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
.
সময়ের পরিমাপে কোনটি সবচেয়ে ছোট?
  1. ক) ন্যনো সেকেন্ড
  2. খ) পিকো সেকেন্ড
  3. গ) এটো সেকেন্ড
  4. ঘ) মাইক্রো সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
এক মাইক্রো সেকেন্ড সমান 10-6s;
এক ন্যানো সেকেন্ড সমান 10-9s;
এক পিকো সেকেন্ড সমান 10-12s এবং
এক এটো সেকেন্ড সমান 10-18s।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
.
শব্দের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ক) শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন
  2. খ) শব্দের সঞ্চালন অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গাকারে মাধ্যমের সবদিকে হয়
  3. গ) শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন হয়
  4. ঘ) শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে না
ব্যাখ্যা
শব্দের বৈশিষ্ট্যঃ শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা) ওপর নির্ভর করে। শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন হয়। বায়ু বা যে কোন জড় মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করলে তা শুধু একদিকে নয় অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গাকারে (গোলকাকৃতিকভাবে) সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
.
তাপ সঞ্চালনের কোন প্রক্রিয়ায় আগুনের পাশে দাঁড়ালে আমরা উত্তাপ অনুভব করি?
  1. ক) পরিবহণ
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) বিকিরণ
  4. ঘ) প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
আমরা জানি তিন উপায়ে তাপ সঞ্চালন ঘটে। আগুনের পাশে দাঁড়ালে আমরা উত্তাপ অনুভব করি। অথবা গ্যাসের চুলা বা উত্তপ্ত বস্তুর খানিকটা নিচে হাত রাখলে গরম অনুভব করি। এ ক্ষেত্রে পরিচলন বা পরিবহন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয় না। কারণ এখানে কোনো কঠিন মাধ্যম নেই তাই পরিবহন হচ্ছে না। বায়ু মাধ্যমে তাপের পরিচলন হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে উত্তপ্ত বায়ু হালকা হবে এবং উপরে উঠবে, নিচে নামবে না। অথচ নিচে আমরা গরম অনুভব করি। এভাবে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়াটি বিকিরণ। সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
[সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
.
তাপমাত্রা কমলে বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা-
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। তাপমাত্রা বাড়লে এই ধারণ ক্ষমতা বাড়ে আবার তাপমাত্রা কমলে ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
[সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
.
নিচের কোন প্রাণী শব্দেতর কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়?
  1. ক) হাতি
  2. খ) মানুষ
  3. গ) বাদুড়
  4. ঘ) কুকুর
ব্যাখ্যা
শব্দের কম্পাঙ্ক ২০Hz থেকে কম হলে সেটাকে শব্দেতর বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে। এই কম্পনের শব্দ মানুষ শুনতে পায়না তবে কোনো কোনো জীব-জন্তু শুনতে পায়। হাতি এই কম্পনের শব্দ দ্বারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে কারণ হাতির শ্রাব্যতার সীমা ১৬Hz থেকে ১২,০০০Hz। মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০Hz থেকে ২০,০০০Hz।
[সূত্রঃ ব্রিটানিকা]
.
যে তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু এর মধ্যে অবস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয়, সেই তাপমাত্রাকে বলে-
  1. ক) স্ফুটনাঙ্ক
  2. খ) হিমাঙ্ক
  3. গ) গলনাঙ্ক
  4. ঘ) শিশিরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির একটি পরিমাপ শিশরাঙ্ক। যে তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু ঠান্ডা হয়ে এর মধ্যে অবস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয়, সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক বলে।
[সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
.
পাহাড়ী রাস্তার বিপজ্জনক বাঁকে নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) সমতল দর্পণ
  2. খ) উত্তল দর্পণ
  3. গ) উত্তল লেন্স
  4. ঘ) অবতল লেন্স
ব্যাখ্যা
পাহাড়ি রাস্তায় গাড়িচালনার জন্য অনেক সময় ৯০ ডিগ্রি কোণে বাঁক নিতে হয়। অদৃশ্য বাঁকে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির চালক পরস্পরকে দেখতে পান না, এছাড়া বাঁকের অপর পাশে কী আছে তা আদৌ তারা জানেন না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য বিপজ্জনক বাঁকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে বৃহৎ আকৃতির সমতল দর্পণ বসানো হয়। এর ফলে গাড়িচালকগণ বাঁকের আশেপাশে সবকিছু দেখতে পান এবং নিরাপদে গাড়ি চালাতে সক্ষম হন।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১০.
কম্পিউটারের মনিটরে কোন তিনটি রং প্রয়োজনীয় তীব্রতা দিয়ে অন্য সব রং তৈরি করে?
  1. ক) লাল, কমলা এবং সবুজ
  2. খ) লাল, আসমানী এবং হলুদ
  3. গ) লাল, নীল এবং সবুজ
  4. ঘ) লাল, বেগুনী এবং কমলা
ব্যাখ্যা
টেলিভিশন বা কম্পিউটারের মনিটরে কিংবা বইপুস্তকের রঙিন ছবির রংগুলো আসে লাল, নীল এবং সবুজ রংয়ের সূক্ষ্ম বিন্দু দিয়ে অর্থাৎ এই তিনটি রং প্রয়োজনীয় তীব্রতা দিয়ে অন্য সব রং তৈরি করে।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১১.
বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাণ কত ভোল্ট থেকে বেশি হলে আমরা অনুভব করতে পারি?
  1. ক) ১.৫ ভোল্ট
  2. খ) ৫০ ভোল্ট
  3. গ) ১১০ ভোল্ট
  4. ঘ) ২২০ ভোল্ট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বাসাবাড়িতে যে বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেওয়া হয় সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি বলা হয়। বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের সাপ্লাই ভোল্টেজ হলো ২২০ ভোল্ট এসি। একটি সাধারণ ব্যাটারির সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫ ভোল্ট। বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ ভোল্ট থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি। ২২০ ভোল্ট ইলেকট্রিক শক খেলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১২.
ব্যাটারিতে সাধারণত কয়টি অংশ থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং ইলেকট্রোলাইট।
সূত্রঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১৩.
থার্মোনিউক্লিয়ার বোমায় ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ইউরেনিয়ামের আইসোটোপ
  2. খ) প্লুটোনিয়ামের আইসোটোপ
  3. গ) হাইড্রোজেনের আইসোটোপ
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেন বোমার আরেক নাম থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা। এটি এমন এক অস্ত্র যার প্রচুর বিস্ফোরক শক্তির একটি অনিয়ন্ত্রিত স্ব-টেকসই চেইন প্রতিক্রিয়া হয়। যার ফলে হাইড্রোজেনের আইসোটোপগুলি অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার অধীনে পারমাণবিক ফিউশন নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়াতে হিলিয়াম গঠন করে। প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ তাপমাত্রা একটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ দ্বারা উত্পাদিত হয়।
[সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা]
১৪.
সাধারণ হাইড্রোজেনের কেন্দ্রে থাকে-
  1. ক) একটি নিউট্রন
  2. খ) একটি প্রোটন
  3. গ) প্রোটন ও নিউট্রন
  4. ঘ) প্রোটন ও ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
নিরপেক্ষ ও বৈদ্যুতিক চার্জহীন পারমাণবিক কণা নিউট্রন, যা সাধারণ হাইড্রোজেন বাদে প্রতিটি পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের উপাদান। সাধারণ হাইড্রোজেনের কেন্দ্রে একটি মাত্র প্রোটন থাকে। তবে বাড়তি একটি কিংবা দুইটি নিউট্রনসহ হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াসও রয়েছে।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১৫.
একটি সাধারণ বিটা কণাকে থামানো যায় কোনটির দ্বারা?
  1. ক) একটা কাগজের পৃষ্ঠা দ্বারা
  2. খ) কয়েক মিলিমিটার পুরু সিসার পাত দ্বারা
  3. গ) কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সিসার পাত দ্বারা
  4. ঘ) কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়ামের পাত দ্বারা
ব্যাখ্যা
আলফা কণা পদার্থের ভেতর দিয়ে বেশি দূর যেতে পারে না। একটা কাগজ দিয়েই আলফা কণাকে থামিয়ে দেওয়া যায়। বিটা কণা বা ইলেকট্রনের ভেদনক্ষমতা অনেক বেশি। কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়ামের পাত দ্বারা একটি সাধারণ বিটা কণাকে থামানো সম্ভব। আলফা বা বিটা কণার সমান গামা রশ্মিকে থামাতে কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সিসার পাতের দরকার হয়।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১৬.
প্রথম দুই ইলেকট্রোডের ভ্যাকুয়াম টিউব আবিষ্কৃত হয়-
  1. ক) ১৮৮৩ সালে
  2. খ) ১৯০৪ সালে
  3. গ) ১৯০৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৬ সালে
ব্যাখ্যা
জন ফ্লেমিং ১৯০৪ সালে এডিসন ক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে প্রথম দুই ইলেকট্রোডের একটি ভ্যাকুয়াম টিউব তৈরি করেন যেটি রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করত অর্থাৎ পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎপ্রবাহকে একদিকে প্রবাহিত করত। এই ভ্যাকুয়াম টিউবটিকে ইলেকট্রনিকসের শুরু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯০৬ সালে লি দ্য ফরেস্ট তৃতীয় একটি ইলেকট্রোড সংযােজন করে নতুন আরেকটি ভ্যাকুয়াম টিউব তৈরি করেন এবং সেটি ট্রায়ােড নামে পরিচিতি লাভ করে। ট্রায়ােড দিয়ে বৈদ্যুতিক প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করা যেত এবং সেটি অ্যামপ্লিফায়ার হিসেবে কাজ করতে পারত।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১৭.
এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হবে-
  1. ক) উত্তর মেরুতে
  2. খ) দক্ষিণ মেরুতে
  3. গ) বিষুবীয় অঞ্চলে
  4. ঘ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর পৃষ্টেও বস্তুর ওজনের অতি সামান্য তারতম্য ঘটে। এর কারণ হচ্ছে পৃথিবী সুষম গোলক নয় এবং ভূপৃষ্টে সর্বত্র অভিকর্ষজ ত্বরণের মানও এক নয়। এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হবে পৃথিবীর দুই মেরুতে অর্থাৎ উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে। যেখানে এর ওজন হবে ৯.৮৩ নিউটন। বিষুবীয় অঞ্চলে এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম ৯.৭৮ নিউটন। ক্রান্তীয় অঞ্চলে এর ওজন হবে ৯.৭৯ নিউটন।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি]
১৮.
‘পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে’-এই মতবাদের প্রবক্তা কে?
  1. ক) কোপারনিকাস
  2. খ) টলেমী
  3. গ) অ্যারিস্টটল
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘোরে। বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোর্তিবিজ্ঞানী টলেমী জোরালোভাবে বলেন যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। কোপারনিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ ব্যাক্ত করেন। তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। তার মডেলের মূল কথা ছিল পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী কেপলার ও গ্যলিলিও, কোপারনিকাসের মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
১৯.
গ্যসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) তাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক বাড়ে
  2. খ) সামান্য চাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক কমে যায়
  3. গ) নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই
  4. ঘ) কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় আন্তঃকণা আর্কষণ বল বেশি
ব্যাখ্যা
গ্যসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই। এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোকনা কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন। গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় অনেক দূরে দূরে অবস্থান করে তাই এদের আন্তঃকণা আর্কষণ বল খুবই কম। তাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক বাড়ে এবং সামান্য চাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক কমে যায়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
২০.
নিচের কোনটি উর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়?
  1. ক) বেনজয়িক এসিড
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। আয়োডিন, বেনজয়িক এসিড কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথলিন, কার্বন, কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড প্রভৃতি পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলোকে উর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
২১.
কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়-
  1. ক) মোমে
  2. খ) পারদে
  3. গ) কর্পূরে
  4. ঘ) লবণে
ব্যাখ্যা
তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। হাইড্রোজেন ও কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। মোম জ্বালালে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়। বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে। তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে কঠিন মোমে পরিণত হয়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
২২.
‘প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত’- মতবাদটির প্রবক্তা?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) অ্যারিস্টটল
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৮০৩ সালে বিজ্ঞানী জন ডাল্টন বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে পরমাণু সম্পর্কে এই মতবাদটি দেন-’ প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত’।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
২৩.
মূদ্রণ-কালি এবং কালো ও ধূসর রং প্রস্তুতিতে প্রচুর ব্যবহার রয়েছে কোনটির?
  1. ক) কোক
  2. খ) চারকোল
  3. গ) গ্রাফাইট
  4. ঘ) ভুসা কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা, কোক, চারকোল ইত্যাদি অনিয়তাকার কার্বন। চারকোলের গ্যাস পরিশোষনের ক্ষমতা থাকায় বিষাক্ত গ্যাস পরিশোষনের জন্য নির্মিত গ্যাস প্রতিরোধক মুখোশে চারকোল ব্যবহৃত হয়। কার্বনের বিজারণ ক্ষমতা বেশ উল্লেখযোগ্য। সক্রিয়তা শ্রেণীতে অ্যালুমিনিয়ামের নিচের অনেক ধাতুর অক্সাইড থেকে বিজারণের মাধ্যমে ধাতু নিষ্কাশনের জন্য কোক ব্যবহৃত হয়। বাত্যাচুল্লীতে আয়রন অক্সাইডকে কোকের সাহায্যে বিজারিত করে লোহা উৎপাদন করা যায়। কার্বনের একটি রূপ ভুসা কয়লা (lamp black)। মূদ্রণ-কালি এবং কালো ও ধূসর রং প্রস্তুতিতে এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে।
[সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত]
২৪.
লেবুর রসে লালবর্ণের লিটমাস কাগজ ডুবালে, লিটমাস কাগজের রঙ পরিবর্তিত হবে-
  1. ক) নীল রঙে
  2. খ) গোলাপি রঙে
  3. গ) হলুদ রঙে
  4. ঘ) রঙের পরিবর্তন হবে না
ব্যাখ্যা
লিটমাস কাগজ তৈরি করা হয় সাধারণ কাগজে লাইকেন (Lichens) নামক এক ধরনের গাছ থেকে প্রাপ্ত রঙের সাহায্যে। এভাবে প্রাপ্ত লিটমাস কাগজ দেখতে লালবর্ণের হয়। লেবুর রসে থাকে সাইট্রিক এসিড। এতে যখন লাল লিটমাস ডুবানো হয়, তখন কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় না, ফলে লিটমাস কাগজের রঙের কোনোই পরিবর্তন হয় না। পক্ষান্তরে নীল লিটমাস কাগজ ডুবালে, রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তিত হয়ে যায়। লালবর্ণের লিটমাস কাগজকে ক্ষারীয় দ্রবণে ডুবালে তা নীলবর্ণ ধারণ করে। অন্যদিকে নীলবর্ণের লিটমাস কাগজে কোনো এসিড যোগ করলে তা লাল বর্ণের লিটমাস কাগজে পরিণত হয়। এসিডের একটি ধর্ম হলো এরা নীল লিটমাসকে লাল করে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি]
২৫.
মিল্ক অফ লাইম (Milk of Lime) নামে অধিক পরিচিত-
  1. ক) পানি ও ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তৈরি পেস্ট
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের পাতলা দ্রবণ
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাসপেনশান
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ক্লোরিন গ্যাসের বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ব্লিচিং পাউডার তৈরি হয় শুকনো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ক্লোরিন গ্যাসের বিক্রিয়া ঘটিয়ে। আবার ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের পাতলা দ্রবণ যা চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার (Lime water) নামে পরিচিত সেটি আমাদের ঘরবাড়ি হোয়াইট ওয়াশ করতে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে পানি ও ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তৈরি পেস্ট যা মিল্ক অফ লাইম (Milk of Lime) নামে অধিক পরিচিত, তা পোকামাকড় দমনে ব্যবহৃত হয়। এন্টাসিড ঔষধ হলো মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড। যা সাসপেনশান ও ট্যাবলেট দুভাবেই পাওয়া যায়। ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাসপেনশান মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া (Milk of Magnesia) নামেই অধিক পরিচিত। কখনও কখনও এন্টাসিডে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডও থাকে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি]
২৬.
কোনটি তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ?
  1. ক) পানি
  2. খ) লবণ
  3. গ) চিনি
  4. ঘ) ইথানয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
যে সকল পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অন্য পদার্থে পরিণত হয় তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
যেমনঃ কপার সালফেট, সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম ক্লোরাইড, পানি, ইথানয়িক এসিড ইত্যাদি।
সব পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে সমস্ত পদার্থ দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে না ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়াও করে না, তাদের তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
যেমনঃ চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি এবং রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
২৭.
ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকে-
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
ঝিনুক বা শামুকের খোলসে প্রায় ৯৮% ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে। তাপ দিয়ে ঝিনুক বা শামুকের খোলস থেকে চুন তৈরি করা হয়। তাপে ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙ্গে গিয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
২৮.
আয়রনের আকরিক নয় কোনটি
  1. ক) ম্যাগনেটাইট
  2. খ) লিমোনাইট
  3. গ) হেমাটাইট
  4. ঘ) চালকোসাইট
ব্যাখ্যা
আয়রনের আকরিকঃ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O), হেমাটাইট (Fe2O3)। কপারের আকরিকঃ কপার পাইরোইট (CuFeS2), চালকোসাইট(Cu2S)।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
২৯.
অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি তৈরিতে কোন ধাতু সংকর ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ব্রাস
  2. খ) ব্রোঞ্জ
  3. গ) ডুরালমিন
  4. ঘ) স্টেইনলেস স্টিল
ব্যাখ্যা
লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। রসায়ন শিল্পের বিক্রিয়ার পাত্র, ছুরি, কাঁচি, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়।
উড়োজাহাজের কাঠামো (বডি), বাই সাইকেলের যন্ত্রাংশ ইত্যাদি তৈরিতে ডুরালমিন ব্যবহার করা হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
৩০.
‘অলিয়াম’ বলতে বুঝায়-
  1. ক) লঘু সালফিউরিক এসিড
  2. খ) কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক এসিড
  3. গ) ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) গাঢ় সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
১০০% সালফিউরিক এসিড (SO3) গ্যাস শোষণ করে ধূমায়িত সালফিউরিক এসিড বা অলিয়াম [H2S2O7] উৎপন্ন করে। উৎপন্ন অলিয়ামকে প্রয়োজনমত পানির সাথে মিশ্রিত করে লঘু এসিডে পরিণত করা হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রম, উন্মুক্ত]
৩১.
মত্স্য সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে বলে-
  1. ক) হারপেটলজি(Herpetology)
  2. খ) অস্টিওলজি(Osteology)
  3. গ) ইকথায়োলজি(Ichthyology)
  4. ঘ) অরনিথোলজি(Ornithology)
ব্যাখ্যা
মত্স্য সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে বলে ইকথায়োলজি(Ichthyology)। উভচর ও সরীসৃপ সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে বলা হয় হারপেটলজি(Herpetology)। অরনিথোলজি(Ornithology) হল পাখি সম্পর্কিত বিদ্যা। অস্টিওলজি(Osteology) হল হাড় সম্পর্কিত বিদ্যা।
[সূত্র: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বোর্ড বই এবং ব্রিটানিকা]
৩২.
প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে ভৌত জীবিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. ক) হিস্টোলজি
  2. খ) জেনেটিক্স
  3. গ) ইকোলজি
  4. ঘ) ইভোলিউশন
ব্যাখ্যা
বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজিতে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়। বিবর্তন (ইভোলিউশন)- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন ও ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহ এই শাখার আলোচনার বিষয়। বংশগতিবিদ্যা (জেনেটিক্স)- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। হিস্টোলজি- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এই শাখায় আলোচনা করা হয়।
[সূত্র: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বোর্ড বই]
৩৩.
আধুনিক শ্রেণিকরণ পদ্ধতিতে নিচের কোনটি ফানজাই বা ছত্রাক রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) পেনিসিলিয়াম
  3. গ) মাশরুম
  4. ঘ) ফার্ন
ব্যাখ্যা
রাজ্যঃ ফানজাই বা ছত্রাক- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই এরা পরভোজী। উদাহরণঃ ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। ফার্ন প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এরা স্বভোজী এবং এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান ষষ্ঠ শ্রেণি]
৩৪.
মস উদ্ভিদের জন্য কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট সপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. খ) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট অপুষ্পক উদ্ভিদ
  3. গ) মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত সপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. ঘ) মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত অপুষ্পক উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
মস উদ্ভিদে কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই। মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। এরা সবুজ ও স্বভোজী। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান ষষ্ঠ শ্রেণি]
৩৫.
একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত কতটি ধাপ আছে?
  1. ক) ছয়টি
  2. খ) সাতটি
  3. গ) আটটি
  4. ঘ) নয়টি
ব্যাখ্যা
প্রজাতি হলো বৈশিষ্ট্যের সর্বাধিক মিলসম্পন্ন একদল জীব যারা আন্তঃপ্রজননের মাধ্যমে উর্বর প্রজন্ম তৈরিতে সক্ষম, যেমন- মানুষ। পৃথিবীর সব মানুষ গঠন ও জনন বৈশিষ্ট্যে সর্বাধিক মিলসম্পন্ন, তাই পৃথিবীর সব মানুষ একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক এবং সর্বনিম্ন ধাপ। একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত সাতটি ধাপ আছে।
যথা- রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ এবং প্রজাতি।
[সূত্র: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৩৬.
আদিকোষী বা প্রোক্যারিওটা অণুজীবের উদাহরণ হল-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
এক্যারিওটা বা অকোষীয়ঃ এসব অণুজীব এতই ছোট যে তা সাধারণ আলোক অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচেও দেখা যায় না। এদের দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। যেমন- ভাইরাস।
প্রোক্যারিওটা বা আদিকোষীঃ যেসব অণুজীবের কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত নয় তারাই এ রাজ্যের সদস্য। সুগঠিত কেন্দ্রিকা না থাকায় এদের কোষকে আদিকোষ বলা হয়। যেমন- ব্যাকটেরিয়া।
ইউক্যারিওটা বা প্রকৃতকোষীঃ যেসব অনুজীব কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত তাদেরই প্রকৃত কোষ বলে। শৈবাল, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এ ধরনের অণুজীব।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
৩৭.
চা-পাতার রেড রাস্ট রোগের সৃষ্টি করে-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) শৈবাল
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) সায়ানো ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
সমাঙ্গ বর্গের প্রধানত ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী উদ্ভিদরাই শৈবাল। এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মাতে পারে। এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। এদের দেহে কোন পরিবহন কলা থাকে না। এর সবুজ, লাল, বাদামী ইত্যাদি নানা রঙের হতে পারে। ‘স্পাইরোগাইরা’ নামক শৈবাল জলাশয়ে পাওয়া যায়। সামদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আয়োডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সামদ্রিক শৈবাল। মৎস্য চাষে ফাইটোপ্ল্যাংক্টন বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর প্রধান অংশই শৈবাল। চা-পাতার রেড রাস্ট শৈবাল জাতীয় মারাত্মক রোগ। পুকুরে শৈবাল ওয়াটারব্লুম সৃষ্টি করে। ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
৩৮.
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে-
  1. ক) রেস্পিরেশন
  2. খ) ফটোলাইসিস
  3. গ) ফসফোরাইলেশন
  4. ঘ) ফটোপিরিওডিজম
ব্যাখ্যা
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে ফটোলাইসিস। উদ্ভিদের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৩৯.
সালোকসংশ্লেষণ ভাল হয় না কোন আলোতে?
  1. ক) হলুদ আলোতে
  2. খ) লাল আলোতে
  3. গ) নীল আলোতে
  4. ঘ) বেগুনি আলোতে
ব্যাখ্যা
আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতে সালোকসংশ্লেষণ ভাল হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভাল হয় না।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪০.
বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্যের জন্য ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি বা Necessary Evil’ বলা হয়-
  1. ক) ইমবাইবিশনকে
  2. খ) ব্যাপনকে
  3. গ) অভিস্রবণকে
  4. ঘ) প্রস্বেদনকে
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয় তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। এছাড়া কান্ড এবং শাখা-প্রশাখা থেকেও প্রস্বেদন হয়ে থাকে। পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদ দেহে পানি ও খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়। প্রস্বেদন কিছু ক্ষতিসাধন করলেও এই প্রক্রিয়া উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্যের জন্য বিজ্ঞানী কার্টিস প্রস্বদনকে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি বা Necessary Evil’ নামে অভিহিত করেছেন।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪১.
নিচের কোনটি প্রাণীপরাগী ফুল?
  1. ক) কচু
  2. খ) ধান
  3. গ) পাতাশেওলা
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়।
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
যেমন- ধান।
পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই।
যেমন- পাতাশেওলা।
প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে।
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪২.
হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর জমাট বাঁধতে বাধা দেয়-
  1. ক) মনোসাইট
  2. খ) নিউট্রোফিল
  3. গ) বেসোফিল
  4. ঘ) ইওসিনোফিল
ব্যাখ্যা
বেসোফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে। ইওসিনোফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪৩.
স্নায়ুকোষ বা নিউরনের ক্ষেত্রে সঠিক নয়-
  1. ক) এর কোষে সেন্ট্রিওল থাকে না
  2. খ) এটি মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ
  3. গ) এর কোষদেহে সাইট্রোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস থাকে
  4. ঘ) অন্যান্য কোষের মতো বিভাজিত হয়
ব্যাখ্যা
স্নায়তন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে। নিউরন মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ। নিউরন দুইটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- ক) কোষদেহ এবং খ) প্রলম্বিত অংশ।
কোষদেহ : কোষদেহ নিউরনের প্রধান অংশ। কোষদেহ বিভিন্ন আকৃতির হয়, যেমন-গোলাকার, ডিম্বাকার বা নক্ষত্রাকার। কোষদেহ কোষ আবরণী, সাইট্রোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস দ্বারা গঠিত। এই কোষে সেন্ট্রিওল থাকে না। তাই এরা অন্যান্য কোষের মতো বিভাজিত হয় না।
প্রলম্বিত অংশ : কোষদেহ থেকে উৎপন্ন শাখা-প্রশাখাকে প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুই প্রকার। যথা- ১) অ্যাক্সন এবং ২) ডেনড্রন।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪৪.
মস্তিষ্কের কোন অংশ পেশির টান ও দেহের ভারাসাম্য নিয়ন্ত্রন করে?
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) সেরিবেলাম
  3. গ) থ্যালামাস
  4. ঘ) হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থিত লঘুমস্তিষ্ক। এর তিনটি অংশ-সেরিবেলাম, পনস ও মেডুলা অবলংগাটা। পনসের বিপরীত দিকে অবস্থিত খন্ডাংশটি হলো সেরিবেলাম। এটা অনেকটা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। সেরিবেলাম ডান ও বাম দু’অংশে বিভক্ত। এটি দেহের পেশির টান নিয়ন্ত্রন, চলনে সমন্বয় সাধন, দেহের ভারাসাম্য রক্ষা, দৌড়ান ও লাফানোর কাজে জড়িত পেশিগুলোর কার্যাবলি নিয়ন্ত্রন করে।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪৫.
মানবদেহে প্রথ্রোম্বিন নামক প্রোটিন তৈরি করে-
  1. ক) ভিটামিন ‘ই’
  2. খ) ভিটামিন ‘ডি’
  3. গ) ভিটামিন ‘কে’
  4. ঘ) ভিটামিন ‘সি’
ব্যাখ্যা
সবুজ রঙের শাকসবজি, লেটুসপাতা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডিমের কুসুম, সয়াবিন তেল এবং যকৃতে ভিটামিন ‘কে’ পাওয়া যায়। দেহে ভিটামিন ‘কে’ প্রথ্রোম্বিন নামক প্রোটিন তৈরি করে। প্রথ্রোম্বিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়। পিত্তরস নিঃসরণে অসুবিধা হলে ভিটামিন কে-এর শোষণ কমে যায়। ভিটামিন ‘কে’- এর অভাবে ত্বকের নিচে ও দেহাভ্যন্তরে যে রক্ত ক্ষরণ হয় তা বন্ধ করার ব্যবস্থা না নিলে রোগী মারা যেতে পারে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]