পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ] ২. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।] উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
বিশেষ্য কত প্রকার? 
  1. ৪ প্রকার
  2. ৫ প্রকার 
  3. ৬ প্রকার 
  4. ৯  প্রকার 
সঠিক উত্তর:
৬ প্রকার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ প্রকার 
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ:
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' এখানে 'জনে জনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃ কারকে ৭মী
  2. কর্ম কারকে ৭মী
  3. করণ কারকে ৭মী
  4. অপাদান কারকে ৭মী
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারকে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' এখানে 'জনে জনে' কর্ম কারকে ৭মী  বিভক্তি।  

• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'নৌকা টেনে বের করতে হবে।' কোন ধরনের বাচ্য?
  1. কর্ম বাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
• ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন- এ পথে চলা যায় না।
- তেমনি ভাবে 'নৌকা টেনে বের করতে হবে।'

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
খোকা তোমাকে বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।"  এর পরোক্ষ উক্তি কোনটি? 
  1. খোকা তোমাকে বলল যে, আমার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
  2. খোকা তোমাকে বলল যে, তোমার বাবা বাড়ি নেই।
  3. খোকা তোমাকে বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
  4. খোকা তোমাকে বলল যে, তার বাবা বাড়ি থাকেন না।'
সঠিক উত্তর:
খোকা তোমাকে বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোকা তোমাকে বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
- যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে। যথা তিনি বললেন, "বইটা আমার দরকার।"
- যে বাক্যে বক্তার উক্তি অন্যের জবানিতে রূপান্তরিতভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলা হয়।
যথা:
- তিনি বললেন যে বইটা তাঁর দরকার।

• উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
১. প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে। পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়। প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়।
বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: খোকা তোমাকে বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।"
পরোক্ষ উক্তি: খোকা তোমাকে বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
আত্মবাচক সর্বনাম কোনটি? 
  1. নিজে 
  2. আমি 
  3. আমাদের
  4. সবাই
সঠিক উত্তর:
নিজে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজে 
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আমাদের', 'আমি' ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম।
- 'সবাই'  সকলবাচক সর্বনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
কর্মবাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
  2. এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
  3. এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
  4. রোগী পথ্য সেবন করে।
সঠিক উত্তর:
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• 'আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।'- বাক্যটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ।

• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যেমন-শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

• কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়। যথা- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়। চোরটা ধরা পড়েছে।
• কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে। যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই। ও এবার ট্রেনে ওঠা যাক।- ভাববাচ্যের উদাহরণ।
- রোগী পথ্য সেবন করে।- কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।' - বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যায় না।
  2. সূর্য কখনো পশ্চিম দিকে অস্ত যায় না।
  3. সূর্য কেবল পশ্চিম দিকে অস্ত যায় না।
  4. সূর্য পশ্চিম ছাড়া অন্যদিকে অস্ত যায় না।
সঠিক উত্তর:
সূর্য পশ্চিম ছাড়া অন্যদিকে অস্ত যায় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য পশ্চিম ছাড়া অন্যদিকে অস্ত যায় না।
ব্যাখ্যা
'সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।' - বাক্যটির নেতিবাচক রূপ-  'সূর্য পশ্চিম ছাড়া অন্যদিকে অস্ত যায় না।'

• অস্তিবাচক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর: 


• সূত্র: অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-'হ্যাঁ' সূচক বাক্যকে 'না' করতে হলে মূল অর্থ পরিবর্তন না করে বাকা পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
- অস্তিবাচক : 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।'
- নেতিবাচক : 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার যোগ্য নহে।'

• সূত্র: নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়াকে) নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করা হয়।
যেমন:
- অস্তিবাচক: মন নিচুতে নামতে অনিচ্ছুক।
- নেতিবাচক: মন নিচুতে নামতে চায় না।

• সূত্র: প্রয়োজন মতো বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক প্রয়োগ করতে হয়।
যেমন:
- অস্তিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের কি? 
- নেতিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের আপত্তি থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: না'-বাচক ক্রিয়া ও 'না'-বাচক শব্দ মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।
- অস্তিবাচক: ভায়ের উচিত কাজ হয়েছে।
- নেতিবাচক ভায়ের অনুচিত কাজ হয়নি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'পানিতে না নামলে সাঁতার শিখতে পারবে না' এই বাক্যের জটিল রূপ কী?
  1. যদি পানিতে না নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে না।
  2. পানিতে নামো, নচেৎ সাঁতার শিখতে পারবে না।
  3. পানিতে নামলে সাঁতার শিখতে পারবে।
  4. আগে পানিতে নামো, নতুবা সাঁতার শিখতে পারবে না।
সঠিক উত্তর:
যদি পানিতে না নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি পানিতে না নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে না।
ব্যাখ্যা
• পানিতে না নামলে সাঁতার শিখতে পারবে না' একটি সরল বাক্য।
এর জটিল রূপ: যদি পানিতে না নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে না।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- সরল বাক্য: মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না।
- জটিল বাক্য: যে মিথ্যাবাদী, তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি ক্রমবাচক বিশেষণ? 
  1. আধা
  2. তৃতীয়
  3. আট
  4. ৩৪তম
সঠিক উত্তর:
আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন- তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।
• পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১০.
'সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'সোমবার থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি? 
  1. কর্ম কারকে ৫মী বিভক্তি
  2. করণে কারকে ৫মী বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. অধিকরণ কারকে ৫মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'সোমবার থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত:গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

• ৫মী বিভক্তি: হতে, থেকে, চেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ? 
  1. সে যেন আসে।
  2. এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
  3. দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।
  4. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে। 
সঠিক উত্তর:
এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
ব্যাখ্যা
• 'এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।'- ভাববাচ্যের উদাহরণ।

 • ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
• ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন- এ পথে চলা যায় না।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

অন্যদিকে,
- সে যেন আসে।- কর্তৃবাচ্য।
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।- কর্মবাচ্য। 
- মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে। - কর্তৃবাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২.
'সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।' - বাক্যটির সরলরূপ কোনটি? 
  1. আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।
  2. সত্য কথা বলিনি, তবে বিপদে পড়িনি।
  3. সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
  4. যেহেতু সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি। 
সঠিক উত্তর:
সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে, 
(১) বাক্যসমূহের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
(২) অন্যান্য সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
(৩) অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
(৪) কোনো কোনো স্থলে একটি বাক্যকে হেতুবোধক বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
- যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
- সরল বাক্য: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
১৩.
'সর্বাঙ্গে ব্যাথা, ঔষধ দিব কোথা।'- এখানে 'সর্বাঙ্গে' কোন কারকে কোন বিভক্ত? 
  1. কর্তায় ৭মী বিভক্তি 
  2. কর্মে ৭মী বিভক্তি 
  3. করণে ৭মী বিভক্তি 
  4. অধিকরণে ৭মী বিভক্তি 
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী বিভক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী বিভক্তি 
ব্যাখ্যা
• 'সর্বাঙ্গে ব্যাথা, ঔষধ দিব কোথা।'- এখানে 'সর্বাঙ্গে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা-
- আধার (স্থান) : আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাল (সময়) প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়। যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৪.
'ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।'- এখানে 'ঘাটে'-
  1. কালাধিকরণ
  2. ভাবাধিকরণ
  3. অধিকারাধিকরণ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।'- এখানে 'ঘাটে' ঐকদেশীয় আধারাধিকরণ। 

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 

অধিকরণ তিন প্রকার
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

• ভাবাধিকরণ:
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।

• কালাধিকরণ:

- সময় বুঝালে কালাধিকরণ হবে। 

• আধারাধিকরণ:
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
ক. ঐকদেশীয় আধারাধিকরণ: বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। 
খ. অভিব্যাপক আধারাধিকরণ: উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
গ. বৈষয়িক আধারাধিকরণ: বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৫.
'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত' - বাক্যটিতে আদর্শ বাক্যের কোন গুণটি অনুপস্থিত?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন –
- 'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।' লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ - ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন –
কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

অন্যদিকে,
• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন-
'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

• যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।' এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬.
"কর্ম কর, অনুরূপ ফল পাবে।" গঠন অনুসারে বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরুল বাক্য
  4. নির্দেশাত্মক বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• "কর্ম কর, অনুরূপ ফল পাবে।" গঠন অনুসারে বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন –
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৭.
'যিনি জ্ঞানী, তিনিই সত্যিকার ধনী।' বাক্যটির সরলরূপ কী? 
  1. জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।
  2. জ্ঞানীরা ধনী হয়।
  3. যে ব্যক্তি ধনী, তিনি জ্ঞানী।
  4. তিনি জ্ঞানী, তাই সত্যিকার  ধনী
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।
ব্যাখ্যা
'যিনি জ্ঞানী, তিনিই সত্যিকার ধনী।' এটি একটি জটিল বাক্য।
• এটির সরলরূপ: জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।

• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:

- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিতে হয়।
- অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হবে।
যেমন:
- জটিল বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
- সরল বাক্য: আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
'সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।' - এখানে 'জন্য' কোন ধরনের অব্যয়? 
  1. অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. পদান্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।' - এখানে 'জন্য' পদান্বয়ী অব্যয়।

• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:

- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৯.
'অন্ধজনে দেহ আলো।' এখানে 'অন্ধজনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি? 
  1. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
  2. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে। বস্তু নয়- ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
(অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ, কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদান কারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)
- সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) চতুর্থী বা কে বিভক্তি: ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে না দিলে কর্মকারক হবে। যেমন ধোপাকে কাপড় দাও।)
(খ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি: সৎপাত্রে কন্যা দান কর। সমিতিতে চাঁদা দাও। 'অন্ধজনে দেহ আলো'।

জ্ঞাতব্য: নিমিত্তার্থে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন- 'বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২০.
'সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।' কোন বাচ্য? 
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্ম বাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়। যেমন-
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২১.
কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষ উক্তির ক্রিয়ার কাল অপরিবর্তিত থাকে?
  1. অনুজ্ঞা ভাব
  2. প্রশ্ন জিজ্ঞাসা
  3. আবেগ প্রকাশ
  4. চিরন্তন সত্য
সঠিক উত্তর:
চিরন্তন সত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরন্তন সত্য
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।

যেমন-
- প্রত্যক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
- পরোক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।

- প্রত্যক্ষ উক্তি: বৈজ্ঞানিক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।"
- পরোক্ষ উক্তি : বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২২.
'যেই তাঁর দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।'- কোন ধরনের বাক্য? 
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
ব্যাখ্যা
• 'যেই তাঁর দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।' - জটিল বাক্য।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- মিশ্র বা জটিল বাক্য যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা-

১. যে পরিশ্রম করে (আশ্রিত বাক্য), সে-ই সুখ লাভ করে (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
২. সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (আশ্রিত বাক্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৩.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. বাক্য
  2. বর্গ
  3. পদ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।
- বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

- সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।

- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন- লাল বা নীল কলমটা আনো।

- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।

- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।

- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।