পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৪ (নতুন রাউন্ড) টপিক মাইক্রোবায়োলজি, প্ল্যান্ট ডাইভারসিটি, উদ্ভিদের প্রকারভেদ, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য ও বংশ বৃদ্ধি, ফুল, ফল, উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় কার্যাবলি [Live Class – 29, 30 & 31]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
দূর্বাঘাস সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. এসব হার্ব সাধারণত দুই-বছরকাল জীবিত থাকে
  2. সাধারণত এরা একবার ফল দিয়ে মারা যায়
  3. প্রথম বছরে দৈহিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হয় ও দ্বিতীয় বছরে ফল ও ফুল হয়
  4. ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড হতে প্রতি বছর বায়বীয় কাণ্ড বের হয়
ব্যাখ্যা
• দূর্বাঘাসের ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড হতে প্রতি বছর বায়বীয় কাণ্ড বের হয়। 

• বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ:
- বহুবর্ষজীবী (Perennial) উদ্ভিদ বলতে এমন উদ্ভিদকে বোঝায়, যা দুই বছরের বেশি সময় ধরে জীবিত থাকে এবং বারবার ফুল, ফল, পাতা ও কান্ড গজায়।
উদাহরণ- দূর্বাঘাস, আদা, হলুদ ইত্যাদি। 

• বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
- এরা বছরে এক বা একাধিকবার ফুল ও ফল ধারণ করতে পারে।
- ভূ-নিম্নস্থ রাইজোম (Rhizome) ও স্টোলন (Stolon) থেকে প্রতিবছর নতুন বায়বীয় কাণ্ড উৎপন্ন হয়। 
- এরা সারা বছরই বৃদ্ধি পায়।

• দূর্বাঘাস "বারমুডা গ্রাস" একটি বহুবর্ষজীবী (perennial) ঘাস। 

• দূর্বাঘাস:

- এটি ঘাসজাতীয় একটি উদ্ভিদ, যা সারাবিশ্বে বহুল পরিচিত। 
- এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Cynodon dactylon. 
- এটির শিকড় মাটি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষয় রোধ করে।
- এর ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড (রাইজোম) থেকে প্রতি বছর নতুন বায়বীয় কাণ্ড উৎপন্ন হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- FAO.
.
উদ্ভিদের কোন অংশের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে?
  1. মূল
  2. স্টোমাটা
  3. ক্লোরোফিল
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র, কিউটিকল ও লেন্টিসেলের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে। 

• প্রস্বেদন:
- যে শারীরতাত্ত্বিক (physiological) প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ (সাধারণত পাতা) হতে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।

• বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত উদ্ভিদের যে কোনো অংশে প্রস্বেদন সংঘটিত হয়।
- পাতাই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন অঙ্গ।
- গড় হিসেবে শোষিত পানির মাত্র ১% দেহে অবস্থান করে ও কাজে লাগে, বাকি ৯৯% পানি দেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। এটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া। 

প্রস্বেদন হওয়ার স্থানের উপর ভিত্তি করে প্রস্বেদন ৩ প্রকার।
যথা:

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration):
- এ প্রক্রিয়ায় স্টোমাটা বা পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন ঘটে। 
- এ প্রক্রিয়ায় শতকরা ৯৫-৯৮ ভাগ প্রস্বেদন হয়ে থাকে। 

ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration):
- এ প্রক্রিয়ায় পত্রত্বকের কিউটিকলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন ঘটে। 
- এ প্রক্রিয়ায় শতকরা ২-৫ ভাগ প্রস্বেদন হয়ে থাকে। 

লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration):
- এ প্রক্রিয়ায় কাণ্ডের লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন ঘটে।
- এ প্রক্রিয়ায় শতকরা প্রায় ১ ভাগ প্রস্বেদন হয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে শিরাবিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. জালিকাকার শিরাবিন্যাস দেখা যায়
  2. সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়
  3. শিরা-উপশিরা গুলো পরস্পর আলাদা থাকে
  4. রেটিকুলেট ভিনেশন দেখা যায় না
ব্যাখ্যা
• দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায় জালিকা বা রেটিকুলেট শিরাবিন্যাস দেখা যায়। 

• পত্রফলকের শিরাবিন্যাস:
পত্রফলকে মধ্যশিরা (অথবা একাধিক প্রধান শিরা), শিরা, উপশিরা থাকে। যে নির্দিষ্ট রীতিতে শিরা-উপশিরাগুলো পত্রফলকে বিন্যস্ত থাকে তাকে শিরাবিন্যাস বলে।
-ফলকের শিরাবিন্যাস উদ্ভিদ শনাক্তকরণে কাজে লাগে। 

• পাতার শিরাবিন্যাস ২ প্রকার। যথা:
→  রেটিকুলেট ভিনেশন (Reticulate venation) বা জালিকা শিরাবিন্যাস:
- পাতার শিরা-উপশিরা ও এদের শাখা-প্রশাখাগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি জালের মতো সৃষ্টি করলে তাকে জালিকা শিরাবিন্যাস বলা হয়।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায় জালিকা শিরাবিন্যাস দেখা যায়।
- শিরাগুলো শাখান্বিত হয়ে জালের মতো আকৃতি তৈরি করে।
- উদাহরণ- আম, জাম, শিমের পাতা।

→  প্যারালেল ভিনেশন (Parallel venation) বা সমান্তরাল শিরাবিন্যাস:
- পাতার শিরাগুলো পরস্পর যুক্ত না হয়ে সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকলে তাকে সমান্তরাল শিরাবিন্যাস বলা হয়।
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়। 
- শিরাগুলো সমান্তরালভাবে সাজানো থাকে।
- উদাহরণ-  ধান, গম, ঘাস। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
কাকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়?
  1. লুই পাস্তুর
  2. রবার্ট হুক
  3. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  4. অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক
ব্যাখ্যা
• অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুককে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়

• অণুজীববিজ্ঞান:

- অণুজীববিজ্ঞান হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যা অণুজীব নিয়ে আলোচনা করে।
- অণুজীব বলতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, এবং প্রোটোজোয়া-র মতো অতি ক্ষুদ্র জীবকে বোঝায়, যা খালি চোখে দেখা যায় না।
- এই শাখার মূল আলোচ্য বিষয় হল অণুজীবের গঠন, কার্যাবলী, বাস্তুসংস্থান, এবং রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতা। 

• অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক-ই প্রথম অণুজীব আবিষ্কার করেন, তাই তাঁকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

• অণুজীববিজ্ঞান এর গুরুত্ব:
- রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা: অণুজীববিজ্ঞান রোগের কারণ নির্ণয় এবং উপযুক্ত প্রতিষেধক ও ঔষধ তৈরিতে সহায়তা করে।  
- খাদ্য সুরক্ষা: খাদ্য উৎপাদনে অণুজীবের ভূমিকা এবং খাদ্য সংরক্ষণে অণুজীবের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- পরিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অণুজীবের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- কৃষি: অণুজীব সার তৈরিতে এবং ফসলের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।  
- শিল্প: বিভিন্ন শিল্প কারখানায় যেমন - ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বায়োটেকনোলজিতে অণুজীব ব্যবহার করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- ব্রিটানিকা।
.
C3 উদ্ভিদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ কোনটি?
  1. অক্সালো অ্যাসেটিক অ্যাসিড (OAA)
  2. ৩ -ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA)
  3. ম্যালিক অ্যাসিড
  4. ৩- ফসফোগ্লিসার‍্যাল্ডিহাইড
ব্যাখ্যা
C3 উদ্ভিদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড। 

• C3 উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র প্রক্রিয়ার মাধ্য শর্করা তৈরি হয় এবং প্রথম উৎপন্ন স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাদের C3 উদ্ভিদ বলে।

•  C3 প্রক্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর আবিষ্কারক বিজ্ঞানী মেলভিন কেলভিনের নামানুসারে। 
- C3 উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র-এর প্রথম ধাপে রুবিসকো (RuBisCO) এনজাইম বায়ুমণ্ডলীয় CO2 কে রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP)-এর সাথে যুক্ত করে ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড তৈরি করে।। 
- কাজেই ক্যালভিন চক্রে CO2 এর গ্রহিতা হলো রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট। 
- ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড এক অণু H2O গ্রহন করে দুই অণু ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড উৎপন্ন করে।
- ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ। 
- বেশিরভাগ উদ্ভিদে C3 চক্র ঘটে থাকে, তাই এদের C3 উদ্ভিদ বলা হয়। 

• C3 চক্রের কার্যাবলী:  
- কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ: C3 উদ্ভিদের পাতার স্টোমাটা (stomata) দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করা হয়।
- কার্বন ফিক্সেশন: RuBisCO এনজাইম কার্বন ডাই অক্সাইডকে RuBP-এর সাথে যুক্ত করে একটি C3 যৌগ (৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড) তৈরি করে।
- শর্করা তৈরি: C3 যৌগটি বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অবশেষে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।
- RuBP পুনরুদ্ধার: গ্লুকোজ তৈরির পর RuBP অণু পুনরায় C3 চক্রে প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
নিচের কোনটি জিমনোস্পার্মের বৈশিষ্ট্য?
  1. ফল সৃষ্টি হয় কিন্তু বীজ সৃষ্টি হয় না
  2. ফল সৃষ্টি হয় না কিন্তু বীজ সৃষ্টি হয়
  3. আর্কিগোনিয়া থাকে না।
  4. শুধু জলজ পরিবেশে জন্মে
ব্যাখ্যা
• জিমনোস্পার্ম বা নগ্নবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয় কিন্তু ফল সৃষ্টি হয় না। 

• জিমনোস্পার্ম বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ:

- যেসব উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে সেগুলোকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। 

• নগ্নবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- উদ্ভিদ বহুবর্ষজীবী, চিরসবুজ। 
- রেণুপত্র অর্থাৎ স্পোরোফিলগুলো ঘনভাবে সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস বা কোন (cone) তৈরি করে।
- মেগাস্পোরোফিল-এ (স্ত্রীরেণুপত্র) কোনো গর্ভাশয় তৈরি হয় না অর্থাৎ এদের গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড নেই।
- পরাগায়নকালে পরাগরেণু সরাসরি ডিম্বক রন্ধ্রে পতিত হয়।
- ডিম্বক মেগাস্পোরোফিলের কিনারে নগ্ন অবস্থায় থাকে।
- গর্ভাশয় নেই তাই এদের কোনো ফল সৃষ্টি হয় না।
- ফল সৃষ্টি হয় না বলে বীজ (নিষিক্ত ডিম্বক) নগ্ন অবস্থায় থাকে।
- নগ্নবীজী উদ্ভিদে দ্বিনিষেক ঘটে না (ব্যতিক্রম Ephedra)। 
- জাইলেম টিস্যুতে সত্যিকার ভেসেল কোষ থাকে না (ব্যতিক্রম Gnetum) এবং ফ্লোয়েম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে না।
- জীবনচক্রে অসমআকৃতির (heteromorphic) জনুক্রম বিদ্যমান।
- সাধারণত আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
উদ্ভিদে কাণ্ডের মাধ্যমে কোনটি পরিবাহিত হয় না?
  1. পানি
  2. খাদ্য
  3. অক্সিজেন
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
• কাণ্ডের মাধ্যমে অক্সিজেন পরিবাহিত হয় না। 

• উদ্ভিদের পরিবহন:
- উদ্ভিদের পরিবহন বলতে মাটি থেকে শোষিত পানি ও খনিজ লবণ এবং পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্যের সারা দেহে চলাচলকে বোঝায়।

• উদ্ভিদের কাণ্ডের মাধ্যমে পরিবাহিত পদার্থগুলো হলো - পানি, খনিজ লবণ, পাতায় উৎপন্ন খাদ্য। 

•  এই পরিবহন প্রধানত দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
যথা: 
→ জাইলেমের মাধ্যমে পরিবহন:
- মূলরোম দিয়ে পানি ও খনিজ লবণ শোষিত হয় এবং অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কর্টেক্সের মধ্য দিয়ে জাইলেম বাহিকায় প্রবেশ করে।  
- এরপর প্রস্বেদন টান, কৈশিক শক্তি এবং মূলজ চাপের প্রভাবে জাইলেম বাহিকা দিয়ে রস উপরের দিকে পাতায় পৌঁছে যায়।  

→ ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পরিবহন:
- পাতায় প্রস্তুত হওয়া খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে ফ্লোয়েম টিস্যু দ্বারা পরিবাহিত হয়।
- ফ্লোয়েম টিস্যু দিয়ে খাদ্যরস উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে, যেমন- কাণ্ড, মূল এবং অন্যান্য অংশে সরবরাহ করা হয়।
- এটি একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া, যেখানে খাদ্যরস প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ভিদের উপরে বা নীচে পরিবাহিত হতে পারে। 

অন্যদিকে,
- অক্সিজেন গ্যাসীয় বিনিময়ের মাধ্যমে নিঃসৃত হয় কিন্তু কাণ্ডের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে পরিবাহিত হয় না। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- ব্রিটানিকা।
.
ফুলের পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে কী বলা হয়?
  1. কার্পেল
  2. স্টিগমা
  3. স্ট্যামেন
  4. গর্ভপত্র
ব্যাখ্যা
• ফুলের পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে স্ট্যামেন (stamen) বা পুংকেশর বলা হয়। 

• পুস্পপত্রবিন্যাস:
- মুকুলাবস্থায় ফুলের বৃত্তাংশগুলো পরস্পরের সাথে যেভাবে বিন্যস্ত থাকে তাকে বলা হয় এস্টিভেশন বা পুস্পপত্রবিন্যাস।

• সাধারণত ৪ টি স্তবক নিয়ে একটি ফুল গঠিত হয়।
যথা:
- ক্যালিক্স,
- করোলা,
- পুং স্তবক,
- স্ত্রী স্তবক। 

• অ্যানড্রিসিয়াম (Androecium) বা পুংস্তবক:
- দলমণ্ডলের ভেতরে অবস্থিত ফুলের তৃতীয় স্তবক হলো অ্যানড্রিসিয়াম বা পুংস্তবক।
- এর প্রতিটি সদস্যকে বলা হয় স্ট্যামেন (stamen) বা পুংকেশর।
- পুংকেশরের দণ্ডকে বলা হয় ফিলামেন্ট (filament) বা পুংদণ্ড এবং মাথার স্ফীত অংশকে বলা হয় অ্যান্থার (anther) বা পরাগধানী, পরাগধানীর ভেতরে থাকে পোলেন গ্রেন (pollen grain) বা পরাগরেণু।

• সাধারণত ছয়টি পুংকেশরের মাঝে চারটি লম্বা এবং দুটি খাটো হলে তাকে টেট্রাডিনেমাস (tetradynamous) বলে। 
- চারটি পুংকেশরের মাঝে দুটি লম্বা এবং দুটি খাটো হলে তাকে ডাইডিনেমাস (didynamous) বলে।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
ব্যাকটেরিওফাজ মূলত কী?
  1. ব্যাকটেরিয়ার একটি প্রজাতি
  2. ব্যাকটেরিয়া-ভক্ষক ভাইরাস
  3. ফাঙ্গাস
  4. প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিওফাজ হলো ব্যাকটেরিয়া-ভক্ষক ভাইরাস। 

• ব্যাকটেরিওফায:

- যে সমস্ত ভাইরাস ঠাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয় তাদেরকে ব্যাকটেরিওফায বলে।

- ফায (Phage) একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ হলো 'to eat' বা ভক্ষণ। প্রকৃত অর্থে ফায হলো ঐ সব ভাইরাস যারা জীবদেহে অবস্থিত রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়।
 - ফায- এর জেনেটিক বস্তু ব্যাকটেরিয়ার দেহে প্রবেশ করে এবং একসময় ব্যাকটেরিয়া কোষটি ধ্বংস হয়ে যায়।
- ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী দ্য হেরেলি ফেলিক্স ( d' Herelle Felix) এ ভাইরাসকে ব্যাকটেরিওফায বা ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা ফায নামে অভিহিত করেন।
- বিজ্ঞানী Twort ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস তথা T2 ভাইরাস আবিষ্কার করেন। 

• কার্যপদ্ধতি:
- ব্যাকটেরিয়ার দেহে আটকে যায়।
- DNA পোষক ব্যাকটেরিয়ার ভিতরে অনুপ্রবেশ করে।
-  ব্যাকটেরিয়ার কোষ ব্যবহার করে নিজের কপি তৈরি করে।
- শেষে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরকে বিগলিত (Lysis) করে বাইরে বেরিয়ে আসে।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১০.
বিষাক্ত ছত্রাকে কোন পদার্থটি পাওয়া যায়?
  1. হায়ালুরোনিক এসিড
  2. হিপনোটক্সিন
  3. অ্যামাটক্সিন
  4. অ্যামোক্সিসিলিন
ব্যাখ্যা
• বিষাক্ত ছত্রাকে অ্যামাটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়। 

• ছত্রাক:
- ছত্রাক হল এককোষী বা বহুকোষী সুকেন্দ্রিক জীব, যারা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা তৈরি করতে পারে না এবং যাদের দৃঢ় কোষ প্রাচীর আছে।

• কিছু ছত্রাক বিষাক্ত এবং কিছু ছত্রাক এত বিষাক্ত যে এরা মানুষ কিংবা প্রাণীর তাৎক্ষণিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- এসব বিষাক্ত ছত্রাকে অ্যামাটক্সিন (amatoxins) নামক পদার্থ থাকে।

• অ্যামাটক্সিন:
- অ্যামাটক্সিন হলো একটি মারাত্মক বিষাক্ত যৌগ যা Amanita phalloides (ডেথ ক্যাপ মাশরুম) এবং কিছু অন্যান্য বিষাক্ত ছত্রাকে পাওয়া যায়।
- এটি RNA পলিমারেজ এনজাইমকে বাধা দিয়ে কোষের প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে যকৃত ও কিডনি বিকল হতে পারে।

• ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য:
- ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ, সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম, অপুষ্পক উদ্ভিদ।
- এরা মৃতজীবী (saprophytic), পরজীবী (parasitic) বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে।
- এরা সুকেন্দ্রিক অর্থাৎ এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু বিদ্যমান।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন (এক প্রকার জটিল পলিস্যাকারাইড) নির্মিত।
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য প্রধানত গ্লাইকোজেন (glycogen), তৈলবিন্দু, কখনো কখনো কিছু পরিমাণ ভলিউটিন ও চবি থাকতে পারে।
- ছত্রাকদেহে ভাস্কুলার টিস্যু নেই।
- এদের জননাঙ্গ এককোষী (unicellular). 
- স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না।
- হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয়।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১১.
একবীজপত্রী উদ্ভিদে কোন ধরণের মূল দেখা যায়?
  1. ট্যাপরুট
  2. গুচ্ছ মূল
  3. পরাশ্রয়ী মূল
  4. অস্থানিক মূল
ব্যাখ্যা
• একবীজপত্রী উদ্ভিদে গুচ্ছ প্রকৃতির মূল দেখা যায়। 

• একবীজপত্রী উদ্ভিদ:

- একবীজপত্রী উদ্ভিদ হলো সেই সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ যাদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে।

• একবীজপত্রী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:  
- এদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে।
- এদের মূল সাধারণত গুচ্ছ প্রকৃতির হয়।
- পাতার শিরাগুলো সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে।
- কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডেল বিক্ষিপ্তভাবে বিন্যস্ত থাকে।
- এদের ফুলের পাপড়ি সাধারণত তিন বা ছয়টির গুণিতক হয়।
- উদাহরণ: ধান, গম, ভুট্টা, কলা, নারকেল, ঘাস ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১২.
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন তৈরির প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. ফটোরেসপিরেশন
  2. ফটোলাইসিস
  3. ফটোফসফোরাইলেশন
  4. ডি-ফসফোরাইলেশন
ব্যাখ্যা
• ফটোলাইসিস:
- সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং ইলেকট্রন তৈরির প্রক্রিয়াকে ফটোলাইসিস বলা হয়।
- ফটোলাইসিস হল সালোকসংশ্লেষণের (Photosynthesis) একটি ধাপ। 

• বিক্রিয়া:
2H2​O → ​4H++ 4e+ O2​
 
• ফটোলাইসিস (Photolysis) শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে: "ফটো" যার অর্থ আলো এবং "লাইসিস" যার অর্থ বিয়োজন বা ভাঙন।
- সুতরাং, ফটোলাইসিস মানে হলো আলোর মাধ্যমে কোনো কিছু ভেঙে যাওয়া বা বিয়োজিত হওয়া।  
- এই প্রক্রিয়াটি সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে ঘটে থাকে।
- যখন সূর্যের আলো ক্লোরোফিলের উপর পড়ে, তখন পানির অণু ভেঙে গিয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এবং ইলেকট্রন তৈরি করে।
- এই অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয়, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস এবং অন্যান্য জৈব প্রক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যক।  
 
তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১৩.
সরিষা কোন ধরণের উদ্ভিদ?
  1. বৃক্ষ
  2. গুল্ম
  3. উপগুল্ম
  4. বীরুৎ
ব্যাখ্যা
• বিরুৎ উদ্ভিদ:
- যেসকল উদ্ভিদ আকারে ছোট হয় ও এদের কাণ্ড নরম সেসকল উদ্ভিদকে বিরুৎ উদ্ভিদ বলে। 
- বিরুৎ বা হার্ব (Herb) হল নরম, সবুজ এবং কোমল কান্ডযুক্ত এক ধরনের উদ্ভিদ।

• সরিষা বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। 

• সরিষার বৈশিষ্ট্য:
- সরিষা Brassicaceae (Cruciferae) পরিবারের একটি উদ্ভিদ।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম- Brassica campestris (সরিষা) / Brassica juncea (রাই সরিষা)।
- কাণ্ড: নরম, সবুজ, শাখান্বিত (কাঠিন্য নেই)।
- আয়ু: একবর্ষজীবী (একটি মৌসুমেই জীবনচক্র সম্পন্ন করে)।
- উচ্চতা: ০.৫–১ মিটার।

• অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
- তেল উৎপাদন: বীজে ৩০–৪০% তেল থাকে। এটি রান্না ও শিল্পে ব্যবহার ব্যবহার করা হয়।
- সার হিসাবে: খৈল মাটিতে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
১৪.
উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন ক্রিয়া কোনটি?
  1. অবাত শ্বসন
  2. সবাত শ্বসন
  3. অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত শ্বসন
  4. আনারোবিক শ্বসন
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন ক্রিয়া হলো সবাত শ্বসন বা অ্যারোবিক রেসপিরেশন। 

• শ্বসন: 

- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলা হয়।
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়।

• শ্বসনের প্রকারভেদ:
অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়; যথা:
- সবাত শ্বসন (Aerobic respiration): যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে। 
- অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration): যে শ্বসন ক্রিয়া মুক্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে।

• সবাত শ্বসন:
- যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় মুক্ত আক্সজেনের প্রয়োজন হয় এবং শুসনিক বস্তু সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO2, H2O ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে সবাত শ্বসন বলে।
- অক্সিজেনের উপস্থিতি অর্থাৎ বায়ুর উপস্থিতির প্রয়োজন হয় বলে এ শ্বসনকে সবাত শ্বসন বলা হয়। 
- এটি হলো উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন ক্রিয়া। 

• সবাত শ্বসনের প্রধান ধাপগুলো হলো:
- গ্লাইকোলাইসিস,
- পাইরুভেট জারণ,
- ক্রেবস চক্র,
- ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।