পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বাংলাবিদ সাহিত্য পরীক্ষা - ১২: টপিক: বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ (অন্নদাশঙ্কর রায়, অমিয় চক্রবর্তী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, আবু জাফর শামসুদ্দীন, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিহারীলাল চক্রবর্তী, বেগম রোকেয়া, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, অতুলপ্রসাদ সেন, অদ্বৈত মল্লবর্মণ, আব্দুল কাদির, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, আবু ইসহাক, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আবুল হাসান, আল মাহমুদ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আহমদ ছফা, আহসান হাবীব। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] [এই টপিকের উপর কোন ভিডিও লেকচার নাই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
আব্দুল কাদির কী ধরনের কবি হিসেবে পরিচিত? 
  1. ডিফেন্স অফ বেঙ্গল
  2. স্বভাব কবি
  3. ছন্দের জাদুকর
  4. ছান্দসিক কবি
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক কবি
ব্যাখ্যা

• আব্দুল কাদির ছান্দসিক কবি হিসেবে পরিচিত।

• আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির (১৯০৬–১৯৮৪) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দবিদ ও সম্পাদক।
- তাঁর উপাধি ছিল ছান্দসিক কবি।
- কুমিল্লার আড়াইসিধা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই সাহিত্যিক ১৯২৬ সালে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন–এর অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র ‘শিখা’ (১৯২৭) বার্ষিকীর প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
 - দিলরুবা;
- উত্তর বসন্ত;
- কবি নজরুল;
- ছন্দসমীক্ষণ;
- কাজী আবদুল ওদুদ;
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত এবং 
- যুগকবি নজরুল।

উল্লেখ্য,
• গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিলেন একজন বাঙালি স্বভাবধর্মী কবি।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক কবিদের একজন হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর জন্ম ও বাসস্থান ছিল ময়মনসিংহে।

• পাদ্রি লং - প্যারিচাঁদ মিত্রকে “ডিফেন্স অফ বেঙ্গল” উপাধি দেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল টেকচাঁদ ঠাকুর।
-বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮) তাঁরই সৃষ্টি, যা বাংলা উপন্যাস ধারার পথিকৃৎ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

• বাংলা সাহিত্যে “ছন্দের জাদুকর” হিসেবে পরিচিত কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে এই উপাধি দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- 'ছন্দের জাদুকর' নামে পরিচিত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত-এর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো 'কাব্য-সঞ্চয়ন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

.
কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো ছদ্মনামটি কোন সাহিত্যিকের? 
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

-  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।

→ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
-  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক এবং লেখক, যিনি বাংলা গদ্যের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে নারীশিক্ষা ও বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন এবং ‘বর্ণপরিচয়’-এর মতো যুগান্তকারী পাঠ্যপুস্তক রচনা। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম ছিল কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপাধি ছিল  আধুনিক বাংলা গদ্যর জনক।
- মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি সংস্কৃত  কলেজ থেকে ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৪৭ সালে বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থে প্রথম বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়
- তার বর্ণ পরিচয় বই classical মর্যাদা লাভ করেছেন।
- তার রচিত ব্যাকরণ বইয়ের নাম - ব্যাকরণ কৌমুদী।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিসেবে সমাদৃত হলেও তার পারিবারিক উপাধি ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা নামে স্বাক্ষর করতেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- বর্ণপরিচয় ,
- কথামালা,
- বোধোদয়,
- আখ্যানমঞ্জরী
- ব্যাকরণ কৌমুদী,
- বেতাল পঞ্চবিংশতি,
- শকুন্তলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- হেমচন্দ্রের উপাধি ছিল- বাংলার মিল্টন।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 'ক্বচিৎ প্রৌঢ়' ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতিকবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. নবীনচন্দ্র সেন 
  4. গোলাম মোস্তফা 
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা

• অন্তরের একান্ত আবেগ উচ্ছ্বাস যখন কাব্য ময় হয়ে বানীরুপ লাভ  করে তখন তাকে বলা হয় গীতি কবিতা।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে। তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য।
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সারদামঙ্গল।

∗ বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন,
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে রচিত উপন্যাস-
  1. তস্কর লস্কর
  2. জলাঙ্গী
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. আর্তনাদ 
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

• আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে রচিত উপন্যাস - 'ক্রীতদাসের হাসি'।
- এটি একটি রূপকভিত্তিক উপন্যাস, যেখানে শওকত ওসমান প্রতীকী ভঙ্গিতে ১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

∗ 'ক্রীতদাসের হাসি':
- 'ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শওকত ওসমান স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অধিকারহীনতা ও সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
- আইয়ুব খানের দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করেই উপন্যাসটি নির্মিত।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- হাবসি ক্রীতদাস তাতারী, মেহেরজান, এবং আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ। 
- এ উপন্যাসে লেখক তাতারীর হাসি এবং মেহেরজানের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার প্রতীকী উপস্থাপন করেছেন। 
--------------------------------------------
∗ শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। 
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো -
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।
- শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
আবু ইসহাক এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচিত্র কোনটি?
  1. গেরিলা
  2. সূর্যগ্রহণ 
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. সূর্যদীঘল বাড়ি
সঠিক উত্তর:
সূর্যদীঘল বাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যদীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা

- আবু ইসহাক এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচিত্র - সূর্যদীঘল বাড়ি।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক ছিলেন একজন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক ও অভিধান প্রণেতা।
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় তাঁর “অভিশাপ” গল্পটি প্রকাশিত হয়।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি বিখ্যাত উপন্যাস সূর্য দীঘল বাড়ি রচনা করেন (১৯৪৬), যা পরে ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জয়গুন- যে একজন সংগ্রামী নারী এবং যার জীবনের মাধ্যমে গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক অবস্থা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- এই উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭৯ সালে ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
- এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা পরিচালনা করেন শেখ নিয়ামত আলী ও মসিহউদ্দিন শাকের।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল। 

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ। 

অন্যদিকে, 
নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত সৈয়দ শামসুল হক'র নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত গেরিলা চলচ্চিত্র। 
- সূর্যগ্রহন হচ্ছে জহির রায়হান এর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ।
- এবং জীবন থেকে নেয়া জহির রায়হান নির্মিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম চলচিত্র। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
কোনটি আল মাহমুদ এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা?
  1. একুশের কবিতা
  2. একুশের গান
  3. একুশের গল্প
  4. একুশে ফেব্রুয়ারী 
সঠিক উত্তর:
একুশের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশের কবিতা
ব্যাখ্যা

- আল মাহমুদ এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা: একুশের কবিতা।

• “একুশের কবিতা”:

- আল মাহমুদের “একুশের কবিতা” ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও আবেগকে কেন্দ্র করে রচিত একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য কবিতা।
- এতে ১৯৫২ সালের রক্তঝরা আন্দোলনের প্রতি গভীর সম্মান ও শোকগাথা ফুটে উঠেছে।
- এই কবিতার কিছু উল্লেখযোগ্য পংক্তি: 
- "প্রভাতফেরির মিছিল যাবে / ছড়াও ফুলের বন্যা,
বিষাদগীতি গাইছে পথে / তিতুমীরের কন্যা।
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়? বরকতের রক্ত।"
-----------------------------
আল মাহমুদ: 
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবিতা, গল্প এবং উপন্যাস - সব শাখাতেই তাঁর বিচরণ থাকলেও, আল মাহমুদ কবি হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত।
- তাকে বলা হয় সোনালী কাবিনের কবি।

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থগুলো:
- লোক লোকান্তর (কাব্যগ্রন্থ);
- সোনালী কাবিন (কাব্যগ্রন্থ);
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (কাব্যগ্রন্থ);
- বখতিয়ারের ঘোড়া (কাব্যগ্রন্থ);
- কাবিলের বোন (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস)
- পানকৌড়ির রক্ত (গদ্যগ্রন্থ);
- একুশের কবিতা (ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা)।
--------------------------------
অন্যদিকে,
• 'একুশের গান' মহাদেব সাহা রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি কবিতা।
- মহাদেব সাহা একজন বিখ্যাত বাংলাদেশী কবি, যিনি তাঁর রোমান্টিক গীতিকবিতার জন্য পরিচিত।

• '
একুশের গল্প' হচ্ছে জহির রায়হান এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম ছোটগল্প। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, এবং গল্পকার। 
- তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে: 'জীবন থেকে নেওয়া' (চলচ্চিত্র), 'স্টপ জেনোসাইড' (তথ্যচিত্র) এবং 'হাজার বছর ধরে' (উপন্যাস)।

• হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রথম সংকলন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে। 
- এই সংকলনে ভাষা আন্দোলনের আদর্শকে তুলে ধরতে প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প, গান, নকশা থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক বিবরণসহ নানা ধরনের লেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

.
'রাজা যায় রাজা আসে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক 
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

• 'রাজা যায় রাজা আসে' কাব্যগ্রন্থ:
-'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৭২।

- কাব্যগ্রন্থটিতে রয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক চেতনা, মানবিক যন্ত্রণা ও আত্মবীক্ষণের দারুণ প্রকাশ

• আবুল হাসান:
- আবুল হাসান (১৯৪৭–১৯৭৫) ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- অল্প বয়সেই তিনি একজন সৃজনশীল কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো, 
- পৃথক পালঙ্ক। 

∗ মৃত্যুর পর তাঁর কাব্যনাট্য- ওরা কয়েকজন এবং গল্পসংকলন- আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ প্রকাশিত হয়।
------------------------
অন্যদিকে,
∗ আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪–২০০১) ছিলেন একজন খ্যাতনামা কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর সর্বাধিক পরিচিত কাব্যগ্রন্থ হলো “আমি কিংবদন্তির কথা বলছি”।
- এছাড়াও তিনি “সাত নরীর হার”, “কখনো রং কখনো সুর”, “কমলের চোখ” এবং “বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা”—এমন একাধিক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

∗ সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯–১৯৭৫) ছিলেন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
- কর্মজীবনে তিনি নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত–সহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন।
- তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যের মধ্যে রয়েছে: “সিরাজ-উদ-দৌলা” এবং “মহাকবি আলাউল”।

∗ আবু ইসহাক ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক।
- তিনি সমাজবাস্তবধর্মী উপন্যাস ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ এবং গোয়েন্দাধর্মী উপন্যাস ‘জাল’–সহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য রচনা সৃষ্টি করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

.
তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সমাজে প্রচলিত নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়ে লিখিত কল্পকাহিনী -
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. সুলতানার স্বপ্ন 
  3. বিশ শতকের মেয়ে
  4. বীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন 
ব্যাখ্যা

- বেগম রোকেয়া 'সুলতানার স্বপ্ন' লিখেছিলেন ১৯০৫ সালের তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সমাজে প্রচলিত নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়ে।

• ‘সুলতানার স্বপ্ন’:

- বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ রচনার মূল পটভূমি ছিল ব্রিটিশ ভারতের নারী-পুরুষ বৈষম্য ও নারীর পরাধীনতা।
- এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা থেকেই রোকেয়া এমন এক কল্পসমাজ সৃষ্টি করেন, যেখানে নারীরা স্বাধীন, শিক্ষিত এবং ক্ষমতার অধিকারী।
- নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছিলেন যে, সেই সময়ে নারীরা শিক্ষার সুযোগ, স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়ে বদ্ধ জীবনে দিন কাটাচ্ছিলেন।
- তৎকালীন যুগে বিজ্ঞানের নানা নতুন আবিষ্কার এ রোকেয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে বিজ্ঞানই নারীর মুক্তি।
- তাই তিনি ‘সুলতানার স্বপ্ন’–এ বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে এক উন্নত, সমতাভিত্তিক ও নারীকেন্দ্রিক সমাজের চিত্র অঙ্কন করেন।
- এ গল্পটিকে রোকেয়া রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি রূপ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
- তিনি দেখিয়েছেন যে কল্পনার সাহায্যে কীভাবে অন্যরকম এক মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্যপরায়ণ সমাজ কল্পনা করা যায় এবং বিদ্যমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সম্ভব।
-----------------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল:
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

অন্যদিকে,
• ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ (১৯৯৪)  নীলিমা ইব্রাহিমের লিখা।
- এ গ্রন্থে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের শিকার সাতজন বীরাঙ্গনার হৃদয়বিদারক বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
- নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১–২০০২) ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখিকা ও সমাজসেবী।

‘বিশ শতকের মেয়ে’ উপন্যাসটিও নীলিমা ইব্রাহিমের লিখা।
- এ উপন্যাসে সে সময়ের নারীদের আত্মনির্ভর হওয়ার ইচ্ছা, জীবনসংগ্রাম এবং সমাজে তাদের পরিবর্তিত অবস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে।

বীরাঙ্গনা মাইকেল মধুসূধনের ১১ জন বীরনারীকে নিয়ে লিখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য (১৮৬২)।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক কবিতার জনক ও মহাকবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা হলো- মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
অমিয় চক্রবর্তীর কোন কাব্যগ্রন্থে 'বাংলাদেশ' কবিতাটি সংকলিত আছে?
  1. এক মুঠো
  2. অনিঃশেষ
  3. মাটির দেয়াল
  4. অভিজ্ঞান বসন্ত
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
ব্যাখ্যা

- অমিয় চক্রবর্তীর অনিঃশেষ কাব্যগ্রন্থে 'বাংলাদেশ' কবিতাটি সংকলিত আছে ।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১০ এপ্রিল, ১৯০১ – ১২ জুন, ১৯৮৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের মধ্যের একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (১৯২১) পাস করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
- পরে (১৯২৬–১৯৩৩) তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেন।  
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো কবিতাবলী এবং তিনি মোট ১৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর ইংরেজি ভাষায় ৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
-  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেছে।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কবিতা রচনা করেন যা তাঁর অনিঃশেষ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- খসড়া,
- অনিঃশেষ
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. অতসীমামী
  2. জননী
  3. জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প
  4. দিবারাত্রির কাব্য 
সঠিক উত্তর:
জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা

- জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত গ্রন্থ নয়।

• জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প: 

- হুমায়ুন আহমেদ এর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮–২০১২) ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও শিক্ষক।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
∗ নন্দিত নরকে,  
∗ শঙ্খনীল কারাগার, 
∗ দেবী, 
∗ বাদশাহ নামদার।

- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
∗ শ্যামল ছায়া, 
∗ আগুনের পরশমণি, 
∗ ১৯৭১ ও জোছনা ও জননী।
∗ তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত উপন্যাস হলো দেয়াল।
--------------------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প অতসী মামী (১৯২৮) প্রকাশিত হয়।

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

∗ তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে: 
প্রাগৈতিহাসিক;
- এই ছোটগল্পের ঐতিহাসিক চরিত্র: পাচী, ভিখু ও পেহলাদ।

উৎস:
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য;
বাংলাপিডিয়া। 

১১.
অশ্লীলতার অভিযোগে কোন ছোটগল্পটি পাকিস্তান সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিলো?
  1. ল্যাবরেটরি
  2. বিচারক
  3. সত্যের মত বদমাশ
  4. চন্দ্রবিন্দু
সঠিক উত্তর:
সত্যের মত বদমাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যের মত বদমাশ
ব্যাখ্যা

অশ্লীলতার অভিযোগে আব্দুল মান্নান সৈয়দ এর সত্যের মত বদমাশ ছোটগল্পটি পাকিস্তান সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিলো।

সৈয়দ আবদুল মান্নান:
- সৈয়দ আবদুল মান্নান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল অশোক সৈয়দ, এবং তাঁর উপাধি ছিল সব্যসাচী লেখক।
- তিনি জীবনানন্দ দাশ ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যের অন্যতম গবেষক ছিলেন। এ ছাড়াও ফররুখ আহমদ, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণু দে, সমর সেন, বেগম রোকেয়া, আবদুল গনি হাজারী, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, প্রবোধচন্দ্র সেনসহ আরও বহু সাহিত্যিককে নিয়ে তিনি গভীর গবেষণা করেছেন।

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড;
- পরাবাস্তব কবিতা;
- সংবেদন ও জলতরঙ্গ।

তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প: সত্যের মত বদমাশ- যা প্রকাশের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার সেটিকে অশ্লীলতার অভিযোগে জব্দ করে। 
- ১৯৬৮ সালে বইটি বেরোনোর কিছুদিনের মধ্যেই সরকার এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত ১১৯টি গল্প তার গল্পগুচ্ছে গচ্ছিত আছে।
- রবীন্দ্রনাথের 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি যৌনতা, নারীর ক্ষমতা এবং ঐতিহ্যবাহী ধারণার প্রতি তার ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সমালোচিত হয়েছিল। 
- গল্পটিতে নারীচরিত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আগ্রহী এবং নিজের মেধা ও দক্ষতা ব্যবহার করে পুরুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। নারীর এই ভিন্নধর্মী ক্ষমতাবোধ সেই সময়ের প্রচলিত ধারণার বাইরে হওয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি করে।

• তাছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বিচারক” গল্প থেকে তৈরি করা চলচ্চিত্রটি অশ্লীলতার অভিযোগ তোলার পর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ব্যঙ্গ, শ্লেষ এবং জাতীয়তাবোধ উসকে দেওয়া কবিতা থাকায় ব্রিটিশ সরকার এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৯৩১ সালের ১৪ অক্টোবর গ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- শাসকগোষ্ঠীর মতে, বইটিতে বিদ্রোহী মনোভাব ও জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রচার করা হচ্ছিল বলেই এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১২.
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সন্দেশ 
  2. সমকাল
  3. সওগাত
  4. স্বদেশ 
সঠিক উত্তর:
স্বদেশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বদেশ 
ব্যাখ্যা

• ‘স্বদেশ’ পত্রিকা সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- এর সম্পাদক ছিলেন - আহমদ ছফা।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা (৩০ জুন ১৯৪৩ – ২৮ জুলাই ২০০১) ছিলেন একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি লেখক, ঔপন্যাসিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
-  তাঁর সমস্ত বই একত্রে ৯ খণ্ডে ‘রচনাবলি’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। 
- তিনি জার্মান সাহিত্যিক গ্যোটের অমর রচনা ‘ফাউস্ট’ বাংলায় অনুবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক কৃতিত্ব স্থাপন করেন।
- আহমদ ছফা ‘স্বদেশ’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা পরিচালনা করেন এবং পাশাপাশি ‘সাপ্তাহিক উত্তরণ’ ও ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’–এর মতো পত্রিকার সঙ্গেও সম্পাদকীয় কাজে যুক্ত ছিলেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে:
∗ ‘ওঙ্কার’, 
∗ ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’, 
∗ ‘বাঙালি মুসলমানের মন’,
∗ ‘যদ্যপি আমার গুরু’ ও 
∗ ‘গাভী বিত্তান্ত’।
 - এছাড়া তাঁর কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো:
 ১. “যদি তুমি সত্যকে সাহসে বলতে পারো, তুমি কখনও হারাবে না।”
 ২. “মানুষের সবচেয়ে বড় দোষ হলো সে নিজের প্রতি অসত।”
 ৩. “স্বাধীনতা শুধু দেশ নয়, মনকেও মুক্ত করতে হয়।”
 ৪. “ভালবাসা কখনো ছাপিয়ে যায় না, তবে ভুলে যাওয়া যায়।”

অন্যদিকে,
∗ ‘সন্দেশ’ বাঙালি শিশুদের জন্য প্রকাশিত একটি শতবর্ষী পত্রিকা।
- এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে উপেন্দ্রকিশোর রায়ের উদ্যোগে তাঁর নিজস্ব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউ. রে অ্যান্ড সন্স থেকে।
- বহু প্রতিভার অধিকারী উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন লেখক, চিত্রকর, প্রকাশক, শখের জ্যোতির্বিদ, বেহালাবাদক ও সুরকার।
- পরবর্তীতে তাঁর পুত্র সুকুমার রায় এবং পৌত্র সত্যজিৎ রায় এই পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সিকান্দার আবু জাফরের সম্পাদনায় প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ‘সমকাল’ ছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত একটি সাহিত্য সাময়িকী।
 
∗ 'সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, যার সম্পাদনায় ১৯১৮ সালে কলকাতা থেকে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া, শামসুন্নাহার মাহমুদ, সুফিয়া কামালসহ বহু প্রগতিশীল লেখক সওগাত-কে তাঁদের মুক্তচিন্তা ও ভিন্ন মত প্রকাশের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩.
'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলেও আহসান হাবীবের- 
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. গদ্যগ্রন্থ
  4. কল্পকাহিনি
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলেও আহসান হাবীবের কাব্যগ্রন্থ।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব (১৯১৭–১৯৮৫) ছিলেন আধুনিক বাংলা কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক।
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় আসেন এবং আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক ও ইত্তেহাদসহ নানা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনসে প্রডাকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন।
- পরে দৈনিক পাকিস্তানে যোগ দেন এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি অরণ্য নীলিমা  ও রাণীখালের সাঁকো নামে দুটি উপন্যাস রচনা করেছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ছায়াহরিণ;
- সারা দুপুর;
- আশায় বসতি;
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো;
- দুহাতে দু আদিম পাথর;
- প্রেমের কবিতা; ও
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

∗ শিশুদের জন্য তাঁর জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে আছে:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প;
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর ও
- ছুটির দিন দুপুরে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১৪.
"স্মৃতিস্তম্ভ কবিতাটি কোন বিষয়ের উপর রচিত?  
  1. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ 
  2. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান 
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

- "স্মৃতিস্তম্ভ কবিতাটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে রচিত। 

• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা: 
- স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার।
- আলাউদ্দিন আল আজাদের কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' প্রথম প্রকাশিত হয় হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ (১৯৫৩) সংকলনে।
- পঙ্কতিগুলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় প্রথম শহীদ মিনার ভেঙে ফেলার প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে রচিত হয়েছিল।
- কবি এখানে বলতে চেয়েছেন যে কংক্রিটের তৈরি মিনার ভেঙে গেলেও, জনতা বা "চার কোটি পরিবার" এখনো টিকে আছে এবং তাদের হৃদয়ে ভাষার জন্য যে মিনার তৈরি হয়েছে, তা কেউ ভাঙতে পারবে না। 
----------------------------------
আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন একজন বহুমুখী সাহিত্যিক—শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক ও সমালোচক।
-১৯৩২ সালের ৬ মে নরসিংদীর রামনগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পাকিস্তান আমলে প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকাই তাঁকে সাহিত্যচর্চায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- পঞ্চাশের দশকে তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা হয় এবং খুব দ্রুতই তিনি সেই যুগের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

• ষাটের দশকে তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র ও
- কর্ণফুলী।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র অবলম্বনে সুভাষ দত্ত বসুন্ধরা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন;
- ক্ষুধা ও আশা।

• নাট্যকার হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল; তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নিঃশব্দ যাত্রা ও
- নরকে লাল গোলাপ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প: স্মৃতি তোমাকে ভুলবোনা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৫.
“এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতেই ফুরালো”- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই উক্তিটি কার সম্পর্কে বলেছেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে উদ্দেশ করে এই উক্তিটি করেন— “এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতেই ফুরালো।”

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে উদ্দেশ করে এই উক্তিটি করেন-  “এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতে ফুরালো।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অসামান্য প্রতিভা মূলত ব্যঙ্গ-রসাত্মক ও অপ্রধান বিষয়নির্ভর রচনাতেই নষ্ট হয়েছে, যা সাহিত্যকে গভীরতা বা স্থায়ী মূল্য দিতে পারেনি। 
- তিনি গুপ্তের ছড়া ও বিদ্রূপাত্মক কবিতাকে “ইয়ার্কি” হিসেবে দেখতেন এবং 
- মনে করতেন, এ ধরনের প্রতিভাসম্পন্ন কবির উচিত ছিল বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘস্থায়ী ও উচ্চমানের সৃষ্টিকর্ম রেখে যাওয়া।
-----------------------------
উল্লেখ্য,
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয় কারণ তার রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট। তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র ‘সংবাদ প্রভাকর’- এর সম্পাদক ও প্রকাশক।
-তাঁর কবিতায় সমাজচিত্র, বিদ্রূপ ও ঐতিহ্যবোধ মিলেমিশে এক অনন্য ধারা সৃষ্টি করে, যা আধুনিক কাব্যের দিকে রূপান্তরে ভূমিকা রাখে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী – হুমায়ুন আজাদ। 

১৬.
আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান 
  2. পলাশী থেকে ধানমন্ডি
  3. ডানপিটে শওকত
  4. নাম না জানা ভোর
সঠিক উত্তর:
পলাশী থেকে ধানমন্ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশী থেকে ধানমন্ডি
ব্যাখ্যা

- আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস নয় পলাশী থেকে ধানমন্ডি।

• “পলাশী থেকে ধানমন্ডি”:
- আব্দুল গাফফার চৌধুরীর “পলাশি থেকে ধানমন্ডি” মূলত একটি নাট্যগ্রন্থ, যেখানে ১৭৫৭ সালের পলাশীর বিপর্যয়কে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনধারার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- পলাশি থেকে ধানমন্ডি” মূলত একটি মঞ্চনাটক, নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয় ২০০৪ সালে এবং পরে নিউইয়র্কেও প্রদর্শিত হয়।
- এটি পরে মঞ্চ নাটক থেকে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়।
- চলচ্চিত্রটির  মূল বিষয়বস্তু হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড।
-------------------------------
আব্দুল গাফফার চৌধুরী:
- আব্দুল গাফফার চৌধুরী (১২ ডিসেম্বর ১৯৩৪ – ১৯ মে ২০২২) ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক ও কলাম রচয়িতা।
- ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানটি রচনার কারণে তিনি সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন।
- স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত স্বাধীন বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান 
- নীল যমুনা,
- নাম না জানা ভোর,
- শেষ রাত্রির চাঁদ। 

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর,
- কৃষ্ণপক্ষ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত। 

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭.
রাইফেল রোটি আওরাত কোন ঘটনার পটভূমিতে রচিত? 
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান 
  2. স্বাধীনতাযুদ্ধ 
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ভাষা আন্দোলন
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

- 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
---------------

• "রাইফেল রোটি আওরাত":
- "রাইফেল রোটি আওরাত" আনোয়ার পাশার লেখা একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে  রচিত প্রথম উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞের পর টানা তিন দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাঙালির ওপর চলতে থাকা শোষণ ও অপশাসনের চিত্র এই উপন্যাসে গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- রাইফেল রোটি আওরাতের কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিল অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন।
- অন্যান্য চরিত্রে ছিল: ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেবসহ আরও অনেকে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় রচিত এই উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
--------------------------------
• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা ছিলেন একজন বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনীর একটি দল পাকিস্তানি দখলদার সেনাদের সহযোগিতায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে চোখ বেঁধে অপহরণ করে।
- পরে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছাকাছি তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
- পরবর্তীতে তাকে  সম্পন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পাশে দাফন করা হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
-  রাইফেল রোটি আওরাত;
- নিশুতি রাতের গাথা;
- নীড় সন্ধানী।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
-  সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী;
- নদী নিঃশেষিত হলে;
- অন্যান্য কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
রাইফেল রোটি আওরাত উপন্যাস; 
বাংলাপিডিয়া।

১৮.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. অপঘাত
  2. মিলির হাতে স্টেনগান
  3. রেইনকোট 
  4. চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা

- চিলেকোঠার সেপাই আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি উপন্যাস; ছোটগল্প নয়।

• চিলেকোঠার সেপাই:
- আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস রচিত ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, যেখানে তিনি সেই সময়ের গণ-আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সংগ্রামকে জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি রনজু দেশভাগের ফলে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন এবং পরবর্তীতে বৃহত্তর স্বাধীনতার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- এই উপন্যাসের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল হাড্ডি খিজির।
- এটি ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
-----------------------------------
আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস (১৯৪৩–১৯৯৭) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 

∗ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত রচনার মধ্যে রয়েছে:
- ‘দুধভাতে উৎপাত’ (ছোটগল্পের সংকলন);
- ‘দোজখের ওম’ (ছোটগল্প সংকলন);
- চিলেকোঠার সেপাই’ (উপন্যাস);
- ‘খোয়াবনামা’ (উপন্যাস);
- আর সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ হলো ২২টি প্রবন্ধ নিয়ে গঠিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

∗ দুধভাতে উৎপাত’ গল্পগ্রন্থে চারটি গল্প সংকলিত হয়েছে - ‘মিলির হাতে স্টেনগান’, ‘দুধভাতে উৎপাত’, 'পায়ের নিচে জল' এবং 'দখল'।

অন্যদিকে,
∗ ‘মিলির হাতে স্টেনগান’:
- এটি লেখা হয়েছে এমন এক সময়কে কেন্দ্র করে, যখন যুদ্ধশেষে অর্জিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে।
- মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা অস্ত্রের লড়াইয়ের মাধ্যমে পাওয়া হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে দেশপ্রেমহীন লুটপাট, স্বার্থসর্বস্বতা ও অবক্ষয়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে থাকে - গল্পটিতে এই অবক্ষয়ের বাস্তবতাই উঠে এসেছে। 
- এখানে ‘স্টেনগান’ শুধু একটি অস্ত্র নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা এবং সেই চেতনার বিপথে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
- এই হতাশার মাঝেও মিলিকে আশা, প্রতিরোধ ও নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- গল্পের আরেক চরিত্র আব্বাস পাগলা যুদ্ধোত্তর সমাজের সমস্যাগুলো প্রকাশ্যে তুলে ধরে প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করে।

∗ ‘অপঘাত’:
- এই গল্পের পটভূমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ।
-
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র: মোবারক আলি যে ছিল একজন কেরানি এবং তাঁর ছেলে বুলু, যে ছিল এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধা।
- যুদ্ধে একটি ব্রিজে আক্রমণ চালানোর সময় বুলু শহীদ হয়। 
- গল্পটি মূলত পিতার শোক, অসহায়তা ও মানসিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে।

∗ ‘রেইনকোট’:
- গল্পটিও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত এবং ঢাকার পটভূমিতে নির্মিত।
- গল্পে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের বর্বরতা, যুদ্ধাবস্থায় শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনযাপন, সাধারণ মানুষের অসহায়তা এবং প্রধান চরিত্র নুরুল হুদার মানসিক টানাপোড়েন গভীরভাবে চিত্রিত হয়েছে।
- এটি ‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল’ গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয় এবং ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৯.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট কী?  
  1.  মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত কল্পকাহিনি
  2. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কাল্পনিক কাহিনি
  3. নীল বিদ্রোহ 
  4. প্রাচীন বাংলার মেয়েদের গ্রামীণ জীবন 
সঠিক উত্তর:
 মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত কল্পকাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত কল্পকাহিনি
ব্যাখ্যা

- 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির লেখক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
 
• একটি কালো মেয়ের কথা:
- একটি কালো মেয়ের কথা উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত এক কাল্পনিক কাহিনি, যা ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
-তারাশঙ্করের একটি কালো মেয়ের কথা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নাজমা ও ডেভিড।
- এতে নাজমা নামের এক কালো মেয়েকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনে সে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয় এবং তার সন্তানের মৃত্যু ঘটে। উপন্যাসে নাজমা প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় নিপীড়িত বাংলাদেশের।
- ডেভিড একজন সংগীতশিল্পী ও ট্রান্সজিস্টার মেরামতকারক। গল্পে ডেভিড আর্মস্ট্রং নাজমাকে “গুপ্তচর” পরিচয়ে সীমান্ত পার করানোর চেষ্টা করলে ধরা পড়ে এবং ভারতীয় পুলিশের কাছে তার জবানবন্দির মধ্য দিয়েই কাহিনি এগোতে থাকে। 
-------------------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও সক্রিয় রাজনীতিবিদ।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরে তিনি ২৩ জুলাই ১৮৯৮ সালে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

∗ তাঁর কালজয়ী উপন্যাস হচ্ছে - কবি

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি;
- জলসাঘর;
- ধাত্রীদেবতা;
- কালিন্দী;
- গণদেবতা;
- পঞ্চগ্রাম;
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

∗ ছোটগল্পের মধ্যে ‘রসকলি’, ‘বেদেনী’ ও ‘ডাকহরকরা’ তাঁর  বিখ্যাত সংকলন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালো মেয়ের উপন্যাস; 
বাংলাপিডিয়া।

২০.
বাংলা সঙ্গীতে প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন-
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

- অতুলপ্রসাদ সেনই প্রথম বাংলা গানে ঠুংরির ধারা যুক্ত করেন।
- এবং তিনিই প্রথম রাগভিত্তিক বাংলাগানের সূচনা করেন।
- ঠুংরি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি রূপ, যা মূলত প্রেম, মিলন ও বিচ্ছেদের অনুভূতি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।

• অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন বাংলার এক বিশিষ্ট কবি, গীতিকার ও সুরকার।
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন; তাঁদের আদি বাড়ি ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- বাংলা গানকে নতুন মাত্রা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অসামান্য—বিশেষ করে ঠুংরি, দাদরা ও রাগভিত্তিক গানে।
- তাঁর লেখা প্রায় দুই শতাধিক গান - ‘কয়েকটি গান’ ও ‘গীতিপুঞ্জ’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

∗ তাঁর ঠুংরি ও দাদরা ঘরানার উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘কি আর চাহিব বলো’,
- ‘ওগো নিঠুর দরদী’ ও
- ‘যাব না যাব না ঘরে’।

∗ তাঁর রাগপ্রধান গানের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বঁধু ধর ধর মালা’ ও
- ‘তবু তোমায় ডাকি বারে বারে’ বিশেষভাবে পরিচিত।

∗ তাঁর সৃষ্টি ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’ বাংলা সংগীতে চিরকালীন মর্যাদা পেয়েছে।
-এই গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অনন্য প্রেরণা জাগিয়েছিল এবং এর আবেদন আজও অম্লান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।