পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৯৮
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 16” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন বিষয়ের নাম: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৯৮ প্রশ্ন

.
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল শহর কোনটি? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. ঢাকা 
  2. টোকিও
  3. নয়াদিল্লী
  4. জাকার্তা
ব্যাখ্যা

বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল শহর:
- বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল শহর হলো ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা।
- ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের (ইউএন ডিইএসএ) 'ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টাস ২০২৫' শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

⇒ বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল শহর:
১. জাকার্তা, 
২. ঢাকা, 
৩. টোকিও, 
৪. নয়াদিল্লী,
৫. সাংহাই।

উৎস: i)  World Urbanisation Prospects 2025.
ii) Visual Capitalist. 

.
ফিলিস্তিনের জন্য কোন দিনটি মহাবিপর্যয় (আল-নাকবা) হিসেবে বিবেচিত?
  1. ১৩মে
  2. ১৪মে
  3. ১৫মে
  4. ১৭মে
ব্যাখ্যা

নাকবা দিবস:
- ফিলিস্তিনের জন্য মহাবিপর্যয় (আল-নাকবা) হিসেবে বিবেচিত-১৫ মে।

⇒ ১৯৪৮ সালের ১৪ মে বদলে যায় মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ইহুদিদের জন্য নতুন একটি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। নতুন রাষ্ট্রটির নাম রাখা হয় ইসরায়েল। ইহুদিদের মতে, নতুন রাষ্ট্র গঠন করে তাঁরা ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমিতে ফিরে এসেছেন। 

⇒ ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরদিন থেকেই স্থানীয় আরব অধিবাসীদের ওপর নেমে আসে মহাবিপর্যয় বা আল-নাকবা।
- ইহুদি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সেনারা ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য হত্যা-লুট-অগ্নিসংযোগ শুরু করেন।
- প্রাণভয়ে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাড়িঘর, সহায়-সম্পত্তি ছেড়ে পালাতে থাকেন। প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ায় গিয়ে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নেন।
- রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপরই আরবদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ান ইসরায়েলিরা। শুরু হয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। দখল করে নেওয়া হয় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রায় ৭৮ শতাংশ। এর ফলে ভূমিপুত্র আরবদের বসবাস শুধু পশ্চিম তীর ও গাজায় সীমিত হয়ে যায়।
- এক অনিঃশেষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পতিত হন ফিলিস্তিনিরা, যা আজও চলছে।
- এই কারণে ফিলিস্তিনিরা প্রতিবছর ১৫ মে নাকবা দিবস বা মহাবিপর্যয়ের দিন হিসেবে পালন করেন।

উৎস: i) Reuters. 
ii) প্রথম আলো।

.
ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কোথায় অবস্থিত?
  1. শিকাগো
  2. ওয়াশিংটন ডিসি
  3. নিউইয়র্ক সিটি
  4. লস অ্যাঞ্জেলেস
ব্যাখ্যা

ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (ফ্রিডম টাওয়ার):
- ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (ফ্রিডম টাওয়ার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির লোয়ার ম্যানহাটানে অবস্থিত।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভেঙে ফেলা টুইন টাওয়ারের স্থানে নির্মিত ভবনের নাম ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (ফ্রিডম টাওয়ার)।

উল্লেখ্য,
- টুইন টাওয়ার নিউইয়র্কের ব্যস্ততম ডাউনটাউন এলাকার ১১০-তলাবিশিষ্ট দুটি ভবন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৬৬ সাল থেকে ৪ বছর ধরে পৃথিবীর অন্যতম উঁচু ভবন দুটি তৈরি হয়।
- এই ভবন দুটি ব্যবহৃত হয় বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে।
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সমন্বয়ে বহুজাতিক বিভিন্ন সংস্থার দপ্তর স্থাপিত হয় ভবন দুটোয়।
- ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ তারিখে টুইন টাওয়ারের হঠাৎ ৭৬৭ বাণিজ্যক বিমান হাইজ্যাক করে সন্ত্রাসীরা আঘাত হানে।
- জঙ্গি হানায় মূহূর্তের মধ্যে গ্রাউন্ড জিরোতে পরিণত হয়েছিল বিশ্বখ্যাত টুইন টাওয়ার।

⇒ নিউইয়র্কে হামলার স্থান, যেখানে টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত হয়েছিল, সেই "গ্রাউন্ড জিরো"র ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করতে সময় লেগেছিল আট মাসেরও বেশি। ওই স্থানে এখন তৈরি হয়েছে একটি যাদুঘর এবং একটি স্মৃতিসৌধ। ভবনগুলো আবার নির্মিত হয়েছে, তবে ভিন্ন নক্সায়।
- সেখানে মধ্যমণি হিসাবে নির্মিত হয়েছে ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা "ফ্রিডম টাওয়ার" - যা উচ্চতায় আগের নর্থ টাওয়ারের চেয়েও বেশি। নর্থ টাওয়ারের উচ্চতা ছিল ১,৩৬৮ ফুট আর নতুন ফ্রিডম টাওয়ার ১,৭৭৬ ফুট উঁচু।
- পেন্টাগন পুনর্নিমাণে সময় লেগেছিল এক বছরের কিছু কম। ২০০২ সালের অগাস্টের মধ্যে পেন্টাগনের কর্মচারীরা আবার তাদের কর্মস্থলে ফিরে যান।

উৎস: i) 911 Ground Zero.
ii) Britannica.

.
Joint Expeditionary Force মূলত কোন অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করে?
  1. দক্ষিণ ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগর
  2. মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল 
  3. পূর্ব আফ্রিকা
  4. উত্তর ইউরোপ ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চল
ব্যাখ্যা

Joint Expeditionary Force:
- Joint Expeditionary Force হলো যুক্তরাজ্য-নেতৃত্বাধীন একটি উত্তর ইউরোপীয় সামরিক জোট।
- এই জোট সংকট মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। 
- গঠিত হয়: ২০১৪ সালে।
- সদস্য দেশ: ১০টি।
- সদস্য দেশসমূহ: যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং সুইডেন।
- উদ্দেশ্য: উত্তর ইউরোপ এবং উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত সংকট মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়া জানানো।
- কার্যকারিতা: জেইএফ-এর নিজস্ব বাহিনী আছে যা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত মোতায়েন করা যায়। প্রয়োজনে এটি NATO, UN বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনেও কাজ করতে পারে।

উল্লেখ্য, 
- ৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে জেইএফ-এ ‘বর্ধিত অংশীদারিত্ব’ মর্যাদা পেয়েছে ইউক্রেন।

উৎস: Joint Expeditionary Force ওয়েবসাইট। [link]

.
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় কত শতাংশ সংঘটিত হয়? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. ৫৬%
  2. ৭৫%
  3. ৮৪%
  4. ৯৮%
ব্যাখ্যা

WTO:
- WTO-এর পূর্ণরূপ: World Trade Organization.
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- বর্তমান সদস্য: ১৬৬টি দেশ।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- মহাপরিচালক: এনগোজি ওকোনজো ইওয়েলা।
- প্রতিষ্ঠাকালীন নাম: General Agreement on Tariffs and Trade (GATT).
- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14) ২০২৬ সালের ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ইয়াউন্দে, ক্যামেরুন-এ অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ববাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ বাণিজ্য এখন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যদেশগুলোর মধ্যে হয়ে থাকে।
- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে আলোচনার ফোরাম হিসেবে কাজ করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে রেফারি হিসেবে ভূমিকা রাখে।
- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কর্ম পরিসর ব্যাপকভিত্তিক যেমন- কৃষি, বস্ত্র ও পোশাক, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, রাষ্ট্রীয় ক্রয়-বিক্রয়, শিল্পমান, খাদ্য, স্যানিটেশন প্রবিধান, মেধা সম্পত্তি প্রভৃতি।

⇒ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান কাজ হচ্ছে–
১) উরুগুয়ে রাউন্ডের চুক্তিসমূহের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা,
২) বহুপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার জন্য ফোরাম হিসেবে কাজ করা,
৩) বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করা,
৪) বিভিন্ন সদস্য দেশের জাতীয় বাণিজ্য নীতিমালা পরীক্ষা করে দেখা এবং,
৫) কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশসমূহের বাণিজ্য নীতিমালার বিষয়ে সহায়তা করা।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট। [link]

.
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন কোন দেশে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ফ্রান্স
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. অস্ট্রিয়া
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন:
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন (Munich Security Conference - MSC) হলো একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন যা মূলত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আয়োজন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালে সর্বপ্রথম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নিরাপত্তা সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত।
- এর লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং সমাধান খোঁজা।
- এটি প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত হয়।
- বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, কূটনীতিক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই সম্মেলনে অংশ নেন।

উল্লেখ্য,
- মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রধান দুই উদ্যোক্তা এভাল্ড ভন ক্লাইস্ট ও হোর্স্ট টেল্টশিক।
- প্রথম এক দশক এই সম্মেলনে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোই অংশ নিত।
- স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের এভাল্ড ভন ক্লাইস্ট ও হোর্স্ট টেল্টশিক এই সম্মেলনকে বিশ্বজনীন রূপ দেওয়ার প্রয়াসে নতুন রূপরেখা তৈরি করেন।
- তারপর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়কেরা মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছেন।

⇒ ২০২৫ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন:
- ২০২৫ সালে ৬১তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

উৎস: Munich Security Conference ওয়েবসাইট।

.
স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ নয় কোনটি?
  1. নরওয়ে
  2. ফিনল্যান্ড
  3. সুইডেন
  4. ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

স্ক্যান্ডিনেভিয়া:
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া ঐতিহাসিকভাবে স্ক্যান্ডিয়া, উত্তর ইউরোপের অংশ।
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া হলো ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান রাষ্ট্র মূলত ৩টি। যথা: নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক।
- দেশ তিনটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত দিক থেকে পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত।

উল্লেখ্য,
• নর্ডিক অঞ্চলভূক্ত দেশ ৫টি। যথা - আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড।
• বলকান (Balkan) দেশসমূহ: আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, গ্রিস, কসোভো, মন্টিনিগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া। 
• আইবেরীয় (Iberian) দেশসমূহ: স্পেন, পর্তুগাল, এন্ডোরা, জিব্রাল্টার।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) Britannica.

.
Climate Vulnerable Forum কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ডেনমার্ক
  2. মালদ্বীপ
  3. সুইডেন
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা

CVF:
- Climate Vulnerable Forum হলো জলবায়ু জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি আন্তর্জাতিক  সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২০০৯ সালে।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: মালে, মালদ্বীপ।
- বর্তমান সদস্য: ৭৪টি।
- বর্তমান সভাপতি: বার্বাডোস।

⇒ ২০০৯ সালের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত COP-15 সম্মেলনের আগে বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ১১টি দেশ মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে একত্রিত হয়ে CVF প্রতিষ্ঠা করে।
- উদ্যোক্তা: মালদ্বীপের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাশিদ।

⇒ Climate Vulnerable Forum (CVF)-এর উদ্দেশ্য:
- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির অভ্যন্তরীণভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রচার করা
- গবেষণা ও তথ্য প্রদান → জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া ও নীতি নির্ধারণে সহায়তা করা।
- সচেতনতা ও সমর্থন বৃদ্ধি → বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য বৈশ্বিক জনমত ও সহায়তা আদায়।

উৎস: Climate Vulnerable Forum ওয়েবসাইট।

.
'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' নীতি কোন দেশের উদ্যোগ ছিল?
  1. জাপান
  2. চীন
  3. রাশিয়া
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

Great Leap Forward:
- ১৯৫৮ সালে চীনে দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শুরু করার প্রাক-মুহূর্তে গণচীনের জনক মাও সেতুং একটি নতুন নীতি ঘোষণা করেন।
- এই নীতি 'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' নীতি নামে পরিচিত।
- এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল চীনকে একটি কৃষিপ্রধান দেশ থেকে দ্রুত শিল্পায়িত ও আধুনিক অর্থনীতির দেশে রূপান্তর করা।
- মাও সেতুং বিশ্বাস করতেন যে দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে চীন যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো শিল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।

উৎস: Britannica.
ii) The Guardian.

১০.
ট্রাফালগার স্কয়ারের সাথে সম্পর্কযুক্ত কে?
  1. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  2. অ্যাডমিরাল হোরেশিও নেলসন
  3. ডিউক অফ ওয়েলিংটন
  4. ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

ট্রাফালগার স্কয়ার:
- ট্রাফালগার স্কয়ার লন্ডনের একটি বিখ্যাত স্থান।
- এটি প্রধানত অ্যাডমিরাল হোরেশিও নেলসন এর সাথে সম্পর্কযুক্ত।
- লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে ৫২ মিটার উঁচু "নেলসনের কলাম" (Nelson's Column) স্থাপিত হয়।
- শীর্ষে তাঁর মূর্তি এবং চারপাশে ব্রোঞ্জের সিংহ স্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৮০৫ সালে অ্যাডমিরাল নেলসন ফরাসি ও স্প্যানিশ নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
- অ্যাডমিরাল নেলসন ট্রাফালগারের যুদ্ধে ফ্রান্স-স্পেনের নৌবাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন যা ব্রিটিশ নৌশক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। 
- অ্যাডমিরাল নেলসন এই যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ ট্রাফালগারের যুদ্ধ (১৮০৫): নেলসন ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে এই যুদ্ধে ফ্রান্স-স্পেনের যৌথ নৌবহরকে পরাজিত করেন। এটি নেপোলিয়নের ব্রিটিশ আক্রমণের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে।

উৎস: Britannica.

১১.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান 'সেক্রেটারি অব স্টেট' কে? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. জেমস ডেভিড ভ্যান্স
  2. স্কট ব্যাসেন্ট
  3. মার্কো রুবিও
  4. ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে 'সেক্রেটারি অব স্টেট' বলা হয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান 'সেক্রেটারি অব স্টেট' মার্কো রুবিও।

এছাড়াও,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও ৫০তম ভাইস প্রেসিডেন্ট জেমস ডেভিড ভ্যান্স (JD Vance)।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট।
- বাংলাদেশে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

উৎস: United States Mission to the United Nations (.gov).

১২.
লাওসের মুদ্রার নাম কী?
  1. বাত
  2. ডং
  3. লাও
  4. কিপ
ব্যাখ্যা

লাওস:
- লাওস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ল্যান্ডলকড দেশ।
- লাওসের (Laos) সরকারি নাম Loas People's Democratic Republic.
- এর উত্তর-পশ্চিমে চীন, পূর্বে ভিয়েতনাম, দক্ষিণে কম্বোডিয়া এবং পশ্চিমে থাইল্যান্ড।
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
- ১৯৭৫ সালে কমিউনিস্টরা দেশ থেকে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটায়। 
- মার্কসবাদী-লেনিনবাদী মতাদর্শ দ্বারা পরিচালিত দেশ লাওস।
- রাজধানী: ভিয়েনতিয়েন।
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: সোনেক্সে সিফানডোন।
- আইনসভা: জাতীয় পরিষদ।
- মুদ্রা: কিপ।
- অফিসিয়াল ভাষা: লাও।

উৎস: Britannica.

১৩.
সম্প্রতি কোন ইউরোপীয় দেশে জেন-জি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. জার্মানি
  2. অস্ট্রিয়া
  3. বুলগেরিয়া
  4. পর্তুগাল
ব্যাখ্যা

বুলগেরিয়ায় জেন জি বিক্ষোভ:
- সম্প্রতি (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) ইউরোপীয় দেশ বুলগেরিয়ায় জেন জি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

⇒ রাজধানী সোফিয়া ছাড়াও কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বিভিন্ন শহর ও নগরে ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে দেশটিতে দুর্নীতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয় সাধারণ মানুষ।
- দেশটিতে আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে ইউরো মুদ্রা গ্রহণের প্রস্তুতির মাঝেই সরকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন শুরু হয়েছে।
- বিক্ষোভকারীরা সোফিয়ার কেন্দ্রস্থলে পার্লামেন্ট ভবনে লেজার দিয়ে ‘‘পদত্যাগ’’, ‘‘মাফিয়া আউট’’ ও ‘‘সুষ্ঠু নির্বাচন চাই’’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান প্রক্ষেপণ করেন।
- সোফিয়ার বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী ডোবরি লাকভ বলেন, আমি মনে করি জনগণের শক্তি ধীরে ধীরে তাদের (সরকারকে) পদত্যাগ করতে বাধ্য করবে কারণ অনেক সংস্কার প্রয়োজন।

উৎস: DW.

১৪.
বর্তমানে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB)-এর মোট সদস্য দেশ কয়টি? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. ২২টি
  2. ২৭টি
  3. ৫২টি
  4. ৫৭টি
ব্যাখ্যা

Islamic Development Bank (IsDB):
- ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB) হলো একটি বহুমুখী উন্নয়ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৭৩ সালের সৌদি আরবের জেদ্দায় IDB গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে: ২০ অক্টোবর, ১৯৭৫।
- বর্তমান সদস্য: ৫৭টি।
- ৫৭তম দেশ: গায়ানা।
- সদরদপ্তর: জেদ্দা, সৌদি আরব।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: ডক্টর মুহাম্মদ আল-জাসের (সৌদি আরব) (২০২১-২৬)।

⇒ ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ঋণ প্রদান করে বিনা সুদে। IDB এর সদস্যপদ লাভের পূর্বশর্ত হলো ওআইসি এর সদস্য হওয়া।
- ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর মাসে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (OIC)-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রী সম্মেলনে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামি অর্থ সংস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে প্রথম বারের মত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের অপর সম্মেলনে 'আইডিবি' (ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক) চার্টার গৃহীত হয়।
- এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৭৫ সালে সৌদী আরবে 'ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক' (আইডিবি) প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

উৎস: IDB ওয়েবসাইট।

১৫.
IPCC-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রীন হাউজ গ্যাসের নি:সরণ ২০১৯ সালের তুলনায় কত শতাংশ হ্রাস করতে হবে?
  1. প্রায় ২০%
  2. প্রায় ৩৫%
  3. প্রায় ৪৩%
  4. প্রায় ৫০%
ব্যাখ্যা

IPCC:
- IPCC-এর পূর্ণরূপ: Intergovernmental Panel on Climate Change.
- এটি হলো জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিজ্ঞানের মূল্যায়নের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠার সময়: ১৯৮৮ সাল।
- বর্তমানে সদস্য: ১৯৫টি।
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- চেয়ারম্যান: জিম স্কেয়া।
- শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ: ২০০৭ সালে।

⇒ IPCC জলবায়ু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এর প্রভাব এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি এবং অভিযোজন ও প্রশমনের বিকল্পগুলির নিয়মিত মূল্যায়ন প্রদান করে।
- এর কাজ হলো মানুষের ক্রিয়াকলাপের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে এগিয়ে নেওয়া।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্যানেল জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে গ্রীন হাউজ গ্যাসের নি:সরণ ২০২৫ সালের মধ্যে হ্রাস করা শুরু করতে হবে।
- এতে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালের সাপেক্ষে এই নি:সরণ ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ও ২০৫০ সালের মধ্যে ৮৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।
- এই প্যানেল বিশেষত জ্বালানি খাতে বড় ধরনের রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ সর্বমোট নি:সরণের এক-তৃতীয়াংশ উৎপন্ন হয় এই খাত থেকে।
- তারা তেল ও কয়লা জাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বিপুল পরিমাণ হ্রাস করার এবং সৌর ও বায়ুশক্তি জাতীয় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে।

উৎস: IPCC ওয়েবসাইট।

১৬.
গাজায় International Stabilization Force (ISF) মোতায়েনের অনুমোদন দেয় কোন সংস্থা?
  1. NATO
  2. UN Security Council
  3. Arab League
  4. EU
ব্যাখ্যা

International Stabilization Force (ISF):
- গাজায় মোতায়েনের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বাহিনী হলো ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ)।

⇒ ফিলিস্তিনের গাজায় সংঘাত বন্ধে ২০ দফা শান্তি প্রস্তাব করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
 - ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে সেই প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
- ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার নিরাপত্তায় সহায়তার পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঠিকঠাক বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তার ওপর নজর রাখবে আন্তর্জাতিক এই বাহিনী।
 - তবে তাত্ত্বিকভাবে বলতে গেলে, এই বাহিনী কাজ করবে ইসরায়েল ও মিসরের সঙ্গে। তাদের লক্ষ্য গাজাকে অস্ত্রমুক্ত করা। একই সঙ্গে একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

উল্লেখ্য,
- International Stabilization Force (ISF) একটি বহুজাতিক বাহিনী।
 - গাজায় পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, সীমান্তের সুরক্ষা দেওয়া, উপত্যকাটিকে অস্ত্রমুক্ত করে নিরাপত্তা বজায় রাখা, বেসামরিক লোকজনকে সুরক্ষা দেওয়া, মানবিক কার্যক্রম চালানোসহ নানা দায়িত্ব পালন করবে তারা।
 - এ ছাড়া সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারবে এই বাহিনী।
- গাজার নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনেক দায়িত্বও নিজেদের হাতে তুলে নেবে আইএসএফ।
 
উৎস: i) UN News.
ii) প্রথম আলো।

১৭.
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (ICRC) প্রতিষ্ঠার পেছনে অনুপ্রেরণা দিয়েছে কোন যুদ্ধ?
  1. ওয়াটারলু যুদ্ধ
  2. ক্রিমিয়ান যুদ্ধ
  3. ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধ
  4. সোলফেরিনোর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

Red Cross:
- ICRM-এর পূর্ণরূপ: The International Red Cross and Red Crescent Movement সংক্ষেপে রেডক্রস নামে পরিচিত।
- এটি একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬৩।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- প্রতিষ্ঠাতা: হেনরি ডুনান্ট।
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- Red Cross-এর প্রতীক হলো সাদা পটভূমিতে লাল ক্রস, যা মানবিক সহায়তার প্রতিনিধিত্ব করে।
- বিশ্বব্যাপী দুস্থ মানুষের সেবা তথা যুদ্ধে আহত ও যুদ্ধবন্দি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও দুঃখ লাঘবই রেড ক্রস/রেড ক্রিসেন্ট’র মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- হেনরি ডুনান্ট ১৮৬৩ সালে Red Cross প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি সোলফেরিনোর যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে মানবিক সহায়তার জন্য এই সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৮৫৯ সালে ইতালির সোলফেরিনোর যুদ্ধে আহত সৈন্যদের দুর্দশা দেখে হেনরি ডুনান্ট Red Cross গঠনের প্রেরণা পান। 

এছাড়াও,
- Red Cross সাতটি মৌলিক নীতি (মানবতা, নিরপেক্ষতা, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা, স্বেচ্ছাসেবা, ঐক্য, এবং সর্বজনীনতা) অনুসরণ করে।
- আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি মোট তিনবার (১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে) শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
- মুসলিম বিশ্বে এটি রেড ক্রিসেন্ট নামে পরিচিত।

উৎস: Red Cross ওয়েবসাইট।

১৮.
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা আয়োজিত 'আলমাআতা ঘোষণা' কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা

'আলমাআতা' ঘোষণা (The Alma-Ata Declaration):
- স্থান: আলমাআতা, কাজাখস্তান।
- সময়: ১২-১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮।

⇒ প্রধান উদ্দেশ্য:
- Primary Health Care (PHC) বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত করা।
- সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নিশ্চিত করা, যাতে স্বাস্থ্য অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত হয়।
- স্বাস্থ্যসেবা কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজভিত্তিক ও প্রতিরোধমূলক হয়ে ওঠে।
- ২০০০ সালের মধ্যে বিশ্বের সকল মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য,
- কাজাখস্তানের বৃহত্তম নগরী আলমাআতায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের ১৩৪ সদস্য দেশের মন্ত্রীরা ২০০০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্যের বিষয়টি ঘোষণা করেছিলেন।

উৎস: WHO ওয়েবসাইট।

১৯.
বোকো হারাম মূলত কোন দেশের একটি জঙ্গি সংগঠন?
  1. নাইজেরিয়া
  2. সোমালিয়া
  3. ইয়েমেন
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

বোকো হারাম:
- বোকো হারাম নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন।
- নাইজেরিয়ার বোরনো প্রদেশের রাজধানী মাইদুগুরির নিকটবর্তী শহর দাম্বোয়ায় বোকো হারাম প্রতিষ্ঠিত হয়।
- কানাম্মায় দলটির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
- তারা আল-কায়েদার মতোই পশ্চিমা শিক্ষা-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে 'জিহাদ' ঘোষণা করেছে সশস্ত্র আক্রমণের মধ্য দিয়ে।

উল্লেখ্য,
- বোকো হারামের নামের অর্থ পশ্চিমা শিক্ষা নিষিদ্ধ। 
- পশ্চিমা শিক্ষা-দীক্ষার বিরুদ্ধে তারা বরাবরই আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলে।
- মানুষের তৈরি আইন ও আধুনিক বিজ্ঞানকে সংগঠনটি অস্বীকার করে।
- তাদের ভাষায়, পশ্চিমা শিক্ষা মুসলমানদের দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলে।
- বোকো হারামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো-শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠিত করা।

উৎস: Britannica.

২০.
ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেন কে?
  1. জন এফ কেনেডি
  2. জিমি কার্টার
  3. বারাক ওবামা 
  4. বিল ক্লিনটন
ব্যাখ্যা

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি:
- ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি (Camp David Accords) একটি ঐতিহাসিক চুক্তি, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- পক্ষসমূহ: মিশর ও ইসরাইল।
- স্বাক্ষরকারী: মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট।
- মধ্যস্থতাকারী: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।

⇒ ফলাফল: মিশর ইসরাইলের স্বীকৃতি দেয়, সিনাই উপদ্বীপ মিশরের কাছে ফিরে আসে, সাদাত ও বেগিন নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- Camp David চুক্তি ও ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী আরব রাষ্ট্র জর্ডান ও মিশর।
- ১৯৯৪ সালে Israel-Jordan Peace Treaty স্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্বিতীয় আরব রাষ্ট্র হিসেবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে (Camp David চুক্তির পরোক্ষ ফলাফল হিসেবে)।
- ১৯৯৪ সালের চুক্তির মাধ্যমে জর্ডান ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।

এছাড়াও,
- সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো, সুদান ২০২০ সালে Abraham Accords-এর মাধ্যমে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে (Camp David চুক্তির সরাসরি ফল নয়)।

উৎস: Britannica.

২১.
'এল-ফাশের শহর' কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. সুদান 
  2. লিবিয়া 
  3. সিরিয়া 
  4. জর্ডান
ব্যাখ্যা

এল-ফাশের শহর:
- এল-ফাশের শহরটি সুদান-এ অবস্থিত।
- এটি উত্তর দারফুর অঞ্চলের রাজধানী।

⇒ সুদান:
- সুদান উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ এবং আফ্রিকা মহাদেশের বৃহত্তম দেশগুলোর একটি।
- এর উত্তরে মিশর, পশ্চিমে চাদ ও লিবিয়া, দক্ষিণে দক্ষিণ সুদান, পূর্বে লোহিত সাগর এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়ার সীমান্তবর্তী।
- রাজধানী: খার্তুম।
- ভাষা: আরবি ও ইংরেজি।
- মুদ্রা: সুদানিজ পাউন্ড।
- বর্তমানে দেশটি গৃহযুদ্ধে লিপ্ত, যার কারণ দেশটির সেনাবাহিনী (SAF) এবং আধা-সামরিক বাহিনী (RSF) এর মধ্যে ক্ষমতা ও সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব।

উৎস: Britannica.

২২.
সিডও সনদের কোন ধারায় নারী-পুরুষের সমতা সর্ম্পকে ব্যাখ্যা করে?
  1. প্রথম ১৪টি ধারা
  2. শেষের ১৪টি ধারা
  3. প্রথম ১৬টি ধারা
  4. শেষের ১৬টি ধারা
ব্যাখ্যা

CEDAW:
- CEDAW-এর পূর্ণরূপ: Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women বা নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য প্রতিরোধ কনভেনশন।
- গৃহীত হয়: ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ সালে।
- সনদ স্বাক্ষর শুরু হয়: ১ মার্চ, ১৯৮০।
- কার্যকর হয়: ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১।
- বর্তমান চেয়ারপারসন: আনা পেলেজ নারভেজ।
- এই সনদে মোট ৩০টি অনুচ্ছেদ আছে। এই অনুচ্ছেদগুলোর মধ্যে ৩-১৬ পর্যন্ত মোট ১৪টি নারীর অধিকার সংক্রান্ত এবং বাকীগুলো এব কর্মপন্থা ও দায়িত্ব সংক্রান্ত।

⇒ CEDAW সনদে মোট ৩০টি অনুচ্ছেদ আছে। অনুচ্ছেদ ৩ ভাগে বিভক্ত। যথা:
- প্রথম ভাগ (১-১৬): নারী-পুরুষের সমতা সর্ম্পকিত,
- দ্বিতীয় ভাগ (১৭-২২): এর কর্মপন্থা ও দায়িত্ব বিষয়ক,
- তৃতীয় ভাগ (২৩-৩০): প্রশাসনিক বিষয়।

উল্লেখ্য,
- সিডও সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে। ৩০টি ধারার মধ্যে ১৪টি প্রশাসনিক আর ১৬টি নারী অধিকারবিষয়ক। এ ১৬টি ধারা নারীর সমতা স্থাপনের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী কী করণীয়, তা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে বাতলে দিয়েছে। 

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) CEDAW South Asia ওয়েবসাইট।

২৩.
কমোডাস প্যাসেজ কোন সাম্রাজ্যের সাথে সম্পর্কিত?
  1. রোমান সাম্রাজ্য
  2. পারস্য সাম্রাজ্য
  3. গ্রিক সাম্রাজ্য
  4. মঙ্গোল সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা

কমোডাস প্যাসেজ:
- কমোডাস প্যাসেজ মূলত রোমান সাম্রাজ্যের (Roman Empire) সাথে সম্পর্কিত। এটি ইতালিতে অবস্থিত।

⇒ রোমান সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক সুড়ঙ্গ ‘কমোডাস প্যাসেজ’।
- এখানে বসেই কলোসিয়ামের মঞ্চে গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই উপভোগ করতেন রোমান সম্রাটরা।
- জনসাধারণের সংস্পর্শ এড়াতেই গোপন এ সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন তারা।
- কথিত আছে, রোমান ইতিহাসের কুখ্যাত সম্রাট কমোডাস হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন এই টানেলেই।

⇒ মূলত, প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের এক ত্রাসের নাম কমোডাস, যিনি ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছেন ক্ষমতা, বিলাসিতা আর নির্মমতার জন্য।
- জনতার চোখ এড়িয়ে এই সুড়ঙ্গ তথা ‘কমোডাস প্যাসেজ’-এ বসেই ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে গ্ল্যাডিয়েটরদের বাঁচা-মরার লড়াই উপভোগ করতেন এই রোমান সম্রাট।

⇒ ঐতিহাসিক মতবাদ অনুযায়ী, কলোসিয়ামের মূল নকশার অংশ ছিল না এই প্যাসেজ। খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের শেষ ভাগ থেকে দ্বিতীয় শতকের শুরুতে কলোসিয়ামের ভিত্তির নিচ দিয়ে নতুন করে কেটে তৈরি করা হয় গোপন এই সুড়ঙ্গ। যাতে সম্রাটরা এড়াতে পারেন সাধারণ মানুষের সরাসরি সংস্পর্শ।

উৎস: BBC.

২৪.
নিম্নের কোন দেশ ইন্দোচীনের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ভিয়েতনাম
  2. লাওস
  3. থাইল্যান্ড
  4. কম্বোডিয়া
ব্যাখ্যা

ইন্দোচীন:
- ইন্দোচীন হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি উপদ্বীপ অঞ্চল।
- ভিয়েতনাম, লাওস এবং কম্বোডিয়া এই তিনটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত ইন্দোচীন।
- ১৯৫৮-১৮৯৩ সালের মধ্যে, ফ্রান্স প্রথম ইন্দোচীন ইউনিয়ন গঠন করে।
- ১৯৪০ সালে জাপান উত্তর ভিয়েতনাম অঞ্চল দখল করে।
- ১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানের আত্মসমর্পণের পর উত্তরে ভিয়েতনামের জাতীয়তাবাদী নেতা হো চি মিনের নেতৃত্বে ভিয়েতনামের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে।

অন্যদিকে, 
- থাইল্যান্ড ইন্দোচীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। 

উৎস: Britannica.

২৫.
মূলত কোন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব সমাধানে পারিস্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল?
  1. দক্ষিণ কোরিয়া
  2. ভিয়েতনাম
  3. চীন
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

পারিস্য শান্তি চুক্তি:
- স্বাক্ষরিত হয় ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে।
- স্থান: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম।
- উদ্দেশ্য: ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো।
- ফলাফল: ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান।

উৎস: History Channel.

২৬.
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ হিসেবে পরিচিত কোনটি? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. ইতাইপু বাঁধ
  2. থ্রি গর্জেস বাঁধ
  3. গ্র্যান্ড কুলি বাঁধ
  4. গারড বাঁধ
ব্যাখ্যা

থ্রি গর্জেস বাঁধ (তিন গিরিসংকটের বাঁধ):
- বর্তমানে থ্রি গর্জেস বাঁধ বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ হিসেবে পরিচিত।

- এটি ইয়াংসি নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।
- থ্রি গর্জেস জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। ২০০৬ সালে এটি সম্পন্ন হয় এবং ২০১২ সালে এটি পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতায় পৌঁছেছিল।
- থ্রি গর্জেস বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২,৫০০ মেগাওয়াট।

উল্লেখ্য,
- জুলাই, ২০২৫-এ বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
- তিব্বত মালভূমির পূর্ব প্রান্তে বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
- এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ১৭ হাজার কোটি ডলার ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
- ইয়ালুং জাংপো নামের যে নদীর ওপর এই বাঁধ নির্মাণ করতে যাচ্ছে চীন, সেটি ব্রহ্মপুত্র নদ নামে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসাম রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ইয়াংসি নদীর ওপর নির্মাণ করা থ্রি গর্জেস বাঁধের পর এটি চীনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা: বছরে ৩০ হাজার কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা। 
- ইয়ারলুং জাংপো নদীর যে অংশে নতুন জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে নদীর একটি অংশ ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) চওড়া হয়ে প্রায় ২ হাজার মিটার (৬ হাজার ৫৬১ ফুট) উঁচু থেকে নিচে প্রবাহিত হয়েছে, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সেখানে ধাপে ধাপে পাঁচটি বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
 
উৎস: i) Worldatlas. [link]
ii) Britannica.

২৭.
প্রতিবছর কত তারিখে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়?
  1. ২৫ নভেম্বর
  2. ২৮ নভেম্বর
  3. ৮ ডিসেম্বর
  4. ১৮ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস:
- ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়।

⇒ নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
- ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলনে দিবসটি স্বীকৃতি পায়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ।
- বাংলাদেশ ১৯৯৭ সাল থেকে দিবসটি পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬০ সালের ২৫শে নভেম্বর ক্যারিবিয়ান দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন করার জন্য প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা ও মিনার্ভা মিরাবেল নামের তিন বোনকে সেনা সদস্যরা ধর্ষণ ও হত্যা করেন। তাদের স্মরণে ১৯৮১ সাল থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট। 

২৮.
মায়া সভ্যতায় মায়ানরা কয়টি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- মায়া সভ্যতাকে বলা হয় রহস্যময় সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতার অবস্থান ছিল মধ্য আমেরিকায়।
- মেক্সিকো, বেলিজ, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর ও হন্ডুরাসের রেইনফরেস্টের মধ্যে এটি অবস্থিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের প্রথম দিকে মায়ারা গ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল।
- প্রধান শহরগুলির মধ্যে ছিল টিকাল , উয়াক্সাক্টুন , কোপান , বোনাম্পাক , ডস পিলাস , ক্যালাকমুল , প্যালেনকে , এবং রিও বেক। 
- শহরগুলোর ধ্বংসাবশেষ, জটিল হায়ারোগ্লিফিক লিপি আর চিরায়ত রহস্যের মধ্যে আটকা পড়েছে এ সভ্যতার গল্প। 
- প্রায় ৬০০ বছর ধরে মায়ার লোকেরা ঐশ্বর্যময় সভ্যতা নিয়ে টিকে ছিল।

⇒ মায়া সভ্যতা তিনটি প্রধান ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• যোলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার, ২০টি নামযুক্ত দিন এবং ১৩টি সংখ্যার সমন্বয়ে গঠিত।
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার, ১৮টি ২০ দিনের মাস এবং ৫ দিনের একটি অতিরিক্ত মাস (ওয়ায়েব) নিয়ে গঠিত।
• লং কাউন্ট (Long Count): দীর্ঘ সময়ের হিসাবের জন্য ব্যবহৃত, যা ৩১১৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে দিন গণনা করে।

⇒ এছাড়া, এই ক্যালেন্ডারগুলো একত্রে ক্যালেন্ডার রাউন্ড নামে ৫২ বছরের একটি চক্র তৈরি করে। সুতরাং, মায়ারা মোট তিনটি প্রধান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করত।

উৎস: i) Britannica.
ii) The Daily Star Bangla.

২৯.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কে পার্ল হারবার আক্রমণ করেছিল?
  1. জার্মানি
  2. চীন
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. জাপান
ব্যাখ্যা

পার্ল হারবার আক্রমণ:
- পার্ল হারবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি।
- এটি উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত।
- ঘাঁটিটি বানানো হয় ১৯০৮ সালে। এরপর ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে স্থানান্তর করা হয়।

⇒ যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল এবং জাপান থেকে প্রায় চার হাজার মাইলে দূরে অবস্থিত ছিল এই নৌঘাঁটি।
- ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে আক্রমণ করে বসে জাপানের সামরিক বাহিনী।
- জাপানের এই অতর্কিত ও ধ্বংসাত্মক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বযুদ্ধে উদাসীন থাকা যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অংশ নেয় সক্রিয়ভাবে।

উল্লেখ্য,
- পার্ল হারবারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের যুদ্ধজাহাজের সারি লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে একের পর টর্পেডো ছোড়া হচ্ছিল জাপানি যুদ্ধবিমান থেকে। সেই সঙ্গে চলে প্রচণ্ড বোমা হামলা ও মেশিনগান থেকে গুলিবর্ষণ। হামলা চালানো হয় সেখানকার বিমানঘাঁটিতেও।
- দুই ধাপে এ হামলায় অংশ নেয় জাপানের ৩৫৩টি যুদ্ধবিমান। দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ১৬টি। ধ্বংস হয়ে যায় মার্কিন বাহিনীর ১৮৮টি যুদ্ধবিমান।
- জাপানের এই হামলায় নিহত হন ২ হাজার ৪০০ জন সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক। আহত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০।
- মার্কিন পাল্টা হামলায় নিহত হন ৬৪ জাপানি সেনা।

উৎস: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো।

৩০.
নিরাপত্তা পরিষদের প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কমপক্ষে কতটি সদস্যের সম্মতিভিত্তিক ভোট প্রয়োজন?
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council):
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (United Nations Security Council বা UNSC) হলো জাতিসংঘের প্রধান সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। 
- এর প্রধান দায়িত্ব হলো বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখা এবং সংঘাত প্রতিরোধ করা।
- নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ১৫ (পাঁচটি স্থায়ী সদস্য এবং দশটি অস্থায়ী সদস্য)।
- স্থায়ী ৫টি সদস্য: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র।
- অস্থায়ী ১০টি সদস্য দেশ হলো: ডেনমার্ক (২০২৫-২৬), গ্রিস (২০২৫-২৬), সোমালিয়া (২০২৫-২৬), পাকিস্তান (২০২৫-২৬), পানামা (২০২৫-২৬), বাহরাইন (২০২৬-২৭), কলম্বিয়া (২০২৬-২৭), কঙ্গো (২০২৬-২৭), লাটভিয়া (২০২৬-২৭) ও লাইবেরিয়া (২০২৬-২৭)।

উল্লেখ্য,
• জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৭ নং অনুচ্ছেদ: ভোটদান রীতি
১. নিরাপত্তা পরিষদে প্রত্যেক সদস্যের একটি ভোটদানের অধিকার থাকবে।
২. পদ্ধতিগত বিষয়গুলো ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদে নয়টি সদস্যের ইতিবাচক ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
৩.অন্যান্য বিষয়ে স্থায়ী সদস্যদের সমর্থনসূচক ভোটসহ মোট নয়টি সদস্যের ইতিবাচক ভোটে নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে; অবশ্য ষষ্ঠ অধ্যায় অথবা ৫২-এর ৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে বিবদমান সদস্য ভোটদানে বিরত থাকবে।

উৎস: UN Security Council ওয়েবসাইট। 

৩১.
'The Idea of Justice' গ্রন্থটি কার রচিত?
  1. ডেভিড হিউম
  2. মারথা নুসবাউম
  3. অমর্ত্য সেন
  4. কমলা হ্যারিস
ব্যাখ্যা

অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক।
- ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
- দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান অমর্ত্য সেন।

⇒ ১৯৫১ সালে আইএসসি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তিনি ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং তারপর অর্থনীতি নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন ইংল্যাণ্ডে কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে।
- এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনিই প্রথম ভারতীয় শিক্ষাবিদ যিনি একটি অক্সব্রিজ কলেজের প্রধান হন।
- এছাড়াও তিনি প্রস্তাবিত নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও কাজ করেছেন।
 
উল্লেখ্য,
- অমর্ত্য সেনের লেখা গ্রন্থাবলি ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা অমর্ত্য সেন। বইটি মূলত জন রলসের 'A Theory of Justice' (1971)-এর মৌলিক ধারণাগুলির একটি সমালোচনা এবং সংশোধন।
 
উৎস: Britannica.

৩২.
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যানকারী প্রথম ব্যক্তি কে?
  1. মার্টিন লুথার কিং
  2. লি ডাক থো
  3. নেলসন ম্যান্ডেলা
  4. জঁ পল সার্ত্রে
ব্যাখ্যা

লি ডাক থো:
- শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যানকারী প্রথম ব্যক্তি লি ডাক থো।
- ‘লি ডাক থো’ ভিয়েতনামের রাজনৈতিক নেতা ছিলেন।
-  ১৯৭৩ সালে লি ডাক থো এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসানের প্রচেষ্টার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।
- লি ডাক থো এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ হিসেবে তিনি ভিয়েতনামে চলমান সংঘাতের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, কিসিঞ্জার ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। কিসিঞ্জার অবশ্য পুরস্কারটি গ্রহণ করেছিলেন।
- ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলেছিল। ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল সায়গনের পতনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শেষ হয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ নিহত হন।

উল্লেখ্য,
- লি ডাক থো ছিলেন ১৯৩০ সালে ইন্দোচাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য, তিনি ১৯৩০-৩৬ এবং ১৯৩৯-৪৪ সালে ফরাসিদের দ্বারা কারারুদ্ধ হন।

⇒ ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত চলে ভিয়েতনাম যুদ্ধ।
- সোভিয়েত রাশিয়া ও চীন সমর্থিত কমিউনিস্টপন্থি উত্তর ভিয়েতনাম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত দক্ষিণ ভিয়েতনামের মধ্যে দুই দশক ধরে চলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত।
- শুরু থেকেই স্নায়ুযুদ্ধের অংশীদার হলেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ষাটের দশকে।
- ১৯৭৫ সালে যখন উত্তর ভিয়েতনামের বাহিনী দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সাইগন দখল করে নেয়। ১৯৭৩ সালে ২৭ জানুয়ারি কিসিঞ্জার ও লি ডাক থো ভিয়েতনামে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে প্যারিস শান্তি চুক্তি সই করেছিলেন।

এছাড়াও,
- ফরাসি লেখক জ্যঁ পল সার্ত্রে ছিলেন অস্তিত্ববাদের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ। ১৯৬৪ সালে তাকে সাহিত্যে জন্য নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হলেও, তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ তিনি সে সময় সব পদক একাধারে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সার্ত্রে নোবেল পুরষ্কারকে 'বুর্জোয়া পুরস্কার' অর্থাৎ পুঁজিপতিদের পুরস্কার বলে মনে করতেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) Nobel Prize ওয়েবসাইট। 
iii) BBC.

৩৩.
জি-৭ ভুক্ত দেশ নয় কোনটি? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. জার্মানি
  2. বেলজিয়াম
  3. কানাডা
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

G-7:
- G-7 এর পূর্ণরূপ: Group of Seven.
- এটি বিশ্বের শিল্পোন্নত ৭টি দেশের আন্তঃরাষ্ট্রীয় জোট।
- এটি বিশ্বের ধনী দেশগুলোর সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৫ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে।
- জি-৭ গঠনের প্রস্তাবক দেশ ছিল ফ্রান্স।
- G-7 এর বর্তমান সদস্য রাষ্ট্র ৭টি।
- জি-৭ এর বর্তমান সদস্য দেশ গুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও কানাডা।
- এই সংস্থার একমাত্র এশীয় দেশ জাপান।

উল্লেখ্য,
- পূর্বে এর সদস্য সংখ্যা ছিল ৮টি।
- তবে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া ইস্যুতে রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত থাকায় বর্তমানে এটি G-7 নামে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
- বেলজিয়াম জি-৭ ভুক্ত দেশ নয়। 

উৎস: G-7 ওয়েবসাইট।

৩৪.
ফরাসি বিপ্লবের পর কোন রাজাকে গিলোটিনে শিরশ্ছেদ করা হয়?
  1. চতুর্দশ লুই
  2. পঞ্চদশ লুই
  3. ষোড়শ লুই
  4. নেপোলিয়ন
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- বাস্তিল দুর্গেল পতনের মাধ্যমে সমস্ত বন্দিরাও মুক্তি পায় এবং ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ১৭৯৯ সালে এই বিপ্লব শেষ হয়।

⇒ ফরাসি বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য:
- ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র ছিল 'স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব'। এর লক্ষ্য ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।

⇒ ফরাসি বিপ্লবের ফলাফল:
- ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পায়।
- ধর্মীয় ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের ধারণা প্রাধান্য পায়।
-  ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

⇒ রাজার মৃত্যুদণ্ড:
- ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই ও রানী ষোড়শ লুই-এর স্ত্রী মারি অ্যান্তনে।
- বিদ্রোহীদের কাছে শেষ পর্যন্ত বন্দী অবস্থায় উপনীত হন রাজা ষোড়শ লুই। 
- আন্দোলনকারীদের কাছে কার্যত বন্দী রাজা ষোড়শ লুইয়ের বিচার শুরু হয়।
- ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি শতসহস্র জনতার সম্মুখে রাজা ষোড়শ লুইসকে গিলোটিনে শিরোশ্ছেদ করা হয়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় আয়োজিত ভোটে ৩৬১ জন মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে এবং ২৮৮ জন বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
- অন্যদিকে তার স্ত্রীকেও বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। বিচারের পর ১৬ অক্টোবর রানীর ক্ষেত্রেও একই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।

উৎস: Britannica.

৩৫.
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. ভেরিয়ার এলউইন
  2. জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া
  3. অরুণ জেটলি
  4. ইন্দিরা গান্ধী
ব্যাখ্যা

সেভেন সিস্টার্স: 
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।

উল্লেখ্য,
- ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া সর্বপ্রথম রাজ্যগুলোকে একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন।
- ১৯৭২ সালে এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- আসামের গুয়াহাটির মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সর্ভুক্ত রাজ্যগুলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাই এটিকে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের প্রবেশদ্বার বলা হয়।

⇒ ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যসমূহ ও রাজধানী -
১. আসাম - দিসপুর,
২. মিজোরাম - আইজল,
৩. অরুনাচল - ইটানগর,
৪. মেঘালয় - শীলং,
৫. ত্রিপুরা - আগরতলা,
৬. মণিপুর - ইম্ফল, 
৭. নাগাল্যান্ড - কোহিমা।

উৎস: Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট।

৩৬.
২০২৫ সালে আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. সংযুক্ত আরব আমিরাতে
  2. ইরানে
  3. ইরাকে
  4. মিশরে
ব্যাখ্যা

আরব লীগ:
- আরব লীগ (Arab League) হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আঞ্চলিক এবং রাজনৈতিক সংগঠন।
- উদ্দেশ্য: আরব দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, ঐক্য এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা।
- আরব লীগের সনদ স্বাক্ষরিত হয় এবং আরব লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়: ২২ মার্চ, ১৯৪৫।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ: ৭টি (মিশর, ইরাক, লেবানন, সৌদি আরব, সিরিয়া, জর্ডান এবং ইয়েমেন)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ২২টি (কুয়েত, লেবানন, ফিলিস্তিন, কাতার, জর্ডান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া, ওমান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরাক, আলজেরিয়া, মরোক্কো, সুদান, জিবুতি, মিশর, ইয়েমেন, মৌরিতানিয়া, কমোরোস, সোমালিয়া)।
- ১৯৪৪ সালে আলেকজান্দ্রিয়া প্রটোকল গৃহীত হওয়ার পর ২২ মার্চ, ১৯৪৫ সালে কায়রোতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: কায়রো, মিশর।
- অফিসিয়াল ভাষা: আরবি।
- বর্তমান মহাসচিব: মিশরের আহমেদ আবুল ঘেইত।

⇒ ২০২৫ সালের মে মাসে ৩৪তম আরব লীগ শীর্ষ সম্মেলন ইরাকের বাগদাদে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- বাগদাদে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সিরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানি।

উৎস: Arab League ওয়েবসাইট।

৩৭.
প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতায় কোন লিপির উদ্ভব ঘটে?
  1. হায়ারোগ্লিফিক
  2. ইউনিফর্ম
  3. কিউনিফর্ম
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কিউনিফর্ম:
- কিউনিফর্ম সুমেরীয়দের তৈরি প্রাচীন লিপি।
- কিউনিফর্ম বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ও চিত্রের সমন্বয়ে লেখার পদ্ধতি।
- এই লিপির আকৃতি কীলক বা ছোট্ট তীরের মতো হওয়ার কারণে এদের কিউনিফর্ম বা কীলক লিপি বলা হয়।
- এটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে গঠিত কোনো বর্ণমালা নয় এবং এতে নির্দিষ্ট বা ধরাবাঁধা কোনো অক্ষরও নেই।
- কাদামাটির চার কোনা পাতে লেখার পর আগুনে পুড়িয়ে একে স্থায়ী করা হতো।
- এটি প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় ব্যবহার করা হতো।
- হামুরাবীর আইনবিধি এই লিখন পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করা হয়।

⇒ সুমেরীয়দের পর আক্কাদিয়ানরাও তাদের ভাষা লেখার জন্য এই লিখন পদ্ধতি গ্রহণ করে।
- সুমেরীয় ও আক্কাদিয়ান বাদে অ্যাসিরিয়ান, ব্যাবিলনিয়ান, এব্লেইট, আমোরাইট, অ্যালামাইট, হাত্তিক, হুররিয়ান, উরার্তিয়ান, হিট্টাইট, লুউইয়ান ভাষা এই লিখন পদ্ধতিতে লেখা হতো।
- কিউনিফর্ম লিপিকে প্রথম সংস্কার করেন পারস্য সম্রাট দারিয়ুস।

⇒ সুমেরীয়দের লিখন পদ্ধতি:
- সুমেরীয় সভ্যতার অন্যতম কীর্তি ছিল একধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন।
- এই পদ্ধতি ছিল প্রথমতঃ চিত্রলিপি এবং পরবর্তীতে তা শব্দলিপিতে রূপান্তরিত হয়।
- এই লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' নামে পরিচিত।
- কাঁদা মাটিতে চাপ দিয়ে চিত্রাংকন দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করতো।
- যা মেসোপটেমীয় লিপি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
- এ সুমেরের বিখ্যাত শহর নিপ্পুরে এ কিউনিফর্ম (Cuneiform) চিত্রলিপির প্রায় চার হাজার মাটির চাকতি পাওয়া গেছে।
- এসকল কিউনিফর্ম বর্ণভিত্তিক নয়, বরং একে বলা যেতে পারে অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) World History Encyclopedia.

৩৮.
এশিয়ান গেমস প্রথম কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ১৯৪৬ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা

এশিয়ান গেমস:
- ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন এশিয়া’।
- অলিম্পিকের পর বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদদের অনুষ্ঠান।
- এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে খেলাধুলার মাধ্যমে প্রীতির সম্পর্ক স্থাপন, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সম্মিলিতভাবে এশিয়া ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এই গেমসের লক্ষ্য।
- এশিয়ান গেমস হলো ফার ইস্টার্ন চ্যাম্পিয়নশিপ গেমসের উত্তরসূরি যা ওরিয়েন্টাল অলিম্পিক নামেও পরিচিত, যা ১৯১৩ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- প্রতি চার বছর অন্তর এই ইভেন্টটি নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়। 
- সর্বশেষ ২০২৩ সালে এশিয়ান গেইমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তী আসর অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালে।

⇒ প্রথম এশিয়ান গেমস:
- ১৯৫১ সালের ৪ - ১১ মার্চ ভারতের নয়াদিল্লিতে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রথম এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫১ সালের এশিয়ান গেমসের সবগুলো ইভেন্ট মেজর ধ্যানচাঁদ জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- প্রথম এশিয়ান গেমসে ১১টি দেশের মোট ৪৮৯ জন ক্রীড়াবিদ ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।
- প্রথম এশিয়ান গেমসে জাপান ৬০টি পদক নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল এবং এরপর স্বাগতিক ভারত ৫১টি পদক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল।

উৎস: Olympics.

৩৯.
যুক্তরাষ্ট্র কোন যুদ্ধের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য ডমিনো তত্ত্ব ব্যবহার করেছিল?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  3. কোরিয় যুদ্ধ
  4. ফিলিপাইন যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

ডমিনো তত্ত্ব:
- স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কয়েকটি পররাষ্ট্র নীতি গ্রহন করেছিল, তার মধ্যে 'ডমিনো তত্ত্ব' অন্যতম।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান এই তত্ত্বের উদ্যোক্তা হলেও তার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার প্রথম এই অঞ্চলে প্রয়োগ করেন।
- ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় 'ভিয়েতনাম যুদ্ধ' ও স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।

উৎস: History.com

৪০.
ইসরায়েলের প্রধান গভীর সমুদ্রবন্দর কোনটি?
  1. আকাবা
  2. হাইফা
  3. বসরা
  4. আকিয়াব
ব্যাখ্যা

হাইফা:
- হাইফা ইসরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ও প্রধান গভীর সমুদ্রবন্দর।
- ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা।
- ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার হাইফা এলাকায় অবস্থিত।
- ইসরায়েলের সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এখান থেকে পরিচালিত হয়।
- ইসরায়েলের মোট পণ্য পরিবহনের প্রায় অর্ধেকই এই বন্দর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

⇒ বিশ্বের কিছু গুরত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর:
- আকাবা: জর্ডানের সমুদ্র বন্দর।
- লাতাকিয়া: সিরিয়ার সমুদ্রবন্দর।
- আকিয়াব: মিয়ানমারের সমুদ্রবন্দর।
- আন্টওয়ার্প: বেলজিয়ামের সমুদ্রবন্দর।
- লা গুয়েরা: ভেনেজুয়েলার সমুদ্রবন্দর।
- ইরাকের সমুদ্র বন্দর: বসরা।

উৎস: Britannica.

৪১.
নিম্নের কোনটি Gulf Cooperation Council-এর সদস্য দেশ নয়?
  1. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  2. ইরান
  3. কাতার
  4. কুয়েত
ব্যাখ্যা

ইরান Gulf Cooperation Council-এর সদস্য দেশ নয়।

GCC:

- GCC-এর পূর্ণরূপ: Gulf Cooperation Council.
- Gulf Cooperation Council হলো পারস্য উপসাগর তীরবর্তী আরব উপদ্বীপের দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক জোট।
- গঠিত হয়: ২৫মে, ১৯৮১ ।
- সদরদপ্তর: রিয়াদ, সৌদি আরব।
- বর্তমান মহাসচিব: জাসেম মোহাম্মদ আল বুদাইউই।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ৬টি (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান)।
- GCC সদস্য দেশগুলো একে অপরের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ট্যুরিজম এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করে থাকে।

উল্লেখ্য,
- সুপ্রিম কাউন্সিল GCC-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সত্তা, যা সদস্য রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে গঠিত এবং বার্ষিক বৈঠক করে। সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এছাড়া, একটি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা কাউন্সিল রয়েছে যা সামরিক সহযোগিতা সমন্বয় করে।
- GCC সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি জোটটির মূল উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, GCC গঠিত হয়েছিল সদস্য দেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য এবং দেশগুলির নাগরিকদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য।

উৎস: Britannica.

৪২.
'ব্লাক ক্যাট' কোন দেশের কমান্ডো বাহিনী?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ভারত 
  3. পাকিস্তান
  4. মিয়ানমার
ব্যাখ্যা

ব্লাক ক্যাট (BLACK CAT):
- ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) সাধারণত ব্ল্যাক ক্যাটস নামে পরিচিত।
- এটি ভারতের কমান্ডো বাহিনী।
- এটা একটা কম্বাইন্ড কাউন্টার টেররিজম এলিট ফোর্স যেখানে সব বাহিনী থেকেই বাছাই করে লোক নেয়া হয়।
- এটি শুধু ভারতের অভ্যন্তরেই কাজ করে।
- এটি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬ই অক্টোবর, ১৯৮৪ সালে।
- এর সদরদপ্তর: নয়াদিল্লি, ভারত।

উৎস: Indian National Security Guard Website.

৪৩.
New Development Bank (NDB) কোন দেশগুলো দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. BRICS দেশগুলো
  2. G7 দেশগুলো
  3. ASEAN দেশগুলো
  4. EU দেশগুলো
ব্যাখ্যা

New Development Bank:
- এটি একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
- New Development Bank (NDB) ব্রিকস দেশসমূহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি বহুমুখী উন্নয়ন ব্যাংক।
- পূর্বে ব্যাংকটি 'ব্রিকস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক' নামে পরিচিত ছিল।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৭ জুলাই, ২০১৫।
- সদর দপ্তর: সাংহাই, চীন।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ৫টি (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা)।
- বর্তমান সদস্য: ১১টি।
- সদস্য দেশগুলো হলো: ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, আলজেরিয়া, উজবেকিস্তান (জুলাই ২০২৫) এবং কলম্বিয়া (জুলাই ২০২৫)। [উরুগুয়ে এখনও সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে রয়েছে।]
- দাপ্তরিক ভাষা: ইংরেজি।
- বর্তমান সভাপতি: দিলমা রুসেফ।

⇒ ২০১২ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ৪র্থ ব্রিকস সম্মেলনে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমােহন সিং ব্রিকস জোটের একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করে।
- ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সম্মেলনে ব্রিকসের নেতারা একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়।
- ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই ব্রাজিলের ফোর্টালেজায় অনুষ্ঠিত ব্রিকসের ষষ্ঠ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
- আনুষ্ঠানিক এই চুক্তিটির নাম - Fortaleza Declaration এবং এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে New Development Bank (NDB) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২০১৫ সালের ৭ জুলাই Fortaleza Declaration কার্যকর হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে New Development Bank (NDB) প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: New Development Bank ওয়েবসাইট।

৪৪.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্গত দেশ ছিল - 
  1. ফ্রান্স
  2. ইতালি
  3. হাঙ্গেরি
  4. জাপান
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War I) ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।
- যুদ্ধটি মূলত ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘটিত হলেও এর প্রভাব ছিল পৃথিবীজুড়ে।

⇒ যুদ্ধের পটভূমি:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।

⇒ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার মাধ্যমে অনেক সাম্রাজ্য ভেঙে যায়, যেমন অস্ট্রো-হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য, রাশিয়ার সাম্রাজ্য, এবং জার্মান সাম্রাজ্য। নতুন দেশ গঠন হয়, যেমন চেকোস্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড, এবং যুগোস্লাভিয়া।
- জার্মানিকে বিশাল ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়।
 
উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

৪৫.
কোন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সদরদপ্তর বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত?
  1. SAARC
  2. BENELUX
  3. CIRDAP
  4. ASEAN
ব্যাখ্যা

CIRDAP:
- CIRDAP-এর পূর্ণরূপ Centre on Integrated Rural Development for Asia and the Pacific.
- CIRDAP এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন কেন্দ্র।
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- CIRDAP গঠিত হয়: ৬ জুলাই, ১৯৭৯।
- সদর দপ্তর: ঢাকা, বাংলাদেশ।
- সদস্য সংখ্যা: ১৫টি (আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ফিজি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম)।
- প্রধান লক্ষ্য: এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন, এবং সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন নীতির প্রচার।

অন্যদিকে,
- ASEAN-এর সদরদপ্তর: জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া।
- SAARC-এর সদরদপ্তর: কাঠমান্ডু, নেপাল।
- BENELUX-এর সদরদপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।

উৎস: CIRDAP ওয়েবসাইট।

৪৬.
স্বাধীন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ কোনটি?
  1. মিশর
  2. আলজেরিয়া
  3. জর্ডান
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

ফিলিস্তিন:
- ফিলিস্তিন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ।
- ভৌগোলিকভাবে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত।
- এটি দুটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত: পশ্চিম তীরে (West Bank) এবং গাজা উপত্যকা (Gaza Strip)।
- এটি বর্তমানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিরোধের কারণে বেশ পরিচিত।
- রাজধানী: ইস্ট জেরুজালেম, রামাল্লাহ।
- মুদ্রা: মিশরীয় পাউন্ড, ইসরাইলি শেকেল, জর্ডানীয় দিনার।
- সংবাদ সংস্থা: প্যালেস্টাইন নিউজ অ্যাজেন্সি (Wafa)।

 ⇒ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয় ১৫ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে।
- ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজেয়ার্সে প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল কাউন্সিলের সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
- ফিলিস্তিনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাত পবিত্র জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমারেখায় এই ঘোষণা দিয়েছিলেন।
- এর মাধ্যমে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিরোধের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে কাজ শুরু করে।
- স্বাধীন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ আলজেরিয়া।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর সদস্যদের মধ্যে প্রথম ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স।
- ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। 
- এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৫১টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৪৭.
ন্যাটো প্রথমবার সরাসরি সামরিক অভিযান চালায় কোন অঞ্চলে?
  1. আফগানিস্তান
  2. লিবিয়া
  3. বসনিয়া
  4. ইরাক
ব্যাখ্যা

NATO:
- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।
- সর্বশেষ ৩২তম সদস্য হলো সুইডেন।
- দাপ্তরিকভাবে ন্যাটো গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে "উত্তর আটল্যান্টিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ" নিশ্চিত করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর 'স্বাধীনতা, অভিন্ন ঐতিহ্য এবং সভ্যতার' রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা। চুক্তি অনুযায়ী, ন্যাটো ভুক্ত যে কোনো দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটি জোটভুক্ত সব দেশের উপর হামলা বলেই গণ্য হবে এবং সব দেশ একে অন্যের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

⇒ ১৯৯২ সালে বসনিয়া যুদ্ধের মাধ্যমে ন্যাটো প্রথম কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়।
- এরপর ১৯৯৯ সালে কসোভো যুদ্ধে বিমান বাহিনীর মাধ্যমে দ্বিতীয় অভিযানে নামে তারা।
- আর তৃতীয় অভিযান শুরু করে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে।
- ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক যুদ্ধে সহায়তা কার্যক্রম চালায় ন্যাটো।

উল্লেখ্য,
- ন্যাটোর মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের হাত থেকে পশ্চিম বার্লিন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করা।
- ন্যাটো একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি, যে চুক্তির আওতায় জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
- যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটো তাদের রক্ষায় মাঠে নামে।
- এর প্রত্যেকটি সদস্য রাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে বদ্ধপরিকর।  

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

৪৮.
জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কে? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. শিগেরু ইশিবা
  2. ফুমিও কিশিদা
  3. শিনজো আবে
  4. সানায়ে তাকাইচি
ব্যাখ্যা

জাপান:
- জাপান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- পূর্বনাম: নিপ্পন।
- রাজধানী: টোকিও।
- ভাষা: জাপানি (অফিসিয়াল)।
- ধর্ম: শিন্টো, বৌদ্ধ ধর্ম, এছাড়াও খ্রিস্টধর্ম।
- মুদ্রা: ইয়েন।
- এটি একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র।
- জাপানের সংবিধানকে বিশ্বের ‘শান্তির সংবিধান‘ বলা হয়।
- আইনসভা: ২টি।
- আইনসভার নাম ডায়েট।
- পতাকার রং সাদা ও লাল।
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: সানায়ে তাকাইচি।
- প্রধান দ্বীপ: হোক্কাইডো, হনসু, শিকোকু, কিউসু ও ওকিনাওয়া।
- জাপানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ: হনসু।

⇒ জাপানের বর্তমান ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
- জাপানের শাসক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) তাকে ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর নতুন নেতা হিসেবে মনোনীত করে, যার ফলে তিনি ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়েই প্রথম নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।
- যুক্তরাজ্যের ‘আয়রন লেডি’ খ্যাত প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার সানায়ে তাকাইচির রাজনৈতিক জীবনের আদর্শ।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) DW.

৪৯.
হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত নয় কোন দেশ?
  1. ইথিওপিয়া
  2. ইরিত্রিয়া
  3. জিবুতি
  4. নাইজেরিয়া
ব্যাখ্যা

Horns of Africa:
- 'Horns of Africa' আফ্রিকার শিং হলো আফ্রিকার পূর্বতম অঞ্চল।
- আরব সাগরের দিকে প্রসারিত শিং-এর মতো আকৃতির কারণে এই অঞ্চলকে "আফ্রিকার শিং" বলা হয়। 
- হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলো হলো: ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, জিবুতি এবং সোমালিয়া।

উল্লেখ্য,
- নাইজেরিয়া হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস: i) World Atlas.
ii) Britannica.

৫০.
ASEAN-এর সর্বশেষ সদস্য রাষ্ট্র কোনটি? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. মিয়ানমার
  2. লাওস
  3. কম্বোডিয়া
  4. পূর্ব তিমুর
ব্যাখ্যা

ASEAN:
- ASEAN-এর পূর্ণরূপ: Association of Southeast Asian Nations.
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অর্থনৈতিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৮ আগস্ট, ১৯৬৭ (ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে)।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: ব্যাংকক, থাইল্যান্ড। 
- সদরদপ্তর: জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ৫টি (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ড)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১১টি।
- সদস্য দেশগুলো: মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও পূর্ব তিমুর (সর্বশেষ)।
- বর্তমান সভাপতি: আনোয়ার ইব্রাহিম (মালয়েশিয়া)।
- মহাসচিব: কাও কিম হৌর্ন।
- আসিয়ান এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি যার মোট দেশজ উৎপাদন ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং চীন আসিয়ানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৯৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

⇒ মে, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ৪৬তম ASEAN শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- অক্টোবর, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ৪৭তম ASEAN শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সম্মেলনে পূর্ব তিমুর আসিয়ানের ১১তম সদস্য হিসেবে যোগদান করেছে।

উৎস: ASEAN ওয়েবসাইট।

৫১.
জিব্রাল্টার কোন দেশের ওভারসিজ টেরিটরি?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. মরক্কো
  3. যুক্তরাজ্য
  4. পর্তুগাল
ব্যাখ্যা

জিব্রাল্টার:
- জিব্রাল্টার হলো যুক্তরাজ্যের (United Kingdom) বা ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি।
- এটি ভূমধ্যসাগরের প্রবেশপথে আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত।
- এর উত্তরে স্পেনের আন্দালুসিয়ার সাথে সীমান্ত রয়েছে।

⇒ জিব্রাল্টার নামটি নেওয়া হয়েছে আরবি জবাল তারিক বা তারিকের পাহাড় থেকে। 
- ১৭০৪ সালে স্পেনের কাছ থেকে জ্রিব্রাল্টার দখল করে ব্রিটিশরা।
- এর পর থেকেই অঞ্চলটি ব্রিটিশদের দখলে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি রয়েল নেভির গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছিল।

⇒ ওভারসিজ টেরিটরি:
- ওভারসিজ টেরিটরি (Overseas Territory) হলো এমন একটি ভৌগোলিক অঞ্চল যা একটি সার্বভৌম দেশ থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এবং সেই দেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও এখতিয়ারের অধীনে থাকে, কিন্তু মূল ভূখণ্ডের অংশ নয়।
- এগুলোর নিজস্ব সরকার ও স্বায়ত্তশাসন থাকতে পারে, তবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি সাধারণত নিয়ন্ত্রণকারী দেশের হাতে থাকে।
- ১৪টি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরিগুলো হলো: অ্যাঙ্গুইলা, বারমুডা, ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক টেরিটরি, ব্রিটিশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, জিব্রাল্টার, মন্টসেরাট, পিটকেয়ার্ন দ্বীপপুঞ্জ, সেন্ট হেলেনা, অ্যাসেনশন ও ট্রিস্তান দা কুনহা, দক্ষিণ জর্জিয়া ও দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জ, আক্রোটিরি ও ধেকেলিয়া সার্বভৌম সামরিক ঘাঁটি, এবং টার্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ।

উৎস:  Britannica.

৫২.
বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষার সাংকেতিক নাম কী ছিল?
  1. ট্রিনিটি
  2. লিটলবয় 
  3. ফ্যাটম্যান 
  4. নিউক্লিয়ার ওয়ান
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর প্রথম পারমাণবিক বোমা:
- পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল।
- এই প্রকল্পের নাম ছিল 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট'।
- সেই বোমা তৈরির প্রধান বিজ্ঞানী ছিলেন রবার্ট ওপেনহাইমার।

⇒ ১৬ই জুলাই ১৯৪৫ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের ইয়োর্নাদা দেল মুয়ের্তো মরুভূমিতে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
- এর সাংকেতিক নাম ছিল ট্রিনিটি।

⇒ জাপানের দুটি শহরে এই বোমা ফেলার পর বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসলীলা ঘটেছিল।
- ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ জাপানের হিরোশিমা শহরে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম লিটলবয় নামের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ ফ্যাটম্যান নামের বোমা নিক্ষেপ করা হয় নাগাসাকি শহরে।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

উৎস: BBC.

৫৩.
'Rotary International'-এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রবার্ট ব্যাডেন পাওয়েল
  2. পল পি. হ্যারিস
  3. ফ্রেডরিক উইলসন
  4. ডেরেক হডকি
ব্যাখ্যা

Rotary International:
- রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ব্যবসায়িক ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে উঠা সেবামূলক সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৫ সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা: শিকাগোর মার্কিন অ্যাটর্নি পল পি. হ্যারিস (Paul Harris)।
- নীতিবাক্য: "Service Above Self" (নিজের উপরে সেবা)।
- সদরদপ্তর: ইভানস্টন, ইলিনয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান সভাপতি: Stephanie Urchick.
- সদস্য সংখ্যা: ১.৪ মিলিয়ন (রোটারিয়ান)।

⇒ উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম: শান্তি প্রচার, রোগের বিরুদ্ধে লড়াই, পরিষ্কার পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রদান, , মা ও শিশুদের বাঁচান,  শিক্ষা সহায়তা, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ, পরিবেশ রক্ষা।
- বাংলাদেশে রোটারি প্রথম ক্লাব: ঢাকা রোটারি ক্লাব।

উৎস: i) Rotary International ওয়েবসাইট।
 ii) বাংলাপিডিয়া।

৫৪.
কারা যুদ্ধে সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে?
  1. মিশরীয়
  2. সুমেরীয়
  3. অ্যাসিরীয়
  4. পারস্যিক
ব্যাখ্যা

এ্যাসিরীয় সভ্যতা:
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-৯০০ অব্দের মধ্যে এ্যাসিরীয় সভ্যতার পত্তন ঘটে।
- ব্যাবিলন থেকে প্রায় দু'শ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে একটি শহর গড়ে ওঠে। সমৃদ্ধ এ শহরের নাম এ্যাসুর। এ শহরের অধিবাসীরা এ্যাসিরীয় নামে পরিচিত ছিল।
- প্রথমদিকে কৃষিকাজ আর পশুপালন করে এরা জীবন চালাত। 

⇒ সামরিক ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- তারা গোলন্দাজ বাহিনী গঠন করে এবং যুদ্ধরথের ব্যবহার করে। তারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে ও যুদ্ধ রথের ব্যবহার করে।
- ক্রমে এ্যাসিরীয় রাষ্ট্র একটি সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- এ্যাসিরীয় সম্রাট বিশ্বাস করতেন তিনি দেবতা অসুরের প্রতিনিধি।
- এ্যাসিরীয়দের অর্থনীতির মূল উৎস ছিল বিভিন্ন দেশ থেকে লুণ্ঠন করে আনা ধনসম্পদ। অল্প বিস্তর বাণিজ্যও তারা করত।

⇒ ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ্যাসিরীয়রা ব্যাবিলনীয়দের অনুসরণ করে।
- তাদের প্রধান দেবতা ছিল আসুর। এরপর ছিল ইশতারের স্থান।

⇒ এ্যাসিরীয়রা পাথর দিয়ে ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও তৈজসপত্র তৈরিতে দক্ষ ছিল।
- জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। সম্রাট আশুরবনিপালের গড়া একটি বৃহৎ গ্রন্থাগার পাওয়া গেছে রাজধানী নিম্পরে।
- তারাই প্রথম বৃত্তকে ৩৬০° তে ভাগ করে।
- পৃথিবীকে সর্বপ্রথম তারা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেছিল।
- চিকিৎসাবিদ্যায় এ্যাসিরীয়দের ভূমিকা ছিল অসামান্য। তারা পাঁচশ'রও বেশি উদ্ভিদ ও খনিজ ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করে সেগুলোর গুণাগুণ ও ব্যবহার পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করে।
- উত্তরসূরি শাসকদের বিভিন্ন দুর্বলতা এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর আক্রমণের মুখে তিন'শ বছরের এই প্রাচীন সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৬১২ অব্দে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
আরব বসন্তের ফলে প্রথম ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধান কে ছিলেন?
  1. মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি
  2. জাইন আল-আবিদিন বেন আলী 
  3. হোসনি মুবারক
  4. আলী আবদুল্লাহ সালেহ
ব্যাখ্যা

আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া থেকে সূচিত এই গণবিক্ষোভ ক্রমেই প্রসারিত হয় অন্যান্য দেশে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পরিবর্তনের ঢেউ লাগে।

⇒ তিউনিসিয়া: আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বুয়াজিজির আত্মাহুতির পর দেশজুড়ে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ায় জনগণ শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের ডাক দেয়।
- ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রাষ্ট্রপতি জাইন আল-আবিদিন বেন আলী পদত্যাগ করেন এবং দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। পরে তিউনিসিয়ার আদালত তাকে অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের জেদ্দায় নির্বাসিত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

⇒ মিশর: দুর্নীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৮ দিনের আন্দোলনের পর ১১ ফেব্রুয়ারি মুবারক পদত্যাগে বাধ্য হন। বিপ্লব চলাকালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল হয়। দুর্নীতির মামলায় কিছুদিন আটক থাকলেও ২০১৭ সালে তিনি মুক্তি পান। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কায়রোতে তার মৃত্যু হয়।

⇒ ইয়েমেন: উত্তর ইয়েমেন ও পরে একীভূত ইয়েমেন শাসন করা সালেহ উপজাতীয় ও সামরিক রাজনীতির কৌশলী খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালের আন্দোলনের পর ২০১২ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। 

⇒ লিবিয়া: ১৯৬৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে রাজতন্ত্র উৎখাত করে ক্ষমতায় আসেন গাদ্দাফি। তেলসম্পদের ওপর ভর করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন তিনি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেনগাজিতে মানবাধিকারকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়, যা দ্রুত গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। ন্যাটো অভিযানের সহায়তায় বিদ্রোহীরা আগস্টে ত্রিপোলি দখল করে। অক্টোবরের ২০ তারিখ নিজ শহর সির্তে পালানোর সময় বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়ে নিহত হন গাদ্দাফি।

⇒ সিরিয়া: ২০০০ সালে বাবার মৃত্যুর পর বিশেষ সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হন বাশার আল-আসাদ। ২০১১ সালে দেরা শহরে স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধে দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে সিরীয় সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ে। দামেস্কে বিদ্রোহীরা ঢোকার পর বাশার আল-আসাদ পরিবারসহ প্লেনে করে রাশিয়ার মস্কোতে পালিয়ে যান এবং সেখানে আশ্রয় নেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.

৫৬.
WHO Framework Convention on Tobacco Control কবে গৃহীত হয়েছিল?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৩ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা

WHO Framework Convention on Tobacco Control:
- তামাক নিয়ন্ত্রণে WHO ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন।
- WHO ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (WHO FCTC) হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় আলোচিত প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- গৃহীত হয়: ২১ মে, ২০০৩ (সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে অনুষ্ঠিত ৫৬তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে)।
- কার্যকর হয়: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৬৮টি। 
- পক্ষ: ১৮৩টি।

উল্লেখ্য,
- তামাকমুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে WHO FCTC-এর ১৮৩টি দেশের নেতারা ফেব্রুয়ারি, ২০২৪-এ পানামায় সম্মিলিত হয়েছেন।
- এটি  WHO FCTC-এর ১০ম কনফারেন্স অফ দ্য পার্টিস (COP10)।
- WHO FCTC-এর প্রধান: ডাঃ আদ্রিয়ানা ব্লাঙ্কো মারকুইজো।

উৎস: WHO ওয়েবসাইট।

৫৭.
কোনটি একটি ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. ইতালি
  3. জাপান
  4. ভুটান
ব্যাখ্যা

ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র:
- একটি স্বাধীন দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে যদি অন্য কোন স্বাধীন দেশ অবস্থান করে তবে তাকে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র বলে।
- পৃথিবীতে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র ২টি। এগুলো হলো ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
- স্যানমেরিনো এবং ভ্যাটিকান সিটি নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ইতালির অধিভুক্ত।

উৎস: Britannica.

৫৮.
কার্টাগেনা প্রটোকল কী সম্পর্কিত?
  1. ইরাক পুনর্গঠন
  2. যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো বৈধ চুক্তি
  3. জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা
  4. জাতিসংঘের শিশু অধিকার
ব্যাখ্যা

কার্টাগেনা প্রটোকল:
- কার্টাগোনা প্রটোকল এর পূর্ণরূপ: Cartagena Protocol on Biosafety to the convention on Biological Diversity।
- এটি জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রটোকল।
- এর উদ্দেশ্য হলো জৈব জ্বালানি সংরক্ষণ।

⇒ কার্টাগেনা প্রটোকল অনুমোদন: ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯, কলম্বিয়ার কার্টাগেনা শহরে।
- তাই শহরের নামানুসারে এর নাম কার্টাগেনা প্রটোকল।
- কার্টাগেনা প্রটোকল গৃহীত ও কার্যকর: কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত ও কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ জানুয়ারি, ২০০০ সালে।
- কার্যকর হয়: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সালে।
- চুক্তির পক্ষে স্বাক্ষরকারী দেশ: ১০৩টি।
- অনুমোদনকারী: ১৭৩টি।

উৎস: UNTC ওয়েবসাইট।

৫৯.
২০২৫ সালে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ১৭তম আসরে কোন দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে?
  1. ভারত 
  2. পাকিস্তান 
  3. শ্রীলঙ্কা
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

এশিয়া কাপ ক্রিকেট-২০২৫:
- এটি এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ১৭তম আসর।
- আয়োজক দেশ: সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- অনুষ্ঠিত হয়: ৯ – ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫।
- অংশগ্রহণকারী দল: ৮টি।
- চ্যাম্পিয়ন: ভারত ।
- রানার আপ: পাকিস্তান।
- টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়: অভিষেক শর্মা।
- সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী: অভিষেক শর্মা। 
- সর্বাধিক উইকেটধারী: কুলদীপ যাদব।

উৎস: ICC Cricket ওয়েবসাইট।

৬০.
২০২৫ সালে প্রকাশিত বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় শ্রেষ্ঠ নগরী কোনটি?
  1. টোকিও
  2. কোপেনহেগেন
  3. ভিয়েনা
  4. জুরিখ
ব্যাখ্যা

The Global Liveability Index-2025:
- প্রকাশক: Economist Intelligence Unit। 
- প্রকাশের সময়কাল: ১৬ জুন, ২০২৫।
- ইআইইউ প্রতি বছর এই সূচক প্রকাশ করে, যেখানে পাঁচটি প্রধান মানদণ্ডে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মূল্যায়ন করা হয়। মানদণ্ডগুলো হলো–স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো।
- বাংলাদেশের ঢাকার অবস্থান ১৭১তম।

⇒ The Global Liveability Index-2025 অনুযায়ী শীর্ষ শহর: 
১. কোপেনহেগেন - ডেনমার্ক,
২. জুরিখ - সুইজারল্যান্ড, ভিয়েনা - অস্ট্রিয়া,
৩. মেলবোর্ন - অস্ট্রেলিয়া।

অন্যদিকে,
- সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে সিরিয়ার দামাস্কাস। অবস্থান ১৭৩তম।

উৎস: The Global Liveability Index-2025.

৬১.
প্রতি বছর অক্টোবর মাসের কোন দিন বিশ্ব প্রতিবেশ দিবস (World Habitat Day) পালিত হয়ে থাকে?
  1. প্রথম রবিবার
  2. প্রথম সোমবার
  3. প্রথম মঙ্গলবার
  4. প্রথম বুধবার
ব্যাখ্যা

প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব প্রতিবেশ দিবস (World Habitat Day) পালন করা হয়।

UN-HABITAT:
- UN HABITAT-এর পূর্ণরুপ: United Nations Human Settlements Programme.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৭৫ সালে।
- সদর দপ্তর: নাইরোবি, কেনিয়া।
- বর্তমান নিবাহী প্রধান: অ্যানাক্লাউডিয়া রসবাচ।
- UN-HABITAT নগরায়ন এবং মানব বসতি সংক্রান্ত বিষয়গুলির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো সারা বিশ্বে শহুরে উন্নয়ন, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা, এবং বাসযোগ্য শহর ও মানব বসতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- UN-Habitat ৯০টিরও বেশি দেশে জ্ঞান, নীতি পরামর্শ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে শহর এবং মানব বসতিতে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন প্রচারের জন্য কাজ করে।

⇒ ১৯৭৬ সালের ৩১ মে-১১ জুন কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে নগরায়নের চ্যালেঞ্জকে পুরোপুরি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য UN HABITAT-এর মানব বসতিতে জাতিসংঘের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের আশ্রয় বিনির্মাণে কাজ করে UN-HABITAT।
- প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব প্রতিবেশ দিবস (World Habitat Day) পালন করা হয়।

উৎস: UN HABITAT ওয়েবসাইট।

৬২.
নিম্নের কোন দেশটির আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট?
  1. ভুটান
  2. মিয়ানমার
  3. জাপান
  4. মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা

⇒ এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা:
​- চীন: ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস।
​• বাংলাদেশ: জাতীয় সংসদ,
​• মালদ্বীপ: মজলিস/ পার্লামেন্ট,
• ইসরাইল: নেসেট/ অ্যাসেম্বলি,
• ইরান: মজলিস/ অ্যাসেম্বলি,
• ইরাক: মজলিস আল-নওয়াব আল-ইরাকি,
​• সৌদি আরব: মজলিস-এ-শূরা,
• ফিনল্যান্ড: এসডুস্কুন্টা,
​• ডেনমার্ক: ফোকেটিং,
• সুইডেন: রিকসড্যাগ,
• ইউক্রেন: ভারখোরনা রাডা,

​⇒ দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা:
​• যুক্তরাষ্ট্র: পার্লামেন্ট-কংগ্রেস (উচ্চকক্ষ: সিনেট, নিম্ন কক্ষ: হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস),
• ভারত: পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: কাউন্সিল অফ স্টেটস/ রাজ্যসভা, নিম্ন কক্ষ: হাউজ অফ দা পিপল/লোক সভা),
• রাশিয়া: পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: ফেডারেশন কাউন্সিল, নিম্ন কক্ষ: স্টেট ডুমা)
​• যুক্তরাজ্য: পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: হাউস অফ লর্ডস, নিম্ন কক্ষ-হাউস অফ কমন্স),
​• পাকিস্তান: মজলিস-এ- শূরা (উচ্চকক্ষ: সিনেট, নিম্ন কক্ষ: ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি),
​• অস্ট্রেলিয়া: ফেডারেল পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: সিনেট, নিম্ন কক্ষ: হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস),
​• ভুটান: পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: ন্যাশনাল কাউন্সিল, নিম্ন কক্ষ: ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি),
​• মিয়ানমার: ইউনিয়ন অ্যাসেম্বলি (উচ্চকক্ষ: ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, নিম্ন কক্ষ: পিপলস অ্যাসেম্বলি),
​• জাপান: ডায়েট (উচ্চকক্ষ: হাউস অফ কাউন্সিলর্স, নিম্ন কক্ষ: হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস)।

উৎস: Britannica.

৬৩.
নিম্নের কোন সংস্থা শাখারভ পুরস্কার প্রদান করে?
  1. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
  2. ইউরোপীয় পার্লামেন্ট
  3. আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি
  4. যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

শাখারভ পুরস্কার (Sakharov Prize):
- পুরস্কারটি প্রবর্তিত হয়: ১৯৮৮ সালে। 
- পুরস্কারটি প্রবর্তন করেন European Parliament।
- পুরস্কারটি প্রবর্তন করা হয় বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী আন্দ্রে শাখারভের সম্মানার্থে।
- মানবাধিকার ও মুক্ত চিন্তার মৌলিক বিকাশে অবদানের জন্য এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- এটি ইইউর সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার। 

উল্লেখ্য,
- মানব অধিকার ও স্বাধীনতা বিষয়ে আজীবন সোচ্চার ছিলেন সাবেক সোভিয়েত পরমাণু বিজ্ঞানী আন্দ্রেই শাখারভ।
- বিজ্ঞানী আন্দ্রে শাখারভ মস্কোতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার নামকে চিরভাস্বর করে রাখতে ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউরোপীয় সংসদ বাৎসরিক ভিত্তিতে শাখারভ পুরস্কার প্রবর্তনের ঘোষণা দেয়।
- মূলত মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এবং মুক্তচিন্তাকে প্রস্ফুটিত করতে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংগ্রাম করে, তাদের সম্মানিত করতে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

উৎস: Sakharov Prizes ওয়েবসাইট।

৬৪.
হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব কী?
  1. লবণ উৎপাদন
  2. একমাত্র নৌপথ যা ইউরোপ থেকে এশিয়া যায়
  3. বিশ্বব্যাপী তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

হরমুজ প্রণালী:
- পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি।
- এটি আরব উপদ্বীপ থেকে ইরানকে পৃথক করেছে।
- এই চ্যানেলটি ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- হরমুজ প্রণালীর একদিকে আছে আরব দেশগুলো, অন্য পাশে রয়েছে ইরান।
- এর উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরান মূলত ওমানের সাথে ভাগ করে নেয়।

⇒ বৈশ্বিক তেল–বাণিজ্যের অপরিহরণীয় পথ হচ্ছে হরমুজ প্রণালি। 
- ইরানের উপকূলঘেঁষা এই চ্যানেলের মাধ্যমে জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর সংযুক্ত হয়েছে। শুধু ইরানই নয়, পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে এ পথের ওপর।
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) এক প্রতিবেদন অনুসারে, এ পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল অর্থাৎ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় পরিবাহিত হয় যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের যা প্রায় ২১ শতাংশ।
- হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং তেল পণ্য পরিবহন করা হয়, যা বিশ্বব্যাপী তেল চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিপাইন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮০-১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক সংঘাতের সময় উভয় দেশই পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
- এই পর্বটি ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। 

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.

৬৫.
ইন্টারপোল কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ১৯১৮ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯৩৩ সালে
  4. ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা

ইন্টারপোল (Interpol):
- Interpol-এর পূর্ণরূপ: International Criminal Police Organization.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯২৩।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- প্রতিষ্ঠাতা: জোহানেস স্কোবার (Dr Johannes Schober) [অস্ট্রিয়ার পুলিশ প্রধান]।
- সদর দপ্তর: লিঁও, ফ্রান্স।
- ইন্টারপোলের ভাষা: ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ ও আরবি।
- সদস্য সংখ্যা: ১৯৬টি (সর্বশেষ সদস্য: পালাউ)।
- বর্তমান মহাসচিব: ভালডেসি উরকুইজা (Valdecy Urquiza) [ব্রাজিল]।
- ইন্টারপোলের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশের পুলিশ বাহিনীকে একত্রে কাজ করার সুযোগ করে দিয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা করা।

⇒ পূর্ব নাম: International Criminal Police Commission.
- বর্তমান নাম International Criminal Police Organization গ্রহণ করে ১৯৫৬ সালে।

⇒ ইন্টারপোলের প্রধান উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক অপরাধ, যেমন মানবপাচার, মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধাপরাধ, আর্থিক অপরাধ, সাইবার অপরাধ, এবং অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করা।
- বিভিন্ন দেশের পুলিশের মধ্যে তথ্য ও সুরক্ষা সম্পর্কিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
- ইন্টারপোল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পুলিশদের জন্য তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তে সহায়তা প্রদান করে।
- ইন্টারপোল আন্তর্জাতিকভাবে পলাতক অপরাধীদের ধরার জন্য "লাল নোটিশ" জারি করে, যা বিভিন্ন দেশকে সেই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য সতর্ক করে।

উৎস: Interpol ওয়েবসাইট।

৬৬.
'মার্টিন লুথার কিং' কোন বিখ্যাত উক্তিটির জন্য পরিচিত?
  1. We Shall Fight on the Beaches
  2. I Have a Dream
  3. I have a Plan
  4. I Am Prepared to Die
ব্যাখ্যা

মার্টিন লুথার কিং:
- মার্টিন লুথার কিং ছিলেন আফ্রিকান-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ মানবাধিকার কর্মী।
- যুক্তরাষ্ট্রের নিগ্রোদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের অহিংসবাদী নেতা ছিলেন মার্টিন লুথার কিং।
- তিনি বর্ণবৈষম্য বিলোপ, শান্তি ও নাগরিক অধিকারের জন্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান-আমেরিকানদের মৌলিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট এক বিরাট মিছিলের নেতৃত্ব দেন, যা ‘1963 March on Washington’ নামে পরিচিত।
- মিছিল শেষে ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়াল মঞ্চে তিনি এ ভাষণটি দেন তা ছিল বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে।
- তিনি বলেছিলেন, ‘I have a dream that my four little children will one day live in a nation where they will not be judged by the color of their skin but by the content of their character.’
- ভাষণটি সবাই এখন 'I have a dream' শিরোনামে জানে।
- এই ভাষণে উঠে এসেছে নিগ্রোদের প্রতি অত্যাচারের কথা, তাদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা।
- মার্টিন লুথারের ওই ভাষণের পর আমেরিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনেক আইন তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
- উইনস্টন চার্চিল: We Shall Fight on the Beaches.
- নেলসন ম্যান্ডেলা: I Am Prepared to Die.
- আব্রাহাম লিঙ্কন: Gettysburg Address.

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

৬৭.
পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন কারা?
  1. গ্রিকরা
  2. মেসোপটেমীয়রা 
  3. মিশরীয়রা 
  4. সিন্ধুরা
ব্যাখ্যা

গ্রিক সভ্যতা: 
- ইউরোপ মহাদেশের গ্রিক রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রাচীন কয়েকটি শহরকে কেন্দ্র করে গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব ঘটে। 
- বলকান উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত গ্রিক প্রায় পাঁচ হাজার বর্গমাইল ব্যাপী বিস্তৃত। 
- ভূ-প্রকৃতি দেশটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে।
- যথা: দক্ষিণ গ্রিস, মধ্য গ্রিস ও উত্তর গ্রিস। 
- মেসিডোনিয়ান অধিপতি আলেকজাণ্ডারের শাসনামলে এ সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে আধুনিক মিসর, ইসরাইল, প্যালেষ্টাইন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইরান হয়ে ভারতবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। 
- আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর, ইজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রিক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়। 

উল্লখ্য,
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞানচর্চার সূত্রপাত করে।
- ৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন গ্রিক বিজ্ঞানীরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই এবং বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয়, প্রাকৃতিক কারণে ঘটে- এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮.
জঙ্গি সংগঠন 'লস্কর-ই-তৈইয়্যেবা' প্রধানত কোন দেশে তৎপর?
  1. ভারত
  2. আফগানিস্তান
  3. সিরিয়া
  4. ইসরায়েল
ব্যাখ্যা

লস্কর-ই-তৈইয়্যেবা:
- লস্কর-ই-তৈইয়্যেবা ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকায় তৎপর একটি জঙ্গি সংগঠন।
- এটি কাশ্মীর উপত্যকায় তৎপর হলেও পরিচালিত হয় পাকিস্তান থেকে।
- ইসলামী সংগঠনটি যা সুন্নি ইসলামের ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রভাবিত । 
- প্রতিষ্ঠাতা: হাফিজ সাঈদ।
- হাফিজ সাঈদ ১৯৮০ সালের দিকে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- লস্কর-ই-তৈইয়্যেবা ১৯৯৩ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রথম অনুপ্রবেশ করেছিল।

উল্লেখ্য,
- ২০০১ সালে ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবনে হামলা ও ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার জন্যে ভারত সরকার লস্কর-ই-তৈইয়্যেবাকে দায়ী করে থাকে।
উল্লেখ্য,
- যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানি চরমপন্থি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার শাখা হিসেবে পরিচিত 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট'কে (টিআরএফ) 'বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন' ঘোষণা করেছে।
- ২০১৯ সালে গঠিত টিআরএফ'কে লস্কর-ই-তৈয়বার ‘ছদ্মবেশী ও প্রতিনিধি সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন রুবিও। দিল্লিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের ভাষ্য, টিআরএফ লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা। 
- প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স’ নামেও পরিচিত ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ পেহেলগামে হামলার দায় প্রথমে স্বীকার করে। তবে কয়েক দিন বাদে এই দায় অস্বীকার করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC. 

৬৯.
European Environment Agency-এর সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. প্যারিস, ফ্রান্স
  2. রোম, ইতালি 
  3. সুইডেন, স্টকহোম
  4. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থা (European Environment Agency):
- কাজ: ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পরিবেশ বিষয়ক তথ্য দিয়ে সহায়তা করা।
- গঠন: ১৯৯৪ সাল।
- সদর দপ্তর: কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
- সদস্য: ৩২টি।
- সহযোগী দেশ: ৬টি।

উৎস: European Environment Agency ওয়েবসাইট।

৭০.
নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

নোবেল পুরস্কার:
- সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল-এর নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়।
- প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।
- ১৮৯৫ সালে এক উইলে ‘মানবজাতির সর্বোচ্চ সেবায় অবদান রাখা’ ব্যক্তিদের জন্য এই পুরস্কার নিবেদিত করেছেন তিনি।

⇒ নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা ৪টি। যথা:
ক। নোবেল কমিটি অব দি নরওয়েজিয়ান পার্লামেন্ট (নরওয়ে): শান্তি,
খ। সুইডিশ একাডেমি (সুইডেন): সাহিত্য, 
গ। রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স (সুইডেন): পদার্থ, রসায়ন ও অর্থনীতি,
ঘ। ক্যারোনিস্কা ইনস্টিটিউট (সুইডেন): চিকিৎসা শাস্ত্র।

• Nobel Prize in Economic Sciences:
- ১৯৬৮ সাল থেকে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Sveriges Riksbank) অর্থনীতিতে অবদানের কথা স্মরণ করে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু করে।
- এই পুরস্কারটিও রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সে নির্ধারণ করে।
- ১৯৬৯ সালে প্রথমবার এই পুরস্কার Ragnar Frisch এবং Jan Tinbergen-কে প্রদান করা হয়।

উৎস: Nobel Prize ওয়েবসাইট। 

৭১.
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী দেশগুলোকে কত বছর পর পর তাদের নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা জমা দিতে হয়?
  1. প্রতি এক বছর
  2. প্রতি দুই বছর
  3. প্রতি তিন বছর
  4. প্রতি পাঁচ বছর
ব্যাখ্যা

প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement):
- প্যারিস চুক্তি মূলত জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- স্বাক্ষরিত হয়: ২০১৫ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে: ১৯৫টি দেশ।

⇒ বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) কাজ করে। 
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর - ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ-২১ সম্মেলনে এই চুক্তি গৃহীত হয়।
- এই চুক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDCs) দিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য অঙ্গীকার করে।
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর পর পর তাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা জমা দিতে হয়। প্যারিস চুক্তির অধীনে, দেশগুলো প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন করে জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জমা দেয়।

⇒ চুক্তির মূল লক্ষ্য:
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন প্রায় ৪৩ শতাংশ কমানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
- গাছ, মাটি ও সমুদ্র প্রাকৃতিকভাবে যতটা শোষণ করতে পারে, ২০৫০ সাল থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কৃত্রিমভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ সেই পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- প্রতি ৫ বছর অন্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ রোধে প্রত্যেকটি দেশের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে গরিব দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর ‘জলবায়ু তহবিল’ দিয়ে সাহায্য করা।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।

৭২.
জাতিসংঘের চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
  2. বেইজিং, চীন
  3. মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো
  4. নাইরোবি, কেনিয়া
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ নারী সম্মেলন:
- জাতিসংঘ নারীদের নিয়ে চারটি বিশ্ব সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
- ১৯ জুন থেকে ২ জুলাই, ১৯৭৫ সালে মেক্সিকো সিটিতে প্রথম বিশ্ব নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ চারটি সম্মেলন:
- প্রথম বিশ্ব নারী সম্মেলন: ১৯৭৫ সালে, মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো,
- দ্বিতীয় বিশ্ব নারী সম্মেলন: ১৯৮০ সালে, কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক,
- তৃতীয় বিশ্ব নারী সম্মেলন: ১৯৮৫ সালে, নাইরোবি, কেনিয়া এবং,
- চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন: ১৯৯৫ সালে, বেইজিং, চীন।

চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন:
- চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন ১৯৯৫ সালের ৪-১৫ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিং শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
​- নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ১২টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে গৃহীত হয় 'বেইজিং প্লাটফরম ফর অ্যাকশন [বিপিএফএ]'।

উৎস: UN Women ওয়েবসাইট।

৭৩.
রামসার কনভেনশনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. জলাভূমির টেকসই ব্যবহার ও সংরক্ষণ
  2. বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ
  3. জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা
  4. বনভূমি সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

রামসার কনভেনশন (Convention on Wetlands):
- রামসার কনভেনশন হলো জলাভূমি (যেমন, বিল, হ্রদ, নদী, ইত্যাদি) সংরক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
- স্বাক্ষর: ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১।
- স্বাক্ষরের স্থান: রামসার, ইরান।
- এটি কার্যকর হয় ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ সালে।
- বর্তমানে চুক্তিবদ্ধ দেশ: ১৭২টি।
- উদ্দেশ্য: আর্দ্রভূমির অবক্ষয় রোধ ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ।

⇒ ১৯৯৭ সাল থেকে ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব জলাভূমি দিবস হিসেবে IUCN, UNESCO-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ১০০টিরও বেশি দেশে পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা পালন করে আসছেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে। বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট (Ramsar sites) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন (১৯৯২), টাঙ্গুয়ার হাওর (২০০০)।

উৎস: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।

৭৪.
২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ইউএস ওপেন (US OPEN) পুরুষ এককে শিরোপা জয়ী কে?
  1. কার্লোস আলকারাজ
  2. আলেক্সান্দার জভেরেভ
  3. ইয়ানিক সিনার
  4. রাফায়েল নাদাল
ব্যাখ্যা

টেনিস:
- টেনিস বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা।
- অনেক জায়গায় এটি লন টেনিস নামে পরিচিত।
- টেনিস খেলার জন্য প্রয়োজন হয় তারযুক্ত একটি দন্ড যা 'রেকেট' নামে পরিচিত, একটি বল এবং জাল।

উল্লেখ্য, গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে রয়েছে:
• অস্ট্রেলিয়ান ওপেন (জানুয়ারির মাঝামাঝি),
• ফ্রেঞ্চ ওপেন (মে মাসের শেষ থেকে জুনের শুরুতে),
• উইম্বলডন (জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরুতে),
• ইউএস ওপেন (আগস্ট-সেপ্টেম্বর)।

⇒ ইউএস ওপেন (US OPEN) ২০২৫:
• পুরুষ একক:
- চ্যাম্পিয়ন: কার্লোস আলকারাজ ।
- রানার আপ: ইয়ানিক সিনার (ইতালি)।

• নারী একক: 
- চ্যাম্পিয়ন: আরিনা সাবালেঙ্কা (বেলারুশ)।
- রানার আপ: আমান্ডা আনিসিমোভা।

উৎস: International Tennis Federation ওয়েবসাইট। 

৭৫.
'ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম' কোন প্রোটোকলের অংশ?
  1. মন্ট্রিল প্রোটোকল
  2. কিয়োটো প্রোটোকল
  3. কার্টাগেনা প্রোটোকল
  4. নাগোয়া প্রোটোকল
ব্যাখ্যা

ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (CDM):
- ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম বা Clean Development Mechanism কিয়োটো প্রটোকল-এর অংশ।
- প্রোটোকলের ১২ অনুচ্ছেদে অনুসারে, ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (সিডিএম) এর আওতায় কোন উন্নত দেশ অন্য উন্নয়নশীলদেশে  গ্রীনহাউস গ্যাসের নি:সরণ কমানোর জন্য কোন প্রকল্প নির্মানের  প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা বিনিয়োগের মাধ্যমে  চুক্তি  খেলাপের হাত থেকে বাঁচতে পারে।

⇒ কিয়োটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাধ্যতামূলকভাবে হ্রাসকরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি হচ্ছে কিয়োটো প্রটোকল।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- কার্যকর হয়: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: কিয়োটো, জাপান।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ৮৩টি।
- অনুমোদনকারী দেশ: ১৯২টি।
- কিয়োটো প্রোটোকলের উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের তালিকা (Annex) ভিত্তিক কাঠামো অনুসরণ করে গ্রিনহাউস গ্যাস (GHG) নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা।
- এই প্রোটোকল শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলিকে উদ্দেশ্য করে গ্রহন করা হয়েছে যা “common but differentiated responsibility and respective capabilities” নীতির অধীনে পরিচালিত।
- এখানে শিল্পোন্নোত দেশগুলিকে উপর অধিক দায়িত্ব আরোপ হয়েছে, কারণ এই দেশগুলি বায়ুমণ্ডলে উচ্চ মাত্রায় GHG নির্গমনের জন্য দায়ী।
- UNFCCC তার কনভেনশানে সারা বিশ্বের সব দেশগুলিকে ৩টি তালিকা বা Annex এ বিভক্ত করেছে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

৭৬.
গালিভার্স ট্রাভেলস (Gulliver's Travels) উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ড্যানিয়েল ডিফো
  2. জোনাথন সুইফট
  3. জর্জ অরওয়েল
  4. জন মিল্টন
ব্যাখ্যা

Gulliver's Travels:
- গালিভার্স ট্রাভেলস (Gulliver's Travels) হলো জোনাথন সুইফটের লেখা ১৭২৬ সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত ইংরেজি উপন্যাস।
- এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক রচনা।
- এখানে লেমুয়েল গালিভার নামক একজন চরিত্রের চারটি কাল্পনিক ভ্রমণের গল্প বর্ণনা করা হয়।
- প্রতিটি ভ্রমণে তিনি অদ্ভুত ও কল্পনাপ্রসূত দেশে যান, যেখানে তিনি বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতির সম্মুখীন হন।

⇒ প্রধান ভ্রমণ ও বিষয়বস্তু:
- লিলিপুট: ছোট মানুষের দেশ, যেখানে গালিভার দৈত্যের মতো। এটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানব প্রকৃতির উপর কটাক্ষ।
- ব্রবডিংনাগ: দৈত্যদের দেশ, যেখানে গালিভার খুব ছোট। এটি মানুষের শারীরিক ও নৈতিক দুর্বলতার উপর আলোকপাত করে।
- ল্যাপুটা ও অন্যান্য দ্বীপ: উড়ন্ত দ্বীপে বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক ব্যঙ্গ, যা অতিরিক্ত বুদ্ধিবৃত্তিকতার সমালোচনা করে।
- হুইনহ্নমদের দেশ: যেখানে বুদ্ধিমান ঘোড়ারা শাসন করে এবং মানুষের মতো প্রাণী (ইয়াহু) অসভ্য। এটি মানব প্রকৃতির অন্ধকার দিক তুলে ধরে।

উল্লেখ্য,
- ১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে জোনাথন সুইফট জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতারও নাম জোনাথন সুইফট।
- পিতার মৃত্যুর কয়েক মাস পরে পুত্র জোনাথন সুইফট জন্মগ্রহণ করেন। 
- জোনাথন সুইফট ধর্মযাজক ছিলেন কিন্তু ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লসের সমর্থক ছিলেন বলে তিনি নিপীড়িত হয়ে দেশ ত্যাগ করে আয়ারল্যান্ডে এসে বসবাস করতে আরম্ভ করেন।

উৎস: Britannica.

৭৭.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?
  1. ১৯২০-১৯২৫ সাল
  2. ১৯২৯-১৯৩৩ সাল
  3. ১৯৩৯-১৯৪৫ সাল
  4. ১৯৪৯-১৯৫২ সাল
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (World War-II):
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল ১৯৩৯ - ১৯৪৫ সাল।

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পক্ষ ছিলো দুইটি: অক্ষ শক্তি, মিত্র শক্তি। 
- অক্ষ শক্তির প্রধানতম দেশ: জার্মানি, ইতালি, জাপান। 
- মিত্র শক্তির প্রধানতম দেশ: যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স।

⇒ যুদ্ধের ফলাফল: মিত্রবাহিনী জয়লাভ করে। 
- জার্মানি মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে ১৯৪৫ সালের ৮ মে। এই দিনটিকে V-E (Victory in Europe) Day বলে।
- ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর টোকিও বে-তে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস মিসৌরিতে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এই দিনটিকে বলা হয় V-J (Victory over Japan) Day।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com 

৭৮.
মন্ট্রিল প্রটোকল কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৮৭ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটোকল হল ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) ব্যবহার এবং উৎপাদন বন্ধ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।

⇒ চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

উল্লেখ্য,
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (সিএফসি), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ক্লোরোফর্ম, মিথাইল ব্রোমাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, হাইড্রোব্রোমোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদি গ্যাসের প্রভাবে দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে এই ওজোন স্তর। যার ফলে তৈরি হচ্ছে ওজোন হোল বা গর্ত। প্রায় সকল ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (ওডিএস) ই অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিন হাউস গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য ও এর বিকল্পসমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এ গ্যাসগুলো সাধারণতঃ রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেমে, এ্যাজমা চিকিৎসায় উৎপাদিত ইনহেলারে, ফ্যান, প্লাস্টিক ফোম তৈরি ও মাইক্রোইলেকট্রিক সার্কিট পরিস্কার করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানবসভ্যতাকে রক্ষার জন্য ওজোনস্তর রক্ষায় কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। তাই ওজোনস্তরের ক্ষয়কারী দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- ধরিত্রীকে রক্ষার লক্ষ্যে ওজোনস্তর রক্ষায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে 'ভিয়েনা কনভেনশন' গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে "মন্ট্রিল প্রটোকল" নামে এক যুগান্তকারী চুক্তি গৃহীত হয়।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।

৭৯.
'আন্তর্জাতিক নারী দিবস' কবে পালিত হয়?
  1. ৮ মার্চ
  2. ১৮ মার্চ
  3. ৮ এপ্রিল
  4. ১৮ এপ্রিল
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস:
- ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
- নারীর কাজের স্বীকৃতি প্রদান, নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, নারীর সাফল্য উদযাপন ও নারীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর দিনটি পালিত হয় বিশ্বজুড়ে।

উল্লেখ্য,
- ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় নারী দিবস’ পালিত হয়। 
- এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। এই সম্মেলনে জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির উইমেন্স অফিসের নেতা ক্লারা জেটকিন একটি বার্ষিক ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ চালুর ধারণা উপস্থাপন করেন।
- কোপেনহেগেন সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালিত হয়।
- জার্মানিতে ১৯১৪ সালের ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। 

⇒ জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালকে ‘আন্তর্জাতিক নারী বর্ষ’ ঘোষণা করে। একই বছর বিশ্ব সংস্থাটি প্রথমবারের মতো ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করে।
- দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক রূপ পায়।
- জাতিসংঘ প্রথমবার এই দিবসের একটা প্রতিপাদ্য ঠিক করে ১৯৯৬ সালে। জাতিসংঘ সে বছর ‘অতীত উদ্‌যাপন, ভবিষ্যৎ ঘিরে পরিকল্পনা’ প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালন করে।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) International Women's Day ওয়েবসাইট।

৮০.
বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাসায়নিক উৎপাদনকারী কোম্পানি BASF কোন দেশে অবস্থিত?
  1. রাশিয়া 
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. চীন
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

BASF:
- BASF-এর পূর্ণরূপ: Badische Anilin- und Sodafabrik.
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাসায়নিক উৎপাদনকারী কোম্পানি। 
- বর্তমানে রাসায়নিক, প্লাস্টিক, কৃষি পণ্য, পুষ্টি ও যত্ন পণ্য, পৃষ্ঠ প্রযুক্তি এবং শিল্প সমাধান সহ বিস্তৃত পণ্য উৎপাদন করে।
- প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল: ৬ এপ্রিল, ১৮৬৫।
- প্রধান প্রতিষ্ঠাতা: Friedrich Engelhorn.
- সদর দপ্তর: লুডভিগশাফ, জার্মানি।

⇒ ১৮৬৫ সালে ম্যানহাইমে Badische Anilin- & Soda-Fabrik (Baden Anilin & Soda Factory) নামে এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯১৯ সালে প্রধান কার্যালয় রাইন নদী পেরিয়ে লুডভিগশাফেনে স্থানান্তরিত হয়।
- ১৯২৫ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি বিশ্বের বৃহত্তম রাসায়নিক সংস্থা IG Farben (qv) এর অংশ ছিল।
- ১৯৫২ সালে BASF পুনর্গঠিত হয়।

উৎস: i) BASF ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.

৮১.
পারদের ব্যবহার ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি কোনটি?
  1. তেহরান কনভেনশন
  2. প্যারিস চুক্তি
  3. মিনামাটা কনভেনশন
  4. বাসেল কনভেনশন
ব্যাখ্যা

মিনামাটা কনভেনশন (Minamata Convention on Mercury):
- পারদের ব্যবহার ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি মিনামাটা কনভেনশন।
- চুক্তিটি মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে পারদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
- এই চুক্তির নামকরণ করা হয়েছে জাপানের মিনামাটা শহরের নামে, যেখানে ২০শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পারদ-দূষিত শিল্প বর্জ্য পানিতে মিশে হাজার হাজার মানুষ মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা 'মিনামাটা রোগ' নামে পরিচিত। 

⇒ গৃহীত হয়: ১৯ জানুয়ারি ২০১৩ সালে (জেনেভা, সুইজারল্যান্ড)।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১০ অক্টোবর, ২০১৩, কুমামোটো, জাপান।
- কার্যকর হয়: ১৬ আগস্ট, ২০১৭।
- সদস্য দেশ: ১৫২টি।

অন্যদিকে,
- প্যারিস চুক্তি: জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত, পারদ নয়।
- বাসেল কনভেনশন: বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তর্জাতিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।

৮২.
পশ্চিম আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলোর জোট ‘ECOWAS’ কোন চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়?
  1. আবুজা চুক্তি
  2. লাগোস চুক্তি
  3. কোটোনু চুক্তি
  4. রোম চুক্তি
ব্যাখ্যা

ECOWAS:
- ECOWAS-এর পূর্ণরূপ: Economic Community of West African States.
- এটি পশ্চিম আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলোর জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৮ মে, ১৯৭৫ (লাগোস চুক্তির মাধ্যমে)।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: লাগোস, নাইজেরিয়া।
- সদরদপ্তর: আবুজা, নাইজেরিয়া।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৫টি (বেনিন প্রজাতন্ত্র, বুরকিনা ফাসো, কেপ ভার্দে, আইভরি কোস্ট, গাম্বিয়া, ঘানা, গিনি, গিনি-বিসাউ, লাইবেরিয়া, মালি, নাইজার, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন এবং টোগো)। 
- এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ১২টি।

⇒ ECOWAS-এর মূল লক্ষ্য হল জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
-  ECOWAS এই অঞ্চলে সংঘাতের জন্য একটি শান্তিরক্ষী বাহিনী তৈরি করে কিছু নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানের জন্যও কাজ করেছে।
- ECOWAS ১৯৯০ সালে তার মুক্ত বাণিজ্য এলাকা প্রতিষ্ঠা করে এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একটি সাধারণ বহিরাগত শুল্ক গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বুরকিনা ফাসো, মালি এবং নাইজার আনুষ্ঠানিকভাবে ECOWAS থেকে বেরিয়ে আসে।

উৎস: i) African Union ওয়েবসাইট। 
ii) Britannica.

৮৩.
মন্ট্রিল প্রটোকলের কিগালি সংশোধনী কোন গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রণীত হয়েছে?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. হাইড্রো-ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
  3. মিথেন
  4. নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.

⇒ মন্ট্রিল প্রোটকলের সংশোধনী: 
- ১৯৮৯ সাল থেকে মন্ট্রিল প্রটোকল ৬ বার সংশোধন করা হয়।এগুলো হলো:
- London amendment 1990,
- Copenhagen amendment 1992,
- Vienna amendment 1995,
- Montreal amendment 1997,
- Beijing amendment 1999,
- Kigali amendment 2016.

• কিগালি সংশোধনী:
- কিগালি সংশোধনী গৃহীত হয়: ১৫ অক্টোবর, ২০১৬। 
- কিগালি সংশোধনী কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারি, ২০১৯।
- এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা রুয়ান্ডার কিগালিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গৃহীত হয়ছিল।
- এর লক্ষ্য হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFCs)-এর ব্যবহার কমিয়ে পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমানো এবং পৃথিবীকে আরও পরিবেশবান্ধব, টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে, বিভিন্ন দেশ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে HFCs এর উৎপাদন এবং ব্যবহার ৮০%-৮৫% কমিয়ে আনবে।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
ii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)।

৮৪.
'সিয়াচেন হিমবাহ' কোন দুইটি দেশের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল?
  1. পাকিস্তান ও ভারত
  2. ভারত ও চীন
  3. পাকিস্তান ও চীন
  4. ভারত ও ভুটান
ব্যাখ্যা

সিয়াচেন হিমবাহ:
- ‘সিয়াচেন হিমবাহ’ অবস্থিত উত্তর কাশ্মীরে।
- সিয়াচেন হিমবাহ পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র বলে পরিচিত।
- 'সিয়াচেন হিমবাহ' পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।

⇒ কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন হিমবাহ দখলে রাখা নিয়ে দুই চিরবৈরী দেশ ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই শুরু হয় আশির দশকের গোড়া থেকে।
- তবে দ্বন্দ্বের বীজ লুকিয়ে ছিল দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া করাচি আর সিমলা চুক্তি দুটির মধ্যেই – যেখানে ‘এন জে ৯৮৪২’ নামের একটি অবস্থানের পরে নিয়ন্ত্রণ রেখা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি মানচিত্রে।
- মনে করা হত ওই এলাকার আবহাওয়া এতটাই প্রতিকুল, যেখানে কোনও মানুষ থাকতে পারবে না।

অন্যদিকে,
• ভারত ও নেপালের মধ্যে অমীমাংসিত ভূখন্ড হলো কালাপানি,
• ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল লাদাখ,
• ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল ইম্ফল।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৪ সালে ভারত অপারেশন মেঘদূতের (Operation Meghdoot) মাধ্যমে সিয়াচেন হিমবাহের ৭০% নিয়ন্ত্রণ নেয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

৮৫.
২০২৫ সালে 'গাজা শান্তি সম্মেলন' কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. মিশরে 
  2. তুরস্কে 
  3. ইরানে 
  4. যুক্তরাষ্ট্রে
ব্যাখ্যা

গাজা শান্তি সম্মেলন:
- ২০২৫ সালে 'গাজা শান্তি সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হয়েছে মিশরে। 
- শান্তি সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় মিসরের উপকূলীয় শহর শারম আল-শেখে।

⇒ ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে মিশরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতার উপস্থিতিতে হামাস-ইসরাইল শান্তি পরিকল্পনা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 
- এই নথিতে ট্রাম্প ছাড়াও মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানিসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা স্বাক্ষর করেছেন।
- সম্মেলনে প্রায় ৩৫ জন বিশ্বনেতা অংশ নেন।
- গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে এ চুক্তি সই হয়। 

উল্লেখ্য,
- এর আগে ১০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ইসরায়েল ও হামাস ট্রাম্পের ২০ দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- এরই মধ্যে হামাস ২০ জন জীবিত জিম্মি ও কয়েকজন জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে। ইসরায়েলও প্রায় দু হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে।

উৎস: Al Jazeera.

৮৬.
RCEP-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কোনটি ASEAN-এর সদস্য নয়?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. থাইল্যান্ড
  3. ভিয়েতনাম
  4. চীন
ব্যাখ্যা

RCEP:
- RCEP-এর পূর্ণরূপ: Regional Comprehensive Economic Partnership.
- RCEP হলো Association of Southeast Asian Nations (ASEAN) এর সদস্য রাষ্ট্র। এটি বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৫ নভেম্বর, ২০২০।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারি, ২০২২।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৫টি (চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর, কম্বোডিয়া, লাওস ও মিয়ানমার)।

⇒ অর্থনীতির ব্যাপ্তি:
- বৈশ্বিক GDP-এর প্রায় ৩০%,
- বৈশ্বিক জনসংখ্যারও প্রায় ৩০% (প্রায় ২.২ বিলিয়ন),
- বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ২৮.৮%।

⋅ ASEAN:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ারঅর্থনৈতিক জোট ASEAN-এর পূর্ণরূপ: Association of Southeast Asian Nations.
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৮ আগস্ট, ১৯৬৭ (ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে)।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: ব্যাংকক, থাইল্যান্ড। 
- সদরদপ্তর: জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ৫টি (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ড)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১১টি (মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও পূর্ব তিমুর)।
- বর্তমান সভাপতি: আনোয়ার ইব্রাহিম (মালয়েশিয়া)।
 
উল্লেখ্য,
- RCEP-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ASEAN-এর সদস্য নয়- চীন।

উৎস: i) ASEAN ওয়েবসাইট।
ii) World Economic Forum ওয়েবসাইট।

৮৭.
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে United Nations Convention against Cybercrime (UNCC) কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৪ সালে
  3. ২০২২ সালে
  4. ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

United Nations Convention against Cybercrime (UNCC):
- UNCC জাতিসংঘের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের প্রথম ব্যাপক আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- গৃহীত হয়: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ (জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯/২৪৩ নম্বর রেজোলিউশনের মাধ্যমে)।
- স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয়: ২৫ অক্টোবর, ২০২৫।
- স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত থাকবে: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত।
- উদ্দেশ্য: সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

উল্লেখ্য,
- ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়তে স্বাক্ষরিত জাতিসংঘ সাইবার অপরাধ চুক্তিটি কেবল তখনই কার্যকর হবে, যখন কমপক্ষে ৪০টি দেশ এটি অনুমোদন করবে।
- চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে ১০টি অপরাধকে ‘অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে হ্যাকিং, জালিয়াতি ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধ। অন্য কোনো সদস্য দেশ অনুরোধ করলে দেশগুলোকে ই-মেইলসহ প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৮৮.
Europol-এর সদস্য দেশের সংখ্যা কত? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. ২০টি
  2. ২১টি
  3. ২২টি
  4. ২৭টি
ব্যাখ্যা

Europol:
- Europol-এর পূর্ণরূপ: The European Union Agency for Law Enforcement Cooperation.
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর পুলিশ সংস্থার নাম Europol।
- সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জুলাই, ১৯৯৯ ।
- সদরদপ্তর: হেগ, নেদারল্যান্ডস।
- প্রথম পরিচালক: জার্গেন স্টরবেক।
- বর্তমান সদস্য: ২৭টি দেশ।
- নির্বাহী পরিচালক: ক্যাথরিন ডি বোলে।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের সকল সদস্যই ইউরোপোলের সদস্য।

এছাড়াও,
- ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ সালে ম্যাসট্রিচট চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপোল-এর সৃষ্টি হয়।
- মাস্ট্রিক্ট চুক্তির মাধ্যমে, সদস্য রাষ্ট্রগুলি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে একত্রিত হওয়ার জন্য সম্মত হয়, যার মধ্যে সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ মাদক পাচার, এবং অন্যান্য গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ ও মোকাবেলা ছিল।
- মাস্ট্রিক্ট চুক্তির মাধ্যমে Europol (ইউরোপীয় পুলিশ অফিস) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে পুলিশী সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের একটি সংগঠিত ব্যবস্থা তৈরি হয়।
- মাস্ট্রিক্ট চুক্তির ধারা K.3 অনুযায়ী ইউরোপোল প্রতিষ্ঠার কনভেনশনের চুক্তি ১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত হয়।

উৎস: Europol ওয়েবসাইট।

৮৯.
মুখবরাত কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা?
  1. মিশর 
  2. ইসরায়েল 
  3. তুরস্ক
  4. পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

মুখবরাত মিশরের গোয়েন্দা সংস্থা।

বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা:
- যুক্তরাষ্ট্র: সিআইএ, ফেয়ারফ্যাক্স, এনএসএ (NSA), এফবিআই (FBI)।
- যুক্তরাজ্য: এসআইএস (SIS), MI6, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিস।
- রাশিয়া: এফএসবি (FSB), এসভিআর (SVR)।
- ফ্রান্স: DGSE.
- ভারত: RAW, CBI.
- ইসরায়েল: মোসাদ, আমান।
- জাপান: নাইচো।
- ইরান: ভিভাক।
- সৌদি আরব: এস পি এ (SPA)।
- চীন: এম এস এস (MSS)।
- পাকিস্তান: আইএসআই (ISI)।
- মিশর: মুখবরাত।

উৎস: Britannica.

৯০.
গোল্ডেন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্মাতা দেশ কোনটি?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. রাশিয়া 
  3. তুরস্ক
  4. ইসরায়েল
ব্যাখ্যা

গোল্ডেন ডোম:
- গোল্ডেন ডোম অত্যাধুনিক একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা নির্মাণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

⇒ এই ব্যবস্থার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখা, বিশেষত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি থেকে।
- হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ দ্রুত চলে, তার আঘাত প্রতিরোধ করতে গোল্ডেন ডোম তৈরি করা হচ্ছে।
- এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার আকাশ ও ভূখণ্ডকে এমন শক্তিশালী সুরক্ষা দেবে, যা বর্তমানে কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করতে সক্ষম নয়।
- এটি মহাকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে, ইনফ্রারেড লেজারের মাধ্যমে সেগুলোকে ধ্বংস করবে।
- গোল্ডেন ডোমের লেজার প্রযুক্তির অন্যতম বিশেষত্ব হলো এটি আয়রন ডোমের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী হবে।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংস্থা ৪৪টি ভূমিভিত্তিক প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে থাকে।
- সেগুলো আলাস্কা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত। এগুলো শুধু সীমিত হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

উৎস: i) Lockheed Martin.
ii) প্রথম আলো

৯১.
Global Gender Gap Report-2025 অনুসারে জেন্ডার সমতায় কোন দেশ শীর্ষে রয়েছে?
  1. নরওয়ে 
  2. ডেনমার্ক
  3. সুইডেন 
  4. আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা

Global Gender Gap Report-2025:
- প্রকাশক: World Economic Forum.
- প্রকাশের সময়কাল: জুন, ২০২৫।
- ইনডেক্স অনুযায়ী, শীর্ষ অবস্থানে আছে আইসল্যান্ড।
- প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২৪তম।
- মূলত চারটি মাপকাঠির ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এগুলো হলো: অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও আয়ু, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।

⇒ Global Gender Gap Report-2025 অনুযায়ী শীর্ষ দেশ:
১. আইসল্যান্ড,
২. ফিনল্যান্ড,
৩. নরওয়ে,
৪. যুক্তরাজ্য,
৫. নিউজিল্যান্ড।

অন্যদিকে,
- সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে পাকিস্তান (১৪৮তম)।

উৎস: Global Gender Gap Report 2025.

৯২.
রোম সংবিধি দ্বারা নিম্নের কোন সংস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)
  2. আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)
  3. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)
  4. স্থায়ী সালিশ আদালত (PCA)
ব্যাখ্যা

ICC:
- ICC-এর পূর্ণরূপ: International Criminal Court.
- ICC বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৭ জুলাই, ১৯৯৮ (রোম সংবিধির মাধ্যমে)।
- কার্যক্রম শুরু করে: ১ জুলাই, ২০০২।
- সদরদপ্তর: হেগ নেদারল্যান্ডস।
- এর সদস্য: ১২৫টি।
- ১২৫তম সদস্য: ইউক্রেন।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: তোমোকো আকানেকে (২০২৪-২০২৭ সাল)।
- প্রেসিডেন্সির সদস্যরা অবিলম্বে তিন বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন।

রোম সংবিধি (Rome Statute):
- রোম সংবিধি হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (International Criminal Court - ICC) প্রতিষ্ঠার জন্য গৃহীত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। 
- ১৯৯৮ সালে রোম সংবিধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় আইসিসি (ICC)।
- ১৯৯৮ সালের ১৫ জুন ১৭ জুলাই ইতালির রোমে বিশ্বের ১২০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কূটনীতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১২০-৭ ভোটের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালত সংবিধি বা রোম সংবিধি গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাষ্ট্র কর্তৃক সংবিধিটি অনুমোদিত হওয়ায় ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কার্যকারিতা লাভ করে।
- মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে দেশীয় বিচারব্যবস্থার সমর্থনে বা এটার পরিপূরক (কমপ্লিমেন্টারি) হিসেবে কাজ করার জন্য আইসিসি তৈরি হয়েছিল (রোম সংবিধির প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ১ ও ১৭)।
- রোম সংবিধিতে মোট ১৩টি অধ্যায় এবং ১২৮টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

⇒ যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং আগ্রাসনের অপরাধ বিচার করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) তৈরি করা হয়েছিল।
- এটি সদস্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের বা তাদের ভূখণ্ডে অন্য দেশের দ্বারা সংগঠিত অপরাধের বিচার করতে পারে।

উৎস: i) BBC.
ii) International Criminal Court ওয়েবসাইট।

৯৩.
UNCCD-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. United Nations Convention on Climate Development
  2. United Nations Convention to Combat Desertification
  3. United Nations Council on Desert Control
  4. United Nations Committee on Drylands
ব্যাখ্যা

UNCCD:
- UNCCD-এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention to Combat Desertification.
- UNCCD হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা মরুকরণ, ভূমি অবক্ষয় এবং খরার প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
- এটি গৃহীত হয়: ১৭ জুন, ১৯৯৪ সালে, প্যারিস।
- কার্যকর হয়: ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ সালে।
- সদস্য: ১৯৭টি (১৯৬টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন)।
- UNCCD একমাত্র আইনি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি যা পরিবেশ ও উন্নয়নকে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংযুক্ত করে।
- UNCCD-এর মূল উদ্দেশ্য: মরুকরণ প্রতিরোধ এবং খরার প্রভাব হ্রাস করা।

উৎস: UNCCD ওয়েবসাইট।

৯৪.
প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কে?
  1. লিওনেল মেসি
  2. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
  3. আন্তোনিও গুতেরেস
  4. ডোনাল্ড ট্রাম্প
ব্যাখ্যা

FIFA Peace Prize:
- বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থা ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

⇒ ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৫ সাল থেকে এই পুরস্কার চালু করেছেন।
- এই পুরস্কার এমন ব্যক্তিকে দেওয়া হচ্ছে যিনি শান্তির জন্য অসাধারণ ও অনন্য পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সারা বিশ্বের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। 
- বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস ভেন্যুতে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ এর ড্র অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
- ট্রাম্পের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
- বিশ্বকাপের দলগুলোকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করার আগে ট্রাম্পকে একটি নতুন সোনালী ট্রফি, একটি সোনালী পদক ও একটি সনদ প্রদান করে ইনফান্তিনো।

উৎস: FIFA ওয়েবসাইট।

৯৫.
'অপারেশন ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ' অভিযান পরিচালনা করেছে কোন দেশ?
  1. ইসরায়েল
  2. পাকিস্তান 
  3. রাশিয়া 
  4. তুরস্ক
ব্যাখ্যা

অপারেশন ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ:
- ইয়েমেনে 'অপারেশন ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ' অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরায়েল। 

⇒ ৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ইয়েমেনের হুদায়দাহ, রাস ইসা ও সাইফ বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
- দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
- এরই অংশ হিসেবে চালানো হয় ওই হামলা।
- প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় হুথিরা। এরপর লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জলপথে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে তারা।

উল্লেখ্য,
- ৮ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এবার পাল্টা আঘাত হেনেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিবের প্রধান বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।

উৎস: i) CNN. 
ii) BBC.

৯৬.
সম্প্রতি কোন দুটি দেশ 'তেলের বিনিময়ে পানি চুক্তি' স্বাক্ষর করেছে? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. তুরস্ক ও আলবেনিয়া
  2. ইরাক ও তুরস্ক
  3. ইরান ও তুরস্ক
  4. ইরাক ও আলবেনিয়া
ব্যাখ্যা

তেলের বিনিময়ে পানি চুক্তি:
- সম্প্রতি ইরাক ও তুরস্ক 'তেলের বিনিময়ে পানি চুক্তি' স্বাক্ষর করেছে।
- নভেম্বর, ২০২৫-এ দুই দেশের মধ্যে কয়েক শ কোটি ডলারের 'ওয়াটার কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট' চূড়ান্ত হয়।
- এই চুক্তির আওতায় তুর্কি কোম্পানিগুলো ইরাকের পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করবে। বিষয়টি অনেকটা তেলের বিনিময়ে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টার মতো।

⇒ ইরাকের পানির উৎসের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক থেকে।
- তবে উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে আগের চেয়ে অনেক কম পানি পাচ্ছে দেশটি।
- এই সংকট কাটাতে এবার তুরস্কের সঙ্গে বিতর্কিত একটি সহযোগিতা চুক্তিতে গেছে বাগদাদ।
- সহজ কথায়, এই চুক্তির মূল বিষয় হলো—ইরাকের তেল আয়ের বিনিময়ে দেশটির পানি অবকাঠামো উন্নয়ন করে দেবে তুরস্ক।

উৎস: The Business Standards.

৯৭.
IMF-এর সর্বশেষ সদস্য দেশ কোনটি? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. দক্ষিণ সুদান 
  2. পূর্ব তিমুর
  3. লিচেনস্টাইন
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

IMF:
- IMF-এর পূর্ণরূপ: The International Monetary Fund বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
- গঠনের সিদ্ধান্ত: ৪ জুলাই, ১৯৪৪ সাল।
- আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫।
- কার্যক্রম শুরু করে: মার্চ, ১৯৪৭।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: নিউ হ্যাম্পশায়ার, যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: Bretton Woods Conference।
- বর্তমান সদস্য: ১৯১টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক: ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।
- এর রিজার্ভ মুদ্রা: ৫টি (ডলার, পাউন্ড, ইয়েন, ইউরো ও ইউয়ান)।

উল্লেখ্য,
- ২১ অক্টোবর, ২০২৪-এ লিচেনস্টাইন IMF-এর ১৯১তম দেশ হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে।

⇒ IMF-এর কাজ:
- অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা: IMF এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
- যখন কোনো দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে, তখন IMF সেই দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ঋণ প্রদান করে। 
- IMF সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে তাদের উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেয়। 
- IMF বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে গবেষণা করে। তারা এসব তথ্য দেশগুলোকে প্রদান করে, যাতে দেশগুলি তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা সঠিকভাবে তৈরি করতে পারে।
- IMF সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মুদ্রা বিনিময়ের সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করে। তারা মুদ্রার মানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সহজ হয়।
- IMF সদস্য দেশগুলোকে সংকটকালীন সময়ে অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহৃত হতে পারে।
- প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি: IMF সদস্য দেশগুলোর সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং অর্থনৈতিক পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৭ আগস্ট IMF-এর সদস্যপদ লাভ করে।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।

৯৮.
'বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান' কোন সংস্থার অধীনে গৃহীত?
  1. UN Women
  2. UNFCCC
  3. UNDP
  4. IPCC
ব্যাখ্যা

'বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান' (Belem Gender Action Plan):
- ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ সম্মেলনে 'বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান' জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC)-এর অধীনে গৃহীত হয়েছে।

⇒  কপ-৩০ সম্মেলনের শেষের দিকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নতুন বেলেম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান (জিএপি-গ্যাপ) অনুমোদন করেছে।
- এই পরিকল্পনা ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ন্যূনতম লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং পুরোনো এনহান্সড লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার আপডেট ও শক্তিশালী করেছে।
- নতুন পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু নীতি, পরিকল্পনা, প্রকল্প ও অর্থায়নের প্রতিটি স্তরে লিঙ্গভিত্তিক সমতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- এখানে ‘নারী’ বলতে কেবল সাধারণ নারী নয়; আদিবাসী, গ্রামীণ, কৃষিজীবী, প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য প্রান্তিক ও উপেক্ষিত গোষ্ঠীর নারীর অংশগ্রহণ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নারীমুখী ও কমিউনিটিভিত্তিক প্রকল্প এবং জেন্ডার সংবেদনশীল জলবায়ু অর্থায়ন (জেন্ডার রেসপন্সিভ ক্লাইমেট ফিন্যান্স) ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও এসেছে।

উল্লেখ্য,
- জলবায়ু আলোচনায় লিঙ্গসমতা অন্তর্ভুক্তির যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে কপ২০-এ ‘লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার’ গ্রহণের মাধ্যমে। ২০১৭ সালে কপ২৩-এ প্রথম জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান-গ্যাপ গৃহীত হয়, যা জলবায়ু নীতি ও কর্মসূচিতে নারীর অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। ২০১৯ সালের কপ২৫-এ এটি  ‘এনহান্সড লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার’ হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়। সবশেষে, বেলেমে অনুমোদিত নতুন গ্যাপ অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করেছে, যা জলবায়ু নীতি ও অর্থায়নে নারীর সমতা ও অংশগ্রহণকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা যায়।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।