পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes২৬ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১২ টপিক: রিভিশন [পরীক্ষা ৭ – ১১ পর্যন্ত সকল পরীক্ষার টপিক সমূহ] [লাইভ ক্লাস - ১১ থেকে ২২ পর্যন্ত]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
'দর্শনমাত্র' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারায় সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস 
  3. নিত্য সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস 
ব্যাখ্যা

• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
যেমন:
- অন্য দ্বীপ = দ্বীপান্তর,
- অন্য ভাষা = ভাষান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'কুনজর' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. তৎসম উপসর্গ 
  2. বাংলা উপসর্গ 
  3. ফারসি উপসর্গ 
  4. আরবি উপসর্গ 
সঠিক উত্তর:
বাংলা উপসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা উপসর্গ 
ব্যাখ্যা

'কুনজর' শব্দটি 'বাংলা' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'কু' উপসর্যোগে গঠিত আরো কিছু শব্দ: কুঅভ্যাস, কুকথা, কুসঙ্গ, কুনজর, কুকাম।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

.
সংস্কৃত ধাতু যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. হাস্য
  2. আঁকা
  3. দেখা
  4. বাঁধন 
সঠিক উত্তর:
হাস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাস্য
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত ধাতু:
তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন:
অঙ্ক্‌ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

এরূপ- ঘৃষ, পঠ্‌, বন্ধ্‌, বুধ্‌, র্‌ক্ষ, শ্রু, স্থা। 

অন্যদিকে,
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বাংলা ধাতু বা খাঁটি বাংলা ধাতু বলে।
যেমন:
আঁক্ + আ = আঁকা: কী সব আঁকাআঁকি করছ?
দেখ্ + আ = দেখা: জাদুঘর আমার কয়েকবার দেখা।
কর্ + অ = কর: তুমি কী কর?
হাস্ + ই = হাসি: তোমার হাসিটি খুব সুন্দর।

এরূপ- কাঁদ্, কিন্, খা, গড়্‌, ঘষ্‌, ধর্, পড়, বাঁধ্‌, বুঝ্‌, রাখ্‌, শুন্, থাক্।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
'বাঘ + আ = বাঘা' শব্দে 'আ' প্রত্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বৃহদার্থে
  2. সদৃশ অর্থে
  3. অবজ্ঞার্থে
  4. সমষ্টি অর্থে
সঠিক উত্তর:
সদৃশ অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সদৃশ অর্থে
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় (আ-প্রত্যয়):
• অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
• বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
• সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা। এরূপ: কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
• 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ-গোদা। এরূপ- রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা>লোনা।
• সমষ্টি অর্থে: বিশ + আ = বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা> বাইশে)।
• স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ + আ = চোখা, চাক + আ = চাকা।
• ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির + আ = হাজিরা, চাষ + আ = চাষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলা হয় কোনটিকে?
  1. প্রাতিপদিক
  2. নাম প্রকৃতি
  3. বিভক্তি
  4. ধাতু
সঠিক উত্তর:
ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু
ব্যাখ্যা

• কৃৎ-প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
- যেমন: চল (ধাতু)+ অন্ত চলন্ত, কৃ (ধাতু) তব্য কর্তব্য

- ধাতু কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।

বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা:
১. বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও
২. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: কাঁদ্+অন = কাঁদন, নাচ্+অন নাচন, দুল্+অনা দোলনা, খেল্+অনা = খেলনা। 

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যে- সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: ণী+ণক নৈ+অক নায়ক, গৈ+ণক গায়ক, √কৃ+অনীয় করণীয়, রক্ষ-অনীয় রক্ষণীয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোন শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়নি?
  1. আভাস
  2. আগমন
  3. অনুজ
  4. আসমুদ্র
সঠিক উত্তর:
অনুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ
ব্যাখ্যা

• উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নয়- অনুজ। 
এখানে কোনো উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি।

অন্যদিকে, 
'আ' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ-
• 'পর্যন্ত' অর্থে- আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র। 
• 'ঈষৎ' অর্থে- আরক্ত, আভাস। 
• 'বিপরীত' অর্থে- আদান, আগমন। 

---------------
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
- এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাস?
  1. রাজপুত্র
  2. গরুরগাড়ি
  3. খেয়াঘাট
  4. চাবাগান
সঠিক উত্তর:
গরুরগাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরুরগাড়ি
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।

যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'নয়ন পদ্মের ন্যায়' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয় 
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কৃর্‌ + অনীয় = করণীয়
  2. √শোচ্ + অনীয় = শোচনীয়
  3. √পাল + অনীয় = পালনীয়
  4. √বর্‌ + অনীয় = বরণীয়
সঠিক উত্তর:
√পাল + অনীয় = পালনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√পাল + অনীয় = পালনীয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয়: √পাল + অনীয় = পালনীয়।  

• কৃৎ প্রত্যয় -অনীয় (অনীয়র্):
যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কৃ+ অনীয় = করণীয়,
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ্ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
- √পালি + অনীয় = পালনীয়,
- √বৃ + অনীয় = বরণীয়। 

এরূপ- মাননীয়, পূজনীয়, পানীয়, গ্রহণীয়, রমণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
বাংলা উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. অনা
  2. রাম
  3. ভর
  4. গর 
সঠিক উত্তর:
গর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গর 
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গ নয় - গর। 
- 'গর' আরবি উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১.
'শিরোদেশ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শির + দেশ
  2. শিরঃ + দেশ
  3. শিরোঃ + দেশ
  4. শিরো + দেশ
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + দেশ
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধিের নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।

সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- অধঃ + গতি = অধোগতি, 
- মনঃ + গত = মনোগত,
- বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ,  
- সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত, 
- ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ, 
- শিরঃ + দেশ = শিরোদেশ, 
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,  
- শিরঃ + ধার্য = শিরোধার্য, 
- মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন, 
- মনঃ + নীত = মনোনীত, 
- অধঃ + বদন = অধোবদন, 
- সরঃ + বর = সরোবর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. সিংহপুরুষ
  2. পদ্মআঁখি
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. চন্দ্রমুখ
সঠিক উত্তর:
বিষাদসিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

অন্যদিকে,
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
বিদেশাগত ধাতু কোনটি?
  1. আঁকা
  2. বাঁধ 
  3. কাঁদ 
  4. আঁট
সঠিক উত্তর:
আঁট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁট
ব্যাখ্যা

• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
- যেমন: 
ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মাঙ্‌' থেকে আগত।

- এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।
যেমন 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

এখানে কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো:
আঁট, খাট্, চেঁচু, জম্, ঝুল্, টান, টুট্, ডর্, ফির, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্।

অন্যদিকে, 
আঁকা, বাঁধ, কাঁদ  বাংলা ধাতু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রতী + ইতি = প্রতীতি
  2. ক্ষিতী + ঈশ = ক্ষিতীশ
  3. শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র
  4. যোগি + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র
সঠিক উত্তর:
শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র। 

• স্বরসন্ধির নিয়ম:

প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।
বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

• সূত্র: ঈ + ই = ঈ:
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র,
- যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী+ ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫.
সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গটি নিচের কোন শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপকূল
  2. উপবন
  3. উপগ্রহ
  4. উপনয়ন
সঠিক উত্তর:
উপবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপবন
ব্যাখ্যা

• 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে -  উপদ্বীপ, উপবন। 
- ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে - উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ। 

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৬.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. সওদাগর
  2. ধোঁকাবাজ
  3. চলনসই
  4. কুসুমিত
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

প্রশ্নটি হওয়ার কথা ছিলো - বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি? সে অনুসারে, সঠিক উত্তর - কুসুমিত। 
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - সওদাগর; ধোঁকাবাজ; চলনসই।
প্রশ্নের অপশনে একাধিক সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
-----------------

কয়েকটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত,
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।

------------------
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের কিছু উদাহরণ হলো:
• ওয়ালা > আলা (হিন্দি): বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি + ওয়ালা = দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ + ওয়ালা = মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।

• ওয়ান>আন (হিন্দি): গাড়ি + আন = গাড়োয়ান, দার + আন = দারোয়ান।

• আনা>আনি (হিন্দি): মুনশি + আনা = মুনশিয়ানা, বিবি + আনা = বিবিআনা, হিন্দু + আনি = হিন্দুয়ানি।

• সা (হিন্দি): পানি + সা = পানসা> পানসে, এক + সা = একসা, কাল (কাল) + সা = কালসা>কালসে।

• গর> কর (ফারসি): কারি + গর = কারিগর, বাজি + কর = বাজিকর, সওদা + গর = সওদাগর।

• দার (ফারসি): তাঁবে + দার = তাঁবেদার, খবর + দার = খবরদার, বুটি + দার = বুটিদার, দেনা + দার = দেনাদার, চৌকি + দার = চৌকিদার, পাহারা + দার = পাহারাদার।

• বাজ (দক্ষ অর্থে-ফারসি): কলম + বাজ = কলমবাজ, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ , ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজ, গলা + বাজ + ই = গলাবাজি (বিশেষ্য)।

• বন্দি (বন্দ্-ফারসি): জবান + বন্দি = জবানবন্দি, সারি + বন্দি = সারিবন্দি , নজর + বন্দি = নজরবন্দি।

• 'সই' মতো অর্থে: জুত + সই = জুতসই, মানান + সই = মানানসই, চলন + সই = চলনসই, টেক + সই = টেকসই।

• 'পনা' মতো অর্থে: গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা, বেহায়া + পনা = বেহায়াপনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৭.
'জান্‌' কোন ধরনের ধাতু?
  1. সংস্কৃত ধাতু
  2. বিদেশাগত ধাতু
  3. নাম ধাতু 
  4. বাংলা ধাতু
সঠিক উত্তর:
বাংলা ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ধাতু
ব্যাখ্যা

• মৌলিক ধাতু:
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
(ক) বাংলা, (খ) সংস্কৃত এবং (গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন- কাট্, কাঁদ, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন: কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
যেমন:
ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মাঙ্‌' থেকে আগত।

- এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।
যেমন- 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৮.
'টীকাভাষ্য' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,
- জন ও মানব = জনমানব,
- টীকা ও ভাষ্য = টীকাভাষ্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- পথের রাজা = রাজপথ,
- মনকে পাওয়া = মনপাওয়া ইত্যাদি।

• দ্বিগু সমাস:
- সমাহার বা সমষ্টি বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয় ৷
যেমন:
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- ত্রি লোকের সমাহার = ত্রিলোক।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন,
- আয়কর = আয়ের উপর কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
বিদেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পরিবর্তন
  2. বিফল
  3. বেকার
  4. নিরাশ্রয়
সঠিক উত্তর:
বেকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকার
ব্যাখ্যা

• 'বে' ফারসি উপসর্গ যোগে 'না' অর্থে গঠিত শব্দ: বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার। 

অন্যদিকে, 
• 'বি' তৎসম উপসর্গ যোগে 'অভাব' অর্থে গঠিত শব্দ- বিনিদ্র, বিবর্ণ, বিশৃঙ্খল, বিফল। 
• 'পরি' তৎসম উপসর্গ যোগে 'বিশেষ রূপ' অর্থে গঠিত শব্দ- পরিপক্ক, পরিপূর্ণ, পরিবর্তন। 
• 'নির' তৎসম উপসর্গ যোগে 'অভাব' অর্থে গঠিত শব্দ- নিরব, নির্জীব, নিরহঙ্কার, নিরাশ্রয়, নির্ধন। 

---------------------------
• বিদেশি উপসর্গ:
- কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে। দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় 'বেমালুম' মিশে গিয়েছে। 'বেমালুম' শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু/হিন্দি উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২০.
'কথোপকথন' শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. ব্যঞ্জন সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):  
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তরায়। 

• অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- নব + উঢ়া = নবোঢ়া;
- সর্ব+ ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব ইত্যাদি।

• আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- যথা + উচিত = যথোচিত;
- কথা + উপকথন = কথোপকথন;
- যথা + উপযুক্ত = যথোপযুক্ত ইত্যাদি।

• আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- গঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি;
- মহা + উর্মি = মহোের্মি;
- মহা + ঊর্ধ্ব = মহোর্ধ্ব ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
নিচের কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বাকপটু
  2. পাঁচকম
  3. খাঁচাছাড়া
  4. ত্রিলোক
সঠিক উত্তর:
পাঁচকম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচকম
ব্যাখ্যা

• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- বাকে পটু = বাকপটু; সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। 
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। 
- ত্রি লোকের সমাহার = ত্রিলোক; দ্বিগু সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. গবাক্ষ
  2. শুদ্ধোদন
  3. কুলটা 
  4. একাদশ
সঠিক উত্তর:
একাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাদশ
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়মে সাধিত হয় না বা সূত্র অনুসরণ করে না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবাক্ষ হওয়ার কথা)।
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, 
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩.
নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গৌরব
  2. জৈন
  3. সৌর
  4. পার্থিব
সঠিক উত্তর:
সৌর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয়: সূর্য + ষ্ণ = সৌর (সাধারণ নিয়মে- সুর + ষ্ণ (অ)=সৌর)।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় (ষ্ণ (অ) প্রত্যয়):
• অপত্য অর্থে: মনু + ষ্ণ =মানব, যদু + ষ্ণ = যাদব।

• উপাসক অর্থে: শিব + ষ্ণ = শৈব, জিন + ষ্ণ = জৈন। এরূপ: শক্তি-শাক্ত, বুদ্ধ-বৌদ্ধ, বিষ্ণু-বৈষ্ণব।

• ভাব অর্থে: শিশু + ষ্ণ = শৈশব, গুরু + ষ্ণ = গৌরব, কিশোর + ষ্ণ = কৈশোর।

• সম্পর্ক বোঝাতে: পৃথিবী + ষ্ণ = পার্থিব, দেব + ষ্ণ = দৈব, চিত্র (একটি নক্ষত্রের নাম)+ ষ্ণ = চৈত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৪.
'অপহরণ' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ 
  2. সংস্কৃত উপসর্গ 
  3. ফারসি উপসর্গ 
  4. আরবি উপসর্গ 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত উপসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত উপসর্গ 
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

'অপ' সংস্কৃত উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ ।
- নিকৃষ্ট অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন ।
- বিকৃত অর্থে- অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৫.
'লালপেড়ে' কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
  1. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. পদলোপী বহুব্রীহি
  3. সমানাধিকার বহুব্রীহি
  4. ব্যতিহার বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকার বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকার বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস: 
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

 • সমানাধিকার বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- এক গো যার = একগুঁয়ে,
- লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

অন্যদিকে, 
 • ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন: গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

 • পদলোপী বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদতি,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

 • ব্যতিহার বহুব্রীহি: পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন:
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

২৬.
'উচ্ছৃঙ্খল' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উধ্‌ + শৃঙ্খল
  2. উত + শৃঙ্খল
  3. উদ্‌ + শৃঙ্খল
  4. উৎ + শৃঙ্খল
সঠিক উত্তর:
উৎ + শৃঙ্খল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + শৃঙ্খল
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি নিয়মে গঠিত সন্ধি:
ৎ বা দ্ এবং পরে হ থাকলে দুইয়ে মিলে দ্ধ হয় এবং শ্ থাকলে দুইয়ে মিলে চ্ছ হয়।
যেমন:
- উৎ + হার = উদ্ধার,
- উৎ + হৃত = উদ্ধৃত,
- পদ্ + হতি = পদ্ধতি,
- তদ্ + হিত = তদ্ধিত,
- উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস,
- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭.
'অকুতোভয়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অকুতো + ভয়
  2. অকুত + ভয়
  3. অকুতঃ + ভয়
  4. অকুত্ত + ভয়
সঠিক উত্তর:
অকুতঃ + ভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকুতঃ + ভয়
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।

যেমন:
- ততঃ + অধিক = ততোধিক। 

এরূপ কিছু শব্দ হলো:
- অকুতঃ + ভয় = অকুতোভয়। 
- মনঃ + ভাব = মনোভাব।
- ইতঃ + মধ্যে = ইতোমধ্যে। 
- সদ্যঃ + মুক্ত = সদ্যোমুক্ত।
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ।
- মনঃ + রম = মনোরম। 
- শিরঃ + রত্ন = শিরোরত্ন।
- যশঃ + লাভ = যশোলাভ। 
- যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা।
- পুরঃ + হিত = পুরোহিত। 
- মনঃ + হর = মনোহর।
- বয়ঃ + অধিক = বয়োধিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।