পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২ সুরা নুর, কিতাবুল ইলম। [উৎস: লেকচার-১, ২(পর্ব - ২) ও সংশ্লিষ্ট বই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
পবিত্র কুরআনের কোন সুরা ‘সুরা’ শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে?
  1. সুরা নুর
  2. সুরা ফাতহ
  3. সুরা হুজরাত 
  4. সুরা সিজদাহ
ব্যাখ্যা
সুরার শুরুতেই আল্লাহ তাআলা বললেন: “এটি একটি সুরা যা আমি নাযিল করেছি।” অথচ সকল সুরাই আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে নাযিলকৃত। এখানে বিশেষ করে উল্লেখ করার কারণ হলো যে, এ সুরার বিধি— বিধানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যা অবশ্য পালনীয়।

সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ১ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)   
.
অবিবাহিতের ব্যভিচারের শাস্তি হচ্ছে— 
  1. ১০০ টি বেত্রাঘাত
  2. ১০০ টি বেত্রাঘাত ও দেশান্তর
  3. পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা
  4. ৮০ টি বেত্রাঘাত
ব্যাখ্যা

সুরা নুরের আয়াত-২ নাযিল হলে রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন: তোমরা আমার কাছ থেকে (ব্যভিচারী নারী-পুরুষের শাস্তি) শিখে নাও, আল্লাহ তাআলা তাদের স্থায়ী শাস্তি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তা হলো—  অবিবাহিত পুরুষ ও নারীর জন্য একশত বেত্রাঘাত ও এক বছর দেশান্তর আর বিবাহিত হলে একশত বেত্রাঘাত ও রজম। (সহিহ মুসলিম হা: ১৬৯০)

সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ২ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) 

.
ইসলামে দাসপ্রথার বিধান কী ?
  1. একটি ঘৃণ্যতম কাজ
  2. সামাজিকভাবে কোন অপরাধ নয়
  3. দাসপ্রথার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে
  4. দাসপ্রথার প্রতি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে 
ব্যাখ্যা

তোমাদের অধীনে যে সকল দাস-দাসী রয়েছে তারা যদি তোমাদের সাথে চুক্তি করতে চায় এ মর্মে যে, কিছু অর্থ দিয়ে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিবে তাহলে তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হও। কেননা ইসলাম চায় দাসপ্রথা উচ্ছেদ হয়ে যাক

সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ৩২ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) 

.
حَرَجٌ (হারাজুন) শব্দের অর্থ কী?
  1. বধির
  2. অন্ধ
  3. দোষ
  4. গুণ
ব্যাখ্যা

হযরত আতা (র) বলেন, সুরা নুর এর ৬১ নং আয়াতে যে দোষ না হওয়ার কথা দ্বারা অন্ধ ও খোঁড়াদের জিহাদে যোগদান না করা বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের লোক যদি জিহাদে গমন না করে তবে তাদের শরিয়ত সম্মত ওজর থাকার কারণে তাদের কোন অপরাধ/দোষ হবে না।

সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা নুর এর ৬১ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) 

.
সুরা নুরে হযরত আয়েশা (রা) সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াতের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১০টি                                                                 
  2. ১৩টি
  3. ৭টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা

افك বা মিথ্যা অপবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সূরা নুরের ১১-২০ নং আয়াত পর্যন্ত নাযিল হয় এবং প্রমাণিত হয় যে, আয়েশা (রা) সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ। (সহিহ বুখারি হা: ৪৭৫০, সহিহ মুসলিম হা: ২৭৭০)

সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ১১-২০ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)  

.
‘নুরুন আলা নুর’ – এর অর্থ কী?
  1. দ্বিগুণ আলো
  2. আলোর উপর আলো
  3. অনিঃশেষ আলো
  4. আলোহীন অন্ধকার
ব্যাখ্যা

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) রাত্রে তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতেন, তখন তিনি বলতেন: “হে আল্লাহ! আপনার জন্যেই সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমানসমূহ ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু রয়েছে সবগুলোরই জ্যোতি। (এ হাদিসটি সহীহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)
হযরত ইবনে মাসউদ (রা) বলেছেন: “তোমাদের প্রতিপালকের নিকট রাত ও দিন নেই। তাঁর চেহারার জ্যেতিতেই তাঁর আরশ জ্যোতির্ময়।”

সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা নুর এর ৩৫ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) 

.
চরিত্রবান-চরিত্রহীনদের মধ্যে বিয়ে— 
  1. হারাম
  2. মাকরুহ                  
  3. বৈধ 
  4. মুবাহ
ব্যাখ্যা
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক উম্মে মাহমূল নাম্নী একটি অসতী মহিলাকে বিয়ে করার জন্যে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা) সুরা নুর এর ৩ নং আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। আর একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, মহিলাটিকে বিয়ে করার জন্যে লোকটি রাসুলুল্লাহ (সা)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলে এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়)

সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা নুর এর ৩ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) 
.
সুরা নুরের ৩৫ নং আয়াতে 'নুর' শব্দটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
  1. নির্দেশনার উৎস
  2. জ্যোতির প্রতীক
  3. নবুওতের আলো
  4. দৃশ্যমান আলো
ব্যাখ্যা
আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের নুর। তাঁর নুরের উপমা একটি তাকের মতই। তাতে রয়েছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি রয়েছে একটি চিমনির মধ্যে। চিমনিটি উজ্জ্বল তারকার মতই। প্রদীপটি বরকতময় যাইতূন গাছের তেল দ্বারা জ্বালানো হয়, যা পূর্ব দিকেরও নয় এবং পশ্চিম দিকেরও নয়। এর তেল যেন আলো বিকিরণ করে, যদিও তাতে আগুন স্পর্শ না করে। নুরের উপর নুর। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করেন তাঁর নূরের দিকে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমাসমূহ উপস্থাপন করেন। আর আল্লাহ প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।

সূত্র: আহসানুল বায়ান (সুরা নুর এর ৩৫ নং আয়াতের অনুবাদ দ্রষ্টব্য)
.
ইফকের ঘটনায় জড়িত ছিল কে?
  1. হিমনাহ                                                             
  2. হাসসান                                                               
  3. আবদুল্লাহ ইবনে উবাই 
  4. এদের সবাই
ব্যাখ্যা
হযরত মিসতাহ বিন আসাসা (রা), হযরত হিমনাহ (রা) ও হযরত হাসসান (রা) ৩জনই সাহাবি ছিলেন এবং তারা ইফকের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। আর আব্দুল্লাহ বিন উবাই এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী।

সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা নুর এর ১৫ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) 

১০.
সুরা নুর এর মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. রিজিকের বণ্টন
  2. যুদ্ধের বিধান
  3. হদ্দে কযফ ও হদ্দে যিনা
  4. সামাজিক শালীনতা ও পবিত্রতা
ব্যাখ্যা

সুরা নুর সামাজিক বিধি-বিধানসম্বলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরা। সুরাটিতে ব্যভিচারের শাস্তি, লিআনের বিধান-পদ্ধতি, ইফকের ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি ও মুমিনদের কর্তব্য, শয়তানের অনুসরণ থেকে সতর্কতা, অন্যের বাড়িতে প্রবেশের নিয়ম-বিধান, মুমিন নর-নারীর দৃষ্টি সংযতকরণ ও সতিত্ব সংরক্ষণ, মহিলাদের পর্দার বিধান ইত্যাদি আলোচনা করা হয়েছে। সুরার শেষের দিকে ঐসব মুমিনদের আলোচনা করা হয়েছে, যারা শত ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয় না ও তাদের বৈশিষ্ট্য, মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা এবং সমষ্টিগত মজলিসের আদব তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ১ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)

১১.
‘আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আলো’ – এটি কোন আয়াতে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২৪:৩৫
  2. ২৪:৫৫
  3. ৪৮:১৮
  4. ৫:১০
ব্যাখ্যা

আল্লাহ তাআলা স্বয়ং আকামণ্ডলী ও জমিনের নুর বা আলো। এটি ইন্দ্রিয়গত ও অর্থগত উভয় দিক থেকে। তা হলো আল্লাহ তাআলা সত্ত্বাগত নুর, তাঁর হিযাব নুর। তাঁর হিযাব যদি খুলে দেওয়া হয়, তাহলে সৃষ্টির যে পর্যন্ত তাঁর জ্যোতি যাবে ততদূর পুড়ে যাবে। (সহিহ মুসলিম হা: ৭৯)

অর্থগত হলো—  আল্লাহ তাআলার কিতাব নুর, শরিয়ত নুর, মুমিন বান্দাদের অন্তরের ইমানও নুর। যদি মুমিনের অন্তরে এ নুর না থাকত, তাহলে তাগুতের অন্ধকার তাদেরকে আচ্ছাদিত করে নিত। এতে বুঝা যায়, আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব আছে, যদি অস্তিত্ব না— ই থাকত তাহলে পৃথিবী ও আকাশে আলো থাকত না, আর পৃথিবী ও আকাশের কেউই সুপথপ্রাপ্ত হতো না।

সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ৩৫ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) 

১২.
হদ্দে কযফ কখন বাস্তবায়ন করা যায় না?
  1. হদ্দে যিনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
  2. লিআনের বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
  3. বাদি ৪ জন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারলে
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা
হদ্দে কযফ তখনই বাস্তবায়ন করা যায়, যখন-
১। যিনা প্রমাণিত হয় না;
২। স্বামী-স্ত্রী লিআন করতে চায় না;
৩। বাদি যদি ৪জনের কম স্বাক্ষী উপস্থিত করে।
সুতরাং উপরোক্ত ৩টি ক্ষেত্রেই হদ্দে কযফ (অপবাদের শাস্তি) বাস্তবায়ন করা যায় না। 
১৩.
বুহতানুন আজিম’ শব্দের অর্থ কী?
  1. মিথ্যা অপবাদ
  2. গুরুতর অপবাদ
  3. অযৌক্তিক অপবাদ
  4. যে অপবাদে সম্মান বিনষ্ট হয় না
ব্যাখ্যা
আর তোমরা যখন এটা শুনলে, তখন তোমরা কেন বললে না যে, ‘এ নিয়ে কথা বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি অতি পবিত্র মহান, এটা এক গুরুতর অপবাদ’।


সূত্র: আহসানুল বায়ান (সুরা নুর এর ১৬ নং আয়াতের অনুবাদ দ্রষ্টব্য)
১৪.
আল্লাহ তায়ালা যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে কী প্রদান করেন?
  1. সুস্থতা
  2. ধন-সম্পদ
  3. দ্বীনের জ্ঞান
  4. নেককার সন্তান
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ১৮৯ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

১৫.
কোন লোকের জন্য আসমান ও জমিনের সবাই আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করে? 
  1. রাসুলে কারিম (সা) এর জন্য
  2. ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য
  3. শহিদদের জন্য
  4. আলিমদের জন্য
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন,ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য আসমান ও জমিনের সবাই আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২০১-২০২ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

১৬.
নবিগণ উত্তরাধিকারদের জন্য কী সম্পদ রেখে গিয়েছেন?  
  1. আসমানি কিতাব
  2. নবি-রাসুলদের সুন্নাহ
  3. জ্ঞান
  4. ফারায়েজ
ব্যাখ্যা

নবিদের উত্তরাধিকার হিসেবে আলিমদের রেখে গিয়েছেন এবং মিরাস বা উত্তরাধিকারদের জন্য সম্পদ হিসেবে ইলম বা জ্ঞান কে রেখে গিয়েছেন।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২০১-২০২ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

১৭.
নিচের কোন ব্যক্তি মুজাদ্দিদ নন?
  1. ইমাম মুহাম্মদ 
  2. আবু বকর ছিদ্দিক্বী ফুরফুরাবী
  3. আবু হানিফা
  4. ইমাম শাফেয়ি
ব্যাখ্যা

প্রতি এক শতাব্দিতে একজন মুজাদ্দিদ বা ধর্ম সংস্কারক আসেন পৃথিবীতে। মুজাদ্দিদদের নামের তালিকা নিম্নরূপ:
উমর ইবনে আবদুল আজিজ (৬০-১০১ হি.) আবু হানিফা (৮০-১৫০ হি.) ইমাম শাফেয়ি (১৫০-২০৪ হি.) আহমদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হি.) আবুল হাসান আল আশআরী (২৭০-৩২৪ হি.) সালাহউদ্দীন আইয়ুবি (৩২৭-৪০২ হি.) ইমাম গাজ্জালি (৪৫০-৫০৫ হি.) ইবনে হাযম (৪৭০-৫৯৭ হি.) ফখরুদ্দিন আল রাযি (৫৪৩-৬০৬ হি.) তৈমুর লং (৮শত হি.) দ্বিতীয় মুহাম্মদ (৯শত হি.) ইবনে হাজার আসকালানি (৭৭৩-৮৫২ হি.) জালালুদ্দিন সুয়ুতি (৮৪৯-৯১১ হি.) আহমেদ সিরহিন্দি (৯৭১-১০৩৪ হি.) শাহ ওয়ালিউল্লাহ (১১১৪-৭৬) আওরঙ্গজেব আলমগির (১১শত হি.) আহমদ রেজা খান বেরলভি (১২৭২-১৩৪০ হি.) আশরাফ আলি থানভি (১২৮০–১৩৬২ হি.) ফতেহ আলি ওয়াসি (১২৩৭-১৩০৩ হি.) আবু বকর ছিদ্দিক্বী ফুরফুরাবী (১২৬১-১৩৫৮ হি.)। উল্লেখ্য, মুজাদ্দিদদের নামের তালিকায় প্রচুর মতভেদ রয়েছে

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২৯ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

১৮.
পূর্ববর্তী লোকেরা কী কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে? 
  1. ধারাবাহিক ওয়াদা ভঙ্গের কারণে
  2. আমানতের খেয়ানত করার কারণে
  3. পবিত্র কুরআন নিয়ে বাদানুবাদ করার কারণে
  4. মুনাফেকির কারণে
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, পূর্ববর্তী লোকেরা পবিত্র কুরআন নিয়ে বাদানুবাদ করার কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২০ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

১৯.
নিচের কোন গোত্রের ভাষায় পবিত্র কুরআন  নাযিল হয়নি? 
  1. বনু তামিম
  2. হাওয়াযেন
  3. হুজাইল
  4. বনু আসআদ
ব্যাখ্যা

পবিত্র কুরআন ৭টি গোত্রের ভাষায় নাযিল হয়েছে। গোত্রগুলো হলো- কুরাইশ, তাই, হাওয়াযেন, আহলে ইয়ামান, সাকিফ, হুজাইল ও বনি তামিম।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২১ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

২০.
ইলম মূলত কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ২ প্রকার
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) এর হাদিস অনুসারে ইলম মূলত ৩ প্রকার: (১) আয়াতে মুহকামার ইলম, (২) সুন্নাতে কায়েমার ইলম, (৩) ফরিজায়ে আদেলার ইলম। এর বাহিরে যত ইলম আছে, তা অতিরিক্ত।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২২ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

২১.
না জেনে ফতোয়া দেওয়া কীসের শামিল?
  1. বিশ্বাসঘাতকতার শামিল
  2. মুনাফেকির শামিল
  3. নির্বুদ্ধিতার শামিল
  4. অহংকারের শামিল
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) বলেছেন, না জেনে ফতোয়া দেওয়া বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। 

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২৪ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

২২.
কেবলমাত্র কারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে ভয় করে?
  1. মুত্তাকিরা
  2. সাধকরা
  3. আলেমরা
  4. শহিদগণ
ব্যাখ্যা

إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
(সুরা ফাতির ৩৫:২৮)
বাংলা অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা আলিম, তারাই আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করে।”

রাসুলে কারিম (সা) ও একই কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২০১-২০২ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

২৩.
রাসুলে কারিম (সা) হাদিসে কাদেরকে সবচেয়ে বিজ্ঞ আলিম বলে সাব্যস্ত করেছেন? 
  1. মক্কার আলিমদের
  2. মদিনার আলিমদের
  3. সাহাবিদের
  4. শেষ যুগের আলিমদের
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) তার হাদিসে মদিনার আলিমদেরকে সবচেয়ে বিজ্ঞ আলিম বলেছেন।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২৮ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

২৪.
হাদিস অনুসারে মানুষের মৃত্যুর পরে কোন কাজটির নেকি চলমান থাকে না?
  1. নেক সন্তান 
  2. মুসাফিরখানা নির্মাণ
  3. মসজিদ নির্মাণ
  4. ইলমুল ফারায়েজ শিক্ষাদান
ব্যাখ্যা

মানুষের মৃত্যুর পরে কোন কাজগুলোর নেকি চলমান থাকে: (১) ইলম বা জ্ঞান- যা সে শিখেছে এবং প্রচার করেছে; (২) নেক সন্তান- যাকে সে দুনিয়ায় রেখে গেছে; (৩) কুরআন- যা উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে গেছে; (৪) মসজিদ যা সে নির্মাণ করে গেছে; (৫) মুসাফিরখানা- যা সে পথিক-মুসাফিরদের জন্য নির্মাণ করে গেছে; (৬) কূপ বা ঝর্ণা- যা সে খনন করে গেছে মানুষের পানি ব্যবহার করার জন্য এবং (৭) দান-খয়রাত- যা সুস্থ ও জীবিতবস্থায় তার ধন-সম্পদ থেকে দান করে গেছে।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২৩৬ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

২৫.
শেষ জামানায় কীভাবে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে?
  1. ভুল ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে
  2. আলিমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে
  3. নবি-রাসুলগণের উপস্থিতি না থাকার কারণে
  4. অসংখ্য মতভেদ সৃষ্টি হবার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) তার হাদিসে জানিয়েছেন, শেষ জামানায় আলিমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ১৯৫ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

২৬.
কোন দুটি বৈশিষ্ট্য একজন মুনাফিকের মধ্যে একত্র হতে পারে না?
  1. সুশাসন ও মানবাধিকার
  2. জ্ঞান ও বিজ্ঞান
  3. নৈতিকতা ও দ্বীনের সঠিক জ্ঞান
  4. বিনয় ও নিয়ামানুবর্তিতা
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, দুটি স্বভাব একজন মুনাফিকের মধ্যে কখনো একত্র হতে পারে না। তা হলো- নৈতিকতা ও দ্বীনের সঠিক জ্ঞান।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২০৭ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

২৭.
কোনটি বর্ণনার ক্ষেত্রে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে?
  1. ইজমা ও কিয়াসের ক্ষেত্রে
  2. রাসুলে কারিম (সা) এর হাদিসের ক্ষেত্রে
  3. কুরআনের তাবিলের ক্ষেত্রে
  4. ইসলামের ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ইরশাদ করেছেন, যে তার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তার আবাসস্থল জাহান্নাম।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২১৬ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)


উল্লেখ্য যে, কুরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও রাসুলে কারিম (সা) তাদের শাস্তি বর্ণনা করেছেন, যারা নিজের মনমতো ব্যাখ্যা করে। 

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২১৭ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)

২৮.
পবিত্র কুরআনের একটি অংশ অপর অংশের কী হিসেবে নাযিল হয়েছে? 
  1. নাসেখ হিসেবে
  2. মানসুখ হিসেবে
  3. বিপরীতার্থক হিসেবে
  4. সমার্থক হিসেবে
ব্যাখ্যা

রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, পবিত্র কুরআনের এক অংশ অপর অংশের  সমার্থক হিসেবে নাযিল হয়েছে।  অথচ, পূর্ববর্তী লোকেরা পবিত্র কুরআনের এক অংশকে অপর অংশের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর কারণে কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২০ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)