ব্যাখ্যা
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ১ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন
সুরা নুরের আয়াত-২ নাযিল হলে রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন: তোমরা আমার কাছ থেকে (ব্যভিচারী নারী-পুরুষের শাস্তি) শিখে নাও, আল্লাহ তাআলা তাদের স্থায়ী শাস্তি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তা হলো— অবিবাহিত পুরুষ ও নারীর জন্য একশত বেত্রাঘাত ও এক বছর দেশান্তর আর বিবাহিত হলে একশত বেত্রাঘাত ও রজম। (সহিহ মুসলিম হা: ১৬৯০)
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ২ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
তোমাদের অধীনে যে সকল দাস-দাসী রয়েছে তারা যদি তোমাদের সাথে চুক্তি করতে চায় এ মর্মে যে, কিছু অর্থ দিয়ে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিবে তাহলে তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হও। কেননা ইসলাম চায় দাসপ্রথা উচ্ছেদ হয়ে যাক
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ৩২ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
হযরত আতা (র) বলেন, সুরা নুর এর ৬১ নং আয়াতে যে দোষ না হওয়ার কথা দ্বারা অন্ধ ও খোঁড়াদের জিহাদে যোগদান না করা বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের লোক যদি জিহাদে গমন না করে তবে তাদের শরিয়ত সম্মত ওজর থাকার কারণে তাদের কোন অপরাধ/দোষ হবে না।
সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা নুর এর ৬১ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
افك বা মিথ্যা অপবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সূরা নুরের ১১-২০ নং আয়াত পর্যন্ত নাযিল হয় এবং প্রমাণিত হয় যে, আয়েশা (রা) সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ। (সহিহ বুখারি হা: ৪৭৫০, সহিহ মুসলিম হা: ২৭৭০)
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ১১-২০ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) রাত্রে তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতেন, তখন তিনি বলতেন: “হে আল্লাহ! আপনার জন্যেই সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমানসমূহ ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু রয়েছে সবগুলোরই জ্যোতি। (এ হাদিসটি সহীহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)
হযরত ইবনে মাসউদ (রা) বলেছেন: “তোমাদের প্রতিপালকের নিকট রাত ও দিন নেই। তাঁর চেহারার জ্যেতিতেই তাঁর আরশ জ্যোতির্ময়।”
সূত্র: তাফসির ইবনে কাসির (সুরা নুর এর ৩৫ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
সুরা নুর সামাজিক বিধি-বিধানসম্বলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরা। সুরাটিতে ব্যভিচারের শাস্তি, লিআনের বিধান-পদ্ধতি, ইফকের ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি ও মুমিনদের কর্তব্য, শয়তানের অনুসরণ থেকে সতর্কতা, অন্যের বাড়িতে প্রবেশের নিয়ম-বিধান, মুমিন নর-নারীর দৃষ্টি সংযতকরণ ও সতিত্ব সংরক্ষণ, মহিলাদের পর্দার বিধান ইত্যাদি আলোচনা করা হয়েছে। সুরার শেষের দিকে ঐসব মুমিনদের আলোচনা করা হয়েছে, যারা শত ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয় না ও তাদের বৈশিষ্ট্য, মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা এবং সমষ্টিগত মজলিসের আদব তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ১ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
আল্লাহ তাআলা স্বয়ং আকামণ্ডলী ও জমিনের নুর বা আলো। এটি ইন্দ্রিয়গত ও অর্থগত উভয় দিক থেকে। তা হলো আল্লাহ তাআলা সত্ত্বাগত নুর, তাঁর হিযাব নুর। তাঁর হিযাব যদি খুলে দেওয়া হয়, তাহলে সৃষ্টির যে পর্যন্ত তাঁর জ্যোতি যাবে ততদূর পুড়ে যাবে। (সহিহ মুসলিম হা: ৭৯)
অর্থগত হলো— আল্লাহ তাআলার কিতাব নুর, শরিয়ত নুর, মুমিন বান্দাদের অন্তরের ইমানও নুর। যদি মুমিনের অন্তরে এ নুর না থাকত, তাহলে তাগুতের অন্ধকার তাদেরকে আচ্ছাদিত করে নিত। এতে বুঝা যায়, আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব আছে, যদি অস্তিত্ব না— ই থাকত তাহলে পৃথিবী ও আকাশে আলো থাকত না, আর পৃথিবী ও আকাশের কেউই সুপথপ্রাপ্ত হতো না।
সূত্র: তাফসির ফাতহুল মাজিদ (সুরা নুর এর ৩৫ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ১৮৯ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন,ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য আসমান ও জমিনের সবাই আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২০১-২০২ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
নবিদের উত্তরাধিকার হিসেবে আলিমদের রেখে গিয়েছেন এবং মিরাস বা উত্তরাধিকারদের জন্য সম্পদ হিসেবে ইলম বা জ্ঞান কে রেখে গিয়েছেন।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২০১-২০২ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
প্রতি এক শতাব্দিতে একজন মুজাদ্দিদ বা ধর্ম সংস্কারক আসেন পৃথিবীতে। মুজাদ্দিদদের নামের তালিকা নিম্নরূপ:
উমর ইবনে আবদুল আজিজ (৬০-১০১ হি.) আবু হানিফা (৮০-১৫০ হি.) ইমাম শাফেয়ি (১৫০-২০৪ হি.) আহমদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হি.) আবুল হাসান আল আশআরী (২৭০-৩২৪ হি.) সালাহউদ্দীন আইয়ুবি (৩২৭-৪০২ হি.) ইমাম গাজ্জালি (৪৫০-৫০৫ হি.) ইবনে হাযম (৪৭০-৫৯৭ হি.) ফখরুদ্দিন আল রাযি (৫৪৩-৬০৬ হি.) তৈমুর লং (৮শত হি.) দ্বিতীয় মুহাম্মদ (৯শত হি.) ইবনে হাজার আসকালানি (৭৭৩-৮৫২ হি.) জালালুদ্দিন সুয়ুতি (৮৪৯-৯১১ হি.) আহমেদ সিরহিন্দি (৯৭১-১০৩৪ হি.) শাহ ওয়ালিউল্লাহ (১১১৪-৭৬) আওরঙ্গজেব আলমগির (১১শত হি.) আহমদ রেজা খান বেরলভি (১২৭২-১৩৪০ হি.) আশরাফ আলি থানভি (১২৮০–১৩৬২ হি.) ফতেহ আলি ওয়াসি (১২৩৭-১৩০৩ হি.) আবু বকর ছিদ্দিক্বী ফুরফুরাবী (১২৬১-১৩৫৮ হি.)। উল্লেখ্য, মুজাদ্দিদদের নামের তালিকায় প্রচুর মতভেদ রয়েছে।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২৯ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, পূর্ববর্তী লোকেরা পবিত্র কুরআন নিয়ে বাদানুবাদ করার কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২০ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
পবিত্র কুরআন ৭টি গোত্রের ভাষায় নাযিল হয়েছে। গোত্রগুলো হলো- কুরাইশ, তাই, হাওয়াযেন, আহলে ইয়ামান, সাকিফ, হুজাইল ও বনি তামিম।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২১ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) এর হাদিস অনুসারে ইলম মূলত ৩ প্রকার: (১) আয়াতে মুহকামার ইলম, (২) সুন্নাতে কায়েমার ইলম, (৩) ফরিজায়ে আদেলার ইলম। এর বাহিরে যত ইলম আছে, তা অতিরিক্ত।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২২ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) বলেছেন, না জেনে ফতোয়া দেওয়া বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২৪ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
(সুরা ফাতির ৩৫:২৮)
বাংলা অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা আলিম, তারাই আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করে।”
রাসুলে কারিম (সা) ও একই কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২০১-২০২ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) তার হাদিসে মদিনার আলিমদেরকে সবচেয়ে বিজ্ঞ আলিম বলেছেন।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২৮ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
মানুষের মৃত্যুর পরে কোন কাজগুলোর নেকি চলমান থাকে: (১) ইলম বা জ্ঞান- যা সে শিখেছে এবং প্রচার করেছে; (২) নেক সন্তান- যাকে সে দুনিয়ায় রেখে গেছে; (৩) কুরআন- যা উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে গেছে; (৪) মসজিদ যা সে নির্মাণ করে গেছে; (৫) মুসাফিরখানা- যা সে পথিক-মুসাফিরদের জন্য নির্মাণ করে গেছে; (৬) কূপ বা ঝর্ণা- যা সে খনন করে গেছে মানুষের পানি ব্যবহার করার জন্য এবং (৭) দান-খয়রাত- যা সুস্থ ও জীবিতবস্থায় তার ধন-সম্পদ থেকে দান করে গেছে।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২৩৬ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) তার হাদিসে জানিয়েছেন, শেষ জামানায় আলিমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ১৯৫ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, দুটি স্বভাব একজন মুনাফিকের মধ্যে কখনো একত্র হতে পারে না। তা হলো- নৈতিকতা ও দ্বীনের সঠিক জ্ঞান।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২০৭ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ইরশাদ করেছেন, যে তার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তার আবাসস্থল জাহান্নাম।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২১৬ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
উল্লেখ্য যে, কুরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও রাসুলে কারিম (সা) তাদের শাস্তি বর্ণনা করেছেন, যারা নিজের মনমতো ব্যাখ্যা করে।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২১৭ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)
রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেছেন, পবিত্র কুরআনের এক অংশ অপর অংশের সমার্থক হিসেবে নাযিল হয়েছে। অথচ, পূর্ববর্তী লোকেরা পবিত্র কুরআনের এক অংশকে অপর অংশের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর কারণে কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
সূত্র: মিশকাতুল মাসাবিহ (কিতাবুল ইলম এর ২২০ নং হাদিস দ্রষ্টব্য)