পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
বিষয়: বাংলাদেশ বিষয়াবলি -------------------- টপিক: i) বাংলাদেশের ইতিহাস: পালবংশ, সেন বংশ, মৌর্যবংশ, সুলতানি আমল, নবাবী আমল, বৃটিশ আমল। ii) বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭ - ৭৫) : ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট, পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ) iii) বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য পদ অর্জন। iv) জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রম। [নম্বর কাভার - ৬]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. অশোক
  2. বিন্দুসার
  3. চন্দ্রগুপ্ত  
  4. বৃহদ্রথ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত  
ব্যাখ্যা

- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।  

মৌর্য সাম্রাজ্য:
- মৌর্য সাম্রাজ্যই ভারতের ইতিহাসে প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে ব্যাবিলনে আলেকজান্ডারের মৃত্যু ঘটলে তাঁর অধিকৃত ভারতীয় অঞ্চলে গ্রিকদের মধ্যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং বিরোধ দেখা দেয়।
- এ সময়ে মগধে নন্দবংশীয় সম্রাট ধননন্দ রাজত্ব করছিলেন।
- তিনি মোটেও জনপ্রিয় ছিলেন না।
- এ অবস্থায় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য মগধের সিংহাসন দখল করেন এবং উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে গ্রিকদের বিতাড়িত করে ভারতে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য ইতিহাসে মৌর্য সাম্রাজ্য নামে বিখ্যাত।
- মৌর্য সম্রাটরা বহু-বিভক্ত ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এ বংশের দুজন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও অশোক বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব কবে ও কোথায় উত্থাপিত হয়?
  1. ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে
  2. ১৯৩৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, দিল্লিতে
  3. ১৯৪৬ সালের ৯ এপ্রিল, কলকাতায়
  4. ১৯৪৭ সালের ৩ জুন, করাচিতে
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে
ব্যাখ্যা

- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পাকিস্তান প্রস্তাব নামেও পরিচিত।

লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন। জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না। তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাকালে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন —
  1. অধ্যাপক এ.এস.এম. নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
  4. হাসান ইকবাল
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ: 
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ। 
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র। 
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ কোনটি?
  1. ভারত
  2. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. ভুটান
  4. নেপাল
সঠিক উত্তর:
ভুটান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুটান
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর ভুটান প্রথম বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী দ্বিতীয় দেশ:
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান।
- দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বিশ্বের তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
ওই একইদিনে চতুর্থ দেশ হিসেবে বুলগেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- পোল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি।
- প্রথম মুসলিম ও আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল স্বীকৃতি দেয় ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।
- প্রথম উত্তর আমেরিকান দেশ হিসেবে বার্বাডোস স্বীকৃতি দেয় ২০ জানুয়ারি ১৯৭২।

সূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং নিউইর্য়ক টাইমস আর্কাইভস।

.
'অন্ধকূপ হত্যা' (Black Hole Tragedy) নামক ঘটনাটি কোন নবাবের শাসনামলের সাথে জড়িত?
  1. সিরাজ-উদ-দৌলা

  2. আলীবর্দী খান
  3. নবাব মুর্শিদকুলী খান
  4. মীর কাসিম
সঠিক উত্তর:
সিরাজ-উদ-দৌলা

উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজ-উদ-দৌলা

ব্যাখ্যা

- নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের পর ফোর্ট উইলিয়ামের একটি ছোট কক্ষে অনেক ইংরেজ সৈন্যকে বন্দী করে রাখা হয় এবং সেখানে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয় বলে ইংরেজরা দাবি করে।

অন্ধকূপ হত্যা:
- অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।
- হলওয়েল, জন জেফেনিয়াহ বহুল আলোচিত অন্ধকূপ হত্যা কাহিনীর রচয়িতা।
- উনিশ শতকের প্রথম দিকের অধিকাংশ ইংরেজ ইতিহাসবিদ এ কাহিনী বিশ্বাস করেন এবং অন্ধকূপ হত্যার ঘটনাকে প্রাচ্যদেশীয় শাসকদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার জঘন্য নিদর্শনরূপে গণ্য করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।
- সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নবাবের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতেই ঘটেছিল।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশ জাতিসংঘের কততম সদস্য?
  1. ১৩০তম
  2. ১৩২তম
  3. ১৩৬তম
  4. ১৪০তম
সঠিক উত্তর:
১৩৬তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৬তম
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে।  

জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ: 
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
- ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়।
- ১৯৭৬ ও ১৯৮১ সালে দুই মেয়াদে চার বছরের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

তাছাড়াও, 
- ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
- বাংলাদেশ দুইবার অর্থাৎ ১৯৭৯-১৯৮০ এবং ২০০০-২০০১ মেয়াদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তি মিশনে যোগ দেয়- ১৯৮৮ সালে।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পাকিস্তানের গণপরিষদে সর্বপ্রথম কে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন?
  1. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. এ. কে. ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. প্রফেসর আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার কংগ্রেস দলীয় গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি জানান।

ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার সন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিলেন।
- তিনি সরকারি কাগজে বাংলা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে সোচ্চার হন।
- তিনি অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গণপরিষদে যে কার্যবিবরণী লেখা হয় তা ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়।
- সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন।
- অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তোলেন তিনি।

উল্লেখ্য,
- বাংলা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা।
- আর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা হিসেবে 'বাংলার' রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ ছিল স্বাভাবিক।
- কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং উর্দুভাষী বুদ্ধিজীবীগণ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
- এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণার দাবি উপেক্ষা করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

.
বাংলাদেশ সর্বপ্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. কমনওয়েলথ
  3. ইসলামী সম্মেলন সংস্থা
  4. জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
কমনওয়েলথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমনওয়েলথ
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৮ই এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে, এটি ছিল কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের প্রথম যোগদান।  

কমনওয়েলথ ও বাংলাদেশ:
- স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করেছিলো।
- আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে।
- বাংলাদেশ ৩৪তম দেশ হিসেবে কমনওয়েলথে যোগ দিয়েছিলো।

অন্যদিকে: 
- জাতিসংঘ (UN): বাংলাদেশ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে ১৩৬তম সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে যোগ দেয়।
- ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (OIC): বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোর সম্মেলনে OIC-এ যোগ দেয়।
- জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM): বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে ন্যাম-এর সদস্য পদ লাভ করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট, স্ব স্ব ওয়েবসাইট। 

.
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয় কোন দাবিতে?
  1. দ্রব্যমূল্য হ্রাস
  2. তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  3. সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার
  4. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল
সঠিক উত্তর:
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের রায়ের বিরুদ্ধে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' এর মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান: 
- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয় সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে, এর পরে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালের জুনে পুরনো ৫৬% কোটা পুনর্বহাল করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে আন্দোলন দমন করতে গেলে জনরোষ আরও তীব্র হয়। আন্দোলনকারীরা “জুলাই বিপ্লব” নামে একটি গণজাগরণ শুরু করে, যার চূড়ান্ত রূপ ছিল “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি। ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় এবং শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগ করে।

উল্লেখ্য, 
- এই অভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার প্রধান হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

সূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট। 

১০.
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর রফিকুল ইসলাম কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৩নং সেক্টর
  2. ১নং সেক্টর
  3. ৫নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা। ১০ নং সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১১.
ভাষা শহিদ আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?
  1. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  2. বাংলা
  3. অর্থনীতি
  4. ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

- শহীদ বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এম.এ. ক্লাসের ছাত্র ছিলেন।

ভাষা শহিদ আবুল বরকত:
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৩ জুন (মতান্তরে ১৬ জুন) মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর থানার বাবলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় আসেন।
- ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন এবং এম.এ শেষ পর্বে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে।
- আবুল বরকত গুলিবিদ্ধ ঐ সময় গুলিবিদ্ধ হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

১২.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক জোট বিপুলভাবে জয়লাভ করে?
  1. যুক্তফ্রন্ট
  2. কংগ্রেস
  3. মুসলিম লীগ
  4. নেজামে ইসলাম
সঠিক উত্তর:
যুক্তফ্রন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তফ্রন্ট
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে।

'যুক্তফ্রন্ট' সম্পর্কিত তথ্য:
- যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মূলমন্ত্র ছিলো - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ব বাংলার গভর্নর সরকার গঠনের জন্য যুক্তফ্রন্ট নেতা একে ফজলুল হককে আমন্ত্রণ জানান।

সূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩.
মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. গৌড়
  2. পাটলিপুত্র
  3. বিক্রমপুর
  4. তাম্রলিপ্ত
সঠিক উত্তর:
পাটলিপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাটলিপুত্র
ব্যাখ্যা

- মৌর্য সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র, এটা বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা শহরের কাছে অবস্থিত।  

চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- তার সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে, মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
ইলবার্ট বিলের বিষয়বস্তু কী?
  1. ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান।
  2. ভারতীয় কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ।
  3. ব্রিটিশদের দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ।
  4. ভারতীয় সংবাদপত্রের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ।
সঠিক উত্তর:
ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান।
ব্যাখ্যা

- ইলবার্ট বিলের বিষয়বস্তু হচ্ছে - ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান। 

ইলবার্ট বিল:
- ইলবার্ট বিল ১৮৮৩ সালে সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের আইন-সদস্য স্যার সি.পি ইলবার্ট কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি আইন ছিল।
- এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিচারকদের কাছে ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া।
- বিলটি ভারতীয় এবং ইউরোপীয় বিচারকদের মধ্যে সমমর্যাদা স্থাপন করতে চেয়েছিল।
- তবে, ইউরোপীয়রা এই প্রস্তাবকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করে, কারণ তারা মনে করত যে এতে তাদের শাসক অবস্থানে আঘাত আসবে।
- ইলবার্ট বিল বিতর্ক ভারতের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের দিকে উদ্বুদ্ধ করে, এটা পরবর্তীতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের দিকে নিয়ে যায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১৫.
নওগাঁর পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার কে নির্মাণ করেন?
  1. গোপাল
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল
  4. রামপাল
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
ব্যাখ্যা

- পাল বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল নওগাঁ জেলায় সুবিখ্যাত সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন, এটি তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধবিহার ছিল।  

সোমপুর মহাবিহার:
- সোমপুর মহাবিহার প্রাচীন বাংলার একটি বৌদ্ধ বিহার।
- পাহাড়পুরএর উৎখননকৃত বিহার কমপ্লেক্সের সঙ্গে সোমপুর মহাবিহারকে অভিন্ন মনে করা হয়।
- পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল এ বিহার স্থাপন করেন।
- ধ্বংসাবশেষ হতে কিছু মাটির সিল পাওয়া গেছে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১৬.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কবে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৪৯ সালে
  2. ১৯৫২ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

- পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৯ বছর পর ১৯৫৬ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশের প্রথম সংবিধান রচিত ও কার্যকর হয়।

প্রথম সংবিধান ঘোষণা: 
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- এ সংবিধানের মাধ্যমে পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্র নাম ধারণ করে।
- পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোকে একত্রিত করে পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান নাম দেয়া হয়।
- বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় গণপরিষদে পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্র সংবিধান বিল উত্থাপন করা হয়।
- বিলটি গণপরিষদে ২১ জানুয়ারি গৃহীত হয় এবং ২ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি প্রদান করে।
- এ সংবিধান ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
- সংবিধান প্রণয়নের জন্য দীর্ঘ নয় বছর সময় নেয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- এ সংবিধান মাত্র আট মাস স্থায়ী হয়।
- ১৯৫৮ সালে অক্টোবর মাসে তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল (অব:) ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং সংবিধান বাতিল করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
অপারেশন সার্চলাইটের সময় ঢাকা শহরের বাইরে নেতৃত্ব দেন কে?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি
  3. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  4. জেনারেল টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- ঢাকা শহরের বাহিরে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।

১৮.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কোন সেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. ২নং
  2. ১১নং
  3. ৪নং
  4. ১০নং
সঠিক উত্তর:
১০নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ছিলেন ১০নং সেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- তাঁর পদবী ছিল স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

১৯.
বাংলার কোন সুলতানের শাসনকালকে 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়?
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. রুকনুদ্দিন বারবক শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

- আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে বাংলায় শান্তি, সমৃদ্ধি, এবং শিল্প-সাহিত্যের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল, তাই তার শাসনকালকে প্রায়শই 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।  

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি আরাকান ও চট্টগ্রাম দখল করেন।
- তার সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো।
- তিনি বাংলাকে রাজদরবারের ভাষা হিসেবে স্থান দেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তাকে নৃপতি তিলক, জগৎভূষণ, কৃষ্ণাবতার বলা হতো।
- তার শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজও করেন।
- তিনি গরিব-দুঃখীদের জন্যে দেশে অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন ও পানির কূপ খনন করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- তিনি বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেবকে সম্মান করতেন এবং তাঁকে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে সুবিধা দিয়েছিলেন।
- তার সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয় এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।
- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- তাঁর রাজত্বকালে গৌড়ের 'ছোট সোনা' মসজিদ নির্মিত হয়।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
কোন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. পানিপথের যুদ্ধ
  2. হিদাসপিসের যুদ্ধ
  3. কলিঙ্গের যুদ্ধ
  4. তরাইনের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
কলিঙ্গের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলিঙ্গের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- কলিঙ্গ যুদ্ধের ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্রাট অশোককে গভীরভাবে ব্যথিত করে, এর ফলে তিনি যুদ্ধনীতি ত্যাগ করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।  

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন।
- তিনি ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।
- ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- জীবনের অবশিষ্ট সময় অহিংস ধর্ম তাঁর পথপ্রদশর্কের ভূমিকা পালন করে।
- সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- অশোকের প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
পালপূর্ব যুগে বাংলায় অরাজক পরিস্থিতি কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. কৈবর্ত বিদ্রোহ
  2. মাৎস্যন্যায়
  3. বর্গী হানা
  4. শতবর্ষের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
মাৎস্যন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাৎস্যন্যায়
ব্যাখ্যা

- পালপূর্ব যুগে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় এক অরাজক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, তেমনি শক্তিশালীরা দুর্বলদের উপর অত্যাচার করত। এই অবস্থাকে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়। 

পাল বংশ:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ ছিলেন- গোপাল।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ।
- বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে খ্যাত।
- মাত্ন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি। অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন।
- শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
‘মেগাস্থিনিস’ কে ছিলেন? 
  1. সিজারের প্রেরিত দূত
  2. সেলুকাসের প্রেরিত দূত
  3. আলেকজান্ডারের প্রেরিত দূত
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
সেলুকাসের প্রেরিত দূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলুকাসের প্রেরিত দূত
ব্যাখ্যা

সেলুকাসের দূত মেগাস্থিনিস চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজসভায় আসেন এবং তার রচিত 'ইন্ডিকা' গ্রন্থ থেকে মৌর্য সমাজ ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।  

মেগাস্থিনিস:

- ‘মেগাস্থিনিস’ ছিলেন সেলুকাসের প্রেরিত দূত।
- ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা মেগাস্থিনিস।
- এই গ্রন্থে চন্দ্রগুপ্তের ব্যক্তিগত জীবন ও শাসন ব্যবস্থার বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- তিনি গ্রীক বিশ্বের কাছে পরিচিত ভারতের সবচেয়ে সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন।
- মেগাস্থেনিসের কাজের প্রধান ত্রুটিগুলি ছিল -
- বিবরণে ভুল,
- ভারতীয় লোককাহিনীর একটি সমালোচনামূলক গ্রহণযোগ্যতা
- গ্রীক দর্শনের মানদণ্ডে ভারতীয় সংস্কৃতিকে আদর্শ করার প্রবণতা।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় & ব্রিটানিকা।

২৩.
বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. আলীবর্দী খান
  2. সিরাজ-উদ-দৌলা
  3. মুর্শিদকুলী খান
  4. সুজাউদ্দিন খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
ব্যাখ্যা

বাংলায় নবাবী শাসন: 
- মুর্শিদকুলী খান বাংলায় নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুঘল সম্রাট কর্তৃক নিযুক্ত বাংলার শেষ সুবাদার ছিলেন মুর্শিদকুলি খান।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর দিল্লির দুর্বল শাসনে বাংলার সুবাদারগণ প্রায় স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতে থাকেন।
- মোগল আমলের এই যুগ নবাবী আমল নামে পরিচিত।
- নবাবদের শাসনকালের পরিধি ছিল ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৫০ বছর।
- বাংলার নবাবী শাসনের সূচনাকারী নবাব মুর্শিদকুলী খান।

এছাড়াও, 
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলাদেশের হুসেন শাহী রাজবংশের এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম শাসক।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮-১৩৪৯) বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।

সূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' গ্রন্থ দুটি কে রচনা করেন?
  1. বিজয়সেন
  2. বল্লালসেন
  3. লক্ষ্মণসেন
  4. জয়দেব সেন 
সঠিক উত্তর:
বল্লালসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লালসেন
ব্যাখ্যা

- সেন রাজা বল্লালসেন একজন সুপণ্ডিত ছিলেন এবং তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামক দুটি বিখ্যাত স্মৃতিশাস্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন।    

বল্লাল সেন:
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- বল্লাল সেন বিদ্যান ও বিদ্যোৎসাহী রাজা ছিলেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন ।
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন ।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে ‘অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস না হওয়ার প্রধান কারণ - 
  1. সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
  2. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো
  3. ভারতের আপত্তি
  4. চীনের অনুপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
ব্যাখ্যা

- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দেওয়ায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হয়নি।
- এটি বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক বিজয় ছিল।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিনবারই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

২৬.
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল
  3. গোপাল
  4. মহীপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা

- বাংলায় 'মাৎস্যন্যায়' নামক অরাজক অবস্থার অবসান ঘটাতে প্রকৃতিপুঞ্জ বা জনগণ গোপালকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করে।  

পাল বংশ:
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ ছিলেন- গোপাল।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ।
- বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে খ্যাত।
- মাত্ন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি। অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন।
- শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
কোন ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. বক্সারের যুদ্ধ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. বঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

- ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে।  

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর। 

- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২৮.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণ দলিলে কে স্বাক্ষর করে?
  1. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  2. মেজর জেনারেল রাও ফরমান
  3. কর্নেল ওসমানী
  4. লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে নিয়াজী
সঠিক উত্তর:
জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি ও প্রথম আলো।

২৯.
পাল রাজারা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. হিন্দুধর্ম
  2. জৈনধর্ম
  3. শাক্তধর্ম
  4. বৌদ্ধধর্ম
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধধর্ম
ব্যাখ্যা

পাল রাজারা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাদের আমলে অনেক বৌদ্ধবিহার নির্মিত হয়।  

পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালযুগে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করেছিল তিববত, জাভা, সুমাত্রা ও মালয়েশিয়াতে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
বিখ্যাত 'গীতগোবিন্দ' কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
  1. ধর্মপাল
  2. বিজয়সেন
  3. বল্লালসেন
  4. লক্ষ্মণসেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণসেন
ব্যাখ্যা

- কবি জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের একজন এবং তার রচিত 'গীতগোবিন্দ' কাব্যটি সংস্কৃত সাহিত্যের এক অমর সৃষ্টি।  

জয়দেব:
- জয়দেব সংস্কৃত ভাষার কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে - বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্‌' রচিত।

- পঞ্চরত্নের অপর চারজন কবি হলেন:
১. গোবর্ধন আচার্য,
২. শরণ,
৩. নধোয়ী ও
৪. উমাপতিধর।

সূত্র : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলাপিডিয়া।

৩১.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ কে?
  1. মতিউর রহমান 
  2. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  3. ড. শামসুজ্জোহা
  4. আসাদুজ্জামান আসাদ
সঠিক উত্তর:
আসাদুজ্জামান আসাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাদুজ্জামান আসাদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৯ সালের ২০শে জানুয়ারি ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে শহিদ হলে গণঅভ্যুত্থান নতুন মাত্রা লাভ করে। 

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহিদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।

৩২.
কত সালে বঙ্গভঙ্গ হয়?
  1. ১৯০৩ সালে
  2. ১৯০৫ সালে
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৯১১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা

- লর্ড কার্জন প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ১৯০৫ সালে বাংলাকে দুটি প্রদেশে বিভক্ত করেন, এটি বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।

বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৩.
পলাশীর যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৬ সালে
  2. ১৭৫৭ সালে
  3. ১৭৬৪ সালে
  4. ১৭৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।  

পলাশির যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানের যুদ্ধে স্বাধীন বাংলার নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়।
- ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।
- প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটতি হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরচিতি।
- ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করেন এবং কলকাতা দখল করেন।
- এই যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজতি হন এবং ভারতবর্ষে ইংরজে শাসন প্রতষ্ঠিার পথ সূচিত হয়।
- নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে জগৎশেঠ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও উমিচাদ।
- নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করেন মীরমদন, মোহন লাল ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৩৪.
ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ কাকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধি প্রদান করেছিলেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ:
- ইলিয়াস শাহ 'সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।
- ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- তাঁর পূর্বে আর কোনো সুলতান এ গৌরব অর্জন করতে পারেননি।
- তাই ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' ও 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভকরেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ” এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।