পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৬ টপিক: i) আইন, আইনের উৎস, সাম্য, স্বাধীনতা, অধিকার ও রাষ্ট্র। ii) প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থাপিত প্রশ্নসমূহ। [লাইভ ক্লাস-৯ ও ১০]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
”যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন“- কার উক্তি?
  1. জন অস্টিন
  2. এরিস্টটল
  3. জন লক
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

 আইন: 
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। 
- যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা" জন লক।
- যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন " এরিস্টটল।
- আইন সার্বভৌম শক্তির আদেশ-  জন অস্টিন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনের নাম- 
  1. UNCTAD
  2. UNCLOS
  3. CEDAW
  4. UNCAC
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনের নাম- (UNCAC)।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে : ২০০৭ সালে। 

মেরিডা কনভেনশন:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯৫টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

.
জন অস্টিন এর মতে আইনের উৎস কয়টি? 
  1. ৪টি
  2. ১টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

- জন অস্টিন ১টি ,সার্বভৌম আদেশ। 

• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, ৬ টি
১. প্রথা;
২. ধর্ম;
৩. বিচারকের রায়;
৪. ন্যায়বিচার;
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
৬. আইনসভা।

• ওপেনহাইম এর মতে, ৭ টি।
১. প্রথা;
২. ধর্ম;
৩. বিচারকের রায়;
৪. ন্যায়বিচার;
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
৬. আইনসভা;
৭. জনমত;

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশে কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০১৩ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা

 জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

.
”অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন"- উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. জি.ডি.এইচ. কোল
  3. জন অস্টিন
  4. ওপেনহাইম
ব্যাখ্যা

সাম্য: 
- জাতি ধর্ম বর্ণ, স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সমান প্রদানের ব্যবস্থাকে সাম্য বলে। 
- সাম্য: সুযোগ সুবিধার সমতা। 
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন" -উক্তিটি ব্রিটিশ সমাজতন্ত্রী চিন্তাবিদ এবং লেখক G.D.H. Cole (জি.ডি.এইচ. কোল)

এছাড়াও,
• অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্যের ০৩ টি বিশেষ দিক রয়েছে।
১. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি
২. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
৩. বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. শাসনপ্রক্রিয়া ও সুশাসন
  2. শাসনপ্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  3. শাসনপ্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
  4. শাসনপ্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হলো- 
  1. গণতন্ত্র
  2. সংস্কৃতি
  3. সুশাসন
  4. উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
কোন সালে ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের সংজ্ঞা প্রবর্তন করে?
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

ইউএনডিপি ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' শিরোনামের নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, "একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন"।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• সংস্থাভিত্তিক সুশাসনের উপাদানের সংখ্যা: 
- UNDP: ৯টি
- জাতিসংঘ:৮টি
- বিশ্বব্যাংক:৬টি
- UNHCR: ৫টি
- AFDB: ৫টি
- ADB :৪টি 
- IDA : ৪টি
- কৌটিল্য: ৪টি।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

.
স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক হচ্ছে- 
  1. ধর্ম
  2. সংস্কৃতি
  3. আইন
  4. গনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস:
- আইনের প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
- গ্রেট ব্রিটেনে প্রথাভিত্তিক আইন রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উৎস.. ধর্ম।
- পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন- ধর্ম থেকে নেয়া হয়।
- আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
- আইনের মৌলিক উৎস.. সংবিধান।
- স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক.. আইন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
"The Spirit of Laws" গ্রন্থটি কার? 
  1. দার্শনিক মন্টেস্কু
  2. টি এইচ গ্রীন
  3. এরিস্টটল
  4. মেকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি: 
- ১৭৪৮ সালে ফরাসী দার্শনিক মন্টেস্কু তার "The Spirit of Laws" গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপুর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রতিকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।

এছাড়াও,
- টি এইচ গ্রীন এর মতে, শক্তি নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি। 
- রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক, এরিস্টটল।
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক, নিকোলা মেকিয়াভেলী।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?
  1. সুশাসন
  2. সামাজিক অবক্ষয়
  3. মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. শিক্ষার অবক্ষয়
ব্যাখ্যা

গণমাধ্যম:
- যেসব মাধ্যমে জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত ও বিনোদন পৌঁছানো বা পরিবেশন করা হয় তাকে গণমাধ্যম বলে। এটি সাধারণ মানুষের সিংহভাগে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম।
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ধরা হয়।
- নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় ধরা হয়।
- গণমাধ্যম জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন সুসংহত করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১২.
’জামিন পাওয়ার অধিকার’ কোন ধরনের স্বাধীনতা? 
  1. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  2. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সামাজিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 
- অধ্যাপক লাস্কি স্বাধীনতার তিনটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা-
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলতে ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বুঝায়।
- ধর্মপালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার একটি উত্তম উদাহরণ।
- তাছাড়া গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা, জামিন পাওয়ার অধিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা- 
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- বস্তুত অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসগৃহ ও চিকিৎসার সুযোগকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে "অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।"

• সামাজিক স্বাধীনতা- 
- সমাজ যে সমস্ত অধিকার সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করে তা উপভোগের ক্ষমতাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- এগুলো সভ্য সমাজ ব্যবস্থার শর্ত। বিবাহ, সম্পত্তি অর্জন, বসতবাটি নির্মাণ, লেখাপড়া শেখা ইত্যাদিকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
কোন নৈতিক মানদণ্ডটি সর্বোচ্চ সুখের উপর গুরুত্ব প্রদান করে?
  1. উপযোগবাদ
  2. পরার্থবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. আত্মস্বার্থবাদ
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

অপরদিকে,
- পরার্থবাদ হলো এমন একটি মতবাদ বা দর্শন যেখানে নিজের স্বার্থের চেয়ে অন্যের মঙ্গলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- আত্মস্বার্থ সাধারণত নিজের চাহিদা বা আকাঙক্ষার (স্বার্থ) উপর প্রাধান্য দেওয়াকে বোঝায়।
- শূন্যবাদের ইংরেজি প্রতিশব্দ Nihilism যা ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে এসেছে, যার অর্থ কিছুই না।
- শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।

উৎস: নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১৪.
"অধিকার সমাজ বহির্ভূত বা সমাজ নিরপেক্ষ নয়, এটা সমাজভিত্তিক" - কে বলেছেন? 
  1. টি, এইচ, গ্রীন 
  2. অধ্যাপক লাস্কি
  3. ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
  4. দার্শনিক বুসাঁকে
ব্যাখ্যা

অধিকারের সংজ্ঞা ও অর্থ: 
- অধিকার বলতে  নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা বুঝায়।
- পৌরনীতিতে অধিকার বলতে কতকগুলি সুযোগ-সুবিধাকে বুঝায় যা ছাড়া ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্ভব নয়।
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "অধিকার সমাজ বহির্ভূত বা সমাজ নিরপেক্ষ নয়, এটা সমাজভিত্তিক।
- " এজন্যই অধিকার বলতে সীমিত ক্ষমতা বুঝায় এবং একজনের অধিকার অন্যের কর্তব্যের ইঙ্গিত দান করে।
- অধিকারের অর্থ মঙ্গলময় জীবন। রাষ্ট্র সামাজিক কল্যাণের পরিবেশ সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করে।
- অধিকার হল সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক প্রযুক্ত দাবি।"-দার্শনিক বুসাঁকে।
- " টি, এইচ, গ্রীন অধিকার বলতে অনুরূপ ধারণা দিয়ে বলেন, "মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণাবলির বিকাশ সাধনের জন্য অধিকার কতকগুলো বাহ্যিক শর্ত।
- " সহজ কথায় অধিকার বলতে কতকগুলো অনুকূল শর্তকে বুঝায় যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
- অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৬.
নিচের কোনটি রাষ্ট্র গঠনের উপাদান নয়? 
  1. জনসমষ্টি
  2. সার্বভৌমত্ব
  3. ভূ-খন্ড
  4. রাজনীতি
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের উপাদান: 
- রাষ্ট্রের চারটি উপাদান থাকে। যথা- (১) জনসমষ্টি, (২) ভূ-খন্ড, (৩) সরকার ও (৪) সার্বভৌমত্ব।
১। জনসমষ্টি:
- রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান জনসমষ্টি। জনসমষ্টি ব্যতীত রাষ্ট্র হতে পারে না।
- তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হতে হবে তার কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই।

২। ভূখন্ড:
- রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় উপাদান হল ভূখন্ড।
- জনসমষ্টিকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভূখন্ড আবশ্যক।
- ভূখন্ড বলতে রাষ্ট্রের ভূমি, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, সামুদ্রিক জলসীমা বোঝায়।

৩। সরকার:
- রাষ্ট্রের তৃতীয় উপাদান সরকার। সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার তিন ধরনের কাজ করে। যথা- আইন সংক্রান্ত, শাসন সংক্রান্ত ও বিচার সংক্রান্ত।
- এ তিন ধরনের কাজের জন্য সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ।
- অর্থাৎ সরকার গঠিত হয় এ তিন বিভাগ নিয়ে। তবে বিশ্বের প্রায় সব সরকার ৩টি বিভাগ নিয়ে গঠিত হলেও সরকারের রূপ ও প্রকৃতি এক নয়।

৪। সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো- 
  1. সৎ ভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করা
  2. নিয়মিত কর প্রদান করা
  3. নিজের অধিকার ভোগ করা
  4. সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা
ব্যাখ্যা

 সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করনীয়: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক। 

১৮.
লর্ড ব্রাইস এর মতে, আইন মান্য করার কারণ- 
  1. শ্রদ্ধা
  2. শাস্তির ভয়
  3. নির্লিপ্ততা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ: 
• লর্ড ব্রাইস এর মতে,
১. নির্লিপ্ততা;
২. শ্রদ্ধা;
৩. সহানুভূতি;
৪. শাস্তির ভয়;
৫. যৌক্তিকতার উপলব্ধি।

উল্লেখ্য, 
- হবস, বেনহাম ও অস্টিন মতে, মানুষ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।