পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes৩৭ বৈধ · ২ অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩৯
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ
টপিকসমূহ:
১. শব্দপ্রকরণ [সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ]
২. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ]
৩. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।]
উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই।
(ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
---------------------
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
• সমাস: - একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। - সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। যেমন : - দেশের সেবা = দেশসেবা, - বই ও পুস্তক = বইপুস্তক, - নেই পরোয়া যার = বেপরোয়া।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২.
কোনটি উপসর্গ?
ক
আগে
খ
তরে
গ
হতে
ঘ
অতি
ব্যাখ্যা
• ‘অতি’ - তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।
অন্যদিকে, আগে, তরে, হতে অনুসর্গের উদাহরণ।
কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ: - অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। --------------------- • উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. খাটি বাংলা উপসর্গ, ২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং ৩. বিদেশি উপসর্গ।
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। যেমন: - আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। - ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। - উর্দু উপসর্গ: হর। - ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
ক
কখনো স্বাধীন পদরূপে ব্যবহৃত হয় না।
খ
কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
গ
বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে।
ঘ
কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ: বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা ‘কে’ এবং ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]
[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪.
সমাসে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি পদের নাম কী?
ক
সমস্ত পদ
খ
পরপদ
গ
সমস্যমান পদ
ঘ
বিশ্লেষণপদ
ব্যাখ্যা
• সমস্যমান পদ: - যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে। যেমন, - সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫.
'উক্তি' পরিবর্তনের সময়ে অর্থের সংগতি রক্ষার জন্য বাক্যের কোন পদের পরিবর্তন সাধিত হয়?
ক
বিশেষ্য
খ
বিশেষণ
গ
সর্বনাম
ঘ
যোজক
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম: • অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। যেমন: • প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।” • পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।” • পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
--------------------------- • উক্তি: বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি। যেমন: - ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
• পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি। যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৬.
'কায়মনােবাক্যে' কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
ক
অলুক দ্বন্দ্ব
খ
বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব
গ
সমার্থক দ্বন্দ্ব
ঘ
বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস সংজ্ঞা: - যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস। যেমন: ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি
- দ্বন্দ্ব মানে জোড়া। - এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বােঝানাের জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযােজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বন্দ্ব সমাস বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। এর মধ্যে বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব এক প্রকার।
বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততােধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস। - যেমন- - কায়, মনাে এবং বাক্যে = কায়মনােবাক্যে, - সাহেব, গােলাম এবং বিবি = সাহেব-গােলাম-বিবি, - আমি, তুমি এবং সে = আমরা, - স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭.
কয়টি উপসর্গ বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে পাওয়া যায়?
ক
দুইটি
খ
তিনটি
গ
চারটি
ঘ
পাঁচটি
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও রয়েছে। - অর্থাৎ ৪টি উপসর্গ বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে পাওয়া যায়।
• উপসর্গ ৩ প্রকার। - বাংলা উপসর্গ। - তৎসম উপসর্গ। - বিদেশী উপসর্গ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮.
কোনটি পদের নাম নয়?
ক
আবেগ
খ
যোজক
গ
সর্বনাম
ঘ
বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।
• পদ: শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যেমন: ১. বিশেষ্য, ২. সর্বনাম, ৩. বিশেষণ, ৪. ক্রিয়া, ৫. ক্রিয়া বিশেষণ, ৬. অনুসর্গ, ৭. যোজক, ৮. আবেগ।
অন্যদিকে, - 'বিভক্তি' পদের নাম নয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৯.
'অপ্রতিবিধান' শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
ক
একটি
খ
দুইটি
গ
তিনটি
ঘ
চারটি
ব্যাখ্যা
• 'অপ্রতিবিধান' শব্দটিতে - তিনটি উপসর্গ রয়েছে।
• 'অপ্রতিবিধান' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ: অপ্রতিবিধান = অ + প্রতি + বি।
এখানে, অ, প্রতি, বি- তিনটি উপসর্গ।
উৎস: ১। ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। ২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১০.
সুমি বলল, “আমি গান গাইতে ভালোবাসি।” — এটি পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
ক
সুমি বলল, আমি গান গাইতে ভালোবাসি।
খ
সুমি বলল যে, সে গান গাইতে ভালোবাসে।
গ
সুমি বলল যে, আমি গান গাইতে ভালোবাসি।
ঘ
সুমি বলল যে, সে গান গাইতে ভালোবাসতো।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: খ) সুমি বলল যে, সে গান গাইতে ভালোবাসে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
অনুসর্গ কত প্রকার?
ক
দুই প্রকার
খ
তিন প্রকার
গ
চার প্রকার
ঘ
পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- - সাধারণ অনুসর্গ; - ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
সাধারণ অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। যেমন - - উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ। - কাছে : কার কাছে গেলে জানা যাবে?
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। যেমন - - করে: ভালো করে খেয়ে নাও - দিয়ে: মন দিয়ে পড়ালেখা করা দরকার
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নমব-দশম শ্রেণি)
১২.
'লাজওয়াব' শব্দের 'লা' কোন ধরনের উপসর্গ?
ক
খাঁটি বাংলা
খ
আরবি
গ
ফারসি
ঘ
তৎসম
ব্যাখ্যা
'লাপাত্তা': - শব্দের 'লা' উপসর্গটি একটি আরবি উপসর্গ। - 'লাপাত্তা' শব্দের 'লা' উপসর্গটি 'নাই' অর্থ প্রকাশ করেছে।
• 'লা' উপসর্গ দিয়ে 'নাই' অর্থে কিছু গঠিত শব্দ: - লাজওয়াব, - লাখেরাজ, - লাওয়ারিশ, - লাপাত্তা।
নিম্নরূপ আরোকিছু আরবি উপসর্গ দেওয়া হল: - আম, খাস, লা, বাজে, গর ইত্যাদি।
উৎস: ১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। ২) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাস?
ক
ক্ষুৎপিপাসা
খ
বাগবিতণ্ডা
গ
কাঁচকলা
ঘ
গাছপাকা
ব্যাখ্যা
• সাধারণ কর্মধারয় সমাস: মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: (বিশেষণ+ বিশেষ্য) - কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা; - দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন; - মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।
উল্লেখ্য, প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকল্য' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- পূর্বদিন। প্রত্যক্ষ উক্তির 'আজ' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- সেদিন। প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- আগেরদিন। --------------------------- যেমন - প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময় কালবাচক এবং স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়। যেমন: প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, 'আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।' পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
'সবুজ পাতায় ঢাকা গাছ' — এই বাক্যাংশে 'সবুজ পাতায় ঢাকা' কোন বর্গ?
ক
বিশেষ্যবর্গ
খ
বিশেষণবর্গ
গ
ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ
ঘ
ক্রিয়াবর্গ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বর্গ: - বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। - বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। - বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়। - যেমন- মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল। - এই বাক্যে 'মালা ও মায়া', 'খুব সকালে', 'বাড়ির সামনে থাকা', 'স্কুল-বাসে', 'উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ।
• বিভিন্ন ধরনের বর্গ: - বিশেষ্যবর্গ - বিশেষণবর্গ - ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ - ক্রিয়াবর্গ।
• 'সবুজ পাতায় ঢাকা গাছ' — এই বাক্যাংশে 'সবুজ পাতায় ঢাকা' বিশেষণবর্গ। এটি 'গাছ' (বিশেষ্য)-কে বর্ণনা করছে। তাই এটি একটি বিশেষণবর্গ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৪ সংস্করণ)।
উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম: • প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন: - প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।" - পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২৩ সংস্করণ)।
১৮.
মা বললেন, “আমার মাথা ব্যথা করছে।”- পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
ক
মা বললেন যে, আমার মাথা ব্যথা করছে।
খ
মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।
গ
মা বললেন, তার মাথা ব্যথা করেছিল।
ঘ
মা বললেন যে, আমার মাথা ব্যথা করেছে।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর নিয়ম: • সর্বনাম পরিবর্তন: "আমার" → "তার" (মা-এর জন্য তৃতীয় পুরুষ হয়েছে)। • ক্রিয়ার কাল: প্রত্যক্ষ উক্তির বর্তমান কাল অপরিবর্তিত রয়েছে। ("করছে" → "করছে")। • উদ্ধৃতি চিহ্ন ও যোজক: উদ্ধৃতি চিহ্ন (“ ”) বাদ দিয়ে "যে" সংযোজন করা হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯.
'অভি' কোন উপসর্গ?
ক
বাংলা উপসর্গ
খ
তৎসম উপসর্গ
গ
আরবি উপসর্গ
ঘ
ফারসি উপসর্গ
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
• 'অভি' একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. বাংলা উপসর্গ, ২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং ৩. বিদেশি উপসর্গ।
• বাংলা উপসর্গ: - বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়। - বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা: - অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: - বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। - সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: - প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। [বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
• বিদেশি উপসর্গ: - আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। - ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। - উর্দু উপসর্গ: হর। - ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২০.
"ছেলেটি জানালার পাশে বসে আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
অধিকরণ কারকের সংজ্ঞা: ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান, সময় বা মাধ্যম বোঝালে তা অধিকরণ কারক হয়। সাধারণত "এ/য়/তে" বিভক্তি যুক্ত হয় (যেমন: পাশে, ঘরে, মাঠে)।
এখানে "জানালার পাশে" বসার স্থান নির্দেশ করছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১.
"যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
ক
সরল বাক্য
খ
যৌগিক বাক্য
গ
জটিল বাক্য
ঘ
নেতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়। যেমন- - যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো। - যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। - যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন। - যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২২.
'প্রাসাদ হতে তাকে ডাকলাম।' - বাক্যে 'প্রাসাদ হতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক
অপাদানে পঞ্চমী
খ
অধিকরণে সপ্তমী
গ
অপাদানে সপ্তমী
ঘ
অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
• 'প্রাসাদ হতে তাকে ডাকলাম।' - বাক্যে 'প্রাসাদ হতে' অধিকরণে পঞ্চমী বিভক্তি।
• অধিকরণ কারক: - ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। - অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা - → আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। → কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে। - অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা: ১. আধারাধিকরণ, ২. কালাধিকরণ এবং ৩. ভাবাধিকরণ।
• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ: • প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: - আমি ঢাকা যাব। - বাবা বাড়ি নেই।
• পঞ্চমী বিভক্তি: - বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়। - প্রাসাদ হতে তাকে ডাকলাম।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।
• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।
• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক। - 'প্রাসাদ হতে তাকে ডাকলাম।' - এখানে 'কোথা হতে তাকে ডাকলাম?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'প্রাসাদ হতে'। তাই 'প্রাসাদ হতে' অধিকরণে পঞ্চমী বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
বাচ্য বলতে বোঝায়—
ক
বাক্যের ভাব
খ
বাক্যের প্রকাশভঙ্গি
গ
বাক্যের অর্থ
ঘ
বাক্যের প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। - বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়। - ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।
যেমন - - সে বাজারে যায়। - সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। - কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
- উপরের প্রথম বাক্যে ‘যায়' ক্রিয়াটি ‘সে' কর্তার অনুসারী। - দ্বিতীয় বাক্যে ‘করা হয়েছে' ক্রিয়াটি ‘সাহসী ছেলেটিকে' কর্মের অনুসারী। - তৃতীয় বাক্যে ‘যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য।
প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার। যথা: কর্তাবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
ক
প্রভাব
খ
দুর্নাম
গ
বিধৃত
ঘ
হিমালয়
ব্যাখ্যা
• হিমালয় - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়। - 'হিমালয়' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় : হিম + আলয়। - যেখানে দুটি শব্দ ই আলাদা অর্থ প্রকাশ করে। - কিন্তু, এখানে 'হিম' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।
অন্যদিকে, - 'প্রভাব' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'প্র' যোগে গঠিত। - 'দুর্নাম' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘দুর’ যোগে গঠিত। - 'বিধৃত' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'বি’ যোগে গঠিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
ক
প্রাণপাখি
খ
শশব্যস্ত
গ
মনমাঝি
ঘ
সোনামুখ
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস: উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে। যেমন: - মিশির মতো কালো = মিশকালো। - শশকের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত। [এ সমাসে উপমেয় পদের উল্লেখ থাকে না।]
অথবা, প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সঙ্গে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়র একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে। যেমন: - ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণ কেশ। [এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।] --------------------------- অন্যদিকে, • উপমিত কর্মধারয় সমাস: যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়। যেমন: - সোনার মতো মুখ = সোনামুখ। - বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।
এ সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উল্লেখ থাকে না। অথবা, সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সঙ্গে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়)। এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে। যেমন- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র। ---------------------- • রূপক কর্মধারয় সমাস: উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করে উপমান ও উপমেয় পদের যে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: - প্রাণরূপ পাখি = প্রাণপাখি। - মন রূপ মাঝি = মনমাঝি। [এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।]
উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬.
'যে অন্ধ তাকে আলো দাও'– বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
ক
অন্ধতে আলো দাও।
খ
অন্ধকে আলো দাও।
গ
অন্ধকে আলোতে চলতে দাও।
ঘ
অন্ধকে ব্যাক্তিকে আলো দাও।
ব্যাখ্যা
• 'যে অন্ধ তাকে আলো দাও'– বাক্যের সরল রূপ হচ্ছে - অন্ধকে আলো দাও।
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য: - জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়। যেমন: জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও। সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।
জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়। সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।
জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়। সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
"আমাকে একটি কলম দাও।" - কোন ধরনের বাক্য?
ক
আবেগবাচক বাক্য
খ
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
গ
অক্রিয় বাক্য
ঘ
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন, - আমাকে একটি কলম দাও। - তার মঙ্গল হোক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯.
"যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।" - যৌগিক বাক্যের রূপান্তর কোনটি?
ক
তুমি গেলে তার দেখা পাবে।
খ
তুমি গিয়ে তার দেখা পেতে পার।
গ
সেখানে তুমি গেলে, তার দেখা পাবে।
ঘ
তুমি যাবে এবং তার দেখা পাবে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য: যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। যেমন: - যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। - যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম। - যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
• "যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।" — এটি একটি জটিল বাক্য, কারণ এখানে "যদি–তবে" সাপেক্ষ যোজক ব্যবহার হয়েছে।
এখন একে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে দুটি স্বাধীন বাক্য ব্যবহার করতে হবে এবং যৌগিক যোজক (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা, না হলে, তাই, তাহলে ইত্যাদি) ব্যবহার করতে হবে।
যৌগিক রূপান্তর হতে পারে এইরকম: - তুমি যাবে এবং তার দেখা পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০.
কোন বাক্যটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ রয়েছে?
ক
হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
খ
তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
গ
কার কাছে গেলে জানা যাবে?
ঘ
মাথার উপরে নিল আকাশ।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: - যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। যেমন: • করে: ভালো করে খেয়ে নাও। • ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। • দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার। • বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
সাধারণ অনুসর্গ: - যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। যেমন: • উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ। • জন্য: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি। • কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে? • দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩১.
কোন বাক্যটি ভাববাচ্য?
ক
রোজিনা স্কুলে যায়।
খ
আমি বইটি পড়ি।
গ
আমার খাওয়া হলো না।
ঘ
সে বন্ধুদের নিয়ে বেড়ায়।
ব্যাখ্যা
• "আমার খাওয়া হলো না।" - ভাববাচ্যের উদাহরণ।
• ভাববাচ্য: - যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।
• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: - ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)
- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক। তেমনিভাবে, কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
অন্য অপশন: ক) রোজিনা স্কুলে যায়। → এটি কর্তৃবাচ্য, কারণ কর্তা (রোজিনা) নিজেই কাজ করছে। খ) আমি বইটি পড়ি। → এটি কর্তৃবাচ্য। ঘ) সে বন্ধুদের নিয়ে বেড়ায়। → এটি কর্তৃবাচ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২.
বাক্যের প্রধান দুটি অংশ -
ক
উদ্দেশ্য ও কর্তা
খ
উদ্দেশ্য ও ক্রিয়া
গ
উদ্দেশ্য ও বিধেয়
ঘ
উদ্দেশ্য ও কর্ম
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা: ১. উদ্দেশ্য, ২. বিধেয়।
⇒ উদ্দেশ্য: - বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে। যেমন: - মামুন বল খেলে। এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।
⇒ বিধেয়: - কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে। যেমন: - মামুন বল খেলে। এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়। ------------------- বাক্য: • এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে। • বাক্যের মাধ্যমে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়। যেমন - সজল ও লতা বই পড়ে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩.
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে বাক্যের কোন পদকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়?
ক
বিশেষ্য
খ
বিশেষণ
গ
অবয়
ঘ
ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম: কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়া-বিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে হয়। যেমন: • কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না। • ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।
• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে। • ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৩৪.
"শরতের পরে আসে বসন্ত।" - এ বাক্যে 'পরে' অনুসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক
স্বল্প বিরতি অর্থে
খ
দীর্ঘ বিরতি অর্থে
গ
পর্যন্ত
ঘ
অবধি
ব্যাখ্যা
• "শরতের পরে আসে বসন্ত" বাক্যে 'পরে' অনুসর্গটি - দীর্ঘ বিরতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। স্বল্প বিরতি অর্থে 'পরে' অনুসর্গটির প্রয়োগ = এই ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
আরো কিছু অনুসর্গের ব্যবহার: • ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। • 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে। • 'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। • 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। • 'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
কোনটি সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ?
ক
শিক্ষক ছাত্রকে প্রশ্ন করলেন।
খ
জমি থেকে ফসল দেখা যায়।
গ
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
ঘ
শিক্ষককে জানাও।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক: যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। - এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। - এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন - → ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
অন্যদিকে, ক) শিক্ষককে জানাও = কর্ম কারক। খ) ডাক্তার ডাক। - কর্মে শূন্য। ঘ) গাছ থেকে কাঠ পাই। "গাছ থেকে" → উৎস থেকে কিছু পাওয়া বোঝাচ্ছে, তাই এটিও অপাদান কারক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬.
'কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।' - বাক্যে 'টেবিল থেকে' অপাদান কারকে কোন বিভক্তি?
ক
দ্বিতীয়া
খ
তৃতীয়া
গ
চতুর্থী
ঘ
পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক: - যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে। - বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন: - জমি থেকে ফসল পাই। - কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল। - কুকর্মে বিরত হও।
বাক্য: "কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।" - পঞ্চমী বিভক্তিগুলো হচ্ছে - হতে, থেকে, চেয়ে ইত্যাদি।
সুতরাং, "কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।" - বাক্যটিতে নিম্নরেখ শব্দটি অপদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি যুক্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
"এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।" – এখানে "দ্বারা" কী ধরনের অনুসর্গ?
ক
বিশেষণ অনুসর্গ
খ
ক্রিয়া অনুসর্গ
গ
সর্বনাম অনুসর্গ
ঘ
সাধারণ অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• "এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।" – এখানে "দ্বারা" সাধারণ অনুসর্গ।
• সাধারণ অনুসর্গ: সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। যেমন: উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ। কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে? জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি। দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না। বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮.
"যথারীতি" এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
ক
যথা ও রীতি
খ
যথাকে রীতি
গ
রীতিকে অতিক্রম না করে
ঘ
যথা দ্বারা রীতি
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস: - পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। - অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন: - অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল, - শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল। - অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, - সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯.
"সে কাজটি করেছে" - এর ভাববাচ্য রূপ কী হবে?
ক
তার দ্বারা কাজটি হয়েছে।
খ
কাজটি করা হয়েছে।
গ
কাজটি সে করেছে।
ঘ
তার কাজটি করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• "সে কাজটি করেছে" — এর ভাববাচ্য রূপ - (খ) কাজটি করা হয়েছে।
মূল বাক্য: সে কাজটি করেছে। - এটি একটি কর্তাবাচ্য বাক্য।
কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম: • কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়। • কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- (১) কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং (২) ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
তাই "সে কাজটি করেছে" এর ভাববাচ্য রূপ হচ্ছে — "কাজটি করা হয়েছে"।