পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৭৭: সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা - ৮ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান টপিক: মানব সম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় পুরস্কার, খেলাধুলা, বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থা, স্থাপত্য ও অন্যান্য জাতীয় ইস্যু, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষা নীতি, প্রাথমিক শিক্ষা, শিক্ষা প্রশাসন (প্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউট), শিক্ষা কার্যক্রম ও উপবৃত্তি প্রকল্প। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই,জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিখ্যাত পত্রিকা রিপোর্ট ও Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
কোন পদক্ষেপটি বেকারত্ব দূর করার জন্য বেশি প্রযোজ্য?
  1. কারিগরি জ্ঞান
  2. শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন
  3. দ্রুত নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর হার বৃদ্ধি
  4. দ্রুত শিল্পায়ন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বেকারত্বের প্রভাব:
১. উৎপাদন ক্ষমতা ও জাতীয় হ্রাস পাচ্ছে। ফলে সময় এবং উপকরণ উভয়েরই অপচয় ঘটছে।
২. বেকারত্ব দেশের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে দিচ্ছে।
৩. বেকারত্ব কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে হতাশা ও ব্যর্থতার জন্ম দিচ্ছে যা সামাজিক সংঘাত ও কলহ সৃষ্টি করে।
8. বেকারত্বের অসহনীয় যন্ত্রণা মানুষকে সামাজিক আইন শৃঙ্খলার প্রতি বীতঃশ্রদ্ধ করে তোলে।
৫. বেকারত্বের ফলে কর্মক্ষম ব্যক্তি সমাজে বৈধ উপায়ে মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, যৌতুক প্রথা, চোরাকারবার, দুর্নীতি প্রভৃতি সমস্যা সৃষ্টি করে।
৬. পুষ্টিহীনতা, স্বাস্থ্যহীনতা, নিরক্ষতা ইত্যাদি সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে বেকারত্ব।
৭. সমস্যা সৃষ্টির ক্ষেত্রে মারাত্ম প্রভাব বিস্তার করে।
৮. নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর হার বৃদ্ধিতে বেকারত্ব সহায়তা করছে।

⇒ বেকার সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ:
- দ্রুত শিল্পায়ন: দেশে অধিক সংখ্যক কল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে বেকারত্ব কাটিয়ে ওঠা যায়।
- ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উন্নতি: আমাদের দেশে মৌসুমী বেকারত্ব দূর করতে হলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নতি সাধন করতে হবে।
- শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন: বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
- নারী শিক্ষা প্রসার: নারীদের জন্য উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করে তাদেরকে সুশিক্ষিত করে তুলতে হবে।
- কর্ম বিনিময় কেন্দ্র স্থাপন দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মবিনিময় কেন্দ্র স্থাপন করে, বেকারদের তালিকা প্রস্তুত, কাগজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর সমাধান করা যায়।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ: জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে হ্রাস করে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করে বেকার সমস্যা অনেকাংশে লাঘব করা যায়।
- দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করে বেকার সমস্যার সমাধান করা যাবে।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের মানব সম্পদ উন্নয়নে কোনটি প্রয়োজন?
  1. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
  2. খাদ্য ও পুষ্টিমান বৃদ্ধি
  3. শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানব সম্পদ উন্নয়ন:
- মানব সম্পদ উন্নয়ন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য উপাদান।
- মানব সম্পদ ছাড়া উন্নয়নের অন্যান্য উপাদান অর্থহীন হয়ে পড়ে।
- শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে মানব সম্পদকে অধিকতর দক্ষ ও উৎপাদনশীল করা যায়।
- কাজেই কর্মক্ষম জনশক্তিকে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে 'মানব সম্পদ উন্নয়ন' বলা যায়। 
- সুতরাং উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের কর্মদক্ষতা সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মানুষের অন্তর্নিহিত কর্মগুণ, সুপ্ত প্রতিভা, উন্নত ও বিকশিত করে তোলাই হল 'মানব সম্পদ উন্নয়ন'।

⇒ বাংলাদেশের মানব সম্পদ উন্নয়নে খাদ্য ও পুষ্টিমান বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সবগুলোই প্রয়োজন।

উৎস: i) শিক্ষা এবং উন্নয়ন, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশ সরকার কত সালে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- প্রথম দফায় জাতীয়করণ করা হয় ৩৬০১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

⇒ ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
.
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ 'বিজয় চেতন' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা সেনানিবাসে
  2. রংপুর সেনানিবাসে
  3. কুমিল্লা সেনানিবাসে
  4. সাভার সেনানিবাসে
ব্যাখ্যা
বিজয় চেতন:
- মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ 'বিজয় চেতন' ঢাকার সাভার সেনানিবাসের কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (সিএমপিসিঅ্যান্ডএস) চত্বরে -এ অবস্থিত।
- সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন।
- কোর অব মিলিটারি পুলিশের (সিএমপি) ১৭ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতির স্মরণে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নাম বিজয় কেতন।

উৎস: প্রথম আলো।
.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করা?
  1. NAPE
  2. NCTB
  3. NAEM
  4. NICAR
ব্যাখ্যা
NAPE:
- NAPE-এর পূর্ণরূপ: National Academy for Primary Education.
- প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রশিক্ষিত ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে যোগ্যতাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এ সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় দুই বছর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আইএড) কোর্স পরিচালিত হত।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজগুলো পরিবর্তন হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে শুরু হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহ কলেজ অব এডুকেশনে কশনে মৌলিক শিক্ষা একাডেমি (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও (National Academy for Primary Education)।
- ২০০৪ সালের ১লা অক্টোবর থেকে একাডেমি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়।

⇒ নেপের প্রশাসনিক ব্যবস্থপনায় নির্বাহী কর্মকর্তা- একজন মহাপরিচালক।
- নেপ পরিচালনার জন্য ১৪ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরস রয়েছে।

অন্যদিকে,
• NAEM (National Academy for Educational Management) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি।
• NICAR (National Implementation Committee for Administrative Reform) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠানটি রাবার নিয়ে গবেষণা করে?
  1. BFIU
  2. BFIDC
  3. BFRI
  4. BSFIC
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (BFIDC):
- বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৫৯ সালের ৩ অক্টোবর তারিখে প্রকাশিত ৬৭ নং অধ্যাদেশ বলে বর্তমান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (BFIDC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা।
- এর প্রধান কার্যালয় ৭৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় নিজস্ব ভবনে অবস্থিত।
- ১৯৬০-৬১ সনে কাপ্তাইস্থ কাঠ (লগ) আহরণ প্রকল্পের মাধ্যমে বিএফআইডিসি'র যাত্রা শুরু হয়।
- সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৬১-৬২ সালে বনবিভাগ হতে কর্পোরেশনের কাছে দেশের রাবার চাষ ও এর উন্নয়নের কার্যক্রম ন্যস্ত করা হয়।
- দেশের বনভূমি থেকে বনজ সম্পদ আহরণ, কাঠ ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, বনজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, প্রক্রিয়াজাত করা এবং রাবার বাগান সৃষ্টি, কাঁচা রাবার উৎপাদন ও বাজারজাত করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য,
- BFIDC রাবার নিয়ে গবেষণা করে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা BFIU।
- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন BSFIC.

উৎস: i) বাংলাদেশ রাবার বোর্ড ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
.
‘অভ্র’ কী-বোর্ড উদ্ভাবন-এর জন্য 'মেহদী হাসান খান' কোন পুরস্কার লাভ করেন?
  1. স্বাধীনতা পদক
  2. একুশে পদক
  3. রাষ্ট্রপতি পুরস্কার
  4. বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
ব্যাখ্যা
‘অভ্র’ কী-বোর্ড:
- ‘অভ্র’ কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন মেহদী হাসান খান।
- ২০২৫ সালের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একুশে পদক লাভ করেন অভ্র'র মেহদী হাসান খান ও রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম ও শাবাব মুস্তাফা।

• একুশে পদক ২০২৫:
- বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশের ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে ২০২৫ সালের একুশে দেওয়া হয়েছে।
- তাদের মধ্যে ছয়জনই মরণোত্তর এ সম্মাননা পেয়েছেন।

⇒ পুরস্কার প্রাপ্তরা -
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেহদী হাসান খান, রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম ও শাবাব মুস্তাফা।
- সমাজসেবায় মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (মরণোত্তর)।
- ভাষা ও সাহিত্যে হেলাল হাফিজ (মরণোত্তর) ও শহীদুল জহির (মরণোত্তর)।
- চলচ্চিত্রে আজিজুর রহমান (মরণোত্তর)।
- সংগীতে ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর) ও ফেরদৌস আরা।
- আলোকচিত্রে নাসির আলী মামুন।
- চিত্রকলায় রোকেয়া সুলতানা।
- সাংবাদিকতায় মাহফুজ উল্লা (মরণোত্তর)।
- সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারে মাহমুদুর রহমান।
- সংস্কৃতি ও শিক্ষায় শহীদুল আলম।
- শিক্ষায় নিয়াজ জামান।
- গবেষণায় মঈদুল হাসান।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কার নেতৃত্বে গঠিত হয়?
  1. ড. মনিরুজ্জামান মিঞা
  2. ড. কুদরাত-ই-খুদা
  3. মোহাম্মদ আকরম খান
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:
- ড. কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়।

⇒ সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মানবসম্পদের উন্নয়নে শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
- দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে স্বাধীন দেশের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- এই লক্ষ্যে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।

এছাড়াও,
- শিক্ষা ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুননির্মাণ করা হয়।
- প্রথমবারের মতো সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় শিক্ষকদের পাওনা ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।
- সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেন।

অন্যদিকে,
- মওলানা আকরম খাঁ শিক্ষা কমিশন (১৯৪৯) প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সুপারিশ পেশ করার জন্য ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়।
- আতাউর রহমান খান শিক্ষা কমিশন (১৯৫৭) পূর্ব পাকিস্তান সরকার প্রদেশে শিক্ষার সার্বিক সংস্কার সুপারিশের জন্য ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে আতাউর রহমান খানকে চেয়ারম্যান করে একটি শিক্ষা কমিশন নিয়োগ করে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. গাজীপুর
  3. ময়মনসিংহ
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর:
- ১৯৭১: গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর খুলনায় অবস্থিত।
- এখানে আছে বাঙালির মুক্তি, স্বাধীনতার স্পৃহা আর মুক্তিযুদ্ধকালের সবচেয়ে মর্মন্তুদ পর্বের অসংখ্য নিদর্শন।
- সেগুলোর সামনে দাঁড়ালে দর্শনার্থীর চোখে ভেসে ওঠে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মমুহূর্তের যন্ত্রণার দিনগুলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের উৎসাহে ২০১৪ সালের ১৭ মে খুলনায় এই জাদুঘর যাত্রা শুরু করে।
- ২০১৫ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরের ২৬ সাউথ সেন্ট্রাল রোডের দ্বিতল একটি বাড়ি উপহার দেন।
- সংস্কারের পর ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ সেই বাড়িতে স্থানান্তর হয় জাদুঘরটি।
- ১৯৭১ সালের গণহত্যা-নির্যাতনের নিদর্শন সংরক্ষণ, বধ্যভূমি ও গণকবর-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, গণকবর ও বধ্যভূমি চিহ্নিত করা এবং গবেষণা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তারা।

উৎস: প্রথম আলো।
১০.
বাংলা সাহিত্যের গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৪' পেয়েছেন কে?
  1. মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া
  2. সলিমুল্লাহ খান
  3. ইমতিয়ার শামীম
  4. মুহাম্মদ সামাদ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমসাময়িক জীবিত লেখকদের সামগ্রিক মৌলিক অবদান চিহ্নিত করে তাঁদের সৃজনী প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করাই বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্য।
- প্রতি বছর মাসব্যাপী আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার প্রাপ্তদের পুস্কারের অর্থমূল্যের চেক, সম্মাননা পত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
- প্রতিটি পুরস্কারের মূল্যমান ৩,০০,০০.০০ (তিন লক্ষ) টাকা।
- ১৯৬০ সাল থেকে প্রবর্তন করা হয় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

⇒ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৪: 
• ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪' প্রদান করা হয়। তারা হলেন—
- কবিতায়: মাসুদ খান,
- নাটক ও নাট্যসাহিত্যে: শুভাশিস সিনহা,
- প্রবন্ধ/গদ্যে: সলিমুল্লাহ খান,
- অনুবাদে: জি এইচ হাবীব,
- গবেষণায়: মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া,
- বিজ্ঞানে: রেজাউর রহমান,
- ফোকলোরে: সৈয়দ জামিল আহমেদ।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১১.
বর্তমানে বাংলাদেশে কোন শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক? [জুন, ২০২৫]
  1. ৫ম
  2. ৭ম
  3. ৮ম
  4. ১০ম
ব্যাখ্যা
বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা:
- বর্তমানে বাংলাদেশে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক।
- সরকারি পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিনামূল্যে পড়াশুনা করতে পারে খুদে শিক্ষার্থীরা।

⇒ বাংলাদেশে, প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলক) আইন, ১৯৯০ অনুসারে, ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ (বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষা) রাষ্ট্রের একটি মৌলিক নীতি হিসাবে বাধ্যতামূলক শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

উল্লেখ্য,
- ২০১০ সালে করা জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষার স্তর অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক শিক্ষার স্তর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা বলা আছে।
- ছয় বছর পর ২০১৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
- ২০১৩ সাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালুর অনুমোদন দেওয়া শুরু হয়।
- সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত করে তা অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
- নানান সংকটের মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) প্রথম আলো।
১২.
ব্যানবেইস শিক্ষাক্ষেত্রে কোন ধরনের ভূমিকা রাখে?
  1. শিক্ষা অফিসারদের নিয়োগ প্রদান করা
  2. শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রকাশ করা
  3. শিক্ষকদের বেতন অনুদান বিতরণের দায়িত্ব এ সংস্থার
  4. শিক্ষকদের নিয়োগের ব্যবস্থা করে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস):
- প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অধীন ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে একটি স্কীমের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)’ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সম্পর্কিত তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সংরক্ষন, সংকলন ও প্রকাশনা উদ্দেশ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সংযুক্ত দপ্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সীমিত জনবল নিয়ে একজন পরিচালকের অধীনে ২ জন বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে।
- বর্তমানে একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে প্রধান কার্যালয়ে ১৭৫ জন এবং মাঠ পর্যায়ে এ ৬৪০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কাজ করছেন । 

⇒ ব্যানবেইস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংযুক্ত দপ্তর।
- এ সংস্থা শিক্ষা সম্পর্কীয় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য এজেন্সিকে সরবরাহ করে। 

⇒ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান সংরক্ষণ, সংকলন, সরবরাহ ও প্রচার করা।
- দেশে শিক্ষা শুমারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় জরিপসহ নানা ধরনের বিশ্লেষণধর্মী তথ্যের জন্য জনমত জরিপ করা।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোসহ অন্যান্য তথ্যের ডাটাবেইস প্রণয়ন ও Education GIS (School Mapping) এর মাধ্যমে ডাটা ওয়্যার হাউসকে সমৃদ্ধ করা।
- শিক্ষাতথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষা পরিকল্পনা ও মূলনীতি প্রণয়নকারী সংস্থাসমূহে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষায়িত ডিজিটাল লাইব্রেরি পরিচালনা করা।
- শিক্ষাক্ষেত্রে সকল ধরনের শিক্ষা সংক্রান্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে একটি শিক্ষা বিষয়ক জাতীয় ডকুমেন্টেশন সেন্টার পরিচালনা করা।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে সমন্বিত শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (আই.ই.আই.এম.এস.) প্রতিষ্ঠা করা এবং এর Focal Point হিসেবে কাজ করা।
- বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিয়মিত শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা।
- শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা কার্য পরিচালনা করা।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে আই. সি. টি. প্রশিক্ষণ প্রদান ও আই. সি. টি. শিক্ষা প্রসারে ব্যবস্থা গ্রহণ।
- উপজেলা পর্যায়ে আই.সি.টি. প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিক্ষার রিসোর্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
১৩.
বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (BDF) এর প্রতিষ্ঠাকালীন নাম কী ছিল?
  1. বাংলাদেশ উন্নয়ন কমিশন
  2. বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি
  3. বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কমিশন
  4. বাংলাদেশ এইড গ্রুপ
ব্যাখ্যা
BDF:
- BDF-এর পূর্ণরূপ- Bangladesh Development Forum.
- বিডিএফ হলো বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বা দাতাদের একটি ফোরাম ১৯৭৪ সালে গঠিত হয়।
- তখন এর নাম ছিলো বাংলাদেশ এইড গ্রুপ।
- ১৯৯৭ সালে এর নাম হয় 'প্যারিস কনসোর্টিয়াম গ্রুপ' এবং ২০০২ সালে এর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম।
- প্রথমদিকে এর বৈঠক প্যারিসে অনুষ্ঠিত হলেও ২০০৩ সাল থেকে এর বৈঠক নিয়মিতভাবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
- বিশ্বব্যাংক এই ফোরামের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) Economic Relations Division ওয়েবসাইট।
১৪.
'মোদের গরব' ভাস্কর্যের নকশাকার কে?
  1. শ্যামল চৌধুরী
  2. অখিল পাল
  3. শামীম সিকদার
  4. হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
মোদের গরব:
- মোদের গরব বাংলা একাডেমী ভবনের সামনে অবস্থিত একটি ভাস্কর্য।
- ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানানো হয়।
- এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদদের সম্মানে এই ভাস্কর্যটি তৈরী করা হয়।
- মোদের গরব ভাস্কর্যটির নকশাকার ও নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান ভাস্কর শিল্পী অখিল পাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রশিক্ষণের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. টিটিসি
  2. পিএটিসি
  3. নায়েম
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
NAEM:
- NAEM-এর পূর্ণরূপ: National Academy for Educational Management.
- দেশের শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত নায়েম ।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।

⇒ ১৯৫৯ সালে এটি এডুকেশন এক্সটেনশন (EEC) সেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- স্বাধীনতার পরে ১৯৭৫ সালে এ সংস্থা বাংলাদেশ শিক্ষা সম্প্রসারণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (BEERI) হিসেবে বাংলাদেশের কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক, প্রশাসক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের গবেষণা ও ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিয়োজিত ছিল।
- অতিরিক্ত ব্যয় হ্রাস ও কার্যকরী শিক্ষা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে (NIEMR) ও বিরি (BEERI)-কে একীভূত করে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর এডুকেশনাল এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক্সটেনশন এন্ড রিচার্স (NIEAER) নামে অভিহিত করেন।
- নিয়েয়ারকে আবারও পরিবর্তন করে ১৯৯২ সালে জাতীয় ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম) হিসাবে নামকরণ করা হয়।
- বর্তমানে এর প্রধান দায়িত্ব বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানদের শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা, মহাপরিচালক এই একাডেমির নির্বাহী প্রধান।

⇒ নায়েম এ চারটি বিভাগ রয়েছে।
- এ বিভাগগুলো হলো- পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ, প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগ, প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ এবং গবেষণা ও তথ্যায়ন বিভাগ।
- নায়েমের প্রশাসনিক কাঠামোয় রয়েছেন ১৪ সদস্যের একটি বোর্ড অব গভর্র্নস, যার সভাপতি শিক্ষামন্ত্রী এবং সদস্য সচিব প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক। 

উৎস: i) বাংলাদেশের শিক্ষা, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৬.
বাংলাদেশে একমাত্র 'World Trade Center' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. মুন্সীগঞ্জ
  3. নারায়ণঞ্জ
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম ও একমাত্র 'ওয়ার্ল্ড' ট্রেড সেন্টার:
- দ্যা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার চট্টগ্রাম বাংলাদেশে প্রথম ও একমাত্র বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
- এটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত।
- চট্টগ্রাম চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অর্থায়নে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে।
- ২১ তলা ভবনের শীর্ষস্থানীয় এই ভবনটির উচ্চতা ৯০,৭০ মিটার (২৯৮ ফুট)।
- সব আধুনিক সুবিধার ব্যবস্থাসহ ট্রেড সেন্টারটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে আমদানির-রপ্তানিসহ দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সাহায্য করে।
- ভবনটি ২০১৬ সালে উদ্বোধন করা হয়ে।

উল্লেখ্য,
- এই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৩২৭টি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।

উৎস: World Trade Center Chittagong ওয়েবসাইট।
১৭.
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এ কোন শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর বিবেচিত হয়েছে?
  1. ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি
  2. অষ্টম-দশম শ্রেণি
  3. নবম-দশম শ্রেণি
  4. নবম-দ্বাদশ শ্রেণি
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর বিবেচিত হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০:

- জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বিধৃত সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাসমূহ (সংযোজনী-১) বিবেচনায় রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশন, যেখানে প্রত্যেক সদস্য দেশে সকল শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানের উপযোগী মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কারমুক্ত, পরমতসহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক এবং কর্মকুশল নাগরিক গড়ে তোলা। পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমেই জাতিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুষম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞান মনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও রণকৌশল হিসেবে কাজ করবে। 

উল্লেখ্য, 
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারন করা হবে। এটি বাস্তবায়নে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা। প্রাথমিক স্তরের শেষ তিন শ্রেণীতে অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জীবন পরিবেশের উপযোগী প্রাক-বৃত্তিমূলক এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা প্রদান করা হবে, যাতে যারা কোনো কারণে আর উচ্চতর পর্যায়ে পড়বে না এ শিক্ষার ফলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারে।
- নতুন শিক্ষা কাঠামোয় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর হিসেবে বিবেচিত হবে। এই স্তরের শিক্ষাশেষে শিক্ষার্থীরা সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধারায় যাবে, নয়তো অর্জিত বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভিত্তিতে বা আরো বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকার্জনের পথে যাবে। 

উল্লেখ্য,
- 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০' অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। রয়েছে শিক্ষক সংকট। নানান সংকটের মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে প্রাথমিক শিক্ষা। 

উৎস: i) জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।
১৮.
কত সালে ইউনেস্কো পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকেকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- এই মহাবিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি প্রাচীন বাংলার একটি বৌদ্ধ বিহার।

⇒ পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- এর দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট।
- মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল।

⇒ পূর্বভারতে জরিপ কাজ পরিচালনাকালে ১৮০৭ ও ১৮১২ সালে বুকানন হ্যামিল্টন সর্ব প্রথম প্রত্নস্থলটি পরিদর্শন করেন।
- পরবর্তীকালে ওয়েস্টম্যাকট পাহাড়পুর পরিভ্রমণে আসেন।
- স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে এ স্থান পরিদর্শন করেন ও ২২ ফুট বর্গাকার একটি ইমারত আবিষ্কার করেন।
- প্রত্নস্থলটি ১৯০৯ সালের পুরাকীর্তি আইনের আওতায় ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ কর্তৃক ১৯১৯ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৯.
মানব সম্পদ উন্নয়নের অপরিহার্য উপাদান হলো -
  1. স্বাস্থ্যসেবা
  2. শিক্ষা
  3. কর্মসংস্থান
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানব সম্পদ উন্নয়নের উপাদানসমূহ:
- সম্পদ মূলত আংশিকভাবে জ্ঞানগত এবং আংশিকভাবে অর্জিত।
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য উপাদানই হচ্ছে মানব সম্পদ।
- মানব সম্পদ ছাড়া উন্নয়নের অপরাপর উপাদান অকেজো হয়ে পড়ে।
- মানব সম্পদ যেহেতু আংশিকভাবে অর্জিত, সেহেতু তার উন্নয়ন সম্ভব এবং সম্পদে রূপান্তরিত করতে বিভিন্ন চিন্তাবিদ ভিন্ন ভিন্ন শর্ত আরোপ করেছেন যা মানব সম্পদ উন্নয়ন উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মানব সম্পদ উন্নয়ন মূলত একটি প্রক্রিয়া।
- মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কার্যাবলির ফলে কর্মী তার কাজ করে এবং এর উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করে।

⇒ অর্থনীতিবিদ Gunar Myrdal মানব সম্পদ উন্নয়নে আটটি অপরিহার্য উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো:
- স্বাস্থ্য সুবিধা;
- শিক্ষা;
- খাদ্য ও পুষ্টি;
- দক্ষতা;
- জনসংযোগ মাধ্যম;
- কর্মসংস্থান;
- পরিবহন;
- শক্তি ভোগ (Power Resources; বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ইত্যাদি)।

উৎস: শিক্ষা এবং উন্নয়ন, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।