পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
বাংলাদেশের ইতিহাস: ব্রিটিশ আমলে সংঘটিত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে তিতুমীর শহীদ হন -
  1. ক) ১৮৬৭ সালে
  2. খ) ১৮৯৫ সালে
  3. গ) ১৮৩১ সালে
  4. ঘ) ১৮৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
তিতুমীরের কৃষক বিদ্রোহ
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১) পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিতুমীর প্রথম জীবনে নদীয়া জেলার জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করেন।
- পরবর্তীতে তিনি হজ্জ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যান। সেখানে গিয়ে ওহাবী আন্দোলনের নেতা সৈয়দ আহমদ বেরেলভির সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন।
- তিতুমীর দেশে ফিরে একদিকে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন অপরদিকে জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। 
- শীঘ্রই পশ্চিম বাংলার বিশাল অঞ্চল জুড়ে তিতুমীরের নেতৃত্বে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়। অত্যাচারী নীলকর, জমিদার ও ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে একাধিক জায়গায় তিতুমীরের বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। 
- চূড়ান্ত সংঘর্ষ বাঁধে বারাসাতের অদূরে নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে। 
- সেখানে তিতুমীর বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে শাসকগোষ্ঠির আক্রমণের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। 
- আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কর্ণেল সুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বাহিনীর কামানের গোলার আঘাতে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। 
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ সম্মুখ যুদ্ধে ৫০ জন সহযোদ্ধাসহ তিতুমীর শহীদ হন।
-  এভাবে তিতুমীরের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলার কোন বিপ্লবী জার্মান থেকে অস্ত্র সাহায্যের আশ্বাস পান?
  1. ক) অরবিন্দ ঘোষ
  2. খ) প্রফুল্য চাকি
  3. গ) বাঘা যতীন
  4. ঘ) বারীন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলায় বিপ্লবীদের মধ্যে একদল বিদেশ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে সম্মুখ যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে থেকে ক্ষমতা দখলের নীতি গ্রহণ করে।
- এঁদের মধ্যে ছিলেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন, ডা. যদুগোপাল মুখোপাধ্যায়, নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য প্রমুখ।
-  নরেন্দ্র নাথ পরে এম.এন.রায় নামে বিখ্যাত হন। 
- তাঁরা ইংরেজ বিরোধী শক্তি জার্মানি থেকে অস্ত্র সাহায্যের আশ্বাস পান। 
- কিন্তু ইংরেজ সরকার বিপ্লবীদের এ চক্রান্তের কথা আগেই জেনে যাওয়ায় জার্মানির জাহাজ আসার পথ রুদ্ধ হয়। 
- এ দিকে বাঘা যতীন ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গী উড়িষ্যার বালেশ্বরে জার্মান জাহাজের উপস্থিতির আশায় হাজির হয়েছিলেন। 
- তাঁদের আগমনের সংবাদ পেয়ে কলিকাতা থেকে পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্ট একদল সশস্ত্র পুলিশ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।
- বাঘা যতীন ও তাঁর সহকর্মীদের সাথে পুলিশ বাহিনীর গুলি বিনিময়কালে চিত্ত প্রিয় নামের একজন বিপ্লবী নিহত হন। 
- অন্য তিন আহত সহকর্মীসহ বাঘা যতীন ধরা পড়েন এবং বন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে । 
- তাঁর দুই সহকর্মীর ফাঁসি হয় এবং একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
নীল বিদ্রোহের সূচনা হয় কোথায়?
  1. ক) বারাসাত
  2. খ) পাবনা
  3. গ) হুগলি
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
- ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে কাঁচামাল সংগ্রহের একটি ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয় ব্রিটেনের বাংলা উপনিবেশ। 
- বস্ত্র শিল্পের রঞ্জক হিসেবে নীলের চাষ ও তা ইংল্যান্ডে রপ্তানি করে প্রচুর মুনাফার সম্ভাবনা সূত্র খুঁজে পায় নীলকরেরা। 
- রায়তদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করে তারা। কিন্তু অলাভজনক হওয়ায় রায়তেরা নীলচাষে অনাগ্রহ প্রকাশ করে ।
- নীলকরদের অত্যাচারে ঐক্যবদ্ধ কৃষক সমাজ ১৮৫৯ - ৬২ খ্রি. পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত সময়ে নীল বিদ্রোহ গড়ে তোলে।
- নীল বিদ্রোহের সূচনা হয় বারাসাতে। 
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে নদীয়া, পাবনা, মুর্শিদাবাদ ও অন্যান্য নীলচাষভুক্ত এলাকায়।
- ১৮৬০ খ্রি. নীল বোনার মৌসুম শুরু হলে একযোগে সকল চাষী নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। 
- অন্যদিকে নীলকরেরাও গ্রামে গ্রামে লাঠিয়াল পাঠিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে, শারীরিক নির্যাতন ও আদালতে হয়রানিমূলক মামলা করে বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা করে ।
- সরকার ১৮৬০ খ্রি. নীল কমিশন গঠন করে।
- কমিশনের সুপারিশে রায়তের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে নীলচাষে বাধ্য করাকে আইনত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়। 
.
আইন অমান্য আন্দোলনের পটভূমি কোনটি?
  1. ক) ক্রিপস কমিশন
  2. খ) সাইমন কমিশন
  3. গ) নাথান কমিশন
  4. ঘ) ফ্লাউড কমিশন
ব্যাখ্যা
- আইন অমান্য আন্দোলন  ১৯৩০ সালে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হয়।
- এ আন্দোলনের পটভূমি হলো সাইমন কমিশন।
- ভারতের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন এবং তা চূড়ান্তকরণের জন্য ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক সাইমন কমিশন গঠিত হয়।
- কেবল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের নিয়ে এ কমিশন গঠিত হওয়ার কারণে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের সব ধরনের নেতা ও কর্মীরা এটিকে পুরোপুরি একটি শ্বেতাঙ্গ কমিশন বলে বর্জন করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ কোনটি?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. ঘ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
- ফকির-সন্ন্যাসীদের বিদ্রোহ ছিল বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ। 
- ১৭৬৩ থেকে ১৮০০ খ্রি.- এই দীর্ঘ সময় ধরে চলে ফকির সন্ন্যাসীদের বিদ্রোহ।
- এই ফকির-সন্ন্যাসীরা ছিলেন বাংলারই অধিবাসী। 
- ফকিরেরা ছিলেন সুফি সম্প্রদায়ের মাদারিয়া শ্রেণীভুক্ত। 
- আর সন্ন্যাসীরা ছিলেন বৈদান্তিক হিন্দু যোগী। 
- এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যারা মুঘল সাম্রাজ্যের সৈন্যদল থেকে বাদ পড়া সদস্য, আবার অনেকে ছিলেন ভূমিহীন কৃষক। 
- তবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, এই ফকির-সন্ন্যাসীরা ছিলেন এদেশেরই স্থায়ী অধিবাসী। 
- ধর্মীয় দিক থেকে ফকির-সন্ন্যাসীদের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ ফকির-সন্ন্যাসীদের মধ্যে মিলনের সাধারণ ক্ষেত্র তৈরি করে এবং তারা একই পতাকাতলে সমবেত হন।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়। 
.
‘কার্পাস বিদ্রোহ’ কোথায় সংগঠিত হয়?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) সিলেট
  3. গ) পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. ঘ) বৃহত্তর ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৬ সাল থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত চাকমাদের বিদ্রোহ ‘কার্পাস বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলার চাষ হতো এবং কর হিসেবে চাকমারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে তুলা প্রদান করতে হতো।
- মোট চারবার চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। 
- ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যভাগে চাকমারা প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
-  এই বিদ্রোহের নায়ক ছিলেন চাকমা দলপতি রাজা সের দৌলত ও তার সেনাপতি রামু খাঁ। 
- ১৭৮৭ সালে চাকমা রাজা ও ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে কার্পাস বিদ্রোহের অবসান হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস : সিরাজুল ইসলাম এবং দৈনিক প্রথম আলো, ntvbd.com)
.
সিপাহী বিদ্রোহ সংগঠিত হওয়ার জন্য দায়ী কোন অস্ত্র?
  1. ক) LSAT Rifle
  2. খ) T48 Rifle
  3. গ) Enfield Rifle
  4. ঘ) Metford Rifle
ব্যাখ্যা
- ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ কোন একক কারণে হয়নি। 
- ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের পরে কোম্পানির একশ বছরের অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনার প্রতিবাদ হল সিপাহী বিদ্রোহ। 
 
প্রত্যক্ষ কারণ/তাৎক্ষণিক কারণ : 
বিভিন্ন কারণে সিপাহী বিদ্রোহ সংগঠিত হয়, নিম্নে সেগুলো আলোচনা করা হল :
- কোম্পানি সামরিক বাহিনীতে ‘Enfield Rifle' নামক এক প্রকার নতুন অস্ত্রের প্রচলন শুরু করে, যার কার্তুজ দাঁত দিয়ে কাটতে হয়। 
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মিশ্রিত আছে যা যথাক্রমে মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ে ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
- এ ঘটনা সিপাহীদের বিদ্রোহী করে তোলে এবং ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হয় যা মূলত ইংরেজদের প্রতি একশ বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহি:প্রকাশ।
 
 উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
ব্রিটিশ আমলে কোন আন্দোলন হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি হওয়ার জন্য দায়ী?
  1. ক) ভারত ছাড় আন্দোলন
  2. খ) স্বদেশী আন্দোলন
  3. গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের উগ্রপন্থিদের নেতৃত্বে যে বয়কট আন্দোলন সংগঠিত হয় তা স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী সবকিছুর ব্যবহার।
- বাংলার মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি বরং এর বিরোধিতা করে। যার কারণে এই আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।
- বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতির যে সূচনা হয়, স্বদেশী আন্দোলনের ফলে তা আরো তিক্ত হয়। যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথম সূত্রপাত ঘটে -
  1. ক) বিহারে
  2. খ) বাংলায়
  3. গ) মহারাষ্ট্রে
  4. ঘ) উত্তর ভারতে
ব্যাখ্যা
- সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথম সূত্রপাত ঘটে মহারাষ্ট্রে। 
- কিন্তু পরে এ আন্দোলন অধিক জোরদার হয়ে উঠে বাংলায়। 
- বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলনে সরকারী দমন নীতির মোকাবেলায় বাংলার এক শ্রেণির যুবক বিপ্লব ও সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নেয়। 
- বিভিন্ন গুপ্ত সমিতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা বৈপ্লবিক ক্রিয়াকর্ম পরিচালনা করে এবং সশস্ত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৃটিশ সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করে। 
- গুপ্ত সমিতিগুলোর মধ্যে ‘ঢাকার অনুশীলন সমিতি' ও কলকাতার ‘যুগান্তর সমিতি' ছিল প্রধান। 
- সারাদেশে এসব সংগঠনের অনেক শাখা প্রশাখা ছিল। 
- ‘যুগান্তর’ নামে যুগান্তর সমিতির একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও বের হতো।
-  এ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষ, ভূপেন্দ্ৰ নাথ দত্ত প্রমুখ বিপ্লবীগণ। ঢাকার অনুশীলন সমিতির প্রধান সংগঠক ছিলেন পুলিন বিহারী দাস। 
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, ইতিহাস ১ম পত্র; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১০.
বিশ শতকের গোড়ার দিকে উত্তপ্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনকে প্রশমিত করার পদক্ষেপ কোনটি?
  1. ক) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  2. খ) চার্টার অ্যাক্ট
  3. গ) চেমসফোর্ট-মন্টেগু সংস্কার আইন
  4. ঘ) রেগুলেটিং অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা
- বিশ শতকের প্রথমদিকে উত্তপ্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনকে প্রশমিত করার জন্য মর্লি-মিন্টো সংস্কার ছিল একটা কৌশলগত পদক্ষেপ। 
- ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রবর্তনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালে ইন্ডিয়া অ্যাক্ট পাস করে যা মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন নামে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে আইন সভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল না। 
- তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করায় স্বভাবতই তারা খুশী হয়, যদিও কংগ্রেস এতে ক্ষুব্ধ ছিল
কংগ্রেসের নরমপন্থীরাও সন্তুষ্ট ছিল না ।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের সংস্কার আইন ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়।
- আইন সভার নির্বাচিত সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন না। তাছাড়া তাদেরকে কোন ক্ষমতাও দেয়া হয়নি। 
- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন সভাগুলোতে তারা সব সময়ই সংখ্যালঘু ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এ সংস্কার আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রতিনিধিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোন ইচ্ছাই ইংরেজদের ছিল না।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১.
নিচের কোনটি সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল?
  1. ক) দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন
  2. খ) ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা
  3. গ) বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠন
  4. ঘ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
- সিপাহি বিদ্রোহকে বলা হয় ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। 

ফলাফল ও মূল্যায়ন : 
- সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল সুদূরপ্রসারী। 
- এ বিদ্রোহ সফল না হলেও এটি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মূলে প্রচন্ড আঘাত হানে।
-  ১৮৫৮ সালে বিদ্রোহ শেষে এক ঘোষণা বলে মহারাণী ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন এবং অবসান হয় একশ বছরের কোম্পানি শাসন। 
- ব্রিটিশ রাজ ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা করে। 
- সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।
-  বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয়। 
- ভারতবর্ষের বিষয়াবলী দেখাশোনার জন্য ‘ভাইসরয়’ নামক একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। এভাবে ইংরেজরা তাদের শাসনকার্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণার মূল কারণ কোনটি?
  1. ক) ব্রিটিশ স্বার্থ
  2. খ) বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন
  3. গ) মুসলমানদের দুর্বল রাজনীতি
  4. ঘ) হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি স্থাপন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন
বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববাংলার জনগণের সার্বিক উন্নতি হবে এ আশাবাদ থেকে পূর্ববাংলায় নতুন প্রদেশের প্রতি সমর্থন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বাংলার হিন্দু সম্প্রদায় প্রধানত দুইটি কারণে বঙ্গভঙ্গের ঘোর বিরোধিতা করে । 

- প্রথমত, বাংলার রাজনীতি, অর্থনীতি ব্যবসা-বাণিজ্য, ইত্যাদি সবকিছু কলকাতাকেন্দ্রিক হিন্দু সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। 
নতুন প্রদেশ গঠনের ফলে তাদের স্বার্থে চরম আঘাত লাগে। 
- দ্বিতীয়ত, দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী হিন্দু নেতৃবৃন্দের নিকট বাংলা বিভক্তি ছিল ‘মাতৃভূমির অঙ্গচ্ছেদ' এর মত। 
- বঙ্গভঙ্গকে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ব্রিটিশ ষড়যন্ত্র বলে অ্যাখায়িত করে তাঁরা এর ঘোর বিরোধিতায় অবতীর্ণ হন।
- এ সকল কারণে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন দ্রুত বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
 - এক পর্যায়ে, স্বদেশীপণ্য ব্যবহার এবং বিদেশী পণ্য বর্জনের কর্মসূচি যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করে। 
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়ে। 
- কুমিল্লা, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, রাজশাহীসহ পূর্ব বাংলায় বহু স্থানে হিন্দু-মসুলমান সম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠিত হয়। 
- আন্দোলন তীব্র হলে ব্রিটিশ সরকার নত হতে বাধ্য হয় । 
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন। 
- একই সঙ্গে, তিনি ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের কথা বলেন।
 
 উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩.
'তেভাগা আন্দোলন' মূলত কাদের আন্দোলন?
  1. ক) শ্রমিক
  2. খ) বর্গাচাষি
  3. গ) জেলে
  4. ঘ) বাস্তুহারা
ব্যাখ্যা
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন। 
- তেভাগা শব্দের আভিধানিক অর্থ ফসলের তিন অংশ। প্রচলিত অর্থে ভাগচাষি তাদের ভাগচাষের অধিকারস্বরূপ উৎপাদনের সমান অংশ বা দুই ভাগের এক ভাগ পাওয়ার অধিকারী।
-  ভূমি নিয়ন্ত্রণের শর্তাদি অনুযায়ী শস্য ভাগাভাগির বিভিন্ন পদ্ধতি বর্গা, আধি, ভাগি ইত্যাদি নামে পরিচিত। 
- ১৯৪৬-৪৭ সালে ভূমিমালিক এবং ভাগচাষিদের মধ্যে উৎপাদিত শস্য সমান দুই ভাগ করার পদ্ধতির বিরুদ্ধে বর্গাদাররা প্রবল এই আন্দোলন গড়ে তোলে।
-  এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। 
-  আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়। 
- আন্দোলনটি নিশ্চিতভাবেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করেছিল। 
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
১৪.
নিম্নের কোন আন্দোলন সবার শেষে সংগঠিত হয়েছিল?
  1. ক) আইন অমান্য আন্দোলন
  2. খ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  3. গ) তেভাগা আন্দোলন
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন। ১৯৪৬-৪৭ এবং ১৯৪৮-৫০ দুই দফায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনে দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- এই আন্দোলন কৃষকসভার কমিউনিস্টদের মাধ্যমে রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় সংঘটিত হয়।
- নাচোলের রানী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলনের একজন নেত্রী।

- স্বদেশী আন্দোলন : ১৯০৫ সালে
- আইন অমান্য আন্দোলন : ১৯৩০ সালে
- ভারত ছাড় আন্দোলন : ১৯৪২ সালে।

(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৫.
ভারতীয় উপমহাদেশে 'খিলাফত আন্দোলন' সূচিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯১৪ সালে
  2. খ) ১৯১১ সালে
  3. গ) ১৯২৪ সালে
  4. ঘ) ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯-১৯২৪) 
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন। 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয় এবং সেভার্স চুক্তির (আগস্ট ১০, ১৯২০) অধীনে তুরস্কের ভূখন্ড ইউরোপীয় শক্তিগুলির মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হওয়ায় ইসলামের পবিত্র স্থানসমূহের ওপর খলিফার অভিভাবকত্ব নিয়ে ভারতে আশংকা দেখা দেয়। 
- এ কারণে তুর্কি খিলাফত রক্ষা এবং গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপীয় শক্তিগুলির তুরস্ক সাম্রাজ্যকে বাঁচানোর জন্য ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খিলাফত আন্দোলন শুরু হয়।
- আলী ভ্রাতৃদ্বয় মুহম্মদ আলী ও শওকত আলী,  আবুল কালাম আজাদ, ড. এম.এ আনসারী ও হসরত মোহানীর নেতৃত্বে এ আন্দোলন সূচিত হয়। 
- উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে খিলাফত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রাদেশিক শাখার বিধানসহ বোম্বাই শহরে একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি গঠিত হয়। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৬.
'অসহযোগ আন্দোলন' সংগঠিত হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. ক) ভারত শাসন আইন
  2. খ) রাউলাট আইন
  3. গ) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয় তার সূত্র ধরে ভারতীয়রা ইংরেজদের কাছ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন এ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। 
- অপরদিকে এ সময় ব্রিটিশ সরকার ‘রাউলাট আইন' পাশ করে। এ আইনে শান্তি-শৃংখলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে কাউকে বিনা বিচারে দীর্ঘ সময়ের জন্য আটক করে রাখার বিধান করা হয়। এ আইনের ব্যাপারে জনমনে যখন অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছিল তখন আরেকটি ঘটনা ঘটে। 
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ নামক স্থানে চতুর্দিকে প্রাচীর ঘেরা একটি মাঠে কয়েক হাজার মানুষ প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। ব্রিটিশ সরকার এই নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালায় এবং এতে প্রায় চারশ মানুষ নিহত এবং অনেকে আহত হয়। 
 
- এমতাবস্থায়, ১৯১৯ সালে ব্রিটিশদের দমন ও পীড়নমূলক কার্যকলাপের প্রতিবাদে মহাত্মাগান্ধীর আহবানে সমগ্র ভারতব্যাপী যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা অসহযোগ আন্দোলন নামে পরিচিত। এ আন্দোলনের প্রকৃতি ছিল অহিংস। একই সময়, ভারতের মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন গড়ে ওঠে।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৭.
ফরায়েজী আন্দোলন কোন শতকে গড়ে ওঠা একটি সংস্কার আন্দোলন?
  1. ক) আঠারো শতকে
  2. খ) ঊনিশ শতকে
  3. গ) সতেরো শতকে
  4. ঘ) বিংশ শতকে
ব্যাখ্যা
- ফরায়েজী আন্দোলন  ঊনিশ শতকে বাংলায় গড়ে ওঠা একটি সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ফরায়েজী শব্দটি ‘ফরজ’ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কাজেই ফরায়েজী বলতে তাদেরকেই বোঝায় যাদের লক্ষ্য হচ্ছে অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ কার্যকর করা।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- তিনি অবশ্য শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, অবশ্য পালনীয়ই হোক বা ঐচ্ছিকই হোক, কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সকল ধর্মীয় কর্তব্যই এর অন্তর্ভুক্ত।
- শরীয়তউল্লাহ হজ্ব পালনের জন্য মক্কায় যান এবং সেখানে বিশ বছর অবস্থান করে হানাফি শাস্ত্রজ্ঞ শেখ তাহির সোম্বলের নিকট ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান যে, বাংলার মুসলমানদের একটি অংশ বহুবিধ স্থানীয় লোকাচার ও পর্ব-উৎসব পালনে উৎসাহী হয়ে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রতি চরম উদাসীন হয়ে উঠেছেন।
- সে কারণেই তিনি ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন এবং কালক্রমে এ আন্দোলন সমগ্র পূর্ববঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।