পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৬ টপিক: - রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, - হৃৎপিণ্ড - বিগত সালের প্রশ্ন। শ্বসনতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র [ক্লাস – ৩৪, ৩৫] (২য় রাউন্ড)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
হৃদপিণ্ডের সংকীর্ণ বা বন্ধ হয়ে যাওয়া রক্তনালীতে বেলুন বা স্টেন্ট ব্যবহার করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. বাইপাস সার্জারি
  2. এনজিওপ্লাস্টি
  3. হার্ট ভালভ রিপ্লেসমেন্ট
  4. পেসমেকার স্থাপন
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
ব্যাখ্যা

• এনজিওপ্লাস্টি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে হৃদপিণ্ডের ধমনিতে সরু নালীর মাধ্যমে বেলুন ফুলিয়ে রক্ত চলাচলের পথ প্রশস্ত করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানে ধাতব রিং বা স্টেন্ট বসিয়ে ব্লক দূর করা হয়।

• এনজিওপ্লাস্টি: 

- এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো। 
- এনজিও (Angio) শব্দের অর্থ হল রক্তনালী এবং প্লাস্টি (Plasty) শব্দের অর্থ হল ঢিলা করে দেওয়া। 
- এই পদ্ধতিতে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর মধ্যকার চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়া পথ প্রশস্থ বা ঢিলা করে দেওয়া হয়। 
- যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়েছিল সেই একই পথে ক্যাথেটারের সংগে বেলুন প্রবেশ করানো হয়। 
- তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করনারী ধমনীর সরু অংশকে প্রশস্থ করা হয়, এতে করে ধমনীর ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়। 
- ধমনীর এই প্রশস্থতা ধরে রাখতে রিং বসানো হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

.
একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের ফুসফুস সর্বোচ্চ কত লিটার বায়ু ধারণ করতে পারে?
  1. ২ লিটার
  2. ৪ লিটার
  3. ৬ লিটার
  4. ৮ লিটার
সঠিক উত্তর:
৬ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ লিটার
ব্যাখ্যা

• একজন পূর্ণাঙ্গ ও সুস্থ মানুষের ফুসফুসের মোট বায়ু ধারণ ক্ষমতা (Total Lung Capacity) গড়ে প্রায় ৬ লিটার। 
- তবে ব্যক্তিভেদে, বিশেষ করে উচ্চতা, লিঙ্গ এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণের কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

ফুসফুস (Lungs): 
- মানুষের হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মত নরম দুটি ফুসফুস থাকে। 
- বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুসটি আকারে বড় ও তিন লোব বিশিষ্ট। 
- ফুসফুস দুই স্তর যুক্ত প্লিউরা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- ভেতরের পর্দাকে ভিসেরাল প্লিউরা এবং বাইরের পর্দাকে প্যারাইটাল প্লিউরা বলে। 
- ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘতম কোষ হিসেবে নিচের কোনটি পরিচিত?
  1. অস্টিওব্লাস্ট
  2. শুক্রাণু
  3. নিউরন
  4. মলিকুলার কোষ
সঠিক উত্তর:
নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউরন
ব্যাখ্যা

নিউরন: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হলো মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের একক নিউরন, আর অসংখ্য নিউরন নিয়ে গঠিত হয়েছে মস্তিষ্ক। 
- প্রাণিদেহের যে তন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে, বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষা করে, সে তন্ত্রকে স্নায়ুতন্ত্র বলে। 
- মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘতম কোষ হলো নিউরন যা প্রায় 1.37 মিটার লম্বা। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
মানবদেহের কোন অংশে বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়?
  1. রক্তনালিতে
  2. অগ্ন্যাশয়ে
  3. কোষের অভ্যন্তরে
  4. ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
ব্যাখ্যা

শ্বসন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণী বিরামহীনভাবে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে, সে অক্সিজেনের সাহায্যে কোষ মধ্যস্থ সরল খাদ্যকে জারিত করে খাদ্যস্থিত স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তিতে রূপান্তর করে এবং এতে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO2) দেহ হতে ত্যাগ করে তাকে শ্বসন (Respiration) বলে।
- শ্বসনের দুইটি পর্যায় থাকে। 
যথা- ১। বহিঃশ্বসন (External respiration) ও ২। অন্তঃশ্বসন (Internal respiration)। 
- ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের বায়ুর সাথে ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার মধ্যে প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের সময় যে গ্যাসীয় আদান প্রদান হয় তাকে বহিঃশ্বসন বলে। 
- অপরদিকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2) দেহের কলাকোষে প্রবেশ করে কোষস্থ খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও পানি উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে অন্তঃশ্বসন বলে। 
- এতে নিম্নের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে- 
 
- যে সকল অঙ্গ সম্বিলিতভাবে দেহ ও প্রকৃতির মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সমষ্টিকে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- শ্বসনতন্ত্র রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকে সৃষ্ট গ্যাসীয় বর্জ্য অপসারণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর কোনটি?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. পেরিটোনিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• হৃদপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

• হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠন (Internal Structure): 
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোন অণুজীবগুলো মানুষের শ্বসনতন্ত্রে সংক্রমণ বা রোগ সৃষ্টি করতে পারে?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• শ্বসন অঙ্গের সমস্যা:  
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ (যেমন- নাসারন্ধ্র, শ্বাসনালি, ফুসফুস) ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক- এই তিন ধরণের অণুজীব দ্বারাই সংক্রমিত হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে, নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়ার কারণে এবং অ্যাসপারজিলোসিস ছত্রাকের কারণে হতে পারে।

• সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।